সাহিত্য সমালোচনা ও সমালোচনা সাহিত্য

সেজান মাহমুদ | ৩০ জুন ২০১১ ১:০১ পূর্বাহ্ন


বাংলাদেশে সাহিত্য সমালোচনা বিষয়ক তর্ক-বিতর্ক বেশ তুঙ্গে। দৈনিকের সাহিত্য পাতার ফরমায়েশি লেখা, বয়োজ্যেষ্ঠ লেখকদের মননশীল ধারাভাষ্য থেকে শুরু করে প্রায়-আকাদেমীয় গবেষণাপত্রের মতো তথ্যনির্ভর পর্যালোচনা, আর আন্তর্জালে বা ইন্টারনেটে আসর গরম-করার মতো চুটকি আলোচনা সবই চলছে পুরোমাত্রায়। এই আলোচনা সমালোচনা যদি একটি যৌক্তিক ধারার দিকে যেতে বা চিন্তার মুক্তি ঘটাতে সাহায্য করে তাতে সাহিত্যের উপকার বই অপকার হবে না বলেই মনে হয়।

hahsrn.jpg……..
হাসান আজিজুল হক প্রসঙ্গে সেলিম রেজা নিউটনের পুনর্মুদ্রিত রচনা, ২০১০
…….
গত ২০০৭ সালে ২৯ জুন ও ২৩ জুলাই প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায় কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ‘সাহিত্য সমালোচনা কীভাবে সম্ভব” শিরোনামে দুই কিস্তির লেখা মুদ্রিত হয়েছিল।[] এর প্রেক্ষিতে সেলিম রেজা নিউটন-এর ‘চিন্তার সংকট সাহিত্যের স্বাধীনতা: মানুষের মুক্তি; প্রসঙ্গ হাসান আজিজুল হকের কার্তেসীয় পদ্ধতি এবং সাহিত্যে আত্নঘাতী বোমাবাজির প্রবণতা’ শিরোনামের এক দীর্ঘ লেখা প্রথম লিটল ম্যাগাজিন কাকতাড়ুয়ায় (২০০৮), পরে bdnews24.com-এর আর্টস বিভাগে পুনঃপ্রকাশিত হয় (২০১০)।[] দুটো লেখার ধরনের মধ্যে বিরাট ফারাক আছে; হাসান আজিজুল হক লিখেছিলেন একজন প্রাজ্ঞ সাহিত্যিকের সমালোচনা বিষয়ে ধারাভাষ্যের মতো করে, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে দর্শনশাস্ত্রে শিক্ষকতার প্রভাব অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন কিন্তু প্রত্যক্ষ প্রভাব রেখেছে তাঁর লেখক সত্তা; অন্যদিকে নিউটন নিজেও সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগের তরুণ শিক্ষক, তিনি দর্শনের পদ্ধতিগত ধারাকে ঠিক রেখে যুক্তির কাঠামো তৈরি করে যাচাই করে দেখতে চাইছেন কী আমাদের চিন্তার স্বরূপ, কী আমাদের গলতি আর তার মধ্য থেকে আমাদের নিজস্ব, স্বাধীন, চিন্তন ধারার সূচনা বা পরিস্ফূটন করা যায় কিনা (খুব সাধারণভাবে বললাম)।

srn11.jpg……..
সেলিম রেজা নিউটন
…….
প্রথমেই প্রশ্ন আসতে পারে একটি দৈনিক পত্রিকায় একজন প্রাজ্ঞ লেখকের অনেকটা ধারাভাষ্যের মতো লেখাকে পাল্টা একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণী, প্রায়-একাডেমিক লেখা দিয়ে আক্রমণ বা বিচার করা যথাযথ কি না? কেন এই প্রশ্ন? আমাদের সাহিত্য পাতায় কেউ গবেষণাপত্র লেখেন না, দর্শন বা সাহিত্য বিষয়ে তো নয়ই। এ কারণে হাসান আজিজুল হকের লেখার ধরন, যুক্তির কাঠামো অনেকটাই সাহিত্যের ক্লাসে মনোগ্রাহী বক্তৃতার মতো শোনালেও তাঁকে দোষ দেয়া যায় না। আগেই জানিয়ে রাখছি আমার এই লেখার উদ্দেশ্য কোনোভাবেই এই দুই লেখকের সমালোচনা করা নয়। বরং এই সূচিত আলোচনার মধ্য থেকে কোন একটি দিকে আমার বিশ্লেষণ ধাবিত করা, যা থেকে হয়তো কিছু একটা বের হয়ে আসতে পারে—যা কারো কাছে দরকারি মনে হতে পারে, অথবা ভবিষ্যতের কোনো আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।
(সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৩)

