সমকালীন বাংলা সাহিত্য নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেমিনার

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ২৪ অক্টোবর ২০১০ ৮:১৫ অপরাহ্ন

brac-shobhakokkho.jpg
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সেমিনার: সৃজনে ও মননেঃ সমকালীন বাংলা সাহিত্য

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ইংরেজী ও মানববিদ্যা’ বিভাগ ২৯ ও ৩০ জুলাই ২০১০, এই দু’দিন বাংলা সাহিত্য নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করে। “সৃজনে ও মননে: সমকালীন বাংলা সাহিত্য” শীর্ষক এই সেমিনারে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন সাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের অংশগ্রহণের কারণেই সম্ভবতঃ আয়োজকগোষ্ঠী একে সমকালীন বাংলা সাহিত্য বিষয়ে ‘আন্তর্জাতিক’ সেমিনার বলেছেন। এই সেমিনারে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা ভাষার বিভিন্ন সাহিত্যিক তাঁদের নিজ নিজ কবিতা, গল্প পড়ে শুনিয়েছেন। আলোচকগণ এই সময়ের বাংলা কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাস, অনুবাদ, প্রবন্ধ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এতে সমকালীন বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে কতটা স্পষ্ট হওয়া গেছে সেটা পরিষ্কারভাবে বলা না গেলেও বাংলাদেশ ও ভারতের এই সাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সমকালীন বাংলা সাহিত্যকে কীভাবে অনুধাবন করছেন এবং সাহিত্য উৎপাদন করছেন সেটা উঠে এসেছে। প্রমা সঞ্চিতা অত্রি সেমিনার চলাকালীন দু’দিন সেখানে উপস্থিত থেকেছেন।-বি.স.

brac_2.jpg

প্রথম দিন

২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনডোর গেম্স রুমে এক ছোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিন ব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও



মানববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম এবং বিশেষ বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাইম ব্যাংক লিঃ-এর সভাপতি আজম জাহাঙ্গীর চৌধুরী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও মানববিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। সবশেষে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। মোট তিনটি অধিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সেমিনারের প্রথম দিনের কার্যক্রম।

brac_3.jpg
(সম্পূর্ণ…)

পুনরপি পদ্মাপার

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৪ অক্টোবর ২০১০ ৫:৩০ অপরাহ্ন

ভগ্নদশা পৈত্রিক ভিটেয় লেখক
ভগ্নদশা পৈত্রিক ভিটেয় লেখক

মাঝরাতে একটু শীত-শীত লাগছিল। উঠে ফ্যান বন্ধ করে পায়ের কাছে রাখা নকশিকাঁথার ভাঁজ খুলে শরীরের মধ্যদেশে চাপা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আবার। ভোরে উঠে প্রাতঃকৃত্য সেরে বাইরে থেকে দরজার পাল্লা টেনে চাপিয়ে রেখে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছি। শান্তিকেন্দ্রে রাত্রিবাস করলে এটা আমি উপরি পাওনার মত উপভোগ করি। সেই ১৯৮৯ থেকে চান্দাবিলে আসা যাওয়ার সুবাদে গণউন্নয়ন প্রচেষ্টা-র এই বিশ্রাম আখড়ায় বহুবার উঠেছি। কোনদিন কিছু খারাপ লাগেনি আজ পর্যন্ত। বিশেষ করে, এরকম কুয়াশা জড়ানো ভোরে শান্তিকেন্দ্রের বিভিন্ন সরণি ধরে হেঁটে বেড়ানোর সুযোগ আমি পারতপক্ষে মিস করিনি কখনো। দু’পাশের ঘাসজমি সারারাত শিশিরে স্নান করেছে।



মোরাম বিছানো পথে হাঁটতে-হাঁটতে পেরিয়ে গেলাম ওপন-এয়ার মাদ্রাসা, টোল আর বাইবেল পাঠচক্রের আসর। গত দশ বছরে এর ব্যতিক্রম দেখিনি। ভোরে হাঁটতে বেরলে চোখে পড়ে, বিস্তীর্ণ পার্কের মাঝে-মাঝে খানিকটা করে জমি শানবাঁধানো, ওপরে কংক্রিটের গোল ছাতা আর নিচে ছাতার ডাঁটি ঘিরে পাকা বসার বেঞ্চির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওরই এক-একটির নিচে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের চর্চা চলেছে। পরম শান্তিময় পরিবেশ। এই সময়ে এখানে যার সঙ্গেই আপনার দেখা হোক, আপনি তাকে হাসিমুখে অভিবাদন জানাবেন, সে-ও প্রত্যুত্তরে সালাম, নমস্কার যে-যার মতো জানাবে।
podma1.jpg………
মধুমতি বিল রুট ক্যানেল (এমবআরসি)
………
পুরো এলাকায় গোটা দুই চক্কর দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে রাস্তার ধারে এক টংঘরের সামনে বসে চা খেলাম। সঙ্গে নোনতা বিস্কুট। দোকানদারের সঙ্গী ছেলেটা কাঠের বারকোশে আটা মাখছে। জিজ্ঞেস করে জানলাম, গরম পরোটার সঙ্গে ছোলার ডাল খুব খায় এখানে। ওর বৌ বাড়ি থেকে নারকোল কুচি দিয়ে ডাল রান্না করে এক্ষুনি দিয়ে যাবে। (সম্পূর্ণ…)

