মৃত্যু একটি দরজা

সাব্বির আজম | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৬:২০ অপরাহ্ন

৫ সেপ্টেম্বর ইফতারের পরে বাশারের অনুবাদকৃত এডওয়ার্ড সাঈদের একটি সাক্ষাৎকার কালজয়ী কম্পিউটার্সে কম্পোজে ধরিয়ে দিয়ে হেঁটে হেঁটেই বাসায় ফিরছিলাম। অফিসার্স ক্লাবের সামনে পৌঁছাতেই ইশরাক ভাইয়ের কল, বললেন ‘সাব্বির, মান্নান সৈয়দ নাকি মারা গেছেন? মজিদ ভাই টিভিতে দেখছেন। তুমি কিছু জানো?’ আমি একেবারেই স্তম্ভিত হলাম। মাযহার ভাই ফোন করলেন, তিনিও একই সংবাদ জানালেন। এরই মধ্যে বাশারের টেক্সট ‘sorry to hear about mannan syed. take my deepest condolences.’ ও-ও টিভিতে দেখেছে।

cover-natak.jpg………
প্রচ্ছদ: আবদুল মান্নান সৈয়দ-এর নাট্যসমগ্র
………

দুপুরেই তাঁর সাথে অনেকক্ষণ কথা হয়েছে, নানা বইয়ের, লেখার পরিকল্পনা শেয়ার করছিলেন, পরামর্শ-মতামত চাচ্ছিলেন, অন্যান্য দিনের মতন। ‘রাতে আবার কথা হবে’ এই ছিল তাঁর আমার সঙ্গে শেষ কথা। সেই রাত এমনভাবে আসবে কল্পনাও করি নাই। সময় তো চলতেই থাকে, থামানো যায় না, শুধুমাত্র ব্যক্তির নিজস্ব সময়সীমা থেমে যেতে পারে। সেদিনের বিকালে, সাড়ে চারটার দিকে তাঁর মেয়ে জিনান সৈয়দ আমাকে ফোন করে জানান ‘আব্বুর শরীরটা খারাপ হয়ে পড়েছে। ডাক্তার কারো সাথে কথা বলতে বা দেখা করতে নিষেধ করেছেন। কাউকে জানানোর দরকার নেই। সুস্থ হয়ে আব্বু আপনাকে কল দিবেন। দোয়া করবেন।’

অফিসার্স ক্লাবের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকলাম। কাজল ভাইকে খবরটি জানাতে ‘হো-য়া-ট!’ বলে প্রায় চিৎকার করে ওঠেন। আমরা দু’জন ২৭ অগাস্ট তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেদিন চ্যানেল আই-তে নজরুল বিষয়ক একটি লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালীন অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। হসপিটালে জ্ঞান ফিরতেই ডাক্তার বা আত্মীয়স্বজন সবার কথা অগ্রাহ্য করে বাসায় চলে আসেন। সেদিন রাতেই তাকে দেখতে যাওয়া। তাঁর বেডরুমে ঢুকে দেখি একেবারে লম্বা হয়ে শুয়ে আছেন।
—————————————————————-
এই অসুস্থতার মধ্যেও বিছানার চারপাশ জুড়ে বই আর বই। সদ্য প্রকাশিত বইয়ের জগৎ আর সমকাল-এর ঈদসংখ্যা স্মিত হেসে আমাদের হাতে দিলেন। দেখলাম বইয়ের জগৎ-এ রণেশ দাশগুপ্তের কখনো চম্পা কখনো অতসী-র ওপর সুদীর্ঘ আলোচনা আর সমকালে দীর্ঘ একটি গল্প। কথাই প্রায় বলতে পারছিলেন না, একেবারে নিচুস্বরে বললেন, ‘লিখতে আর ভাল্লাগে না।’ এরকম উনি প্রায়ই বলতেন, কিন্তু সক্রিয়ভাবেই শেষ পর্যন্ত লিখে গেছেন। কাজল ভাই বললেন ‘আপনাকে আর লিখতে হবে না, শুধু দেখার জন্য আরো বাঁচতে হবে।’ আমি ডাক্তারের কথা শোনার জন্য অনুরোধ করলাম। বললাম আপনাকে আরো ২০ বছর বাঁচতে হবে। হায় ২০ বছর! বিদায় নেয়ার সময় আমাদের দুজনেরই হাত ধরে রাখলেন অনেকক্ষণ, কী শীতল সেই দুটো হাত!
—————————————————————- (সম্পূর্ণ…)

শহিদ কবীরের সঙ্গে আলাপ

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৮:০৯ অপরাহ্ন

sk_2.jpg

আমি শহীদ পরিবারের ছেলে। আমার বাবার নাম শহীদ (তিনি এখনো জীবিত) বলেই আমি নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান বলি।