আবু সুফিয়ান | ২৭ জুন ২০১১ ৮:৩০ অপরাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২
(গত সংখ্যার পর)

ব্লু মাউন্টেইন্স-এর তিন বোন
পশ্চিমা দুনিয়ার বেশিরভাগ মানুষ খোদার ওপর যত না বিশ্বাস করে, ইনশিওরেন্সের ওপর আস্থা রাখে তার চেয়ে বেশি।

কাকুদের বাসায় আমার প্রথম রাত কাটলো অস্ট্রেলিয়ান চোরের কথা চিন্তা করে। বাড়ির ইন্সুরেন্স করা আছে মূল্যবান দ্রব্যের জন্য। চোর দামি জিনিসই চুরি করবে। আমাদের কাছে ঐ অর্থে মূল্যবান কিছু নেই। আমাদের কাছে যা আছে তা অমূল্য-পাসপোর্ট।

তৃতীয় বিশ্বের মানুষ হিসাবে পৃথিবীর নানা এয়ারপোর্টে পাসপোর্ট নিয়ে বহু কিত্তিকাণ্ড দেখেছি। নিজেরও কিছু অভিজ্ঞতা আছে। একটা শেয়ার করি।
স্পেন গিয়ে কিছু বাঙালীর সাথে পরিচয় হলো। তারা বাংলাদেশের একটি ছোট জেলা থেকে সরাসরি ইউরোপ যাত্রা করেছে। মাঝে ট্রানজিট হচ্ছে ঢাকা এয়ারপোর্ট। কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে বিশেষ ব্যক্তির মাধ্যমে তারা ইউরোপ যাওয়ার মহা মূল্যবান ভিসা জোগার করেছেন। বিমানে উঠে তাই অতিরিক্ত সতর্কতা স্বরূপ একজন পাসপোর্ট-ডলার ইত্যাদি প্যান্টের ভেতরে রেখে জিপারের হুক এবং বেল্টের লুবের মধ্যে তালা মেরে দিলো।

abus_25.jpg ………
থ্রি সিস্টারস-এর পাহাড়ের নিচে নামার পথের মুখে সাবৃনা।
………

প্লেন উড়ছে। দীর্ঘ ফ্লাইট। তার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলো। এমন সময় দেখা গেলো তিনি চাবি খুজে পাচ্ছেন না। অস্থির হচ্ছেন। টয়লেটের প্রেশার প্রবল হচ্ছে। তালার কারণে প্যান্ট খোলার স্কোপ নেই। ভয়াবহ অবস্থা। তিনি চাবি খুজছেন এবং অস্থিরতা করছেন। উড়ন্ত জাহাজের যাত্রীরা বোঝার চেষ্টা করছে ঘটনা কী? প্রেশার, কিন্তু পরিধেয় খোলা যাচ্ছে না–এই যন্ত্রণায় তিনি ছটফট করছেন। তার দাপাদাপি দেখে বিমানের হোস্টেজরা ছুটে এলেন। ঘটনা জেনে দ্রুত প্লাস এনে তার জিপারের তালা ভাঙা হলো। মূল্যবান ভিসাযুক্ত পাসপোর্ট হাতে নিয়ে বেচারা প্রাকৃতিক কাজ সারতে গেলেন।

উপরঅলার দয়ায় আমাদের পাসপোর্টেও বহু সংখ্যক অমূল্য ভিসা রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য টাকা দিয়ে দোকান থেকে দামি পণ্য কেনা যায়। কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়ার ভিসা পাওয়া যায় না। ভিসা কঠিন জিনিস।

