গোলাপের নাম

উম্‌বের্তো একো

জি এইচ হাবীব | ৩১ december ২০১০ ১১:২৪ অপরাহ্ন

umbertoeco-334.jpg
উম্‌বের্তো একো

অনুবাদ: জি এইচ হাবীব

লিংক: কিস্তি ১
———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৬
———————————————————————————
(কিস্তি ৫-এর পরে)
যেটা আদেল্‌মোর কাজের জায়গা ছিল সেদিকে এগোলাম আমরা, অত্যন্ত চমৎকারভাবে অলংকৃত একটি স্তোত্রসংগ্রহের (psalter, সলটার) কিছু পৃষ্ঠা তখনো প’ড়ে ছিল সেখানে। ওগুলো ছিল সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ভেলামের, অর্থাৎ কিনা, সমস্ত পার্চমেন্টের রাণীর কিছু ফোলিও[১১২], আর শেষটা তখনো সাঁটা ছিল ডেস্কের সঙ্গে। স্রেফ ঝামাপাথর দিয়ে ঘষে আর চুন দিয়ে নরম ক’রে,
nor_15.jpg
র‌্যাদা দিয়ে মসৃণ করা হয়েছে পাতাগুলো, আর সূক্ষ্ম একটা স্টাইলাস দিয়ে দুই পাশে যে ছোট ছোট ছিদ্র করা হয়েছে সেখান থেকে শিল্পীর হাত সোজা রাখার জন্যে রেখা টানা হয়েছে। প্রথম অর্ধেকটায় এরিমধ্যে লেখা হয়ে গিয়েছিল, আর সন্ন্যাসীটি মার্জিনে অলংকরণ করতে শুরু করে দিয়েছিল। অন্য পৃষ্ঠাগুলো অবশ্য এরমিধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছিল, এবং সেগুলোর দিকে তাকিয়ে আমি বা উইলিয়াম কেউই বিস্ময়ের একটা চিৎকার রোধ করতে পারলাম না। এই স্তোত্র সংগ্রহের মার্জিনে এমন একটা দুনিয়ার চিত্র আঁকা হয়েছে যা আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো যে-বিশ্বের প্রতি আমাদের অভ্যস্ত করে তুলেছে সেটার ঠিক উল্টো একেবারে। যেন, সংজ্ঞা অনুসারেই যা সত্য সম্পর্কিত একটি ডিসকোর্স, সেটার প্রান্তে, সেটার সঙ্গে ঘনসন্নিবদ্ধ অবস্থায়, অত্যাশ্চর্য সব in anigmate[১১৩] পরোক্ষে উল্লেখের মাধ্যমে, একটা উল্টোপাল্টা বিশ্বকে নিয়ে মিথ্যার একটি ডিসকোর্স-এর সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে খরগোশের তাড়া খেয়ে কুকুর পালায়, হরিণ করে সিংহ শিকার। খুদে খুদে পাখির-পা মাথা, পেছনে মানুষের হাত বিশিষ্ট জন্তু জানোয়ার, ঘনচুলঅলা মাথা যা থেকে পা বেরিয়ে আছে, জেব্রা-র ডোরা-কাটা ড্রাগন, হাজারো জটিল গিঁঠ বিশিষ্ট সর্পিল কাঁধঅলা চারপেয়ে, বয়স্ক মর্দা লাল হরিণের শিং বিশিষ্ট বানর, ঝিল্লিময় ডানা বিশিষ্ট বনমোরগের আকৃতির সাইরেন, পিঠ থেকে কুঁজের মতো বেরিয়ে থাকা অন্য মানবশরীর বিশিষ্ট বাহুহীন মানুষ, পেটে দাঁতভর্তি মুখ বিশিষ্ট দেহ, ঘোড়ার মুখ বিশিষ্ট মানুষ, আর মানুষের পা বিশিষ্ট ঘোড়া, পাখির ডানাঅলা মাছ, আর মাছের লেজবিশিষ্ট পাখি, এক দেহ দুই মাথা বা এক মাথা দুই দেহঅলা দত্যি দানো, মোরগের লেজ আর প্রজাপতির ডানাঅলা গরু, মাছের পিঠের মতো আঁশঅলা মাথাসহ নারী, গিরগিটির শুঁড়ের সঙ্গে পেঁচানো ড্রাগনফ্লাইয়ের দুই মাথাঅলা কিমেরা[১১৪], সেন্টর, ড্রাগন, হাতী, গাছের ডালে সটান হয়ে থাকা ম্যান্টিকোর[১১৫], গ্রাইফন[১১৬] – যেটার লেজ হয়ে গেছে যুদ্ধংদেহী এক ধনুর্ধর, অন্তহীন কাঁধবিশিষ্ট নারকীয় জন্তু-জানোয়ার, মানববৈশিষ্ট্য সম্বলিত জন্তু আর জন্তু-জানোয়ারের বৈশিষ্ট্য সম্বলিত বামন-মানুষের যুক্তাবস্থার ক্রম, কখনো একই পৃষ্ঠায়, গ্রামীণ জীবনের ছবিসহ, যেখানে আপনি দেখতে পাবেন মাঠের সমস্ত জীবন, কৃষক, ফল সংগ্রাহক, ফসল সংগ্রাহক, শেয়ালের পাশে বীজ বপনকারী, ক্রসবো সজ্জিত মার্টেন[১১৭]] যারা বানর সুরক্ষিত এক টাওয়ার্ড সিটি-র বুরুজের ওপরের শহরের দেয়াল বেয়ে উঠছে, ইত্যাদি সব এমন অসাধারণ প্রাঞ্জলতায় আঁকা হয়েছে যেন মনে হচ্ছে সব জীবন্ত। এখানে একটা প্রাথমিক হরফ, একটা L এর ভেতরে বাঁকা হয়ে ঢুকে নিচের দিকে একটা ড্রাগন সৃষ্টি করেছে; আবার ওখানে বিশাল একটা V যেটা দিয়ে verba[১১৮] শব্দটা শুরু হয়েছে, সেটা তার শুঁড় থেকে একটা স্বাভাবিক লতাঙ্কুরের মতো হাজারো কুণ্ডলী বিশিষ্ট একটা সাপ তৈরি করেছে যেটা আবার পাতা আর ঝাড়ের মতো আরো অনেক সাপের জন্ম দিয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

