ইস্তানবুলে ঘোরাঘুরি (কিস্তি ২)

মেখলা হক | ২৯ নভেম্বর ২০১০ ৩:৪৯ অপরাহ্ন

(প্রথম কিস্তি)

blue-mosque-1.jpg
হোটেল আরারাত থেকে দেখা ব্লু মস্ক

(কিস্তি ১-এর পরে)

২য় দিন । ২৭ শে নভেম্বর ২০১০

এখানকার সময় ভোর চারটায় গেল ঘুম ভেঙে। জানালা দিয়ে ব্লু মস্ক। ঘণ্টায় ঘণ্টায় আলোর সাথে সাথে রূপ পাল্টাচ্ছে। জানালাটা ছবি তোলার জন্য খোলার সাথে সাথে হু হু করে ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকলো। আমাদের হোটেলের সামনে দিয়ে সব টুরিস্টের বাস যাওয়া শুরু হয়ে গেছে। ছাদে নাস্তা খেতে গিয়ে দেখলাম একদিকে মারমারা সাগর আরেকদিকে ব্লু মস্ক। আমরা প্ল্যান করলাম প্রথমে ব্লু মস্ক দেখে তারপর হায়া সোফিয়া দেখবো। মজা লাগলো দেখে যে এখানকার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কোনো জড়তা নাই। মেয়েরা হিজাব করে বোরখা পরেও কত সহজে জড়তাহীন ভাবে চলাফেরা করছে, জীবনকে উপভোগ করছে।

grand-bazar.jpg
গ্রান্ড বাজার

ব্লু মস্ক প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো, অটোমানদের সময়ে তৈরি। ব্লু মস্কের ভেতরে ঢোকার পরে নিচু ঝাড়বাতি আর রঙিন কাচের কারুকাজ দেখে আমি, দিদিভাই আর চন্দনা আপা খটাখট ক্যামেরার শাটার টিপতে লাগলাম। কোন অ্যাঙ্গেল ছেড়ে কোন অ্যাঙ্গেল থেকে তুলবো বুঝেই পাচ্ছিলাম না। প্রচুর ট্যুরিস্টের ভিড়ে ঠিক মতো দাঁড়াতেও পারছিলাম না।

যাই হোক, ধাক্কাধাক্কি করে বেরিয়ে আসার পর, সামনে বেশ কিছুক্ষণ বসে ব্লু মস্কের সৌন্দর্য হজম করার চেষ্টা করলাম। (সম্পূর্ণ…)

অদ্ভুত মানুষসকল এবং একজন ঘোড়া

নাদিয়া ইসলাম | ২৮ নভেম্বর ২০১০ ৯:১২ অপরাহ্ন

stub.jpg
স্ট্রাটফোর্ডের স্টারবাকস, ছবি. গুগল আর্থ

জন লুকের সাথে আমার পরিচয় হইছিল স্ট্রাটফোর্ডের শপিং সেন্টারের বাইরে। আমি স্টারবাকসের কুনায় বইসা বইসা ট্যাজো-র চাই টি ল্যাটে ও বিরি খাইতেছিলাম, তখন আধা চাইনিজ আধা ক্যারিবিয়ান একজন লোক আমার পাশে আইসা বসলেন। আগুন চাইলেন। রাস্তা থাইকা কুরায়া আনা একটা সিগারেটে আগুন ধরায়া নাম বললেন: জন লুক।

frlogo.jpg…….
“…ফেরারি বানানো হইছে আমারে সম্মান দেখায়ে। দেকছো তো লোগোটা!”
……..
আমি একটু অবাক হইয়া তাকাইলাম! এইটা তো খ্রীশ্চান নাম! তখন উনি উনার টানা চোখ ও চ্যাপ্টা নাকের দিকে পয়েন্ট আউট কইরা কইলেন উনার জন্ম একজন কালো ক্রীতদাসীর পেটে। উনার বাপ শ্যাং ডাইন্যাস্টির একজন রাজা আছিলেন। উনার জন্ম যীশু খ্রীস্টের জন্মের প্রায় দেড় হাজার বছর আগে। (সম্পূর্ণ…)

