জীবনবৃক্ষে রিপু-রঙ

পূরবী বসু | ২৫ এপ্রিল ২০১১ ৬:৪৮ অপরাহ্ন

ভয়/আতঙ্ক

১৯৬৪ সালের শীতকাল। মুন্সীগঞ্জ শহর। কাশ্মীরের হযরতবাল দরগায় সংঘটিত এক কুখ্যাত, স্পর্শকাতর চুরিকে কেন্দ্র করে চারদিকে তখন প্রবল সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, খুনোখুনি। গত কয়েক দিন ধরে নানান ধরনের গুঞ্জন, বিভিন্ন রকম গুজব কানে আসছে। ফলশ্রুতিতে মিলিত কণ্ঠে “নারায়ে তকবীর, আল্লাহু আকবর” শোনার আশঙ্কায় প্রতি রাতেই আমরা ভয়ে ভয়ে কান পেতে বসে থাকি ঘরের ভেতর। যে ধ্বনি এতো পূতপবিত্র, যে শব্দোচ্চারণ সৃষ্টিকর্তার মহিমা ঘোষণা করে কেবল, তার প্রতি এতো আতঙ্ক কেন? কেননা, সময়টা ১৯৬৪ সাল, আর আমাদের বসতি ভারত উপ-মহাদেশেরই একাংশে—যা বহুকাল ধরে বিক্রমপুর বলে পরিচিত। হঠাৎ এক রাত্রে সত্যি সত্যি সেই প্রাণকাঁপানো, গলা শুকিয়ে দেওয়া, পরিচিত শব্দাবলী কানে ভেসে আসে। একে একে মনোযোগ দিয়ে বাড়ির প্রত্যেকেই শুনি আমরা, সেই মহারব। তাই তো! নিঃসন্দেহে নদীর ধার থেকেই আসছে সমস্বরে উচ্চারিত ঐ ধ্বনি। একযোগে, সুর করে, পুনঃ পুনঃ। “নারায়ে তকবীর, আল্লাহু আকবর”। এবার আর রক্ষা নেই। কী করবো, কোথায় যাবো এখন আমরা? এতো রাতে!

purabi-basu2.jpg
………
পূরবী বসু
………

ভাই-বোনেরা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে মশারির ভেতরে বসে কাঁপতে থাকি। হঠাৎ মা আবিষ্কার করেন, এবং কিছুক্ষণ পাশের ঘরে স্থির দাঁড়িয়ে থেকে নিশ্চিন্ত হন, ঘুমন্ত ঠাকুমার ধীর লয়ের নিশ্বাস-প্রশ্বাস নির্দিষ্ট এক ছন্দে নাসিকা গর্জনের মাধ্যমে গভীর খাদে যে গোলমালের মতো এক শব্দ সৃষ্টি করছে, তা-ই এই ঘরে নারায়ে তকবীর আল্লাহু আকবর-এর জন্ম দিচ্ছে, অন্তত আমাদের ভীত মনে, সন্ত্রস্ত কানে অবিকল তাই শোনাচ্ছিল সেই রাতে। মায়ের আবিষ্কারে হাঁপ ছেড়ে বাঁচি আমরা। ছোট ভাই দুলাল কেবল এতোক্ষণে বলে ওঠে, তাই তো বলি, দূর থেকে আসা গুঞ্জনটা এতক্ষণ ধরে এক জায়গাতেই থেমে আছে কেন? আর যেন কাছে এগুচ্ছে না!

কাম/সম্ভোগ

তার সঙ্গে রতিক্রিয়ায় যে আনন্দ, যে সুখ কখনো পাই না, আমার পাশ দিয়ে অন্য মানুষটির নিছক হেঁটে চলে যাওয়া, তার মুখের বিরল দু’চারটে শব্দোচ্চারণ, আমার চোখে চোখ রেখে সামান্য স্মিত হাসি, কিংবা তার ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত আলতো একটুখানি ছোঁয়া তার চেয়ে বহুগুণ শিহরণ জাগায় শরীরে-মনে; পুলকিত হয়ে উঠি আমি – সিক্ত হয়ে ওঠে আমার অন্তর্গত বসন। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক: চণ্ডীচরণ মুনশী’র ‘তোতা ইতিহাস (১৮০৫)’

| ২২ এপ্রিল ২০১১ ১১:৫৫ অপরাহ্ন

তোতা ইতিহাস

তোতা ইতিহাস

প্রথম প্রকাশ: ১৮০৫

চণ্ডীচরণ মুনশী

(জন্ম: অজানা–মৃত্যু: ২৬ নভেম্বর ১৮০৮)

