আর্টস ই-বুক

রবীন্দ্রনাথ মৈত্রের ‘মানময়ী গার্লস্ স্কুল (১৯৩২)’

| ৩১ আগস্ট ২০১১ ৪:৪৬ অপরাহ্ন

মানময়ী গার্লস্ স্কুল

প্রথম প্রকাশ: ১৯৩২

রবীন্দ্রনাথ মৈত্র

(১৮৯৬ ১৯৩৩)

post-im-mgs.jpg
মানময়ী গার্লস্ স্কুল সফল বাংলা নাটকগুলির একটি। রবীন্দ্রনাথ মৈত্রের লেখা এ নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে, তাঁর মৃত্যুর এক বছর আগে। প্রকাশের পরেই কোলকাতা ও কোলকাতার বাইরে মানময়ী গার্লস্ স্কুল মঞ্চস্থ হয় বহুবার। এ নাটকের সাফল্যের আরেকটি ক্ষেত্র একাধিক ভাষায় সিনেমা হওয়া। হিন্দি ও তামিল ভাষায় সিনেমা তৈরি হয়, বাংলায়—কোলকাতায় সিনেমা হয় দুইবার। বলা হয় অভিনেত্রী কানন বালা বা কানন দেবী ১৯৩৫ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা মানময়ী গার্লস্ স্কুল–এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হন। পরে ১৯৫৮ সালে উত্তমকুমারের অভিনয়ে আবার সিনেমা তৈরি হয়। এর বাইরে নাটকটি ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

পরবর্তীতে নাটকটি ক্রমশঃ অপরিচিত হয়ে উঠতে থাকে, বিশেষতঃ বাংলাদেশে। বাংলা একাডেমী’র লেখক অভিধানে রবীন্দ্রনাথ মৈত্র-এর নাম নেই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক একটি পাঠ্য বইয়ে দেখা গেল, নাটক অধ্যায়ে এই নাটক বা নাট্যকারের উল্লেখ নেই। স্পষ্ট করে এগুলির কারণ নির্দেশ করা কঠিন।

এখন ই-বুক হিসেবে প্রকাশিত হলো মানময়ী গার্লস্ স্কুল-এর প্রথম আর্টস সংস্করণ।

অনলাইনে পড়ুন অথবা/এবং ডাউনলোড করুন:
রবীন্দ্রনাথ মৈত্রের ‘মানময়ী গার্লস্ স্কুল (১৯৩২)’
(সম্পূর্ণ…)

ডেকান অডিসি (২)

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ৩১ আগস্ট ২০১১ ২:২৭ অপরাহ্ন

কিস্তি ১

(গত কিস্তির পর)
সত্যর দোকানে পৌঁছে জানা গেল, বাবু মোপেড চড়ে রেল স্টেশ্যনে গেছেন কারো টিকিট কিনতে। এসেও গেল সে মিনিট পাঁচেকের মধ্যে। ইয়েস স্যর, শ্যূট। সত্যর তাড়া রয়েছে বুঝে আমি ঝোলা থেকে ম্যাপটা বের করে মেলে ধরলাম টেবিলের ওপর। বল্লাম, আমি মোটামুটি রুট যা বুঝেছি, আমরা এখান থেকে পশ্চিমে যাব ব্যাঙালোর, ওখান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে পরবর্তী স্টপ মাইসোর, ওখান থেকে সোজা দক্ষিণে বন্দিপুর, মুড়ুমালাই বনপথে উডাগামন্ডলম্ গিয়ে উঠব। সেখান থেকে একই পথে না ফিরে উটি পাহাড় থেকে দক্ষিণ-পুব পথে নেমে ওয়েলিংটন, কুনূর, কৈম্বাটর, কোডাইকানাল পেরিয়ে আবার উত্তরমুখো ট্র্যাভেল করে কারুর, নামাক্কাল, সালেম, ধর্মপুরী হয়ে ব্যাঙালোরের রাস্তায় পড়ে আবার ভেল্লোরমুখী লাস্ট লেগ অব দ্য ট্রিপ। এই তো? এখন বল, কীভাবে যাব? তার দরদস্তুর সব ঠিক কর। সব বলে রেখেছি, সত্য হেসে বলে, ইউ আর এন ঈজি কাস্টমার! আপকা ওহ্ যো ফ্রেন্ড হ্যায় না, কাসেম সাব, কাল আয়ে থে সাউথ সার্কিট ট্যূর কি খাবার লেনে কি লিয়ে। ও মাই গড, হি ওয়ান্টেড টু ইনস্পেক্ট দ্য ভিইক্‌ল আই উড লেট হিম ইউজ ফার্স্ট। সৌ আই শোউড হিম। বাট হি ওয়জ নট টু বি স্যটিসফাইড। হি ওয়ান্টেড এন এয়ারকন্ডিশন্ড কার, অর এট লিস্ট ফিটেড উইথ ফ্যান্‌স, নিউ টায়ার্‌জ এন্ড অল। আই সেইড, স্যরি স্যর। ইউ হ্যাভ টু ফ্যগগেট এবাউট দ্য সাদার্ন ট্রিপ দিস টাইম। নৌ ওয়ান ইন ভেল্লোর ক্যান গিভ ইউ দ্য ভিইক্‌ল অব ইওর চয়েজ। সত্য মুচকি হাসল। অগত্যা আমিও।