ওয়াং ওয়ে

প্রাচীন কবিতা, আধুনিক অনুবাদমালা

অংকুর সাহা | ২৪ december ২০১০ ১২:৫৬ অপরাহ্ন

।।১।।

চিনদেশে তাং সাম্রাজ্য (Tang Dynasty) স্থাপিত হয়েছিল ৬১৮ খ্রীস্টাব্দে। প্রায় তিন শতক রাজত্ব করেছিলেন তাঁরা—দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যে এক উন্নততর সময়। ওয়াং ওয়ে (৬৯৯-৭৬১) এই যুগের এক প্রধান কবি, চিত্রশিল্পী এবং অক্ষর অংকনে সিদ্ধহস্ত। ওয়াং নদীর তীর বরাবর ভ্রমণকালে সেই অঞ্চলের নৈসর্গের অভিঘাতে তিনি একগুচ্ছ কবিতা লিখেছিলেন—তার মধ্যে একটি বিশেষ কবিতার সহস্রাব্দ পেরিয়ে যাত্রা—আমাদের আলোচ্য। বিশাল গোটানো এক পার্চমেন্ট পুঁথিতে অনুভূমিক ভাবে আঁকা হয়েছিল দৃশ্যপট—তার ফাঁকে ফাঁকে সুচারু অংকনে লেখা কবিতাগুলি। চিনে ভাষায় মূল কবিতা—বাংলায় লিপ্যন্তর (Transliteration)—চিনে ভাষার উচ্চারণে নানান বিশেষজ্ঞের নানান মত, আবার ভৌগোলিক অঞ্চল অনুযায়ীও উচ্চারণের ফারাক ঘটে। তাং সাম্রাজ্যের সমসাময়িক চিনে ভাষার উচ্চারণ বর্তমানের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। ১৯২০র দশাব্দে ভাষাবিদ বার্ণার্ড কার্লগ্রেন (১৮৮৯-১৯৭৮) চেষ্টা করেছিলেন, তাং সাম্রাজ্যের চিনে ভাষার মৌখিক পুনর্সৃষ্টির , কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। আধুনিক যুগের চিনে পাঠক কবিতাটির পাঠ করবেন এইভাবে—

লু জাই

কং শান বু জিয়ান রেন
দান ওয়েন রেন শিয়াং
ফান জিং (ইং) রু শেন লিন
ফু জাও চিং তাই শাং

tumblr_lag29br3px1qalfnq.png
চীনা হরফে ও ভাষায় ওয়াং ওয়ে’র ‘লু জাই’

এবং প্রতিটি শব্দ, অক্ষর বা ছবির আক্ষরিক বঙ্গানুবাদ করলে দাঁড়াবে—

হরিণ অরণ্য

শূন্য পর্বত না দেখা মানুষ
কিন্তু শোনা মানুষ শব্দ প্রতিধ্বনি
ফেরত আলো (ছায়া) ঢোকা ঘন বন
আবার উজ্জ্বল সবুজ শ্যাওলা উর্ধ্বে

এবার এই বাইশটি সচেতন শব্দকে বাংলা কবিতার রূপ দেওয়া যাক, মূল কবিতার অন্ত্যমিলগুলি যতোটা সম্ভব বজায় রেখে—

মৃগদাব

পর্বত একাকী শূন্য, মানবের চিহ্নমাত্র নেই,

সতত কেবল শুনি ধ্বনি থেকে প্রতিধ্বনি বাজে,

গহন বনানী তার অভ্যন্তরে আলো নামে যেই-

সবুজ শৈবাল শিরে উজ্জ্বলতা আবার বিরাজে।

বাইশটি শব্দ এখানে বেড়ে দাঁড়াল সাতাশ; প্রতিটি পংক্তি পাঁচটি শব্দের বদলে বাংলায় ৬, ৭, ৭, ৬। প্রথম পংক্তিদুটি সাদামাটা এবং সহজে অনুবাদযোগ্য।
(সম্পূর্ণ…)

শামসুর রাহমানের গান

‘আমি প্রতিদিন তোমাকেই দেখি’

বাবু রহমান | ২২ december ২০১০ ২:৩১ অপরাহ্ন

shamsur-rahman.jpg
শামসুর রাহমান, ১৭.৮.২০০৫, সন্ধ্যা ৭:৩০, বেঙ্গল গ্যালারি।। ছবি: লুৎফর রহমান নির্ঝর

কবি শামসুর রাহমান (১৯২৯—১৭ .৮ .২০০৬) রচিত একটি গানের সুরকার ছিলেন সমর দাস (১৯২৫—২০০১)। শ্রদ্ধেয় সমর দাস আমাকে কবির যে গানটি শিখিয়েছিলেন—কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রথমে সেই গানের পুর্ণ বাণী এখানে তুলে দিচ্ছি:

স্বর্ণলতায় ঝর্ণাতলায় দোলন-চাঁপার গাছে॥
আমি প্রতিদিন তোমাকেই দেখি
দেখি হৃদয়ের কাছে॥

স্বদেশ আমার তোমার দু’চোখে
কী মায়া দেখি যে আনন্দ-শোকে
বোঝাতে পারিনা সে ভাষা আমার
চোখের তারায় নাচে॥

যে ফুল ফোটাও ধূসর-ধূলায় প্রাণ মাতে তার গন্ধে
যে নদী বহাও উদ্দাম স্রোতে নেচে উঠি তার ছন্দে।

নিত্য তোমার রূপের ছায়ায়
কত যে কাহিনী কবি খুঁজে পায়
তোমার মাঝে ফসলের ঘ্রাণে
জীবনেরই গান আছে।।