আরো দুই শহিদের সাথে আমার গভীর ঘনিষ্ঠতা। একজন কবি, আরেক জন চিত্রকর। যথাক্রমে শহিদ কাদরী ও শহিদ কবীর, দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে। কুড়ি বছর আগে দুজনকেই খুঁজেছি, খুঁজতে খুঁজতে কাদরীকে পেলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আর স্পেনে কবির।
—————————————————————-
ঢাকার মতোই মাদ্রিদ তাঁর অন্যতম প্রিয় স্থান। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যে নিজের মাকে ভালোবাসে, সে অন্যের মাকেও ভালোবাসে। সকল মা-ই এক! তাই সর্বত্রই আমার জননী আমার জন্য হাত বাড়িয়ে থাকেন।’
—————————————————————-
শহিদ কবীরের আশপাশের দেশে থাকেন শিল্পী মনিরুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন, ওয়াকিলুর রহমান, রুহুল আমিন কাজল। এঁদের সবার সাথেই ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে আমার, নেই শুধু শহিদ কবিরের সাথে। অথচ তাঁর স্ট্রিট সার্কাস দেখে আমি রীতিমত মুগ্ধ। অনেক দিন আগে সম্ভবতঃ বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম, তাদের কোনো এক স্মরণিকার প্রচ্ছদে স্ট্রিট সার্কাস ব্যবহার করেছিল, যা আজো মনে গেঁথে আছে।

aug21_08.jpg
স্কেচ: শহিদ কবীরের ‘স্ট্রিট সার্কাস’

(সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পারস্যে

| ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৮:৩৮ অপরাহ্ন

cover_pashshe_420.jpg

১৩৪৩ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে প্রকাশিত ‘জাপানে-পারস্যে’ বইয়ের পারস্যে অংশে তৎকালীন নতুন রচনা পারস্যভ্রমণের বৃত্তান্ত হিসেবে বর্তমান ‘পারস্যে’ অন্তর্ভূক্ত হয়। ‘পারস্যে’র প্রথম পরিচ্ছেদ ১৩৩৯ সালের আষাঢ়-সংখ্যা প্রবাসী’তে ‘পারস্য-যাত্রা’ নামে বাহির হয়। ২ হইতে ১১ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত অবশিষ্ট অংশ ১৩৩৯ সালের শ্রাবণ হইতে ১৩৪০-এর বৈশাখ-সংখ্যা পর্যন্ত বিচিত্রা মাসিকপত্রে ‘পারস্যভ্রমণ’ নামে ধারাবাহিকভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তিতে বিশ্বভারতী কর্তৃক ১২৫ তম রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত রবীন্দ্র রচনাবলী, সুলভ সংস্করণ-এর একাদশ খণ্ডে (আষাঢ় ১৩৯৭) সংকলিত এবং পৌষ ১৪০২-এ পুনঃমুদ্রিত হয়।

পত্রিকায় মুদ্রিত প্রথম পাঠ ও রবীন্দ্রভবনে রক্ষিত পাণ্ডুলিপির সাহায্যে বর্তমান সংস্করণের পাঠ স্থানে স্থানে সংশোধিত হয়েছে। ভ্রমণবৃত্তান্তটির বিচিত্রায় মুদ্রিত পাঠের কয়েকটি অংশ গ্রন্থপ্রকাশকালে বর্জিত হয়েছিল। সেই বর্জিত অংশগুলি এখানে সংকলিত হল। ‘পারস্যে’ মূলতঃ রবীন্দ্রনাথের ইরান যাত্রার বিবরণ হলেও এই ভ্রমণ কাহিনীর শেষ কয়েক পাতায় ইরান সীমান্ত পার হয়ে ইরাক ঘুরে দেখার কথাও আছে।

১৯৩২ এর ১১ এপ্রিল পারস্যরাজের কাছ থেকে তিনি নিমন্ত্রণ পান। সত্তর বছর বয়সে দেশের বাইরে আর ঘুরে না বেড়ানোর কথা ভাবলেও পারস্যরাজের নিমন্ত্রণে পারস্য যাবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রথমে বিমানে করে কলকাতা থেকে এলাহাবাদ হয়ে বোম্বে। সেখান থেকে ১২ই এপ্রিল জাহাজে উঠে পারস্য যাত্রা করেন রবীন্দ্রনাথ।

আর্টস ই-বুক হিসেবে এবার প্রকাশিত হলো পারস্যে’র পিডিএফ ভার্সন। আগ্রহী সবাই ডাউনলোড করুন। ফাইল সাইজ: ১২২০ কিলোবাইট।

ডাউনলোড: রবীন্দ্রনাথের ‘পারস্যে’

—–
ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

(সম্পূর্ণ…)