 

চণ্ডীচরণ মুনশী সম্পর্কে সজনীকান্ত দাস কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন; তার বাইরে বিশেষ জানা যায় না। কিন্তু সেখানেও চণ্ডীচরণ মুনশী’র জন্মসাল এবং তাঁর বাসস্থান বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। তাঁর পিতা-মাতা’র পরিচয়ও অজানা। তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে জানা যায় ইন্ডিয়া সরকারের দপ্তরে রক্ষিত Home Miscellanneous (Vol. 560, P. 554) থেকে। এখানে দেখা যায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিলো ১৮০৮ সালের ২৬ নভেম্বর।

১৮০১ খ্রিস্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগ গঠিত হলে চণ্ডীচরণ ওই বৎসরেই এই কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৮০৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বরে কলেজের কাউন্সিল অধিবেশনে উপস্থাপিত বাংলা-সংস্কৃত-মারাঠা ভাষার শিক্ষক তালিকায় চণ্ডীচরণ মুনশীকে মাসিক ৩০ টাকা বেতনভুক ‘certified Teacher’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ।

এই কলেজে চাকরি করার সময় উইলিয়াম কেরির উৎসাহে তিনি কাদির বখশ-এর ফার্সি আখ্যানগ্রন্থ ‘তুতিনামা’ বাংলায় অনুবাদ করেন এবং নাম দেন তোতা ইতিহাস (১৮০৪)। গ্রন্থটি ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়। পরে লন্ডন থেকে ‘তোতা ইতিহাস’-এর দু’টি সংস্করণ বের হয় ১৮১১ (পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৩৮) ও ১৮২৫ (পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪০) সালে।
(সম্পূর্ণ…)

বাংলাদেশের নাচ

সাইমন জাকারিয়া | ১৪ এপ্রিল ২০১১ ৯:১২ পূর্বাহ্ন


ভিডিও, ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য’, প্রামাণ্য উপস্থাপন: সাইমন জাকারিয়া

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যধারা মূলত বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী উৎসব-অনুষ্ঠান, কৃত্যাচার বা পূজার সাথে সম্পর্কিত। এক্ষেত্রে অধিকাংশ নৃত্যধারার সঙ্গে পুরাণ কাহিনীর উপস্থাপনার যেমন যোগ থাকে তেমনি সঙ্গীতের যোগ থাকে। সেই বিচারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যধারাকে গান বা নাট্যপালা হিসেবেই পরিবেশিত হতে দেখা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবেশনাসমূহ ‘নাচ’, ‘নাচন’, ‘নাচাড়ি’ ইত্যাদি নাম প্রয়োগ হতে দেখা গেলেও অধিকাংশ গবেষক পরিবেশনাগুলিকে নাট্যপালার পরিবেশনা বলেই শনাক্ত করেন। কারণ, নৃত্যের উপাদান পরিবেশনাতে মুখ্য হয়ে উঠলেও পরিবেশনাসমূহে যখন নাট্যের উপাদান যুক্ত থাকে তখন তাকে নাট্যপালা বলে অভিহীত করা অসমীচিন হয় না। তবে, সুর-বাণী আশ্রিত সঙ্গীত কিংবা বাচিক সংলাপ-বর্ণনা আশ্রিত নাট্য পরিবেশনা ব্যতীত শুধু তাল সহযোগে কিছু বিশুদ্ধধারার ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের প্রচলন বাংলাদেশে বর্তমান রয়েছে। এই আলোচনায় সাম্প্রতিক কালের বাংলাদেশে প্রচলিত সঙ্গীত-নাট্য আশ্রিত কিছু ঐতিহ্যবাহী নৃত্যধারার পরিচয় প্রদান করা হলো।

01.jpg
বেহুলার নাচাড়ি

ঝুমুর নাচ/পাতা নাচ
কারাম-করমা-করম পূজার অনুষ্ঠানে সাধারণত এই নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এই নাচের বিষয় দেবতা-নির্ভর নয়, সম্পূর্ণ রূপে মানবিক। প্রেম-বিবাহ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, জীবনযন্ত্রনা এই নাচের বিষয়বস্তু হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে শ্রীমঙ্গল চাবাগানে দেখা ঝুমুর নাচের একটি অনুষ্ঠানের কথা বলতে পারি, সে অনুষ্ঠানে গান হিসেবে গীত হয়েছিল:

