প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার

আলমগীর স্বপন | ২৭ এপ্রিল ২০১০ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন


“দুইজনায় বাঙালী ছিলাম
দেখো দেখি কাণ্ডখান…”

pratul_31.jpg
প্রতুল মুখোপাধ্যায়

[সঙ্গীতের প্রচলিত ফর্মার ভিতরে নিজেকে সঁপে দেননি গণসঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়। সোজা সড়কে না হেঁটে, কানাগলিতে হাঁটতে চেয়েছেন। বাদ্য-বাজনার গেড়োয় নিজের সুর ও গানের কথাকে না বেঁধে তিনি সুর ও কথা দিয়ে বেঁধেছেন বাদ্য-বাজনাকে। তাই তিনি খালি গলায় গান। যে গান জনতার, বৈষ্যমহীন সমাজ ও স্বপ্নের।

দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন এই শিল্পী। গত ১ এপ্রিল সকালে ধানমণ্ডিতে কলামিস্ট ও রম্য লেখক হেলাল ফয়েজির বাসায় তার সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছে। আলাপে শৈশব, কৈশোরের পাশাপাশি উঠে এসেছে গণসংগীত নিয়ে তাঁর দর্শন, কমিউনিজম, বাংলাদেশ, মাওবাদ ইস্যু ইত্যাদি। – আলমগীর স্বপন]

আলমগীর স্বপন: কেমন ছিল আপনার শৈশব ?

প্রতুল মুখোপাধ্যায়: আমরা পাঁচভাই দু বোন যেমন খুশি ঘুরে বেড়াতাম। আমি ক্লাশ ফোরের আগে কোনো স্কুলে ভর্তি হইনি। বাবা স্কুলের কাজে ব্যস্ত থাকতেন, মা সংসারের নানা রকম কাজে থাকতেন। বাবা যে আমাদের খুব বেশি খোঁজ নিতে পারতেন তাও নয়। যা খুশি তাই করতাম।
—————————————————————–
আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন না যে, এটা একটা সঙ্গীতের ঘর। সেখানে আমি নক করলাম। তারপরে আমাকে বলা হলো, কী ব্যাপার আপনি কি সঙ্গীতে ঢুকবেন… আসুন আসুন… সঙ্গীতে আসুন… এরকম করে আমি সঙ্গীতে আসিনি। আমাদের সারা পৃথিবী জুড়ে সঙ্গীত ছিলো, পাখির ডাক থেকে শুরু করে যে ভিখারী সকাল বেলা কীর্তন গাইতো, কেউ শ্যামা সঙ্গীত গাইতো, বাবার সঙ্গে বসে একজন বেহালা বাজাতেন এবং গাইতেন—এরাই আমাকে সংগীতে এনেছেন। এদের গলা, এদের গানগুলো আমি গলায় তুলেছি।
—————————————————————-
আমার তিনবোনের এক বোন দেশভাগের পরে চুচুড়াতে জন্মেছে। আর সবাই এখানে-ওখানে। তখন বাবা বাংলাদেশেই কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ছোটবোন যখন জন্মেছে তখন বাবা চুচুড়াতে কর্মরত ছিলেন। শৈশব বলতে পশ্চিমবঙ্গের চুচুড়ো বুঝি। তবে একটা কথা মনে আছে, যখন প্রথম দেশভাগের পর খড়্‌গপুর এসেছিলাম। খড়্‌গপুরে আমার এক বড় কাকা ছিলেন। তিনি বেশ কিছু দিন ওখানেই কাজ করতেন। তার বাসাতে উঠেছিলাম প্রথমে। তিনি আমার বড় ভাই জনুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি তোমার কে হই।’ জনু বললো ‘বড় কাকা।’ তখন আমি স্বীকৃতিটা নেয়ার চেষ্টা করলাম, ‘আমি ওরে শিখাই দিছি।’ এই কথাটা বলার পরে তিনি বললেন, ‘এরকম করে কথা বলো না। এরকম করে বললে, এখানে সবাই হাসবে।’