মোদি নামের ইয়াংম্যান তার নিজের গাড়ি চালিয়ে আমাদের বেড়াতে নিয়ে যাবে। পরদিন সকালে ন’টার দিকে হোটেল থেকে আমাদের তুলবে। হাজার-বারোশ’ কিলোমিটার পথ তিন-চার দিনে ট্র্যাভেল করে ফিরব। হাদিয়া তিন হাজার রুপি। পনেরোশ’ দিয়ে রশিদ নিলাম। বাকিটা ফিরে এসে হবে। (সম্পূর্ণ…)

খাটো ছবির আন্দোলনে সেই দুজন মানুষ

তারেক আহমেদ | ২৯ আগস্ট ২০১১ ১২:৫৭ অপরাহ্ন

আমাদের একটা সিনেমা করবার দল ছিল। শুধু সিনেমা বানাবার বলি কেন, দেখারও দল ছিল। একটু একটু করে দলটা গড়ে উঠছিলো অনেকদিন ধরেই। অনুষ্ঠানিক রূপ পেল ’৮৬ সনে–যে বছর সংগঠন হিসেবে শর্ট ফিল্ম ফোরাম যাত্রা শুরু করে। দলটির সাথে আমার যোগাযোগ ঘটে আরো দু’বছর পর। মনে পড়ে, ’৮৮ সনের গোড়ায় আমি কেবল নই, এখন জার্মানপ্রবাসী প্রামান্যচিত্রকার বুলবুল (শাহীন দিল রিয়াজ), কানাডায় বসবাসরত শাকিল হান্নান, সরোয়ার জাহান সহ আরো কেউ কেউ — যারা সিনেমা বানানোকেই জীবনের প্রথম প্রেম ভেবে নিয়েছিল, তারা সংগঠনটির সাথে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ি। তখন ফিল্মকে রীতিমতো অস্ত্রই ভেবেছিলাম। অবস্থাটা এমন ছিল, সন্ধেবেলা তোপখানা রোডে ঋত্বিক ফিল্ম সোসাইটির অফিসে ছবি প্রদর্শনীর কাজে ব্যস্ত –টিকিট সংগ্রহ, খামে ভরা, পোস্ট করা ইত্যাদি। আর দিনের বেলাটা কাটতো ৪৬ নিউ এলিফ্যান্ট রোডে। যেখানে একই কক্ষে মোরশেদুল ইসলামের বিজ্ঞাপনী অফিস, শর্ট ফিল্ম ফোরামের কার্যালয় আবার শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভালেরও কাজ চলে।
tareque-m-mishuk-m.jpg
একসাথে কাজ করছেন তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর (নরসুন্দর)

