সুন্দর মানুষ সুন্দর কবি বিষ্ণু বিশ্বাস

ইচক দুয়েন্দে | ৩১ মে ২০১০ ৮:০৯ অপরাহ্ন

তার হাতে ছিল হাসির ফুলের হার
কত রঙে রঙ করা।
মোর সাথে ছিল দুঃখের ফলের ভার
অশ্রুর রসে ভরা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিষ্ণুর সঙ্গে ষোল বছর দেখা নেই। শেষ দেখা সংসদ ভবনের কোনায় বিশাল রাস্তায়। আমরা একটা বেবিট্যাক্সিতে ছিলাম। যাত্রা করেছিলাম মালিবাগ চৌধুরী পাড়া থেকে। আমি নেমে গেলাম। বিষ্ণুকে নিয়ে বেবিট্যাক্সিটা চলে গেল গাবতলির দিকে। তাঁর রাজশাহী যাবার কথা।

সেই-ই তাঁর সঙ্গে শেষ দেখা।

bishnu.jpg…….
বিষ্ণু বিশ্বাস
………

রাজশাহীতে সে মাসখানেক ছিল। তারপর যাত্রা করেছিল ঝিনাইদহ। অবশিষ্ট সবকিছু শোনা কথা। ঝিনাইদহে তাঁর পৈত্রিক গ্রাম। তাঁর বাবা অনেক দিন আগে পরলোকে। শুনেছিলাম তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন । তাঁর মা থাকতেন গ্রামে। ভাইবোন ছিল না। গ্রামে গিয়ে বিষ্ণু দেখেন তাঁর মা পশ্চিমবঙ্গে চলে গেছেন। বিষ্ণুও যাত্রা করেছিল সেখানে।

বছর কয়েক পরে শুনেছিলাম, বিষ্ণু সেখানে বিয়ে করেছিল। একটি বাচ্চা হয়েছিল। তারপর সে আত্মহত্যা করেছিল। শুনেছিলাম আবার, সে আত্মহত্যা করে নাই, পথে পথে সে কাগজ কুড়োচ্ছে।

ঘন ঝাঁকড়া চুল, মাঝে সিঁথি কাটা, দীর্ঘদেহী স্বপ্নালু চোখ বিষ্ণুর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৮৪/৮৫ সালে। কবি অসীম কুমার দাস পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। বিষ্ণুর কণ্ঠস্বর ভরাট গভীর স্পষ্ট। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর তারকা আবৃত্তিকার সে তখন।

আমি তখন গল্প লেখা শিখছি। বিষ্ণু কবিতা লেখা। (সম্পূর্ণ…)

পশ্চিমবঙ্গে এখন নজরুল চর্চার অবস্থা

বেবী মওদুদ | ২৮ মে ২০১০ ২:৩৮ অপরাহ্ন

nazrul34.jpg…….
কাজী নজরুল ইসলাম
…….
পশ্চিমবঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সঙ্গীতের চর্চা এবং গবেষণা খুব যে উল্লেখযোগ্য ভাবে হচ্ছে তা কিন্তু বলা যাবে না। সরকারি উদ্যোগ তেমন চোখে পড়লো না। তবে বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকে নজরুলকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেন। কলকাতায় বাংলা একাডেমি নজরুল রচনাবলি সাত খণ্ডে প্রকাশ করেছে। ঢাকার বাংলা একাডেমী দশ খণ্ডে প্রকাশ করেছে, এরপর আরও লেখা পাওয়া গেছে যা দিয়ে দু’খণ্ড প্রকাশ করা যাবে।

পশ্চিমবঙ্গে নজরুল চর্চা সম্পর্কে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ তানভীর নাসরীন আমাকে বলেছেন, “এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই কবিকে স্মরণ করা হয়। যারা পছন্দ করে নজরুল সঙ্গীত শেখে। তবে আমাদের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর কবির জন্মদিনে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়া বাংলা বিভাগের অধীনে ‘নজরুল চেয়ার’ আছে, সেখানে নজরুল সাহিত্যের ওপর গবেষণার ব্যবস্থা আছে।”

fazle-kader.jpg……
আবু মোহাম্মদ ফজলে কাদের
……..
কলকাতায় বিশিষ্ট বিজ্ঞান সাধক ও রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের কবিতার অনুবাদক মোহাম্মদ ফজলে কাদেরের সাক্ষাৎকার নেবার সময় তিনি স্মরণ করলেন, ১৯৪০ সালে মুসলিম ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনে কবিকে এক সম্বর্ধনা সভায় তিনি প্রথম দেখেন। তিনি বলেন, “আমি তখন কলকাতা মাদ্রাসার ছাত্র। আমাদের কাছে নজরুল একটি বড় শক্তি ছিলেন, উজ্জ্বল আদর্শ ছিলেন। তিনি আসবেন শুনে আমরা গিয়ে হলে উপস্থিত হয়েছি। তিল ধারণের জায়গা নেই। সবাই প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে বসে আছে। কবি বেশ দেরি করে এলেন। মাথা ভর্তি ঘাড়সমান কালো চুল, ডাগর বড় বড় চোখ, পাঞ্জাবী পরনে। ফয়েজ জাহান আমীন ও জিনাত জাহান নামে দু’জন কিশোরী কবিকে মালা পরিয়ে দেন। আমাদের কাছে আকর্ষণীয় ছিল কবির অভিভাষণ। সম্ভবতঃ সেটাই তাঁর শেষ বক্তব্য প্রদান। (সম্পূর্ণ…)

