খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৭)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ ১০:৪৪ অপরাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪ | কিস্তি ৫ | কিস্তি ৬

(কিস্তি ৬-এর পরে)

আমি ঢাকায় আইসা কলেজে ভর্তি হইতে যাই। জগন্নাথ কলেজে। থাকতাম এক ভাইয়ের বাসায়, জেলখানার পাশে, আবুল হাসনাত রোডে। আমার চাচতো ভাই ছিলেন উনি, সে এই বাড়িটা সরকারের কাছ থেকে পাইছিলো, থাকার জন্য। সে সরকারের কাজ করে—পূর্ব পাকিস্তান সরকারের। সেই বাড়িটার সাথে একটা এক্সট্রা রুম ছিলো, পূজার রুম ছিলো ওইটা। বাড়িটা ছিলো হিন্দুদের। পাকিস্তান হবার পর ইন্ডিয়া চইলা গেছে। তখন পরিত্যক্ত বাড়ি হিসাবে সরকারের লিস্টে ছিলো ওই বাড়ি। সরকারি অফিসাররা খুঁইজা খুঁইজা বাইর করতো এই ধরনের বাড়ি, কইরা সরকারের কাছে আবেদন করতো থাকার জন্য। আমার ভাই ছিলো পুলিশের ডিএসপি তখন। ডিএসপি মানে ডেপুটি সুপারিন্ডেন্ট অব পুলিশ।

fayez-k-7.jpg
১৯৭৩ সালে মওলানা ভাসানীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন বঙ্গবার্তা’র প্রধান সম্পাদক ফয়েজ আহ্‌মদ , টেপ রেকর্ডার ধরে আছেন বার্তা সম্পাদক কামাল লোহানী। ছবি: অজানা

সে সরকারের কাছে আবেদন করলো যে আমারে বাড়ি দাও, বাড়ি পাওনা হইয়া গেছে তাঁর। তখন সরকার তারে এই বাড়িটা দিছে। বাড়িটায় তার হইয়া দুই-তিনটা রুম বেশি হইছিলো। সেইখান থেকে একটা রুম আমাকে দিলো। পরে দেখলাম যে সেইটা ছিলো পূজার ঘর। হিন্দু ফ্যামিলির রোজকার পূজা হইতো সেই ঘরে। এইজন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিলো। নিচতলায় ছিলো সেইটা। আমি সেই ঘরে থাকতে শুরু করলাম। আমার ভাই ফ্যামিলি নিয়া থাকে উপরের তলায়।
(সম্পূর্ণ…)

বৃত্তের ভেতরে

নাহার মনিকা | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৩:৪১ অপরাহ্ন

ঘন হয়ে আসা সন্ধ্যার দিকে শুভ্রা হারিয়ে যাবে আর তারপর তাকে খোঁজা শুরু হবে, না খুঁজে পেয়ে কেউ কেউ তাকে ঘিরে স্মৃতি আউড়ে যাবে–এটাই স্বাভাবিক। বিষয়টা নতুন তো না, যেবার এমনকি মাইকিংও করতে হয়েছিল, রিক্সা কায়ক্লেশে চলছিল আর খলিল চাচার ফ্যাশফ্যাশে ঘোষক কণ্ঠ ইকো হয়ে ছড়িয়ে ছড়িয়ে ঢুকে যাচ্ছিল খোলা বাড়িগুলোর দরজা জানলা দিয়ে, মোড়ের কাঠাল গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ওপরে উঠে নেমে আসছিল চারপাশে–‘…নয় বছরের একটি মেয়ে হারিয়ে গেছে, তার পরনে ফিকে হলুদ রঙ্গের জামা…’ ইত্যাদি। দিন পার হয়ে সন্ধ্যা না হলে হয়তো হারানো বিজ্ঞপ্তি দরকার হতো না। শুভ্রা নিজেই হয়তো ফিরছিল, তখন ফিরলো ঘোষণা শুনে, মাথা নিচু, পনিটেল আলগা হয়ে যাওয়া রিবন, ফিরতে চাওয়ার অনিচ্ছা মাখা দৃষ্টি (ফিরতে তো হতোই, তার পরও ফেরা মানেই কি সত্যি সত্যি ফেরা?… ভেসে যাচ্ছিল ভেসে তো যেতোই, মনে না করিয়ে দিলে…)। খুঁজে পাওয়া গেছে, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে ভাসা ভাসা ধারণা হয়েছে যে হারানোর কেতা-কায়দা ভালোই রপ্ত করেছে সে। ফলাফল–সে সময়ে যে কয়েকবার সে হারিয়েছিল তেমন না খুঁজলেও সবাই (ওদের বাড়ির বাইরের লোকজন) তক্কে তক্কে থাকতো সে কখন ফেরে আর কোথায় তাকে খুঁজে পাওয়া গেল! হারিয়ে যাওয়াকে বিশেষ মাত্রা দেয়ার চেষ্টা ছিল ওর, সেজন্যেই হয়তো প্রতিবার নিপাত্তা হবার পর লোকজন অন্যান্য কাজের মধ্যেও ধর্মানুশাসনের মত গৎ বাঁধা নিয়মে, অন্যমনস্ক হয়ে ওকে খোঁজে। (সম্পূর্ণ…)