এই আঙিনায় পা দিয়ে প্রথম থেকেই দুজন মানুষকে ভাল লেগে গেল। তানভীর ভাই বা মোরশেদুল ইসলাম আগে থেকেই চেনা–কারণ তারা শর্ট ফিল্ম নির্মাতা। আগামী আর হুলিয়ার নির্মাতা হিসেবে তখন তাদের দেশজোড়া পরিচিতি। গোটা আশির দশক জুড়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের যে কোনো আয়োজনে এই দুটো ছবি ব্যাপকভাবে দেখানো হয়। এই দুজন সংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন। কিন্তু কাছের মানুষ হিসেবে আমরা পেলাম দুজন তারেককে–তারেক মাসুদ ও তারেক শাহরিয়ার। কী দুর্ভাগ্য–তাদের কেউই আজ আর নেই। (সম্পূর্ণ…)

যিনি ক্রমাগত বেড়ে ওঠেন লড়াইয়ে

বেলায়াত হোসেন মামুন | ২৭ আগস্ট ২০১১ ১২:৫০ অপরাহ্ন

১২ আগস্ট বিকালে আমি তারেক ভাইকে ফোন করেছিলাম। বেশ কিছুদিন পর। প্রায় দুইমাস হবে তারেক ভাইয়ের সাথে আমার কথা হয়নি। এর মাঝে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন কিছুদিন। আরিচা মহাসড়কে পড়ে থাকার ঠিক আগের দিন বিকালে ফোন করতেই উচ্ছ্বসিত তারেক ভাই–‘কী খবর তোমার?’

তাঁকে বললাম, আমি তাঁকে নিয়ে লিখতে চাই, তাঁর কোনো নির্দিষ্ট ছবি নিয়ে নয়। তাঁর প্রায় ৩৫ বছরের চলচ্চিত্রযাত্রা নিয়ে, তাঁর প্রবণতা, মনোভাব এবং ইচ্ছা ও অভিপ্রায় নিয়ে, তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকর্ম নিয়ে, ব্যক্তি তারেক মাসুদকে নিয়ে।
tmbk.jpg
কুষ্টিয়ায় তারেক মাসুদ। ছবি. বি. করিম।
শুনে একেবারে শিশুর মত খুশি হয়ে উঠলেন। বললেন, ‘আমাকেই নিয়েই লিখছ না, আরোও কাউকে কাউকে নিয়েও লিখছ।’

বললাম, ‘আপনাদের চারজনকে নিয়েই লিখব। মোরশেদ (মোরশেদুল ইসলাম) ভাইকে নিয়ে লিখেছি। এরপর আপনাকে নিয়ে লিখব। তারপর মুরাদ (মানজারে হাসীন মুরাদ) ভাইকে নিয়ে লিখব, শেষে তানভীর (তানভীর মোকাম্মেল) ভাইকে নিয়ে লিখব।’ আরো বললাম, ’লেখাগুলো বেঙ্গল বারতা নামে একটি মাসিক কাগজে প্রকাশিত হবে।’
——————————————————
কিছু সাংবাদিক দেখতাম তারেক ভাইয়ের কিংবা আমাদের কর্মীদের সাথে তর্ক করতেন। তারা বলতেন, ‘আমরা সাংবাদিক, আপনাদের নিউজ করি, আমরা কেন টিকেট কেটে ছবি দেখব?’ তারেক ভাইকে বলতে শুনতাম, ‘নিউজ করা আপনার দায়িত্ব। আপনি তো দয়া করে আমাদের নিউজ করেন না। যদি আপনার মনে হয় আপনি আমাদের নিউজ করেন বলে বিনামূল্যে ছবি দেখতে পারবেন তাহলে আপনি নিউজ করবেন না। তবুও টিকেট ছাড়া আমি আমার ছবি দেখতে দেব না।’
——————————————————
শুনে হাসলেন। বললেন, ‘আমাদের দেশে কেউ মরে গেলে তারপরে যা একটু-আধটু লেখা হয়। বেঁচে থাকতে কেউ কাউকে নিয়ে লিখতে চায় না। (সম্পূর্ণ…)

এস এম সুলতান ও আদম সুরত

তারেক মাসুদের টেলিফোন ইন্টারভিউ ১৯৯২ (কিস্তি-২)

নাসির আলী মামুন | ২৭ আগস্ট ২০১১ ৫:৩২ পূর্বাহ্ন

কিস্তি এক-এর পর

মামুন: তাহলে এর পিছনে কী লক্ষ্য ছিল, লুকানো?

