মিষ্টির সেকাল ও একাল

শফিক রেহমান | ৩১ অক্টোবর ২০১১ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

মিষ্টি বাঙালির অতি প্রিয় খাবার। বিভিন্ন ধর্মীয় যেমন, পূজা ও মিলাদ এবং সামাজিক যেমন, গায়েহলুদ, বিয়ে, জন্মদিন প্রভৃতি অনুষ্ঠানের অতি আবশ্যিক অংশ। কিন্তু বাংলাদেশে গত কয়েক যুগে মিষ্টির রকম ও বিক্রি ব্যবস্থাপনা বদলে গিয়েছে।


শ্বেতাঙ্গ বৃটিশরা ঝাল খেতে পারলেও বাংলাদেশি বা ইনডিয়ান মিষ্টি খেতে পারে না। একমাত্র ব্যতিক্রম পানতোয়া। বৃটেনের বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টগুলোতে পানতোয়া সার্ভ করা হয়। শ্বেতাঙ্গরা গোলাকৃতি গরম পানতোয়া পছন্দ করে। তবে সেখানে পানতোয়া পরিচিত গুলাবজামুন নামে।


অতীতে মিষ্টি বিক্রি ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের একচেটিয়া ব্যবসা। মিষ্টি বিক্রেতা ও ময়রা ছিলেন হিন্দু। তাদের মধ্যে ঘোষ উপাধিধারীরা ছিলেন কুলীন। ঘোষ মানেই মনে করা হতো মিষ্টি, দুধ ও দইয়ের ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত।

…….
জিলাপি
……
চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে মিষ্টির দোকানে সিমেন্টে বাধানো প্রায় দুই ফিট উচু বেদির ওপর শাদা চাদর পেতে বসে থাকতেন মিষ্টি বিক্রেতা। তাদের পরনে থাকতো ধুতি, গেঞ্জি ও ফতুয়া, গলায় পৈতা, বাহুতে একাধিক মাদুলি এবং একাধিক আঙুলে বিভিন্ন পাথরের আংটি। তারা সাধারণত স্থূলকায় হতেন। রাস্তার দিকে কাসার থালায় সাজানো থাকতো বিভিন্ন রকমের মিষ্টি। রাস্তা থেকেই কাচের ওপাশে দেখা যেতো সাজানো মিষ্টির ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে কিছু মাছি ও মৌমাছি। প্লেটের পাশে উকি-ঝুকি দিচ্ছে কিছু পিপড়া। এসব দোকানের হাইজিনিক স্ট্যান্ডার্ড ছিল নিচু মানের।

দোকানের মধ্যে সিলিং বা টেবিল ফ্যান ঘুরতো। কেনার আগে মিষ্টি চেখে দেখার সুযোগ দিতেন দোকানদার। (সম্পূর্ণ…)

ভেনিসে রনি-এবাদুরের ইনস্টলেশন আর্ট

রুশদির ‘কারা কোজ’-এর মাল্টি-কালচারাল সমাধি-সৌধ

এস এম রেজাউল করিম | ২৯ অক্টোবর ২০১১ ৩:৫৪ অপরাহ্ন

0-65.jpg
‘কারা কোজের সমাধি’ (২৫০ x ৩৬৩ x ৩৬৩ সেমি) ইনস্টলেশন দেখছেন দর্শকরা, ভেনিসে

মাল্টি-কালচারিজম যেভাবে সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদে পর্যবসিত হইছে—আমার খারাপ লাগে সেটা; পছন্দ করতে পারি না। ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ যে বলেন, সবার জন্য এক আইন থাকা ঠিক না—খোদার কসম, মহা আহাম্মকি বক্তব্য এইটা।
সালমান রুশদি

—————-
ronni_a1.jpg…….
রনি আহম্মেদ
……
ভেনিসে ‘ওপেন ভাস্কর্য ও ইন্সটলেশন প্রদর্শনী’তে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন রনি আহম্মেদ। তাঁর প্রদর্শিত কাজ ছিলো সালমান রুশদির উপন্যাসের চরিত্র ‘কারা কোজ’ নিয়ে। কিউরেটর এবাদুর রহমান। রনি ও এবাদুরের আর্টওয়ার্কের নাম— ‘The Tomb of Qara Koz’ বা ‘কারা কোজের সমাধি’। ‘কারা কোজ’ সালমান রুশদির ‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’ উপন্যাসের একটি চরিত্র। আর্টওয়ার্কে কারা কোজের কবর নির্মাণ করেছেন এবাদুর ও রনি; ২০ বর্গফুটের ত্রিভুজাকৃতির লোহার বেদীর উপর ১৪ ফুট উঁচু একটা পিরামিড। ১২৫৪টা গ্লাস (পানি খাবার গ্লাস), প্রতিটা গ্লাসে একটা করে ব্রয়লার মুরগির ডিম। ডিমগুলি চিত্রময়। এঁকেছেন রনি আহম্মেদ। গ্লাসগুলি বহুতলে দাঁড়া করানো। লোহার বেদীর উপরে তলগুলি তৈরি করা হয়েছে ত্রিকোণ সমতল গ্লাসপ্লেট দিয়ে। ডিমে আঁকা ছবিগুলিতে কুবলাই খানের দরবারে মার্কো পোলোর বলা কাহিনী, টোমাস মানের ‘ভেনিসে মৃত্যু’ বা সাম্প্রতিক কালে ভেনিসে বাঙালি অভিবাসীদের তৎপরতা বর্ণিত হয়েছে।

রনি-এবাদুর তাদের আর্টওয়ার্কে মাল্টি-কালচারিজম নিছেন রুশদির কাছে থেকে, কিন্তু আইডিয়াটা আরো পুরানা।… বহুত্বের স্বীকৃতির বদলে বিভিন্ন সংস্কৃতির কতিপয় প্রতীক বা চিহ্ন গ্রহণের মাধ্যমে প্রবল সংস্কৃতি আরো টেকসই হবার রাজনৈতিক প্রজেক্ট। রুশদির উপন্যাস ওই রাজনৈতিক প্রজেক্টের ম্যানিফেস্টেশন মাত্র। এই অর্থে রনি-এবাদুরের আর্টওয়ার্ক সেকেন্ডারি ম্যানিফেস্টেশন।