ইস্তানবুলে ঘোরাঘুরি (কিস্তি ১)

মেখলা হক | ২৮ নভেম্বর ২০১০ ৩:৪৮ অপরাহ্ন

প্রথম দিন । ২৬ নভেম্বর ২০১০

mh2.jpg
হোটেল আরারাতের জানালা থেকে ব্লু মস্ক

২৬ নভেম্বর ২০১০ তারিখে আমরা তিনজন ইন্তানবুল এসে পৌঁছালাম। গত বছরে শীতে এসেছিলাম, আর এই বছরেও এই শীতেই আসা হলো আমার। টেম্পারেচার ১২-১৬ হলেও কনকনে বাতাস হাড্ডিতে গিয়ে লাগে। আমরা ব্লু মস্কের সবচেয়ে কাছের ছোট্ট একটা হোটেলে উঠেছি। আমার কাছে এখানকার সবচেয়ে রঙিন আর বৈচিত্র্যময় এলাকা এটা। সুলতানআহমেত — ব্লু মস্ক, টপকাপি, হায়া সোফিয়া আর প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো গ্র্যান্ড মার্কেট সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়।

গতবারে অফিসের কাজে মাত্র ৩ দিনের জন্য ছিলাম। শেষ দিনে দৌড়ে দৌড়ে ২/৩ টা জায়গা ছাড়া কিছুই দেখা হয়নি। এবার ভালো করে ঘোরা, দেখা, উপভোগ করা–সব হবে। শুনেছি তুরস্কের যে কোনো গয়না খুব সুন্দর হয়। না কিনলেও এটা দেখার খুব শখ। আসতে আসতে দিদিভাই (আমার বড় বোন), চন্দনা আপা, আর আমি শুধু জল্পনা-কল্পনা করতে করতে এসেছি কী কী করা যায়। (সম্পূর্ণ…)

নীলফামারী’তে মাঠ গবেষণা

মানস চৌধুরী | ২৫ নভেম্বর ২০১০ ৭:২৫ অপরাহ্ন

‘কী খাবেন দরবেশ বাবা?’ অতি পুরাতন চায়ের দোকানের দোকানি তাঁর শরীর আমার দাড়িওয়ালা মুখের উপর প্রায় পুরোটা ঝুঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি একটা লুঙ্গি আর কুর্তা ধরনের শার্ট পরে আছেন। তার সাথে গলায় আছে গোলাপি কিসিমের প্রায় বিবর্ণ হয়ে-আসা একটা সুতো, কোনো মাজার থেকে আনা হবে। তাঁর নিশ্বাসে আবছা একটা সিদ্ধির গন্ধ। আমি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম, কিন্তু মুখের হাসিটা ছাড়লাম না।

‘চা! এক কাপ চায়েই আমার চলবে।’

কিন্তু আহসান আমার তরফে একটা প্রতিবাদ করা জরুরি মনে করল।

‘দেখেন, উনি কিন্তু আমাদের শিক্ষক।’ ও বলল। কিন্তু দোকানির তা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা হলো বলে মনে হলো না। ক্যাশবাক্সের দিকে হেঁটে গেলেন, একটা ছোট ছেলে ওয়েটার–তাকে হুকুম করলেন আমাদের দু’কাপ চা দিতে, তারপর বিড়বিড় করলেন প্রায় আপনমনেই ‘কিন্তু আমার দোকানে এসে কিছু একটা খাওয়া উচিত ছিল আপনার।’