প্রতিসন্দর্ভের স্মৃতি

মলয় রায়চৌধুরী | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৮:১০ অপরাহ্ন

malay-palamu_bihar_1963.gif[১৯৬১ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হাংরি আন্দোলন শুরু করেন মলয় রায়চৌধুরী, তার বন্ধু দেবী রায়, বড় ভাই সমীর রায়চৌধুরী ও কবি শক্তি চট্টোপ্যাধ্যায়। পরবর্তীকালে উৎপলকুমার বসু, বিনয় মজুমদার, সুবিমল বসাক, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, ফাল্গুনী রায়, ত্রিদিব মিত্র এবং তার বান্ধবী আলো মিত্র, সুভাষ ঘোষ, বাসুদেব দাশগুপ্ত, শৈলেশ্বর ঘোষ, প্রদীপ চৌধুরীসহ আরো অনেকে। ১৯৬৪ সালের হাংরি বুলেটিনে মলয় রায় চৌধুরী’র ‘প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার’ কবিতা প্রকাশিত হয় এবং ‘হাংরি বুলেটিন ১৯৬৪’ প্রকাশের পরে পরে ভারতীয় আদালতে হাংরি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

১৯৬৪ সালের ২রা সেপ্টেম্বর হাংরি আন্দোলনকারীদের ১১ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ড বিধির ১২০বি (রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ), ২৯২ (সাহিত্যে অশ্লীলতা ) ও ২৯৪ (তরুণদের বিপথগামী করা) ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়; এর মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১৯৬৫ সালের মে মাসে অন্য সবাইকে রেহাই দিয়ে কেবল মলয় রায় চৌধুরী’র বিরুদ্ধে ২৯২ ধারায় চার্জশীট দেয়া হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানার দরুন উৎপলকুমার বসু অধ্যাপকের চাকরি থেকে বরখাস্ত হন। প্রদীপ চৌধুরী বিশ্বভারতী থেকে রাসটিকেট হন। সমীর রায়চৌধুরী সরকারি চাকরি থেকে সাসপেন্ড হন। সুবিমল বসাক ও দেবী রায়কে কলকাতা থেকে মফঃস্বলে বদলি করে দেয়া হয়।

গ্রেফতারের সময়ে মলয় রায় চৌধুরীকে হাতে হাতকড়া পরিয়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে দুই কিলোমিটার হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৬৬ সালে ব্যাংকশাল কোর্ট মলয় রায় চৌধুরীকে দুশো টাকা জরিমানা, অনাদায়ে একমাসের কারাদন্ড দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে মলয় রায় চৌধুরী কলকাতা উচ্চ আদালতে আপিল করেন এবং ২৬ জুলাই ১৯৬৭ সালে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় নাকচ করে দেয়।

সেই সময়ে হাংরি আন্দোলন কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল এবং উপরোক্ত মামলায় ‘প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার’ কবিতাটির কী ভূমিকা ছিলো–এই পুরো বিষয় নিয়ে দিল্লি’র দিগঙ্গন পত্রিকায় লিখেছেন মলয় রায়চৌধুরী। ২০০৪ সালে দিগঙ্গন উৎসব সংখ্যায় প্রকাশিত মলয় রায়চৌধুরী’র ‘প্রতিসন্দর্ভের স্মৃতি’ নামে লেখাটি আর্টস-এ পুনঃপ্রকাশিত হলো। বি. স.]

————–

প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার

মলয় রায়চৌধুরী

ওঃ মরে যাব মরে যাব মরে যাব
আমার চামড়ার লহমা জ্বলে যাচ্ছে অকাট্য তুরুপে
আমি কী কোর্বো কোথায় যাব ওঃ কিছুই ভাল্লাগছে না
সাহিত্য-ফাহিত্য লাথি মেরে চলে যাব শুভা
শুভা আমাকে তোমার তর্মুজ-আঙরাখার ভেতরে চলে যেতে দাও
চুর্মার অন্ধকারে জাফ্রান মশারির আলুলায়িত ছায়ায়
সমস্ত নোঙর তুলে নেবার পর শেষ নোঙর আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে
আর আমি পার্ছিনা, অজস্র কাঁচ ভেঙে যাচ্ছে কর্টেক্সে
আমি যানি শুভা, যোনি মেলে ধরো, শান্তি দাও
প্রতিটি শিরা অশ্রুস্রোত বয়ে নিয়ে যাচ্ছে হৃদয়াভিগর্ভে
শাশ্বত অসুস্থতায় পচে যাচ্ছে মগজের সংক্রামক স্ফুলিঙ্গ
মা, তুমি আমায় কঙ্কালরূপে ভূমিষ্ঠ করলে না কেন ? (সম্পূর্ণ…)

