পেশাদার পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা

রাখাল রাহা’র সাথে আলাপ

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ৩১ মার্চ ২০১১ ৮:১১ অপরাহ্ন

[বাংলাদেশে প্রথম ম্যানুস্ক্রিপ্ট এডিটিং হাউজ ‘সম্পাদনা’ (১২৫ আজিজ সুপার মার্কেট, আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোর। ইমেইল: sompadona@gmail.com) প্রতিষ্ঠা করেছেন রাখাল রাহা। বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘সম্পাদনা’ ম্যানুস্ক্রিপ্ট এডিট করার পাশাপাশি কর্মশালা ও সেমিনারের মাধ্যমে প্রকাশনার ক্ষেত্রে ম্যানুস্ক্রিপ্ট এডিটিং-এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করছে। নতুন ধরনের এই প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে বলেছেন ‘সম্পাদনা’র উদ্যোক্তা রাখাল রাহা।–বি.স.]

রাখাল রাহার কাছে জানতে চাই তাঁর ম্যানুস্ক্রিপ্ট এডিটিং হাউজ ‘সম্পাদনা’র বিষয়ে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘আমরা মূলত যেটা করে থাকি সেটা হচ্ছে প্রফেশনাল এডিটিং, প্রফেশনাল ম্যানুস্ক্রিপ্ট এডিটিং অর্থাৎ পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার যে কাজ, সেটা আমরা এখানে প্রফেশনালি শুরু করার চেষ্টা করছি।’’ কবে থেকে এটা শুরু করেছেন জানতে চাই। বললেন, ‘‘আসলে শুরুতে এই ব্যাপারটা আমার ব্যক্তিগত একটা উদ্যোগের মতই ছিল এবং প্রাথমিকভাবে আমি এর কাজও শুরু করেছিলাম ২০০১ বা ২০০২ এর দিকে। কিন্তু পরবর্তীসময়ে বিভিন্ন প্রফেশনাল কাজে জড়িয়ে যাওয়ায় এ জিনিসটাকে আর সেভাবে অগ্রসর করে নিতে পারিনি। পরে ২০১০ সালে এসে, জুন-জুলাই থেকে আমরা আবার এটা শুরু করেছি। এবার এটাকে পুরোদমে প্রফেশনাল একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই কাজ শুরু করেছি। আমরা এটাকে সচেতন ও সৃষ্টিশীল একটা প্রচেষ্টা এবং সর্বোপরি প্রফেশনাল জায়গায় দাঁড় করানোর উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করেছি।’’

rakhal-raha.jpg
……….
রাখাল রাহা
……….

‘ম্যানুস্ক্রিপ্ট এডিটিং’ বা ‘পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা’ এই পদ্ধতিটা সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানতে চাই তার কাছে। তিনি বলেন, ‘‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ম্যানুস্ক্রিপ্ট এডিটিং এর নানা ধরনের স্টেপ আছে। স্পন্সরিং এডিটিং, ডেভেলাপমেন্টাল এডিটিং, কপ এডিটিং ইত্যাদি বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। তো প্রথমেই যে ধাপ সেটা হচ্ছে স্পন্সরিং-এর কাজ এবং স্পন্সরিং এডিটরই এই কাজটা করেন। প্রথমে তিনি ম্যানুস্ক্রিপ্টটা লেখকের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন বা স্পন্সর করেন। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ৪)

| ৩১ মার্চ ২০১১ ২:২৮ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১-এর লিংক কিস্তি ২-এর লিংক কিস্তি ৩-এর লিংক

কিস্তি তিন-এর পর

poster-5-omar-rahim.jpg
ওমর রহিম মেহেরজান-এর ওয়াসিম রূপে সিনেমার পোস্টারে

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা, আপনি কি…আজম কিছু বলবেন নাকি?

মোহাম্মদ আজম: না, সলিম ভাইয়ের ইয়ের সঙ্গে আমি একটা জায়গায় ইয়ে করতে চাই। সেটা হল যে—মেহের এবং ওয়াসিমের প্রেমকে পাকিস্তানি এবং বাঙালির প্রেম হিসেবে কীভাবে বোঝা যাবে, যখন ওয়াসিম তো কোন অর্থেই পাকিস্তানের ফাইটিং ফোর্সটার প্রতিনিধিত্ব করছে না?