তারেক: সে জীবন, জীবন থেকে বিযুক্ত থেকে জীবনকে দেখা। ধরুন, জীবনের সঙ্গে যদি, আমার যেটা মনে হয়, তিনি হয়তো জীবনের সঙ্গে যদি সবার মতো ওই পার্টিসিপেট করেন তাহলে জীবনের বৃহত্তর পার্সপেক্টিভ নাও–একজন শিল্পী হিসেবে হয়তো জ্ঞান লাভ নাও করতে পারে, হ্যাঁ; এবং জীবনের সঙ্গে বিযুক্ত থেকে, ওই অর্থে যে…মধ্যবিত্ত জীবনের কথা বলছি, তার থেকে বাইরে থেকে বৃহত্তর জীবন যেটা—বৃহত্তর জীবন, যে জীবনে আমরা মধ্যবিত্ত সমাজের মধ্যে আটকে থাকলে তার সেখানে, যেখানে জানা হয় না জীবনকে, তার–সেই জীবনের সাথে পরিচিত হওয়ার এবং একাত্ম হওয়ার জন্য, এক অর্থে, কিছু অর্থে কিছু জিনিস তিনি মানে কিছু কিছু ভানও তিনি করেছেন। এইগুলো হচ্ছে তার অনেকদূর ভান। সো দ্যাট হি বিকামস অ্যাকসেপ্টেবল ইন এ ওয়াইডার সোসাইটি।

মামুন: এই ভানগুলি তাহলে তার শিল্পী জীবনে মানে উত্তরণের জন্য কাজে লাগছে আর কি।

91.jpg
নড়াইলে এস এম সুলতান, ছবি: নাসির আলী মামুন

তারেক: কাজে লেগেছে এবং অভিজ্ঞতার, মানে প্রাপ্তির কাজে লেগেছে। অর্থাৎ আপনি ভাবুন—একবার যেমন ধরুন আমাকে বলছিলেন যে আমার সবসময় ইচ্ছে হতো যে একজন—আমি একজন শিল্পী কিন্তু মহিলাদের সাথে তো আমার একটা, অত ভালো সম্পর্ক নেই। …গার্লফ্রেন্ড বা ওরকম, আমি তো, বিবাহিত আমি, তো আমি–জীবনের চারটা অংশ হচ্ছে মেয়েরা–তো তাদেরকে যদি না জানি-বুঝি তাহলে কি করে হয়, শিল্পী হব কি করে? তাই আমি ইচ্ছে করে, আমার ইচ্ছে ছিল অনেক আগে থেকেই, যে আমি মহিলা, আমার যদি মহিলা হয়ে জন্ম হতো বা মহিলা হয়ে দেখতে পারতাম! পরে যখন, তিনি বলছেন–যখন আমি দেশে ফিরে এলাম তখন এবং আমি দেখলাম যে আর্ট কলেজে আমার জায়গা নেই। বা হল না। জয়নুল আবেদিন চেষ্টা করেও আমাকে একটা চাকরি দিতে পারলেন না এবং আমার আর এসব ভাল্লাগছিলো না, এইসব আধুনিক, তথাকথিত আধুনিক চিত্রকরের জীবন, তখন আমি ডিসাইড করলাম যে আমি গ্রাম–ওই প্রকৃতির গ্রামে চলে যাবো। আমার সেই শৈশবে ফিরে যাব। গ্রামে, শৈশবে সে গ্রামে ছিলো।
(সম্পূর্ণ…)

ডিজিটাল সিনেমা নিয়ে তারেক মাসুদের সাক্ষাৎকার

ফাহমিদুল হক | ২৫ আগস্ট ২০১১ ৯:৩৭ অপরাহ্ন
রানওয়ে ………
তারেক মাসুদের রানওয়ে
………

বাংলাদেশের ডিজিটাল চলচ্চিত্র নিয়ে ২০১০ সালে গবেষণা করেন চলচ্চিত্র-গবেষক ফাহমিদুল হক। গবেষণার আওতায় তিনি সদ্যপ্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন ২০১০ সালের মার্চ মাসে। সেই সাক্ষাৎকারে তারেক মাসুদ ডিজিটাল চলচ্চিত্রের দার্শনিক, নন্দনতাত্ত্বিক ও প্রাযুক্তিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া বাংলদেশে ডিজিটাল চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা, সমস্যা নিয়ে কথা বলেন এবং সমাধানের দিকেও আলোকপাত করেন।–বি. স.

