ছবিমেলায় ওপেন এয়ার এক্সিবিশন

মুনেম ওয়াসিফের ফটোগ্রাফি বাংলাদেশের ‘টেকসই উন্নয়ন’কে এগিয়ে দেবে

এস এম রেজাউল করিম | ৩১ জানুয়ারি ২০১১ ৩:০২ পূর্বাহ্ন

img_0514.jpg
‘নোনা পানির আহাজারি’ বা ‘Salt Water Tears’ প্রদর্শনীতে সাতক্ষীরার মানুষ

ষষ্ঠ ছবিমেলায় মুনেম ওয়াসিফের ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী ‘নোনা পানির আহাজারি’ বা ‘Salt Water tears’ চলবে ০৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শুরু হয়েছিল ২৩ জানুয়ারি। ঢাকার দৃক-এ ‘মুক্ত হাওয়া প্রদর্শনী (Open Air Exhibition)’ চলছে। প্রদর্শনীর মুখবন্ধ হিসেবে বাংলা টেক্সট লিখেছেন পাভেল পার্থ। সেটি ইংরেজি অনুবাদ করেছেন নাঈম মোহাইমেন। সাতক্ষীরা জেলায় মুনেম ওয়াসিফের ফটোগ্রাফি কর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনী। চিংড়ী চাষের কারণে সাতক্ষীরা জেলার পানি লবণাক্ত হয়ে পড়া এবং খাবার পানির সংকট সম্পর্কে আমাদের সুলভ বোধগম্যতা দেয় এই প্রদর্শনী। পানির লবণাক্ততার কারণে এই জেলার মানুষের শরীর ও জীবন কতটা ঝুঁকির মধ্যে নিপতিত তা দেখে দর্শকের হৃদয় আর্দ্র হয়ে ওঠে। সাতক্ষীরার মানুষের জীবনসত্য আমাদের অন্তরে গেঁথে দেয় এই ছবিগুলো। ডকুমেন্টারির দায়িত্ব হিসেবে বিশ্বাস উৎপাদন করতে পেরেছে এই ছবিগুলি। এই বিশ্বাসের গাঁথুনি শক্তিশালী; সাতক্ষীরার মানুষের সুখী হাসি আমাদের আর বিশ্বাস হবে না, অথবা আমাদের সন্দেহ হতে থাকবে সেই হাসিকে।
(সম্পূর্ণ…)

পাকিস্তান

মশিউল আলম | ৩০ জানুয়ারি ২০১১ ২:১২ পূর্বাহ্ন

mashiul_1.jpg
অলঙ্করণ: রনি আহম্মেদ

১. করাচি ১৯৮৭
আয়েরোফ্লতের যে-উড়োজাহাজটি আমাদের নিয়ে মস্কো যাচ্ছিল, সেটি প্রথমে নামে দিল্লি বিমানবন্দরে। আমরা উড়োজাহাজ থেকে বেরিয়ে আসি, ট্রানজিট লাউঞ্জে ঘুরে বেরিয়ে, চা-কফি খেয়ে কাটিয়ে দিই এক ঘণ্টা। তারপর উড়াল দিয়ে ঘণ্টাখানেক পর আবার সেটি নামল করাচি বিমানবন্দরে। কিন্তু এবার আর আমাদের নামার অনুমতি নেই। উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করল: যাত্রীদের নিজ নিজ আসনেই বসে থাকতে হবে, উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সারার পর আবার উড্ডয়ন হবে এক ঘণ্টা পর।

আমার আসন জানালার কাছে। বাইরে তাকিয়ে দেখি আমাদের বিমানটি ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজন সৈন্য। তাদের হাতে মেশিনগান, তারা অস্ত্রগুলো তাক করে আছে আমাদের দিকে।

নিজের অজান্তেই বিড় বিড় করে বললাম: হানাদারের বাচ্চারা!

তখনও আফগানিস্তানে সোভিয়েত সৈন্যদের ‘আগ্রাসন’ শেষ হয়নি। সুতরাং আয়েরোফ্লতের উড়োজাহাজের দিকে মেশিনগান তাক করে প্রস্তুত থাকাই পাকিস্তানিদের পক্ষে সমীচীন। পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি তো ঠুকেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর সোভিয়েত বিমানটি এসেছিল ঢাকা থেকে, প্রধানত বাঙালিদের নিয়ে।

আগে কখনো পাকিস্তানি সৈন্য স্বচক্ষে দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়নি। ১৯৮৭ সালের ১৭ আগস্ট করাচি বিমানবন্দরে মেশিনগানধারী সৈন্যদের দিকে চেয়ে কেবলই হানাদারের বাচ্চা বলে বিড়বিড় করেছিলাম।