এটা আমার মনে একটা বিরাট আঘাত হিসেবে এসেছিলো। আমি আমার মতো করে কথা বললে, লোকে হাসবে। তাহলে আমি এ কোথায় এলাম। (সম্পূর্ণ…)

গুলশানের কচুর শাক

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১৫ এপ্রিল ২০১০ ১:৫৮ পূর্বাহ্ন

beel-chanda-y-aporahnner-chhaya-ghonay.jpg
বিল চান্দায় অপরাহ্ণের ছায়া ঘনায়

লেখার শিরোনাম কোনো চমকের উপস্থিতি নয়, এ শিরোনাম বিশুদ্ধ কৃতজ্ঞতাবোধ-উৎসারিত। আমার স্ত্রীকে সেই শুক্কুরবার রাতেই—উইথ মাচ ক্যনভিকশ্যন—বলেছিলাম যে, ঐ রাত্তিরে চেটেপুটে খাওয়া সেই অপূর্ব ব্যঞ্জন বিষয়ে লিখব। মনে মনে এটাও ভেবেছিলাম, আমি যেমন সহজে অনেক কিছু ভুলে যাই, এক্ষেত্রে তেমনটি হওয়া চলবে না।
—————————————————————–
বললে তো বড়াই করা হবে—পদ্মার এপার থেকে সেই কোলকাতার এপাশ পর্যন্ত সর্বত্রই আমার মাতৃকূলের সুবিস্তৃত নেটওয়র্ক—প্রয়োজনে সূত্র ধরে একটু বাঁয়ে-ডানে পাঁচকদম হাঁটলেই মা বকুলের মামাতো-ফুপাতো-খালাতো ভাইবোন, বৈবাহিক বা তস্য বৈবাহিকের সাদর আহবান শুনতে পাওয়া যাবে এখনো, আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ইকবালেরও তাই। সেকথা বলতেই মোকাম্মেল লাজুক হেসে মনে করিয়ে দেয়, স্যর ঠিকই বলিছেন, এই যে এক্স-মৎস্য সচিব ডঃ ইউসুফ আলি—যিনি আপনাগের দু’ভায়ের সঙ্গে একই ঘরে বসেন বিসিএএস অফিসে—উনিও তো ইকবাল স্যরের দাদা, আপনার নানা আর আমারও ওই নানা-ই হন।
—————————————————————-
jalabhumi-gabeshona-kendre.jpg……..
জলাভূমি গবেষণা কেন্দ্রে
………
আরম্ভ সেই ছুটির দিনে সকালে, যখন ভাড়া করা নোয়া ভ্যানটির চালক সেলিম আমাকে সাড়ে সাতটার দিকে ফোনে জানাল, সে সুবাস্তু নজর ভ্যালির সামনে পৌঁছে গেছে। আরো জানলাম, সে রুবাই বা সাজ্জাদ—আমাদের মেয়ে-জামাই—কারো ফোন নম্বর জানে না। বুঝলাম, রুবি আমাকে ভুল তথ্য দিয়েছে। অতএব, আবার মা-মেয়ে-জামাইয়ের মাঝে ফোনালাপ চলল। আমি স্নান করতে গেলাম। স্নান সেরে, পোশাক বদলে নিতে-নিতেই মেয়ে-জামাই নিচে পৌঁছে জানান দিল। আমি, রুবি, ফরিদা—যার-যার ব্যাগ নিয়ে, ফ্ল্যাটের দরজা সিকিওর করে নেমে গেলাম। ড্রাইভার সেলিম আমাদের ব্যাগ তুলল। যাত্রা শুরু হল। (সম্পূর্ণ…)