প্রেম

এস এম রেজাউল করিম | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৩:৩০ অপরাহ্ন

আমারে নিয়ে যায় সে
প্রায়ই, সেইসবখানে
তার এক সে
আছে, আসে।

তাহাদের প্রেম হয়
এই হওয়া
আরো আরো অতীত হওয়ার পরে হওয়া
আবার, এই প্রেম নিত্য—
আমরা চা খাই
হাসি, একসাথে—
চা শেষ হতে চায়, হয়
কাপ দিয়ে দেয় সে
আবার নেয়,–
আর
কাপ হাতে তার

প্রায় সুন্দর সেই কাপ
ফেরত দেবে নাকি দেবে না
ভাবে, আবার ভাবে—
ভাবা শেষ হয় বলে
কুঁচকে ওঠে ভ্রু
একটা বা দুইটাই—তার প্রেমিক
বুঝে ফ্যালে
এই ভ্রু আছে, ছিলোও কি?
যদি থাকেও,
বহুবার বঙ্কিমও যদি হয়,
এখন কেন হবে! (সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ‘বিধবার দাঁতে মিশি (১৮৭৪)’

| ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ ১১:৫৪ অপরাহ্ন

বিধবার দাঁতে মিশি

প্রথম প্রকাশ: ১৮৭৪

গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়

(জন্ম-মৃত্যু অজানা)

arts-thumb.jpg

গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে তথ্য বিশেষ পাওয়া যায়নি। জন্ম-মৃত্যু, মা-বাবা, আবাস, পেশা, লেখাপড়া ইত্যাদি জানা যায়নি। বহু বছর যাবত তাঁর কোন বইও আর প্রকাশিত হয় না। বিভিন্ন উৎস থেকে জানা যায় যে গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ‘বিধবার দাঁতে মিশি’ বাদে অন্ততঃ সাতটি বই লিখেছেন। ১৯৮৫ (বাংলা ১২৯২) সালে ‘রাজস্থান’ নামে রাজস্থানের ইতিহাস তার শেষ বই হিসাবে পাওয়া গেছে। এটি দুইখণ্ডে প্রকাশিত হয়। কর্ণেল টড রচিত “Annals and Antiquities of Rajasthan” অবলম্বনে রচিত ‘রাজস্থান (১৮৮৫)’। ‘রাজস্থান’-এর আখ্যাপত্রে লেখকের পরিচয় হিসেবে ‘ভিক্টোরিয়া রাজসূয়’, ‘রাজ-জীবনী (১৮৮২)’, ‘বীরবরণ (১৮৮৩)’, ‘যৌবনে যোগিনী (১৮৮৩)’, ‘পাষাণ-প্রতিমা (১৮৭৭)’ ‘কামিনীকুঞ্জ’ প্রভৃতি প্রণেতা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যণীয়, ‘বিধবার দাঁতে মিশি’-এর নাম বাদ পড়েছে; যদিও এটি-ই লেখকের প্রথম বই। ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত ‘যৌবনে যোগিনী’-এর আখ্যাপত্রে ‘বিধবার দাঁতে মিশি’-এর উল্লেখ ছিলো।
(সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৬)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৮:৩১ অপরাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪ | কিস্তি ৫

(কিস্তি ৫-এর পরে)

