আহমদ ছফার অগ্রন্থিত রচনা

কর্ণফুলীর ধারে

| ২৮ জুলাই ২০১০ ১০:১৭ অপরাহ্ন

sofa_43.jpg
আহমদ ছফা

ভূমিকা / নূরুল আনোয়ার

আহমদ ছফার লেখা কেউ ছাপতে চাইত না, সেই কষ্টের কথা আমরা কম বেশি জানি। তিনি পত্রপত্রিকায় কবিতা পাঠালে ছাপার অযোগ্য বিবেচনা করে সম্পাদক সাহেবেরা তা দলামোচড়া করে ময়লার ঝুঁড়িতে ফেলে দিতেন। কবিতা লিখেন অথচ কোন পত্রিকা ছাপে না এটা বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে প্রচার পেয়ে গিয়েছিল। ব্যাপারটি তাঁকে এক রকম লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল। লজ্জা থেকে নিষ্কৃতি পাবার আশায় তিনি একদিন সংবাদ পত্রিকার অফিসে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন সন্তোষ দাশগুপ্ত। আহমদ ছফা তাঁর লেখা কবিতা সন্তোষবাবুর হাতে তুলে দিয়েছিলেন পত্রিকায় ছাপার জন্য। সন্তোষবাবু কবিতায় আগাগোড়া চোখ বুলিয়ে প্রশ্ন তুললেন, বাবা আছে?

আহমদ ছফার জবাব, নাই।

ভাই আছে?

আহমদ ছফার জবাব, আছে।

আহমদ ছফা জানতে চাইলেন, এসব জানার কারণ কী।

সন্তোষবাবু বললেন, চিঠি দেব যেন সহসা তোমাকে বিয়ে করায়। কবিতার নামে যারা মিনি বিড়ালের মত সঙ্গী খোঁজে তাদের ওষুধ বিয়ে করা।

আহমদ ছফা এসমস্ত কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি সন্তোষবাবুর ওপর ক্ষেপে গিয়ে পুরো অফিসটা মাথায় তুলে ফেলেছিলেন। সন্তোষবাবু যা ইচ্ছে বলে যাবেন আর আহমদ ছফা ছেড়ে দেবেন তা কী করে হয়? যাহোক, অনাকাঙ্ক্ষিত একটা ঝগড়া তাঁদের মধ্যে চলছিল। এমন সময় পাশের ঘর থেকে রণেশ দাশগুপ্ত বেরিয়ে এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আহমদ ছফাকে টেনে নিয়ে গিয়ে তাঁর ঘরে বসিয়েছিলেন। রণেশবাবুকে আহমদ ছফা চিনতেন না। রণেশবাবুও না। তিনি আহমদ ছফাকে সতর্ক করে দিলেন সন্তোষবাবু পাগল কিসিমের লোক। সুতরাং তাঁর কথায় যেন কিছু মনে না করেন। রণেশবাবুর কথা শুনছিলেন বটে, কিন্তু আহমদ ছফা মনে মনে ঠিক করেছিলেন সন্তোষবাবু বেরুলেই পিটাবেন। এজন তিনি একটা চায়ের দোকানে বসে অপেক্ষাও করছিলেন। যে কারণেই হোক সেদিন সন্তোষবাবুর গায়ে হাত তোলার মত অপকর্মটি তিনি করেননি। পরবর্তীতে আহমদ ছফা সন্তোষবাবুকে গুরু হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন।

যাহোক, রণেশবাবু কথা দিয়েছিলেন তাঁর কবিতা পত্রিকায় ছাপা হবে। তিনি তাঁর কথা রেখেছিলেন। ‘সংবাদ’ পত্রিকায় একনাগাড়ে আহমদ ছফার চার চারটি কবিতা ছাপা হয়েছিল। তারপর রণেশবাবু তাঁকে বলে যেতে থাকলেন, তুমি তো কৃষক সমিতি নিয়ে কাজ করেছ, ওসবের ওপর গদ্যে কিছু লিখ না কেন? (সম্পূর্ণ…)