ভাষার শুদ্ধতা কেন আলোচ্য

এস এম রেজাউল করিম | ১৪ এপ্রিল ২০১০ ৩:৪৫ অপরাহ্ন

ba.jpg
বাংলা একাডেমী, ছবি. উইকিপিডিয়া

বাংলাভাষার শুদ্ধতা নিয়া একটা গুরু চিন্তা করতেছেন এই সময়ের সরকার, বাংলা একাডেমী, বুদ্ধিজীবীগণ। আইন পাশ হইতেছে সংসদে, বাংলা একাডেমী বাংলাভাষার দেখভালের, ভরণপোষণের দায়িত্ব পাইতেছে শুনতেছি। বাংলাভাষার দুরবস্থা নিয়া দেশে বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা চলতেছে। যেইটারে দুরবস্থা বলা হইতেছে সেইটা যে দুরবস্থ—এই ব্যাপারে বাঙালী জাতীয়তাবাদীগণে ঐকমত্যে পৌঁছাইছেন। দুরবস্থা মনে না করা বুদ্ধিবৃত্তিক কিছু তৎপরতাও আছে, এই ভাবনাও যে আছে তা বেশ খোঁজখবর না নিলে টের পাওয়া যায় না, অধিপতি মিডিয়ায় তাদের জায়গা কম।
—————————————————————–
এইগুলা বিকৃত হইলে ‘প্রকৃত’ বাংলা একাডেমী কই পাইলো সেই ব্যাপারে একাডেমীর কোনো ব্যাখ্যা থাকার কথা, ব্যাখ্যাটা পাই নাই, ভরসা করি হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী বাংলা জাতীয় কিছু হইবে সেইটা। এর অর্থ কাহ্নপার লেখা বা উচ্চারণ হইতে পারে, চণ্ডীদাস বা মঙ্গলকাব্যও হইতে পারার কথা, কিন্তু তা হবে না, তাইলে বাংলা একাডেমী সেইসব ভাষায়/উচ্চারণে বিবৃতি দিতো, বাংলা একাডেমী তা দেয় না। বরং উনিশ/বিশ শতকের ঔপনিবেশিক আমলের কলিকাতায় শিক্ষিত বাঙালীর ভাষাই প্রকৃত বাংলা বইলা চেনে বা চেনায় বাংলা একাডেমী
—————————————————————-
আমার চোখে পড়া আলোচনাগুলায় দেখতেছি—আলাপটা লেখা নিয়াই প্রায়। কিন্তু বাংলা একাডেমীর ভাষ্য যতটা জানি তাতে বাংলা উচ্চারণ তার একটা প্রধান চিন্তা—এফএম রেডিওগুলা, ইংরাজি মাধ্যমে পড়ুয়াদের বাংলা উচ্চারণ নিয়া চিন্তা কেবল বাংলা একাডেমী না পরিচিত অনেকের মধ্যে দেখতেছি। বাংলা একাডেমী এইটারে বিকৃতি মনে করে, এইটা ঠেকানোর জন্যও আইন করতেছে শুনতেছি। (সম্পূর্ণ…)