প্ল্যাস্টার চটে গিয়ে দেয়ালের জায়গায় জায়গায় নাঙ্গা হয়ে বেরিয়ে গেছে, মাথার উপরে গোকুলে কৃষ্ণ একটা এক পৃষ্ঠার ক্যালেন্ডার ঝোলানো, আর তার পাশে বাবা লোকনাথ-এর একটা ফ্রেম-বাঁধানো ফোটো। আমরা একটা নিচু বেঞ্চে বসে, আর আমাদের সামনে আঁকাবাঁকা একটা লম্বা উঁচু বেঞ্চ টেবিলের কাজ করছে, হাইস্কুলে যেমনটা হতো। ৬০ ওয়াটের বাতিটা টিমটিমে আলো দিচ্ছে, ধোঁয়ার একটা চক্রাকার জাল, সাথে মাকড়শার জাল আর পিছনে ঘন ভাঙাচোরা দেয়ালের পশ্চাদপট সবকিছু মিলে থিয়েটারের কোনো এক দুর্দান্ত লাইট ডিরেক্টরকে মনে করিয়ে দেয়।
(সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি (১৯১০)

| ২৪ নভেম্বর ২০১০ ৯:৩৮ অপরাহ্ন

রূপসী বাংলা

১৫৭টি গীত নিয়ে গীতাঞ্জলি প্রথম প্রকাশিত হয় আগস্ট ১৯১০ (ভাদ্র, ১৩১৭ বঙ্গাব্দ) খৃষ্টাব্দে, শান্তিনিকেতন গ্রন্থনবিভাগ থেকে। ‘শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ নাম স্বাক্ষরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিজ্ঞাপন (নিচে উদ্ধৃত) করেন শুরুতে।

বিজ্ঞাপন

এই গ্রন্থের প্রথমে কয়েকটি গান পূর্বে অন্য দুই-একটি পুস্তকে প্রকাশিত হইয়াছে। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে যে-সমস্ত গান পরে পরে রচিত হইয়াছে তাহাদের পরস্পরের মধ্যে একটি ভাবের ঐক্য থাকা সম্ভবপর মনে করিয়া তাহাদের সকলগুলিই এই পুস্তকে একত্রে বাহির করা হইল।

শান্তিনিকেতন ……………………শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বোলপুর
৩১ শ্রাবণ ১৩১৭
(সম্পূর্ণ…)

গোলাপের নাম

উম্‌বের্তো একো

জি এইচ হাবীব | ১৯ নভেম্বর ২০১০ ৫:২৮ অপরাহ্ন

umberto-eco.jpg
উম্‌বের্তো একো

অনুবাদ: জি এইচ হাবীব

লিংক: কিস্তি ১

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৫
———————————————————————————

(কিস্তি ৪-এর পরে)

বি কে ল দু টো থে কে তি ন টে র দি কে

উইলিয়ামের সঙ্গে ভেষজবিদ সেভেরিনাসের অতি পাণ্ডিত্যপূর্ণ কথপোকথন

আবার আমরা মাঝ নেইভ[৮৮] ধ’রে হেঁটে সেই দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলাম যেটা দিয়ে ঢুকেছিলাম। তখনো উবার্তিনোর কথাগুলো, প্রত্যেকটা শব্দ, গুঞ্জন করছিল আমার মাথায়।

‘লোকটা… বড্ড অদ্ভুত,’ সাহস ক’রে না বলে পারলাম না উইলিয়ামকে।

‘অনেক দিক থেকেই মহৎ একজন লোক উনি, দীর্ঘদিন ধরেই। কিন্তু এই কারণেই উনি অদ্ভুত। কেবল তুচ্ছ লোকজনকেই স্বাভাবিক বলে মনে হয়। যে-সমস্ত হেরেটিককে আগুনে পুড়ে মরতে তিনি সাহায্য করেছেন, উবার্তিনো কিন্তু তাদেরই মতো একজন হতে পারতেন, আবার হতে পারতেন হোলি রোমান চার্চের কার্ডিনাল-ও। এই দুই বিকৃতিরই খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন তিনি। উবার্তিনোর সঙ্গে যখন আমি কথা বলি আমার তখন মনে হয় নরক হচ্ছে উল্টো দিক থেকে দেখা স্বর্গ।’

কথাটার মানে ধরতে পারলাম না আমি। জিগ্যেস করলাম, ‘কোন দিক থেকে?’