———————–

ফাহমিদুল হক: ডিজিটাল যুগে শিল্পকলাকে কীভাবে দেখবো আমরা? ডিজিটাল সিনেমার আলোচনার পূর্বে সেই আলোচনাটাই করা দরকার, আগে।

তারেক মাসুদ: তথাকথিত একটি উন্নয়নশীল দেশে যেখানে সাংঘর্ষিক একটা পরিস্থিতি দেখা যায়–উন্নয়ন ও অনুন্নয়নের। এর প্রতিফলন আমরা দেখি প্রযুক্তিতে। প্রযুক্তি এমন একটা ভূমিকা নেয়, উন্নয়নের প্রযুক্তির অংশটা ট্রান্সফার হয়, উন্নয়ন নিজে কতটা আসে? সেটা সুদূরপরাহত থাকে। শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গে যখন প্রডাক্টের রিপ্রডাকশন শুরু হলো–মেশিন আইডেন্টিকাল প্রটোটাইপ তৈরা করা শুরু করলো এ্যাসেম্বলি লাইনের মধ্যে। সেটাকেই তো আধুনিকতার সঙ্গে একাত্মবোধক করে দেখানো হয়।

———————————
কামরুজ্জামান কামুর দি ডিরেক্টর দেখেছি, আতিকের ডুবসাঁতার দেখলাম। তারা মনে করছেন সিনেমাকে নাটক থেকে পৃথক হতে হলে গান থাকতে হবে। দেড় ঘণ্টার নেচারাল লেন্থকে তারা আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত টানছেন। প্রিয়তমেষু তাই। ছবিটা ভালো হয়েছে, কিন্তু দেড় ঘণ্টার মধ্যে হলে ছবিটা কমার্শিয়ালিও ভায়াবল হতো। কতকগুলো পূর্বশর্ত আছে, সবগুলোকে তারা পূরণ করতে চাচ্ছেন। ডুবসাঁতার-এ দেখলাম গান ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে প্রচুর পিকচারাইজেশন, লেন্থ বাড়ানো হয়েছে।
———————————

ট্রান্সফারটাও পুরোপুরি হয় না। সে কারণে একটা বড়ো ধরনের গণ্ডগোল তৈরি হয়। কিন্তু এটা একটা নেসেসারি এভিল। (সম্পূর্ণ…)

মাটির ময়না ও তারেক মাসুদের লড়াই

রিফাত হাসান | ২৩ আগস্ট ২০১১ ১:৪৯ অপরাহ্ন

matir-m11.jpg
মাটির ময়নার কাজী সাহেব, স্ত্রী পুত্র কন্যা সহ।

তারেক মাসুদের লড়াই ‘দেশপ্রেম’ গোছের কিছু ছিল না। তারেককে বোঝার এই প্রারম্ভমুহূর্ত আমাকে আলোড়িত করে, কারণ এই ‘দেশপ্রেম’ ব্যাপারটি সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী চিন্তা থেকে উদ্ভূত। ফলত সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণবাদের সাথে এর বিভেদ সামান্য, বরং সখ্য আছে। বাংলাদেশ বিপ্লবোত্তর জনপ্রিয় ও আর্ট উভয়ধারার বাংলা চলচ্চিত্রের স্রোত থেকে শুধু নয়, শিল্পের অন্যান্য ধারা থেকেও আলাদা করে তারেকের কাজের গুরুত্ব চিহ্নিত হয় আমার কাছে এই জায়গায় এসে। এটি বোঝার জন্য নোক্তা হল, তারেকের সিনেমা স্রেফ ‘দেশপ্রেমিক’দের প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধব্যবসাতে নিমজ্জিত থাকে নাই। বরং তাঁর লড়াই ছিল আধিপত্যবাদি ইতিহাস দ্বারা নির্ণিত ‘অদেশপ্রেমিক’ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ‘অপর’ হয়ে থাকা জনগোষ্ঠিকে বাঙালী জাতীয়তাবাদের আলখেল্লাধারী ‘দেশপ্রেমিক’ এবং সাংস্কৃতিক বর্ণবাদীদের কামনা-বাসনা থেকে আলাদা করে বোঝা।