নগরভাদগ্রাম, চরপাড়া ও শেওড়াতৈলে চৈত্রসংক্রান্তি

বাংলার বছরবিদায়

সাইমন জাকারিয়া | ১৩ এপ্রিল ২০১০ ৫:৪০ অপরাহ্ন

radha-krisno.jpg
রাধা-কৃষ্ণের সাজে

নতুন বাংলা ক্যালেন্ডারের কারণে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী শহরবাসীর চেয়ে একদিন পিছিয়ে আছে। শহরের লোকেরা যেদিন মহা ধুমধামে বর্ষবরণ করে গ্রামেগঞ্জে তখন মহা ধুমধামে বর্ষবিদায় তথা চৈত্রসংক্রান্তির আয়োজন চলে। গ্রামের লোকেরা সরকারী ক্যালেন্ডারটি গ্রহণ না করার কারণে এমনটি ঘটে। ইংরেজি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে গিয়ে সরকার এক সময় চাষবাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা তারিখ বদলে দিয়েছিল। শহরের লোকেরা এই নতুন তারিখ মেনে নিলেও গ্রামে সেই পুরোনো তারিখের হিসাবই প্রচলিত আছে। বর্ষবরণের রীতিও আগের মতই রয়ে গেছে। শহরে যেখানে চৈত্রসংক্রান্তি এবং বর্ষবরণ উৎসব গুটিকয়েক অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়ে দুই দিন এক রাত্রিতে সীমাবদ্ধ, গ্রামে সেখানে এই উৎসব চলে সপ্তাহ থেকে পক্ষকালব্যাপী।

সে রকমই এক উৎসবের বর্ণনা এই লেখা। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই টাঙ্গাইলের তিনটি গ্রামে ব্যাপ্ত এই উৎসবে যোগ দেই আমি। সে সময়কার উল্লেখযোগ্য কিছু অনুষ্ঠানের বিবরণ এই লেখা।


টাঙ্গাইলের একটি গ্রামে চৈত্রসংক্রান্তি উৎসবের ভিডিও, ২০০৬। ফিলিপাইনসসের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ইউনেস্কো আইটিআই-এর ওয়ার্ল্ড থিয়েটার কংগ্রেসে প্রদর্শিত ভিডিও। নির্মাতা: সাইমন জাকারিয়া।

২.
বাংলায় নতুন বছরকে আহ্বান করা হয় মূলত পুরাতন বছরকে মহাসমারোহে বিদায় জানিয়ে। প্রতিবছর তাই চৈত্রসংক্রান্তি এলেই গ্রামে গ্রামে বিচিত্র কৃত্যাচারের হুল্লোড় পড়ে যায়। কেউ হর-গৌরি সেজে গ্রামের পথে পথে হাঁটে এবং গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে উঠানে গিয়ে ঢাক, কাসি, করতাল বাজিয়ে নৃত্য করে ফেরে, কেউবা আবার কৃষ্ণ, রাধা, শিব, কালী, অসুর ইত্যাদি পৌরাণিক চরিত্র সেজে অভিনয়ে অংশ নেয়। শুধু তাই নয়, অনেকে আবার গ্রামের সামাজিক জীবনের বিভিন্ন চরিত্র বাইদ্যা-বাইদ্যানী, ঘোড়সাওর, হাইল্যা ইত্যাদি সেজে বাড়ি বাড়ি ঘুরে আনন্দ খুঁজে ফেরে। বর্তমান প্রতিবেদনে একটি এলাকার কয়েকটি গ্রামের চৈত্রসংক্রান্তির প্রত্যক্ষ বিবরণ উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এলাকাটি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার অধীন। আর গ্রামগুলো হলো: নগরভাদগ্রাম, চরপাড়া ও শেওড়াতৈল। এই গ্রামগুলো প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বছর ধরে চৈত্রসংক্রান্তির কিছু কৃত্যানুষ্ঠান করে আসছে। এই সব কৃত্যানুষ্ঠানের মধ্যে আছে: হর-গৌরির নাচ, বাইদ্যার নাচ, ডুগনী, কবিতা, বীচট, কালীকাচ, পরীনাচ, কুচকি বানাম, মইন জাগানো, সঙখেলা, চড়ক ও স্বাদ গ্রহণ। পর্যায়ক্রমে সেই সব কৃত্যানুষ্ঠান, নাট্যপালা ও চড়কের বিবরণ তুলে ধরছি। (সম্পূর্ণ…)

গোলাপের নাম

উম্‌বের্তো একো

জি এইচ হাবীব | ১০ এপ্রিল ২০১০ ৩:০১ অপরাহ্ন

eco.jpg
উম্‌বের্তো একো

অনুবাদ: জি এইচ হাবীব

লিংক: কিস্তি ১

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৩
———————————————————————————

(কিস্তি ২-এর পরে)