আমার স্কুল লাইফে একটা গ্রামীণ জীবন ছিলো আমাদের বিক্রমপুরে। আমাদের এই গ্রামীণ জীবনে বর্ষার সিজন ছিলো অনেকটা অভিশাপের মতো, বিশেষ কইরা চলাফেরার বেলায়। আবার বর্ষা না হইলে ধানও হইবে না! এতো বৃষ্টি হইতো কোন কোন বছর যে ধানও নষ্ট হইয়া যাইতো। তবে সাধারণভাবেই অনেক বৃষ্টি হইতো। বৃষ্টির পানির সাথে পাল্লা দিয়া ধান গাছও বড়ো হইতে থাকতো। এক বারে অনেক বৃষ্টি হইলেই খালি ধান গাছ লগে লগে বাড়ার সময় পাইতো না; তখন ধান নষ্ট হইতো। বৃষ্টির সিজনের চার-ছয় মাস পুরা বিক্রমপুরই কয়েক হাত পানির নিচে চইলা যাইতো। বাড়িগুলা খালি ছোট ছোট দ্বীপের মতো জাইগা থাকতো।

img0063a.jpg
শিশুদের সাথে ফয়েজ আহ্‌মদ, ১৯৫২-৫৪, ঢাকা বেতার-এর ‘সবুজের মেলা’ অনুষ্ঠানে

আমাদের কাছেই পদ্মা নদী। পদ্মায় বহু বাড়িঘর খাইয়া ফেলতো। বর্ষার সিজনে ভাঙন আরো বাইড়া যাইতো। একদিকে ভাঙতো অন্যদিকে চরও পড়তো। কতো মানুষ ঘরবাড়ি হারাইয়া ঢাকার দিকে আইসা পড়তো! বহু মানুষ চরেও বাড়ি-ঘর বানাইয়া থাকতো। পদ্মা ইন্টারেস্টিং নদী। একদিকে মাইনষের সব খাইতো, আবার পদ্মার ইলিশের কোন শুমার আছিলো না। জেলেরা ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের নৌকায় পদ্মায় জাল ফালাইতো। ইলিশের জাল। ইলিশের নৌকায় গেছি আমি। ইলিশের জালের নিচের দিকে ইটের টুকরা, পাথর বাইন্ধা নদীতে ফালাইতো। আর উপরের দিকে থাকতো পানির চাইতে হালকা বিভিন্ন জিনিস, ভাসাইয়া রাখার জন্য। উজানের দিক দিয়া পানি নামতেছে সাগরের দিকে, আর ইলিশের ঝাঁক সাগরের দিক দিয়া আসতেছে। ডিম ছাড়তে ছাড়তে আসে। ইলিশ চলে স্রোতের উল্টা দিকে। ইলিশ মাছ এতো সুন্দর আর নিরীহ! টেস্টেও অন্য মাছের লগে ইলিশের কোন মিল নাই। ইলিশের কোন বদনাম নাই; কাউরে কামড়ায় না, গুতা দেয় না। মানুষ নদীতে নামলেও কিছু করে না। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকায় আর্মেনীয়রা

অদিতি ফাল্গুনী | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৬:১৯ অপরাহ্ন

aud_armn03.jpg……..
মিখাইল হোফসেফ মার্টিরোসেন। লেখকের তোলা ছবি।
……
খুশবন্ত সিংয়ের দিল্লী উপন্যাসে লেখক দিল্লীকে তার সেই রক্ষিতার সাথে তুলনা করেছেন যাকে লেখক ঘৃণা করেন অথচ যার কাছে না যেয়ে পারেন না। না, বাবা…আমি খুশবন্ত সিং নই। আমার জীবনের দীর্ঘতম বছরগুলো যে শহরে আমি কাটিয়েছি… সেই শহরকে বরং পুরনো দিনের বাংলা সিনেমা দীপ জ্বেলে যাই-এর একটি জনপ্রিয় গানের কলির ভাষায় বলতে চাই, ‘এমন বন্ধু আর কে আছে? আমার মনের মতো মিস্টার/ কখনো বা ডার্লিং, কভু তুমি জননী/ কখনো বা স্নেহময়ী সিস্টার!’ সুবা বাংলার রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর বা দেবী ঢাকেশ্বরী যে নগরীর রক্ষয়িত্রী …শাঁখারি, কুট্টি, শিয়া, সুন্নী, বাঙালী, তেলেগু, কাশ্মিরী, চৈনিক, ইসমাইলিয়া, মগ (বর্মী), ইস্পাহানী মায় আর্মেনীয় জনস্রোতের বিপুল মিশ্রণে তিলে তিলে গড়ে ওঠা আমাদের এই এলিয়ট কথিত ‘আনরিয়েল সিটি’ বা ‘অপ্রাকৃত নগরী।’ লালবাগ মসজিদ, হোসনী দালান, বড় ও ছোট কাটরা, রূপলাল হাউস, ঢাকেশ্বরী মন্দির, বলধা গার্ডেন, পোগজ স্কুল, বর্ধমান হাউস, চামেলী হাউস, নর্থব্রুক হল… ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে!