কবি যেমন প্রতিদিন দেশ-মাতৃকাকে দেখেন , আমিও যেন তেমনি প্রতিদিন কবি শামসুর রাহমানকে দেখি হৃদয়ের কাছে। শামসুর রাহমান আপদমস্তক একজন আধুনিক কবি। সাথে রয়েছে দেশপ্রেম। উপরোক্ত গানটিতে কবির ঈষিকায় শব্দের যে বর্ণিল ছটা প্রেম-প্রকৃতি ও নিসর্গ ক্যানভাসে উদ্ভাসিত তা প্রকৃতই মনোহরা। আধুনিক এই কবির পেছনে বিশ্বাস গণমুখী গ্রামীণ ঐতিহ্যে। কিন্তু তাঁর কলম যেখানে সরব সেখানে কবির কবিত্ব পুরোমাত্রায় পূর্ণতা পায়। বাংলা গানের ইতিহাসে শামসুর রাহমান সংখ্যাধিক্যে না হলেও মানের পাল্লায় উৎকর্ষতা ছুঁতে পেরেছে বলেই আমার বিশ্বাস। কবিকে একজন গীতিকার হিসেবে বিচার করতে গেলে বাংলা গানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্যক তুলে ধরা প্রয়োজন। তবেই শামসুর রাহমানের স্থান ও মান নির্ধারিত হবে। সেই সূত্রেই হাজার বছরের সেই গীতকবিদের দিকে একটু ফিরে তাকানো যায়।
(সম্পূর্ণ…)

কিস্তি ১০

ছফামৃত

নূরুল আনোয়ার | ২১ december ২০১০ ১১:২০ পূর্বাহ্ন

শুরুর কিস্তি

কিস্তি ৯-এর পর

প্রবাসে থেকে ডক্টর সলিমুল্লাহ খান ছফা কাকার মরণবিলাসের ওপর একটি দীর্ঘ আলোচনা লিখেছিলেন। এই লেখাটি পশ্চিম বাংলার জিজ্ঞাসা পত্রিকার বাংলাদেশ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল। খুব সম্ভব ছফা কাকার কোন রচনার ওপর এটাই প্রথম দীর্ঘ আলোচনা। তার আগে প্রফেসর আবুল কাশেম ফজলুল হক সম্পাদিত লোকায়ত পত্রিকায় সপ্তম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যায় তিনি আলী কেনানের উত্থান-পতন নিয়েও একটি আলোচনা লিখেছিলেন। মৃত্যুর আগে অলাতচক্রের ওপর ডক্টর খানের লেখাটি যখন পত্রিকায় ছাপা হল ছফা কাকাকে অনেকটা উচ্ছ্বসিত করে তুলেছিল।

ar_as.jpg…….
আবদুর রাজ্জাক ও আহমদ ছফা
……..
এই কাছের মানুষটির প্রতি ছফা কাকা একবার খুবই অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। ছফা কাকার মুখে শুনতে পাই, সলিমুল্লাহ খান পিএইচ.ডি করার জন্য আমেরিকা যাবার প্রাক্কালে প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক তাঁকে আর্থিক এবং মানসিকভাবে সহযোগিতা করেন, কিন্তু সেটি সলিমুল্লাহ খান ভুলে গিয়ে প্রফেসর রাজ্জাককে আঘাত করে একখানি বই লিখেন। পরবর্তীতে আমি সলিমুল্লাহ খানকে ছফা কাকার এই মনোকষ্টের কথা জানিয়েছিলাম। ডক্টর সলিমুল্লাহ খানের মতে, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। প্রফেসর আবদুর রাজ্জাকের সহযোগিতা নেবার আগেই তিনি বইটি লিখেছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০১০

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ১৯ december ২০১০ ৬:৪৭ অপরাহ্ন

7.jpg
‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০১০’ প্রদান অনুষ্ঠানের মঞ্চে আসীন বিচারকমণ্ডলী ও অন্যান্য, ডায়াসে বক্তব্য রাখছেন ‘তরুণ কথাসাহিত্যিক ২০১০’ পুরস্কারপ্রাপ্ত এমরান কবির

জেমকন সাহিত্য পুরস্কার-২০১০ প্রদান উপলক্ষে ৬ ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যায় ঢাকা শেরাটন হোটেলের বলরুমে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেমকন গ্রুপ। অন্যান্য বছরের মত এ বছরও তারা পুরস্কৃত করেন একজন বর্ষসেরা লেখককে—তাঁর প্রকাশিত বইয়ের জন্য এবং একজন তরুণ লেখককে—তাঁর লেখা পান্ডুলিপির জন্যে।

আমন্ত্রণপত্রে অনুষ্ঠান শুরুর সময় বিকাল ৫টা উল্লেখ থাকলেও অনুষ্ঠান শুরু হতে হতে প্রায় সন্ধ্যা ৭.০০টা বেজে যায়। শামা রহমানের একক সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। গান চলাকালে হলঘরের প্রধান বাতি নিভিয়ে দিয়ে একটি মনোরম পরিবেশ সৃষ্টির ছিল। মঞ্চে লাইটের কাজ ছিল বেশ চোখে পড়ার মত। সঙ্গীত পর্ব শেষে মঞ্চে আসেন উপস্থাপিকা শারমিন লাকী। তিনি এসে জুরি বোর্ডের সদস্যদের মঞ্চে আসন গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।
—————————————————————–
“জীবন সম্পর্কে ওয়াসী আহমেদের সংবেদী দৃষ্টিভঙ্গি ‘ত্রিসীমানা’ গল্পগ্রন্থের নয়টি গল্পে উজ্জ্বল। কী কাহিনী বয়ানে, কী নির্মাণ কৌশলে, কী বিষয় ভাবনায়, প্রতিটি গল্পই সুমিত, সুনির্মিত ও সুশিক্ষিত, চরিত্রগুলো জীবন্ত ও তাদের অবস্থান আমাদের চেতনার একেবারে গভীরে। তাঁর বর্ণনায় কৌতুক আছে, সহানুভূতি আছে, সূক্ষ্ম বিদ্রুপ আছে, আছে মনোবিশ্লেষণের অপার দিগন্ত। সাহিত্যের এমন হৃদয়সংবেদী কথাসাহিত্যিককে ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার-২০১০’ প্রদান করতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
—————————————————————-
জুরি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন মঈনুল আহসান সাবের, খালেদ হুসাইন, কাজল বন্ধ্যোপাধ্যায়, হায়াৎ মামুদ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মহিদুল আলম প্রমুখ। বিশেষ কারণে অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন জুরি বোর্ডের তিন সদস্য শামসুজ্জামান খান, ভারতের কবি বিভাস রায় চৌধুরী ও দেশ পত্রিকার সম্পাদক হর্ষ দত্ত।
(সম্পূর্ণ…)