[ব্রাত্য রাইসু: আজম ভাই, নামটা বইলা নিলে সুবিধা হয়।]

মোহাম্মদ আজম: আচ্ছা, আমি মোহাম্মদ আজম; বাংলা বিভাগে পড়াই, ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে।

সলিমুল্লাহ খান: আচ্ছা, ওয়াসিম কি ওখানে বেড়াইতে আসছে? ফাইটিং ফোর্সের প্রতিনিধিত্ব করছে না তো কী জন্যে আসছিলো গ্রামে?

মোহাম্মদ আজম: ওখানে সে পাকিস্তান আর্মির পক্ষ হয়ে এসেছে।

সলিমুল্লাহ খান: তো, তাহলে কী?

মোহাম্মদ আজম: আসার পর তাকে বলা হচ্ছে, তাকে আমরা যখন আবিষ্কার করি ফিল্মে, তখন আমরা তাকে দেখি দুইটা পজিশনে দেখি। নাম্বার ওয়ান, সে হল পাকিস্তান পক্ষ থেকে পালিয়ে এসেছে যার কোর্ট মার্শাল হয়েছিল, সেই ধরনের একজন লোক। তার মানে সে পাকিস্তানের বিপক্ষের একজন লোক। এটা সিনেমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, এর ফলে সিনেমার তাৎপর্য চেঞ্জ হয়েছে কি না, আমি সেটা বলছি না। এক্সাক্ট আমি ইনফরমেশনটা বলছি। এটা গেল একটা, আর দু’নম্বর হল সে—দেখাচ্ছে সিনেমায়, সেটাও রিয়েলিস্টিক কি না সেটা আমি দাবী করছি না, যেটা দেখাচ্ছে—যে যোদ্ধারা ঐ পাশ দিয়ে যাচ্ছে, মানে পাকিস্তানি সৈন্যরা—ঐ পাশ দিয়ে যাচ্ছে, তাদের হাত থেকে সে মেহেরকে রক্ষা করছে। এটা হল ইনফরমেশন। I am just putting it. নাম্বার ওয়ান। নাম্বার টু–আপনি (সলিমুল্লাহ খান) যেটা বলছেন যে মেহের পরবর্তী কালে—থার্টি এইট ইয়ার্স, এখানে সে কিন্তু ওয়াসিমের জন্য অপেক্ষা করছে বা ওয়াসিমের জন্য কাতর হয়ে দিন গুজরান করছে এ কথাটা কিন্তু ওর পরবর্তী কালে কোন ন্যারেটিভস-এ পরিষ্কার নয়।
(সম্পূর্ণ…)

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার

অদিতি ফাল্গুনী | ২৬ মার্চ ২০১১ ১:৩০ অপরাহ্ন

a-freedom-fighter-taking-mid-day-nap.jpg
দুপুরে বিশ্রামাগারে ঘুমাচ্ছেন এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা

২০০০ সালে ঢাকার কলেজ গেইট এলাকায় অবস্থিত ‘মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট’ পরিচালিত ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগ মুক্তি বিশ্রামাগার’-এ কিছু আহত মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে গেলে সেখানে মুক্তিযোদ্ধা মোদাচ্ছার হোসেন মধু বীরপ্রতীক একটি সাদা খাতায় লেখা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্মৃতিচারণার কিছু পৃষ্ঠা তুলে দেন। খাতাটা আমি ফটোকপি করে তাঁকে ফিরিয়ে দেই। ভুল বানান ও কাঁচা অক্ষরে লেখা হলেও ঐ স্মৃতিচারণায় স্কুল-কলেজের হিসেবে স্বল্পশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা মধু আমাদের জাতীয় ইতিহাসের কিছু অদেখা ও অজানা তথ্য তুলে ধরেছেন। লেখাটা কোথায় ছাপানো যায় সে নিয়ে বিস্তর ভাবনা সত্ত্বেও দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততায় এ কাজে আর অগ্রসর হতে পারি নি। ২০০৯ সালে কলেজে গেটের ঐ বিশ্রামাগারে আবার গেলে জানতে পারি যে মধু আর বেঁচে নেই। অপরাধবোধ থেকেই মধুর সতীর্থ অন্যান্য প্রায় বিশ/বাইশ জন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। এই লেখায় সেই বিশ/বাইশ জন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার পত্রস্থ করা হলো। লেখাটির দ্বিতীয় অংশে থাকছে মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক মোদাচ্ছার হোসেন মধুর দিনপঞ্জি।