নজরুলের হারিয়ে যাওয়া গান
“ওরে আশ্রয়হীন শান্তিবিহীন
আছে তোরও ঠাঁই আছে…”

বাবু রহমান | ২৬ মে ২০১০ ১১:১১ অপরাহ্ন

nazrul_babu.jpg

নজরুল রচনার কিয়দংশ এখনো অনাবিষ্কৃত। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তাঁর সৃষ্টির নানা দিক প্রকাশিত হয়। এরপর তা দুষ্প্রাপ্যের খাতায় নাম লেখায়। নজরুলের অবমূল্যায়ন, সাতচল্লিশের দেশবিভাগ নজরুল শিল্পী, গবেষক ও সাহিত্যিকদের হতাশ করে তুলেছিল। কবিবন্ধু কমরেড মুজফ্‌ফর আহমদ এককভাবে নজরুলচর্চা শুরু করেন। বন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, পবিত্র মুখোপাধ্যায়, কমল দাশগুপ্ত প্রমুখ ষাটের দশকের প্রথম দিকে নব উদ্যমে কাজ শুরু করেন নজরুল নিয়ে। নবজাতক প্রকাশনীর মাজহারুল ইসলাম, কবি জিয়াদ আলী, নজরুলের আত্মীয় কাজী আব্দুল সালাম এ প্রচেষ্টায় শরীক হন। ঢাকাতে নজরুল একাডেমি প্রাতিষ্ঠানিক কাজ শুরু করে। কবি আবদুল কাদির, খান মুহম্মদ মঈনুদ্দীনসহ অনেকেই ঢাকায় নতুন করে নজরুলচর্চায় নিয়োজিত হন। তাতে কবির ছড়িয়ে থাকা হারিয়ে যাওয়া অনেক কবিতা, গান, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, নাটক, চলচ্চিত্র, রেকর্ড আবিষ্কৃত হতে থাকে। সেলিনা বাহার জামান, সঙ্গীতজ্ঞ আব্দুস সাত্তার, সঙ্গীতজ্ঞ মফিজুল ইসলাম, কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ কবির হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।


গান করছেন বাবু রহমান; তবলায় আবদুল কাদের

দুই.
আমি নজরুলের ওপর কাজ করছি দীর্ঘ দিন ধরে। কাজ করতে গিয়ে অনেক নতুন জিনিস পাচ্ছি, তখন আনন্দে উদ্বেলিত হচ্ছি। তো সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগরে আমার এক ছাত্র নির্ঝর অধিকারী সংবাদ দিলো যে পাবনায় একটি নাটক খুঁজে পাওয়া গেছে ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, যেখানে নজরুলের কিছু গান আছে। প্রথমে আমি বিষয়টি পাত্তা দেই নি। তারপরে যে ভদ্রলোকের কাছে এই নাটকের বইটি ছিল, তাঁর সঙ্গে আমি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করি। তখন ওই ভদ্রলোককে—তাঁর নাম আবুল কাশেম, তিনি সংগীত শিল্পী—আমি বলি যে, আপনি নাটকটি পাঠিয়ে দিন ফটোকপি করে। উনি বললেন, বইটি বেশ পুরোনো, পাঠানো যাবে কিনা সন্দেহ আছে, আমি গান কয়টি পাঠিয়ে দিচ্ছি আগে।

যাই হোক পরে আমি বইটি পেয়ে গেলাম। নাটকের নাম বিদ্রোহী বাঙ্গালী। রচয়িতা শ্রীযুক্ত রমেশ গোস্বামী। পাবনার সপ্তর্ষী পাঠাগারে এটি রক্ষিত ছিল। (সম্পূর্ণ…)

বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জাপানপর্ব

প্রবীর বিকাশ সরকার | ২৫ মে ২০১০ ৯:১৬ পূর্বাহ্ন

rasbihari_7.jpg
১৯১৫ সালে টোকিওতে রাসবিহারী বসুর সম্মানে ডিনার। টেবিলের মাঝখানে জাপানের দক্ষিণপন্থী জাতীয়তাবাদী ও প্যান-এশিয়ানিজমের নেতা তোয়ামা মিৎসুরু; তাঁর ডানে জাপানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী ৎসুয়োসি ইনোকাই ও পেছনে রাসবিহারী বসু।

