অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১১

প্রতিদিনের নতুন বই

| ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ১১:১০ অপরাহ্ন

boimela2011_1.jpg
ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে বইমেলা। ছবি. মুস্তাফিজ মামুন

[আর্টস-এর পাতায় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১১’-এ বের হওয়া বইপত্রের তালিকা নিয়মিত প্রকাশিত হবে। তালিকাটি সরবরাহ করছে বাংলা একাডেমীর ‘সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ’। উল্লেখ্য ১ ফেব্রুয়ারির কোনো তালিকা পাওয়া যায় নি। ‘গ্রন্থমেলা ২০১১-এ প্রকাশিত বই’ বলতে গত বইমেলার পরে প্রকাশিত সব বই বোঝানো হয়েছে। – বি. স.]

দৈনিক প্রকাশিত বইয়ের তালিকা

(সম্পূর্ণ…)

ভাষা আন্দোলনের সময় নিয়ে রফিকুল ইসলামের সাক্ষাৎকার

শেষ কিস্তি

বেবী মওদুদ | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ৪:২২ অপরাহ্ন

image_84_33606.jpg
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২: ১৪৪ ধারার মধ্যে মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে জমায়েত ছবি: রফিকুল ইসলাম

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: বেবী মওদুদ

প্রথম কিস্তির পরে

বেবী মওদুদ: মানে এইভাবে যে গুলি চালিয়ে ছাত্রদের হত্যা করবে এটা তো ভাবার বিষয় ছিল না।

রফিকুল ইসলাম: এটা কল্পনার অতীত ছিল এবং কোন রকম সতর্কীকরণ না, কিছু না। গুলিটা করছিল ওরা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের যে  মোড়টা, ওখান থেকে। তার কারণ হচ্ছে যে অপরাহ্ণে বাজেট অধিবেশন বসার কথা জগন্নাথ হল মিলনায়তনে। তখন ঐ যে এমএলএ-রা একজন একজন করে যাচ্ছিলেন ওদের ধরে নিয়ে এসে আমরা মেডিকেল কলেজের ভেতরে গুলিতে-লাঠিতে-টিয়ার গ্যাসে শত শত ছাত্র জনতা আহত এবং লাশ হয়ে পড়ে রয়েছে,  এগুলো আমরা ওদের দেখাচ্ছিলাম। ওরা আবার ওখানে গিয়ে মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ, মনোরঞ্জন ধর, খয়রাত হোসেন, আনোয়ারা খাতুন ওদের গিয়ে বললেন। নুরুল আমীন কিন্তু প্রথমে ছিল না ওখানে। পরে সে যখন আসে অ্যাসেম্বলীতে, সে কিন্তু স্বীকার করে নাই যে গুলি চলেছে। অদ্ভুত ব্যাপার—­­­জগন্নাথ হল থেকে কিন্তু দেখা যায় যেখানে গুলি চলেছে এবং ওরা বলেছে, আপনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলুন, গিয়ে দেখুন ওখানে কি দৃশ্য-মানে এখানে একটা রণাঙ্গণ। কিন্তু নুরুল আমীন যেতে রাজি হয় নাই।

এইভাবে ২১ শে ফেব্রুয়ারি গেল। পরদিন ২২শে ফেব্রুয়ারি এলো। তবে ২১শে ফেব্রুয়ারি রাত্রেই সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে মাইক্রোফোন লাগিয়ে বক্তৃতা ও কর্মসূচী দিতে লাগলো জনতার উদ্দেশ্যে। মজাটা হচ্ছে, গুলি চলার পর পরই আমাদের নেতা যারা ছিল তারা আত্মগোপন করলেন। তখন ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বটা গ্রহণ করলো সলিমুল্লাহ হলের অ্যাথলেটিক ক্লাবের সব খেলোয়াড়রা। অ্যাথলেটিক ক্লাবের যে সেক্রেটারি ছিল তার নাম আসাদুল আমিন আসাদ। তিনি খুব ভালো ছাত্র ছিলেন। ফিজিক্স অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস এমএসসি’র ছাত্র ছিলেন এবং টেনিস ব্লু পেয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে ঐ মুসলিম হল থেকে অ্যাথলেটিক ক্লাবে যারা সদস্য ছিল, তারা নেতৃত্ব দিল। ওদিকে ওরা আর এদিকে মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা। অর্থাৎ এই ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বটা প্রথম থেকেই ছাত্র সমাজের কাছে ছিল।
(সম্পূর্ণ…)