১) মোঃ নূরুল মিঞা,
পিতা: সুরুজ মিঞা,
গ্রাম: জিলাদপুর (মতিগঞ্জ বাজার),
পো: সাতগাঁও,
থানা: শ্রীমঙ্গল,
জেলা: মৌলভিবাজার।

‘আজ দশ/বারো বছর হয় পুরা হুইল চেয়ারে বসা আমি। যুদ্ধ করছি তিন নম্বর সেক্টরে। যুদ্ধের এক বছর আগে আমি দুই বছর আনসার ট্রেনিংয়ে ছিলাম। আমি বর্ডারের কাছে বাল্লা বিওপিতে ই,পি,আর, …এখন যেটা বি,ডি,আর, .. সেইখানে আনসার ব্যাটালিয়নে চাকরি করতাম। যুদ্ধ বাধলে বর্ডারের ওপার গিয়া দুই সপ্তাহ ট্রেনিং নিলাম। তয় তারিখ এবং সময় ঠিকমতো কইতাম পারি না। সব কথা স্মরণ নাই। ইতিহাস একেবারে আটাইয়া ঘুরাইয়া কইতাম পারি না। আমরা যুদ্ধ করছি খোয়াই নদী, বাল্লা বিওপি, রেমা গার্ডেনের কাছে। ভাদ্রের ১০/১৫ তারিখে সিলেটের একডালা বসন্তপুর প্রাইমারি স্কুলে রাত্রি দশটা/এগারোটার দিকে এ্যাটাক করি। স্কুলটায় পাঞ্জাবিরা ছিল। আমি এল,এম,জি, নিয়া এ্যাটাক করি। ঐ যুদ্ধেই আমার শিরদাঁড়ার পাশে গুলি লাগে। আমার জ্ঞান ছিল না। আমার সাথে যারা ছিল তারা আমাকে বর্ডারের ওপারে নিয়া যায়। ইন্ডিয়ার খোয়াই-আগরতলা-শিলচর-গৌহাটি-লখনৌ-রামগড় নানা হাসপাতালে আমার চিকিৎসা হয়। ভাদ্রের তিন/চার মাস পর দেশ স্বাধীন হয়। ঢাকায় সি,এম,এইচ, হাসপাতালেও কিছুদিন ছিলাম। যুদ্ধের সময় আমার মা জীবিত ছিল। দেশ স্বাধীনের পর আমি আনসার ব্যাটালিয়নে তিনশ’ টাকা বেতনে আবার যোগ দিই। তখনো আমার হুইল চেয়ার লাগতো না। হাঁটা-চলা করতে পারতাম। (সম্পূর্ণ…)

‘২৫শে মার্চ রাতে আমি ছিলাম প্রেসক্লাবে, একা’

ফয়েজ আহ্‌মদ | ২৬ মার্চ ২০১১ ৩:১০ পূর্বাহ্ন

dhaka1971-a.jpg
ঢাকার রাস্তায় বেসামরিক লোকদের মারছে পাকিস্তানি সেনারা, ১৯৭১

২৫ শে মার্চ সকাল থেকেই আমরা অনুভব করেছিলাম যে পাকিস্তান বাহিনী হয়তো আজই আক্রমণ শুরু করতে পারে। আমরা ইয়াহিয়া খানকে তখন ঢাকায় পেয়েছিলাম, ভুট্টো ঢাকায় এবং পশ্চিম পাকিস্তানের লেফট সাইডের এবং মুসলিম লীগের বিখ্যাত, বিখ্যাত নেতারা তখন অনেকেই এই ক্রাইসিস পিরিয়ডে ঢাকা এসেছিলেন। ইয়াহিয়া খান প্রথম ভাব করেছিলেন যে তিনি কোন একটা মিমাংসামূলক প্রচেষ্টায় ঢাকায় আসছেন; অ্যাকচুয়ালি ব্যাপারটা তা নয়। তাদের আয়োজন—আক্রমণের ব্যবস্থা, সমস্ত কিছুর প্রযোজনে তারা আরো একটু সময় চেয়েছিল এবং আলোচনার উছিলা করে, সময় ক্ষেপণ করে, অস্ত্র আমদানি করা হচ্ছিল। এমন কি ভারত যখন নাকি ওভার-ফ্লাই করতে দিলো না পাকিস্তানকে অস্ত্র নিয়ে, ইস্ট পাকিস্তানে, তারা তখন চীন হয়ে আসার চেষ্টা করলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণহত্যার ভিডিও ফুটেজ