সকালে নাশতার টেবিলে কাকু জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায় যেতে চাও?
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ল্যাবরেটরি (১৯৪০)’

| ২৫ জুন ২০১১ ৬:১৬ অপরাহ্ন

ল্যাবরেটরি

প্রথম প্রকাশ: ১৯৪০

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(১৮৬১ ১৯৪১)

lab-cover.jpg

“ল্যাবরেটরি” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প, শুধু এই গল্পটি নিয়ে লেখকের জীবদ্দশায় বা তাঁর মৃত্যুর পরে বই হিসেবে বের হয়নি। গল্পটির প্রথম প্রকাশ আনন্দবাজার পত্রিকা ১৫ আশ্বিন ১৩৪৭ শারদীয় সংখ্যায়। ১৯৪১ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত তিনসঙ্গী গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয় গল্পটি। পরে রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ গল্পসংকলনের চতুর্থ খণ্ডে (সংকলন: পুলিনবিহারী সেন, সম্পাদনা কানাই সামন্ত, ১৩৬৯ বঙ্গাব্দ) সংযোজিত হয় গল্পটি।

এবারে আর্টস ই-বুক সংস্করণ হিসেবে ল্যাবরেটরি গল্পটি নিয়ে স্বতন্ত্র বই প্রকাশিত হলো।

অনলাইনে পড়ুন অথবা/এবং ডাউনলোড করুন:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ল্যাবরেটরি (১৯৪০)’
(সম্পূর্ণ…)

রোদ নদী পাহাড় আর লামাদের কাছে

মোশাহিদা সুলতানা ঋতু | ২৪ জুন ২০১১ ১:০৮ পূর্বাহ্ন

13.JPG
১৭০০ সালে তিব্বতি আগ্রাসন ঠেকাতে বানানো ভুটানি ’জং’।

৮ ডিসেম্বর ২০১০, তাশি নামগায়
ভুটানের পারো শহরে একটি রিসোর্টের রেস্টুরেন্টে বসে আছি আমি আর আমার মা। রিসোর্টের নাম ‘তাশি নামগায়’। লক্ষ করছি এই রিসোর্টে যারা আমাদের সাথে সকালের নাস্তা করছে তাদের কারো মধ্যেই তাড়াহুড়া নেই। কয়েকটি ওয়েইটার ছেলেমেয়ে এদিক-ওদিক খাবার আনা-নেয়া করছে। তাদের হাঁটাচলা ও কথা বলার ধরনে কোথাও আতিশয্য নেই।
bigri_huye_ghar1.JPG…….
ভেঙে যাওয়া পুরানো ডিজাইনের একটি বাড়ির সামনে লেখক।
…….
এক ধরনের ধীরস্থির ভাব, যেন কোনো কিছুই তাদের উত্তেজিত করে না। যেন খাবার আসতে একটু দেরি করলে কী আর হবে? চোখে ভক্তি নেই, শ্রদ্ধা আছে। কথা বলার ভঙ্গিতে তোষামোদি নেই, হাসির ছটা। ১৯৭২ সালে জিগমে সিনগে ওয়াংচুক কি এই কারণে “সামগ্রিক সুখ সূচক” বা “গ্রস হ্যাপিনেস ইন্ডেক্স” ধারণার প্রবর্তন করে গিয়েছিলেন?
—————————————————————–
চ্যানেল বদলাতে বদলাতে দেখি একটা ভুটানি চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে একটা মেয়ে বাথরুমে বসে কাঁদছে। কান্নার অভিনয়টা খুব বাস্তব মনে হচ্ছে। আমার মা বলে, “পৃথিবীতে সব দেশেই দেখি মেয়ে মানুষ কান্দে।” মায়ের মন্তব্য শুনে আমি হাসলাম।
—————————————————————-
এই কারণেই কি রাজা পৃথিবীকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে একটি দেশের উন্নয়ন বিচার করা উচিত সেই দেশের মানুষের সুখশান্তি দিয়ে, আর্থিক সম্পদ দিয়ে নয়? যখনই ভাবছি একথা দেখি একজন সাদা চামড়ার মহিলা হন্তদন্ত হয়ে রেস্টুরেন্টে ঢুকলেন। হাতে ল্যাপটপটা খুব উত্তেজিত হয়ে রেখে নাস্তা খোঁজা শুরু করলেন। (সম্পূর্ণ…)