এছাড়াও জ্যাকোপো বাসানো, ভেরোনিস, জ্যাকোপো তিনতরেত্তো, পাওলো ফারিনাতি, রবার্ট কুভারের পিনোকিও, লি তাই পো—এ রকম বহু আর্টিস্টের কাজের ছায়া আছে ছবিগুলিতে। কারা কোজের সমাধির কনসেপ্ট হিসেবে এমনটাই লিখেছেন এবাদুর রহমান।

ebadur_2.jpg
…….
বক্তব্য দিচ্ছেন এবাদুর রহমান, ভেনিসে।
……
‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’ উপন্যাসে মিরর বা আয়না গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়ে আছে। একটি চরিত্রকে অন্য চরিত্রের মিরর ইমেজ হিসেবে তৈরি করেছেন সালমান রুশদি। সনাতন ধর্মের পুনর্জন্ম ধারণা মনে পড়া সম্ভব। রুশদি বলছেন, ‘ট্রাজেডি আমাদের অনন্যতা নয়, ট্রাজেডি হলো—আমরা কতটাই না পরস্পরের মতোন!’ এই মিলের ব্যাখ্যায় মিরর ইমেজকে এনেছেন রুশদি। রনি আর এবাদুরের কাজে গ্লাসের ব্যবহার আছে প্রচুর—ট্রান্সপারেন্ট, আয়না নেই। উপন্যাসের সাথে পরিচিত দর্শক গ্লাসের সাথে আয়নাকে রিলেট করতে চাইতে পারেন। কিন্তু ‘কারা কোজের সমাধি’তে মিরর ইমেজ নাই। অথবা ব্যবহৃত ডিম নিয়েও ভাবা যেতে পারে। এই ডিমকে সিম্বল হিসেবে না দেখার উপায় নাই, জন্মের সিম্বল। গ্লাসগুলি একেকটা জরায়ু, আলাদা ডিমের ভিতরে আছে দৃশ্যত ভিন্ন সংস্কৃতির উপাদান। কারা কোজের সমাধির উপর সকল সংস্কৃতি-সভ্যতা মিলে সত্যিকারের ‘অখণ্ড একক’ মূর্ত হয়ে আছে। কিন্তু বাজারে ব্রয়লার মুরগির যে ডিম পাওয়া যায় তা সবই অনুর্বর। ডিমের ফার্মে মোরগ রাখা হয় না। কারণ, গরমে উর্বর ডিমের ভেতর বাচ্চা হবার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যেতে পারে, অর্থাৎ রক্ত দেখা দিতে পারে। বাচ্চার জন্য কিছু উর্বর ডিম উৎপাদন করা হয় মোরগ রেখে; সেগুলি বিক্রি করা হয় না। ফার্মের মুরগির সমকাম বা আত্মকাম ছাড়া সেক্স লাইফ নাই কোনো। খুব সম্ভব অনুর্বর ডিমকে জন্মের সিম্বল হিসাবে ব্যবহার করেছেন রনি-এবাদুর। এ রকম দুয়েকটা বিষয়কে ছোটখাট হিসাবে মানলে বলাই যায়, রনি ও এবাদুরের আর্টওয়ার্কে সালমান রুশদির উপন্যাসের এসেন্স পুরোটাই আছে।

rushdi_3.jpg…….
সালমান রুশদি ও তাঁর উপন্যাস এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স
…….
সালমান রুশদির উপন্যাস ‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’ পাঠকদের সাংস্কৃতিক সাজেশন দেয়। ‘যত মত, তত পথ’-এর মতো কইরা জীবনের আরো একটা পদ্ধতি নয়, বরং জীবনকে কী ভাবে যাপন করা উচিত—সেই প্রেসক্রিপশন ‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’। প্রাচ্য ও প্রতীচ্য’র যোগ এবং সমরূপতার কাহিনী এই উপন্যাস। ‘কারা কোজ’ সাংস্কৃতিক সীমানাগুলি অতিক্রম করে যায় প্রেম দিয়ে, সৌন্দর্য দিয়ে। নিজের জীবনে মাল্টি-কালচারিজম চর্চা করে এবং জন্ম দেয়। প্রাচ্যের রাজকুমারী পাশ্চাত্যের ভেনিসে অধিষ্ঠিত হয়, আকৃষ্ট করে ভেনিসকে। (সম্পূর্ণ…)

বিপাশা হায়াতের প্রথম একক: ‘ভ্রমি বিস্ময়ে’

| ২৯ অক্টোবর ২০১১ ৯:২৩ পূর্বাহ্ন

5.jpg
ফান উইথ শ্যাডো, অ্যাক্রেলিক অন ক্যানভাস, ২০১১

ধানমণ্ডির ‘বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌’-এ ২৫ অক্টোবর ২০১১ থেকে শুরু হয়েছে শিল্পী বিপাশা হায়াতের প্রদর্শনী ‘ভ্রমি বিস্ময়ে’। চলবে নভেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত। ১৯৯৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সাতটি দল-প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে এলেও এটিই শিল্পীর প্রথম একক। ১৯৯৮ সালে শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টস থেকে পেইন্টিংয়ে এমএফএ করেছেন। সে হিসাবে একক প্রদর্শনীর জন্য শিল্পী প্রায় এক যুগ সময় নিলেন বলা যেতে পারে। যদিও প্রদর্শনীর বেশির ভাগ ছবিই (সব ছবিই কি?) ২০১১-তে আঁকা।

বেঙ্গল প্রকাশিত প্রদর্শনীপত্রে শিল্পীর পরিচিতি অংশ থেকে জানা গেল তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জন্য অভিনয় ও নাট্ক লেখার কাজ করে আসছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণিজয়যাত্রায় অভিনয় করেছেন। তিনি নাটকের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন এবং তার লিখিত নাটকের সংখ্যা প্রায় ৪০টি। প্রদর্শনীপত্রে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাঁর ইংরেজি ভাষ্যে জানাচ্ছেন বিপাশার এই একক প্রদর্শনীটি শেষ পর্যন্ত একটি আবিষ্কারের অভিযাত্রা।

প্রদর্শনী বিষয়ে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌-এর ভাষ্য:

11.jpgঅভিনেত্রী হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও তিনি চিত্রশিল্পীও বটে। তাঁর ছবির কম্পোজিশন যতটা না বিষয়কে ঘিরে আবর্তিত হয়, তার থেকে বেশি কেন্দ্রীভূত থাকে শিল্পীর মনের গভীরে যে-ভাব রয়েছে তার ওপর। সেজন্যই তাঁর চিত্রকর্ম মনের অন্তর্যাত্রাকে অনুসরণ করে আরেক সূত্র ধরে আসে গাঢ় রঙের ব্যবহার। তাঁর চিত্রকর্মে রঙের ব্যবহার ঘটে স্তরে স্তরে, যা শেষ পর্যন্ত রঙের টেক্সচার হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে তাঁর প্রতিটি কাজই একেকটি ভিন্ন ভাবকে কেন্দ্র করে আবর্তিত ভিন্ন ভিন্ন বোধকে প্রতিফলিত করে। সেদিক থেকে তাঁর প্রদর্শনীর নামকরণ ‘ভ্রমি বিস্ময়ে’ যুক্তিসঙ্গত।

তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালের মার্চে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর মনোজগতে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে উপস্থিত। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি সিরিজ করেছেন, যেখানে হত্যাযজ্ঞ আর রক্তপাতের কারণে তাঁর অন্তরের রক্তক্ষরণ এবং পাশাপাশি বিজয়ের আনন্দ প্রতিফলিত। বর্তমান প্রদর্শনীটি তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী এবং তাঁর মনের অন্তর্যাত্রা আর আবিষ্কারের কাহিনী। তিনি তাঁর মনকে আবিষ্কারের ব্রত নিয়ে এঁকেছেন একের পর এক ছবি, যা দর্শককে এক অন্তর্যাত্রায় টেনে নিয়ে যাবে।

বিপাশা হায়াতের এই একক ‘যাত্রা’–সপ্তাহব্যাপী এই প্রদর্শনী–বেঙ্গল ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সূত্রে ‘আবিষ্কার’, ‘ডিসকভারি’ ও ‘অন্তর্যাত্রা’ হিসাবে দর্শকের কাছে উপস্থাপিত।

————————————————-

প্রদর্শনীর কিছু ছবি
ছবি বড় সাইজে দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।

(সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ১০)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ২৬ অক্টোবর ২০১১ ১১:৪৭ অপরাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪ | কিস্তি ৫ | কিস্তি ৬ | কিস্তি ৭ | কিস্তি ৮ | কিস্তি ৯

(কিস্তি ৯-এর পরে)

শেখ সাবের সাথে আমরা ছিলাম মাত্র মাস খানেক। থাকার পরে একদিন সকালবেলা আবার সেই নাজির জমাদার আইসা উপস্থিত, ভোর সাড়ে আটটায়। আইসা শেখ সাবরে বইলা গেলো—আপনার রিলিজ হইয়া গেছে। আপনি রেডি হন, ঘন্টাখানেক পর অফিসার আইসা আপনাকে রিলিজ কইরা দিবে। এই কথা শেখ সাবরে বলায় সে খুশি। এখন আমরা যারা নাকি বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আইছিলাম, সে আইসোলেট হওয়ায়, তারা আইসোলেট হইয়া গেলাম এবার! এবং সে রিলিজ হইয়া গেলো। তাকে রিলিজ করার জন্য যখন আয়োজন চলছে ৯ টার দিকে, তখন তাঁর বালিশ, তোশক, লেপ, তাঁর কাছে কিছু বই-পুস্তক ছিলো—তাঁর স্যুটকেসের ভিতরে সেগুলি নেওয়া, তাঁর গামছা বা লুঙ্গি বা পাজামা—এগুলি সাজাইয়া দেওয়া, আমরাই সাহায্য করলাম।

smr-deer.jpg
হরিণ এবং শেখ মুজিবুর রহমান, ছবি: অজানা

তখন উনি বললেন, তোরা যার যার সেলে যা, খাওয়ার বন্দোবস্ত কর, আমি যাওয়ার সময় তোগো ডাকমুনে, আমাকে যখন নিতে আসবে। আর আমাকে কইলো, তুই বয়, তোর লগে কতা আছে। কইলো, তুই জেলে যে দুই-তিন বছর রইলি, তাতে লেখস নাই কিছু? কইলাম, হ্যাঁ আমি তো লেখছি, আমার কাছে ম্যানুস্ক্রিপ্ট আছে তো! কয়, ওগুলি আমাকে দিয়ে দে। তুই পরে নিতে পারবি না। আমি হম্বি-তম্বি কইরা জেল গেট দিয়া পার হইতে পারমু—নিয়ম হইলো আইবির কাছে দেখাইতে হয়—ওইগুলি আমাকে তাড়াতাড়ি কইরা আইনা দে। আমার বিছানার মধ্যে ঢুকাইয়া দে।

আমার সেল তাঁর রো-তেই ছিলো। আমি আমার তিনটা খাতা আইনা তাঁকে দিলাম। তিন বছরে আমি যা লিখছি। এবং সে বালিশ কাইটা, বালিশের তুলার ভিতরে আমার তিনটা ম্যানুস্ক্রিপ্ট ঢুকাইয়া দিলো। ঢুকাইয়া সিলাইয়া দিয়া রাইখা দিলো। আমাকে কইলো, এগুলি বান্ধো।
(সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মের দেড়শ বছর

রবীন্দ্রনাথের গল্প নিয়ে এ সময়ের গল্পকাররা (কিস্তি ২)

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ২৩ অক্টোবর ২০১১ ১১:৩৭ অপরাহ্ন
[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর ৭০ বছর পরে তাঁর ছোটগল্প নিয়ে কী ভাবছেন এখনকার গল্পলেখকরা? এ সময়ের লেখকদের কাছে রবীন্দ্রনাথের
arts_1.jpgগল্প নিয়ে কিছু প্রশ্ন রাখা হয়। রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা গল্পে কী কী বদল ঘটেছে, রবীন্দ্রগল্পের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কোনগুলি, রবীন্দ্রনাথের গল্প দিয়ে তিনি কতটা প্রভাবিত বা আদৌ প্রভাবিত কিনা বা তা কোন বৈশিষ্ট্যে আলাদা এবং তাদের প্রিয় রবীন্দ্র ছোটগল্প কোনগুলি–এ বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। দেখা গেছে, নিজের গল্পে রবীন্দ্রপ্রভাব নিয়ে বলতে গিয়ে গল্পকাররা একেকজন একেক রকম মত প্রকাশ করেছেন। কেউ যেমন নিজের লেখাতে অনেকাংশেই রবীন্দ্রনাথের ছায়া দেখতে পান, তেমনি অনেকেই আবার তাদের লেখায় রবীন্দ্র প্রভাব একেবারে নেই বলেই মনে করেন।
বি. স]

agerkisti.jpg

——————————————————-

রাহাত খান

rahat-khan.jpgজন্ম: ১৯ ডিসেম্বর ১৯৪০

রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর ছোটগল্প নিয়ে বাংলাদেশে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে।গল্পের আঙ্গিক, বিষয়বস্তু, সংলাপ, চরিত্রায়ন, এই বিষয়গুলোতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গল্পের যে ভাষা ছিল এবং ছোটগল্প সম্পর্কে তাঁর যে ধারণা ছিল সেগুলো তাঁর পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্প লেখকদের মধ্যে তেমন একটা দেখা যায় নি। তাঁর গল্পের মধ্যে যে প্রকৃতি বর্ণনা এবং বিশেষ করে নিম্ন-মধ্যবিত্ত জীবনের চরিত্র-চিত্রণে তাঁর যে দক্ষতা, সেটা পরবর্তী সময়ে আসলে খুব কম লেখকের লেখাতেই পাওয়া যায়। হয়ত হাতে গোনা কয়েকজন লেখকের নাম বলা যাবে যাদের কিছু গল্প হয়ত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গল্পগুলোর মধ্যে পড়ে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মত এত এত গল্প এবং এত উচ্চমানের গল্প যে আর কেউ লিখতে পারেননি সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহই নেই।