শীতের সাতকাহন

লাউয়াছড়ার কাছেই

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ১:৪৮ অপরাহ্ন

চতুর্থ কাহন: লাউয়াছড়ার কাছেই

dsc05981.jpg
ব্রাহ্মণবাজারের চা-বাগান

সকালে যখন ভ্যালেরির সঙ্গে বসে সিআরপি-র ব্রাহ্মণবাজার অতিথিশালার সামনে রোদে পিঠ দিয়ে বসে চা খাচ্ছিলাম, তখন ভাবিনি আজকের রাতও এই টি-ডিস্ট্রিক্টেই কাটাব। ঢাকা ফিরতেই চেয়েছিলাম, কিন্তু ছোটশালার সঙ্গে দেখা করতে কমলগঞ্জে এসেই যে ফেঁসে গেলাম। মারুফ তার বড়পা ও ভাগ্নির সম্মুখে স্থানীয় নানা আকর্ষণের গপ্পো বাখান করে একটা দিন আর রাত কমলগঞ্জে থেকে যেতে অনুরোধ জানাল। নানাবিধ মানবিক বিবেচনায় আমি খানিকটা দ্রব অবস্থায় প্রস্তাব দিলাম, ওকে, তোমরা বলে যাও, লোকাল আকর্ষণগুলির সঙ্গে পরিচিত হই আর ফাঁকে ফাঁকে এখানে রাত কাটাবার ভেন্যুগুলি দেখি। ভাল লাগলে থেকে যাব। আগের দু’রাত আমরা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস আর সিআরপি-র গেস্টহাউসে কাটিয়েছি। দু’টো দু’ধরনের পরিবেশ—ভালোই লেগেছে। আসলে বেড়াতে বেরিয়ে আমরা—রুবি, রুবাই ও আমি প্রায় সবকিছুই উপভোগ করে যাই শেষতক্। দৈনন্দিন ঢাকাইয়া একঘেঁয়েমির তুলনায় সবই ভাল লাগে। ঢাকা থেকে আগত আমাদের এবারের সফরসঙ্গী বাবলুরও কোন আপত্তি নেই তেমন কোন কিছুতে।
(সম্পূর্ণ…)

ভাষা আন্দোলনের সময় নিয়ে রফিকুল ইসলামের সাক্ষাৎকার

বেবী মওদুদ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ২:০৯ অপরাহ্ন

[শিক্ষাবিদ ভাষাসৈনিক ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ১৯৫২ সালে কাছ থেকে ভাষা আন্দোলন দেখেছেন। ভাষা আন্দোলনের ছবি তুলেছেন প্রচুর। এই সাক্ষাৎকারে তিনি সে সময়কার কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি দুটি পর্বে শেষ হবে। সাক্ষাৎকারের সঙ্গে পরে ভিডিও লিংক যোগ করা হবে।– বি. স.]


ছবি. মুস্তাফিজ মামুন ২০১০

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: বেবী মওদুদ

বেবী মওদুদ: স্যার কেমন আছেন?