খসড়া

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ২৩ জুন ২০১১ ৯:১৯ অপরাহ্ন

খসড়া-১
কাল আমি বোটে বসে জানালার বাইরে নদীর দিকে চেয়ে আছি এমন সময় হঠাৎ দেখি, একটা কী পাখি সাঁতরে তাড়াতাড়ি ও পারের দিকে চলে যাচ্ছে আর তার পিছনে মহা ধর্-ধর্ মার্-মার্ রব উঠেছে। শেষকালে দেখি একটি মুরগি; তার আসন্ন মৃত্যুকালে বাবুর্চিখানার নৌকো থেকে হঠাৎ কী রকমে ছাড়া পেয়ে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে পেরিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল…আমি ফটিককে ডেকে বললুম, আমার জন্যে আজ মাংস হবেনা।…আমরা যে কী অন্যায় এবং নিষ্ঠুর কাজ করি তা ভেবে দেখিনে বলে মাংস গলাধঃকরণ করতে পারি। পৃথিবীতে অনেক কাজ আছে যার দূষনীয়তা মানুষের স্বহস্তে গড়া, যার ভালমন্দ-অভ্যাসপ্রথা দেশাচার লোকাচার সমাজনিয়মের উপর নির্ভর করে। কিন্তু নিষ্ঠুরতা সেরকম নয়, এটা একেবারে আদিম দোষ; এর মধ্যে কোনো তর্ক নেই, কোনো দ্বিধা নেই; হৃদয় যদি আমাদের অসাড় না হয়, হৃদয়কে যদি চোখ বেঁধে অন্ধ করে না রেখে দিই, তাহলে নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে নিষেধ একেবারে স্পষ্ট শুনতে পাই। অথচ ওটা আমরা হেসে-খেলে সকলে মিলে খুব অনায়াসে আনন্দ-সহকারে করে থাকি, এমনকি, যে না করে তাকে কিছু অদ্ভুত বলে মনে হয়…যতক্ষণ আমরা অচেতনভাবে থাকি এবং অচেতনভাবে হিংসা করি ততক্ষণ আমাদের কেউ দোষ দিতে পারেনা। কিন্তু যখন মনে দয়া উদ্রেক হয়, তখন যদি সেই দয়াটাকে গলা টিপে মেরে দশজনের সঙ্গে মিশে হিংস্রভাবে কাজ করে যাই, তা হলেই যথার্থ আপনার সমস্ত সাধুপ্রকৃতিকে অপমান করা হয়…

এই অব্দি পড়ে ক ছিন্নপত্র নামিয়ে রাখলো। অল্প বয়েসে রবিঠাকুরের বিসর্জন পড়বার সময়ও তার একরকম মনোভাব হয়েছিল। কিন্তু বেশিদিন টেঁকেনি। তখন মাংস খাওয়া ছেড়েছিল সে। ঈদুল আজহার সময় আব্বা যখন অনিবার্যভাবে ছেলেমেয়েদের ঠেলে দিচ্ছিলেন কোরবানি দেখার পূণ্যার্জনের জন্যে, তখন সে লুকিয়েছিল পর্দার আড়ালে।
—————————————————————–
সব পতিত জমি (!) তাই সবজিক্ষেত হতে হবে, সব দীঘি তাই তেলাপিয়ায় ভরে দিতে হবে, সব রসুইন্যাগাছের-কপিলা গাছের জঙ্গল কেটে সাফ করে ফলবান বৃক্ষ বা মেহগনি লাগিয়ে গোড়ায় চুনকাম করে দিতে হবে! সব জলাভূমি ভরাট করে শিল্পনগরী বা এয়ারপোর্ট গড়তে হবে! সব ত্যালঘাউরা পাখি আর বোঁচাহাঁস মেরে ফেলতে হবে!
—————————————————————–
ibergman.jpg…….
স্ট্রম্বোলিছবিতে ইনগ্রিড বার্গম্যান
……..