একটু পর দেখি আমাদের সহযাত্রী বগুড়ার এক ছেলে মুচকি হাসতে হাসতে টয়লেটের দিক থেকে আসছে; টিসু পেপার দিয়ে হাত মুছতে মুছতে সে বলে, ‘হাগ্যা দিয়া আসলাম শালা পাঞ্জাবিগের মাথাৎ। যাও যাও, হাগামুতা কর‌্যা আসো। পাকিস্তানের উপর দিয়ে যাচ্চি, এই সুযোগ কি আর কোনোদিন পাওয়া যাবি!’ (সম্পূর্ণ…)

বারগির, রেশম ও রসুন বোনার গল্প

অদিতি ফাল্গুনী | ৩০ জানুয়ারি ২০১১ ১:৫৭ পূর্বাহ্ন

audity_2.jpg
অলঙ্করণ: রনি আহম্মেদ

‘কি আর বলি ফৌজদার হুজুর! বীরভূমে, ভাগিরথীর পশ্চিম কিনারে, এই অধমের একখানা আদং  ছিল। বীরভূম, মালদা, বর্দ্ধমান আর রাজশাহীর যত রেশম চাষীদের বানানো রেশমি শাড়ি আর ধূতি এই অধমের আদংয়ে চালান হয়ে এসেছে বৈকি। বীরভূম থেকে রাজশাহী তো বেশি দূর নয়। রাজশাহী আর রংপুরেও চাষা বেটিরা এণ্ডির গুটি কাটে বেশ। এণ্ডির রেশমপোকা পালতে আর পরে গুটি থেকে সূতা কাটা চাষা মাগিদের যেন ছেলেকে মাই দেওয়ার মতো সহজ কাজ!  কিন্তু এই বারগিররাও এলো আর গ্রামকে গ্রাম সব মানুষ শুন্য হয়ে যাচ্ছে। আমার এত বড় আদংটা ফাঁকা হয়ে গেল? হরি হরি! না আসে রেশম চাষী, না আসে এণ্ডি কাপড় হাতে তাঁতী বেটিরা…মাইলের পর মাইল হাট নেই, বাজার নেই, খরিদ্দার নেই, তাঁতীও নেই, চাষাও নেই…সব যে উচ্ছন্নে গেল! বলি, নবাব আমাদের করছেটা কি? মা ভৈরবী কি তার কৃপা দৃষ্টি নবাবের মস্তক থেকে সরিয়ে নিয়েছেন?’

শ্রী জনার্দন দত্তের কপালে সকালের পূজার চন্দন তিলক এখনো মোছে নি। বরং শুকিয়ে চড়চড় করছে। চৈত্রের সকালে হাওয়া এই তেতে উঠছে তো আবার পর মুহূর্তেই ঈষৎ শীতল। সেই বিচিত্রগামী বাতাসে ধূতির উপর একটি রেশমের শালও উড়ছে জনার্দনের শরীরে।

‘ইয়ে…মানে বারগির বলতে কাদের কথা বলছেন? কিসিকো বাত শোচ মে আপ?’ গলা সামান্য কেশে প্রশ্ন করেন জনার্দনের সামনে বসা শ্রোতা মোহাম্মদ রেজা। তিনি হুগলি জেলার ফৌজদার। আসলে লাখনৌয়ের শিয়া মুসলমান হলেও ত্রিশ বছরের উপর হয় বাংলায় আছেন। প্রবল মদ্যপায়ী হিসেবে সুনাম বা দুর্নাম যাই থাকুক, মানুষ মন্দ নন। জনার্দন দত্ত মুর্শিদাবাদের অভিজাত শ্রেণীর একজন। ঠিক জগৎ শেঠের মাপের বড়লোক না হলেও বিত্তবান তো বটেই। আবার যৌবনে সেনাবাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতাও আছে। বীরভূমে তাঁর রেশমের আদংয়ে খোদ আসাম থেকেও রেশম চাষী আর কারিগররা আসে। বীরভূম তাঁর দেশের বাড়ি ও ব্যবসার কেন্দ্র হলেও মুর্শিদাবাদেও রেশমি বস্ত্র বিক্রির দোকান আছে তার। শোনা যায় খোদ নবাবের অন্দরমহলে জনার্দনের আদংয়ের রেশম বড় আদরের। জনার্দনের রেশম কুঠির কাপড় না এলে হারেমের খলিফারা বেগমদের কুর্তা সালোয়ারের জন্য কাপড় কাটার কাঁচি হতাশ হয়ে ছেড়ে দেন।