রফিকুল ইসলাম: ভালো।

বেবী মওদুদ: আপনার তো দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা। ভাষা আন্দোলন দেখেছেন, গণ আন্দোলন দেখেছেন, তার পরে ছয়দফা আন্দোলন। আপনি তো মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ঢাকায় ছিলেন এবং বোধহয় আপনাকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জেলেও নিয়ে গেছে।

রফিকুল ইসলাম: হুমম, বন্দি ছিলাম।

বেবী মওদুদ: বন্দি ছিলেন। তো স্যার, আপনার কাছে আমরা আজ ভাষা আন্দোলনের কথা শুনবো যে আপনি ওই সময় কী দেখেছেন?

রফিকুল ইসলাম: আমি ১৯৪৩ সাল থেকে রমনায় ছিলাম। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই ছিলাম বলা যেতে পারে। সুতরাং তখন থেকে শুরু করে বিশ শতকের শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার জীবন কেটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এর মধ্যে যা ঘটেছে প্রায় সবই দেখেছি। ভাষা আন্দোলনের ব্যাপারটা হলো ’৪৮ সালে যখন ভাষা আন্দোলন শুরু হয় তখন সে আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল ফজলুল হক হল। তো ’৪৮ সালের ১১ই মার্চ তোমার রাষ্ট্রভাষা দিবস পালিত হলো, সেটা আমি দেখেছি। এই রাষ্ট্রভাষা দিবসের একটু পটভূমিকা বলা দরকার। ’৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট পাকিস্তান হলো। ’৪৮সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসের শেষ দিকে করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে প্রধান মন্ত্রী লিয়াকত আলী খান একটা প্রস্তাব আনলেন যে পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি এবং উর্দু ভাষা ব্যবহার করা যাবে। তখন কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত তিনি প্রস্তাব আনলেন যে এর সঙ্গে বাংলাও যুক্ত করা হোক। কিন্তু এই বাংলার প্রস্তাবটা প্রত্যাখ্যাত হলো। (সম্পূর্ণ…)

তুমি কি কেবলি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’?

বিশ্বজিৎ ঘোষ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

poster-2011.jpg
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১১-এর ইউনেস্কো প্রচারিত পোস্টার; গ্রাফিক ডিজাইন: Stephanie Pilar ও Marine Leopold.

১৯৫২ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ২১শে ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে। গৌরবদীপ্ত এ ঘটনার আটচল্লিশ বছর পর ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর তারিখে আমাদের ২১শে ফেব্রুয়ারি অভিষিক্ত হয় নতুন মর্যাদায়। এই দিনে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে আমাদের ভাষা আন্দোলনকে পৃথিবীর মানুষের গৌরবিত উত্তরাধিকারে রূপান্তরিত করেছে। ১লা মে যেমন আন্তর্জাতিক মে দিবস, যা পালিত হয় পৃথিবীর সব দেশে, ২০০০ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি তেমনি পালিত হচ্ছে, সমস্ত পৃথিবী জুড়ে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বহুমাত্রিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একথা অবশ্য স্বীকার্য যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর বাঙালি জাতির জীবনে এমন গৌরবোজ্জ্বল অর্জন আর ঘটেনি। ভাষা আন্দোলনের শহীদ রফিক-সালাম-বরকতরা এখন বিশ্ব মানুষের গৌরবিত অহঙ্কার। পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন জাতিসত্তার মাতৃভাষা নিয়ে নতুন সম্ভাবনার উৎস হয়ে উঠতে পারে এই দিবসটি–এমনি প্রত্যাশা ছিল আমাদের।