অনেক সময় গল্পে লেখকের কোনো না কোনো অভিজ্ঞতার কথা… তাঁর গল্পে চলে আসে এবং অনেক সময় মনে করা হয় যে সাহিত্য মানেই হচ্ছে যিনি লেখক তার একটা আত্মচরিত। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথ অনুপস্থিত। দুই-একটা গল্প হয়ত আলাদা যেমন, পোস্টমাস্টার, বোস্টমী, কাবুলিওয়ালা। এই কয়েকটা গল্প ছাড়া বাকি সব গল্পে রবীন্দ্রনাথ অনুপস্থিত থেকেছেন… তার ছোটগল্পে। এটা একটা বিশাল ব্যাপার। এই যে এভাবে নিজেকে… আত্মগোপন করে রাখা, এটা বলতেই হবে যে অসাধারণ একটা বিষয়।

রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের ক্ষেত্রে তিনটা বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে আমরা চিহ্নিত করতে পারি। প্রথম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ তাঁর গল্পের ভেতরে কখনো প্রবেশ করেননি। যাদের গল্প, তাদের গল্পই তিনি লিখেছেন। অনেক সময় গল্পে লেখকের কোনো না কোনো অভিজ্ঞতার কথা… তাঁর গল্পে চলে আসে এবং অনেক সময় মনে করা হয় যে সাহিত্য মানেই হচ্ছে যিনি লেখক তার একটা আত্মচরিত। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথ অনুপস্থিত। দুই-একটা গল্প হয়ত আলাদা যেমন, পোষ্টমাস্টার, বোস্টমী, কাবুলিওয়ালা। এই কয়েকটা গল্প ছাড়া বাকি সব গল্পে রবীন্দ্রনাথ অনুপস্থিত থেকেছেন… তার ছোটগল্পে। এটা একটা বিশাল ব্যাপার। এই যে এভাবে নিজেকে… আত্মগোপন করে রাখা, এটা বলতেই হবে যে অসাধারণ একটা বিষয়। এই গেল একটা বৈশিষ্ট্য।
(সম্পূর্ণ…)

অনলাইন বৈঠক ২

রচয়িতার দায়িত্ব

| ২২ অক্টোবর ২০১১ ৭:০৪ অপরাহ্ন

boithok_1.jpg

অনলাইন বৈঠকে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন। শুধু বাংলা ভাষায় লেখা প্রতিক্রিয়াই গ্রহণ করা হবে।

kamol-copy.jpg
ছবি. কমলকুমার মজুমদার

‍‍অনলাইন বৈঠক ২ শুরু হয়েছে ২২/১০/২০১১ তারিখে। এর বিষয়:

পাঠক, শ্রোতা বা দর্শকের ব্যাপারে লেখক, গীতিকার বা চলচ্চিত্র রচয়িতার কোনো দায়-দায়িত্ব নাই।

লেখা পাঠানোর ঠিকানা: arts@bdnews24.com। লেখার সঙ্গে ছবি, ফেসবুক লিংক বা ওয়েব পেজ লিংক এবং ইমেইল অ্যাড্রেস দেওয়া যাবে। অনাগ্রহীরা এসব ছাড়াও আলোচনা চালাতে পারবেন। – বি. স.]

এ পর্যন্ত লিখেছেন

১. কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর
২. রিফাত হাসান
৩. সাইফুর রহমান
৪. লুনা রুশদী
৫. ফজলুল কবিরী
৬. তারেক আহমেদ
৭. ইউসুফ খান
৮. কাজী মাহবুব হাসান
৯. আমিনুল করিম মাসুম
১০. সালমান তারেক শাকিল
১১. আসমা সুলতানা
১২. ফাহাম আব্দুস সালাম
১৩. জাহিদ পাভেল
১৪. আশিক রূপম মাহমুদ

(সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৯)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ২০ অক্টোবর ২০১১ ১০:৫৪ অপরাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪ | কিস্তি ৫ | কিস্তি ৬ | কিস্তি ৭ | কিস্তি ৮

(কিস্তি ৮-এর পরে)

mujib-1953.jpg…….
১৯৫৩-র শেখ মুজিবুর রহমান
…….
সেদিন ভোর থেকেই জেলগেটে উত্তেজনা আমরা দেখতে পেলাম। আমরা মানে, যারা জেলের ভিতরে আছি। আমাদের থাকার জায়গা জেলের গেটের দিকে খোলা। তার ফলে মেইন গেটের প্রবেশ দ্বারটা আমরা ভিতর থেকে—কে যাচ্ছে, কে আসছে—লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই। সেদিন আমরা দেখলাম জেল গেটে ভীষণ উত্তেজনার মধ্যে অফিসাররা যাওয়া আসা করছে। সংশ্লিষ্ট জেল-রক্ষক যারা আছে, তারা যাওয়া আসা করছে। এবং সমস্ত কনস্টেবল পুলিশ—যারা জেল পুলিশ, যারা নাকি আমাদের পাহারা দেয়, আমাদের চিঠিপত্র আনা-নেওয়া, খাওয়া দাওয়া দেয়—তারা সবাই খুব তটস্থ এবং সবার মধ্যে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের আগ্রহ দেখা দিলো।