‘এই যাঃ আমরা বাঙালীরা তো আবার বারগিরদের বলি বর্গী! আমি মারহাট্টা দস্যুদের কথা বলছিলাম মহাশয়।’

‘তাজ্জব কে বাত। এ্যায়সা কভি নেহি শুনা। এমন তো আগে শুনি নি! বর্গীরা আবার বারগির হলো কবে? ’
(সম্পূর্ণ…)

চ্যারিটি শপ

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ৩০ জানুয়ারি ২০১১ ১:১২ পূর্বাহ্ন

shagufta_1.jpg
অলঙ্করণ: রনি আহম্মেদ

গ্রামে শৈশব কাটিয়েছে–এইরকম সব লোক আসলে কাঁচাবাজারে আসে ছল করে, গল্প করতে আসে তারা–সজিনার আঁটি আর নতুন ফুলকপির সাথে। দুধলি শাদা লাউ আর গাঢ়সবুজ চিচিঙ্গার গায়ে প্রগাঢ় হাত রেখে বলে–মিয়াবাই, আইজক্যা কেমুন?’ এইসব চকিত গ্রাম্য সবুজ তাদের সতীর্থ। সমান তীর্থ যাহাদের।

খোলাবাজার-প্রীতি তার নেই, ইশরারের ছিল–প্রবাসের আত্মীয়ের মতো করে সে তাকাত ওল কিংবা কচুর লতির দিকে, ছন্দুর হাত আকর্ষণ করে বলত–দ্যাখো, ট্যাপারিও পাওয়া যায়!”

কাঁচাবাজার ছাড়িয়ে ছন্দু হাঁটতে হাঁটতে পার হয়ে যায় লালমুখোদের কসাইখানা। ধড় ছাড়া শুয়োরের কাটা মুণ্ডু মরবার পরও যে কীরকম গোলাপি কুতকুতে হাসি ঝুলিয়ে রাখে–এটা বারবার দেখেও তার বিস্ময় কাটে না! কত কায়দা করে কাটা মাংস! ডুমোডুমো। ফালিফালি। কিমা। ঘাড়ের মাংস। সিনা। পাছা। ট্রাইপ। সসেজের টুসটুসে লাল ছড়া ঝুলছে!

ফিশ-অ্যান্ড-চিপস্‌ পার হওয়ার সময় একদমক তেলেভাজা আর ভিনেগারের গন্ধ এসে নাকে লাগে তার। মুদি দোকান-ভোজ্য তেল-পাউরুটি-মোমবাতি-চকোলেট-খেলনা-ডিপ ম্যাসাজ করতে চেয়ে রুমানিয়ান তরুণীর ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন-পর্ণোগ্রাফিক ম্যাগাজিন। চীনে খাবারের দোকান ‘রঙহুয়া সিটি’, লন্ডরেট্‌ এ ক্লান্ত অপেক্ষমাণ মানুষ। তুর্কি দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময় পোড়া ধনিয়া আর বাসি মাংসের ঘ্রাণ। আর্ট গ্যালারির তিনশো বছরের পুরনো দেয়ালে ফুল-ফল-পাতার মঞ্জরীর ভিতর থেকে উঁকি দিচ্ছে একটি করে পাথরের কাটা মুণ্ডু। ন্যাংটো মেয়েমানুষের-পাতালের দেবতার-যাজকের। রাস্তাটা ঘুরে গেলেই গলির মুখে নার্সারি। তার পরে চ্যারিটি শপ। (সম্পূর্ণ…)

ডেনিস ডাটনের বক্তৃতা

সৌন্দর্য ও ডারউইনের থিওরি

লুনা রুশদী | ২৯ জানুয়ারি ২০১১ ১:৫৩ পূর্বাহ্ন

dennis_dutton.jpg
…………
ডেনিস ডাটন (৯.২.১৯৪৪ – ২৮.১২.২০১০)
…………

[গত এক শতাব্দী ধরে শিল্প সমালোচকেরা বলে এসেছেন সামাজিক পরিবেশ শিল্পের রুচি গড়ে তোলে। ডাটন ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, শিল্প বিষয়ক রুচি, সেটা যে কোন শিল্প মাধ্যমই হোক না কেন, গঠিত হয়েছে বিবর্তনের মাধ্যমে, ডারউইনের থিওরি দিয়ে যার ব্যাখ্যা করা যায়। সৌন্দর্যের প্রতি আমাদের ভালোবাসা সহজাত। নান্দনিক অনেক ভালোলাগা সংস্কৃতি নির্ভর হয় না। যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে ডাটন দেখিয়েছেন ভাববাচক বা বিমূর্ত কোনো তত্ত্ব নয়, বরং বিবর্তন বিষয়ক উপলব্ধিই শিল্প সমালোচনার ভিত্তি। তাঁর মতে সৌন্দর্য, যে কোনো রকম আনন্দ ও দক্ষতা শিল্পমূল্যের অর্ন্তগত।—বি.স.]