tm3.jpg……
তারেক মাসুদ
…….
এই ‘অদেশপ্রেমিক’ অপর জনগোষ্ঠী কারা–তার জন্য একটি ঘটনার বরাত নেবো, সংক্ষিপ্তভাবে। দুই হাজার আট সালে জরুরী অবস্থার কোনো একদিন লালন ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে মাদ্রাসা ছাত্রদের বিরুদ্ধে ‘প্রগতিশীল’ সংস্কৃতিকর্মীরা চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ শ্লোগান দেয়: ”আমাদের লড়াই এমন এক শক্তির সঙ্গে, যারা বোঝে না ফুল কী, সংস্কৃতি কী, গান কী, কবিতা কী–”। এই শ্লোগানটি, এর ভিতরে যে বিদ্বেষী বর্ণবাদ লুক্কায়িত, তা আমি বোঝার চেষ্টা করেছি তখন। এর শেকড় কোথায়? (সম্পূর্ণ…)

খণ্ডিত জীবন (কিস্তি ৩)

ফয়েজ আহ্‌মদ | ২২ আগস্ট ২০১১ ১:৪৮ অপরাহ্ন

কিস্তি ১ | কিস্তি ২

(কিস্তি ২ এর পরে)

ঘোড়ার ব্যবহার ছিলো স্থানীয়। আর সারাদেশের সাথে, এক এলাকা থেকে আরেকটা এলাকায় মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য নৌকা ছাড়া উপায় ছিলো না। আমাদের বিক্রমপুরে সারা বছরে যত ধান লাগে তার পুরাটা বিক্রমপুরে জন্মায় না। ধান আসতো বরিশাল থেকে। ব্যবসায়ীরা ছিলো। তাদের বড় বড় পালতোলা, দাঁড়টানা নৌকা ছিলো। সেই নৌকায় তারা ধান নিয়া আসতো।

bengal-famine-1943.jpg
বাংলার দুর্ভিক্ষ ১৯৪৩

তখন জাহাজ-স্টিমারও চলতো; কিন্তু তাতে ছিলো মানুষের চলাচল। মালপত্র আনা-নেওয়া হতো কম।
(সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৬)

আবু সুফিয়ান | ২২ আগস্ট ২০১১ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪ | সিডনির পথে পথে ৫

(গত সংখ্যার পর)

63.jpg
পেছনে সিডনি অপেরা হাউস, পার্ক হায়াত হোটেল সংলগ্ন কাঠের পাটাতনে লেখক

হুট করে আবার বৃষ্টি নেমে গেলো। দুজনের কারো সাথে ছাতা নেই। একটা দোকানের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। বৃষ্টির গতি ধীর। কখন থামবে কে জানে! (সম্পূর্ণ…)