মে মাসের ২৫ তারিখ মহাবিপ্লবী রাসবিহারী বসুর (জন্ম. সুবলদহ, বর্ধমান, ইন্ডিয়া ২৫/৫/১৮৮৬- মৃত্যু. টোকিও, জাপান ২১/১/১৯৪৫) ১২৪তম জন্ম বার্ষিকী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মানুষটি আজ ভারত এবং জাপানে এক কিংবদন্তী পুরুষ। পশ্চিমবঙ্গের
—————————————————————–
১৯৫৭ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু তাঁর বোন বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতসহ জাপান সফরে আসেন। কথিত আছে, তিনি রাসবিহারী বসু সম্পর্কে কোনো খোঁজ-খবর নেননি।… ঐ সময়ে নেহেরু টোকিওর রেনকোজি বৌদ্ধমন্দিরে (এখানে নেতাজির চিতাভস্ম সংরক্ষিত আছে) যে বাণী লিখেছেন সেখানে নেতাজির কোনো প্রসঙ্গই নেই, আছে গৌতম বুদ্ধ ও বৌদ্ধধর্ম প্রসঙ্গে ইংরেজিতে লিখিত দুছত্র মন্তব্য। নেতাজিকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘ভারতরত্ন’ প্রদান করা হয়েছে এই সেদিন ১৯৯২ সালে। নেতাজি তবুও সম্মানিত হয়েছেন; কিন্তু রাসবিহারী বসুর ভাগ্যে কোনো পুরস্কারই জোটেনি—এক কলকাতার এক রাস্তার পাশে নির্মিত একটি বিসদৃশ প্রস্তরমূর্তি ছাড়া।
—————————————————————-
বর্ধমান জেলায় ১৮৮৬ সালে জন্ম। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই স্বাধীনতামন্ত্রে উদীপ্ত হয়ে উঠেছিলেন। ১৯০৮ সালে তিনি ‌‌’আলীপুর বোমা বিস্ফোরণ’ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে ছিলেন। কারাগার থেকে বের হয়ে দেরাদুনে যান। সেখানে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্ক হিসাবে কাজ করেন। দেরাদুনে থাকার সময়ে তাঁর সঙ্গে বাংলা, উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের দেখাসাক্ষাৎ ঘটে। তরুণ বয়সে এই বাঙালি বীর ভারতে বৃটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জকে (Lord Hardinge, Viceroy of India, ১৯১০-১৯১৬) হত্যা এবং আর একটি সিপাহি বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে মহাষড়যন্ত্র করেছিলেন, যা ইতিহাসে দিল্লী-লাহোর ষড়যন্ত্র (Delhi-Lahore Conspiracy, ১৯১২) নামে খ্যাত। দুর্ভাগ্যক্রমে দুটো পরিকল্পনাই বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। রাসবিহারী বসু জাপানে পালিয়ে আসেন ১৯১৫ সালের ৫ই জুন। তখন তাঁকে ধরিয়ে দেবার জন্য তাঁর মাথার উপর তৎকালীন বৃটিশ সরকারের ১২,০০০ রুপী তথা ৫ হাজার বৃটিশ পাউন্ডের মহাপুরস্কার ঝুলছিল।

rashbihari_4.jpg…….
বিয়ের পর স্ত্রী তোশিকোর সঙ্গে বিহারী বসু
……..
জাপানে এসে তিনি প্রথমে পাঞ্জাবের দুর্দান্ত বিপ্লবী ভগবান সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারপর জাপানে পলাতক চীনের জাতীয়তাবাদী নেতা ড. সান-ইয়াৎ সেনের (১৮৬৬-১৯২৫) কথা জানতে পেরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান সহযোগিতা পাবার আশায়। সান-ইয়াৎ তাঁকে গুরু তোয়ামা মিৎসুরুর সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন। এর কয়েক মাস পরেই জাপানে আসেন আর এক দুর্দান্ত বিপ্লবী হেরাম্বলাল গুপ্ত (১৮৮৯-১৯৬৫) একই পুরস্কারের অঙ্ক মাথায় নিয়ে। তাঁদের দুজনকে জাপানি পুলিশের হাত থেকে রক্ষার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তৎকালীন প্রভাবশালী গণমুক্তি আন্দোলনের পুরোধা রাজনীতিক এবং ‘গেনয়োশা’ নামক গুপ্ত সমিতির পরিচালক গুরু তোয়ামা মিৎসুরু (১৮৫৫-১৯৪৪)। (সম্পূর্ণ…)