অনুবাদ: লুনা রুশদী

আজ আমার প্রিয় একটা বিষয় নিয়ে কথা বলবো। নন্দনতত্ত্ব আমার পেশা। দার্শনিক, বৌদ্ধিক ও মনস্তাত্ত্বিক আঙ্গিক থেকে আমি সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতাকে বুঝতে চেষ্টা করি। এ বিষয়ে যুক্তিগতভাবে কী বলা যায়? বিষয়টা জটিল। তার একটা কারণ হলো এর পরিধি, ভেবে দেখেন, কত বিচিত্র কিছুকে আমরা সুন্দর বলি—একটা শিশুর মুখ, বার্লিওজের ‘হ্যারল্ড এন ইতালি’, উইজার্ড অফ ওজ-এর মতো সিনেমা, চেখভের নাটক, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য, হকুসাইয়ের আঁকা ‘মাউন্ট ফুজি’, ওর্য়াল্ড কাপ ফুটবলে একটা দারুণ গোল, ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’, জেন অস্টেনের উপন্যাস অথবা পর্দায় ফ্রেড এস্টেয়ারের নাচ। এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছে মানুষ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিল্প ও অন্যান্য মানবিক দক্ষতা। তালিকাভুক্ত সমস্ত কিছুর সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করা সহজ কাজ হবে না।

dd_4.jpg……
ডেনিস ডাটনের বই: দি আর্ট ইনস্টিংক্ট–বিউটি, প্লেজার অ্যান্ড হিউম্যান ইভ্যুলুশন
…….
তবে আমি, আমার জানা মতে আজ সৌন্দর্য বিষয়ক সবচেয়ে শক্তিশালী থিওরির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারি। এবং এ থিওরি কোন দার্শনিক বা পোস্টমডার্ন শিল্পের নামকরা কোন সমালোচকের কাছ থেকে আসেনি, এসেছে এক জাহাজীর কাছ থেকে, যিনি কেঁচো আর কবুতর পালতেন। এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনারা বুঝে গেছেন যে আমি চার্লস ডারউইনের কথা বলছি।

‘সৌন্দর্য’ কী? অনেকেই মনে করেন তাঁরা এই প্রশ্নের উত্তর জানেন। যেমন, ‘সৌন্দর্য থাকে যে দেখে তার দৃষ্টিতে’ অথবা ‘যা কিছুই আমাদের ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দেয়, তাই সুন্দর।’ অথবা কেউ কেউ, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবীরা বলে থাকেন ‘সৌন্দর্য থাকে যে দেখে তার সংস্কৃতি-নিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিতে।’ (সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন

| ২৮ জানুয়ারি ২০১১ ১২:০১ পূর্বাহ্ন

banolata-sen-p.jpg

‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো লেখা ১৩৩২ থেকে ১৩৪৬ বঙ্গাব্দের মাঝে এবং প্রথম প্রকাশিত হয় ইংরেজি ডিসেম্বর ১৯৪২, বাংলা ১৩৪৯ সালে; কবিতা-ভবন প্রকাশিত ‘এক পয়সায় একটি’ গ্রন্থমালার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে। প্রকাশক জীবনানন্দ দাশ নিজেই। কাগজের মলাটে ১৬ পৃষ্ঠার প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ করেছিলেন শম্ভু সাহা। এই সংস্করণে কবিতা ছিল মোট ১২ টি। এই কাব্যগ্রন্থে সংকলিত ‘বনলতা সেন’ শীর্ষক কবিতাটি ইংরেজি ১৯৪৪ সালে পূর্বাশা লিমিটেড থেকে সত্যপ্রসন্ন দত্ত প্রকাশিত ‘মহাপৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেন জীবনানন্দ দাশ। পরবর্তিতে, জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর দুই বছর আগে, ইংরেজি ১৯৫২ সালে [বাংলা শ্রাবণ ১৩৫৯] কলকাতার সিগনেট প্রেস থেকে বোর্ড বাঁধাইয়ে ৪৯ পৃষ্ঠায় বর্ধিত আকারে প্রকাশিত হয় ‘বনলতা সেন’। সিগনেট সংস্করণের প্রচ্ছদ করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। মূল্য দুই টাকা। কবির জীবিতকালে এটিই ‘বনলতা সেন’-এর সর্বশেষ সংস্করণ। প্রকাশক ছিলেন দিলীপকুমার গুপ্ত। এই সংস্করণে আগের সংস্করণ থেকে বেশি আরো ১৮টি কবিতাসহ মোট ৩০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়, এর মধ্যে ‘বনলতা সেন’ শীর্ষক কবিতাটিও আবার স্থান পায়।
(সম্পূর্ণ…)