আমরা যেই সেল এলাকায় থাকতাম জেলের—দোতলা একটা পুরাতন বিল্ডিং, এটা পরে দোতলা করা হয়েছিল। সেই বিল্ডিংটার নিচতলায় সম্পূর্ণ একটা হল, উপর তলায়ও একটা হল—মাঝখানে কোন দেয়াল টেয়াল নাই। ফলে আমরা নিচের তলায় যেই হলটায় থাকতাম—সেটার নাম ছিলো, ওরা বলতো ‘খাতা’, ব্রিটিশ আমল থেকে শব্দটা। খাতা মানে ওয়ার্ড। আমাদের ওয়ার্ডের নাম ছিলো এক নম্বর খাতা। জেল গেটের পরেই। জেল গেট দিয়ে কেউ ঢুকলেই প্রথমে যে ওয়ার্ড চোখে পড়বে—সেটা হচ্ছে আমাদের ওয়ার্ড। এই এক নম্বর ওয়ার্ডে আমরা থাকতাম—সব রাজনৈতিক বন্দীরা, সিকিউরিটি প্রিজনার সবাই। আইউব খান মার্শাল ল জারি করার পরে পরেই একটা লং লিস্ট তৈরি হয়, সেই লিস্ট অনুযায়ী আমি মাস দুই পরে ধরা পড়ি। আমার বন্ধু-বান্ধব অনেকেই আমার আগে ধরা পড়েছে। অনেকে আমার পরেও ধরা পড়েছে। আমরা সবাই পালাইয়া ছিলাম—বন্ধুদের বাড়িতে, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে—যে যেখানে পারে। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই প্রায় সবাই ধরা পড়ে যায়, ব্যাপক অভিযান চালায় পুলিশ।
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস (১৯১৭)’

| ১৬ অক্টোবর ২০১১ ২:৪৬ পূর্বাহ্ন

দেবদাস

প্রথম প্রকাশ: ১৯১৭

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

(১৮৭৬ ১৯৩৮)

১৯০১ সালে রচিত হলেও দেবদাস প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রকাশের পরে পরেই ভারত উপমহাদেশের বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়। শরৎচন্দ্র তখন খ্যাতিমান সাহিত্যিক।

front-eb-2.jpg দেবদাস-এর মতো বাংলা ভাষার আর কোনো উপন্যাস সিনেমা নির্মাতাদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। দেবদাস-এর প্রথম চলচ্চিত্ররূপ ১৯২৮ সালে। এটি ছিলো নির্বাক ছবি। এরপর ১৯৩৫ ও ৩৬ সালে আবার নির্মিত হয়। এ দুটি সবাক। প্রথমটি বাংলায়, দ্বিতীয়টি হিন্দিতে। ১৯৫৫, ২০০২ ও ২০০৯ সালে আবার হিন্দিতে সিনেমা নির্মিত হয়। এ ছাড়া তামিল ও অহমিয়া ভাষায় নির্মিত হয়। বাংলা ভাষায় আরো তিনবার। কোলকাতায় একবার, বাংলাদেশে দুইবার (দুটি-ই চাষী নজরুল ইসলামের–একটি মুক্তির অপেক্ষায়)।

সিনেমার কাহিনী হিসেবে দেবদাস জনপ্রিয় হলেও সাহিত্য আলোচনায় দেবদাসকে খুব একটা পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, ১৯৩৫ সালে নির্মিত দেবদাস শরৎচন্দ্র পছন্দ করেননি বলে জানা যায়। দেবদাসের মৃত্যুসংবাদে পার্বতীর উদ্ভ্রান্ত দৌঁড় উপন্যাসে না থাকলেও সিনেমায় ঢোকানো হয়। সিনেমা নির্মাতার তরফে এই ‘দৌঁড়’কে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি একটি দৃশ্যের মাত্র, কিন্তু চিন্তা উদ্রেককারী।
(সম্পূর্ণ…)

সঙ্গীতভাবনা | স্টিভ জবস

ইমরুল হাসান | ১৫ অক্টোবর ২০১১ ৬:৪৯ অপরাহ্ন

অনুবাদ: ইমরুল হাসান

stevejobs01.jpg
স্টিভ জবস (২৪ ফেব ১৯৫৫ – ৫ অক্টো ২০১১)


কেন এই অনুবাদ?
স্টিভ জবস-এর এই প্রেসনোটটা প্রথম অনুবাদ করতে শুরু করছিলাম, ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডেতে। এখন স্টিভ জবস-এর মৃত্যুর পর মনে হইলো, উনার প্রতি সম্মান দেখাইয়া হইলেও শেষ করাটা দরকার!

stevejobs03.jpg…….
স্টিভ জবস
…….
‘কালচার’ ত আসলে কর্পোরেটরাই তৈরি করতেছে। বানাইতেছে, নিয়ন্ত্রণ করতেছে, সমাজের ভিতর ছড়াইয়া দিতেছে এবং ডিফাইন করতেছে কীভাবে সেইটা ‘কালচার’। এর বাইরে, কর্পোরেট কালচারের সাথে খাপ খাওয়ানোর মতো কালচার তৈরি করে শহরের মধ্যবিত্তরা, পুরানোরে/অনান্য পক্ষরে মিলাইতে চায় এর সাথে, মিথষ্ক্রিয়া করে, যাচাই-বাছাই করে এবং শেষে না-পাইরা কর্পোরেট কালচারের অংশ হয়া যায়… যেমন রবীন্দ্রনাথের নাটক নতুনভাবে করা, লালনরে নতুনভাবে আবিষ্কার করা, সমাজে স্বীকৃত আইকনদের জন্মজয়ন্তী, মৃত্যুবার্ষিকী করা, ইত্যাদি (মধ্যবিত্তের ত আসলে নিজস্ব কিছু নাই, সবই ধার করা)… মফস্বল করে শহরের অনুকরণ যদ্দূর পর্যন্ত পারে… আর গ্রাম-গঞ্জে (যেহেতু যোগাযোগটা খুব বেশি নাই শহরের সাথে) যা হয়, সেইটা ত ‘লোক-সংস্কৃতি’ বা ‘ফোকলোর’; একশ বছর আগে হোক বা এখনই হোক… সবসময় দূরবর্তী একটা ব্যাপার!

এই ‘কালচার’ তৈরি হয়, স্বীকৃতি লাভ করে বা অনুমোদন পায় দুইটা জায়গা থিকা–ব্যবসায়িক এবং বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান–এই দুইটা আসলে আলাদা জিনিস না, একই; বেশিরভাগ সময়ই পরিপূরক টাইপের। আর এই কালচার প্রচার এবং প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালায় বিভিন্ন মিডিয়া, এনজিও এবং সোশ্যাল নেটওর্য়াকগুলা। এদের বিভিন্নরকমের ক্রিয়ার ভিতর দিয়াই সমাজে ‘কালচার’ প্রতিষ্ঠা হয়।

এখন যারা কালচার করেন, তাদের ভিন্ন মতামত থাকে; তারা যে এই ‘ব্যবস্থা’রে স্বীকার বা অস্বীকার করেন, সেইখানে তাদের একটা গুরুত্ব আছে। কিন্তু এই স্বীকার বা অস্বীকারটা এই ‘ব্যবস্থা’টারে ঘিরাই। মানে, কেন্দ্রীয় একটা ‘ব্যবস্থা’ আছে; জনগণরে কালচারাল কইরা তোলার, কালচার শিক্ষা দেয়ার, এর ভিতরে নিয়া আসার এবং অপারেট করার। মোটা দাগে, সমাজের ভিতরে একটা কালচারাল ভ্যালু সিস্টেম চালু করার।