রাহমান ভাইয়ের স্মৃতি

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২৩ অক্টোবর ২০১০ ১২:১০ পূর্বাহ্ন

০৭ জুলাই ১৯৮৫, কবি আহসান হাবীবের মৃত্যুর খবরটা পাই কবি শামসুর রাহমান-এর রুমে। রাহমান ভাই তখন দৈনিক বাংলা‘র সম্পাদক। তাঁর রুমে ঢুকতেই দুঃসংবাদটা জানালেন। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় আর তিনি অত্যন্ত বিচলিত। আমি বললাম, এখন কে আর আমাদের প্রশ্রয় দেবেন? কার কাছে যাবো!

রাহমান ভাই চেয়ার ছেড়ে আমার কাছে এলেন। সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘আমি তো আছি। আমার কাছেই আসবেন।’

তারপর থেকে রাহমান ভাইয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা দ্বিগুণে রূপান্তরিত হলো। আগেও দেখা হতো, বিচিত্রায় কবিতা ছাপতেন, আড্ডা হতো। ০৮ জুলাই থেকে শুরু হলো টেলিফোনে কুশল বিনিময়, প্রতিদিন সকালে । তিনি তখন থাকতেন আউলাদ হোসেন লেনে। সেখান থেকে গেলেন তল্লাবাগ। তল্লাবাগ থেকে শ্যামলী। আমাদের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কটাও এভাবে পুরনো ঢাকা থেকে শ্যামলী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বিকশিত হয় সম্পর্কের শাখা-প্রশাখা, পুষ্প-পল্লব।

প্রায় প্রতিদিনই ফোনে রাহমান ভাইয়ের খোঁজখবর নিতাম। এটা যেন নিত্যদিনের কর্মসূচি হয়ে গিয়েছিল। শুক্রবার ছুটির দিনে ফোন না পেলে তিনি উল্টো ফোন করতেন বা পরদিন বলতেন: ‘কি দুলাল, কাল ফোন করলে না যে?’ তাঁর পুত্রবধু টিয়া প্রায়ই বলতেন, ‘প্রতিদিন সকালে বাবা আপনার ফোনের অপেক্ষায় থাকেন!’ এভাবেই কেটেছে আমাদের কুড়ি বছর। ফলে রাহমান ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কটা ছিলো খুবই গহীন-গাঢ়।

রাহমান ভাই ছোট-বড় বা সমবয়সী সবাইকে ‘আপনি’ সম্বোধন করতেন। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল আমার ক্ষেত্রে। তিনি আমাকে ‘তুমি’ বলতেন। সে জন্য আমার বন্ধুরাও রাহমান ভাইকে চাপ দেন। অবশ্য পরে হাতে গোনা ক’জনকে তিনি ‘আপনি’ বলা ছেড়ে দিয়ে ‘তুমি’তে নেমে আসেন। তাঁর প্রত্যেকটি দিনের খবরা-খবর, আনন্দ-বেদনা-কষ্ট, অসুখ-অসুস্থতা, নতুন লেখা কবিতা বা কলাম কিংবা গতকালের কোনো-কোনো একান্ত ব্যক্তিগত ঘটনা জানা হয়ে যেত পরদিন। এমনকি সদ্য লেখা প্রেমের কবিতার অনুপ্রেরণাকারিণীকেও যেন জমা রাখতেন আমার কাছে। তাঁর এই বিশ্বাস এবং বিরল বন্ধুত্বের বিকল্প নেই।

shamsur-rahmaner-golpo.jpg…………..
কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল প্রকাশিত শামসুর রাহমান-এর গল্পের বইয়ের প্রচ্ছদ
……………

আমাদের প্রকাশনী স্বরব্যঞ্জন থেকে তাঁর একমাত্র গল্পের বই ‘শামসুর রাহমানের গল্প’ এবং পাঠশালা থেকে ছড়াগ্রস্থ ‘চাঁদ জেগেছে নদীর বুকে’ বের হয়েছিল যথাক্রমে ২০০২ ও ২০০৪ সালে।