কিস্তি ১

মান্নান ভাইয়ের সঙ্গে তিরিশ বছর

আহমাদ মাযহার | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৮:৪৭ অপরাহ্ন

সত্তরের দশকে আমার আব্বা সে-কালের বহুল প্রচারিত পত্রিকা সাপ্তাহিক বিচিত্রা রাখতেন বাড়িতে। আবদুল মান্নান সৈয়দের নাম শুনি স্কুলপড়ুয়া বয়সে, সেই সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র সূত্রেই। সেটা ১৯৭৬ বা ৭৭ সালের কথা। সেবার বিচিত্রা প্রচ্ছদ কাহিনি করেছিল বাংলাদেশের কবি ও কবিতাকে বিষয় করে। বাংলাদেশের সমসাময়িক কালের গুরুত্বপূর্ণ কবিদের অনেকেরই ছবি ছাপা হয়েছিল সে-সংখ্যায়, তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ও ছিল সেখানে। যতদূর মনে পড়ে, আবদুল মান্নান সৈয়দের নাম আমি তখন থেকেই জানি। তখনকার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আমার কাকা আবদুল গনির সূত্রে তাঁর সহপাঠী বন্ধু আতাহারুল ইসলামের সঙ্গে আমার সখ্য হয়েছিল সাহিত্য পাঠে আমার আগ্রহের কারণে। সমসাময়িক কোন লেখকের লেখা পড়া উচিত জানতে চাইলে তিনি যাঁদের নাম বলেছিলেন তার মধ্যে আবদুল মান্নান সৈয়দের নাম ছিল। পরে ১৯৭৯ সালে, কলেজের লাইব্রেরিতে চোখে পড়ল তাঁর বই চলো যাই পরোক্ষে

mannan_3.jpg
আবদুল মান্নান সৈয়দ, ছবি: সাব্বির আজম

বলা বাহুল্য, আমার তখনকার সাহিত্য পাঠের অভিজ্ঞতায় এই নাম খুব আলাদা লেগেছিল। তখন ছিলাম সর্বগ্রাসী পাঠক। বুঝি বা না-বুঝি সবই পড়তে চাই এমন মানসিক অবস্থা। বইটা পড়ে তেমন একটা না বুঝলেও অনুভব করেছিলাম যে এই লেখক সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের। সে-সময়ই কলেজে সহপাঠী মোস্তফা জামানের সাথে পরিচয় হয়েছিল আমার। তখন সে ছিল বেশ অগ্রসর পাঠক। দেখলাম সমকালীন সাহিত্যের খোঁজ আমার চেয়ে তার অনেক বেশি জানা। তার হাতেই একদিন দেখলাম চারিত্র নামে একটি পত্রিকা। সাহিত্য পত্রিকা যে ঠিক বিচিত্রা’র মতো পত্রিকা নয় তা সবে বুঝতে শুরু করেছি তখন। মোস্তফা জামান তার সংগৃহীত পত্রিকাটি আমাকে পড়তে দিল। (সম্পূর্ণ…)

কিস্তি ৯

ছফামৃত

নূরুল আনোয়ার | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৯:০৮ অপরাহ্ন

শুরুর কিস্তি

কিস্তি ৮-এর পর

হুমায়ুন আজাদের সঙ্গে কাকার একটা কলমযুদ্ধ মানবজমিনে দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল আটানব্বই সালের জানুয়ারিতে। হুমায়ুন আজাদ দৈনিক মানবজমিনে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেছিলেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন কবি রাজু আলাউদ্দিন। ওই সাক্ষাৎকারে বাংলা-সাহিত্যের এমন কোন কবি-সাহিত্যিক ছিলেন না যাঁদেরকে হুমায়ুন আজাদ আক্রমণ করেননি। তিনি রবিঠাকুরকে বলেছিলেন সাম্প্রদায়িক, নজরুলকে মৌলবাদী, লালন ফকিরকে পাগল, আহমদ ছফাকে শাহবাগের উন্মাদ। এভাবে তিনি নানাজনকে নানা অভিধায় অভিহিত করেছিলেন। ছফা কাকা সাক্ষাৎকারটি পড়ে খুব খেপেছিলেন এবং মানবজমিনে প্রতিবাদ করে একটি দীর্ঘ লেখা তিনি লিখেছিলেন। ফলে শুরু হয়েছিল দু’জনের মধ্যে বিরতিহীন কলমযুদ্ধ। তাঁদের এই কলমযুদ্ধ শালীনতার পর্যায় ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

sofa_sultan_samsur.jpg
এস. এম. সুলতান ও শামসুর রাহমানের সঙ্গে আহমদ ছফা

অনেকে বুঝতে পেরেছিলেন হুমায়ুন আজাদ পত্রিকার শিরোনাম হওয়ার জন্য এই সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন। কিন্তু ছফা কাকা তাঁকে এভাবে আক্রমণ করে বসবেন সেটা তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। হুমায়ুন আজাদকে কথার বাণে জর্জরিত করার কারণে কেউ কেউ খুশি হলেও অনেকে তাঁর ওপর নাখোশ হয়েছিলেন। ছফা কাকার মত মানুষকে এ পর্যায়ে নেমে আসাটাকে অনেকে পছন্দ করেননি। পরে পরে বিষয়টি তিনিও অনুমান করতে পেরেছিলেন এবং অনুতপ্ত হয়েছিলেন। ফলে তাঁকে লিখতে হয়েছিল:

“আমি ‘মানবজমিনে’র পাঠক-পাঠিকা ভাইবোনদের কাছে প্রথমে ক্ষমা চাইব। ক্ষমা চাইব একারণে যে, একজন লেখকের কাছে সুরুচিসম্পন্ন পাঠক যে ধরনের শোভন আচরণ প্রত্যাশা করেন, আমার আশঙ্কা হুমায়ুন আজাদের সঙ্গে আমার যে একটি অনিশেষ বাহাস চলছে, তাতে শালীনতার মাত্রাটি পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের কাছে দুই গুণ বেশি ক্ষমা চেয়ে নেবার তাগিদ ভেতর থেকে অনুভব করছি। আমাদের যাদের বয়স হচ্ছে, পরিস্থিতির চাপে অনেক সময় আমাদের উজ্জ্বল অংশ তুলে ধরার বদলে কদর্য অংশ প্রদর্শন করতেই বাধ্য হচ্ছি। আর সে কারণে তরুণ-তরুণীরা আমাদের টিটকারি করেন এবং অনুকম্পা প্রদর্শন করেন। আমি মনে করছি সে জিনিসগুলো ইতোমধ্যে আমাদের প্রাপ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। (ছফা, খ. ৮, পৃ. ৪০২)

এ লেখাটি লিখে ছফা কাকা হুমায়ুন আজাদের সঙ্গে কলমযুদ্ধের ইতি ঘটিয়েছিলেন। এক সময় হুমায়ুন আজাদের সঙ্গে তাঁর সুন্দর সম্পর্ক ছিল। একটা সাক্ষাৎকারের কারণে তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছফা কাকা হুমায়ুন আজাদের সঙ্গে আগের সে সম্পর্কে ফিরে যেতে পারেননি। তবে ছফা কাকার লাশ যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের সামনে রাখা হয়েছিল সেখানে হুমায়ুন আজাদকে দেখেছিলাম মলিন মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে। তিনি বলেছিলেন, আমার ঝগড়া করার মানুষটিও থাকল না। (সম্পূর্ণ…)

জীবনের পাতায় পাতায় (৩)

বেবী মওদুদ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৭:৪৬ অপরাহ্ন

শুরুর কিস্তি
——————————–
স্মৃতিকথা ধারাবাহিক
——————————–
কিস্তি ২-এর পর

ভারত ভাগের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাও ভাগ হলো। পাকিস্তানের প্রদেশ হলো পূর্ববঙ্গ বা পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিমবঙ্গ ভারতের প্রদেশ। আমার বাবা পাকিস্তানের পূর্ববঙ্গে এসে প্রথমে খুলনা জজ কোর্টের সিনিয়র মুন্সেফ হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন । তখনও ভিসা পদ্ধতি না থাকায় কলকাতা ও গ্রামের বাড়িতে আমাদের যাতায়ত ভালো ছিল। বাড়িতে
bm-18.jpg……..
বেবী মওদুদ, রাওয়ালপিন্ডি, কলেজে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালীন
……..
শিক্ষক এসে বড় দু’ভাইকে লেখাপড়া করাতেন। আমার বয়স তখন একবছর হবে। কোন স্মৃতি আমার মনে নেই। তবে মায়ের কাছে শুনেছি আমার খুব জ্বর হতো। রোগা পাতলা ছিলাম। খুলনার আশেপাশের বাড়ির মেয়েরা মায়ের কাছে আসতো, গল্প করতো সেলাই শিখতো। একটা ভালো আড্ডা হতো। আমার মা পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছেন-এটা তাঁরা খুব সহানুভূতির সঙ্গে দেখতেন। কলকাতার কথা শুনতেন। আমার বাবাকে কোর্টের কাজে বেশি ব্যস্ত থাকতে হতো। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা, স্বাভাবিক ভাবেই সবাই একটু অন্য চোখে দেখতো তাঁকে এবং তার কাজকর্মকে। আমাদের চাল-চলনও সবাই পর্যবেক্ষণ করতো। আমাদের পরিচয় হয়ে ওঠে রিফিউজি।

খুলনায় তখন পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেকে এসে বসবাস করতো। তাদের কেউ কেউ আমাদের বাসায় এলে সবাই সুখ-দুঃখের গল্প করতো। এখানকার ভালো মন্দ নিয়ে কথাও বলতো। সবার ধারণা ছিল, পাকিস্তানে যখন এসেছি তখন আর জানের ভয় নেই। দাঙ্গা হলেও মুসলমান চিহ্নিত করে কেউ মারতে আসবে না। তবে বাপ-দাদার ভিটে মাটি ছেড়ে এভাবে নতুন মাটিতে আশ্রয় নেয়ায় মনে সর্বদা আশঙ্কা ছিল। আমার মায়ের পছন্দ ছিল এখানকার মাছ-সব্জি এবং কাজের লোক। পেট ভরে ভাত খেতে পেলে অল্প বেতনে কাজ করতে রাজী হয়ে যেত। ফলে আমাদের বাড়ির কাজের লোকরা পরিবারের লোক হয়ে যেত। আমাদের কোলে পিঠে করে মানুষ করতো। বাড়িতে বয়স্কা মহিলা কাজ করতেন, যাকে আমরা বুজি বলে ডাকতাম।