কিন্তু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলা আসলে তাদের নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াগুলা নিয়া তেমন কিছু বলেন না; কারণ ‘গোপনীয়তা’ই তাদের প্রধান অস্ত্র। আর বিদ্যালয়গুলা তাদের কোডিং-এর ভিতর দিয়া প্রক্রিয়াগুলারে ব্যাখ্যা করেন; এই ‘কোডিং-পদ্ধতি’টা উনাদের প্রধান অস্ত্র। এইভাবে উনারা নিজেদেরকে ‘সাধারণ’ থিকা পৃথক করেন এবং কালচারকে অনুমোদন দেয়ার একটা ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

এইভাবে কালচাররে দেখতে পারলে আমার ধারণা, সুবিধা হয়, বুঝতে।

ত, সঙ্গীত একটা কালচারাল উপাদান। এর ‘ব্যবস্থা’ সম্পর্কে কিছুটা টের পাওয়া যাইতে পারে অ্যাপল-এর সাবেক প্রধান স্টিভ জবস-এর প্রেস নোট থিকা। বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে (গত ১৯ জুন ২০১১) উনার এই প্রেস নোটের কথা আবার মনে হইছিলো। তখন এই অনুবাদ করতে বসা। আসলে অনুবাদ করার তেমন কিছু নাই, ইংরেজিটা এতটাই সহজ-সরল যে বাংলাটা বরং অনেক বেশি অপরিচিত লাগতে পারে! কিন্তু যেহেতু এইটা নিয়া আলাপ শুরু করতে চাই, তাই বাংলাটা রাখলে সুবিধা। (সংবাদপত্রের নিউজ-ভিউজ এবং একাডেমিক প্রবন্ধ ছাড়াও এইরকম ব্যবসায়িক প্রেসনোট, সরকারি আদেশ কিংবা আদালতের রায়ের কপি ইত্যাদি জিনিস অ্যানালাইসিস করলে আমার ধারণা, সমাজ-চিন্তাতে অনেক নতুন কিছু পাওয়া যাইতে পারে। এইগুলাই হইতেছে প্রাথমিক পর্যায়ের ডকুমেন্ট, যা দৃশ্যমান। যে গোপনীয়তা আবার প্রকাশ্য না হয়াও পারে না!)

এইটা নিয়া আলাপ করতে চাওয়ার কারণ অনেক। প্রথমত এই উপলব্ধি যে, এত সঙ্গীত উৎপাদনের মূল লক্ষ্য আসলে যন্ত্ররে বাঁচাইয়া রাখা। দ্বিতীয়ত, এই কারণে সঙ্গীত উৎপাদন এবং প্রচার করে যেইসব প্রতিষ্ঠান, পাইরেসি বন্ধ না হইলেও যে উনাদের তেমন কোনো ব্যবসায়িক ক্ষতি নাই, সেই প্রসঙ্গ। মানে, মাধ্যমই গুরুত্বপূর্ণ! অথবা গুরুত্ব বা অ-গুরুত্ব ত একটা ‘অবস্থান’-এর ব্যাপার; আর আমার ‘অবস্থান’ বিষয়টা মনে হয়, উপরে কিছুটা ক্লিয়ার করতে পারছি।

যা-ই হোক, এইটা সঙ্গীত নিয়া ব্যবসায়িক একটা চিন্তা। অ্যাপল-এর সঙ্গীতের ব্যবসা কীভাবে চলতেছে এবং বিশ্ববাজারে এর ভূমিকা নিয়া অ্যাপল-প্রধানের একটা বক্তব্য।

সঙ্গীত না বইলা মিউজিক বললে হয়তো ভালো হইতো, কারণ ‘মিউজিক’ বললে বাংলাতে যা বোঝায়, ‘সঙ্গীত’ বললে তার চাইতে ভিন্ন কিছু বোঝায়; কিন্তু টুইস্টটাও সম্ভবত ভালোই। সঙ্গীত বিষয়ে আগ্রহীরা এইটা পইড়া ক্ষুব্ধ হইলে, আগে থিকাই মাফ চাই।
জুন, ২০১১


অ্যাপল-এর আইপড মিউজিক প্লেয়ার এবং আইটিউনস অনলাইন মিউজিক স্টোরের বিশ্বব্যাপী বিমূঢ় করা সাফল্যের প্রেক্ষিতে কেউ কেউ অ্যাপলরে বলছেন ডিজিটাল রাইটস ম্যানেজম্যান্ট (ডিআরএম) ব্যবস্থারে ‘উন্মুক্ত’ কইরা দেয়ার জন্য, যেইটা অ্যাপল ব্যবহার করে তার সঙ্গীতরে চুরির হাত থিকা বাঁচানোর জন্য, যাতে আইটউনস থিকা কেনা মিউজিক অনান্য কোম্পানি থিকা কেনা ডিজিটাল ডিভাইসগুলাতেও চালানো যায়, এবং অন্যান্য অনলাইন মিউজিক স্টোর থিকা কেনা সুরক্ষিত সঙ্গীতগুলাও আইপডগুলাতে ব্যবহার করা যায়। আসেন বর্তমান পরিস্থিতিটা পরীক্ষা করি এবং কীভাবে আমরা এইখানে আসছি, তারপর ভবিষ্যতের জন্য তিনটা সম্ভাব্য বিকল্পের দিকে তাকাই।

newsweek-cover.jpg…….
নিউজউইক কভারে আইপড ও স্টিভ জবস
…….
শুরুতে, এইটা মনে রাখা দরকারি যে, সব আইপডই সঙ্গীত বাজাইতে পারে যা যে কোনো ডিআরএম থিকা মুক্ত এবং “মুক্ত” লাইসেন্স ফরম্যাট হিসাবে এনকোডেড; যেমন, এমপিথ্রি এবং এএসি। আইপড ব্যবহারকারীরা অনেক উৎস থিকা সঙ্গীত সংগ্রহ করতে পারে এবং করে, তারা যে সিডিগুলার মালিক সেইগুলাসহ। (সম্পূর্ণ…)

কবি টোমাজ ট্রান্সট্রোমারের সাক্ষাৎকার

ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা | ১৩ অক্টোবর ২০১১ ১১:৩৩ অপরাহ্ন

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: তান লিন নেভিল ও লিন্ডা হোরভ্যাথ

সাক্ষাৎকারটি ১৯৯০ সালে ফিলাডেলফিয়ার পেইন্টেড ব্রিজ কোয়ার্টার্লি-এ প্রথম প্রকাশিত। সাক্ষাৎকারের শুরুতে তান লিন নেভিলের একটা ভূমিকা ছিলো। ভূমিকাটি তাঁর ভাষ্যে এখানে দেওয়া হলো। সাক্ষাৎকারটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা–বি.স.