সুচিত্রা মিত্র: কণ্ঠে যাঁর একলা চলার প্রেরণা

আশীষ চক্রবর্ত্তী | ২৪ জানুয়ারি ২০১১ ২:৪৮ অপরাহ্ন

sm_11.jpg
সুচিত্রা মিত্র (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২৪ – ৩ জানুয়ারি ২০১১)

কৃষ্ণকলি তারেই বলি

কৈশোরেই দেশপ্রেম দানা বেঁধেছিল রামকিঙ্করের মনে। বাঁকুড়ায় বসে বসে দেখতেন পরাধীন ভারতবর্ষ স্বাধীন করার স্বপ্ন। চাইলেও তো ওই বয়সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া যায় না, তাই মোটামুটি স্বপ্ন দেখাই সার। এর বাইরে একটা কাজই করার ছিল মনপ্রাণ ঢেলে—প্রকাশ্যে বীরবন্দনা। রামকিঙ্কর সেটা করতেন ছবি এঁকে। তাঁর তুলির আঁচড়ে আঁচড়ে ফুটে উঠত ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনের নায়কদের মুখ। একসময় সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের নজরে পড়লেন। বাকিটা অনেকেরই জানা। পরবর্তীতে শান্তিনিকেতনে বিকশিত হয় ভাস্কর হিসেবে তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভা। অনেক অমর ভাস্কর্যের স্রষ্টা রামকিঙ্কর। বিখ্যাত লোকদের মূর্তিও গড়েছেন। তবে তাঁদের সংখ্যা হাতে গোনা যাবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁদেরই একজন। রবি ঠাকুরের গানের ঝরনাতলায় আসন পেতেছিলেন এমন একজনও পেয়েছেন সেই সম্মান। সুচিত্রা মিত্র! রবীন্দ্রসঙ্গীতের বড় আপন এই মানুষটিও তাই বেঁচে আছেন রামকিঙ্করের হাতের ছোঁয়ায়।

গাইছেন সুচিত্রা মিত্র
সুচিত্রা মিত্র গত ৩ জানুয়ারি এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে গেলেও গানের পৃথিবী তাঁর মায়া কাটিয়ে উঠতে পারবে না কোনোদিন। মৃত্যু তাঁর কণ্ঠ থেকে গান কেড়ে নিলেও ৮৬ বছরের জীবনে সুরের যে মায়াজালে তিনি জড়িয়ে গেছেন, সঙ্গীতপিপাসু মনের সঙ্গে সে বন্ধন কোনোদিন ছিন্ন হবার নয়। (সম্পূর্ণ…)

শীতের সাতকাহন

পদ্মাপারে, পীরপুরে

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৪ জানুয়ারি ২০১১ ২:২৬ অপরাহ্ন

(প্রথম কাহন)

দ্বিতীয় কাহন: পদ্মাপারে, পীরপুরে

বেশ ক’বছর আগের কথা। তা’ বছর সাত-আট তো হবেই। সবে সবুজ সড়ক এলাকা থেকে এই ধানবাজারে এসেছি। মনে আছে আরো এই কারণে যে, একটা জায়গায় বছরের সব ক’টি ঋতু–গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত–না কাটালে এলাকার চারিত্র্যগুলি বাসিন্দাদের জীবনযাপনের ভাঁজে-খাঁজে ঠিকমতো জায়গা করে নিতে পারে না। আগের বাসা সবুজ সড়কে শীতে ভালই কবোষ্ণ দিন কাটত আমাদের। প্রতিবেশী পিয়াজদানি বেগম ও ইমলি চৌধুরী নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর নিতেন। শীতের ভোর-দুপুর-রাত ১২টা যখনই ওদের রসুইখানাতে কোন রসনা উজ্জীবক খানাপিনা তৈরি হত, তার স্যাম্পলিং-এর অবশ্যম্ভাবী কর্তব্যটুকু এই অধমকেই পালন করতে হত। অতএব, বুঝতেই পারছেন, রসে-বশে ভালই দিন কাটছিল ওখানে।

sheet_2-2.jpg
পীরপুরের বাড়িতে পুকুরঘাটে রূপাহলি

ধানবাজারে এসে ক’দিনেই বুঝে গেলাম, হরেক কিসিমের সুস্বাদু খাদ্য চাখাচাখির দিন বিত গিয়েছে। এখানে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দেখা হলে শুকনো, এক্সট্রা ড্রাই হাই, হেল্লো, স্লামাক্কুম ছাড়া আর কিছু মিলবে না। অবশ্য তেতলার বাসিন্দা এক মরূদ্যানসম জাপানি কাপল–জনাব ও বেগম হাসিখুশি সাদামাটা আমাদের ভালমন্দের খোঁজ নেন। আমাদের মেয়ের জন্য ওদের কারখানায় তৈরি সেমাই (ঈদের আগের সন্ধেয়) ও টফি-আচার ইত্যাদি তোহ্ফা পৌঁছে দেন। (সম্পূর্ণ…)

নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা ও তাঁর ‘ম্যারি মাই এগ’

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ২৪ জানুয়ারি ২০১১ ১:৪৭ পূর্বাহ্ন


নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা’র ম্যারি মাই এগ

বেঙ্গল আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছিল নাজিয়া আন্দালিব প্রিমার একটি ভিডিও আর্ট। নাম ম্যারি মাই এগ (Mary My Egg)। সেখানে আরও অনেক শিল্পীর সাথে প্রদর্শিত হচ্ছিল তাঁর আঁকা কিছু ছবি ও এই ভিডিওটি। ‘ম্যারি মাই এগ’, নামটার মাঝে একটু নতুনত্বের গন্ধ পেলাম এবং শিল্পের এই মাধ্যমটিকেও একটু নতুন বলেই মনে হল। পাঁচ মিনিট তেতাল্লিশ সেকেন্ডের এই ভিডিও আর্টটিতে প্রথমে দেখা যায় একটি মেয়ে বিয়ের সাজে সজ্জিত। তাঁর গলা ও কানে ভারি গহনা, পরনে লাল শাড়ি এবং মুখে বিয়ের প্রসাধন। তাঁর সামনে একটি প্লেট ও তাতে রয়েছে অনেকগুলো পোচ করা ডিম এবং আশে পাশে ছড়ানো বেশ কিছু ডিমের খোসা। মেয়েটি কাঁটা চামচ আর ছুরি দিয়ে ডিম কাটছে এবং খাচ্ছে। বারবার সে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেই চলেছে।

—————————————————————–
আমি বলতে চেয়েছি—আমাদের ট্র্যাডিশনাল যে বিয়েগুলো হয় তাতে কেবল থাকে ডিম উৎপাদন আর ডিমটা খাওয়া। মানে খাওয়াটা এখানে সরাসরি না, আমি বলতে চাইছি আমাদের ভাবটা এমন, আমি নিজে যেটা ফিল করেছি সেটা হচ্ছে যে, আমি আমার ডিম এমনভাবে উৎপাদন করছি যেন আমি নিজেই শুধু তা খাচ্ছি, মানে নিজেই জানি না আমি এটা করছি কেন? আমাকে এটা করতে হবেই কেন? সে সম্পর্কে আমার কোন চিন্তাভাবনা নেই অথচ আমি কিন্তু কাজটা করছি এবং করেই যাচ্ছি। ওই করাটা একটা কনটিনিউয়াস প্রসেস-এ চলছে তো চলছেই।
—————————————————————-

তার চোখে-মুখে একটা নিস্পৃহ ভাব আবার একই সাথে অভিব্যক্তিতে রয়েছে কিছুটা যৌনতার ছাপ। পরের দৃশ্যে দেখা যায় সেই একই মেয়ে। কিন্তু এবার সে একটি কালো কাপড়ে আবৃত, শুধু মুখটা দেখা যাচ্ছে। তার সামনে রয়েছে সেই একই প্লেট এবং তাতে রয়েছে ডিম। সে ছুরি ও কাঁটা চামচ দিয়ে একইভাবে ডিম খাচ্ছে কিন্তু এবার সেটার রঙটা একটু অন্যরকম। ডিমের মধ্যে থেকে একটা লাল রঙ ফুটে উঠেছে। তার চোখে-মুখে সেই একই যৌন অভিব্যক্তি; মনে হচ্ছে, ডিমটা সে ঠিক খাচ্ছে না, যেন ডিমের সাথেই মিলিত হচ্ছে!
(সম্পূর্ণ…)