খুলনায় আমরা তিন ভাই-বোন ঘরে বসেই খেলতাম। মাত্র পাঁচ-ছয় মাস থাকার পর আমার বাবাকে টাঙ্গাইল কোর্টে বদলি করা হয়। লঞ্চ চড়ে ঢাকা হয়ে রেলগাড়িতে ময়মনসিংহ হয়ে টাঙ্গাইল পৌঁছাতে খুব কষ্ট হয়েছিল আমাদের। টাঙ্গাইলে এসে আমার বড় ভাই জাহাঙ্গীর বিন্দুবাসিনী হাই স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছিলেন। এখানে আসার পর আমার বাবা খুব খুশি হন। টাঙ্গাইলের মানুষের সাংস্কৃতিক আগ্রহ ও জীবনধারা তার পছন্দ হয়েছিল। (সম্পূর্ণ…)

তিনটি কবিতা

ওমর শামস | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

উপমা পুরাণ
 
১.
আমরা সকলেই একটি প্রসিদ্ধ উপমা জানি। উপমাই যদি কবিত্ব হয় তবে এই উপমাটিকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে:

পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।

বহু সমাজবাদীরা পোস্টার লিখে, বক্তৃতা দিয়ে, ট্রেড-ইউনিয়ন করে যা বোঝাতে পারেন নি, এই উপমাটি যেন সেই দুরূহ কাজ সম্পন্ন করেছে। আপনারা জানেন, এই উপমাটি কবি সুকান্তর। এবং কুড়ি শতকে কোলকাতায় রচিত।

কী আশ্চর্য, একদিন পুরোনো কবিতা ঘাঁটতে ঘাঁটতে ঐ একই উপমা আমি আবার পেয়ে গেলাম তেরো শতকে। একটি বাদামি মরক্কো চামড়ার সোনার জালির মলাটের ভিতরে গয়নার মতো ফার্সি হরফের মধ্য থেকে বেরিয়ে পড়ে:

আমাদের কোনো পানির সোরাহি নেই
আমাদের বস্ত্র নগণ্য,
কোনো কম্বল নেই রাত্রির জন্য—
ভাবি পূর্ণিমার চাঁদ যেন একখানা রুটি।

হে বাংলার বুজুর্গ, আপনারা শুনুন, উপমাটি মৌলানা রুমীর—তেরো শতকে কোনিয়ায় বসে লেখা। সবুজ আর গোলাপি, দুটি ভেজা জলরঙের মতো মিশে যায় সাতশো বছরের দূরত্ব-নৈকট্যের দুটি ভাবনা, দুটি ডানা, দুটি স্পন্দিত বুক।

ভাষা, ত্বক, গোত্র, খাদ্য, বসন এমন কি সময়ের পার্থক্য সত্ত্বেও সকল কবির আত্মা যে একই স্থান-কালে বসবাস করে, তা জেনে আমি প্রফুল্ল হলাম। মনে হলো, বেঁচে থাকার জন্য এ এক একবিংশতম আনন্দ। বোরহেসের বক্তব্য মনে পড়লো:

সকল শ্রেষ্ঠ উপমাই এক।

 
২.
কিন্তু উপমার অনস্তিত্বও আমি অনুভব করেছি।

যখন সুনামিতে ভেসে যায় তট-গ্রাম-তল্লাট, পশু, পক্ষী, শিশু, অশীতিপর—
তখন?

যখন দাঙ্গায় খুন হয় নিরীহ; যুদ্ধে জ্বলে যায় ক্ষেত-নদী-গৃহ-শহর-শাড়ি-হাড়-মাস—
তখন? (সম্পূর্ণ…)

যেভাবে ছবি আঁকা হয়

শেখ আফজালের ‘লাইফ’ (১ ও ২)

নাবীল অনুসূর্য | ৮ সেপ্টেম্বর ২০১০ ২:২২ অপরাহ্ন

shekh-afzal-1.jpgশেখ আফজাল

শেখ আফজালের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করাই ছিলো। সময় মতো উপস্থিত হলাম তাঁর বাসাস্থ ছোট্ট, তুলনামূলকভাবে সাজানো গোছানোই বলা চলে, তারপরও আসলে এলোমেলোই, স্টুডিওতে। একপাশে সারিসারি করে রাখা তাঁর সাম্প্রতিক ছবিগুলো। উল্টোপাশেও কয়েকটা ছবি রাখা। মাটিতে একটা টুল। যার উপরে একটা ল্যাপটপ। চলছে, আরেকটা ল্যাপটপ পাশে, ঘুমন্ত। আর সারি সারি ছবির সামনে মেঝেতে ছড়ানো তাঁর অস্ত্রসমূহ। কয়েক ধরনের রং, ব্রাশ, তুলি, ইত্যাদি ইত্যাদি। কোণায় একটা সেলফে কিছু বই আর তাঁর বিভিন্ন এক্সিবিশনের ক্যাটালগ।

shekh-afzal-5a.jpg ………
স্টুডিওর ক্যানভাসে প্রায় ‘সমাপ্ত লাইফ-১’
………

আমরা সবকিছুর ঠিক মাঝখানে আসন গেড়ে বসলাম। সারি সারি ছবিগুলোকে সামনে রেখে। কথা বললাম মাসখানেকের মধ্যে আঁকা তাঁর দুটি ছবি নিয়ে।