খ হেসে বলেছিল, “জগদীশচন্দ্র বসু কী বলেছিলেন আপা? তোমার বিকল্প খাদ্যের লিস্টিতে যারা আছে–এই ডাঁটাশাক-ফুলকপি-চালকুমড়া… এদের জীবন নাই? এদের মারতেছো যে?” (সম্পূর্ণ…)

সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথা

একালে আমাদের কাল

| ২০ জুন ২০১১ ১১:০০ অপরাহ্ন

7-web.jpg ………
একালে আমাদের কাল বইয়ের প্রচ্ছদ
………

[নিজের জীবনস্মৃতি নিয়ে সুফিয়া কামাল ‘একালে আমাদের কাল’ লেখেন। বই হিসেবে এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ সালে, ‘জ্ঞান প্রকাশনী’ থেকে। ২০০২ সালে, সুফিয়া কামালের মৃত্যুর তিন বছর পরে এটি বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত ‘সুফিয়া কামাল রচনাসংগ্রহ’-এ সংকলিত হয়।
সুফিয়া কামালের জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাঁর জন্ম ১৯১১ সালে, বঙ্গভঙ্গ রদ হবার বছরে। পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন ও সাহিত্যচর্চা বাদেও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন করেছেন, কোলকাতায় দাঙ্গাপীড়িতের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করেছেন, সদ্য জন্ম নেয়া পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন করেছেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন, প্রতিবাদ হিসেবে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাহানারা ইমাম এবং সুফিয়া কামাল একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে গণআন্দোলন করেছেন।
সুফিয়া কামালের জীবনস্মৃতি তাই বাংলাদেশের ইতিহাসের কথা, নিছক কিছু ঐতিহাসিক তথ্য নয়, সাহিত্যিকের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বাংলাদেশের সমাজ-সংস্কৃতি-রাজনীতির উন্মোচন। সুফিয়া কামালের একশতম জন্মদিনে তাঁর স্মৃতিকথা পুনঃপ্রকাশিত হলো।–বি.স.
]
————————–

একালে আমাদের কাল

কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীতকার সিকান্‌দার আবু জাফর আমাকে অনুরোধ করেছেন সেকালের কথা কিছু কিছু লিখে যেতে। আমি যা লিখতে পারি লিখে যাব। কিন্তু সে লেখা যেন আত্মজীবনী বলে কেউ মনে না করেন। আত্মজীবনী মহাত্মা গান্ধীই সার্থকভাবে লিখেছেন। অন্য মানুষের তা অসাধ্য। আমি মাত্র সেকালে আমাদের পারিবারিক, সামাজিক, দেশীয় প্রচলিত বিধি-ব্যবস্থার যতটুকু জানতে পেরেছি তা-ই লিখে রাখবার চেষ্টা করব। জানিনা বর্তমানকালে সে লেখার মান কতটুকু হবে। (সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (২)

আবু সুফিয়ান | ২০ জুন ২০১১ ৭:৪০ অপরাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১

abu-s2_16.jpg
সিডনি লিভারপুলে একটি মলের সামনে সস্ত্রীক লেখক

(গত সংখ্যার পর)

ফ্লাইটে লোক বেশি! আজ কোথায় সিট পড়বে কে জানে!

এয়ারপোর্টের মশা এয়ারক্রাফটের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে। সমানে কামড় দিচ্ছে। মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য চাঁদর খুলে গায়ে দিয়ে বসে আছি। মহা যন্ত্রণা!

কুয়ালালমপুর-এ ভিসার কী হবে এখনো জানি না। মশার কামড় এবং সিটের ঝামেলায় এখন কিছুই মাথায় নেই। রুক্ষ মেজাজের হোস্টেজ ফিরে এলো। আমার অন্য বোর্ডিং পাসটা নিয়ে দুটা নতুন বোর্ডিং পাস দিলো। বললো, তোমরা আমার সাথে আসো। তোমরা বিজনেস ক্লাসে যাবে। (সম্পূর্ণ…)

জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি

সুফিয়া কামাল: আমাদের মননে সাহসে চেতনায়

বেবী মওদুদ | ২০ জুন ২০১১ ১:১০ পূর্বাহ্ন

igal_2.gif ………
বেগম সুফিয়া কামাল (১৯১১–১৯৯৯), ১৯৫৪
………

সুফিয়া কামালের একশতম জন্ম বার্ষিকীতে আমার শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমার কাছে তিনি একটি গ্রন্থসম স্মৃতি। তিনি আমার মায়ের মত অভিভাবক ছিলেন, আমাকে বকতেন, আদর করতেন, পরামর্শ চাইলে দিতেন, নিজের জীবনের কত কথাই না বলতেন। এছাড়াও সমাজ ও দেশের নানা বিষয় নিয়েও তাঁর সঙ্গে আলোচনা হত।

মৃত্যুর আগেও নিয়মিত কাগজ পড়তেন ও রেডিওতে খবর গান শুনতেন। টিভিতে ভালো কোনও অনুষ্ঠান থাকলে দেখতেন। সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবেও যেতেন। ঝড়-জলোচ্ছাস-বন্যা-দুর্ভিক্ষ যেখানেই হোক ত্রাণসামগ্রীসহ সঙ্গীদের নিয়ে সুফিয়া কামালের উপস্থিতি আমাদের উজ্জীবিত করে তুলতো। মানুষ তাঁকে দেখার জন্য, তাঁর কথা শোনার জন্য ভিড় করে থাকতো।

baby-apa-sufia-k.jpg
সুফিয়া কামালের সাথে লেখক

ঢাকায় ও বাইরে জেলা-গ্রাম-গঞ্জ যেখানে তাঁর সঙ্গে সভায় মিছিলে থেকেছি, দেখেছি কী বিপুল শক্তি তাঁর ছিল। আমাদের তারুণ্যের সময় তিনি ছিলেন এক উজ্জল আদর্শ । তাঁর স্নেহময় ছায়ায় আমরা মঙ্গল ও কল্যাণের শিক্ষা নিয়েছি, দীক্ষা নিয়েছি কাজ করে যাবার। শেষজীবনে অসুস্থতার কারণে বাইরের কোনও অনুষ্ঠানে যেতে পারতেন না। পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে, শহীদ মিনারে ফুল দিতে যেতে না পারায় দুঃখ করতেন। এজন্য চোখের কোণে অশ্রুও আমি দেখেছি।
(সম্পূর্ণ…)

মকবুল ফিদা হুসেনের সাক্ষাৎকার

শামীমা বিনতে রহমান | ১৮ জুন ২০১১ ৮:৪০ অপরাহ্ন

mf-hussain-1.jpg ………
মকবুল ফিদা হুসেন (১৯১৫–২০১১)
………
[২০০৬ সালে দুবাইতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যাবার পর সেখানে মকবুল ফিদা হুসেনের বর্তমান সাক্ষাৎকারটি নেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এডিটর ইন চিফ শেখর গুপ্ত। এনডিটিভি ২৪.৭’র ওয়াক দ্য টক অনুষ্ঠানে এটি সম্প্রচারিত হয়।–বি.স.]

অনুবাদ: শামীমা বিনতে রহমান

শেখর গুপ্ত: এম.এফ হুসেন দুবাইতে কি করছেন? এটাতো নিয়্যুর্ক বা প্যারিস, শিল্পকলা বিকশিত কোন পরিচিত স্থানও নয়!

হুসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি/অংশ–০১
মকবুল ফিদা হুসেন: আসলে আমি বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করি। গত পঞ্চাশ বছরে আমি পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। আমার কোথাও কোন স্টুডিও নাই। আমি কেবল রঙ সাথে রাখি এবং উঠে পড়ি কোন হোটেল রুম অথবা কোন বন্ধুর বাড়ি অথবা যে কোথাও এবং শুধু ছবিই আঁকতে থাকি। আমার ধারণা, আমার কাজ করার ধরন একজন শিল্পীরই ধরন . . . ৩/৪ বছর হলো আমি এখানে এসেছি, আমার কাছে এর কারণ মনে হয়, এটা এমন এক শহর, যেটা দ্রুত সমৃদ্ধ হচ্ছে। গত ২৫ বছর ধরে আমার ভাইয়ের এখানে বসবাসের কারণে প্রায়ই এই শহরে আমার আসা হয়েছে। মরুভূমি থেকে একটা শহরে পরিণত হতে দেখেছি এখানটিকে।
(সম্পূর্ণ…)