তান লিন নেভিলের ভূমিকা:

কবি টোমাজ ট্রান্সট্রোমার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ১৯৩১ সনে স্টকহোমে তাঁর জন্ম। ১৯৮১ সনে পশ্চিম জার্মানির পেত্রার্ক পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সনে তিনি কবিতার জন্য স্বনামধন্য বোনার অ্যাডওয়ার্ড অর্জন করেন। তাঁর নির্বাচিত কবিতা (১৯৫৪- ১৯৮৮) ১৯৮৭ সনে যুক্তরাষ্ট্রের ইকো প্রকাশনী থেকে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়। motiv1974.jpg
………
টোমাজ ট্রান্সট্রোমার
………

১৯৮৯ সনের ঠিক আগের বসন্তে কবি টোমাজ ট্রান্সট্রোমারের সাথে আমার পরিচয়। আমি তখন সবেমাত্র MFA শেষ করেছি। একদিকে স্বপ্নভঙ্গ আর অন্যদিকে সমাপ্তির আনন্দ–এই দুয়ের টানাপোড়েনের মধ্যে কবির সাথে আমার পরিচয়। কবির সাথে আমার পরিচয়, আর পরিচয়ের সূত্রে আমাদের আলাপ আমাকে কাব্যের এক বিস্তৃত, সীমাহীন নন-টেরিটরিয়্যাল শেকড়ের সাথে যুক্ত করে দেয়। কবি ট্রান্সট্রোমারের কথাগুলো আমাকে ভীষণ টানে। তাঁর বিষণ্ন নিঃসঙ্গতা, গাম্ভীর্য, আয়েসী মন সব মিলিয়ে আমাকে এক ঝলক মুক্ত বাতাসের কথা মনে করিয়ে দেয়। আর সেই কবি ভালবাসেন মানুষের সঙ্গ। তাঁর কথাগুলো গভীর চিন্তা, মুক্তমনের হাত ধরে মনের গহীন থেকে উঠে আসতে দেখি। কবি ধীর লয়ে কথা বলেন। তারপরেও কথাগুলো কেমন আনন্দের, চটকের, ঠাট্টার আবার ভীষণ গুরুগম্ভীরও–যেন ঠিক বাঁধের না, এক রকম ভেবে নেয়ার না।

১৯৮৯ সনের ৭ এপ্রিল লিন্ডা হোরভ্যাথের সুউচ্চ এ্যাপার্টমেন্ট। সামনে ইন্ডিয়ানাপোলিসের দৃশ্যপট। সেই উঁচু দালানে বসে আমি আর হোরভ্যাথ কবি ট্রান্সট্রোমারের সাথে আলাপ শুরু করে দেই। সাক্ষাতকারের সময় কবি যেভাবে কথা বলছিলেন তাঁর কথার অনন্য বিশেষত্ব ধরে রাখতে যতোটুকু সম্ভব, এক্কেবারে অস্পষ্ট না হলে, এই লেখায় কবির কথায় আমার কোন হাত পড়েনি। কবির মুখের কথাগুলো আমি তার মতো করে লিখে গেছি। আমার আর হোরভ্যাথের সাথে কবির আলাপ যতো এগুচ্ছিলো ততোই আমার মনে হচ্ছিল আমি একরাশ খোলা হাওয়ায় দাঁড়িয়ে বড় বড় নিঃশ্বাস টেনে নিচ্ছি। ঠিক এরকম উদ্দাম হাওয়ার কথা কবির কাব্যে বারবারই ফিরে আসে। সাক্ষাতকার নেয়ার ৬ মাস পর এই যে এখন আমি আলাপের কথাগুলো লিখছি, এক একেকটা শব্দ ধীরে ধীরে পড়ছি, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছি আর এই দেখতে গিয়ে লেখার কাজ একবারের জন্যও কঠিন মনে হচ্ছে না। বরং কবির কথা, এক একটি শব্দ ৬ মাস পর পড়তে পড়তে লিখতে গিয়ে মনে হয়েছে এই পড়াটায়, লেখাটায় আমি যেন এক আয়েশী যাত্রার আনন্দ ক্রমাগত অনুভব করে গেছি।–তান লিন নেভিল


————————–

হোরভ্যাথ: আমি আসলে আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই। আমার মনে হয় আপনি আপনার অনুবাদকদের সাথে সাহিত্যের কোন এক ঘরানার অবস্থান শেয়ার করেন। আমার মনে হয় সেই ঘরানাকে একটা নামে নির্দিষ্টও করা যায়। এমনকি আমিও আপনার কাব্যের যারা অনুবাদক ছিলেন যেমন ব্লাই, সোয়েনসন. ফুলটন আরো আরো যারা আছেন তাদের অনেকের সাথে একধরনের আত্মীয়তা বা একধরনের যোগসূত্র টের পাই।

ট্রান্সট্রোমার: হ্যাঁ, সেটা আসলে ঠিকই। আপনি কাব্যের সেই বিশাল ঘরানাকে আধুনিকতা বা আধুনিক কাব্য ভাবনা বলতে পারেন। আমার মনে হয় এর বাইরেও আরো কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় আছে। যেমন ধরেন, আমার কবিতার প্রতি যে কবি প্রথম আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তিনি হলেন রবার্ট ব্লাই। আমার কাব্যের প্রতি তাঁর এই আগ্রহের কারণ–আমার মনে হয়–আমরা দুজনেই একই ভাবনা বা কাব্য প্রসঙ্গে কম বেশি এক দিকেই কাজ করেছি। ব্লাই নরওয়েতে থেকেছেন, স্ক্যান্ডিনেভিয় লেখকদের লেখা পড়েছেন। তিনি আমেরিকানদের সামনে প্রকৃতি বিষয়ে একটা বিশেষ ধরনের ভাবনা তুলে ধরতে চাইছিলেন যে ভাবনা ভীষণভাবে স্ক্যান্ডিনেভিয় কাব্যের অনন্য বৈশিষ্ট্য। ব্লাইয়ের দ্য রাইটিং ইন সাইলেন্স ইন দ্য স্নোয়িং ফিল্ডস বইয়ের লেখাগুলো আমার যেমন ভীষণ চেনা মনে হয়। তাঁর বইয়ের কবিতাগুলো সম্পূর্ণভাবেই আমেরিকান; কিন্তু যখন আমি প্রথম এই কবিতাগুলো পড়ি, আমি নিজেকে সেগুলোর সাথে একাত্ম করতে পারছিলাম। তাঁর কাব্য আমার চেনা মনে হচ্ছিল। ফলে অনুবাদক যদি কোন কবির পন্থাতেই কাজ করে আর সেই অনুবাদক যদি অনুবাদ করে তবে এর চেয়ে উৎসাহব্যঞ্জক আর কিছু হতে পারে না। এরকম অভিজ্ঞতা আসলে সবার হয়ও না।
(সম্পূর্ণ…)