খানিক ছফানামা

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর | ২৮ জুলাই ২০১০ ৯:২৫ অপরাহ্ন

আহমদ ছফার প্রতি একধরনের মোহাবিচ্ছিন্নতা যে কখন থেকে আমার শুরু হয়েছিল তা নির্ণয় করা অনেকটাই দুঃসাধ্য। আমার এ কথকতার শুরুতেই বলে নিতে চাই, দীর্ঘদিন তার প্রতি ছিল আমার দারুণ মোহগ্রস্ততা। তা হয়ত প্রায় একই রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে হতে পারে, তার সৃজনকৃত মুগ্ধতার সমান্তরাল কোনো আকাঙ্ক্ষা থেকেও হতে পারে, নাকি বিকল্প ভাষাগত কোনো চৈতন্য থেকে আমার বোধে এল তা এই মুহূর্তে নির্ণয় করা মুশকিলই। তার লেখালেখির অনুভব থেকে চিন্তা করলে আমি একধরনের প্রেমে পড়ি তার গ্রন্থ বঙ্কিমচন্দ্র: শতবর্র্ষের ফেরারী পাঠ করে। বঙ্কিমকে যে প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে গিয়ে একেবারে মুক্তচিন্তার সমাজতাত্ত্বিক চৈতন্য থেকে এভাবেও দেখা যায় তা আমার কাছে ছিল এক বিস্ময়ের ব্যাপার। আমি এর প্রতি এতই আকর্ষণ বোধ করি যে তার এ গ্রন্থটি নিয়ে রীতিমতো একটা লেখাই নির্মাণ করে ফেলি এবং তা স্থানীয় দৈনিক আজাদীর সাময়িকীতে ছাপতেও দিই।

এ লেখাটি যখন বের হয় তখন ছফা তখন নবউত্থান পর্বের (!) কর্ণধার। আমি সেইসময় গ্রন্থসংগ্রহের নিমিত্তে আজিজ সুপার মার্কেটে যাই। আমি তখন চাইলেই বিকালে তথায় তার সাথে দেখাও করতে পারতাম। কিন্তু ব্যক্তিগত নির্লিপ্ততার জায়গায় নিজেকে সঁপে দিয়ে আর সেখানে গেলাম না। এ ব্যাপারে আমার সহজ ব্যাখ্যা হচ্ছে, আমি আমার ভালো লাগা থেকে একটি কিছু লিখে ফেলেছি, তা আবার নিজ উদ্যোগে তাকে তা জানাব কেন?! কিন্তু তাতে এটাই হল যে, এ লোকটির সাথে আমার আর সরাসরি দেখা হল না।

যাই হোক, ছফা বিষয়ে আমার আরও একটা আগ্রহের কারণ হচ্ছে, আবদুর রাজ্জাক বিষয়ে তার অতি আগ্রহ, গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক, বাঙালী মুসলমান সম্পর্কে কিছু নতুন কথাবার্তা বলা, স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা চালানো, তার বলার ভিতরে নিজস্ব রাগ-জেদ-চৈতন্য লালনের চেষ্টা, কথাসাহিত্য চর্চায় তার একধরনের ব্যাকুলতা, ফাউস্ট অনুবাদকরণ। (সম্পূর্ণ…)

নামে কি আসে যায় কিম্বা আহমদ ছফা সমাচার

শামস আল মমীন | ২৮ জুলাই ২০১০ ৯:১০ অপরাহ্ন

এক
‘নামে কি আসে যায়’, মনিষী শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত উক্তি। আপাতত বিশ্লেষণে উক্তিটি যথার্থই মনে হয় কিন্তু প্রকৃত অর্থে এর উল্টোটাই ঘটে বেশী, অর্থাৎ আমরা নামের পিছনেই ছুটি। ক্যালভিন ক্লাইন, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর, রালফ্ লরেন ইত্যাদি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের দ্রব্যাদি আমরা কত না সমীহ করি। শুধু তাই নয়, আজকের দুনিয়ায় এরা আভিজাত্যের প্রতীকও বটে। এটা আর একবার প্রমাণ করার জন্য এই ছোট ঘটনাটিই যথেষ্ট।

কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল আমাকে ঢাকার প্রধান দৈনিকগুলোর সাময়িকী অংশটা বড় খামে ভরে ডাকে পাঠাতেন, এবং পাঠিয়েছেন একটানা ১১ বছর (১৯৯৫-২০০৬) আমার ঠিকানায়, দূরের শহর নিউইয়র্কে। তখন ইন্টারনেটে বাংলা পত্রিকার এমন উচ্ছল যৌবন ছিল না। আর সেই সব সাময়িকী আমি কখনো সাদা সাদা বরফ দেখতে দেখতে, কখনো বা গরম কফির স্বাদে চিবিয়ে চিবিয়ে পড়তাম। সাময়িকীতে সচরাচর যে ধরনের লেখা থাকে যেমন গল্প,কবিতা প্রবন্ধ ইত্যাদি… তার মধ্যে এক লেখকের লেখাও প্রায়ই চোখে পড়তো, নাম আহমদ ছফা। সত্য বলার জন্য সাহস দরকার আর আজ সাহস করেই বলি এই লেখকের লেখা আমি কখনো পড়তাম না। কারণ ঐ নামটাই লেখক নাম হিসাবে আমার কাছে খুব বিদঘুটে লাগতো। ভাবতাম, যাঁর নামই এরকম সে আবার আহামরি কী লিখবে। যাই হোক, সাময়িকীগুলো পড়া হয়ে গেলে সেগুলো প্রায়ই সলিমুল্লাহ খানকে (সলিমুল্লাহ খান তখন নিউইয়র্কে) পড়তে দিতাম এবং লেখাগুলো নিয়ে মাঝে মাঝে তাঁর সাথে মত বিনিময়ও হতো। সলিমুল্লাহ খান প্রায়ই আহমদ ছফার লেখার তারিফ করে জানতে চাইতেন তাঁর অমুক লেখাটা পড়েছি কি না… আমি সরাসরি বলে ফেলতাম… না। উনি বিনয়ের স্বরেই বলতেন, ‘পড়ে দেখতে পারেন ভাল লেখা।’ (সম্পূর্ণ…)

উত্তরাধুনিকের চোখে রবীন্দ্রনাথ

আজিজ হাসান | ২২ জুলাই ২০১০ ৬:৩৪ অপরাহ্ন

anjan_sen.jpg
সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন অঞ্জন সেন

সততা, জ্ঞান ও আনন্দময়তা–এই তিনের সমাবেশ ঘটান রবীন্দ্রনাথ। আর এ আনন্দময়তার বিকাশ ঘটান তিনি সৃষ্টিশীলতায়। সেকারণে রবীন্দ্রনাথ মূলত সৃষ্টিশীল–নিয়ত গ্রহণ, বর্জন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বিকশিত হয় তার সৃষ্টিশীল সত্ত্বা। তাই নির্দিষ্ট কোনো ছকে বেধে তাকে বিচার করা যায় না বা সে বিচারের চেষ্টা বোকামি বলেই আমার মনে হয়। এ কথাগুলো বলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তরুণ শিক্ষক অমিতাভ চক্রবর্তী। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি যে, উত্তরাধুনিকের চোখে রবীন্দ্রনাথ। তাই উত্তরাধুনিকের চোখেই রবীন্দ্রনাথের আংশিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেন পশ্চিমা চিন্তাকে বাদ দিয়ে বাংলায় সৃষ্ট উত্তরাধুনিকতার নিষ্ঠাবান প্রচারক কবি অঞ্জন সেন। উত্তরাধুনিকতা বলতে অঞ্জন সেন বলেন, উত্তীর্ণ আধুনিকতা বা আধুনিকতার উত্তরণ। উত্তরাধুনিকতার বৈশিষ্ট্য হিসেবে তিনি বলেন, এ ধরনের সৃষ্টিকে ঔপনিবেশিক চিন্তার ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে এ সাহিত্যকে আধুনিকতার ধারা থেকে বেরিয়ে আমাদের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সাহিত্য, লোকসাহিত্য ও ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে। আধুনিক সাহিত্য নাগরিক জীবন জিজ্ঞাসার প্রতিভু হয়ে ওঠে এবং তা আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও লোকচিন্তা থেকে একেবারেই আলাদা হয়ে যায়। দৈনন্দিন নাগরিক জীবনের বিষাক্ত ছোবল নিয়ে রচিত হয় এ সাহিত্য। কিন্তু দৈনন্দিন জীবন জিজ্ঞাসার ওপরে গিয়ে মহত্তর এক জীবনানুভূতি সৃষ্টিই উত্তরাধুনিক সাহিত্যের উদ্দেশ্য। রবীন্দ্র বলয় ভেঙে ত্রিশের দশকের কবিরা যে আধুনিকতার চর্চা করেন তার ধারাবাহিকতায় জন্ম নেওয়া অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে এসে সাহিত্য চর্চার তাগিদে বাংলায় ১৯৮৫-৮৬ সালে উত্তরাধুনিকতার চর্চা শুরু হয়। (সম্পূর্ণ…)