আমরা দুইজন পাইলটকে পেয়েছিলাম। আমি আর আমার এক বন্ধু—যে নাকি স্বরাজ পত্রিকায় আমাকে সাহায্য করেছে—এম আর আখতার মুকুল, আমার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আমাদের কাছে তার আগের দিন মানে ২৪ তারিখ দুইজন খুব স্মার্ট লোক এসে উপস্থিত, বিকালবেলা, সন্ধ্যার আগে এবং তারা এসে বললো–এই কাগজে প্রমাণ যে এটা চীন হয়ে এই প্লেন আসছে। দেখা গেলো এটা একটা লগ-বুকের দু’টি পাতা। প্লেন যারা চালায় সেই পাইলটদের লগ-বুক থাকে, সেই লগ-বুকে সমস্ত লেখা থাকে টাইমলি কোথায় কী হচ্ছে না হচ্ছে, প্লেনের কী অবস্থা। সেই লগবুকের পাতা—দুটো তারা নিয়ে এসেছে এবং ঐ লগ-বুকটার ঐ পাতাতে এনডোর্স করা আছে—উড়ুমচি। উড়ুমচি হচ্ছে চীনের উত্তর অঞ্চলের প্রদেশের রাজধানী এবং উড়ুমচি হয়ে, ওরা ওখান থেকে তেল নেয়, পাকিস্তান থেকে উড়ুমচি আসে, উড়ুমচি থেকে ঢাকায় আসে।
(সম্পূর্ণ…)

‘অফসাইড’ সিনেমা নিয়ে নির্মাতা জাফর পানাহি’র সাক্ষাৎকার

আফসার বিপুল | ২৫ মার্চ ২০১১ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

জাফর পানাহি’র সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ক্রিস উইজনস্কি, প্রকাশিত হয়েছে ত্রৈমাসিক ফিল্ম জার্নাল ‘রিভার্স শট’-এর ১৯ ইস্যুতে, ২০০৬ সালে। জাফর পানাহি ২০০৬ সালে ‘অফসাইড’ তৈরি করেন। বর্তমান সাক্ষাৎকারটি মূলতঃ ‘অফসাইড’ সিনেমাটি নিয়ে। ‘অফসাইড’-এর উপর ক্রিস উইজনস্কি’র ছোট একটি ব্রিফ এবং সাক্ষাৎকারটি ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন আফসার বিপুল।–বি.স.]

dd_panahi.jpg
………….
জাফর পানাহি, জন্ম: ১১জুলাই ১৯৬০, মেয়ানেহ, পূর্ব আজারবাইজান
………….

বছরের (২০০৬) একটি সেরা ছবিতে দেখা যায়, তরুণীদের একটি দল ছেলেদের মত পোশাক পরে গোপনে তেহরানের আজাদি স্টেডিয়াম-এর দিকে রওনা দেয়; সেখানে ইরান ও বাহরাইনের মধ্যে বিশ্বকাপের যোগ্যতা নির্ধারণী খেলা হবে, সেটি দেখাই তাদের উদ্দেশ্য। এই তরুণীরা (সচেতনভাবে) নারীবাদী নন এবং যা আরো গুরুত্বপূর্ণ, তাদের এই বেপরোয়া যাত্রা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিও নয়। এরা নিছক সকারের ভক্ত। খেলাটি দেখতে চাওয়ার কারণ তারা তাদের দেশের পক্ষে সমর্থন দিতে চাচ্ছিল। জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের কাতারে সামিল হওয়ার বাইরে তাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিলো না। যে দেশকে তারা বাড়ি বলে সেই দেশের পক্ষে উল্লাস করতে চাচ্ছিল তাঁরা, যদিও সেই দেশ আইন করে এ ধরনের পাবলিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে।–‘অফসাইড’-এর উপর ক্রিস উইজনস্কি’র ব্রিফ
—————–