ব্রাজিলের জ্যামিতি চিত্রকলা

নেদা শাকিবা | ২৩ জানুয়ারি ২০১১ ১১:১০ অপরাহ্ন

DSC00851.jpgঢাকায় ব্রাজিলের অ্যাম্বেসিতে যে আর্ট এক্সিবিশনটা হচ্ছিল তার নাম ওরা দিয়েছিল জিওমেট্টিক আর্ট এক্সিবিশন। সবগুলো পেইন্টিং ছিল লাইন দিয়ে আঁকা। ব্রাজিলিয়ান এই পেইন্টাররা তাদের ইমোশন, তাদের ফিলিংস সব কিছু প্রকাশ করেন লাইন দিয়ে। লাইনের মধ্য দিয়া পেইন্টিং–এবং কালারগুলা অনেক ভিভিড, অনেক ব্রাইট।

পনেরো শতকের আগে যে ইন্ডিজিনাস মানুষরা ওখানে থাকতেন, ওরা ওদের মেডিসিনাল কিওর যেগুলো আবিষ্কার করেছেন, ওদের ধর্ম, ওদের বিলিফ সিস্টেম–সব কিছু ওরা ওয়ালে যখন তুলে ধরতেন, সেটা করতেন লাইনের মধ্য দিয়ে। সব কিছু লাইন দিয়ে ছিল। কখনও ওরা সার্কল ব্যবহার করতেন না। এবং সার্কল ব্যবহার করতো না কেন, যখন আমি জিজ্ঞেস করলাম আমাদের পেইন্টার–ওখানে যিনি ছিলেন যে কিউরেটর–উনি বললেন যে সার্কল জিনিসটা হচ্ছে সিম্বলিক…। আমাদের প্রকৃতির মধ্যে, আমাদের দুনিয়াতে সব কিছু একটা সাইকেলের মধ্যে চলে। সার্কল অব লাইফ, সার্কল অব ওয়াটার–সব কিছুর একটা সাইকেল আছে। যে জিনিসটা আমাদের সৃষ্টিকর্তার তৈরি, যে জিনিসটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, আমরা বানাতে পারি না–আমরা সেটাকে বদলাতে পারি না।

—————————————————————-
বিকজ সার্কল হচ্ছে একটা গডলি জিনিস। সো এই জিনিসটাকে ওরা ছোট করে এখানে আনতে চায় না। ওইটাকে ওরা আঁকাআঁকির যে পর্যায় আছে, সেখানে ছেড়ে দিচ্ছে। সো বাকি কী রয়–লাইন। জিওমেট্রিতে অনলি লাইন আর সার্কল। ওঁদের যতগুলো পেইন্টিং ছিল সবগুলো শুধু লাইন দিয়ে ছিল। এবং অনেক ব্রাইট কালার। এবং অয়েল পেইন্টিংয়ের মধ্যে থাকে যে একটু ঝাপসা, একটু স্মোকি ইফেক্ট–ওই জিনিসটা নেই।
—————————————————————-

যেমন লাইফের সার্কলটাকে কিন্তু আমরা চেইন্‌জ করতে পারি না।
(সম্পূর্ণ…)

সমালোচনা এবং সত্য

ইমরুল হাসান | ১৪ জানুয়ারি ২০১১ ১১:১১ অপরাহ্ন

criticism-and-truth-continuum-impacts-13318833.jpeg
………
CRITICISM AND TRUTH. Roland Barthes. Translated and Edited by Katrine Pilcher Keuneman (with Charles Stivale). Forward by Philip Thody. Continuum.
………

বইটা পড়া চেষ্টা করতেছি অনেকদিন থিকাই; কিন্তু একটু পড়ার পর, কিছুদিন পার হয়া যায়, আবার যখন পড়তে শুরু করি, তখন মনে হয়, প্রথম থিকাই পড়ি আবার… এই করতে করতে বইটার ফরোয়ার্ড আর প্রিফেস ২টা প্রায় ৩/৪বার পড়া হয়া গেছে… মূল জায়গায় আর যাওয়া হয় না… এরপর ভাবলাম যে, এর একটা বিহিত হওয়া দরকার, আর কতো!… এই বইও পড়া হয় না, আবার অন্যকিছুও পড়ি না, একটা গলার কাঁটার মতো… দেখি, লেখার নাম কইরা উগরানো যায় কিনা!

বইটা রঁলা বার্থ এর, কিনছিলাম শাহবাগের প্রথমা থিকা, তাও ৫/৬মাস আগে… নোটস আর বেকগ্রাউন্ড নোটস বাদ দিলে ৩৪ পৃষ্ঠার একটা বই… মূলতঃ রঁলা বার্থ এর ১টা প্রবন্ধের অনুবাদ, লেখা হইছিল ফরাসী ভাষায় ১৯৬৬ সালে, তারপর ইংরেজিতে অনুবাদ হয় ১৯৮৭ সালে এবং সাউথ এশিয়ান এডিশন ছাপা হয় ২০০৫ সালে… আমি পড়তেছি ২০১০সালের ডিসেম্বরে…