আমাদের ঢাকা ফেরা

ফয়েজ আহ্‌মদ | ১৬ december ২০১০ ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

fayez-ahmed.jpg
স্টল বিমান থেকে ঢাকায় নামলেন ফয়েজ আহ্‌মদ, এম আর আক্তার মুকুল, কামাল লোহানী এবং অন্যান্য

পাকিস্তানিদের সারেন্ডারের সময় উপস্থিত থাকার জন্য ভারতের পূর্বাঞ্চলে—কলকাতায়, জয়েন্ট কমান্ডের হেডকোয়ার্টারে প্রায় এক হাজার সাংবাদিক আটকা পড়েছিল। তারা ঢাকায় আসার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদনও করেছিল। সে আবেদনে বাংলাদেশ সরকারেরও দুইজন সাংবাদিক প্রতিণিধি ছিলো—একজন আমি—ফয়েজ আহ্‌মদ, আর একজন এম আর আক্তার মুকুল। এই সাংবাদিকরা সবাই ভোর রাত্র থেকে ঐখানে জড়ো হয়। ঢাকায় আসার জন্য। ঢাকায় নিশ্চিতভাবে সে দিনই চারটায় সারেন্ডার হবে এটা আমাদের তখন জানা হয়ে গিয়েছিল। আমি আর এম আর আক্তার মুকুল—এই দুই বন্ধু বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত ছিলাম এবং বাংলাদেশ সরকার থেকে অনুমোদন অনুযায়ী আমাদের কাছে সার্টিফিকেট ছিল। সেই সার্টিফিকেট অনুযায়ী আমাদের বলা হয়েছিল ভিন্ন পোশাক (ক্যামোফ্লাজ) তৈরী করতে এবং আমাদের নাম ধাম সমস্ত কিছু কর্তৃপক্ষের কাছে রেজিষ্ট্রি করতে।

—————————————————————–
কয়েক দিন পরে সরকার হঠাৎ করে রাতের বেলায় টেলিফোন করে আমাদের জানায়, ‘ভোর রাতে রেডি থাকবেন, ৪টার সময় এবং ভোর ৭টার সময় প্লেন ঢাকায় যাবে।’ সেই অনুযায়ী আমরা—বাংলাদেশের সাংবাদিকরা রেডি হলাম। ভোর চারটায় আমাদের উঠিয়ে নিয়ে এয়ারপোর্টে নিয়ে আসে এবং ভোর সাতটার পরে কুয়াশা চলে গেলে ৮/৯টার দিকে প্লেন রওনা দেয়। একটি স্টল প্লেনে করে আমাদের নিয়ে আসা হয়। স্টল প্লেনে পিছন দিক দিয়ে ওঠানামা করতে হয়। সাধারণত এই প্লেন দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মালামাল আনা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমরা পেছন দিক দিয়ে প্লেনে উঠে, মালের উপরে বসে আমরা ঢাকায় আসি।
—————————————————————-
(সম্পূর্ণ…)

দূরের সংবাদপত্রে বাংলাদেশ ১৯৭১

আন্দালিব রাশদী | ১৬ december ২০১০ ১২:১২ পূর্বাহ্ন


জয়েন্ট কমাণ্ডের প্রধানের নিকট জেনারেল নিয়াজীর আত্মসমর্পণ

[১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংবাদ-মাধ্যমে এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন রিপোর্ট বা সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। এগুলো পরে ভারতের ‘বাংলাদেশ ডকুমেন্ট’ এবং বাংলাদেশের ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র’-এ একত্রে প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এরকম কিছু রিপোর্ট ও সম্পাদকীয়-এর বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হলো। আন্দালিব রাশদী ভারতের ‘বাংলাদেশ ডকুমেন্ট’ এবং বাংলাদেশের ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র’ থেকে এগুলো নির্বাচন ও অনুবাদ করেছেন।-বি.স.]

এএফপি’র একটি প্রতিবেদন যা প্রচারিত হয়নি
পিকিং, নভেম্বর ১৫,১৯৭১ (এএফপি)

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চীন স্পষ্টভাবে এবং উপর্যুপরি পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিযেছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে যুদ্ধ বেঁধে যাক—এটা চীন চায় না।

উৎস জানাচ্ছে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ঝুঁকির বিষয়টি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার দূত জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং সেনাবাহিনীর তিন প্রধানকে এক সপ্তাহ আগের একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই এবং অন্যান্য চীনা নেতারা অবহিত করেছেন।

বিশেষ করে তিন জন পাকিস্তানী কমান্ডারের সঙ্গে আলোচনার সময় চীনারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য জোর দিয়েছে। এই পাকিস্তানীদের তিন দিনের পিকিং সফরের সময় ভারপ্রাপ্ত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী চি পেং ফি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘ভারতের অমার্জনীয় হস্তক্ষেপ’-এর নিন্দা করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত, যুদ্ধের মাধ্যমে নয়।

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে চীনাদের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করে বলা হয়, ভুট্টোর সফরের ফলশ্রুতিতে কোন যৌথ ইশতেহার প্রকাশিত হয়নি, এর বিপরীতে ভারতের প্রতি সোভিয়েত প্রতিশ্রুতি ব্যাপক প্রচারণা পায়।
চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া গত সপ্তাহে ভারত সম্পর্কে মন্তব্য করে আগের সাত মাসে পূর্ব ভারতের সম্প্রসারণবাদ নীতিকে নিন্দা করা হয়েছিল।