তাঁর গল্পের বই বের হতে পারে তা তিনি নিজেও কখনো ভাবেননি। প্রথমতঃ গল্পগুলো তার সংগ্রহে ছিল না, আর দ্বিতীয়তঃ গল্প মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি!
(সম্পূর্ণ…)

দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন প্রসঙ্গে ঔপন্যাসিক জ্যাকবসন

শরৎ চৌধুরী | ২১ অক্টোবর ২০১০ ১০:২০ অপরাহ্ন

the-finkler-question.jpg………
প্রচ্ছদ: দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন
………

[ব্রিটিশ লেখক হাওয়ার্ড জ্যাকবসন (জন্ম ২৯.৮.১৯৪২) দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন (২০০৯) উপন্যাসের জন্য ২০১০ সালের ম্যান বুকার পুরস্কার পান। এই উপন্যাস রচনার প্রণোদনা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখক Jewish Chronicle -এ লিখেছেন, এবছর জুলাইয়ে। এর বাংলা অনুবাদ এখানে প্রকাশ করা হলো।—বি.স.]
——————————–

অনুবাদ: শরৎ চৌধুরী

উৎসব কিংবা আড়ম্বরপূর্ণ ছুটির দিন না হলে প্রতি বুধবার, লজ্জিত ইহুদীবৃন্দ (ASHamed Jews) নামের একটি জায়নিজম বিরোধী দল মিলিত হয় সোহো’র গ্রৌশে ক্লাবের উপরতলার একটি কক্ষে। উদ্দেশ্য—ইসরায়েল থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করা, ইসরায়েলী পণ্যদ্রব্য বর্জন করার তাগিদ অনুভব করা এবং অন্যভাবে বললে এক ধরনের মানবতার প্রদর্শন, যেই মানবতা অনুযায়ী তাঁরা মনে করে—যেসব ইহুদী লজ্জিত নয় তাঁরা আসলে ভালো ইহুদী নয়। বিখ্যাত ইহুদী গণমাধ্যম দার্শনিক স্যাম ফিঙ্কলার, ডেজার্ট আইল্যান্ড ডিস্ক (Desert Island Disc) নিয়ে তাঁর লজ্জার কথা বিবৃতি দিয়ে স্বীকার করেন। এর ফলাফল হিসেবে এই লজ্জিত ইহুদীদের উৎপত্তি। বোঝাই যায় মিডিয়া দার্শনিক স্যাম ফিঙ্কলার লজ্জিত ইহুদীদের গুরু। (সম্পূর্ণ…)

ম্যানবুকার ২০১০ জয়ী হাওয়ার্ড জ্যাকবসন-এর দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন

আজিজ হাসান | ২১ অক্টোবর ২০১০ ৪:৪০ অপরাহ্ন

jakobson.jpg
হাওয়ার্ড জ্যাকবসন (জন্ম ২৯.৮.১৯৪২)

[ব্রিটিশ লেখক হাওয়ার্ড জ্যাকবসন ২০১০ সালের ম্যানবুকার পুরস্কার পেয়েছেন তার হাস্যরসাত্মক উপন্যাস ‘দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন’র জন্য। এ উপন্যাসটির একটি সংক্ষিপ্ত রূপ নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে। বহুল পঠিত ও আলোচিত এ উপন্যাসের নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত অংশটির অনুবাদ বাঙালি পাঠকদের জন্য আমরা তুলে ধরছি। জ্যাকবসন ১৯৪২ সালের ২৫ আগস্ট ম্যানচেস্টারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রিটেনের ইহুদি চরিত্রের মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্বের উপস্থাপনে তিনি সৃষ্টি করেছেন তার হাস্যরসাত্মক উপন্যাসগুলো। তার উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘কামিং ফ্রম বিহাইন্ড’, ‘দ্য মাইটি ওয়ালজার’, ‘হু’জ সরি নাউ’, ‘কালুকি নাইটস’, ‘দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন’ ইত্যাদি।

দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন উপন্যাসটির জন্য ২০১০ সালে ম্যানবুকার পুরস্কার পেয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী জ্যাকবসন। ম্যানবুকার পুরস্কার প্রদান কমিটির প্রধান বিচারক অ্যান্ড্রু মশন বলেন,‘দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন’ একটি অসাধারণ বই। অবশ্যই খুব হাসির। কিন্তু একই সঙ্গে খুব বুদ্ধিদীপ্ত, খুব কষ্টের ও অতি সূক্ষ্মতার পরিচায়ক এটি। এটা পড়ে যা মনে হয় তা এবং তার চেয়েও বেশি কিছু বোঝায় উপন্যাসটি। এ মহান পুরস্কারের যোগ্য বিজয়ী এটি।” জ্যাকবসনের প্রায় প্রতিটি উপন্যাসেই ইহুদি মনস্তত্ত্বের রয়েছে সুনিপুণ উপস্থাপন। ইহুদি মনস্তত্ত্ব¡ বোঝা ও তার শৈল্পিক উপস্থাপনে সফলতার জন্য তাকে ইহুদি-আমেরিকান লেখক ফিলিপ রথের সঙ্গে তুলনা করে ‘দ্য ইংলিশ ফিলিপ রথ’ বলা হয়। আর তিনি নিজেকে পরিচয় দেন ‘অ্যা জিউস জেন অস্টিন’ বলে। -অনুবাদক]