ক্রিস উইজনস্কি: অভিনন্দন! আরো একটি দুর্দান্ত ছবি। আমি আপনার সব ছবির দারুণ ভক্ত। এত নিবিড়ভাবে লেগে থেকে একের পর এক এরকম হৃদয়গ্রাহী কাজ! সত্যিই অসাধারণ।

জাফর পানাহি: ধন্যবাদ। আমি নিজের জন্য ঠিক করে নিয়েছি—আমার শুধু ভাল ছবি তৈরি করাই উচিত হবে। যদিও একটি ছবি তৈরি করতে এখন আমার তিন বছরের মত সময় লাগছে, আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি আমি আমার কাজে সম্ভাব্য সেরা মান এ পৌঁছতে।

ক্রিস উইজনস্কি: ‘অফসাইড’ ছবির অনেক বিষয়ই আপনার অন্যান্য অনেক কাজের মধ্যে আছে। তারপরও এর এমন একটি দিক আছে যাতে করে দর্শকরা সহজেই এর গভীরে ঢুকে যেতে পারে। ফুটবল খেলাকে ঘিরে আবর্তিত হওয়ায় ছবিটির কাহিনী-ধারা বেশ পরিষ্কার। ছবিটি দেখার তৃপ্তি দ্যা সার্কেল, দ্যা মিরর-এর তুলনায় অনেকটা নতুনই বলতে হবে। পেশাগত জীবনের এই পর্যায়ে এসে কী আপনাকে বিশেষ এই কাহিনীতে আকৃষ্ট করলো?
(সম্পূর্ণ…)

শীতের সাতকাহন

ছাঙ্গো লেকে আইস হকি

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৩ মার্চ ২০১১ ১:৫৪ অপরাহ্ন

ষষ্ঠ কাহন: ছাঙ্গো লেকে আইস হকি

বৈশাখের দাবদাহে জ্বলে পুড়ে ঢাকা থেকে দার্জিলিং এসেছি। শিলিগুড়িতেও এবারে প্রচণ্ড গরম। অনাবাসী বাঙালি লিভারপুলের হান্নান আর সদ্য মার্কিন মুলুক প্রত্যাগত ডঃ আহসান উদ্দিন এবারের যাত্রায় আমার সঙ্গী। বাস আড্ডার ওপরে একটি হোটেলে উঠেছি। ছোট্ট ডুপ্লেক্স বাড়ি। ওপরে নিচে দু’টো ঘর, লিভিং স্পেস আর স্নানঘর। সকাল-বিকেল দার্জিলিং ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে ঢুঁ মারি।

mw-k-6.jpg
ছাঙ্গো লেকের পাড়ে লেখক (ডানে) এবং তাঁর ভ্রমণসঙ্গী

বন্ধুজন দিলীপ আমাদের যার যেদিকে যাবার ইচ্ছে, সেদিকের কোন গাড়িতে সামনের আসনে বসিয়ে দেয়। দু’তিনদিনে শহর, আশেপাশের দ্রষ্টব্য ও দূরের মিরিক, কালিম্পং, জোড় পুখরি ইত্যাদি ঘুরে দেখা হয়েছে। হান্নান রাত ৯টা পর্যন্ত পুরনো বইয়ের দোকানে সময় কাটায়। কাল সে ফিরে যাবে। আমি আর আহসান ঠিক করেছি, গ্যাংটক যাব অর্কিড ফেস্টিভ্যাল দেখতে।
(সম্পূর্ণ…)

প্রকাশিত বই থেকে ২ পৃষ্ঠা

অদিতি ফাল্গুনী’র গল্পগ্রন্থ অপৌরুষেয় ১৯৭১

| ২২ মার্চ ২০১১ ৬:০৩ অপরাহ্ন

[ফেব্রুয়ারি ২০১১ গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত বই থেকে ২ পৃষ্ঠা স্ক্যান করে আর্টস-এ রাখা হবে। এজন্য লেখক বা প্রকাশকদের পক্ষ থেকে আর্টস-এ প্রকাশিত বইয়ের এক কপি দেবার আহ্বান করা হচ্ছে। বই পাঠাতে হবে বিডিনিউজ২৪.কম অফিসে। ঠিকানা: ৯৯ মহাখালি বা/এ, ঢাকা ১২১২।–বি.স.]