rose5_1.jpg……..
প্রচ্ছদ, দা নেম অফ দা রোজ
………>
উইলিয়াম সমস্যাটা স্বীকার করলেন, ‘হুঁ, তা, ঠিক। ব্যাপারটা হচ্ছে আদৌ কোনো দিক রয়েছে কিনা, আর আদৌ কোনো সম্পূর্ণ জিনিস রয়েছে কিনা তা জানা। কিন্তু আমাকে বিশেষ আমল দিও না। আর ওই প্রবেশপথটার দিকে তাকানো বন্ধ করো,’ ভেতরে ঢোকার সময় দেখা মূর্তিগুলোর দিকে আকৃষ্ট হয়ে আমি ঘুরে দাঁড়াচ্ছি এমন সময় আমার ঘাড়ে আলতো একটা টোকা দিয়ে বললেন উইলিয়াম। ‘আজকের মতো যথেষ্ট ভয় দেখিয়েছে ওগুলো তোমাকে। সবগুলোই।’

বেরোবার পথের দিকে পিঠ ফেরাতে সামনে আরেক সন্ন্যাসীকে দেখতে পেলাম আমি। উইলিয়ামেরই বয়েসী হবেন। মৃদু হেসে আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানালেন তিনি আমাদের। বললেন তিনি সাঙ্ক্্ট্ ভেনডেল-এর সেভেরিনাস, স্নানাগার, হাসপাতাল আর বাগানগুলোর দায়িত্বে আছেন, তাছাড়া, মঠ-এর কম্পাউন্ডটা যদি আমরা আরো ভালো ক’রে ঘুরে দেখতে চাই তাহলে তিনি আমাদের সেবায় নিয়োজিত হবেন। (সম্পূর্ণ…)

লেখক সংবাদ

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ১৭ নভেম্বর ২০১০ ১২:১০ অপরাহ্ন


উম্মে মুসলিমানান্নু মাহবুব

রশীদ হায়দারউম্মে মুসলিমানান্নু মাহবুব

রশীদ হায়দার

রশীদ হায়দার…….
রশীদ হায়দার (জন্ম: দোহারপাড়া, পাবনা ১৫ জুলাই ১৯৪১)
…….
এই সময়ে কি লিখছেন জানতে চাই রশীদ হায়দারের কাছে। তিনি বলেন, “আমি আসলে এই মুহূর্তে তেমন কিছু লিখছি না। মৌলিক লেখা তেমন হচ্ছে না বলে আমি কিছু অনুবাদ ও ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। আমি আসলে লেখালেখির ক্ষেত্রে এখন যাকে বলে খুব সিলেকটিভ হয়ে গেছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে লেখাটি আমার মন মত হবে না সে লেখাটি আমি কোথাও দেব না। কিন্তু খুব হালকা ধরনের কিছু লেখা আমি এখন লিখছি যেমন, সম্প্রতি আমি আমেরিকা গিয়েছিলাম সেখানে আমার কিছু ভ্রমণের সুযোগ ঘটেছে। সে সব বিষয় নিয়ে কিছু লেখালেখি করার কথা ভাবছি।” তারপরে বলেন, “আর এখন যে কাজটি আমাকে শীঘ্রই ধরতে হবে তা হল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কিছু লেখালেখি। মোদ্দা কথা হচ্ছে, আমি এখন যে খুব বড় ধরনের কোন কাজ করছি সেটা নয়। তবে আমার মাঝে মাঝে কিন্তু এরকম কিছু সময় যায় যেটাকে বলে ব্যারেন পিরিয়ড বা নিষ্ফলা সময়। এটা মাঝে মাঝে হয়। তো এরকম একটা সময় এখন আমার যাচ্ছে। তাই বলে আমি কখনো হতাশ হই না। হয়ত দেখা যাবে এরপর হঠাৎ করে এত লেখা আসছে সে একেবারে এক সাথে পাঁচটা, ছয়টা, আটটা, দশটা লেখা হয়ে গেল। তবে কিছু লেখা আছে যেগুলো হয়ত সামনে আমি লিখব। এই মুহূর্তে সেগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। বিশেষ করে বলব যে কিছুদিন আগে আমি আমেরিকাতে গিয়েছিলাম, আমেরিকার গেটিসবার্গ-এ। যেখানে আব্রাহাম লিঙ্কন ভাষণ দিয়েছিলেন সেই জায়গাটায়। তো সেই জায়গাটিকে নিয়ে আমার বড় ধরনের কিছু লেখার পরিকল্পনা আছে। আমি তার সামান্য কিছু লিখেওছি। একটি দৈনিক পত্রিকার সাময়িকীতে আমার এ সম্পর্কিত একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে কিছুদিন আগে।”