প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবের কখনো মিল থাকে, কখনো দেখা দেয় বৃহৎ ফারাক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও কি শুভঙ্করের ফাঁকি হয়ে হাজির হলো আমাদের জীবনে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনে? এ সূত্রেই বায়ান্নর সঙ্গে নিরানব্বইয়ের একটা গোপন মিল খুঁজে পাই আমি। ১৯৮৭ থেকে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন নামে আরম্ভ হলেও ক্রমে আন্দোলনটি ভাষা আন্দোলন হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায়। সন্দেহ নেই, এই রূপান্তর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের চারিত্র, লক্ষ্য ও তাৎপর্যকে বহুলাংশে খর্ব করেছে। রাষ্ট্রভাষা বললে যে ব্যাপকতা আসে, রাষ্ট্রীয় চাকরি-প্রশাসন-আইন-আদালতে বাংলাভাষার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, ভাষা আন্দোলন বললে তা কিছুতেই হয় না। ঔপনিবেশিক আমলের এই চেনাপথেই চলেছে পঁচাত্তর-উত্তর বাংলাদেশের ভাষা বিষয়ক যাবতীয় কর্মকাণ্ড। (সম্পূর্ণ…)

দশটি কবিতা

কামরুল হাসান | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ১১:২০ অপরাহ্ন

ঈশ্বরগৃহ যাত্রা

প্রকৃত নোংরা এই সিঁড়ি, ঈশ্বরের কাছে আমি কীভাবে পৌঁছাই?
তিনি থাকেন উপরতলায়, এতটা উপরে যে সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে
ক্রমাগত সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে ঊর্ধ্বাকাশে চেয়ে দেখি
শূন্যোদ্যানের উপরে বাতাস
আরো ঝুলন্ত, আরো শূন্য, অমানিশা গিরিশৃঙ্গ যত উঠে পড়ি
ঈশ্বর ততই উপরে, উপরন্তু নোংরা রয়েছে সিঁড়ি;
যাবতীয় ভাষণের পাণ্ডুলিপি খসে খসে পড়ে
যাবতীয় মন্ত্রশ্লোক, ষড়যন্ত্রধ্বনি
যতই বাতাসে ভাসে যতই আকাশের দিকে উঠে যায় সিঁড়ি
ততই দূরত্ব বাড়ে, একে আমি কীভাবে ভ্রমণ বলি
বলি ঈশ্বরগৃহযাত্রা?
অন্ধ সমুদ্র সেঁচে আমি কোন ঈশ্বরের প্রাণভোমরাকে পাব?
রচিত গ্রন্থের পৃষ্ঠা পৃষ্ঠাময় অঙ্কিত বনভূমি গিরিশৃঙ্গদল
কেবলি নোয়ায় শির, অত্যুজ্জ্বল ঐক্য ধরে রাখে,
তাদের কপাট খুলে নিরাকার নিভূমে নেমেছে।
এখানে পাতাল সিঁড়ি অন্তহীন পত্রঢাকা পথ…
(সম্পূর্ণ…)

বারটি কবিতা

তোমার কথাগুলি আমি অনুবাদ করে দিতে চাই

ইমরুল হাসান | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ১১:০০ অপরাহ্ন

ক্রসফায়ার

ভুল করে কেউ গুলি করে দিলো আমারে।
আমার শাদা শার্ট তো রক্তে ভিজে লাল
একটা গর্ত থেকে একটু একটু বের হয়ে যাচ্ছে
লাল আর লাল

একটা ধাক্কার পর সবকিছু আবার নরমাল

কে যে গুলি করলো আমারে?
হয়তো ভুল করেই

আর আমি ফেলে আসছি আমার লাশ
মেডিকেলের মর্গে;
শরীরের অপমান সহ্য করতে করতে হয়রান
ডাক্তার-বন্ধুরা;
ওই একই গর্তে ডুবে পড়বে আবার।

আমার আর কে আছে?
স্ত্রী-কন্যা-পরিবার
ওরা তো জানতেই পারবে না যে,
কেন এই ভুলটাই ঘটলো?
কেন-ই বা আমি-ই একমাত্র?
এই ঘটনা কেন বেছে নিলো আমারেই?

চিন্তা করতে করতে
কল্পনা করতে করতে
প্রবাবিলিটি খুঁজতে খুঁজতে
একটা সময় ওরা হারায়ে ফেলবে, আমারে!