সে ক্স ট্‌

গির্জার প্রবেশপথ[৪৭] দর্শনে অ্যাড্‌সোর মুগ্ধতা, এবং কাসালি-র উবার্তিনোর[৪৮] সঙ্গে উইলিয়ামের ফের সাক্ষাৎ

স্ট্রাযবুর্গ, শার্ট, ব্যামবার্গ আর প্যারিসে পরে আমি যে-সমস্ত গির্জা দেখেছি, মঠের গির্জাটি সেগুলোর মতো রাজসিক নয়। সেটা বরং ইতালিতে আমি এরিমধ্যে যেসব গির্জা দেখেছিলাম সেগুলোর মতো: দর্শকের মাথা ঘুরিয়ে দিয়ে স্বর্গপানে উঠে যাবার সামান্যতম প্রবণতাও তাদের নেই, বরং ভূমিতেই প্রোথিত সেগুলো দৃঢ়ভাবে, আর কখনো কখনো তারা যতোটা না উঁচু তার চেয়ে বেশি প্রশস্ত; তবে এটার প্রথম স্তরের ওপর শোভা পাচ্ছে, দুর্গের মতো, বর্গাকার, খাঁজকাটা সচ্ছিদ্র পাঁচিল-এর একটা বিন্যাস, আর এই তলাটার ওপর উঠে গেছে আরেকটা কাঠামো, বুরুজের মতো ততটা নয় যতটা একটা নিরেট দ্বিতীয় গির্জার মতো, শীর্ষোপরি ঢালু হয়ে নেমে যাওয়া একটা ছাদ আর সাদামাটা জানলা নিয়ে। মঠের ভেতরের একটা শক্তপোক্ত গির্জা সেটা, আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেমনটি তৈরি করেছিল প্রভেন্স আর ল্যাঙডক্-এ, আধুনিক শৈলীর ঔদ্ধত্য আর পাথুরে অলঙ্করণ বাহুল্য থেকে মেলা দূরস্থানীয়, যা কিনা, আমার বিশ্বাস, আরো সাম্প্রতিক সময়েই কেবল সমৃদ্ধ করা হয়েছে কয়ার-এর ওপর একেবারে স্বর্গের ছাদপানে দাপটের সঙ্গে উঠে যাওয়া শীর্ষসহ।

rose_3.jpg…….
The Name of The Rose-এর বিশেষ সংস্করণ
……..
দুপাশে দুটো খাড়া আর নিরাভরণ স্তম্ভসহ প্রবেশপথটা, প্রথম দর্শনে, একটা বিরাট একক খিলানের মতো উন্মুক্ত হয়ে আছে; কিন্তু স্তম্ভদুটো থেকে দুটো এম্ব্রেযার শুরু হয়ে শীর্ষোপরি অন্য আরো বহুবিধ খিলানে শোভিত হয়ে দৃষ্টিকে নিয়ে গেছে, যেন কোনো অতল খাদের কেন্দ্রের মধ্যে, বিশাল এক টিম্পানাম (খিলানপোরি দেয়ালগাত্র) ভূষিত খোদ প্রবেশমুখটার দিকে, টিম্পানামের ভররক্ষা করছে দু’পাশে দুটো ইম্পোস্ট আর মাঝখানে একটি খোদাই-করা খুঁটি, আর খুঁটিটি প্রবেশমুখটাকে ভাগ করে দিয়েছে দুটো ফোঁকরে যার সুরক্ষাদান করছে ধাতুসহযোগে শক্তিবৃদ্ধি করা ওক কাঠের দুটো দরজা। দিনের সেই সময়টাতে দুর্বল সূর্যটা প্রায় সোজাসুজি রোদ ফেলছিল ছাতের ওপর, আলো বাঁকা হয়ে এসে পড়ছিল গির্জার সম্মুখভাগের ওপর, যদিও তাতে টিম্পানামটা আলোকিত হচ্ছিল না; কাজেই স্তম্ভ দুটো পেরিয়ে আসার পর হঠাৎ করেই নিজেদের আবিষ্কার করলাম আমরা বেশ কিছু খিলানের এক অরণ্যময় ভল্টের নিচে, সেসব খিলানের উদয় হয়েছে আনুপাতিকভাবে এম্ব্রেযার দুটোর শক্তি বৃদ্ধি করা অপেক্ষাকৃত ছোট স্তম্ভগুলো থেকে। অন্ধকারে আমাদের দৃষ্টি যখন সয়ে এসেছে, চোখদুটো আমার ধাঁধিয়ে দিল (যে-কারো স্থিরদৃষ্টি আর কল্পনাতেই ধরা পড়ার মতো) খোঁদাই-করা-পাথরের নীরব ভাষা, তাৎক্ষণিকভাবে নিক্ষেপ করল আমাকে এমন এক দৃশ্যের ভেতর এখনো যা আমি বলে বোঝাতে অক্ষম।