গ্রন্থসংক্ষেপ: দ্য ফিঙ্কলার কোয়েশ্চেন

এ ঘটনাটি সে আগেই বুঝে থাকতে পারে।

তার জীবনে একটার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটেই চলছিল। তাই সে এটার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে পারে। কি ঘটবে তা সে আগেই বুঝতে পারতো। ঘুমের আগে ও পরে কেবল সে সম্পর্কে আবছা ধারণা নয়, বাস্তব জীবনের সব বিপদ সম্পর্কে সে আগেই জানতে পারতো। ল্যাম্প পোস্ট ও গাছপালা তার দিকে তেড়ে আসতে দেখে তার পা কাঁপতো। অনেক গতিতে চলমান গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপথ দিয়ে চলতো। আর তাকে আবর্জনা ও ছড়ানো ছিটানো হাড়ের মধ্যে ফেলে দিতো। তার ভাঙা চোরা মাথার খুলি থেকে তরল তীক্ষè বস্তু বের হতো।

নারী সবচেয়ে খারাপ। জুলিয়ান ট্রেজলভ কোনো নারীকে দেখলে তার শরীর নয়, মন বিচলিত হতো। সে তাকে অস্থির করে তুলতো।

সত্যি সে স্থির থাকতো না। কিন্তু তাকে অস্থির করলেও ঐ নারী তার কি ভবিষ্যৎ নিয়ে আসতো সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে-ই ভবিষ্যৎ হয়ে উঠতো। (সম্পূর্ণ…)

মিসেস্ আর, এস্, হোসেন প্রণীতমতিচূর (প্রথম খণ্ড)

| ২০ অক্টোবর ২০১০ ১:৫৬ অপরাহ্ন

মিসিস্ আর, এস্, হোসেন বা মিসেস্ আর, এস্, হোসেন প্রণীত বইগুলো বাংলা একাডেমী ‘রোকেয়া রচনাবলী’ নামের সংকলনে বেগম রোকেয়া’র রচনা বলে প্রকাশিত হয়। ২০০৬ সালে বাংলা একাডেমী প্রকাশিত নতুন সংস্করণের ভূমিকা’য় (ভূমিকার রচয়িতা ও তারিখ অনুল্লেখিত) বলা আছে, “বেগম রোকেয়া বা রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন নামে যিনি বহুলপরিচিত, তিনি লিখতেন ‘মিসেস আর. এস. হোসেন’ নামে, এই নামে তাঁর বইগুলিও বেরিয়েছিল।”

motichur-cover-3.jpg………
মতিচূর প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ (১৩১৪ বঙ্গাব্দ)-এর কভার ও মিসেস আর. এস. হোসেন-এর ছবি আর্টস সংস্করণের প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
………

মিসেস্ আর, এস্, হোসেন বিরচিত বই মতিচূর প্রথম খণ্ড-এর আর্টস সংস্করণ প্রকাশের ক্ষেত্রে বহুল পরিচিতির চাইতে তৎকালে প্রকাশিত বই-এ রচয়িতার যে নাম ব্যবহার করা হয়েছিলো তাকে অধিকতর প্রামাণ্য বলে স্বীকার করা হয়েছে। মতিচূর প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ-এর কভার-এ মিসেস আর, এস্, হোসেন নাম স্বাক্ষরিত পাওয়া যায়। মতিচূর দ্বিতীয় খণ্ড বাংলা ১৩২৮ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় মিসিস্ আর, এস্, হোসেন নাম স্বাক্ষর নিয়ে। (সম্পূর্ণ…)

আমার বাবা মান্নান সৈয়দ

জিনান সৈয়দ | ১৬ অক্টোবর ২০১০ ১:৩৫ পূর্বাহ্ন

azim-koloni-86-year.jpg
আবদুল মান্নান সৈয়দ ও রানু (মান্নান সৈয়দ-এর স্ত্রী), আজিম কলোনী ১৯৮৬