কেন যে একটা গুলি
একটাই ভুল খুঁজে নিলো আর আমি
আমার হাত, আঙুলগুলি অসাড়…

লাল রং জমে গিয়ে আরো জমাট, আরো গাঢ়…

একটাই তো গুলি ছিলো সেইটা
আর কতোটাই না আকস্মাৎ
যেন একটা রাস্তা পার হওয়ার মতো
হঠাৎ-ই পিছনে তাকিয়ে দেখা
দৃশ্যগুলি মুছে যাচ্ছে
দুপুরবেলা সূর্যাস্তের মতো…
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মেহেরজান বিতর্ক (কিস্তি ১)

| ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ২:১৬ পূর্বাহ্ন

rubaiyat-hossain-writer-dir.jpg
মেহেরজান সিনেমার পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন

নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন-এর ‘মেহেরজান’ সিনেমার প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয় ১৯ জানুয়ারি ২০১১। স্টার সিনেপ্লেক্সের দুটি হলে প্রিমিয়ার শো দেখানো হয়। ২১ জানুয়ারি থেকে সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়া হয় মেহেরজান। মুক্তির সপ্তাহ খানেকের মাথায় ‘মেহেরজান’-এর পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘আশীর্বাদ চলচ্চিত্র’ সিনেমাটি হল থেকে উঠিয়ে নেয়।

মুক্তির এক সপ্তাহের মাথায় হল থেকে কোন একটি সিনেমা নামিয়ে দেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। সেটা হল কর্তৃপক্ষ নামায়। কিন্তু ‘মেহেরজান’-এর ক্ষেত্রে হল কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তির মেয়াদ থাকা অবস্থায় এবং হল কর্তৃপক্ষের আগ্রহ থাকলেও পরিবেশক পক্ষ থেকে সিনেমাটি তুলে নেওয়া হয়। এটি বাংলাদেশের সিনেমা জগতে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

poster-meherjaan.jpg
‘মেহেরজান’ সিনেমার পোস্টার

‘মেহেরজান’ সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত হয়। কিন্তু মুক্তির পরে পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়েবসাইট, বাংলা ব্লগ ও ফেসবুকে ছবিটি ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের একাংশ আপত্তি জানিয়ে মানব বন্ধন করেন এবং পত্রিকা মারফতে প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন। সমালোচনার জবাবে ছবিটির নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন পত্রিকার মাধ্যমে ছবিটির উদ্দেশ্য ও বিশ্লেষণ হাজির করেন। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ঠাকুরমার ঝুলি

| ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ৬:১২ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরমার ঝুলি

প্রথম প্রকাশ: ১৯০৭

drmm.jpg

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

জন্ম: ১৫ এপ্রিল ১৮৭৭ (২ বৈশাখ ১২৮৪)
মৃত্যু: ৩০ মার্চ ১৯৫৬ (১৬ চৈত্র ১৩৬৩ )

১৯০৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে দক্ষিণারঞ্জনের লেখা ও সংগৃহীত রূপকথা কলকাতার কিছু পত্রিকায় ছাপা হয়। ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র পাণ্ডুলিপির প্রকাশক না পেয়ে নিজের অর্থেই প্রকাশে উদ্যোগী হন দক্ষিণারঞ্জন। এ সময় দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে যোগাযোগ ঘটে তাঁর। পরে দীনেশচন্দ্র সেনের উদ্যোগেই সেকালের বিখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ভট্টাচার্য অ্যান্ড সন্স থেকে ১৯০৭ সালে গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয় ‘ঠাকুরমার ঝুলি’।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার উলাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতার নাম কুসুমময়ী ও পিতার নাম রমদারঞ্জন মিত্র মজুমদার। ১৮৮৭ সালে দশ বছর বয়সে তাঁকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেওয়া হয় ঢাকার কিশোরীমোহন হাইস্কুলে। পরে ১৮৯৩ সালে, কিশোরীমোহন হাইস্কুল থেকে দক্ষিণারঞ্জণকে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হয়। এ দুটি স্কুলে থাকার সময় পড়ালেখায় ভালো করতে না পারায় তাঁর পিতা টাঙ্গাইলে বাসরত বোন (দক্ষিণারঞ্জনের পিসী) রাজলক্ষ্মী চৌধুরানীর কাছে রেখে টাঙ্গাইলের সন্তোষ জাহ্নবী হাইস্কুলে ভর্তি করে দেন। এই স্কুলের বোর্ডিং-এ থেকে তিনি দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। কিন্তু পিতার হঠাৎ সিদ্ধান্তে টাঙ্গাইল ছেড়ে ১৮৯৭ সালে বহরমপুর হাইস্কুলে তাকে দশম শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়। এই স্কুল থেকেই ১৮৯৮ সালে প্রথম বিভাগে তিনি এনট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এন্ট্রান্স পাসের পর দক্ষিণারঞ্জনকে বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজে এফ এ ক্লাসে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু তিনি পড়ালেখা শেষ করেননি।
(সম্পূর্ণ…)