প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১১
ISBN: 978-984-8972-29-8
বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শিবু কুমার শীল।
মূল্য:২৫০ টাকা
প্রকাশক: শুদ্ধস্বর
৯১ আজিজ সুপার মার্কেট (তৃতীয় তলা), শাহবাগ, ঢাকা ১১০০।
ফোন: ০১৭১৬৫২৫৯৩৯
ইমেইল: shuddhashar@gmail.com

af-cover.jpg
……………
অপৌরুষেয় ১৯৭১ বইয়ের প্রচ্ছদ
……………

…আমার জুতো মৃত্তিকার আধা ইঞ্চি ওপরে…তখনো চরাচরের সবুজ ঘাস শিশিরে আচ্ছন্ন। কিন্তু, আমি সহসাই পৌঁছে গেলাম তোমাদের কাঁচ ঘরে…তুমি আমার ডেস্কের কাছে এসে দাঁড়ালে, যেমন আগেও দাঁড়াতে…আমার হাতে তুলে দিলে তুমি কয়েকটি কাগজ।–অপৌরুষেয় ১৯৭১ বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে।

বই থেকে দুই পৃষ্ঠা পড়ুন
(সম্পূর্ণ…)

প্রকাশিত বই থেকে ২ পৃষ্ঠা

মৌলি আজাদ-এর স্মৃতিকথা হুমায়ুন আজাদ: আমার বাবা

| ২০ মার্চ ২০১১ ৬:৪৭ অপরাহ্ন

[ফেব্রুয়ারি ২০১১ গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত বই থেকে ২ পৃষ্ঠা স্ক্যান করে আর্টস-এ রাখা হবে। এজন্য লেখক বা প্রকাশকদের পক্ষ থেকে আর্টস-এ প্রকাশিত বইয়ের এক কপি দেবার আহ্বান করা হচ্ছে। বই পাঠাতে হবে বিডিনিউজ২৪.কম অফিসে। ঠিকানা: ৯৯ মহাখালি বা/এ, ঢাকা ১২১২।–বি.স.]

প্রথম প্রকাশ: ফাল্গুন ১৪১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১, আগামী প্রকাশনী
৩৬ বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০। ফোন: ৭৭১-১৩৩২
ma-cover.jpg

প্রচ্ছদ করেছেন শিবু কুমার শীল। প্রকাশক ওসমান গণি।

ISBN: 978 984 04 1380 5
মূল্য:১০০ টাকা

…..প্রথাবিরোধী ও জীবিতকালে সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থানকারী প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আজাদের ভিতর-বাহির জানার জন্য লেখিকার পাঠকবৃন্দের কাছে সকল সময়ের দাবি এই অসামান্য লেখককে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বই প্রকাশের। পাঠকদের সেই দাবি পূরণ করার জন্যই মূলত মৌলি আজাদের এই রেখার প্রয়াস। লেখিকার আশা, বাবাকে নিয়ে কন্যার লেখা এই বইয়ে পাঠক আবিষ্কার করবে এক অনাবিষ্কৃত লেখক হুমায়ুন আজাদকে।–হুমায়ুন আজাদ: আমার বাবা বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে।

বই থেকে দুই পৃষ্ঠা পড়ুন
(সম্পূর্ণ…)

ছফামৃত

(শেষ কিস্তি: কিস্তি ১১)

নূরুল আনোয়ার | ১৭ মার্চ ২০১১ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

লিংক: শুরুর কিস্তিকিস্তি ১০

(কিস্তি ১০-এর পর)

sofa_chair.jpgকাকার শেষের দিককার দিনগুলো একটা গৎবাঁধা নিয়মে চলত। নানাজনে বোহেমিয়ান বলে যে একটা অপবাদ তাঁর ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন, আদৌ কি তিনি তাই ছিলেন? তাঁর একটা লেখা পাঠ করলে দেখা যায় তিনি কতটুকু নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতেন। তিনি লিখেছেন :