সিলেটে (শেষ অংশ)

নূরুল আনোয়ার | ১৭ জুন ২০১১ ১:০৫ পূর্বাহ্ন

প্রথম অংশ

(প্রথম কিস্তির পর)

রাজবাড়ি থেকে হোটেল খুব বেশি দূরে নয়, মাত্র এক দেড় শ’ গজ। আমরা হোটেলে ঢুকলাম। বিদ্যুৎ নেই বলে হোটেলটি একরকম অন্ধকার হয়ে আছে। হোটেলটি বেশ নোংরা। চেয়ার-টেবিলের অবস্থাও বিশেষ ভাল নয়। লোকজনের কাছে জানলাম জৈন্তাপুর বাজারে এটাই সেরা হোটেল।

shylhet2_3.jpg…….
মাধবকুণ্ড
…….
বেসিনে হাতমুখ ধুতে গেলাম। সিমেন্টের তৈরি বেসিন। ঠিকমত ধোয়া হয় না। বেসিন থেকে একরকম দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তারপরেও নাক-মুখ বন্ধ করে ধৌতকর্ম সেরে নিলাম। চেয়ারে এসে বসে হোটেল বয়কে জিজ্ঞেস করলাম, ভাতের সঙ্গে কী আছে?

বয় জানাল, রুইমাছ, তেলাপিয়ামাছ এবং মুরগি।

এ ধরনের নোংরা হোটেলে খাওয়া-দাওয়া আমার নতুন নয়। আমাকে পেশাগত কারণে দেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত যেতে হয়। খুব কম জায়গায় খানদানি হোটেলের সাক্ষাৎ পাই। ওসব হোটেলে একটা খাবারের কথা আমি প্রথমে জিজ্ঞেস করি, ডিম আছে কিনা। কারণ হল, মাছ-মাংস এসব হোটেলে তেমন একটা ভালভাবে পরিষ্কার করে না। তারপরেও মানুষে খায়। কিন্তু ডিমে ধোয়াধোয়ির কোন কাজ নেই। অন্তত সেটি স্বাচ্ছন্দে খাওয়া যায়। তাই এই হোটেলেও আমি জিজ্ঞেস করলাম, ডিম আছে? বয় বলল, ছিল, শেষ হয়ে গেছে। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

গিরিশচন্দ্র বসুর ‘সেকালের দারোগার কাহিনী (১৮৮৫)’

| ১৫ জুন ২০১১ ৮:০০ অপরাহ্ন

সেকালের দারোগার কাহিনী

প্রথম প্রকাশ: ১৮৮৫

গিরিশচন্দ্র বসু

(১৮২৪ ১৮৯৮)

গিরিশচন্দ্র বসু জন্মগ্রহণ করেন ১৮২৪ সালে। তাঁর জন্মস্থান বা পিতৃ-মাতৃ পরিচয় বিশেষ জানা যায় না। তাঁর জীবনকালে ও সাহিত্যিক সক্রিয়তার সময়ে আরো কয়েকজন ‘গিরিশচন্দ্র’ ছিলেন, এমনকি ‘গিরিশচন্দ্র বসু’ নামেও সাহিত্যিক ছিলেন। সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠার দিক থেকে অন্যান্য গিরিশচন্দ্ররা বেশি খ্যাত ছিলেন। যেমন ‘গিরিশচন্দ্র বসু’ নামে একজন কৃষিবিজ্ঞানী ছিলেন যিনি ইউরোপ থেকে কৃষি ও উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন এবং এসব বিষয়ে বিভিন্ন বই লিখেছেন।