শোকার্ত পূর্ণিমায় খণ্ড চিন্তা…

ফরহাদ মজহার | ২১ আগস্ট ২০১১ ৬:০২ অপরাহ্ন

১. পূর্ণিমা…?
শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা লাগবার আগে থেকেই বৃষ্টি ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। ঢাকা শহরে বসে পূর্ণিমার কথা মাথায় আসার কথা নয়। কিন্তু এই শ্রাবণে মাথায় এসেছিল। ঢাকা শহরের বিশাল এক দালানের মাথায় চাঁদ আটকে গিয়েছিল দেখে ভড়কে গিয়েছিলাম। ভাল করে খেয়াল করে মনে
tm300.jpg…….
রানওয়ে ছবির শুটিং এর ফাঁকে সিলেটে তারেক মাসুদ, ২০১০-এ
…….
হোল ছাদের কার্নিশ ঘেঁষে বহু নিচের রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে হারামজাদা। ভয়ডর নাই। ডর লাগছিল যদি অত উপর থেকে আবার পড়ে যায়। মরে গেলে তো গেল। আত্মীয়স্বজন ভাইবোন মাবাবা বন্ধু বান্ধবের কান্নাকাটি হাহুতাশ শোনার মত মর্মভেদী অভিজ্ঞতা জীবিত মানুষের আর কিছুই হতে পারে না। এর চেয়ে বোধহয় মরদেহের গোসল-কাফন-দাফন অনেক সহজ কাজ। যদি আবার হাতপা ভেঙে হাসপাতালে পড়ে থাকে? তখন? আমি ভাবলাম এতো উঁচু দালানে নিশ্চয়ই লিফট থাকবে এবং রাত যতোই হোক দারোয়ান বা পাহারাদার কেউ তো থাকবেই। লিফটে ঐ আকাশের উঁচু থেকে গ্রাউন্ড ফ্লোরে নিশ্চয়ই নামিয়ে আনা যাবে বেয়াক্কেল চাঁদকে। হলুদ জার্সি খুলে রেখে দিতে হবে বেটার যেন খামখেয়ালী খেলা সে আর খেলতে আর না পারে। কিন্তু কার্নিশ থেকে সরে এসে নিচে নেমে আসবার জন্য ওকে বোঝাবে কে? হুলস্থূল করে রাতের দারোয়ানের খোঁজ করতে করতে শহরে শহরে দৌড়াতে শুরু করলাম আমি। (সম্পূর্ণ…)

আমি শোক করছি না তারেক ভাই, আপনি দেখুন…

প্রসূন রহমান | ২০ আগস্ট ২০১১ ৩:২২ অপরাহ্ন

tareque-masud-6.jpg
তারেক মাসুদ

কাগজের ফুল নির্মাণে দেরী হয়ে যাওয়া আর জীবনের আয়ু কমে আসা নিয়ে তারেক ভাই প্রায়ই ঠাট্টার ছলে বলতেন–দেখেছো, বাংলাদেশের গড় আয়ু বেড়েছে! ৫৪ থেকে ৬৭ হয়েছে! আমরা নিশ্চয়ই কাগজের ফুল শেষ করে মরতে পারবো। কথাটা বলেই অন্যদিকে তাকিয়ে ম্লান হাসতেন। বুঝতে পারতাম, তাকে মৃত্যুচিন্তা পেয়ে বসেছে বেশ ভালো করেই। পুত্র নিষাদের জন্ম হওয়ার পর জীবনের প্রতি মায়াটাও বেড়ে গিয়েছিল স্বাভাবিক কারণেই। এই আরিচা রোডকে তিনি অসম্ভব রকম ভয় পেতেন, কিন্তু পছন্দের লোকেশন পেয়ে যাওয়ায় আর কোনো বিকল্প ছিল না। গত ৩ বছরে শতাধিকবার যাতায়াত করতে হয়েছে আমাদের। এই পথে যাতায়াত করবার সময় তিনি অতিরিক্ত সাবধান থাকতেন। (সম্পূর্ণ…)

চর ভদ্রাসন

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ | ১৯ আগস্ট ২০১১ ১২:৫৮ অপরাহ্ন

চারিদিকে চর ভদ্রাসন
নীল নবঘন রাত নামে
আশৈশব যে-নিদিধ্যাসন
ব’সে আছে জীবনের বামে
তারই নিরানব্বই নামে
আমাদের প্রিয়সম্ভাষণ

অতর্কিতে কতগুলি শব
শুয়ে গেছে গাদাগাদি ভ্যানে
মিসা ফেলে এসেছে বিশপ
আমাদের একাট্টা নির্জ্ঞানে
অবলোকিতেশ্বরের ধ্যানে
নিশ্চল চ্যানেলগুলি সব

কারো হুকুমের ইন্তাজার
দরিয়ায় নীরব বারুদ
বেলার বালিতে দশ-হাজার
খোলা-চোখ জন্ডিস-হলুদ
হেরো দ্যাখো তারেক মাসুদ
ইমাম নিজের জানাজার (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com