“আমি ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠেই আধ ঘণ্টা ধ্যান করি। ধ্যান সেরেই এক কাপ চা পান করি। চা পান করে দাড়ি কাটি, বাথরুমে যাই, ফ্রেশ হই। একে একে সকালের কাজগুলো করি। বাসায় চার-পাঁচটা দৈনিক পত্রিকা আসে। পত্রিকা পড়ে সাড়ে সাতটার দিকে ব্রেকফাস্ট সারি। সারাদেশ থেকে অসংখ্য প্রিয়জন আমাকে চিঠি লেখে। ব্রেকফাস্ট সেরে তাঁদের চিঠিগুলোর জবাব দেই। তাই প্রতিদিনই আমাকে চিঠি লিখতে হয়। চিঠি লিখতে লিখতে আটটা ন’টা বেজে যায়। তারপর কিছু সময় হারমোনিয়ামে সুর তুলি। আমার নিজের লেখা গানগুলো গাই। এতে কোন কোনদিন দশটাও বেজে যায়। তারপর এক ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকি। কয়েকটি দৈনিকে আমাকে কলাম লিখতে হয়। ঘুম থেকে উঠে পত্রিকার লেখাগুলো ডিকটেট করি। দুপুর দেড়টার মধ্যে দুপুরের খাবার শেষ করি। (সম্পূর্ণ…)

‘পাকিস্তান’, ‘মেহেরজান’ এবং বাংলা ব্লগস্ফেয়ার

ফাহাম আব্দুস সালাম | ১৭ মার্চ ২০১১ ৩:২০ পূর্বাহ্ন

পাকিস্তান নামে মশিউল আলমের একটি ছোটগল্প সম্প্রতি বিডিনিউজ২৪.কম-এর আর্টস পাতায় প্রকাশিত হয়েছে। খুব সংক্ষেপে গল্পটি এরকম: মধ্য আশিতে লেখক সোভিয়েত রাশিয়ায় গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্জনের জন্য। সেখানে লেখক ইমতিয়াজ নামের একজন পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর সাথে পরিচিত হন, যাকে তিনি সহ্য করতে পারতেন না তাঁর জাতীয়তার কারণে (লেখকের ভাষ্যে “আই হেইট পাকিস্তান! আই হেইট অল অফ ইউ, পাকিস্তানিস!”)।

mhj-r.jpg
মেহেরজান সিনেমার নির্দেশনা দিচ্ছেন পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন (ডানে)

পরবর্তিতে তিনি দেশে ফেরার পথে ইমতিয়াজের আমন্ত্রণে করাচিতে যান এবং সেখানে তার পরিবারের সাথে পরিচিত হন। ইমতিয়াজের বোন অনিন্দ্য সুন্দরী ফারহানাকে প্রথম দেখাতেই তাঁর ভাল লেগে যায় এবং জানতে পারেন ইমতিয়াজের চাচার কথা, যিনি ’৭১ এ পাকিস্তানি মেজর হিসেবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং এক অনাথ বাঙালি শিশুকে পাকিস্তানে নিয়ে যান এবং নিজের সন্তান হিসেবে প্রতিপালন করেন। লেখকের সাথে যখন তাঁর কথা হচ্ছিল তখন ছেলেটি লন্ডনে ব্যারিস্টার হওয়ার জন্য পড়াশুনা করছে এবং তখন পর্যন্ত তাকে জানানো হয় নি যে সে একজন বাঙালি। ইমতিয়াজের চাচা লেখককে জানান যে তার পরিকল্পনা রয়েছে দত্তক পুত্রকে তার শেকড়ের সন্ধান দেয়ার এবং এর পর যদি সে চলে যেতে চায় বাংলাদেশে, তার কোন আপত্তি থাকবে না। বহু বছর পর ২০০৩ সালে এসে লেখককে তার বন্ধু সাবেক নৌ-কমান্ডো হুমায়ুন কবির জানান যে বছর কয়েক আগে এক যুবক আলফাডাঙ্গায় এসে মাইকিং করে তার পরিবারের খোঁজ করেছিলো। যুবকটি লন্ডন-ফেরত ব্যারিস্টার, বাংলা জানে না, জানে উর্দু আর ইংরেজি এবং অলৌকিকভাবে সে তাঁর পরিবারের সন্ধান পায়। লেখকের মনে হয় এই তো সেই ছেলে, ইমতিয়াজের চাচাতো ভাই; জানতে ইচ্ছা হয় কেমন আছে—ইমতিয়াজ আর ফারহানা?
(সম্পূর্ণ…)

জীবনের পাতায় পাতায় (৪)