আজ রানুর বিয়ে। পাত্র একজন কবি। কবি যে কি জিনিস তা রানুর মাথায় ঠিক ঢোকে না। পাঠ্যপুস্তকে কবিতা পড়েছে অবশ্য। তবে তা শুধু পরীক্ষা পাসের জন্যই। পড়ালেখা, বই এসব শুনলেই রানুর গায়ে জ্বর আসে। যদিও সাতদিন বয়সে মাতৃহারা রানুর বড় পাঁচ বোনের তিনজনই বেশ পড়ুয়া। মেজবু তো আবার পত্রিকায় লেখা পাঠায়। ইত্তেফাক-এর মতো বনেদী পেপারে নাকি ছাপাও হয়। বাড়ীতে বেগম রাখে। সরকারী চাকুরে বাবার নির্দিষ্ট আয়ের পয়সায় দিন চলে এই সুন্দরী ছয় বোন ও দুই ভাইয়ের।

সৈয়দ বংশ ও রূপের গর্ব সব বোনেরই কম বেশী আছে। বড় ছেলেটি মায়ের বড়ই প্রিয় ছিল। মায়ের মতোই ক্ষুরধার চোখ। আর ছোট ছেলের সঙ্গে রানুর খুব ভাব, তার খেলার সঙ্গী ছিল যে।

সে যাক, বিয়ের কথা শুনে সত্যি বলতে কি রানু খুব খুশি। সাজগোজ করতে এবং বেড়াতে সে বড়ই ভালোবাসে। আর সাজার জন্য বিয়ের মতো বড় উপলক্ষ আর কি হতে পারে।

biyer-age.jpg………
মান্নান সৈয়দ, বিয়ের আগে
………

কিন্তু কবি! আবার ছোট চাচার ছেলে শুনে একটু ভয় ভয়ই লাগে। ছোট চাচারা বেশ বড়লোক। ওদের নিজস্ব মস্ত বড় উঠান আর বিশাল বিশাল আম, কাঁঠাল, ফলসা, নারকেল, আরও সব নাম না জানা গাছ দিয়ে ঘেরা বিশাল দোতলা বাড়ী। লাল রংয়ের টয়োটা গাড়ীও আছে। ওদের বড় বোন ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে স্কুলে যেত শুনেছে। একবার ওদের ছোট বোন শাহিনের বিয়েতে গিয়েছিল রানু। ভাইগুলো সব লম্বা, লম্বা, খুব আত্মবিশ্বাসী, জোরে জোরে কথা বলে, হাসে, সুদর্শন, একটু বোধহয় অহঙ্কারীও। বোনগুলি সুন্দরী। চাচী’টা খুব মিশুক আর খুব চমৎকার করে গুছিয়ে কথা বলে। কথা শুনলেই বোঝা যায় বুদ্ধিমতী। চাচাতো বোনেরা রানুকে বার বার দেখছিল, এটা সেটা জিজ্ঞেস করেছিল। কিন্তু রানু কখনো এই কবি পাত্রকে (ওরা ডাকে ছোটভাই) দেখেনি। কি জানি কবিরা দেখতে কেমন হয়! (সম্পূর্ণ…)

জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

| ১৫ অক্টোবর ২০১০ ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

৬১টি কবিতা নিয়ে ‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালের আগস্টে, সিগনেট প্রেস কলকাতা থেকে। জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর তিন বছর পর। ভূমিকা লিখেছিলেন কবির ভাই অশোকানন্দ দাশ। ‘জীবনানন্দ দাশের প্রকাশিত—অপ্রকাশিত কবিতাসমগ্র’ সম্পাদক আবদুল মান্নান সৈয়দ অনুমান করেছেন গ্রন্থের নাম ও উৎসর্গপত্রও অশোকানন্দ দাশের। প্রকাশিত গ্রন্থে কবিতাগুলোর রচনাকাল উল্লেখ করা হয় ১৯৩২ সাল।

ruposhi-bangla.jpg………
সিগনেট সংস্করণ প্রচ্ছদ আর্টস সংস্করণের প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
………
সিগনেট সংস্করণ-এর বিস্তারিত
প্রচ্ছদ শিল্পী: সত্যজিৎ রায়।
প্রকাশ: আগস্ট ১৯৫৭
প্রকাশক: সিগনেট প্রেস, ১০/২ এলগ্রিন রোড, কলকাতা ২০।
আকার: ডিমাই, ৮+৬২ পৃষ্ঠা।
মূল্য: তিন টাকা।
উৎসর্গ: ‘আবহমান বাংলা—বাঙালী’।
ভূমিকা: অশোকানন্দ দাশ (৩১ জুলাই ১৯৫৭)।

………
(সম্পূর্ণ…)