—————————————————————-
“আরেকটা খুব বড় খবর হচ্ছে যে, নজরুলকে নিয়ে খুব বড় কিছু অনুবাদের কাজ পৃথিবীর বেশ অনেকগুলো দেশে হয়েছে এবং হচ্ছে। যেমন, ইংরেজিতে কাজ হয়েছে। তারপর হিন্দি, উর্দু, ফার্সি, টার্কিস, রাশান, ফরাসি, জার্মান, চীনা–এই ভাষাগুলোতে নজরুলের সাহিত্য কর্মের অনুবাদ হয়েছে এবং এখন মরোক্কোতে আরবী ভাষায় অনুবাদের কাজ চলছে।”
—————————————————————-

আরো বলেন, “এটা অনেকটা ভ্রমণকাহিনীর মতই কিন্তু এর মধ্যে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এসব কিছুও থাকবে। আমি যেটা প্রধানত লক্ষ্য করেছি যে, গেটিসবার্গে আব্রাহাম লিঙ্কন যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা ২৭৮টি শব্দ মাত্র এবং তাঁর বক্তৃতাটি ছিল মাত্র দুই মিনিটের। আর বঙ্গবন্ধু রেসকোর্সের ময়দানে যে ভাষণটি দিয়েছিলেন সেটি ছিল গিয়ে আঠারো মিনিটের। কিন্তু এই আঠারো মিনিটের ভেতরে তিনি একটা দেশের ইতিহাস, একটা দেশের বঞ্চনা এবং যুদ্ধ অনিবার্য হলে কী করতে হবে না হবে সমস্ত কিছুই বলে দিয়েছেন। এর উপর ভিত্তি করেই আমি মূলত কাজ করব। (সম্পূর্ণ…)

‘গানের মেহবুবা’ আশা ভোঁসলে

আশীষ চক্রবর্ত্তী | ১০ নভেম্বর ২০১০ ১২:২২ অপরাহ্ন

lata_family.jpg………
মঙ্গেশকর পরিবার
………

বড়লোকের আদরের দুলারি বাড়ি ছেড়েছে গরিবের ছেলের হাত ধরে। মেয়ের বাবা-মা সৎ, সাহসী অথচ বেকার ছেলের সঙ্গে প্রেমটাকে মেনে নিলে পালাতে হতো না। যা হোক, পালিয়ে গিয়ে বিয়ে, তারপর স্বাভাবিক নিয়মেই শুরু দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এমন জীবনের সঙ্গে মেয়েটির প্রথম পরিচয়। প্রেমকে সার্থক করতে সে জীবন হাসিমুখেই বরণ করল সে। তার প্রেরণায় শূন্যহাতে জীবনযুদ্ধে নামল ছেলেটি। অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর একসময় প্রতিষ্ঠিতও হলো। বড়লোক শ্বশুর অবশেষে কদর বুঝলেন তার। ব্যস, কাহিনীর মধুরেণ সমাপয়েত।