চারাগাছে নতুন পাতি
সবুজ বরণ টীলা লো
মোদের নেই যে খানি শুধু চোখের পানি
নালা-খালার জল খাইয়া বদন হলো কালা গো॥ (সম্পূর্ণ…)

রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের সূচনা

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১৪ এপ্রিল ২০১১ ৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

শীতের শেষ রাত্রি বসন্তের প্রথম দিন আলাউদ্দিন আল আজাদের একটি উপন্যাসের নাম। নামের জন্যেই বইটির প্রতি আকৃষ্ট হই। এতে শেষ এবং শুরুর সন্ধিক্ষণের বিষয় মনের ভেতর নাড়া দেয়। যেমন এখন চৈত্র ফুরিয়ে যাচ্ছে, আর এগিয়ে আসছে বৈশাখ। সর্বত্রই প্রস্তুতি চলছে নববর্ষের।

panta-elish.jpg
পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ ভোজন

——————————————————
১৯৮৩ সাল। চৈত্রের শেষ। চারিদিকে বৈশাখের আয়োজন চলছে। আমরা আড্ডা দিতে পান্ত-ইলিশের কথা তুলি। বোরহান ভাই রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশ চালুর প্রস্তাব দিলেন, আমি সমর্থন দিলাম। ফারুক মাহমুদ পুরো আয়োজনের ব্যবস্থা করলেন। সম্ভবত ৫ টাকা করে চাঁদা ধরলেন। বাজার করা আর রান্না বান্নার দায়িত্ব দিলেন বিপ্লব পত্রিকার পিয়নকে। রাতে ভাত রেঁধে পান্তা তৈরি করে, কাঁচামরিচ-শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ, ইলিশ ভাঁজা নিয়ে পর দিন ‘এসো হে বৈশাখে’র আগেই ভোরে আমরা হাজির হলাম বটমূলের রমনা রেষ্টুরেন্টের সামনে। মুহূর্তের মধ্যে শেষ হলো পান্তা-ইলিশ। এভাবে যাত্রা শুরু হলো পান্তা ইলিশের।
——————————————————

কানাডায় এখন শীত শেষ, শুরু হচ্ছে সামার। বরফে ঢেকে থাকা গা ঝাড়া দিয়ে জেগে উঠছে পার্ক-প্রান্তর-প্রকৃতি। যেন দ্রুত সাদা ড্রেস বদলিয়ে পরে নিচ্ছে সবুজ ইউনিফর্ম। এতোদিনের নিরব থাকা, মনমরা ধুসর গাছগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে, নতুন পাতার আনন্দে মেতে উঠছে বাতাসের সঙ্গে।
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

সুকুমার রায়ের নাটক ‘ঝালাপালা’

| ৫ এপ্রিল ২০১১ ১:৩৩ অপরাহ্ন

ঝালাপালা

ঝালাপালা
প্রথম প্রকাশ: অজানা

সুকুমার রায়
(জন্ম: ১৮৮৭ মৃত্যু: ১৯২৩)

সুকুমার রায়ের নাটক ঝালাপালা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না; নাটকটির রচনাকাল, প্রকাশকাল বা গ্রন্থাকারে এর প্রথম প্রকাশ—এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা যায় না। পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর মৃত্যুর পরে সুকুমার রায় ‘সন্দেশ’ পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন এবং প্রতি সংখ্যায় আগের থেকে বেশি পরিমাণে সুকুমার রায়ের লেখা থাকত। অন্যদিকে, জীবিত থাকাকালে সুকুমার রায়ের কোন বই প্রকাশিত হয় নাই। ফলে অনুমান করা যেতে পারে নাটক ‘ঝালাপালা’ প্রথম ‘সন্দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পরে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। তবে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশের প্রকাশনী বা প্রকাশকালের তথ্যাদি পাওয়া যায়নি।
(সম্পূর্ণ…)