aud_armn01.jpg
চার্চের সম্মুখভাগ। লেখকের তোলা ছবি।

আজ এই মধ্য বৈশাখের রাধাচূড়া-বাগানবিলাস-জারুল ও রক্তবর্ণ কৃষ্ণচূড়ার পুষ্পহারে শোভিতা নগরী যখন চারশ’ বছর পার হয়েও পা দিলো মনে হয় আরো একটি বছরে, পাঠক… চলুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর নাজিমুদ্দিন রোড পার হয়ে আর একটু এগোলেই আমরা পেয়ে যাব আর্মেনীটোলার আর্মেনীয় গীর্জা! পুরনো ঢাকার ছোট ছোট গলি আর নর্দমার পাশেই আর্মেনীটোলা ও বাবুবাজারের শতেক দেশী আতর বা বিদেশী সুগন্ধীর খুচরা দোকানগুলোর গন্ধে আচ্ছন্ন বাতাস নাকে শুঁকতে শুঁকতে আপনি দেখতে পাবেন বয়সিনীর মতো সামনের দেয়ালে কিছুটা জীর্ণতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর্মেনীয় গীর্জা। গীর্জা স্থাপনার সন ১৭৮১। গীর্জার প্রবেশ দরোজায় একটি বড় তালা। বাইরে থেকে লোহার শিকের ভেতর দিয়ে হাত বাড়িয়ে দেয়ালে কলিং বেল অনেকক্ষণ ধরে টিপলে ঢাকার শেষ আর্মেনীয় মার্টিন মার্টিরোসেনের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধায়ক শঙ্কর বা গীর্জার প্রহরী হিনু দরোজা খুলে দেবে। ভেতরে ঢুকতেই সার সার কবর। কবরের একপাশে উপাসনাগৃহ। (সম্পূর্ণ…)

পানশালা কিংবা প্রেম থেকে পলায়ন:
যেভাবে আমি লেখক হয়ে পড়লাম

মানস চৌধুরী | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ ২:০১ অপরাহ্ন

[নমস্য হে অকল্পনীয় পাত্রপাত্রী! তোমাদিগের উপস্থিতি সত্ত্বেও এই বন্তুপিণ্ডটিকে ফিকশন না বলে সোশ্যাল হিস্টরি বলে চালিয়ে দেয়া যাচ্ছে না]

ফোন বাজল ঠিক ৪টা ১৯ মিনিটে। ফোন না, সেল ফোন। আর বাজল বললাম বটে, কিন্তু বাজার কোনো সুযোগ সেটি পায় না। কণ্ঠরোধ করে রাখি আমি। ফলে পকেটের মধ্যে, কণ্ঠরোধহেতু, ভোঁৎ ভোঁৎ করে আওয়াজ করল। আমি ত্যারছা চোখে আমার সঙ্গিনীর দিকে তাকাই। এই ভোঁতভোঁতানি তাকে কিছুমাত্র আন্দোলিত করেছে বলে আমার মনে হলো না। ফলে আমি ভরসা বোধ করলাম। আবার এ কথাও মনে হলো যে সেল ফোনটা আমার শরীরে, মানে পোশাকে, সেঁটে আছে বলেই আমার কাছে এর ভোঁৎ ভোঁৎ বা ঘোঁৎ ঘোঁৎ যে তাৎপর্য বহন করে সেটা কিছুতেই তার কাছে বহনযোগ্য নয়। এসব ভাবতে ভাবতেই আমি পকেটে রাখা সেল ফোনটা বের করে সোফায় আমার পাশে রাখতে শুরু করলাম। কোনো এক কারণে এই সাধারণ স্থানান্তরের কাজটাও আমি ওভাবে ত্যারছা চোখে তাকিয়েই করতে থাকলাম। কেন যে এই ত্যারছামি আমার ভিতরে তখন জন্ম নিয়েছে তা আমি কিছুতেই এখন মনে করতে পারি না। এমনকি তখনও তা মনে পড়ছিল বলে আমার মনে হচ্ছে না। কিন্তু আমার এই ত্যারছামি সঙ্গিনী লক্ষ করলেন বলে মনে হলো। মানে তখন মনে হলো। এবং ভোঁৎ-ভোঁৎজনিত বিচলন বা বিরক্তি না হলেও ত্যারছামিতে তিনি হলেন। মানে তিনি বিরক্ত হলেন বলে তখন মনে হলো; কিংবা হয়তো এখন মনে হলো।