দেখলাম, আকাশে স্থাপিত একটি সিংহাসন, তাতে এক ব্যক্তি ব’সে[৪৯]। ‘উপবিষ্ট ব্যক্তি’র মুখটি কঠোর এবং অনুভূতিশূন্য; বিস্ফারিত চোখ দুটো তীব্র জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে পৃথিবীবাসী এক মানবজাতির দিকে যে-জাতি ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে তার ইতিহাসের অন্তিম লগ্নে; রাজসিক চুল আর দাড়ি তার মুখ ও বুকের ওপর আন্দোলিত হচ্ছে নদীর জলের মতো, সমান এবং সুসমঞ্জসভাবে দু’ভাগে বিভক্ত স্রোতধারায়। তার মাথার মুকুটটি এনামেল আর মণি-জহরত সমৃদ্ধ, সোনা আর রূপোর সুতোয় এম্ব্রয়ডারি আর লেসের কাজ করা রক্তবর্ণ রাজকীয় টিউনিক বড় বড় ভাঁজে দুই হাঁটুর ওপর প’ড়ে আছে। হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে রাখা বাম হাঁতটায় একটা সীলমোহর দেয়া বই, ডান হাতটি হয়ত আশীর্বাদের কিংবা হয়ত—আমি ঠিক নিশ্চিত নই—নিষেধের ভঙ্গিমায় উঁচু করা। ক্রশসহ পুষ্পসজ্জিত একটা জ্যোতিশ্চক্রের দুর্দান্ত সৌন্দর্যে আলোকিত হয়ে রয়েছে মুখটা, ওদিকে সিংহাসনের চারদিকে আর ‘উপবিষ্ট ব্যক্তি’র মুখের ওপরে দেখতে পেলাম জ্বল জ্বল করছে একটা পান্না সবুজ রঙধনু। সিংহাসনটার সামনে, ‘উপবিষ্ট ব্যক্তি’র পায়ের নীচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে স্ফটিকের একটি দরিয়া, আর ‘উপবিষ্ট ব্যক্তি’র চারদিকে, সিংহাসনটির পাশে আর ওপরে দেখতে পেলাম চারটে বীভৎস প্রাণী—আমার কাছে বীভৎস বলেই মনে হলো দেখতে, কিন্তু গভীর ভাবাবেগে আত্মহারা, যদিও বশ্য আর প্রিয় তারা ‘উপবিষ্ট ব্যক্তি’র কাছে, আর তারই গুণকীর্তন ক’রে যাচ্ছে নিরন্তর। (সম্পূর্ণ…)