মুক্তপ্রাণ নজরুল ও আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকতা

আহমাদ মাযহার | ২৪ মে ২০১০ ১১:৫৯ অপরাহ্ন

fdc_nazrul.jpg
ঢাকার এফডিসিতে স্থাপিত নজরুল ভাস্কর্য

নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি হওয়া সত্ত্বেও প্রায় সবসময়ই বিতর্কিত। ছোটবেলায়, যখন খানিকটা বুঝে ওঠার বয়স হল, তখন থেকেই অনুভব করেছিলাম যে নজরুলকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। মনে পড়ছে, নজরুল আর রবীন্দ্রনাথের মধ্যে কে বড় তা নিয়ে বিতর্ক ছিল। এমন উদ্ভট কথাও শুনেছিলাম যে, নজরুল-প্রতিভার প্রতি ঈর্ষাবশত রবীন্দ্রনাথ তাঁকে এমন এক ওষুধ খাইয়ে দিয়েছিলেন যে তারপর থেকেই নজরুল অসুস্থ ও নির্বাক হয়ে পড়েছেন। এইসব উদ্ভট কথা যখন শুনছি নজরুল তখনও বেঁচে। তৎকালীন পিজি হাসপাতালের একটি কক্ষে গিয়ে তাঁকে দেখেও এসেছিলাম একদিন। আমি যে-সময়ের কথা বলছি সেটা সত্তরের দশকের শুরুর দিকের কথা। দেশ সদ্য স্বাধীন হয়েছে। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক চেতনা তখন যথেষ্ট দুর্বল! অন্তত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির আষ্ফালন দেখা যেতে শুরু করে নি তখনও। তবে আমি যেহেতু মুসলিম পরিবারে জন্মেছি সুতরাং নজরুলও মুসলিম ছিলেন বলে একধরনের গর্ববোধ হতো আমার। এটা ছিল আমার পরিপার্শ্বের শিক্ষা।
—————————————————————–
যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য নিয়ে পড়তে এলাম সেখানেও দেখলাম নজরুলের প্রতিভার সম্পর্কে বিরাট প্রশ্ন! আমার শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ তো শ্রেণীকক্ষে নজরুলকে পদ্যকারের বেশি মূল্যই দিতে চাইলেন না। শুধু তাই নয় জাতীয় কবিতা উৎসবের সেমিনারে পঠিত প্রবন্ধে তো তিনি জোরেশোরে নজরুলকে ‘মহাপদ্যকার’ বলে নাকচই করে দিলেন। নজরুলপ্রেমীদের পক্ষ থেকে এর যথাযোগ্য প্রত্যুত্তর এল, এ নিয়ে বিস্তর হৈচৈও হল।
—————————————————————-
নজরুল একজন বড় কবি ছিলেন এ-ধারণার পাশাপাশি এইসব বিভ্রান্তিও ছোটবেলা থেকেই আমাদের সঙ্গী। আর একটু বড় হবার পর মুখোমুখি হলাম ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গির। সেটা হল সামগ্রিক অর্থে তাঁর অনাধুনিকতা ও জনপ্রিয়তার কারণে তাঁকে বড় কবি না ভাবা। সত্তর ও আশির দশকে আধুনিকবাদের ছিল প্রবল প্রতাপ। আধুনিকবাদীরা নজরুলকে কবি হিসাবে বড় জায়গা দিতে চাইতেন না। উত্তুঙ্গ জনপ্রিয়তা ছিল তাঁর কবিত্বের শত্রু। জনপ্রিয়তা-সরলতা আধুনিকতার শত্রু–আধুনিকবাদীদের অনেকেই এই ধারণা পোষণ করতেন। ছোটবেলায় নজরুল রচনাবলি পড়ুয়া আমার পক্ষে নজরুল বড় কবি নন এটা মেনে নেয়া খুব কঠিন ছিল। লক্ষ করেছিলাম নবীন কবিতা-সৃষ্টিপ্রয়াসীরা যা লিখতে চেষ্টা করতেন তাতে নজরুলের প্রভাব স্পষ্ট। আমার মাথায় ঢুকতে চাইতো না কেউ বড় কবি না হলে অন্যদের ওপর তিনি কীভাবে এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন! আরেকটু বড় হয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য নিয়ে পড়তে এলাম সেখানেও দেখলাম নজরুলের প্রতিভার সম্পর্কে বিরাট প্রশ্ন! আমার শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ তো শ্রেণীকক্ষে নজরুলকে পদ্যকারের বেশি মূল্যই দিতে চাইলেন না। শুধু তাই নয় জাতীয় কবিতা উৎসবের সেমিনারে পঠিত প্রবন্ধে তো তিনি জোরেশোরে নজরুলকে ‘মহাপদ্যকার’ বলে নাকচই করে দিলেন। নজরুলপ্রেমীদের পক্ষ থেকে এর যথাযোগ্য প্রত্যুত্তর এল, এ নিয়ে বিস্তর হৈচৈও হল। (সম্পূর্ণ…)

লেখক সংবাদ

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ২০ মে ২০১০ ৬:২৫ অপরাহ্ন



সৈয়দ শামসুল হকসুমন রহমান

সৈয়দ শামসুল হক

syed-haque.jpgএ মুহূর্তে সাহিত্য পত্রিকা কালি ও কলমে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হচ্ছে সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস নদী কারও নয়। তাঁর অন্য অনেক উপন্যাসের মত এটিও পরবর্তীতে বই আকারে আসবে বলে তিনি জানান। কতদিন ধরে চলবে উপন্যাসটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি ধারাবাহিকভাবে গত দুইমাস ধরে প্রকাশিত হয়েছে এবং আরও দুই বছর ধরে চলবে। এর পর আমার আরও অনেক উপন্যাসের মতো এটিও বই আকারে বের হবে। ২০১২ সাল নাগাদ হয়ত এটি বাজারে পাওয়া যাবে। তবে সময়টা আরেকটু বেশিও লাগতে পারে।”

উপন্যাসটির পটভূমি সম্পর্কে তিনি বলেন, “উপন্যাসের প্লট হচ্ছে ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ। দেশবিভাগকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবনের যে আর্বতন তা আমি তুলে আনতে চেয়েছি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটি নিছক কোনো পারিবারিক বা সামাজিক উপন্যাস। কিন্তু আসলে তা নয়। এতে একই সাথে রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপটে দেশবিভাগের যে আলোড়ন তা ব্যক্ত হয়েছে। দেশবিভাগ-কালীন সময়ে একই সাথে যে ভৌগলিক ও মানসিক টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয় সেই ক্রান্তিলগ্নে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে আমি অনুধাবন করেছি, আমি উপলব্ধি করতে চেষ্টা করেছি চেতনা দিয়ে। তাই তুলে ধরতে চেয়েছি উপন্যাসে।”

উপন্যাস ছাড়াও এ মুহূর্তে বেশ কিছু কবিতা ও নাটক লিখছেন তিনি। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “কবিতা তো মনের ব্যাপার, ভেতর থেকে আসে। যখন আসে তখনই লিখি, যেমন আসে তেমনই লিখি। আর টিভির জন্য বেশ কিছু নাটক লিখছি তবে গোপনীয়তার স্বার্থেই এ মুহূর্তে নামগুলো বলতে চাইছি না। (সম্পূর্ণ…)