সেল ফোনটা কিন্তু ওভাবে বেজেই চলেছে। বা হয়তো বলা উচিৎ না-বেজে চলেছে। কখনো আমি গুণেছিলাম যে ওটা একেকবার, যদি অবশ্যই ফোনকারী নিজে থেকে কেটে না দেন, ১৪ বার বা ১৫ বার বাজে। ১৪ বার নাকি ১৫ বার? সেটা আর এখন মনে পড়ছে না। এমনকি তখনও মনে পড়ছিল না। তাছাড়া তখন আমি শুরু থেকে ভোঁৎ ভোঁৎ এর সংখ্যা গুণতেও শুরু করিনি। মাঝখান থেকে গুণে আর কী লাভ! এদিকে সোফায় রাখতে না রাখতে সেলের এই আওয়াজ অদ্ভুত বিদ্ঘুটে একটা অবস্থায় দাঁড়াল। প্ল্যাস্টিকের সংস্পর্শেই হয়তো। প্ল্যাস্টিকের সংস্পর্শে নানান বস্তুর গুণগত বদল হয়। হয়তো এজন্যেই প্ল্যাস্টিকের অনেক বিরোধী এখন। (সম্পূর্ণ…)

জীবনের পাতায় পাতায় (কিস্তি ৫)

বেবী মওদুদ | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৯:২৭ অপরাহ্ন

শুরুর কিস্তি
——————————–
স্মৃতিকথা ধারাবাহিক
——————————–

বগুড়া থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত রেলগাড়িতে এলাম। তারপর ফেরী চড়ে যমুনা নদী পার হয়ে আবার রেলগাড়ি চড়ে ঢাকায় ফুলবাড়িয়া স্টেশনে এসে যখন নামলাম, তখন রাত প্রায় দশটা হবে। বাইরে প্রবলবেগে বাতাস আর মুষল ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। ঘুম ঘুম চোখে আমরা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বসলাম। বৃষ্টি হচ্ছে তারপর আবার রাতের অন্ধকার। বাইরে কী দেখবো, কিছুই বোঝার উপায় নেই। শুধু ঘোড়ার পায়ের খট খট আওয়াজ, গলার ঠুন ঠুন ঘণ্টির শব্দ আর সহিসের চাবুকের সপাং সপাং শব্দ শুনতে শুনতে আমরা আজিমপুর কলোনীতে এলাম। ৪৯/ডি, দোতালার একটি ফ্ল্যাটে আমাদের নতুন বাসা, ঢাকার ঠিকানা। এই প্রথম ঢাকায় এলাম আমরা। আমার বাবা আগেই কয়েকবার এসেছেন। রেলগাড়িতেই আমাদের রাতের খাবার পালা শেষ হওয়ায়, ঘরে ঢুকে মেঝেতে মাদুরের বিছানায় শুয়ে পড়লাম। ঘুম আসতে একটুও দেরি হলো না।

bm1.jpg………
আজিমপুর কলোনীর সেই বাসা এখন
……..
পরদিন ভোরে উঠে ফ্ল্যাটটা ঘুরে দেখলাম। দু’টো বারান্দা, দু’টো শোবার ঘর, আর একটা বড় ঘর বসার ও খাবার জন্য। বাড়িটা দোতলায় বলে মাটি ও ঘাসের কোনো স্পর্শ নেই। আমার মন খারাপ হয়ে গেলো। সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বড় রাস্তায় গাড়ি ও মানুষ দেখে ভালো লাগলো। রাস্তায় দুপাশে গাছপালা। আমাদের কলোনীর উল্টোদিকে মেথর কলোনী (বর্তমানে ইডেন গার্লস কলেজ ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ।) বারান্দা থেকে দেখলাম রাস্তার পাশে কল থেকে পানি নেবার জন্য মেয়েদের হাড়ি-কলসি নিয়ে জটলা। সেই সঙ্গে তাদের ঝগড়াঝাঁটি ও অশ্রাব্য গালাগালি। আমার কাছে একেবারে নতুন লাগলো। যতদিন ছিলাম প্রতিদিনই এ চিত্রটা দেখতাম। তবে যখন সময় ধরে পানি ছাড়া হতো তখনই এই কলরব কানে আসতো। আমাদের মালপত্র এলো আরও কয়েকদিন পর। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের ‘অঙ্গুরীয় বিনিময় (১৮৫৭)’

| ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ ১:৪৮ পূর্বাহ্ন

অঙ্গুরীয় বিনিময়

প্রথম প্রকাশ: ১৮৫৭

ভূদেব মুখোপাধ্যায়

(১৮২৭ ১৮৯৪)

angb-cover.jpg

১৮৫৭ সালে ঐতিহাসিক উপন্যাস নামে একটি বই প্রকাশ করেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়। ঐতিহাসিক উপন্যাস-এঅঙ্গুরীয় বিনিময়-এর প্রথম প্রকাশ। এই বইয়ে দুটি উপন্যাস একসাথে প্রকাশিত হয়। অঙ্গুরীয় বিনিময় বাদে অন্যটি ছিলো সফল স্বপ্ন। ‘রোমান্স অব হিস্ট্রি’ নামের একটি ইংরেজি বই থেকে প্লট সংগ্রহ করেন ভূদেব। দু’টি উপন্যাসই ঐ ইংরেজি বইয়ের উপর ভিত্তি করে রচিত। ফলে উপন্যাস দু’টিতে ঐতিহাসিক তথ্যনিষ্ঠার সাথে সচেতন ফিকসনের যোগ আছে। বলা হয় বাংলা সাহিত্যে ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখবার প্রথম উদাহরণ ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের। কাজী আবদুল ওদুদ বলেন, বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাসে অঙ্গুরীয় বিনিময়-এর আসর দেখতে পাওয়া যায়।

অঙ্গুরীয় বিনিময় তথা ঐতিহাসিক উপন্যাস প্রথম প্রকাশের সময় ভূদেব রচিত বিজ্ঞাপন পাওয়া যায় ১৯০২ সালে প্রকাশিত বইটির (ঐতিহাসিক উপন্যাস) ষষ্ঠ সংস্করণ থেকে। এখানে সেটি যুক্ত করা হলো:

(সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৫)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১১ ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২ | কিস্তি ৩ | কিস্তি ৪

(কিস্তি ৪ এর পরে)

১৯৪০-এর দশকে শ্রীনগরে ছিলো পোস্ট অফিস, থানাসহ আরো কিছু সরকারী অফিস। আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন শ্রীনগর বাজারে যাইতো, বাজার করতো, খবরাখবর পাইতো। ৪২-৪৩ সালে কংগ্রেসের ভারত ছাড় আন্দোলন বা মুসলীম লীগের রাজনীতির খবরাখবর শ্রীনগর বাজার গিয়াই গ্রামের লোকজন পাইতো। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধের খবর আসতো। রায়ট-দুর্ভিক্ষের খবরও পাওয়া যাইতো। তখন তো টেলিফোন আছিলো না, টেলিগ্রামের যুগ ছিলো তখন। শ্রীনগর বাজারের পাশ দিয়া টেলিগ্রামের তারের লাইন ছিলো। হয়তো কারো পোলা-মাইয়া কোলকাতা থাকে, অথবা কোন আত্মীয় থাকে—তারা খবরাখবর দেওয়া-নেওয়া করতো টেলিগ্রামের মাধ্যমে। ঠিকভাবে পৌঁছাইতে পারলো কিনা, অসুস্থ্য হইলে বা মারা গেলে টেলিগ্রাম করা হইতো। টেলিগ্রামের বার্তা খুব ছোট থাকতো। অক্ষর অনুযায়ী টাকা দিতে হইতো। এই কারণে লোকে অল্প কথায় সাইরা ফালাইতো।

img0062a.jpg
ধানমণ্ডির বাসায় ফয়েজ আহ্‌মদ, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১১