এমন মুখস্ত কাহিনীর অন্তত কয়েকশ ছবি হয়েছে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। আশা ভোঁসলের জীবনকাহিনীর শুরু খানিকটা একরকম হলেও বাদবাকি সবকিছু বড় বেশি অন্যরকম। প্রথমত বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকরের সুসময়ে ছিটেফোঁটা প্রাচুর্য দেখলেও তাঁর অকাল মৃত্যু পুরো পরিবারকেই ফেলে দেয় ভয়ঙ্কর বিপদে। জীবদ্দশায় বিপর্যয়ের পর বিপর্যয় দেখেছেন দীনানাথ। বিয়ে করেছিলেন মাত্র ২১ বছর বয়সে। স্ত্রী নর্মদার বয়স তখন ১৯। দীনানাথ তাঁকে ভালোবেসে ডাকতেন শ্রীমতি। তো শ্রীমতির এক মেয়ে হলো। মেয়ের নাম রাখা হলো লতিকা। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পরই মারা গেল ফুটফুটে মেয়েটি। সন্তান হারানোর দুঃখ সইতে না পেরে শ্রীমতিও পৃথিবীর মায়া ছাড়লেন। দীনানাথ আবার একা! স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় অবস্থা।

তবে বেশিদিন একা থাকেননি। প্রয়াত স্ত্রীর বোন সুধামতিকে বিয়ে করে একাকীত্ব ঘুচালেন। সংসারে একে একে এলো চার মেয়ে লতা, মীনা, আশা, উষা এবং ছেলে হৃদয়নাথ। মূলতঃ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী ও মঞ্চ অভিনেতা দীনানাথ পরে নাটকের গ্রুপ গড়েছেন, প্রযোজনা করেছেন মারাঠি ছবি। বলতে গেলে সবক্ষেত্রেই দেখিয়েছেন অপার সম্ভাবনার ঝলক। অথচ শেষ পর্যন্ত ছবির ব্যবসায়ের ভরাডুবি ঘরে বসালো তাঁকে। সন্তানদের, বিশেষ করে ৪ মেয়েকে গান শেখানোর প্রবল ইচ্ছে ছিল। কিন্তু আশার গানের প্রতি তেমন ঝোঁক ছিল না। গানে সত্যিকারের টান ছিল বড় মেয়ে লতার। তাকে হাতে ধরেই গান শেখাচ্ছিলেন দীনানাথ। শেখাচ্ছিলেন বড় আশা নিয়ে। একদিন মেয়ে খুব বড় শিল্পী হবে, দিকে দিকে নাম ছড়াবে। খুব বড় মুখ করে কথাটা বলতেনও বন্ধুদের। কিন্তু নিজের ব্যর্থ জীবনের বোঝা বেশিদিন টানতে পারলেন না। হতাশা ভুলতে মদে আসক্ত হলেন, সেই আসক্তি মাত্র ৪২ বছর বয়সে কেড়ে নিলো দীনানাথ মঙ্গেশকরের প্রাণ।

(সম্পূর্ণ…)

সুকুমার রায়ের পাগলা দাশু (১৯৪০)

| ৪ নভেম্বর ২০১০ ১০:৩৮ অপরাহ্ন

cover-web.jpg

মৃত্যুর ১৭ বছর পর, ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় সুকুমার রায়ের গল্প সংকলন ‘পাগলা দাশু’। এটিই সুকুমার রায়ের প্রথম গল্প সংকলন। ‘পাগলা দাশু’-এর গল্পগুলো সুকুমার রায়ের জীবদ্দশায়, তাঁর সম্পাদিত ‘সন্দেশ’-এ প্রকাশিত হয়েছিলো। ‘পাগলা দাশু’-এর প্রকাশক ছিলেন এম. সি. সরকার। সেই সংকলনের ভূমিকা লিখেছিলেন ময়মনসিংহের রায়চৌধুরীদের বন্ধু পরিবার জোড়াসাঁকো’র ঠাকুরদের একজন—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তিনি লিখেছিলেন, “সুকুমারের লেখনী থেকে যে অবিমিশ্র হাস্যরসের উৎসধারা বাংলা সাহিত্যকে অভিষিক্ত করেছে, তা অতুলনীয়। তাঁর সুনিপুণ ছন্দের বিচিত্র ও স্বচ্ছন্দ গতি, তাঁর ভাব-সমাবেশের অভাবনীয় অসংলগ্নতা পদে পদে চমৎকৃতি আনে। তাঁর স্বভাবের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির গাম্ভীর্য ছিল, সেই জন্যেই তিনি তার বৈপরীত্য এমন খেলাচ্ছলে দেখাতে পেরেছিলেন। বঙ্গসাহিত্যে ব্যঙ্গরসিকতার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত আরো কয়েকটি দেখা গিয়েছে। কিন্তু সুকুমারের অজস্র হাস্যোচ্ছ্বাসের বিশেষত্ব তাঁর প্রতিভার যে স্বকীয়তার পরিচয় দিয়েছে, তার ঠিক সমশ্রেণীর রচনা দেখা যায় না।”