কয়েকটা ছবির নিচ থেকে একটা ছবি বের করে সামনে রাখলেন। বললেন, ‘ছবিটার নাম এখনো দেই নাই, তবে এটা হইতে পারে ‘ফ্যামিলি’, অথবা ‘লাইফ’। ফ্যামিলির ভিতরে ছেলে (হাত দিয়ে দেখিয়ে দেখিয়ে), মেয়ে, তার বাবা এরকম একটা সিন। তুমি যে কোনো গ্রামের বাড়িতে দেখবে। বাজারে যাচ্ছে বা কোথাও যাইতেছে। ছেলেটা ঘাড়ে নিছে। এরকম কিন্তু আমরা দেখি। ওইটা আমি সরাসরি না এঁকে একটুখানি বোঝা যায়, বোঝা যায় না… এইভাবে আঁকি। আমার ছবিগুলো সবই নেচার থেকে নেয়া, দৈনন্দিন জীবনের প্রতিফলন। (সম্পূর্ণ…)

আবদুল মান্নান সৈয়দ-এর আর্টস-এ প্রকাশিত লেখা

| ৬ সেপ্টেম্বর ২০১০ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন

abdul-mannan-syed.jpg
কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০)

কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১০ রবিবার মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি আর্টস-এর নিয়মিত লিখেছেন। আর্টস-এ প্রকাশিত তাঁর লেখাসমূহের শিরোনাম ও লিংক এখানে একসাথে দেয়া হলো।

আর্টস-এ প্রকাশিত লেখা

সেরগেই এসেনিন বলছে (কবিতা)

সোনালি চট্টোপাধ্যায় (জার্নাল)

নজরুলের কবিতা: ভাবনা-বেদনা

নজরুলের গজলগান

বুদ্ধদেব বসু: জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধার্ঘ্য

নজরুল:রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দের পারস্পরিকতায়

শ্রদ্ধাঞ্জলি: অগ্রযাত্রিক কথাশিল্পী আবু রুশ্‌দের স্মৃতি

(সম্পূর্ণ…)

ইলিয়াসের গল্প, মেডিকেল তত্ত্ব ও টেকনোলজি সংক্রান্ত ভাষ্য

ফরহাদ মজহার | ২ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৮:৪৮ অপরাহ্ন

elias_1.jpg……..
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১২/২/১৯৪৩ – ৪/১/১৯৯৭)
……..

১৯৪৩ সালে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মেছিলেন। তাঁর বাবার বাড়ি বগুড়া জেলায়। বাবা বদিউজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (১৯৪৭-১৯৫৩) এবং মুসলিম লীগের পার্লামেন্টারী সেক্রেটারি ছিলেন। মা বেগম মরিয়ম ইলিয়াস। ইলিয়াসের ডাক নাম মঞ্জু। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন ১৯৬৪ সালে। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদানের মাধ্যমে। এরপর তিনি মিউজিক কলেজের উপাধ্যক্ষ, প্রাইমারী শিক্ষা বোর্ডের উপ পরিচালক, ঢাকা কলেজের বাংলার প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মফিজউদ্দিন শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

ইলিয়াসের মৃত্যুর পরে ফরহাদ মজহারের এ লেখাটি বাংলাবাজার পত্রিকার ১৩ জানুয়ারি ১৯৯৭ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল। প্রায় সাড়ে তের বছর পরে ফরহাদ মজহারের সৌজন্যে লেখাটি পুনঃপ্রকাশিত হলো। এ লেখায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি গল্প ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’কে ঘিরে লেখকের আলোচনা অগ্রসর হয়েছে। তিনি সে সময়ে আলোড়ন তোলা ইলিয়াসের ‘ছোটগল্প’ বিষয়ক জনপ্রিয় ধারণাকে এ লেখায় চ্যালেঞ্জ করেছেন। বি. স.

 
আম্মার ঘরে আমরা কী ফেলে এসেছি?