বেবী মওদুদ | ১৫ মার্চ ২০১১ ২:৪৯ অপরাহ্ন

শুরুর কিস্তি কিস্তি ২
——————————–
স্মৃতিকথা ধারাবাহিক
——————————–
কিস্তি ৩-এর পর

যশোর রেলওয়ে স্টেশন বৃটিশ আমলের তৈরি। বলা চলে স্থলপথে কলকাতা যাবার এটাই প্রধান দ্বার। দর্শনা হয়ে বনগাঁ, কৃষ্ণনগর ও নদীয়া হয়ে রেলগাড়িতে চড়ে কলকাতা শিয়ালদহ স্টেশনে যাওয় যেত। এবার রেলগাড়িতে উঠে আমরা বগুড়া এলাম। দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হয়। তবে জানালা খুলে গ্রামীণ দৃশ্য দেখতে দেখতে এবং ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে এই ভ্রমণ আমাদের খুব ভালো লাগতো। তখন তো আমরা পাঁচ ভাই ও দুই বোন। আব্বা একটা বগিই রিজার্ভ করে নিতেন। আমার মা রান্না করা খাবার সঙ্গে নিলেও রেলের খাবারও যথেষ্ট ভালো ছিল। মনে আছে আমরা রাতে বগুড়া শহরে পৌঁছাই।

2_1.jpg
বগুড়ায় ১৯৫৪ সালের সাব-জজ কোয়ার্টার এখন জজ কোয়ার্টার

বগুড়ার সাত মাথার কাছেই সুত্রাপুর এলাকায় আমাদের বাসা ছিল। বিরাট বাউন্ডারির ভেতরে আমাদেরটা ছিল সাবজজ কোয়ার্টার। আরও তিনটা বাসা ছিল মুনসেফ সাহেবদের জন্য। আমাদের বাসার সামনে ছিল খোলা বড় মাঠ। গেটটা বন্ধ রাখা ও খোলার দায়িত্ব ছিল একজন চাপরাশির। একজন নাইট গার্ডও থাকতো রাতের বেলা। আর আমার আব্বার সঙ্গে অফিসে যাতায়াত করতো একজন চাপরাশি। কোর্ট কাছেই ছিল বলে আব্বা হেঁটে যাতায়াত করতেন। বাড়িতে কাজের লোকজনও ছিল। তখনও হ্যারিকেন বাতিই ছিল ভরসা। ভেতরে বিশাল উঠোন। একদিকে রান্নাঘর, অন্যদিকে সেই আমলের কাঁচা পায়খানা। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

হানা ক্যাথেরিন ম্যুলেন্স-এর ফুলমণি ও করুণার বিবরণ

| ১১ মার্চ ২০১১ ১১:৫৭ অপরাহ্ন

life_by_the_ganges.jpg

ফুলমণি ও করুণার বিবরণ

প্রথম প্রকাশ: ১৮৫২

হানা ক্যাথেরিন ম্যুলেন্স

(জন্ম: ১৮২৬……..মৃত্যু: ১৮৬১)

ফুলমণি ও করুণার বিবরণ প্রকাশিত হয় কোলকাতা থেকে ১৮৫২ সালে। এটি বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস। কাঞ্চন বসু সম্পাদিত ‘রিফ্লেক্ট পাবলিকেশন।।কলিকাতা’ থেকে প্রকাশিত দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য সংগ্রহ প্রথম খণ্ড (পঞ্চম মুদ্রণ।। ২জানুয়ারি ১৯৯৫)-এর ভূমিকায় লেখা হয়েছে হানা ক্যাথরিন ম্যুলেন্স-এর মৃত্যুর আগেই উপন্যাসটি বারোটি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল; যদিও এখানে লেখকের মৃত্যুর সাল লেখা হয়েছে ১৮৬৯। কিন্তু অন্যান্য উৎস অনুসারে লেখকের মৃত্যুর সাল ১৮৬১। আমেরিকার মিসিগান ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে বইটির ইংরেজি সংস্করণ আছে যেটির গুগোল (google.com)-এর ডিজিটাল সংস্করণ অনলাইনে পাওয়া যায়। সেখানে মূল ইংরেজি বইটির প্রকাশ সাল দেখা যায় ১৮৬৫ এবং লেখকের নামের আগে মৃত (Late) যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাঞ্চন বসুর বক্তব্য ভুল তথ্য ভিত্তিক।
(সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com