আর্টস ই-বুক (Arts E-book) সিরিজে প্রকাশিত হলো সুকুমার রায়ের গল্প সংকলন ‘পাগলা দাশু’।

ডাউনলোড ( Download ) করুন সুকুমার রায়ের পাগলা দাশু।
পিডিএফ ফাইল, সাইজ: ১০০৯ কেবি

(সম্পূর্ণ…)

মান্নান-এর বিশ্বাস

আবদুস সেলিম | ১ নভেম্বর ২০১০ ১:০৬ পূর্বাহ্ন

dhaka-universityte-porar-shomoy.jpg
আবদুল মান্নান সৈয়দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে
————————–

জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করব না, কারণ সে যোগ্যতা আমার নেই। তবে মান্নানকে আমি দীর্ঘ ৪১ বছর থেকে দেখেছি এবং বেশ ঘনিষ্ঠ ভাবেই। এর চেয়েও দীর্ঘ পরিচয় মান্নানের সাথে অনেকের হয়তো ছিলো কিন্তু নিরবছিন্ন বন্ধুতার দাবী আমিই বোধ হয় করতে পারি। ১৯৬৯ সালে প্রথম পরিচয় এবং বন্ধুত্ব। এরপর থেকেই মান্নানকে কাছে ও দূর থেকে দেখেছি।

একজন লেখককে দেখা ও চেনা যায় দু’ভাবে। এ উপলব্ধি আবদুল মান্নান সৈয়দকে প্রত্যক্ষ করে আমার এসেছে-শুধুমাত্র তাঁর লেখা দিয়ে; ব্যক্তিগত, জীবনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে-অর্থাৎ তাঁর সাহচর্য্ পেয়ে এবং ঐ জীবনকে এবং বিশ্বাসকে তাঁর লেখার সাথে মিলিয়ে নিয়ে।

মান্নান লেখেন ১৯৫৯ থেকে–কিংবা তারও আগে থেকে। আমি তাঁকে পেয়েছি ১৯৬৯ এ। অর্থাৎ দীর্ঘ ১০ বছর পর। এর পর থেকে তাঁর ব্যক্তি জীবনের যে স্তর গুলো আমি লক্ষ্য করেছি তা তাঁর লেখার সাথে সহজেই মিলে যায়।

“ছোটবেলা থেকে আমি স্বভাবে ছিলাম নির্জন, আত্মকেন্দ্রী, অ-মিশুক ও চূড়ান্তরকম অ-সামাজিক।” মান্নান তাই ছিলেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত মান্নানকে হুবহু ঐ ভাবেই দেখা গেছে। সিলেটে ও তার আগে পর্যন্ত তাঁর ঘরে বসে-মান্নান যা লিখেছেন তা অতীব নির্জন। ‘জন্মান্ধ’ কবিতা বা ‘জ্যোৎস্না রৌদ্র’–আপাদমস্তক আত্মবৃত। কিন্তু সিলেটের ঘরে বসে একটা প্রস্তুতি চলছিলো। ১৯৬৮-৬৯ সালে বিশ্ব কবিতার সাথে তাঁর কথোপকথনের ফল “মাতাল মানচিত্র”। দুয়ার কিছুটা যে ফাঁক হয়েছিলো তার প্রমাণ, মান্নান আমাকে ঠিক ঐ সময় কালেই একটা ছোট্ট আসন দিয়েছিলেন তাঁর কাছাকাছি বসতে। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com