রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মের দেড়শ বছর

তুলনাহীন রবীন্দ্রনাথ

কবীর চৌধুরী | ৭ মে ২০১১ ৯:২৯ অপরাহ্ন

rabindranath-tagore2.jpg
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭/৫/১৮৬১ – ৭/৮/১৯৪১)

রবীন্দ্রনাথ যে কত বিষয়ের উপর লিখেছেন, এবং নীরব বৈচিত্র্যময় ভঙ্গিতে তাঁর হৃদয়ের কথা বলেছেন, তার কথা ভাবলে বিস্ময়ে অভিভূত হতে হয়। কতো রকম কবিতা লিখেছেন তিনি: উচ্ছ্বসিত আনন্দের, তেমনি গভীর বিষণ্নতার। আমাদের মনে পড়ে “নববর্ষা” কবিতার কথা, যার প্রথম চরণ হল:

“হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে ময়ূরের মতো নাচেরে হৃদয় নাচেরে”

এর পাশাপাশি আমাদের মনে পড়ে “দুঃসময়” কবিতার কথা, যার কয়েকটি চরণ হল:

“নাই স্নেহ মোহ বন্ধন
ওরে আশা নাই, আশা শুধু মিছে ছলনা।

ঊষা দিশাহারা নিবিড় তিমির আকাশ…” (সম্পূর্ণ…)

বঙ্কিমচন্দ্র–রবীন্দ্রনাথ ধর্মতর্ক

| ৪ মে ২০১১ ১২:৩৪ অপরাহ্ন

[বঙ্কিমচন্দ্র এবং রবীন্দ্রনাথ–উভয়েরই ধর্মীয় তৎপরতা ছিল তৎকালীন কোলকাতায়। হিন্দু ধর্ম নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের কতগুলো প্রস্তাব ছিল এবং সেগুলো তিনি পত্রিকায় (নবজীবন এবং প্রচার) প্রবন্ধ লিখে এবং বই প্রকাশ করে প্রচার করতেন। আর রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ব্রাহ্ম। ব্রাহ্ম ধর্মের মুখপত্র তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’র একজন সম্পাদক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এছাড়া তিনি ‘ভারতী’ সম্পাদনা করেছেন।

n3061570391_2088.jpg……….
বঙ্কিমচন্দ্র, ১৮৩৮–১৮৯৪

………

এই চারটি পত্রিকায় উভয়ে নিজ নিজ ধর্মমতের পক্ষে লিখেছেন।বঙ্কিমচন্দ্রের জবানিতে জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন যার লক্ষ্য ছিল বঙ্কিমচন্দ্র, পরে এটি বাংলা ১২৯১ সালের অগ্রহায়ণ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় ‘একটি পুরাতন কথা’  শিরোনামে। এর জবাবে বঙ্কিমচন্দ্র ‘প্রচার’ ১২৯১ অগ্রহায়ণ সংখ্যায় একটি প্রবন্ধ লেখেন ‘আদি ব্রাহ্ম সমাজ ও নব হিন্দু সম্প্রদায়’ নামে। রবীন্দ্রনাথ জবাব দেন ‘ভারতী’র পরবর্তী সংখ্যায় (পৌষ, ১২৯১) ‘কৈফিয়ত’ লিখে। বঙ্কিমচন্দ্র আর জবাব দেননি। ‘আদি ব্রাহ্ম সমাজ ও নব হিন্দু সম্প্রদায়’-এ আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন এ নিয়ে আর লিখবেন না। ফলে কোন প্রকাশিত উত্তর নেই। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘জীবনস্মৃতি’তে এই প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছেন।

robindonath1.jpg………
রবীন্দ্রনাথ, ১৮৬১–১৯৪১
……….

রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘জীবনস্মৃতি’ বঙ্কিমচন্দ্র অধ্যায়ে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন:

“এই বিরোধের অবসানে বঙ্কিমবাবু আমাকে যে একখানি পত্র লিখিয়াছিলেন আমার দুর্ভাগ্যক্রমে তাহা হারাইয়া গিয়াছে— যদি থাকিত তবে পাঠকেরা দেখিতে পাইতেন, বঙ্কিমবাবু কেমন সম্পূর্ণ ক্ষমার সহিত এই বিরোধের কাঁটাটুকু উৎপাটন করিয়া ফেলিয়াছিলেন।”–রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র/জীবনস্মৃতি

ভারতী এবং প্রচারে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই লিখিত তর্ক আর্টস-এ পুনঃপ্রকাশ করা হলো।–বি.স.]