শীতের সাতকাহন

গারো পাহাড়ের পাদদেশে

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ২:১১ পূর্বাহ্ন

(প্রথম কাহন)

তৃতীয় কাহন: গারো পাহাড়ের পাদদেশে

birishiri1.jpg
বিরিশিরি

প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক গবেষণার কাজে যেতে হবে নেত্রকোনা জেলার উত্তরাঞ্চলে সোমেশ্বরী পেরিয়ে গারো পাহাড়ের পাদভূমিতে। বিরিশিরিতে রাত্রিবাস। সহকারী গবেষক মনির আর রাকিব সফরের লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা দেখছে। মনির জানাল, বড় সড় ১৪ আসনের ভ্যান ভাড়া করা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য যাত্রীদের স্থান সঙ্কুলান হয় স্বচ্ছন্দে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ। ঢাকাতেই বেশ শীত পড়ছে। অভ্যাসমতো সকালে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে কাঁপুনি ধরে গেল। গরম পোশাক চাপিয়ে দপ্তরে পৌঁছে রাকিবকে বল্লাম, যাচ্ছি তো কাল গারো পাহাড়ের শীত গায়ে মাখতে–তা’ আমাদের সহযাত্রীদের সব বিষয়ে অ্যালার্ট করা হয়েছে তো? নিশাত ভাই কি যাচ্ছেন? না, স্যর যাবেন না, রাকিব জানায়। সুভাশিষকে সঙ্গে নিয়ে একটা পেপার তৈরির কাজ সারবেন এই ফাঁকে। (সম্পূর্ণ…)

আমার প্রথম বই এবং রয়্যালটি বিষয়ক কিছু স্মৃতি, কিছু কথা

সেজান মাহমুদ | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ২:৫৩ পূর্বাহ্ন

ইদানিং ফেসবুকে বা বাংলাদেশে একেবারে বাংলা একাডেমীর মধ্যিখানে লেখকদের রয়্যালটি বিষয়ক আলোচনা চলছে। এটা খুবই ভালো লক্ষণ। এই বিষয়ে আমার অবস্থান খুব পাক্কা; প্রকাশকেরা ছবি আঁকার টাকা দেবে, কম্পোজ, প্রিন্ট, বাঁধাই, কাটাই সব কিছুর জন্য টাকা দেবে কিন্তু লেখকদের দিতে চাইবে না। এটা মানা যায় না। অন্যদিকে পুস্তক প্রকাশনার যে বাস্তবতা তাও অস্বীকার করার উপায় নেই। আমি অনেক আগে একটি ভিন্ন কলামে আমার প্রথম বই ছাপা নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম এখানে অংশবিশেষ দিয়ে শুরু করছি:

sm2011.jpg
সেজান মাহমুদ

‘…ঢাকায় এলাম ইন্টারমিডিয়েট পড়ার জন্য। অনেকটা জীবিকার জন্যই গান লিখি, বেনামে পত্রিকায় ফিচার আর জিঙ্গল লিখি। জিঙ্গল হলো বিজ্ঞাপনের গান। নগদ টাকা, তাছাড়া পরিশ্রমও কম। পাশাপাশি উন্মাদ পত্রিকায় মাঝে মাঝে খবর থেকে ছড়া লিখি। এই বিভাগে প্রকাশিত খবর নিয়ে আমার ব্যঙ্গাত্মক ছড়ার সঙ্গে কার্টুন আঁকেন কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব। আহসান হাবীব বন্ধুত্ব্বের সূত্র ধরে একদিন বললেন যে, প্রকাশনা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে চান তিনি। আমাকে পাণ্ডুলিপি দিতে বললেন। তারপর নিজেই তার স্বভাবসুলভ রসিকতায় বললেন,

‘আপনার বই ছাপলে তো দেউলিয়া হতে হবে, তার চেয়ে এক কাজ করুন কয়েকজন বিখ্যাত লোকের গল্প নিয়ে একটা সংকলন বের করুন। সেটা দিয়ে ব্যবসা হবে। সেই সঙ্গে আপনার একটা মৌলিক বইও ছাপবো। এই বইয়ের লোকসান পুষিয়ে নেয়া যাবে অন্য বইটি দিয়ে।’
(সম্পূর্ণ…)

দ্য শো মাস্ট গো অন

মাসুদ খান | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ২:০২ অপরাহ্ন

বিষয়ীরা মত্ত হয়ে আছে কামিনী-কাঞ্চনে। বাইরে টালির ঘরের ওপর দিয়ে ধীর গতিতে হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছে এক বিশাল বুদ্বুদ। ভাঙা ছাদে বসে তাকে ধরবার চেষ্টা করছে একটি বানর। বানরের চোখে রঙিন সানগ্লাস, মাথায় রঙিন ক্যাপ। মাটির দেওয়ালে ঝুলছে বিড়াল-হারানোর বিজ্ঞপ্তি–ভেজা বিড়াল। হারিয়ে গেছে। মোল্লাবাড়ির বিড়াল–দু-চার হরফ আরবিও জানত। মাটির দাওয়ায় বসে ছোটভাইকে নজরফোঁটা লাগিয়ে দিচ্ছে একটি মেয়ে। মেয়েটির নাম সম্ভবত হৈমবালা, তবে আয়শাও হতে পারে। রোদেলা আকাশ, তার মধ্যেই ফের বৃষ্টি ঝরছে। বাচ্চারা ছড়া কাটছে–রোদ হচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে, খেঁকশিয়ালের বিয়ে হচ্ছে। বড়রাও যোগ দিয়েছে তাতে। রোদ বাড়ছে, তাই রোদের চশমাও বাড়ছে–এটা না-হয় বোঝা গেল; কিন্তু টুপিও বাড়ছে, শুঁড়িখানাও বাড়ছে–এটা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। মাথা ঘামাচ্ছেন, কিন্তু কূলকিনারা হচ্ছে না। এদিকে আনারস পচে যাচ্ছে অতিবর্ষণে। দুর্নীতি কিংবা দেশপ্রেম–কোনোটাই কারো একচেটিয়া নয় বলে ফতোয়া দিচ্ছেন কেউ কেউ। কী এক অচেনা আকর্ষণে পর্বতের দিকে ধেয়ে চলেছে মেঘেরা, আর শেরপারা। মেঘেরা আকাশ দিয়ে, শেরপারা নিচের এবড়োথেবড়ো জমিন দিয়ে। পেছন-পেছন ছুটে আসছে তাদের বউবাচ্চারা। যেতে দিতে চাইছে না তারা। কিন্তু কে শোনে কার কথা! রাজার প্রিয় কবুতরটির ভীষণ অসুখ। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com