গল্পিকা: সেল প্রেম

আবদুশ শাকুর | ১৯ মে ২০১০ ৮:৪৭ অপরাহ্ন

—তোমার হৃদয়ে এসে চুপটি করে বসে থাকব এসএমএসের মতো—উপমা।

—তোমার মনের মধ্যে ভালোবাসার সুর বাজাবো রিংটোনের মতো—রূপক।

—তুমি কিন্তু সারাক্ষণ বিজি হয়ে থেকো না নেটওয়ার্কের মতো—উপমা।

—থাকবো না, তবে তুমিও একটি সিম কার্ড সারাক্ষণ ফ্রি রাখবে—রূপক।

—রাখবো এবং আমার প্রেম কখনোই শেষ হয়ে যাবে না ব্যালেন্সের মতো, যদিও আমি পরস্ত্রী—তোমার প্রেমিকা।

—আমার প্রেমও ফ্লেক্সিলোডে ভরা থাকবে সর্বদা, যদিও আমি বিপত্নীক—তোমার প্রেমিক।

—কিন্তু তোমাকে তো আমি কাট করে নিতে পারবো না কন্ট্রোল-এক্স টিপে, তুমি-যে পরস্ত্রী—বিরহী।

—কন্ট্রোল-সি টিপে কপি তো করে নিতে পার, আমি যেমন করেছি—বিরহিণী।

—তাহলে তাই করে কন্ট্রোল-ভি টিপে পেইস্ট করে নিলাম মনের পটে। এবার কন্ট্রোল-এস টিপে কি সেভ করে নিতে পারি প্রিয় বান্ধবী?

—নিশ্চয় পার প্রিয় বন্ধু। অসুবিধে কী?

—আমি-যে এখন নিষ্ক্রিয় একটা ব্যাক-আপ ফাইল মাত্র—নিতান্ত সারহীন প্রবীণ! (সম্পূর্ণ…)

ফেরা হয় না

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১৭ মে ২০১০ ১২:৩৮ অপরাহ্ন

পহেলা বৈশাখ কোলকাতা থেকে আধঘণ্টার উড়ানে ঢাকার তেজগাঁ বিমানবন্দরে এসে নামলাম। প্রায় এক বছর পর স্বাধীন দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে প্রাণ ভরে শ্বাস নিলাম। উইল্‌ স সিগারেট ধরিয়ে হালকা
fera_01.jpg
ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে, বিজয় দিবসে; সর্বডানে লেখক

এয়ারব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। এয়ারপোর্টের বাইরে এসে অটোরিক্সা পেলাম। উঠে বসে বললাম, ভাই, ভালো আছেন তো? চালক ভদ্রলোক স্টার্টার হ্যান্ডেল ধরে ওপরে হ্যাঁচকা টান দিতে গিয়ে থেমে, ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন, আপনি কি অনেকদিন পর দেশে ফিরলেন? ঘাড় কাত করে জানালাম, আপনি ধরেছেন ঠিক, প্রায় ন’মাস পর ঢাকা ফিরছি। ভারতে ছিলাম। চালক যান চালু করে সামনে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যাবেন? বাড়িঘর কি ঠিকঠাক আছে? আমি অবাক হয়ে মৃদুস্বরে জানালাম, না, যে বাড়িতে আমরা বাস করতাম, সেটা বেদখল হয়ে গিয়েছিল। বাবা, মা, ভাইবোন স্বাধীনতার পর ফিরে অন্য পাড়ায় অর্থাৎ পুরনো ঢাকার কল্‌তাবাজারে বাস করছেন। চলুন, এখন সেখানেই যাব।

পান্নাভাই আমাকে শিলংয়ের ঠিকানায় চিঠি লিখে সব জানিয়েছিলেন। ১৬ই ডিসেম্বরের পর স্বাধীন ঢাকা ও দেশের হালচাল, আমার-ওর বন্ধুবান্ধবের খবর এবং আমাদের পারিবারিক দুরবস্থা ইত্যাদির আপডেট আমি পেতাম ওখানে—শিলং-গুয়াহাটি সড়কে ট্রাকচালনার ফাঁকে ফাঁকে। সব শুনেটুনে আমার স্বভাবসন্ন্যাসীর জীবনযাত্রা আরো আউলে-বাউলে টাইপের হয়ে যাচ্ছিল। শীতে কাঁপছি, কিন্তু উষ্ণবস্ত্র গায়ে উঠছে না। খাসিয়া পান খেয়ে, পাঁট পাঁট আগুনজল উদ্গ্রহণের পর, গাড়লের মতো অসাড়ে, বন্ধু ধরম আগরওয়ালের দোকানে ভুটিয়া কম্বলমুড়ি দিয়ে ঘুমোই। উঠে ওই পোশাকেই অর্থাৎ জিনসের ট্রাউজার্স, জ্যাকেট আর জাঙ্গল বুট আর একমাথা বাবড়ি চুলের জটাজালে আবদ্ধ আমি ট্রাক নিয়ে আবার গুয়াহাটি মুখো হই। বাহাত্তরে আমরা বলতাম শহর গৌহাটি, মারোয়ারি বন্ধুরা গওহাটি।