লেখক সংবাদ

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ১১ জুলাই ২০১০ ৯:০৭ অপরাহ্ন


karuzzaman-jahangir.jpgchanchal-ashraf.jpg
হায়াৎ মামুদকামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরচঞ্চল আশরাফ

হায়াৎ মামুদ
hayat-mahmud.jpg
‘ফ্রেম ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ’-এর অনুরোধে শিশু কিশোর উপযোগী বাংলা অভিধান রচনায় ব্যস্ত রয়েছেন হায়াৎ মামুদ। শিশু থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়নরত ছেলেমেয়েদের কথা মাথায় রেখে অভিধানটি তৈরি করছেন তিনি।

এ সম্পর্কে তিনি বললেন, “আজকাল বাংলাদেশের এডুকেশনাল সেক্টরে বেশ ভাল কিছু কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন এনজিও এ ব্যাপারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফ্রেম ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (FIVDB) এরকম একটা এনজিও যারা গ্রামগঞ্জের পশ্চাৎপদ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কাজ করে। ওখানে আমার পরিচিত এক বন্ধু আছেন। তার অনুরোধেই আমি শিশু-কিশোরদের উপযোগী একটি বাংলা শব্দকোষ তৈরি করছি। আমাকে বলা হয়েছে মোটামুটি ক্লাস এইটের ছাত্রদের উপযোগী করে একটি অভিধান তৈরি করতে। আমি সে বিষয়টাকে আমায় রেখেই কাজ করছি।”
—————————————————————-
“ভাষা তো হেলাফেলা করার জিনিস নয়।…আজকাল রেডিও চ্যানেলগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যে ভাষা ব্যবহার সেটা তো রীতিমতো ভয়াবহ। আমি জানি না তারা কী করে এত বাজে ভাবে বাংলা উচ্চারণ করে। বাংলা ভাষাকে যারা প্রতিনিয়ত বিকৃত করে চলেছে আমি তো মনে করি তারাই আসলে সবচেয়ে বড় টেররিস্ট।”
—————————————————————-
কবে নাগাদ অভিধানটি বের হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে অভিধান তৈরি একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া পুরো অভিধানটি আমি একাই তৈরি করছি এবং সম্পাদনা ও পরিমার্জনার কাজ করছি। সেজন্য সময় একটু বেশি লাগছে। তারপরও চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব দ্রুত কাজ করতে। কারণ এই অভিধান তৈরির সাথে ওদের আরও কিছু বিষয় যুক্ত আছে। অভিধানটি ওরা একেবারে প্রত্যন্ত পর্যায়ে পৌঁছে দিতে চায়। তাই আমিও চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব দ্রুত কাজ করতে। যেহেতু এটা শিশু-কিশোরদের উপযোগী তাই এর কলেবর হয়ত খুব একটা বড় হবে না। এ বছরের শেষের দিকে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। (সম্পূর্ণ…)