—————————————————-

১. বঙ্কিমচন্দ্র বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ

একটি পুরাতন কথা

অনেকেই বলেন, বাঙালিরা ভাবের লোক, কাজের লোক নহে। এইজন্য তাঁহারা বাঙালিদিগকে পরামর্শ দেন practical হও। ইংরাজি শব্দটাই ব্যবহার করিলাম। কারণ, ওই কথাটাই চলিত। শব্দটা শুনিলেই সকলে বলিবেন, ‘হাঁ হাঁ, বটে, এই কথাটাই বলা হইয়া থাকে বটে।’ আমি তাহার বাংলা অনুবাদ করিতে গিয়া অনর্থক দায়িক হইতে যাইব কেন? যাহা হউক তাহাদের যদি জিজ্ঞাসা করি, practicalহওয়া কাহাকে বলে, তাঁহারা উত্তর দেন– ভাবিয়া চিন্তিয়া ফলাফল বিবেচনা করিয়া কাজ করা, সাবধান হইয়া চলা, মোটা মোটা উন্নত ভাবের প্রতি বেশি আস্থা না রাখা, অর্থাৎ ভাবগুলিকে ছাঁটিয়া ছুঁটিয়া কার্যক্ষেত্রের উপযোগী করিয়া লওয়া। খাঁটি সোনায় যেমন ভালো মজবুত গহনা গড়ানো যায় না, তাহাতে মিশাল দিতে হয়, তেমনি খাঁটি ভাব লইয়া সংসারের কাজ চলে না, তাহাতে খাদ মিশাইতে হয়। যাহারা বলে সত্য কথা বলিতেই হইবে, তাহারা sentimental তরলোক, কেতাব পড়িয়া তাহারা বিগড়াইয়া গিয়াছে, আর যাহারা আবশ্যকমতো দুই-একটা মিথ্যা কথা বলে ও সেই সামান্য উপায়ে সহজে কার্যসাধন করিয়া লয় তাহারা Practical লোক।
(সম্পূর্ণ…)

দশটি কবিতা

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ | ৩ মে ২০১১ ১১:৩৪ অপরাহ্ন

aso.jpg

শীতের চাপকল

বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে বউ বাজারের গল্প করছি

টেবিলে ছায়াকুকুর–নাভিদরোজা ঝাপটে বসে আছে

শীতজ্বরের উলেন।

ব্রিজ ভাঙার জল শুনতে পাচ্ছি- তির তির করে উড়ে আসছে

ট্যুরিস্ট পাখি লাল লেজের ব্লিজার্ড।

 

যেভাবে ফুলে উঠছো যেভাবে ফুলদানি কাঁচা আপেল

মাথার কাছে যেভাবে বিষকলম

এর মাঝখানে হানা দেয় এক ঝিম চাপকল।

তার নিচ থেকে হিম হিম মাটি

সেয়ানা মেয়ের বাচ্চা দস্তানা পিঞ্জর

ফেলে যাওয়া রাস্তা মৃত গ্রামের ব্লু প্রিণ্ট।

ট্রেন ধরা ফেলে নক্ষত্র ঠেলে এক পাতালের পাতাছাপ

ভাঁটফুল বাসা বাঁধছে মিষ্টির দোকানে।
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৫)

| ১ মে ২০১১ ১:১৮ অপরাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক কিস্তি ২-এর লিংক কিস্তি ৩-এর লিংক কিস্তি ৪-এর লিংক

কিস্তি চার-এর পর

ব্রাত্য রাইসু: এখানে আমি একটু বলে নিই। আরও তিন জন বক্তা নতুন আসছে আমাদের মাঝে। জাকির হোসেন রাজু’র পর আসছেন সুমন রহমান এবং পিয়াস করিম। তো উনারা যেটা জানেন না–আমরা প্রথমেই যেটা শুরু করছিলাম সেটা হল যে, এই মেহেরজান ছবির ব্যাপারে যদি আপনাদের কারোর কোনো আপত্তি থাকে, এক ধরনের বা বিভিন্ন ধরনের আপত্তি গুলি আমরা এর মধ্যে আলোচনা করছি। আপনাদের নিজেদের কোনো আপত্তি আছে কিনা সেভাবে উচ্চারণ করার মত বা উপস্থাপন করার মত?

meher053.jpg
নীলা ও মেহের, মেহেরজান (২০১১)

সুমন রহমান: মানে কিসের প্রেক্ষিতে আপত্তি?

ব্রাত্য রাইসু: এই যে ছবিটা সম্পর্কে যে, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটা ব্যাপার, তারপর এই যে নামায়ে নেয়া হল এটা হল থেকে–এ সব ব্যাপারে।

পিয়াস করিম: আমি মনে করি না যে এত সরলভাবে এটা ন্যারেট করা সম্ভব। আপত্তি আছে কিংবা আপত্তি নাই এই সরল বাইনারিটা খুব বিপজ্জনক। আমি ওভাবে প্রশ্নটাকে উত্তরই দিতে পারব না। এটাকে একটা  খুব বিপজ্জনক একটা ভুল প্রশ্ন বলে মনে করি। এটা হচ্ছে আমার অভিমত।

ব্রাত্য রাইসু: না সঠিক উত্তরের মাধ্যমে ভুল প্রশ্নের আপনি  আপনি কোনো সমাধান করবেন কিনা?
(সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com