জানুয়ারির শেষে যেদিন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শিলং এসে মেঘালয়কে আলাদা রাজ্য—খাসিয়াল্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘোষণা জারি করলেন, সেদিন শহরবাসীর স্ফূর্তি দেখে কে! ক’দিন বাদেই হোলি উৎসবের জন্য সবাই প্রস্ততি নিচ্ছিল। সেই রং এনে ড্রাম ড্রাম গোলা হল, পিচকিরি করে রং ছেটানো হতে লাগল দিনভর। খাসিয়া-বাঙালী-মাড়োয়ারি সকলেই সাধ্যমত মিষ্টি বিতরণ করছিলেন। এরি মাঝে ধরম এসে ডাকল, চলো দোস্ত, তোমহারে লিয়ে সুয়েটার খারিদনা হ্যয়। দোকান বন্ধ হো যায়েগা। তুরন্ত চলো। পারাব কা দিন হ্যয় না? অনিচ্ছায় ওর অনুগামী হলাম। আমরা বেশ বড়োসড়ো এক সুসজ্জিত পোশাকের দোকানে ঢুকলাম। শ্যাওলা সবুজ ডাব্‌লনিট পশমের টার্টলনেক পুলোভার আমার গায়ে চড়িয়ে ধরম দাম জিজ্ঞেস করল, কেতনা কিমাত? এইটি রুপিজ, সংক্ষেপে বলে খাসিয়া মেয়েটি আমার দিকে তাকায়। দোকানে ঢোকবার পর থেকেই মেয়েটি আমার দিকে প্রায় পলকহীন তাকিয়ে রয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রজন্মের দেড়শ বছর

গায়ক রবীন্দ্রনাথ

করুণাময় গোস্বামী | ১৩ মে ২০১০ ৪:৫০ অপরাহ্ন

রবীন্দ্রসঙ্গীত বলতে আমরা রবীন্দ্রনাথের রচিত গান বুঝি। গায়ক হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে কখনো আমরা এর সঙ্গে যুক্ত করি না। তবে অনেক স্থানে রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, তাতে মনে হয়, শুধু রচয়িতা হিসেবে নয়, গায়ক


রবীন্দ্রকণ্ঠে ‘তবু মনে রেখো…’

হিসেবেও তাঁর অনেক স্থান থাকুক তেমন একটা ইচ্ছে তিনি পোষণ করতেন। ১৯৩৮ সালে তিনি কথাচ্ছলে বলেছিলেন, “গলা এককালে ছিল বটে! গাইতেও পারতুম গর্ব করবার মতন। তখন কোথাও কোনো মিটিঙে গেলে সবাই চিৎকার করত, ‘রবিঠাকুরের গান, রবিঠাকুরের গান’ বলে। আজকাল রবিঠাকুরের গান বলতে বোঝায় তার রচিত গান, গীত নয়। তোমরা আমায় এখন একবার গাইতে বলেও সম্মান দাও না। যখন গাইতুম তখন গান লিখতে শুরু করিনি তেমন, আর যখন লিখলুম তখন গলা নেই।” এমন কথা তিনি জীবনে বহুবার বলেছেন।

তাঁর এমন আরো কিছু স্মৃতিচারণমূলক বিবৃতি আমি উদ্ধৃত করব, তবে এই সঙ্গে আমার এমন ভাবা ভুল হবে না যে রবীন্দ্রনাথ যখন তাঁর গানে গান গাওয়ার প্রসঙ্গটি আনেন তখন নিজের কথাও ভাবেন জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে। তাঁর গায়ক সত্তা এর সঙ্গে মিশে যায়। বিস্ময়করভাবে দীর্ঘকাল গায়ক হিসেবে তিনি যে প্রশংসা পেয়েছেন, নিজের গান গাওয়াকে তিনি নিজে যেভাবে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন, তাতে তেমন ভাবা অস্বাভাবিক নয় মোটেও। ওপরে যে উদ্ধৃতিটুকু ব্যবহার করলাম এবং জানালাম যে, এমন করে নিজের কথা তিনি অনেকবার বলেছেন, তাতে এই উদ্ধৃতির সামগ্রিক সত্যাসত্য নির্ণয় করা প্রয়োজন। গলা এককালে ছিল বটে! গাইতেও পারতুম গর্ব করবার মতন। এমন কথা তিনি বলতেই পারেন। তাঁর গান গাওয়ার যথেষ্ট প্রশংসার প্রামাণ্য বিবরণ যা-কিছু সংগৃহীত হয়েছে সেখান থেকে বাছাই করা কিছু বিবরণ উপস্থাপিত করা যাবে। কোথাও কোনো মিটিঙে গেলে সবাই চিৎকার করত রবিবাবুর গান, রবিঠাকুরের গান, এ কথাও সত্য। স্মৃতিকথায়, পত্রিকার রিপোর্টে শ্রোতাদর্শকদের এমন আবদারের বিবরণ পাওয়া যায়। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রজন্মের দেড়শ বছর