ভারত-পাকিস্তান সমস্যায় চীনের কৌশলগত অবস্থানের পেছনে কুটনৈতিক সূত্র মতে চারটি কারণ রয়েছে:
১. চীন দেখাতে চায় যে জাতিসংঘে দেশটির অন্তর্ভূক্তির ফলে এই বিশ্ব সংস্থাটি আরও দক্ষ হয়ে উঠেছে।

২. চৌ এন লাই-এর কুটনৈতিক পরিকল্পনা হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে (দক্ষিণ এশিয়াও) দুটি পরাশক্তির দ্বন্দ্ব বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের হাত থেকে রক্ষা করা।

৩. ভারতের সঙ্গে আঁতাত সৃষ্টির সুযোগ নষ্ট হয়—এমন পদক্ষেপ নেয়ার প্রশ্নে পিকিং অনাগ্রহী থাকবে। জাতিসংঘে চীনের অন্তর্ভূক্তির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী চৌ এবং ইন্দিরা টেলিগ্রাম বিনিময় করেছেন। মিসেস গান্ধী বলেছেন, বিশ্ব সংস্থায় তিনি চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এবং চৌ এন লাই বলেছেন চীন ও ভারতের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি পিকিং-এ অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশীয় টেবিল টেনিস টুর্নামেন্টে চীন ভারতীয় দলকে স্বাগত জানিয়েছে এবং গত ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম দুজন ভারতীয় সাংবাদিককে চীন আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

৪. স্বাধীন বাংলাদেশ না চীনের স্বার্থ, না চীনের আদর্শ—কোনটাই রক্ষা করবে না।

চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের মৈত্রীর সম্পর্ক এতে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ভারসাম্য ওলটপালট হয়ে যাবে।
ভুট্টোর সফরের সময় চি পেং ফি তাঁর ভাষণে পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গালমন্দ করেন এবং বলেন, কেবলমাত্র পাকিস্তানী জনগণই যুক্তিযুক্ত পথে পুর্ব পাকিস্তান সমস্যার নিষ্পত্তি করবে।
এই ভাষণে পূর্ব পাকিস্তান সমস্যার সমাধানে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ববাদী হস্তক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানানো হয়নি।
(সম্পূর্ণ…)

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে আর্টস-এ প্রকাশিত কিছু লেখা

| ১৪ december ২০১০ ৮:১১ অপরাহ্ন

[২০০৭ সালে শুরু থেকে আর্টস্-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো থেকে বাছাই করা কিছু লেখার লিংক একসাথে এখানে দেয়া হলো।-বি.স.]

ইতিহাসের দায় ও সাহিত্যের অভিপ্রায়
মফিদুল হক | ২৭ মার্চ ২০১০

carrying-woman.jpg দেশভাগের বাস্তবতা বাংলায় বয়ে এনেছিল বিশাল এক অবাঙালি জনগোষ্ঠীকে যারা নিজেদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ‘মুসলমানের আবাসভূমি’-তে। তারা বয়ে এনেছিলেন ভিন্ন ভাষা ভিন্ন সংস্কৃতি এবং বাংলা তো সবসময়ে ভিন্নতাকে আলিঙ্গন করেছে, মিলনে মিশ্রণে বাঙালি সংস্কৃতি পেয়েছে নতুন প্রাণময়তা। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ছিল কুটিল জটিল চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি।
পুরোটা পড়ুন

ধর্ষিত বাংলাদেশ: মানবেতিহাসের কৃষ্ণতম অধ্যায়/আহমেদ মাখদুম
অনুবাদ: মফিদুল হক | ২২ ডিসেম্বর ২০০৯

আমি যখন গোপন অবস্থান থেকে বের হয়ে আসি ততদিনে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। আমার বাঙালি বন্ধুরা আমাকে সাহায্য করে, আশ্রয় ও আহার যোগায়, যত্ন-আত্তি নেয় এবং ভালোবাসা, প্রীতি ও করুণায় সিক্ত করে। তাঁরা আমার সিঙ্গাপুর যাওয়ার বিমান-ভাড়ার ব্যবস্থা করে দেয়, যেখানে আমি নতুন জীবন শুরু করি, উন্মোচিত হয় জীবনের আরেক অধ্যায়, আমার মাতৃভূমি আমার পিতৃভূমি সিন্ধু থেকে বহু বহু যোজন দূরে।
পুরোটা পড়ুন

স্মৃতি: ষোলই-ডিসেম্বর ঊনিশ শ’ একাত্তর
রবিউল হুসাইন | ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯

mukti_lady.jpg হঠাৎ এক মুক্তিযোদ্ধা বন্ধু আমার পোশাকের দিকে তাকিয়ে বেশ কড়া সুরে বলে উঠলো, খুব আরামেই ছিলে। আমরা যুদ্ধ করে মরি আর তোমরা দেখা যাচ্ছে কোট-টাই পরে বেশ আরাম-আয়েশেই ছিলে। তারপর দুহাতে বুকে জড়িয়ে ধরে হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠলো, ভাঙা গলায় আবার বলে উঠলো, আমরা সত্যিই কি স্বাধীনতা পেলাম আমরা কি সত্যিই স্বাধীন হলাম, না কি স্বপ্ন দেখছি।

পুরোটা পড়ুন

সাংস্কৃতিক মানচিত্রে মিরপুর
মফিদুল হক | ৭ মে ২০০৯

কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে হাজারো মানুষকে হত্যা করার প্রায় এক ইণ্ডাস্ট্রিয়াল মেথড, মানুষের নিষ্ঠুরতা ও পাশবিকতার অতলস্পর্শী পতন। তবুও বিজয়ের আনন্দ ও মাহাত্ম্য তা কোনোভাবে খর্ব করতে পারে না, কেননা সেই বিজয় ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের, দানবের বিরুদ্ধে মানবের। কিন্তু বাংলাদেশের বিজয়ের সঙ্গে বেদনার যে মিশেল তার নিকট তুলনা খুঁজে পাওয়া ভার।

পুরোটা পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র
আহমাদ মাযহার| ২৭ মার্চ ২০০৯