মারিও বার্গাস য়োসা’র উপন্যাস

ছাগলের উৎসব

শরৎ চৌধুরী | ১০ অক্টোবর ২০১০ ১১:৫৪ অপরাহ্ন

feast_of_the_goat1.jpg………
প্রচ্ছদ: ছাগলের উৎসব
………

২০০০ সালে স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত হয় মারিও ভার্গাস য়োসা’র ঐতিহাসিক উপন্যাস La fiesta del chivo। ২০০১ সালে The Feast of the Goat নামে ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ডমিনিকিয় প্রজাতন্ত্রের একনায়ক রাফায়েল ট্রুজিলো-এর শাসনকাল, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে য়োসা এই উপন্যাস রচনা করেন। http://www.complete-review.com এ প্রকাশিত লেখক নাম ছাড়া প্রকাশিত ইংরেজি রিভিউ’র বাংলা অনুবাদ।-বি.স.
—————————–

অনুবাদ

শরৎ চৌধুরী

ছাগলের উৎসব এমন একটি উপন্যাস যা আবর্তিত হয়েছে বাস্তবের ঐতিহাসিক চরিত্র রাফায়েল ট্রুজিলোকে ঘিরে। রাফায়েল ট্রুজিলো, ডোমিনিকান রিপাবলিকের একচ্ছত্র একনায়ক, তিরিশ বছরের (অপ) শাসনের পর ১৯৬১ সালে যিনি গুপ্তঘাতকের হাতে খুন হন। উপন্যাসটির তিনটি মূখ্য ভরের জায়গা রয়েছে। এর একটি অংশে আছেন উরানিয়া কারবেল, যিনি ট্রুজিলোর একান্ত অনুগামী এবং একদা শক্তিশালী একজন রাজনীতিবিদের কন্যা। উরানিয়া, তিরিশ বছর আগে ছেড়ে যাওয়া তার দেশ ডোমিনিকান রিপাবলিকে প্রথমবারের মত ফিরে এসেছেন এবং সময়টাও ট্রুজিলো খুন হবার ঠিক আগে আগে। দ্বিতীয় অংশের ভর ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি, যারা এই স্বেচ্ছাচারী শাসককে হত্যার পরিকল্পনা করছে এবং পরবর্তীতে সেটি সম্পন্ন করেছে। এই অংশের মূল মনোযোগ প্রকৃত হত্যাকান্ড এবং এর অনূবর্তী ঘটনাসমূহের উপর। পরিশেষে ট্রুজিলো স্বয়ং, যেখানে তার রাজত্বের/একনায়কত্বের শেষ সময়কার পরিস্থিতি বিস্তৃত আকারে পরিবেশিত হয়েছে। উপন্যাসে এই তিনটি মূখ্য পরিসরে আগুপিছু যাওয়া আসা করেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ছোট ছোট বর্ণনা, চরিত্র নির্মাণ এবং পূর্বের ও অন্য সময়ের স্মৃতিচারণ। উরানিয়ার গল্পই এই বইটির কাঠামো নির্মাণ করেছে। উপন্যাসের শুরু হয় সান্টো ডোমিংগোতে (যা সে চলে যাওয়ার সময় পর্যন্ত সিউডাড ট্রুজিলো নামে পরিচিত ছিল) তাঁর ফিরে আসার মধ্য দিয়ে এবং শেষ হয় তাঁর বিদায়ে। স্কুলে পড়াকালীন সময়ে তিনি ডোমিনিকান রিপাবলিক ছেড়ে চলে যান, আমেরিকার একটি স্কুল এ ভর্তি হবার জন্য। এরপর তিনি হার্ভার্ড ল স্কুলে পড়াশুনা করেন এবং একজন সফল আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। যদিও মাঝের দশকগুলোতে তিনি একবারও তাঁর নিজের দেশে বা দুঃস্থ পিতার কাছে ফেরত আসেননি।
(সম্পূর্ণ…)

মারিও বার্গাস য়োসা’র

বই, যন্ত্র এবং স্বাধীনতা

রাজু আলাউদ্দিন | ১০ অক্টোবর ২০১০ ২:১৪ পূর্বাহ্ন

mario vargas llosa………
মারিও বার্গাস য়োসা
………

(১৯৮৭ সালে মারিও বার্গাস য়োসা মানব সভ্যতা, মানুষের শিক্ষা ও কল্যাণে বই ও যন্ত্রের ভূমিকার তুলনামূলক আলোচনা করেন তাঁর Books, Gadgets, and Freedom নামের লেখায়। যন্ত্র কিভাবে মানুষের সৃজনশীলতায় অন্তরায় তৈরি করে আর বই কিভাবে সৃজনশীলতাকে প্রসারিত করে—এই প্রসঙ্গ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। মানব সভ্যতার উত্তরাধিকার বইয়ের মাধ্যমে বাহিত হওয়ার যুক্তি প্রদানের মাধ্যমে য়োসা যন্ত্রসভ্যতার বিপরীতে সাহিত্য সভ্যতার প্রস্তাবনা তুলে ধরেন এবং উপসংহার টানেন এই বলে যে, বই মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। বার্গাস য়োসার এই ইংরেজি প্রবন্ধটি আমেরিকার Wilson Quarterly পত্রিকায় ১৯৮৮ সালে প্রথম মুদ্রিত হয়েছিলো। ইংরেজি প্রবন্ধটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করলো আর্টস।–বি.স.)
—————–