“একজন তৃতীয় সারির কবি”: রবীন্দ্রকবিতার বোর্হেসকৃত মূল্যায়ন

রাজু আলাউদ্দিন | ১৩ মে ২০১০ ৪:৪০ অপরাহ্ন

রবীন্দ্রনাথের অনুবাদক-ভাগ্য রীতিমত ঈর্ষণীয় বলা যেতে পারে। জীবদ্দশায় তাঁকে নিয়ে ইউরোপীয় ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ লেখকরা লিখেছিলেন এবং তাঁর লেখা অনুবাদও করেছেন ইউরোপের বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখকরা।
—————————————————————–
উজ্জ্বয়িনীপুরের স্বপ্নময় আবেশ, শিপ্রানদীর শিহরণ এবং আরও নানান অনুষঙ্গ উধাও হওয়ার পর যে কংকালটি রয়েছে তা থেকে বিদেশী একজন পাঠক এই কবিতার মহিমা কতটুকু অনুমান করতে পারবেন সেটাই আমার প্রশ্ন।
—————————————————————-
তাদের অনেকেই পরবর্তীতে জয় করেছিলেন নোবেল পুরস্কার। রুশ ভাষার বরিস পাস্তেরনাক অনুবাদ করেছেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা। ফরাসী ভাষায় ocampo_tagore-1930.jpg…….
বিক্তোরিয়া ওকাম্পোর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, প্যারিস ১৯৩০; শেষ দেখা
…….
আঁদ্রে জীদের মতো লেখক। আরও একজন ফরাসী কবি ছিলেন যিনি রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি অনুবাদের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছিলেন, তিনি সাঁ ঝ পের্স। যদিও পরে তিনি এই দায়িত্ব অর্পণ করেন আঁদ্রে জীদকে। অন্য একটি ইউরোপীয় ভাষা অর্থাৎ স্প্যানিশে অনুবাদ করেছেন হুয়ান রামোন হিমেনেথের মতো কবি। তিনিও নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না হিমেনেথের সমগ্র রচনার এক তৃতীয়াংশ হলো রবীন্দ্রনাথের অনুবাদ। স্প্যানিশ ভাষার আরেক লেখক এবং অনুবাদক রাফায়েল কানসিনোস আসসেন্সও অনুবাদ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথের মানব ধর্ম নামের প্রবন্ধের বইটি। রাফায়েল ছিলেন বোর্হেসের গুরু, যিনি জানতেন ১৪টির মতো ভাষা। এই সব ভাষা থেকে তিনি অনুবাদ করেছেন। কিন্তু যে তথ্যটি আমরা একেবারেই জানি না তাহলো এই যে স্প্যানিশ ভাষার আরেক লেখক যিনি আজ বিশ্বব্যাপী অসাধারণ এক কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত অর্থাৎ হোর্হে লুইস বোর্হেস, তিনিও রবীন্দ্রনাথের লেখা অনুবাদ করেছিলেন।
borges_victoria_adolfo1.jpg
বোর্হেস, বিক্তোরিয়া ওকাম্পো ও আদোলফো বিওই কাসারেস

তবে অন্যদের মতো কোনো রবীন্দ্র-মুগ্ধতা থেকে সে অনুবাদ তিনি করেননি, করেছেন অ-মুগ্ধতার কারণ দেখিয়ে, একটি নমুনা হাজির করার সূত্রে। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রজন্মের দেড়শ বছর

রবি সান্নিধ্যে
মার্গারিট উইলকিনসন

প্রিসিলা রাজ | ৮ মে ২০১০ ২:৩৫ অপরাহ্ন

[মার্গারিট উইলকিনসনকে (Marguerite Wilkinson; 1883—1928) দেয়া ভারতীয় কবিতা সম্পর্কিত এই সাক্ষাৎকারটি প্রথম মুদ্রিত হয় নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত The Touchstone, Vol VII, No. 5, ফেব্রয়ারি ১৯২১ সংখ্যায়। কানাডিয়ান-আমেরিকান কবি মার্গারিট উইলকিনসন কয়েকটি পত্রিকায় সাহিত্য পাতার সম্পাদক ছিলেন। – বি. স.]

rabindranath-tagore.jpg
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭/৫/১৮৬১ – ৭/৮/১৯৪১)

————————–

অনুবাদ: প্রিসিলা রাজ

————————–
“শুনেছি আপনার দেশের মানুষ আপনার কবিতাগুলো সঙ্গীত হিসাবে গায়, আবার স্তোত্র হিসাবেও পাঠ করে?” রবিবাবুর কাছে জানতে চাই।

“আপনি ঠিকই শুনেছেন,” বলেন রবি। “আমার দেশের মানুষ কাব্যপ্রেমী। আমার এলাকায় এমন অনেক মানুষ আছেন সারাদিন মাঠে কাজ করবার পর যাঁরা রাতে তারাভরা আকাশের নিচে কোনো এক কুটিরের সামনে বসে গান ধরেন। মধ্যরাত পেরিয়ে চলতে থাকে সেসব আসর। ঈশ্বর ভজনার সঙ্গীত এগুলো—বাংলা গীতিকবিতা সম্পদের শ্রেষ্ঠ অংশে তাদের স্থান।”

“মানুষ যদি আপনার কবিতা সঙ্গীত হিসাবে গেয়ে থাকে তবে কি এগুলো লোককবিতার মতো করে রচিত?”

“আমার কিছু কবিতা লোককবিতার ধাঁচে লেখা,” বললেন ড. ঠাকুর, “তবে আরো কবিতা আছে যেগুলো রোমান্টিক ধাঁচে লেখা, আবার কিছু আছে ধ্রুপদী আঙ্গিকে রচিত।”

“এসব গানের সুর তো আপনি নিজেই দিয়েছেন?”