আভাটার: বর্ণ, সাম্রাজ্য ও টেকনলজির মাহাত্ম্য বর্ণনার রূপকথা

ফরহাদ মজহার | ৬ এপ্রিল ২০১০ ১০:১৫ অপরাহ্ন
[আভাটার জেমস ক্যামেরনের মহাকাব্যিক সায়েন্স ফিকশন ছবি। এর চিত্রনাট্যও তাঁরই লেখা। ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। ছবির কাহিনী ২১৫৪ সালের এক ভবিষ্যৎ ভিনগ্রহের চাঁদ প্যানডোরার। ক্যামেরন ছবির চিত্রনাট্যের ৮০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত লিখে রেখে দিয়েছিলেন ১৯৯৪ সালেই। ১৯৯৬-এ ঠিক করেন তাঁর
james-cameron6.jpg……
জেমস ক্যামেরন (জন্ম. অনটারিও, কানাডা, ১৬/৮/১৯৫৪)
……….
নির্মীয়মান ছবি টাইটানিক (১৯৯৭)-এর পরেই তিনি এর কাজ ধরবেন। কিন্তু স্পেশাল ইফেক্টস বিশেষজ্ঞ ক্যামেরন ছবি বিষয়ে যেরকম ভাবনা ভেবেছিলেন তখনো তেমন তেমন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়নি। তাই অপেক্ষা করছিলেন তিনি। পরে সম্ভাবনা উন্মুক্ত হওয়ায় ২০০৬ সালে আবার তিনি চিত্রনাট্যে হাত দেন। ছবিটি প্রচলিত দ্বিমাত্রিক প্রজেক্টরের পাশাপাশি ত্রি-মাত্রিক প্রজেক্টরের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আভাটারের জন্য ক্যামেরন উদ্ভাবন করেছেন নতুন এক ক্যামেরা। যার দ্বারা অভিনেতা-অভিনেত্রীর মুখভঙ্গির সঞ্চালন ডিজিটালি রেকর্ড করে অ্যানিমেটেড চরিত্রের উপর হুবহু আরোপ করা যায়। ছবিটি ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসা করেছে। এবং এর সিক্যুয়েল করার ঘোষণাও দিয়েছেন জেমস ক্যামেরন।

আভাটার নিয়ে ফরহাদ মজহারের এ লেখাটি কয়েক কিস্তিতে প্রকাশিত হবে।—বি. স.]

———————————————————————————
কিস্তি ১
———————————————————————————

জেমস ক্যামেরনের টাইটানিক ছবিটি বাজারে এসেছিল ১৯৯৭ সালে। তখন দেখা হয় নি। ছবিটি আমি দেখেছি অনেক পরে। যখন দেখেছি তখন জেমস ক্যামেরন আভাটার ছবিটি বানাচ্ছিলেন বলে শুনেছি। তখনেই ভেবে রাখি আভাটার দেখব। আভাটার সিনেমা দেখার ইচ্ছা টাইটানিক ছবিটি দেখার পর পরই জেগেছিল নিছক আমোদের জন্য নয়। আরো নানান উদ্দেশ্য চরিতার্থ

avatar_main.jpg
আভাটারের দৃশ্য

করার বাসনা ছিল ঐ ‘দেখা’-র আকাঙ্ক্ষার মধ্যে। টাইটানিকে বিনিয়োগ ছিল বিশাল, কিন্তু তারো চেয়ে বেশি বিনিয়োগ ছিল আভাটার-এর পেছনে। সিনেমার একটা অর্থশাস্ত্রীয় বিচার হতেই পারে তাহলে। কিন্তু তার জন্য যে তথ্য-উপাত্ত দরকার তার হদিস পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশের গ্রামে গেলেই দেখি চৈত্রের হাহাকারে মাঠ পুড়ে যাচ্ছে, খাবার পানির অভাবে কারবালা হয়ে যাচ্ছে চতুর্দিক। তার মধ্যে মাটির তলার পানি তুলে উফশি ধানের আবাদ হচ্ছে; ওর ফলে আর্সেনিকের বিষে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ওর মধ্যেই চারিদিকে ডিজিটাল বিপ্লবের সুসমাচার! ইনফরমেশান টেকনলজির কথিত তথ্য বিপ্লবের চিৎকার সত্ত্বেও যে তথ্যগুলো আমাদের প্রাণে বেঁচে থাকার জন্য দরকার তারই খোঁজ নাই—যেমন, সার, বিষ ও মাটির তলার পানি না তুলেও ফলন বাড়ানো যায়, আর ফলন বাড়ানোর আসলেই এটাই একমাত্র টেকসই পদ্ধতি। কিন্তু বহুজাতিক কম্পানিগুলো সেটা শুনবে না। সার, বিষ ও মাটির তলার পানি তুলে চাষাবাদে লাভ হয় সার, বিষ, ট্রাক্টর, তেল ও হাইব্রিড ও জিএমও বীজ কম্পানির। কৃষকের নয়। দখল হয়ে যাচ্ছে প্রাণ ও পরিবেশ রক্ষার শর্ত। (সম্পূর্ণ…)