অনুবাদ

রাজু আলাউদ্দিন

ধারণা, ভাষা, কল্পনা এবং বুদ্ধি বা জ্ঞানের চর্চা বলতে মূলত বইকেই বোঝায়। মুদ্রণকৌশল আবিষ্কার হওয়ার পর মানুষের সাংস্কৃতিক জীবনের গতি আগের চেয়ে অনেক বেশি বেগবান হয়ে ওঠে। গুটেনবার্গের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বই-ই হচ্ছে জ্ঞানচর্চার বৃহত্তর মাধ্যম এবং সেই সাথে এমনই এক আনন্দের উৎস হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে, যাকে অন্য কোনো কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না।
তবে, অনেকের মতে বই-এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। খুবই দু:খজনক একটি বক্তৃতার কথা আমার মনে পড়ছে যা বেশ কয়েক বছর আগে কেমব্রিজে শুনেছিলাম। ‘শিক্ষা মানে কষ্ট ভোগ’–এরকমই ছিলো তার শিরোনাম এবং এর প্রসঙ্গ ছিল বর্ণমালাভিত্তিক সংস্কৃতি অর্থাৎ বই ও লেখার যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, অডিও-ভিজুয়াল সংস্কৃতি এসে এই জায়গাটি অচিরেই দখল করবে। লিখিত ভাষা যা কছুই প্রকাশ করুক না কেন, ইতোমধ্যে তা যুগের সাথে সামঞ্জস্যহীন হয়ে পড়ছে। কারণ আমাদের সমকালের অভিজ্ঞতামূলক জরুরী জ্ঞান রূপান্তরিত হয়ে সংকেতের মাধ্যমে যন্ত্রে জমা হচ্ছে, বই–এ নয়।

বক্তা নাকি সপ্তাহ দুয়েক মেক্সিকোতে কাটিয়েছিলেন এবং সর্বত্রই ঘুরে বেড়িয়েছেন, এতে তার কোনো অসুবিধা হয়নি, যদিও তিনি স্প্যানিশ ভাষা ব্যবহার করেননি। কারণ তিনি বলেন, সেখানে তীরাকৃতি পথনির্দেশক, নির্দেশক আলো এবং প্রতীকী চিহ্নসমূহ তাকে সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাষার বাধা বা প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে সক্ষম।
(সম্পূর্ণ…)

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০১০

ঔপন্যাসিক বার্গাস য়োসা

আজিজ হাসান | ৮ অক্টোবর ২০১০ ৮:৩৪ অপরাহ্ন

780px-mario_vargas_llosa_2010.jpg………
মারিও বার্গাস য়োসা, উইকি/ ডানিয়েল ডিভোতি/পাদোভা, ইতালি
………
(২০১০ সালে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন পেরুর লেখক মারিও বার্গাস য়োসা। সাহিত্যকে তিনি তাঁর জীবনের প্যাশন হিসেবে বর্ণনা করেন। বার্গাস য়োসা নানা আঙ্গিকের সাহিত্য রচনা করেছেন। তিনি একাধারে একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, ও সাহিত্য সমালোচক। তার ফিকশনের নানা চরিত্রের মতো বার্গাস য়োসাও একজন লেখক হিসেবেও বৈচিত্রময় ও বিশ্ব নন্দিত। প্রথম জীবনে কিউবার বিপ্লবের সমর্থক য়োসা সেইসময়ে পেরুর নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ডানপন্থী রাজনীতির দিকে ঝোঁকেন। ১৯৯০ সালে তিনি ডানপন্থী জোট ‘ফ্রেন্তে দেমোক্রেতিকো’ (গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট) থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। নির্বাচনের সময় সাময়িকভাবে য়োসা লেখালেখি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। ১৯৯৪ সাল থেকে তাঁর লেখা আবার প্রকাশিত হতে থাকে। ০৭ অক্টোবর ২০১০ সুইডিশ একাডেমি সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হিসেবে মারিও বার্গাস য়োসা’র নাম ঘোষণা করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস ঘেটে আজিজ হাসান সাহিত্যে এবারের নোবেল বিজয়ী মারিও বার্গাস য়োসা’র এই সংক্ষিপ্ত পরিচিতিটি তৈরি করেছেন।-বি.স.)
———————

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০১০ ঘোষণা করছেন সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব পিটার ইংলান্ড