জীবনের পাতায় পাতায় (২)

বেবী মওদুদ | ১০ জুলাই ২০১০ ৭:২৪ অপরাহ্ন

কিস্তি ১
——————————–
স্মৃতিকথা ধারাবাহিক
——————————–
(কিস্তি ১-এর পর)

কলকাতায় আমার জন্মের পর মা আমাকে বেবী জনসন পাউডার মাখাতেন। সেটা দেখে আমার বড় ভাই আমাকে বেবী বলে ডাকতে শুরু করে। আমার ডাক নাম হয়ে যায় বেবী। তবে আকিকা দিয়ে বাবা আমার নাম রাখেন আফরোজা নাহার মাহফুজা খাতুন। এত বড় নাম আমার ভালো লাগতো না বলে বড় হয়ে লেখালেখি করতে এসে আমি নিজেই আমার নাম বেবী মওদুদ রাখি। পরে অবশ্য এজন্য অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে, সেকথা পরে বলবো।

bm-letter.jpg…….
লেখকের মাকে লেখা বাবার চিঠি, ১৯৪৩
…….
আমার বাবা ও চাচারা ধুতি পরতেন। কলকাতা ছেড়ে আসার পর তিনি সবসময় পাজামা-পাঞ্জাবী এবং ঘরে লুঙ্গি পরতেন। তখন অবশ্য বাঙালি মাত্রই ধুতি, লুঙ্গি, পাজামা পরতেন। সেখানে হিন্দু-মুসলমান বলে কোনো দ্বন্দ্ব ও চিহ্নিত-করণ ছিল না। এখন অবশ্য ধুতিপরা মানুষ দেখাই যায় না। আমার বাবার কাছে শুনেছি তিনি সাড়ে তিনটাকা দরে ধান বিক্রি করেছেন। আমার মায়ের বাজারের খাতা খুলে দেখলাম, তিনি দুই আনা দরে গরুর গোস্ত, পাঁচ আনায় চার সের চাল, এক আনায় মাছ কিনেছেন। চাল ও পিয়াজ-রসুন গ্রাম থেকে আসতো।

আমার মায়ের মৃত্যুর পর তার সঞ্চয়ে কোনো অর্থ, গহনা, দামি শাড়ি পাইনি। কিন্তু পেয়েছি তার কাছে বিবেচিত যে পরম সম্পদ, তাহলো মাকে লেখা বাবার কিছু চিঠি, বাজার ও ধোবার হিসাবের খাতা, রান্নার রেসিপি লেখা, সিঙ্গার সেলাই মেশিনটি। আর পেয়েছি কলকাতায় কেনা আমার পড়ার টেবিল। বাবার লেখা চিঠিপত্রের কিছু কথা এখানে তুলে দিলাম।

bm-17.jpg…….
বেবী মওদুদ, কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী, ১৯৬৪
……..
২৮.১১.১৯৩৯ সালে বিয়ের পাঁচ মাস পর আমার মাকে লেখা চিঠি। বাবা শ্রী রামপুরে বদলি হয়ে যান। চিঠির কথা: “তোমার কাছ থেকে নিরাপদে এসেছি ও ভালো আছি। রাঁধুনী এসেছে। সে দেখতে খালেকের মামার মতো। এ ছোকরাকে খালেক জানে কারণ খালুজী যখন মধুপুর যাবার যুক্তি করেছিলেন সে সময় তিনি এই ছোকরাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এর বাড়ি মাড় গাঁয়ে। তোমাদেরই দেশে। মাহিনা সাত টাকা নেবে। কেমন রাঁধে, কাজ করে পরে জানাবো।”

চিঠি-২
২৭.০৪.১৯৪৩ সালে কলকাতা থেকে লেখা। আমার মা তখন বড় ছেলে জাহাঙ্গীরকে নিয়ে বামুন্ডিতে থাকতেন। চিঠির কথা:

“তোমার শরীর কেমন থাকে লিখো। খোকা বাবু এখন কেমন আছে? তার পায়খানা কেমন হয়, তার খাওয়া দাওয়া কেমন? কি খেতে চায় সব জানাবে। তার খাওয়া সম্বন্ধে বিশেষ ধরা কাটা করবে, একটুও এদিক ওদিক না হয়। তার শরীর সারছে কিনা লিখো। তাকে এখনও ওষুধ খাওয়ান হচ্ছে কি? সব কথা খুলে লিখো। (সম্পূর্ণ…)

পক্ষীপ্রেমীর পসরায়

সেঁজুতি শোণিমা নদী | ৯ জুলাই ২০১০ ১২:০৫ অপরাহ্ন

spotbill-duck.jpg
মেটে হাঁস

ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলছে কালো মাথার রাজহাঁস—যেন জল নয়, বাতাসের সাগরেই তাদের কালো রেখার সাদা ডানা সাঁতরাতে পারে বেশি। ওদিকে
niaz-rahman.jpg………
নিয়াজ রহমান
……….
আবার সবুজশির পাতি হাঁস, মেটে রঙা ভূতি হাঁসেরা জলের নিচে ডুব দিয়ে জলদুনিয়ার সঞ্চিত খাবার সংগ্রহে মত্ত।

এদিকে গাছের ডালে গম্ভীর মুখে বসে আছে গো-বক। যেন কত বছরের তপস্যায় মগ্ন সে। দৃক গ্যালারির তিন তলার দেয়াল জুড়েই সাজানো এমন ৭৬টি ছবি। জলের পাখি, ডাঙার পাখি, এদেশের পাখি, ওদেশের পাখি, পড়শি পাখি, অতিথি পাখি—সব ধরনের রঙ-বেরঙের পাখির আলোকচিত্র প্রদর্শনী। আষাঢ়ের

bhat-shalik2.jpg
ভাত শালিক

সন্ধ্যায় ভিজে মেঘ গায়ে মেখে সেখানে ঢুকতেই যেন পাখিদের ডানার ছন্দে স্পন্দিত হলো হৃদয়। প্রদর্শনীর নামও হয়তো একারণেই ‘পাখায় পাখায় ছন্দ’। (সম্পূর্ণ…)

যেভাবে ছবি আঁকা হয়

মনিরুল ইসলাম, তাঁর ‘দি ডে বিফোর’ নিয়ে

নাবীল অনুসূর্য | ২ জুলাই ২০১০ ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

monirul-islam-3.jpg
মনিরুল ইসলাম, (জন্ম. চাঁদপুর ১৯৪৩)