খুবই কম লিখেছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। আমাদের জন্য এটা ভাল নাকি মন্দ বলা মুশকিল। তবে তাঁর খুব লোকশান হয়েছে কি? এত কম লিখে বাংলাসাহিত্যে নিজের জন্যে একটি জায়গা করে নিতে পারা দারুণ একটা ব্যাপার। ঈর্ষা করার মত। তবুও আমাদের সেই দোনামোনা থাকে না যে আখতার সবাইকে একটু চীট করেছেন। প্রতারণা। বোধ হয় তিনি আরো লিখতে পারতেন, লিখেন নি। তিনি আর লিখবেন না এটা মস্ত বড় লোকশান। আমরা ঠকেছি।

ইলিয়াস সম্পর্কে এত দ্রুত কিছু লিখতে বাধ্য হবো, এটা আমি কক্ষণোই ভাবি নি। ইলিয়াস সম্পর্কে লিখতে গিয়ে একবার তাঁর সব বইপত্র জোগাড় করে বসেছিলাম। তখনও ‘খোয়াবনামা’ হাতে আসে নি। পড়ে-টরে নিজেকে শুধালাম, আচ্ছা ইলিয়াস মশায়ের সবচেয়ে দারুণ গল্প কোনটি? তখন মাথা চুলকিয়ে থুতনি মুছে ঢের ভাবাভাবি করে মনে হোল, ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’। এই সিদ্ধান্তে নিজেই নিজের কাছে খুব অবাক হয়ে গেলাম। এই গল্পটি ইলিয়াসের প্রথম দিককার রচনা। ষাট দশকের দিকে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, থাকি ঢাকা হলে, তখন আমি এই গল্পটি পড়েছি। সেই সময়েই গল্পটি আমার করোটির মধ্যে প্রবেশ করেছিল, এরপর আর বের হওয়ার দরোজা খুঁজে পায় নি। (সম্পূর্ণ…)

ঙং পাহাড়ের কোলে

রাশিদা সুলতানা | ২ সেপ্টেম্বর ২০১০ ৮:৪২ অপরাহ্ন

photo-12.JPGদ্য গ্রেট রিফ্ট ভ্যালে

নাইরোবি এয়ারপোর্টে আমাদের জন্য অপেক্ষমাণ গাড়িতে পরিচয় আফগানস্থানের মিরওয়াইজ দুররানির সাথে। খার্তুম থেকে আমরা একই ফ্লাইটে এসেছি, কিন্তু পূর্বপরিচয় ছিল না। গ্রীষ্মদেশীয় কেনিয়ার রাস্তার দু’পাশে নানা ফুলের আর রঙের সমাহার। জঙ্গল, পাহাড়, দরিদ্র মানুষজন, খোলা সবুজ মাঠে চড়তে থাকা ঘোড়া, গরু, রাস্তার পাশের ভাঙাচোরা ফার্নিচারের দোকান, বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা ফেরিওয়ালা, আর রাস্তার দু’পাশের ঘন সবুজ অতিক্রম হয়ে পৌঁছাই ট্রেনিং সেন্টারে। সবুজ পাহাড়ের ঢালে শত পাখির কাকলি, সকালের শিশিরে ভেজা পত্রপল্লবের মিষ্টি ভেষজ গন্ধ, সোনালি রোদের ছটা আমাদের ট্রেনিং সেন্টারে অভ্যর্থনা জানায়।

ট্রেনিং সেন্টার-এর লনে পরিচয় মার্কিন কর্নেল অ্যান্টন-এর সাথে। নিজের পরিচয় দিয়ে জানতে চাইল আমার নাম রাশিদা সুলতানা কিনা। আমি হ্যাঁ বলতেই কর্নেল বলে, “তুমি আমার সাথে একই সিন্ডিকেট-এ।” পাশে দাঁড়ানো আফগান মিরওয়াইজ দুররানির সাথে পরিচয় হলে বলে, “তুমিও সম্ভবতঃ আমাদের সিন্ডিকেটে।”

আমরা দু’জনেই প্রায় একসাথেই বলি, “কে কোন সিন্ডিকেটে সব মুখস্থ করে রেখেছ দেখছি। এই ট্রেনিং সেন্টারে কবে এসেছ তুমি?”
photo-13.JPG……..
কারেন ব্লিক্সেন মিউজিয়ামের পথে
……..
সে জানায়, গতকাল এসেছে। করার কিছু ছিল না, তাই রুম-এ ট্রেনিং ম্যাটেরিয়াল যা ছিল সেগুলো পড়েছে।

ট্রেনিং সেন্টারে দ্বিতীয় সন্ধ্যায় ছিল ‘নামচামো’ সোয়াহিলিতে নামাচামো অর্থ হচ্ছে ‘বারবিকিউ’ (আস্ত ছাগল পোড়ানো), এটি আফ্রিকানদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব। পাহাড়ের ঢালে সবুজ লনে পার্টি শুরু হবার খানিক পরই তুমুল বৃষ্টি নামে। হুড়মুড়িয়ে সবাই ট্রেনিং সেন্টারের বারান্দায় জড়ো হয় নামচামোর যাবতীয় সরঞ্জমাদি-সহ। বৃষ্টিতে, বাতাসে, ঘাসফড়িংয়ের মতো অসংখ্য পোকা পুরো বারান্দা দখল করে নিতে আসে। বারবিকিউ শেষ হবার আগেই আমরা ভিতরে ডাইনিং-এ চলে যাই। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com