“হ্যাঁ।”

“এ নিয়ে কিছু বলবেন?”

“এ ব্যাপারে কিছু বলাটা বেশ দুরুহ কারণ এটা একেবারেই আপনাদের পাশ্চাত্যের সঙ্গীতের মতো নয়। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রজন্মের দেড়শ বছর

সন্‌ জীদা খাতুনের সঙ্গে আলাপচারিতা

বেবী মওদুদ | ৮ মে ২০১০ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন

[বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বর্তমান সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন। তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতক এবং ১৯৫৫ সালে ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ১৯৭৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট ১৯৮৮ সালে তাঁকে ‘রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য’ উপাধি দেয়। সন্‌ জীদা খাতুন তাঁর এই আলাপচারিতায় মূলত ছায়ানট ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি ভিডিও মাধ্যমে গৃহীত। লিখিত সংস্করণে কিছু সম্পাদনা করা হয়েছে। মোট পাঁচটি অংশে ভিডিও সাক্ষাৎকারটি নিচে লেখার মধ্যে বিন্যস্ত আছে। সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয় ২৬ এপ্রিল ২০১০ তারিখে, তাঁর বাসভবনে। – বি. স.]

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: বেবী মওদুদ

sanjida-k_1.jpg
সন্‌জীদা খাতুন (জন্ম. ৪/৪/১৯৩৩) ছবি. মুস্তাফিজ মামুন

বেবী মওদুদ: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পক্ষ থেকে আমরা আজ এসেছি আমাদের দেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী সন্‌জীদা খাতুনের বাসায়। আগামী ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন। সামনে তাঁর দেড়শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হবে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের কত কাছের মানুষ, বিশেষ করে রবীন্দ্র সংগীত যেন একটা প্রাণের উদ্দীপনা এনে দেয় আমাদের কাছে। দেশকে, প্রকৃতিকে, মানব প্রেম, সব কিছুকে আমরা তখন উপলব্ধি করতে পারি। এই রবীন্দ্র সংগীতের মধ্য দিয়ে সন্‌জীদা খাতুন দীর্ঘদিন জীবনযাপন করেছেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকে রবীন্দ্র সংগীত শিখছেন ও শুনছেন। তারপর তো ধীরে ধীরে গাইতে শিখলেন, সংগীত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগীতের শিক্ষকও ছিলেন। ছায়ানট প্রতিষ্ঠা করেছেন। ছায়ানটের মাধ্যমে আজ সারা দেশে রবীন্দ্র সংগীতের যে চর্চা, শিক্ষা ও বিকাশ ঘটছে তা আমদেরকে একটি বিশেষ মাত্রা এনে দেয়। আমরা আজ সন্‌জীদা খাতুনের কাছে থেকে শুনবো তাঁর শেখার কথা, তাঁর বড় হয়ে ওঠার কথা, তাঁর শিল্পী হওয়ার কথা। তিনি যে ছায়ানটের মাধ্যমে কাজ করছেন সারা দেশে, আমরা সেইসব কথাও শুনবো আজ তাঁর কাছে।

[প্রশ্ন] ষাটের দশকে আপনারা সারা দেশে ঘুরে ঘুরে রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী খুঁজে বেড়িয়েছেন। আপনাদের সে উদ্দেশ্য কি সফল হয়েছিল?


সাক্ষাৎকারের ভিডিও ১

সন্‌জীদা খাতুন: ছায়ানটের জন্ম হয়েছিল ১৯৬১ সালে, রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষে। আর এই ছায়ানট থেকে আমরা বিদ্যায়তন করে চেষ্টা করছি যে নতুন নতুন শিল্পী তৈরি করবো। আমাদের বিদ্যায়তনে যারা ভর্তি হয়েছে তার মধ্য থেকে দেখা যায় এখনও অনেকেই শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আমরা হিসেব করে দেখেছি অন্তত ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী এ পর্যন্ত ছায়ানটে ভর্তি হয়েছে এবং গেছে। সবাই যে পাশ করে গেছে তা নয়। কিন্তু মাঝে মাঝে তারা পাশ করেছে কেউ। কেউ কেউ হয়তো ছেড়ে গেছে। তিন বছর শিখেছে, দুই বছর শিখেছে, এরকম হয়েছে। আমরা এভাবে শিল্পী তৈরির কাজে ছিলাম। আর ছায়ানটের মূল যে উদ্দেশ্যটা ছিল সেটা হচ্ছে ছায়ানট চেয়েছিল বাঙালিকে তার সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন করতে। ছায়ানটের জন্মই হয়েছে রবীন্দ্রশতবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে।

১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথকে পাকিস্তান আমলে যখন অস্বীকার করা হচ্ছে তখন আমরা রবীন্দ্রনাথকে অবলম্বন করে কাজ শুরু করেছি। আর রবীন্দ্রনাথকে অবলম্বন করার কারণ হলো তার চারপাশে অন্যান্য যারা রয়েছেন, গীতস্রষ্টা, সংস্কৃতিকর্মী, সংস্কৃতিসেবী, শিল্পী, সবাই… রবীন্দ্রনাথ কিন্তু তাদের মধ্যমণি হয়ে আছেন। এই জন্য আমরা রবীন্দ্রনাথকে অবলম্বন করেছিলাম। আমরা বাঙালী সংস্কৃতির উজ্জীবনের কথা ভেবেছি। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com