১৯৩৬ সালের ২৮ মার্চ পেরুর দক্ষিণাঞ্চলীয় আরেথিফা শহরে মারিও বার্গাস য়োসা জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের প্রথম ১০ বছর তিনি মা ও নানা-নানীর সঙ্গে বলিভিয়ার কোচাকাম্বায় কাটান। য়োসার জন্মের আগেই তার বাবা-মা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান। ১৯৪৬ সালে তারা আবার একসঙ্গে বসবাস শুরু করলে য়োসা পেরুতে ফিরে যান। তখন য়োসার পরিবার লিমার উপশহর ম্যাগদেলিনা দিল মার-এ বাস করতে শুরু করেন। ১৬ বছর বয়স থেকে য়োসা লিমার বিভিন্ন ট্যাবলয়েড পত্রিকায় মূলতঃ ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতে থাকেন। ১৯৫৮ সালে সান মার্কোস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২২ বছর বয়সে কয়েকটি গল্প নিয়ে তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘লস কেফিস’ প্রকাশিত হয়। (সম্পূর্ণ…)

মারিও বার্গাস য়োসা’র সাক্ষাৎকার

অবনি অনার্য | ৮ অক্টোবর ২০১০ ৬:০৫ অপরাহ্ন

554px-mario_vargas_llosa.jpg………
মারিও বার্গাস য়োসা, ছবি: ম্যানুয়েল গনজালেজ ফ্রাঙ্কো/উইকি
………

(২০১০ সালের নোবেল সাহিত্য পুরষ্কার পেলেন পেরুর ঔপন্যাসিক মারিও বার্গাস য়োসা। পেশাগতভাবে সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি রাজনীতিবিদ হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পেতে চেয়েছিলেন এই সাহিত্যিক। লাতিন আমেরিকার কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়বার বাসনা নিয়ে পেরুর প্রেসিডেন্ট প্রার্থীও হয়েছিলেন ১৯৯০ সালে, যদিও তখনকার স্বল্প পরিচিত কৃষিবিদ্যার অধ্যাপক আলবার্তো ফুজিমোরি’র কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। ত্রিশের অধিক বইয়ের রচয়িতা নোবেলপ্রাপ্ত এই সাহিত্যিকের সাক্ষাতকারটি নিয়েছিলেন ইসাবেল ভিনসেন্ট, ২০০৭ সালের ২৭ অগাস্ট তারিখে। সাক্ষাতকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন অবনি অনার্য।-বি.স.)
————————————–

ভিনসেন্ট: ১৯৬০ সালে ইংরেজি অনুবাদে “টাইম অব দ্য হিরো” নামে প্রকাশিত আপনার প্রথম বই La Ciudad y los Perros— এর প্রচারণার কাজে সম্প্রতি আপনি লাতিন আমেরিকায়, বিশেষভাবে ব্রাজিলে, ফিরেছেন। ওই বইটি লেখার বৃত্তান্ত বলুন; একইসঙ্গে এটি কীভাবে আপনার পরবর্তী লেখালেখি এবং পরিচয় বিনির্মাণে সাহায্য করেছিলো, সে সম্পর্কেও বলুন।

য়োসা: এ-উপন্যাসটি মূলত পেরুর কলেজিও মিলিটার লেওনসিও প্র্যাডো নামক সামরিক মহাবিদ্যালয়ে কাটানো দিনগুলোর বয়ান। ছেলেবেলায় মা আর নানা-নানী আমাকে আগলে রাখতেন। বাড়ি ছেড়ে মিলিটারি মহাবিদ্যালয়ে ভর্তির সময়েই প্রথমবারের মতো আমার সেই আনন্দঘন অভিজ্ঞতায় ছেদ পড়ে। ছোট্ট ওই বিদ্যায়তনটি ছিলো যেন তৎকালীন সমাজবাস্তবতার সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষসমেত গোটা পেরুরই যোগ্য প্রতিনিধি। সামরিক শৃঙ্খলার প্রতি সমর্পিত ধনী-গরীব সকল পর্যায়ের ছাত্রই ভর্তি হতো ওখানে। কিন্তু এ ছিলো আমার জন্য নিতান্তই আনকোরা এক অভিজ্ঞতা, এবং একইসঙ্গে বেদনার। ওই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব এই যে, ওই পরিবেশেই আমি প্রথম কর্তৃত্ববাদের সন্ধান পাই যা আমাকে শারীরিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। সাহিত্যচর্চার বালাই থেকে “প্রতিকারের” লক্ষ্যেই বাবা আমাকে ওই সামরিক মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেন। অথচ ওই অভিজ্ঞতাই আমার প্রথম বই রচনার রসদ জোগায়।
(সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com