আমাদের বাড়িতে দেশ-বিদেশের খবর পাইতাম বেশিরভাগই পত্রিকায়। বাবা ‘সওগাত’, ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র গ্রাহক হইছিলো। ‘মাসিক মোহাম্মদী’ও ছিলো। ডাকে আমাদের বাড়িতে আইতো। আমরা পড়তাম। পাক্ষিক ‘সওগাত’-এর সম্পাদক ছিলেন নাসির উদ্দিন সাহেব। ‘সওগাত’-এ নজরুল ইসলাম লিখতেন। এইগুলা আমি যখন পড়তে শুরু করি সেই রকম সময়েই নজরুল ইসলাম অসুস্থ্য হইয়া পড়ে। আমি একবার বাড়িতে না বইলা কোলকাতা চইলা গেছিলাম। তখন মানুষজনরে জিগাইয়া জিগাইয়া নজরুলের বাড়িতে গেছিলাম। তখন নজরুলের বউ আর নজরুল—দুইজনই অসুস্থ্য। আমি কয়েক মিনিট খাড়াইয়া দেখলাম, পরে চইলা আসলাম। কোন কথাবার্তা হয় নাই কারো সাথে। ছোটদের জন্যও ‘সওগাত’ আছিলো। সেইটার নাম ছিলো ‘শিশু সওগাত’। এই পত্রিকায় আমি কবিতা পাঠাইয়া দিছিলাম ডাকে, ‘সওগাত’-এর কোলকাতার ঠিকানায়। ‘শিশু সওগাত’-এ ছাপা হইছিলো সেইটা। সেইটাই আমার প্রথম ছাপানো লেখা।
(সম্পূর্ণ…)

তারেক-মিশুক: শিল্পসহোদরের ছেঁড়া সেলুলয়েড

ইকবাল করিম হাসনু | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

tmmm.jpg
তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর

শনিবার, ১৩ আগস্টের সকালে কাজে যাওয়ার জন্যে তৈরি হচ্ছিলাম। টেলিফোনে দূরপাল্লার ঘণ্টাধ্বনি হতেই তুললাম–এই সাতসকালে কে আবার কিছু বিক্রি করতে উঠেপড়ে লাগল–সেটা জানার কৌতূহলে। টরন্টোতে টেলিসেলস অর্থাৎ টেলিফোনে খদ্দের ধরার ঘণ্টাধ্বনি আর দূরপাল্লার ঘণ্টাধ্বনি একইরকমের শোনায়। ভুল ভাঙল যখন ওপাশ থেকে অনুজপ্রতিম প্রদীপের (ছায়ানট-এর অন্যতম নির্বাহী) গলা ভেসে এলো─দাদা, আমি আপনাদের ওখানে অনেক গভীর রাত হয়ে গেছে ভেবে ফোন করি নি, তাই এখন করছি─একটা দুঃসংবাদ আছে। আপনার দুজন কাছের বন্ধু মারা গেছে─তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর─ মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে অ্যাক্সিডেন্ট-এ। মুহূর্তেই ব্যাপারটা আমার কাছে সাররিয়েল মনে হচ্ছিল। আমি প্রদীপকে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার বোধ হারিয়ে ফেলেছিলাম। ঠিক মনে পড়ছে না কী বলে যে ফোনটা রেখে দিয়ে কাজের উদ্দেশে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম। ঘটনার আকস্মিকতায় মনটা কিছুতেই বাস্তবের উপসর্গ পরা মুছে দিয়ে নির্মম সত্যকে স্বীকার করে নিতে চাইছে না যে তারেক ও মিশুক এখন স্মৃতি! প্রদীপ তৎক্ষণাৎ জানাতে পারে নি কিন্তু পরে সংবাদমাধ্যমে ওই দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে আমার অতি পরিচিত শিল্পী ঢালী আল-মামুন ও দিলারা বেগম জলির নাম দেখে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। তাঁরাও অত্যন্ত কাছের মানুষ─সেই যে চট্টগ্রামে তাঁরা যখন চারুকলার শিক্ষার্থী ছিলেন সে-সময় থেকে। ঢালী-র সংকটাপন্ন অবস্থার কারণে মনটা এখনও অজানা আশঙ্কায় মেঘাচ্ছন্ন। স্মৃতিগুলো আছড়ে পড়ছে দুদ্দাড় করে, কিছুতইে সুস্থির হতে দিচ্ছে না। (সম্পূর্ণ…)

রবি ঠাকুর, রাহাজানি এবং রবীন্দ্র পূজারীবৃন্দ

| ৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ ৭:২৯ অপরাহ্ন

ফরিদ আহমেদঅভিজিৎ রায়

tagore-smiling.jpg ………
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১)
………