—————————————————————–
cover-se-da-ka.jpg

পূর্ব্বেই বলিয়াছি যে সাহেবদিগের কথা জানিবার জন্য, তাঁহাদের পুস্তকই আমাদের প্রধান উপায়। তদ্ভিন্ন কলিকাতা নগরের রাস্তাঘাটে যে অল্পবিস্তর ইউরোপবাসীদিগকে আমরা দেখিতে পাই, তাহাতেই আমরা বুঝিতে পারি, যে ইতর সাহেব এক ভয়ানক জীব। তথাপি ইহারা ইউরোপের ইতর লোকের যথার্থ আদর্শ নহে। ইহাদের অপেক্ষা যে আরও কত পরিমাণে অপকৃষ্ট মনুষ্য আছে, তাহা আমাদের জানিবার উপায় নাই; কেবল অনুমানের উপর নির্ভর করিয়া মনকে প্রবোধ দিতে হয়। তাই বলিতেছি যে বাঙ্গালী চোরের সহিত সাহেব চোরের তুলনা হইতে পারে না।সেকালের দারোগা কাহিনী/গিরিশচন্দ্র বসু
—————————————————————–

এর বাইরে তিনি ইউরোপ ভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে দুই খণ্ডে ‘ইংরেজ চরিত বা জন্ বুল (ফরাসি বইয়ের অনুবাদ)’ লিখেছেন। আরো একজন গিরিশচন্দ্র বসু (কায়স্থতত্ত্ব-কৌমুদী–১৮৮৫) মূলত সংস্কৃত পণ্ডিত ছিলেন। এছাড়া গিরিশচন্দ্র নামে কোলকাতায় বিখ্যাত নাট্য-ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ফলে বিভিন্ন বই-পুস্তকে তাদের লেখা বই থেকে শুরু করে জন্ম ও মৃত্যু তারিখ পর্যন্ত পরস্পরবিরোধী তথ্য আছে। এত দিন পরে সেই তথ্যগুলি থেকে সঠিক তথ্য নির্ণয় করা কঠিন।
(সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (১)

আবু সুফিয়ান | ১১ জুন ২০১১ ৯:৫৯ অপরাহ্ন

abu_2.jpg
অস্ট্রেলিয়ার লা প্যারোজে লেখক ও সাবৃনা

অস্ট্রেলিয়া ‘যাবো’ ‘যাবো’ করছি দুই বছরের বেশি সময় ধরে। কিন্তু কুফা লেগে আছে। যাওয়া হচ্ছে না। এরমধ্যে আমরা লন্ডন গেছি। সাবৃনা কানাডা ঘুরে এসেছে। আমার কুয়ালালামপুর, থাইল্যান্ডের ফুকেট এবং সিঙ্গাপুরেও যাওয়া হয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া যাওয়া হয়নি। অস্ট্রেলিয়া বড় তাগাদা দিচ্ছে।
—————————————————————–
একজন এয়ার হোস্টেজ সমস্যা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে। তার মেজাজ রুক্ষ। আমাকে বললো, তোমার বোর্ডিং কার্ডটা দাও। তাকে জানালাম, আমরা কাপল। দুই জায়গায় বসলে কেমন হয়! বয়স্ক লোকটা বললেন, এটা আমার সিট, আমাকে যদি একটা জানালার ধারে বসার ব্যবস্থা করে দিতে পারো–তাহলে আমি এই সিট ছাড়তে পারি।
—————————————————————–
আমাদের ভ্রমণ বৃত্তান্তের তালিকা দেখে অনেকেই অবাক হবেন। কেউ কেউ বিস্মিত হতে পরেন! কারো মনে কৌতূহলও জাগতে পারে–এরা এত টাকা পায় কোথায়?

এরা কি ঘুষের চাকরি করে? দুই তিন নম্বর কোনো কাজ করে? না চার-পাঁচ নম্বর ব্যবসা বাণিজ্য করে? বাংলাদেশে এইসব কাজীদের অর্থের অভাব নেই। তাদেরই এরকম ভ্রমণ করার কথা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তারা ভ্রমণকে ভাবে অপচয়। অনেকেই আবার দেশে মানুষের টাকা লুটপাট করে বিদেশি ডাক্তার আর হাসপাতালে চিকিৎসার নামে বছর বছর অর্থ ব্যয় করে। এটা তাদের বিদেশ ভ্রমণ! (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com