যুদ্ধশেষে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে যে চলচ্চিত্র কর্মীরা মাঠে নেমেছিলেন তার পরিচয় মেলে ঢাকায় নির্মিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা থেকেই। ১৯৬৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল ৩৩টি, ১৯৭০ সালে সেটা বেড়ে হয়েছিল ৪১টি, যুদ্ধের আগে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছাড়া ১৯৭১-এ আর কোনও ছবি নির্মাণ সম্ভব ছিল না। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে যুদ্ধের আগের নির্মীয়মান ছবিসহ ৭২ সালেই ২৯টি ছবির মুক্তি পাওয়ার মধ্যে নিশ্চয়ই উদ্দীপিত চলচ্চিত্র-সমাজেরই পরিচয় পাওয়া যায়।
পুরোটা পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি: ছত্রপুর, ময়মনসিংহ
শামসুজ্জামান খান| ২৬ মার্চ ২০০৯

bangladesh-mukti-bahini.jpg আমাদের মিটিং যখন শেষ হয়েছে ঢাকায় তখন শিয়াল-কুকুরের মতোই মানুষ মারার সব আয়োজন সম্পন্ন করছে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী। এবং গভীর রাতে শুরু হয়েছে ইতিহাসের সেই নিষ্ঠুরতম অভিযান। ২৬ শে মার্চ ছিলো সাপ্তাহিক ছুটির দিন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক এলাকার আমরা তখন যে যার মতো ঘরে বসে আয়েস করছি বা কোনো কাজ। কেউ কেউ বাজার করতে গেছেন শহরে। আগের রাতে ঢাকায় কী ঘটে গেছে তার কিছুই জানি না তখনো। এমনি সময় খবর এলো উপাচার্য কাজী ফজলুর রহিম তক্ষুনি সকল শিক্ষক, কর্মচারীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথিশালার সামনে সমবেত হতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

পুরোটা পড়ুন

সংযোজন: রৌরববাস, ২৫ মার্চ ১৯৭১
মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৫ মার্চ ২০০৯

wali-2.jpg জীবনে প্রথম চলন্ত ট্যাঙ্কের ধাক্কায় ব্যারিকেড গুঁড়িয়ে যেতে দেখলাম। সাঁজোয়া গাড়িগুলো রাস্তার অল্প আলোয় কালচে দানবের মতো নিউমার্কেটমুখো গড়িয়ে গেল। ভেরিলাইট পিস্তল থেকে ছোঁড়া আলোকসম্পাতী লাল-নীল-সবুজ-হলুদ আলোর মালাগুলো এলিফ্যান্ট রোড-নিউমার্কেট-পিলখানা এলাকা দিনের মতো উদ্ভাসিত করে তুলছে। পাকিরা ওপর দিকেও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ছে অবিশ্রাম, বোধকরি ঢাকাবাসীকে ব্যাপকভাবে আতঙ্কিত করা ওদের লক্ষ্য।
পুরোটা পড়ুন

পদ্মাপারের কড়চা
মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৮

যাবি কিভাবে? খালা চিন্তিত মুখে বলেন, এখানে থানা অফিসাররা সবাই সাইকেলে ট্যুর করে। আর পেতে পার ঘোড়ার গাড়ি। বাহ্, তাহলে তো বেশ হয়, পান্নুভাই জেগে উঠে জায়গা মতো তার মতামত দেন। এখান থেকে নাড়–য়ার পথে প্রথমে পড়বে আউয়াল ভাইয়ের ডাক্তারখানা, নিরুখালা আবার চিন্তামগ্ন হন, কিন্তু তাকে তো সব সময় বালিয়াকান্দিতে পাবে না। সাতদিন এখানে তো পরের সপ্তাহে রাজবাড়ি–এই তার রুটিন।
পুরোটা পড়ুন

শিমূলের বিজয়োৎসব
মীর ওয়ালীউজ্জামান | ৩১ জানুয়ারি ২০০৮

ওরা চারজনে পথে নামে আবার। ছোট্ট মহকুমা শহর। ছোট ছোট টিনের বাড়ি। সিলেট অঞ্চলে সেসময় অধিকাংশ বাড়িঘর ঐ বাংলো মতোই তৈরি করা হত। বড় বাংলোগুলোর বয়স বহু দশক পেরিয়েছে। টেকসইও বটে। এসডিও’র অফিস-বাসা পার হয়ে ওরা মুন্সেফ ইফতেখার রসুলের বাড়ির সামনে পৌঁছে গেল। সন্ধ্যে ঘনিয়েছে। ইফতি সাহেব একা থাকেন। পরিবার ঢাকায়। শিমূল লম্বা পা ফেলে, বাগানের ফুলগাছে হাত ছুঁইয়ে, বারান্দায় উঠে কড়া নাড়ল, মুন্সেফ সাহেব কি আছেন বাড়িতে?
পুরোটা পড়ুন
(সম্পূর্ণ…)

সূফীবাদ নিয়ে ফ্রান্স দূতাবাস ও দ্য সেন্টার ফর অলটারনেটিভস্-এর সেমিনার

এস এম রেজাউল করিম | ১২ december ২০১০ ৫:৪৭ অপরাহ্ন

sufi_3.jpg
‘সূফী ও সূফীবাদ’ বিষয়ে সেমিনারে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত (বাঁ দিক থেকে দ্বিতীয়) ও তিনজন আলোচক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের হলরুমে ‘Sufis and Sufism’ নামে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হলো ১ ডিসেম্বর ২০১০। ঢাকাস্থ ফ্রান্স দূতাবাস এবং দ্য সেন্টার ফর অলটারনেটিভস্-এর যৌথ আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। সেমিনারে পাঁচটি লিখিত ও অলিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন পাঁচজন বক্তা। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ও ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত শার্ল কসেরেত-এর স্বাগত বক্তব্যের পরে পরে শুরু হয় মূল বিষয়ের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন। পুরো সেমিনারে বক্তব্য উপস্থাপন ও পরবর্তিতে শ্রোতাদের প্রশ্ন এবং বক্তাদের উত্তরপর্ব চালিত হয় ইংরেজিতে। প্রথম প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। তাঁর প্রবন্ধের শিরোনাম ছিলো ‘সূফী ও সূফীবাদ (Sufis and Sufism)’। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আলীমূর রহমান খান ‘ইবনে আরাবি ও সূফীবাদ (Ibn Arabi & Sufism)’, অ্যালিক্স ফিলিপ্পন ‘বারালভী আন্দোলন ও তার বহু নও-সূফী ধারা (Barelwi Movement and Its Many Neo-Sufi Orders)’, তানভীর মোকাম্মেল ‘লালন ও সূফীবাদ (Lalon & Sufism)’ এবং সবশেষে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ সামসুল হক ‘সূফীবাদ ও ঠাকুর (Sufism and Tagore)’। সেমিনারের আয়োজকপক্ষ জানানো হয় যে একই নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হবে। প্রকাশিতব্য গ্রন্থের পূর্বসূত্র হিসেবে এই সেমিনারটি আয়োজন করা হয়েছে।