মাস খানেক আগে একদিন বিকেল বেলায় শিল্পী মনিরুল ইসলাম সময় দিলেন। তিনি তখন যে ছবিগুলি আঁকছিলেন তার একটি নিয়ে কথা বলতে অনুরোধ করা হয়েছিল তাঁকে। একটি ছবি দেখিয়ে জানালেন তিনদিন আগে
monir_khasra-2.jpg……..
মূল ছবির আগে; স্কেচ: দি ডে বিফোর
……..
আরম্ভ করেছেন সেই ছবি। বললেন, “দেখলে মনে হয় এটমিক একটা রের মতো। এটমিক বোম আমরা যতোটুক জানি ধ্বংসাত্বক। যতোটুক আমরা দেখছি হিরোশিমা-নাগাসাকিতে ডাইরেক্টলি অ্যাপ্লাই করা হইছে, যেইটা কিছুই না এখন। দেখা যায় এটমিক ওয়ার্ল্ড এত ধ্বংসাত্বক, আমরা আর্টিস্টরা একটু কাল্পনিক চিন্তা করি। আর্টিস্টরা কিন্তু চাঁদে চলে গেছে অনেক আগে। ফ্যান্টাসিতে, কল্পনাতে, কল্পনা দিয়ে সাইন্টিফিক ওয়েতে। নাসাতে অনেক আর্টিস্ট কাজ করে, ওরা অনেক ইমেজিনারি প্ল্যানেটের ছবি আঁকে, ওইটাই ওদের সাবজেক্ট। তবে ওরা সাইন্টিস্টদের সাথে কানেক্টেড, কীরকম হইতে পারে…, ওদের বলে স্পেস পেইন্টার না স্কেপ পেইন্টার।
—————————————————————-
আগে রাজারা করতো, এখন এক হাত বদলাইয়া আরেক হাতে আসছে, এখন ব্যাংকারদের হাতে আসছে। ওদের হাতে টাকা আছে, ওরাই কমিশন জব দেয়, পেট্রন করে। এখন ম্যানিপুলেট এই একটা সেক্টরের লোকরাই করতেছে এবং করে যাবে।… হ্যাঁ একটা জিনিস, ঐ লিবার্টি, ছবি আঁকার লিবার্টি। আগে যেমন বাধ্যবাধকতা ছিলো ছবি আঁকতে। বাইবেলিক ছবি আঁকতে হবে। কমিউনিজম ছিল কতগুলো ব্লকে, এমন ছবি আঁকতে হবে যাতে সোসাইটির কাজ হয়। তখন হইলো কী, ঐ কোদাল দিয়ে কাটতেছে, ফ্যাক্টরির ছবি, ফ্যাক্টরির কাজ হইতেছে।
—————————————————————-
তো এই ছবি আমি চিন্তা করতেছি অনেকভাবে। যে এইটা কি আমি নিজের এলিমেন্টস দিয়ে করবো? ছবিতে অনেক জিনিশ আছে, স্ট্রাকচার আছে, স্পেস আছে, তারপর কালার, ড্রয়িং, কম্পোজিশন। আবার রিভার্স করতে পারি–একটা সুন্দর এটম বোম। কিন্তু সুন্দর মোটেও না, ধ্বংসাত্বক জিনিস। কিন্তু আমি তো সাইন্টিস্ট না। সাইন্টিফিক্যালি একটা এটমের কী কতোটুক ক্ষতিকর তারাই বলতে পারবেন। আমি চাইতেছি আমার ফ্যান্টাসি গ্রো করতে। এই যে আমার নিজের ফ্যান্টাসি গ্রো করা এটম বোমরে নিয়া, সেটাই আমার কাজ। যেহেতু আমরা সাইন্টিস্ট না। এইটা আমার ফ্রিডম। যেইটা ছিলো না আগে। এইটা সাইন্টিফিক এজ, এটমের যুগ। সেইটার ভিতর আমি কী করতে পারি, সেটাই আমার বক্তব্য এই ছবির। পুরো এটমিক থট নিয়ে এই ছবি। যেটার ইনফরমেশন আমরা যতোটুক পাইছি, কী হয়, কী হইতে পারে, ডেস্ট্রাকশন, কোটি কোটি লোক মইরা যাইতেছে, তারপরে ক্যান্সার হইতেছে অনেক মানুষের; এখনেরগুলা যে আরো কতো পাওয়ারফুল, এইটাও জানি না। তবে আমি চাইতেছি এইটুকু পেপারের ভিতর একটা স্পেস করে, একটা এটম বোমের যে রে, তার কালার, দেখতে খুব সুন্দর লাগে। আমরা ভিডিওতে দেখছি, যখন বোমা ফেলা হয়, অপূর্ব সুন্দর একটা আমব্রেলার মতো, একটা ব্যাঙের ছাতার মতো, একটা রে আসে। কিন্তু ওইটার এফেক্টটা এত সুন্দর না। অবশ্য ভিজ্যুয়ালি আমি চাইতেছি যে ছবিতে কীভাবে একটা নতুন রূপ দেওয়া যায় এটম বোমের–বোম না, এটোমিক রের। এইটা সম্ভব না স্পেসিফিক্যালি দেওয়া যে মানুষ মরতেছে, রোগ হইতেছে। ডেস্ট্রাকশন, সবকিছুর। পার্টলি এটার একটা ভিজ্যুয়ালি সারাংশ, ছোট্ট কইরা জড়ো কইরা এইটার যে ভিতরগত, টোটালি ইমাজিনেশন, সেইটাই আমি দেখি কী হয়, এখনো আমি জানি না। ’ (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com