শীতের সাতকাহন

শীতে শালবনে, বান্দরবানে

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ৫ এপ্রিল ২০১১ ১:০০ অপরাহ্ন

সপ্তম কাহন: শীতে শালবনে, বান্দরবানে

k-7-5.jpg
ভাওয়াল গড়ের মেজবানগণের সাথে বসে আছেন লেখকের দুই ভ্রমণসঙ্গী

ভাওয়াল গড়ে

বিষ্যুৎবার বিকেল। অফিস ডিউটি শেষে নিচে নেমে গাড়ি বের করে অপেক্ষা করছি। ওপর থেকে নামবে আমার সহকারী রাকিব। ওর বউ রিপা আসছে ওদের লালমাটিয়ার বাসা থেকে। যাব সবাই মিলে শালবনে, ভাওয়াল গড়ের এক গ্রামে। ওরা খেজুরের রস খাবে, শীত উপভোগ করবে। শহরে এই পৌঁষ মাসের শেষেও নাকি তেমন শীত অনুভূত হচ্ছে না। রুবি সকালে অফিসে আসার সময় আমার ওভারনাইট ব্যাগ সঙ্গে দিয়ে দিয়েছে। রিপা রিকশায় এসে নামল। রাকিবও দেখছি সিঁড়ি বেয়ে নামছে। টেলিপ্যাথি নাকি গো? দেবাদেবী একসঙ্গে যে? আমার রসিকতায় রিপা হেসে বলে, না, টেলিফোন—সেলুলার। বোঝা গেল। পেছনের ডিকি খুলে ওদের ব্যাগ তুললাম। যাত্রা শুরু হল। উওরায় আলিবাবা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে বাচ্চাদের জন্য মিষ্টি নেয়া হল। চা খেয়ে একটানা চলে সন্ধের মুখে ভাওয়াল গড়ে ঢুকে গেলাম। সঙ্গে সঙ্গে শীতও যেন ঝামড়ে এল, ঝাঁপিয়ে পড়ল আমাদের ওপর। কাঁচ তুলে দেয়া হল। রিপা পেছনে বসেছিল। এবারে শুয়ে পড়ে বলল, আমি সব দরজা লক্ করে ঘুমোলাম। যথাসময়ে উঠব।
(সম্পূর্ণ…)

জ্ঞানচৌতিশা: আনন্দ ও দুঃখ

মলয় রায়চৌধুরী | ১ এপ্রিল ২০১১ ১:০০ পূর্বাহ্ন

malay-rc.jpg
মলয় রায়চৌধুরী (জন্ম. ২৯/১০/১৯৩৯)

এক
জ্ঞানচৌতিশা শব্দটির উদ্ভাবক ষোলো শতকের ভাবুক মীর সৈয়দ সুলতান। হয়তো তিনি উদ্ভাবক নন, তাঁর সময়ে শব্দটির প্রচলন ছিল। তবে, তাঁর পুঁথিতে শব্দটি ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে। শব্দটির চৌহদ্দিতে তিনি ফিলজফি, থটপ্রসেস, আইডিয়া, স্টেট অব মাইন্ড, প্রবলেম্যাটিক, ফেনমেনলজি, ইনটেলিজেন্স, এথিক্স, উইজডম, যুধিষ্ঠির-কথিত ধর্ম ইত্যাদির সমন্বয়ে গড়ে-ওঠা ব্যক্তি-মনের কথা বলেছেন। মীর সৈয়দ সুলতানের মতন প্রণম্য মানুষের সময়কে, ইংরেজদের নকল করে, কেন মধ্যযুগ বলা হয়েছিল, ওই
——————————————————
ইংরেজদের শিক্ষাজগত, যাকে ম্যাকলে বলেছিলেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার ও প্রসার, মধ্যবিত্ত বাঙালি প্রতিস্বকে যেভাবে গড়তে লাগল, ঔপনিবেশিক বাংলা সাহিত্যে আমরা বাংলা কবিতায় পেলুম দুঃখ, কষ্ট, ব্যথা, বেদনা, যন্ত্রণার আধিক্য। উত্তরঔপনিবেশিক কালখণ্ডে দেশভাগে আগত উদবাস্তুদের রচনায় ব্যাপারটা এমন ছেয়ে গেল যে বাংলা সাহিত্য একেবার রিফিউজি সাহিত্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা থেকে মুক্তি ঘটায় হাংরি, শ্রুতি, নিমসাহিত্য, ধ্বংসকালীন আন্দোলনগুলো।
——————————————————
নকল করা ছাড়া, ব্যাখ্যা করা মুশকিল। বেশ কিছুকাল যাবৎ আমি আমার চিন্তা কী করে চিন্তা করে এই চিন্তার ভেতরে রয়েছি। মস্তিষ্কের এই প্রক্রিয়াটিকে জ্ঞানচৌতিশা অভিধাটি দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। চৌতিশা শব্দটির তৎকালীন অর্থ সম্ভবত ছিল চিন্তার ছন্দ। ইংরেজরা যে ভাষাভাবনা আমাদের বিদ্যায়তনিক শিক্ষাজগতে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন, ছন্দ বলতেই আজকাল শব্দ ও বাক্যের কথা এসে পড়ে। মীর সৈয়দ সুলতানের কালখণ্ডে চিন্তার ছন্দ সম্ভব ছিল। আমাদের কালখণ্ডে চিন্তা যখন বিশৃঙ্খল দ্রুতিতে আক্রান্ত, আমার মনে হয় চিন্তার ছন্দ অসম্ভব। তবু আমি আমার আনন্দক্রিয়া আর দুঃখক্রিয়া নিয়ে চিন্তা করার চেষ্টা বজায় রেখেছি। কিছু একটা মনের মধ্যে ঘটলে সেটা নিয়ে ভেবে দেখার চেষ্টা করি।