১৯৬৫ সালে বার্থের সমালোচনা-পদ্ধতি নিয়া Raymond Picard (http://en.wikipedia.org/wiki/Raymond_Picard) একটা প্রবন্ধ লিখেন “নতুন সমালোচনা নাকি নতুন প্রতারণা”; যদিও ফরাসী সাহিত্যের ১৯৫০/৬০ এর দিকের “নতুন সমালোচনা” উনার আক্রমণের জায়গা ছিল, কিন্তু এই আন্দোলন এর মূল হোতা হিসাবে তিনি রঁলা বার্থরেই বাইছা নেন। রঁলা বার্থ ১৯৬৩ সালে “রেসিন বিষয়ে” নাম দিয়া ৩টা প্রবন্ধ লিখেন; যেইটার ভূমিকাতে তিনি বলেন যে, এইটাতে রেসিন (http://en.wikipedia.org/wiki/Jean_Racine ) এর তৈরী-করা দুনিয়ার অ্যানালাইসিস তিনি করতেছেন, রেসিন এর না; আর পিকার্ড হইলেন একজন রেসিন বিশেষজ্ঞ।
(সম্পূর্ণ…)

শীতের সাতকাহন

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১২ জানুয়ারি ২০১১ ১২:২৬ অপরাহ্ন
shiteer-fool.jpg
শুনতে পাই, শীত বাঙালির প্রিয় ঋতু। আবার শৈশবে ‘ষড়ঋতুর বিচিত্র লীলা’ রচনা পাঠকালে মনে হত, বাঙালি লেখক-ভাবুক-কবিবৃন্দ বোধকরি সব ঋতুকেই স্বাগতঃ জানিয়েছেন, সকলেরই গুণকীর্তন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, যে কোন ঋতুই স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল, এদেশের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও মহিমাময়। এসব কিছুর পরেও মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনে শীত যেন বিশেষ আদরের, দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে এক পাওনার মতো। শীতে বস্ত্রহীন যে নিদারুণ কষ্টে দিনতিপাত করে থাকে, সেকথা সবাই জানে। তবুও শীত আসুক, এটা আমরা সরবে না হোক, মনে-প্রাণে কামনা করি বর্ষার ঝরানি শেষ হলে।

‘হাড়কাঁপানো শীত’ শব্দবন্ধ ইদানিং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য দূরাগত স্মৃতি, সর্বজনের অভিজ্ঞতার বাইরে বলা যায়। আমাদের মধ্যে যারা পঞ্চাশ-ষাট বছর আয়ুষ্কাল পার করেছেন, তাদের হাড় অবশ্যই শীতে কেঁপেছে অতীতে–এ শহরেই অথবা গাঁয়ে, অথবা পাহাড়-জঙ্গলে বেড়াতে গিয়ে। সেরকম দুচারটি দুর্দান্ত শীতে কেঁপে ওঠার স্মৃতি আমি এক্ষণে আপনার সঙ্গে ভাগ করে নেব।

প্রথম কাহন: চায়ের দেশে

duti-pata-ekti-kunrhi.jpg

১৯৮১ সাল। জানুয়ারির প্রথম দিকে ঢাকার মোতিঝিলে একটি সম্ভাব্য যুগ্ম ব্যবসায় যোগদান চূড়ান্ত করার ইন্টারভিউ দিতে গেছি। ফার্মের এমডি বাবুল সাহেব শুধোলেন, শীত কেমন লাগে তোমার? বল্লাম, বেশ লাগে। আবার প্রশ্ন এল, পোশাক-আশাক আছে? আছেই তো, জ্যাকেট-ফ্যাকেট, পুলোভার… আমার কথার মাঝে বাবুল বলে উঠলেন, ঠিক আছে, তোমার চাকরি হয়ে গেল। ক্যাশ থেকে অ্যাডভান্স নিয়ে ভারি জ্যাকেট কিনে নাও আর কানমাথাঢাকা পশমি টুপি। রাতের ট্রেনে আমাদের সিলেট বাগানে চলে যাও। অফিস টিকিট কেটে রাখবে। ইউ হ্যাভ দ্য হোউল ডেই টু সেই গুডবাই টু ঢাকা… গেট গোউইং নাউ।

সিলেট মেইলে চেপে ভোররাতে কুলাউড়া নেমেছি। বিছানা কম্বল গুটিয়ে রেখে আমার হ্যাভারস্যাক, যেটা দেখতে হালকা হোল্ডঅল-এর মতো আর বেহালা হাতে প্ল্যাটফর্মে নামতেই পাহাড়ি শীতের কামড় অনুভব করলাম। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com