বান্দরবনর পাআরত (কিস্তি ২)

নূরুল আনোয়ার | ১০ অক্টোবর ২০১১ ৫:১৯ অপরাহ্ন

বান্দরবনর পাআরত ১

(গত সংখ্যার পর)

meghla (9).JPG ………
বান্দরবান শহরের অদূরে চিম্বুকের পথে পাহাড়ের ভেতর প্রবাহিত শঙ্খ নদী
…….
আমি সমস্ত কিছু নিয়তির ওপর ছেড়ে দিলাম। এ মুহূর্তে এসব নিয়ে বেশি ভাবতে গেলে আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে। গাড়ি যেখানে নষ্ট হয়েছে জায়গাটা পাহাড়ের চূড়া বলা যায়। প্রায় চার পাঁচ শ’ গজের মধ্যে তিন চারটা মোড়। পাহাড়ের রাস্তা যত ঘুরানো-প্যাঁচানো থাকে ততই সুন্দর দেখায়। এখানকার জায়গাটা তাই। একটা অল্পবয়সী বটগাছ একটা মোড়ে ডালপালা প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ে সাধারণত বটগাছ দেখা যায় না। পাহাড়িরা নিজের গরজে হয়ত এটা লাগিয়েছে। শীতকাল বলে গাছটা আমাদের কাছে বেশি দরকারি মনে হল না। কিন্তু গ্রীষ্মকালে গরম যখন ছিঁড়ে ছিঁড়ে পড়বে তখন এই বটগাছ পথযাত্রীদের অবলম্বন ছাড়া আর কী হতে পারে।

dulahajra (28).JPG
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক
……..
বটগাছটা কেন এখানে লাগানো হয়েছে আমি অল্প সময়ের মধ্যে তা টের পেয়ে গেলাম। ইতোমধ্যে চার পাঁচজন পাহাড়ি তাদের ফলানো কলা, জাম্বুরা, পেঁপে, হলুদ আরও নানাজাতের সবজি পিঠে ঝুলানো থুরুমে করে এ জায়গাটাতে নিয়ে এসেছে। আমার কাছে ব্যাপারটা আকর্ষণীয় হয়ে দাঁড়াল। আমরা তাদের কিছু জিজ্ঞেস করলে তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা, শুদ্ধ বাংলা এবং নিজেদের ভাষা মিশিয়ে এক ধরনের জগাখিচুড়ি ভাষায় কথা বলে। কিন্তু তাদের এ ভাষাটা একটুও বেমানান ঠেকে না। আবার বুঝতেও তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। মাঝারি সাইজের একটা পেঁপের প্রতি লোভ হল। পেঁপেটা সদ্য গাছ থেকে ছিঁড়ে এনেছে চিনে নিতে আমার একটুও কষ্ট হল না। ঢাকা শহরে এধরনের পেঁপে সচারচর চোখে পড়ে না। সেটি পেকে এক রকম হলুদ রঙ ধারণ করেছে। আমি বললাম, এ পেঁপেটার দাম কত?

পেঁপের মালিক বলল, দশ টাকা দিবা দে। (দশ টাকা দেবে।)

আমি বললাম, পাঁচ টাকা দিব দে। (পাঁচ টাকা দেব।)

সে কিছুটা খেপে গিয়ে বলল, তুমি মানু কিল্লাই আমাকে দশ টাকা ন দিবা দে? (তুমি মানুষ কী জন্য আমাকে দশ টাকা দেবে না?)

আমি বললাম, আমি পাঁচ টাকা দিলে খুশি হব। তাই পাঁচ টাকা দেব।

সে সহজ সরল ভাষায় বলল, তুমি মানু খুশি হলে পাঁচ টেয়া দেও। (তুমি মানুষ খুশি হলে পাঁচ টাকা দাও।) (সম্পূর্ণ…)

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০১১

কবি টোমাজ ট্রান্সট্রোমার

মৌসুমী জাহান | ৯ অক্টোবর ২০১১ ৭:০০ পূর্বাহ্ন

tt.jpg
টোমাজ ট্রান্সট্রোমার (জন্ম: ১৯৩১)

সুইডিশ কবি, মনস্তত্ববিদ, অনুবাদক টোমাজ ট্রান্সট্রোমার সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৫০ সাল থেকে ট্রান্সট্রোমার সুইডিশ সাহিত্যে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ইংরেজি ভাষাভাষীদের কাছে সম্ভবত তিনিই সবচেয়ে পরিচিত স্ক্যান্ডিনেভিয় কবি। তার কবিতার টিপিক্যাল বৈশিষ্ট্য–পরাবাস্তবাদী ইমেজ, যেখানে ডাকটিকেটকে দেখা যায় জাদুর কার্পেট হিসেবে, গাছের ছায়া হলো কালো সংখ্যা, লোকের ভিড় হয়ে যায় অমসৃণ আয়না।

টোমাজ ট্রান্সট্রোমার স্টকহোমে জন্মগ্রহণ করেন, ১৫ এপ্রিল ১৯৩১ সালে। তার বাবা সাংবাদিক ছিলেন, কিন্তু বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হবার পর বাবার সাথে তার খুব কম দেখা হয়েছে। মা ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। ট্রান্সট্রোমার দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়টাতে রানমারো দ্বীপে তার শৈশবের অনেকগুলো গ্রীষ্ম কাটিয়েছেন। সুইডেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকলেও এক সাক্ষাতকারে বলেছেন তিনি ছিলেন “ মিত্রপক্ষের সবচেয়ে বড় মিলিট্যান্ট সমর্থক”। পরর্বতীতে তার কবিতার বই অস্তেরসজোয়ার (১৯৭৪,বাল্টিক) এবং স্মৃতিকথা “মিন্নেনা সের মিগ” (১৯৯৩) ট্রান্সট্রোমার আরকিপেলাগোর দৃশ্যভূমিতে ফিরে গেছেন।
(সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com