কোনো এক বিচিত্র কারণে আমাদের দেশে প্রায় সব খ্যাতিমানদের একটা সময় পরে মাথায় তোলা শুরু করি আমরা। মানুষ থেকে ক্রমে ক্রমে প্রথমে মহামানব, পরে দেবতা বানিয়ে ফেলি তাঁদের। হয়তো নিজেরা অক্ষম বলে, দুর্বল বলে যে হীনম্মন্যতায় আমরা ভুগি, সেই হীনম্মন্যতা লুকোনোর জন্যই দেবতার প্রয়োজন হয়ে পড়ে আমাদের। একটা সময় পর্যন্ত হয়তো কেউ এটা নিয়ে মাথা ঘামায় নি। কিন্তু আজকের এই যুগে এসে এটাকে আর মেনে নেওয়া যায় না। সময়ের প্রয়োজনেই আজকে দরকার হয়ে পড়েছে দেবোত্তর দেয়ালকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে আসল মানুষগুলোকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা। শুধু ভাল ভাল দিক নয়, তাঁদের কোনো অন্ধকার দিক থাকলেও সেটাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। এই কাজটা করা হবে কোনো প্রতিহিংসা থেকে নয়, তাঁদেরকে অবমাননা করা বা অপমান করার মানসিকতা থেকে নয়। বরং সত্যকে কঠিন এবং নির্মমভাবে তুলে ধরাটাই হবে মূল উদ্দেশ্য। রবি ঠাকুরের ভাষাতেই, সত্য যে কঠিন, সেই কঠিনেরে ভালোবাসিলাম।

আবর্জনাকে রবীন্দ্রনাথ প্রশংসা করলেও আবর্জনাই থাকে।– হুমায়ুন আজাদ


বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য স্রষ্টা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর মত এরকম দুহাত উজাড় করে বাংলা সাহিত্যকে এত রত্নভাণ্ডার আর কেউ উপহার দিতে পারে নি। ঊনিশ শতকের এক দরিদ্র সাহিত্যের অধিকারী বাংলাকে তিনি প্রায় একক প্রচেষ্টাতেই জাতে তুলেছেন, সমৃদ্ধকর করে তুলেছেন। বিশ্বসভায় বাংলা সাহিত্যকে সগৌরবে উচ্চ আসনে বসিয়েছেন। নিরন্তর সৃষ্টি করেছেন তিনি। তাঁর মত এরকম ঐকান্তিক একাগ্রতায় সারা জীবনব্যাপী শুধুমাত্র সাহিত্য সৃষ্টি আর কোনো সাহিত্যিকের দ্বারা সম্ভবপর হয় নি। না এই অঞ্চলে, না সারা বিশ্বে। সচ্ছল পরিবারে জন্ম হওয়ার কারণে জীবিকা নিয়ে তাঁকে তেমন করে ভাবতে হয় নি কখনো। ফলে, আমৃত্যু তিনি সার্বক্ষণিক সাহিত্য সৃষ্টির জন্য অফুরান সময় পেয়েছেন। আর সেই সুযোগকে পূর্ণভাবে তিনি কাজে লাগিয়েছেন তাঁর অবিরাম আগ্রহ, নিরলস প্রচেষ্টা এবং ক্লান্তিহীন লেখালেখির মাধ্যমে। সেই কৈশোর বয়স থেকে যে তরী তিনি ভাসিয়েছেন সাহিত্যের স্রোতস্বিনীতে, তার সফল সমাপন ঘটেছে মরণ সাগরের তীরে এসে।
—————————————————————-
আমাকে ডেকে সস্নেহে পাশে বসালেন, কুশল প্রশ্ন করলেন। তারপর বললেন, “দেখো, বিশ্বপরিচয় লিখতে লিখতে দেখলুম এর ভাষাটা আমারই হয়ে গেছে, তাই এর মধ্যে তোমাকে কোথাও স্থান দিতে পারলুম না।” একটু থেকে বললেন, “অবশ্য তুমি শুরু না করলে আমি সমাধা করতে পারতুম না, তা ছাড়া বিজ্ঞানের অনভ্যস্ত পথে চলতে শেষপর্যন্ত এই অধ্যবসায়ীর সাহসে কুলাতো না। তুমি ক্ষুণ্ণ হয়ো না।”
—————————————————————-
দুঃখজনক হলেও এটা সত্যি যে, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর এত বছর পরেও রবীন্দ্র মূল্যায়ন সঠিকভাবে হয় নি। একদল যেমন ভক্তিরসে ভরপুর হয়ে তাঁকে পুজো করে ছাড়ছে, অন্য দল তেমনি তাঁর বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষোদগার বর্ষণ করে চলেছে, মূলতঃ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এই দুয়ের মাঝামাঝি থেকে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নির্মোহ এবং নৈর্ব্যক্তিক আলোচনা নেই বললেই চলে। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এই সমস্যাটা আজকের নয়। তিনি জীবিত থাকা অবস্থা থেকেই এটা চলে আসছে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com