—————————————————————–
ইবনে আরাবির শিষ্য আবদুল কাদের জিলানী ত্রয়োদশ শতকে ভারতবর্ষে তাঁর মতবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ‘সহিহ্’ ইসলামপন্থার কাছ থেকে বড় কোন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েননি। একইভাবে বাংলাদেশের নেত্রকোনা ও নারায়নগঞ্জে সূফী-পীরগণ নিজ নিজ মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পেরেছেন বড় কোন বাধা ছাড়াই। এক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো—এই সূফীগণ কোরান ও হাদিসনির্ভর কোন অর্থডক্স ইসলাম প্রচার করেননি। কিন্তু পরবর্তিতে বাগদাদে সুলতানদের উত্থানের ফলে সূফী-পীরগণ সুলতানদের দিক থেকে হুমকির মুখে পড়েন। এই বিষয়টির বিশ্লেষণে তিনি বলেন, ‘সূফীবাদ’ ‘ওয়াহদাত আল-উজুদ’ বা সৃষ্টিকর্তার সাথে সৃষ্টির অভিন্নতার যেই মত দেয়—সেটি আসলে ‘সহিহ্’ ইসলামের দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তখনই যখন রাষ্ট্রীয় তৎপরতার সাথে ইসলামকে যুক্ত করা হয় বা ইসলাম শাসনকর্মের একটি উপাদান হয়ে ওঠে।
—————————————————————-

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সূফীবাদ’ একটি টার্ম হিসেবে প্রবর্তন করেন ইউরোপীয় প্রাচ্যবাদীগণ, আঠারো শতকের শেষ নাগাদ। প্রাচ্য সংস্কৃতির কিছু ক্ষেত্র যেগুলো ইউরোপীয় প্রাচ্যবাদীগণের কাছে আকর্ষণীয় লেগেছিলো সেগুলোকে তাঁরা ‘সূফীজম’ হিসেবে সনাক্ত করেন। প্রাচ্যবাদীগণ ‘ইসলাম’ ও ‘সূফীবাদ’ আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করেন যেখানে ‘ইসলাম’-এর অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হলো ‘কঠোর আইনী কাঠামো’ আর ‘সূফীবাদ’ হলো ‘ধর্মের সারমর্ম’। পরবর্তিতে প্রাচ্যের আধুনিকতাবাদী এবং ‘সহিহ্’ ইসলাম পন্থি—উভয়েই টার্ম হিসেবে সূফীবাদকে গ্রহণ করে নেয়। যদিও বহুক্ষেত্রেই তাঁরা ‘সূফীবাদ’-এর বৈশিষ্ট্য চিহ্নিতকরণে প্রাচ্যবাদীদের সাথে দ্বিমত করেছেন।
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

টেকচাঁদ ঠাকুরের মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯)

| ১২ december ২০১০ ৪:৫০ অপরাহ্ন

mod-khaowa.jpg

টেকচাঁদ ঠাকুর ওরফে প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মায়ের নাম জানা যায় না, বাবার নাম ছিলো রামনারায়ণ মিত্র। তখনো ভারতের রাষ্ট্রভাষা ফার্সি। সম্ভবতঃ সে কারণে মুনশী’র নিকট তাঁকে ফার্সি শিখানো হয়। বাংলা তাঁর পারিবারিক ভাষা ছিলো, আর বাংলার পঠন-লিখন জ্ঞান লাভ করেন পণ্ডিতের কাছে। এছাড়া বেথুন স্কুল ও হিন্দু কলেজে ইংরেজি ভাষা শেখেন। কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয়।

পাবলিক লাইব্রেরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্যারীচাঁদ একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কয়েকটি বিনিয়োগ কোম্পানির অংশীদার ও পরিচালক ছিলেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল কোম্পানি লিমিটেড, পোর্ট ক্যানিং গ্রান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি এবং হাওড়া ডকিং কোম্পানি। তিনি কয়েকটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। জ্ঞানোপার্জিকা সভা (১৮৩০), বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি (১৮৪৩), ডেভিড হেয়ার মেমোরিয়াল সোসাইটি (১৮৪৪), রেস ক্লাব (১৮৪৭), এগ্রিকালচারাল এন্ড হর্টিকালচারাল সোসাইটি (১৮৪৭), বেথুন সোসাইটি (১৮৫১) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও প্যারীচাঁদ মিত্র বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সম্মানসূচক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। যেমন : জাস্টিস অব পিস (১৮৬৩), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো (১৮৬৪), জেল ও কিশোর অপরাধীদের সংশোধন কেন্দ্রের পরিদর্শক (১৮৬৪), কলকাতা হাইকোর্টের গ্রান্ড জুরি (১৮৬৮-১৮৭০), বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য (১৮৬৮-১৮৭০), কলকাতা মিউনিসিপ্যাল বোর্ডের অবৈতনিক ম্যাজিস্ট্রেট প্রভৃতি।