দুই
anju_boby.jpg………
অঞ্জু ববি জর্জ (জন্ম. ১৯/৪/১৯৭৭)
………
কোট্টায়ামের চাঙ্গানাসেরি গ্রামের গৃহবধূ অঞ্জু ববি জর্জ প্যারির বিশ্ব চাম্পিয়নশিপে ৬.৭০ মিটার লাফিয়ে অ্যাথলেটিক্সে ভারতকে প্রথম পদক জেতালেন, তৃতীয় স্হান পেয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল, যা মিলখা সিং আর পি টি উষাও পারেননি। খবরটা টিভিতে দেখে প্রচণ্ড আনন্দ হল। টিভি আমি একা দেখি, বালিশে ঠেসান দিয়ে, সেন্টার টেবিলের ওপর ঠ্যাং তুলে। হঠাৎ এরকম আনন্দ হল কেন? আমি তো অ্যাথলিট ছিলুম না। ফুটবল আর ক্রিকেট শেষ হয়ে গিয়েছিল স্কুল ছাড়ার সময়ে। শাদা জামা-ফুলপ্যান্ট করিয়ে দেবার মতন পারিবারিক স্ফূর্তি না থাকায়, কেবল ফালতু ক্রিকেট খেলতে হয়েছে স্কুলের সর্বজনীন ব্যাট হাতে, বিনা প্যাডে। ঘরেলু ক্রিকেটও খেলা হয়নি। রোগাপ্যাংলা ছিলুম বলে ফুটবলেও চোটজখম সয়ে বেশি সময় মাঠের কিনারে বসে থাকতে হয়েছে। খেলার বা খেলা সম্পর্কিত উৎসাহ বাবা-কাকা-জ্যাঠার কারোর ছিল না। তার মানে অঞ্জু ববি জর্জের পদকপ্রাপ্তিতে ৩০ আগস্ট ২০০৩ তারিখে আমার যে আনন্দ হয়েছিল, তার উৎস খেলাধুলা নয়। তাহলে কী? কেনই বা হল অমন আনন্দ? হঠাৎ? তা কি প্যাটরিয়টিজম?


ইউটিউবে অঞ্জু ববি জর্জ-এর দীর্ঘ লাফ, ২০০৩

কিন্তু অঞ্জু ববি জর্জের আগে যে-খবরটা দেখেছিলুম তা হল সংসদভবনে হামলার মূল পাণ্ডা গাজি বাবা নামক জৈশ-ই-মহম্মদের জনৈক জঙ্গির গুলি খেয়ে শ্রীনগরে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের হাতে মৃত্যু। সে খবর দেখে, যাক ল্যাটা চুকেছে, এরকম মনোভাব হয়েছিল। প্যাটরিয়টিজম তো গাজি বাবার নিকেশে চাগিয়ে ওঠার কথা । লোকটার আসল নাম গাজি বাবা নয়। যারা কাফের বা হিন্দুদের মারে তারা গাজি উপাধি পায়। জম্মু-কাশ্মীরে ট্যুরে যেতে হত অফিসের কাজে, তাই অভিজ্ঞতা থেকেও মনে হয়, যত তাড়াতাড়ি হয় ব্যাপারটা সেটল হোক। দাড়ির জন্যে আমাকে প্রায় সর্বত্র অফিসের দেয়া আইডেনটিটি কার্ড দেখাতে হত। আমি যে সত্যিই আমি তা প্রমাণ করার জন্যে। ওভাবে প্রমাণ দেবার জন্যে মনে হত তোমাদের তুলনায় আমি কম ভারতীয় নাকি? (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com