বাংলা ভাষায় দ্বিতীয় উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৭) প্যারীচাঁদ মিত্রের রচনা। উপন্যাসটি ইংরেজিতেও অনুবাদ করা হয়েছিলো ‘The spoiled child’ নামে। এছাড়াও লিখেছেন ‘রামারঞ্জিকা’ (১৮৬০), ‘কৃষিপাঠ’ (১৮৬১), ‘ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত’ (১৮৭৮) এবং ‘বামাতোষিণী’ (১৮৮১)। ‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়’ ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়–যেখানে লেখকের নাম হিসেবে পাওয়া যায় টেকচাঁদ ঠাকুর। উনিশ শতকের কলকাতার শিক্ষিত বাঙালিদের, বিশেষত পুরুষদের জীবনযাপন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক রচনা ‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়’।
(সম্পূর্ণ…)

রোকেয়া: এক আদর্শবাদী মানুষের প্রতিকৃতি

বেবী মওদুদ | ৯ december ২০১০ ১:০৫ অপরাহ্ন

br2.jpg
মিসেস্‌ আর, এস্‌, হোসেন (রোকেয়া)

এক

বাঙালি নারী জাগরণের জননী রোকেয়া কেমন ছিলেন, তার জীবনযাপন কেমন ছিল–এসব নিয়ে আজকের গবেষকরা তথ্য অনুসন্ধান করে থাকেন। এ সম্পর্কে রোকেয়ার লেখা চিঠিপত্র, রচনাবলী এবং ঘনিষ্ঠজনদের লেখা পড়লে তাঁর সম্পর্কে গভীরভাবে কিছু পাওয়া যায়। তাঁর প্রথম জীবনীকার শামসুন্নাহার মাহমুদের লেখা রোকেয়া জীবনী আমাদের একমাত্র অবলম্বন। রোকেয়ার স্নেহাস্পদ ছিলেন তিনি, রোকেয়াকে খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে তিনি জেনেছিলেন বলেই এ গ্রন্থটি লিখতে ও প্রকাশ করতে সমর্থ হন। আজ রোকেয়াকে নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা তা প্রতিষ্ঠা করার পেছনে এ গ্রন্থটির অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রোকেয়া জীবিত থাকতেই এ গ্রন্থ রচনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন শামসুন্নাহার মাহমুদ। তিনি রোকেয়ার মুখ থেকেও কিছু তথ্য সংগ্রহ করেন। অক্টোবর ১৯৩৭ সালে এ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। রোকেয়ার মৃত্যুর ১৬ বছর পর। তবে ১৯৩৬ সালে এটি কলকাতায় বুলবুল পত্রিকায় প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
—————————————————————–
“শৈশবে বাপের আদর পাইনি, বিবাহিত জীবনে কেবল স্বামীর রোগের সেবা করেছি। প্রত্যহ ইউরিন পরীক্ষা করেছি, পথ্য রেঁধেছি, ডাক্তারকে চিঠি লিখেছি। দু’বার মা হয়েছিলুম-তাদেরও প্রাণভরে কোলে নিতে পারিনি। একজন ৫ মাস বয়সে, অপরটি ৪ মাস বয়সে চলে গেছে। আর এই ২২ বৎসর যাবৎ বৈধব্যের আগুনে পুড়ছি। … আমি আমার ব্যর্থ জীবন নিয়ে হেসে খেলে দিন গুনছি।” (পত্র নং-৯)
—————————————————————-
রোকেয়া জীবিত থাকতেই তাঁর গ্রন্থগুলো প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন নারী সংগঠনের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়। পঞ্চাশের দশকে প্রাইমারীর বাংলা পাঠ্য বইয়ে রোকেয়া জীবনীর কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত হলে, তাঁর সম্পর্কে জানার ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়। কিন্তু রোকেয়া জীবনী গ্রন্থটিও দুষ্প্রাপ্য ছিল। তবে মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে রোকেয়ার লেখা কবিতা ‘চাঁদ’ ও কল্পকাহিনী ‘নারী স্থান’ লেখাটির কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। (সম্পূর্ণ…)

ইস্তানবুলে ঘোরাঘুরি (কিস্তি ৩)

মেখলা হক | ৮ december ২০১০ ১০:১৭ অপরাহ্ন

(প্রথম কিস্তি)

jei room Hajrat der beborito jinish rakha aache tar probesh pother upore rakha bati.JPG
টপকাপি প্যালেসে হযরতদের ব্যবহৃত জিনিস রাখার ঘরে ঢোকার মুখে দরজার ওপরে বাতি।

(কিস্তি ২-এর পরে)

তৃতীয় দিন । ২৮ নভেম্বর ২০১০

আজ বেশ মজার কিছু ঘটনা ঘটলো।

আমার বোন কোথাও গেলে স্থানীয়দের সম্পর্কে জানতে খুব পছন্দ করে। আমি ইস্তানবুলে মূলত অফিসের কাজের জন্য এসেছি। প্লেনে ওঠার পর থেকে ও “তোর অফিসের কলিগের বাসায় দাওয়াত নে” বলে আমাকে খোঁচাতে লাগলো। দিদিভাই এটা করে খুব মজা পায়।

DSC03683.JPG…….
ফলের গুচ্ছ।
……..
যাই হোক, সকালে হোটেলের নিচের দোকান থেকে চন্দনা আপা যখন জিনিস কিনছেন আমরা দোকানের মেয়ে দুটোর সাথে বেশ খাতির করে ফেললাম। এখানকার মানুষরা খুব আন্তরিক। বাট দেখলাম বেশ কৌতূহলীও, কোন দেশ থেকে আমরা এসেছি তা জানার ব্যাপারে। আমাদের প্রথমেই জিজ্ঞেস করে আমরা ভারত থেকে কিনা আর আমরা খুব গম্ভীরভাবে উত্তর দেই, আমরা বাংলাদেশী। এই দোকানেও এই দিয়েই শুরু। দোকানের ২৩ বছরের সুন্দরী এই মেয়েটির ইচ্ছে হলো আমাদের বয়স জানার। আমাদের একজনের ৩৭, আরেক জনের ৩৯ জেনে তার আক্কেল গুড়ুম। গল্প করে জানতে পারলাম, এরা একজন এখানকার। আর আরেক জন এসেছে আন্টালিয়া থেকে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com