গুরু ও চণ্ডাল

মাহবুব মোর্শেদ | ২ এপ্রিল ২০১০ ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

transporter-lake.jpg
“ট্রান্সপোর্টে, লেকের ধারে, কালুর দোকানে ক্লাশের সময়টা অপব্যয় করতাম। কিন্তু সেলিম আল দীনের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে আমরা একটা একটা প্যারালাল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করছিলাম।”

উপক্রমণিকা
কথিত আছে, মহৎ প্রতিভা আত্মজীবন চর্চা করে না। আত্মজীবনের সঙ্গে জড়িত পরজীবনের কথা তাইলে কেমনে বলা সম্ভব? স্মৃতি তো অবিনশ্বর নয় যে যখন নিজের মহৎ প্রতিভা বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হইবে তখন তিনি যথাবিধি সামনে আইসা দাঁড়াইবেন। ফলে, যৌবনেই স্মৃতির ভিতর সমাহিত হইলাম। সেই অর্থে এটা যতটা না সেলিম আল দীনের ততোধিক আমার নিজের….

এই লেখাখানির ছোট একটা হিস্ট্রি আছে। হিস্ট্রি মোটামুটি এক বছরের। ব্লগ-ফেসবুকের মতো মিডিয়া থাকতে এত ছোট একটা লেখার একবছরের ইতিহাস থাকা একটু অস্বাভাবিক। হিস্ট্রি তৈরি হওয়ার পিছনে গল্পকার, উপন্যাসিক, সম্পাদক মশিউল আলমের কিছু ভূমিকা আছে। স্বপ্নাদিষ্ট হয়া এই লেখা তৈরি করার পর লেখাটা কই ছাপা যায় এই নিয়া আমি ভাবতেছিলাম। যখনকার কথা তখন মশিউল আলম আমার কলিগ আছিলেন। তখন উনি মীজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন, এখনও করেন। অবশ্য পরিহাস কইরা আমি কইতাম, মীজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক আর ত্রৈমাসিক নাই, মশিউল আলমের ষান্মাসিকে পরিণত হইছে।

মশিউল আলমকে কথাপ্রসঙ্গে লেখাটার কথা জানাইছিলাম। উনি ওই কুক্ষণেই ত্রৈমাসিকের জন্য লেখাটা চাইলেন। আমার কী মনে হইলো, লেখাটা ওনার হাতে দিলাম। কথা আছিল, ওনার পত্রিকা বাইর হবে জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর-নভেম্বরে কি ডিসেম্বরেই। শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্য ধইরা ফেব্রুয়ারি পার করলাম। শেষে ভাবলাম, যা হওয়ার হইছে, মশি ভাইয়ের কাছে লেখা ফিরত চাই। ফিরত চাইলাম, উনি ফিরত দিয়া বাঁচলেন। শুধু যে পকেটে টেকা নাই বইলা মশি ভাই আমার লেখাটা ছাপতে পারেন নাই বা ওনার অন্য পরিকল্পনার জন্য আমার লেখা উনি অদূর ভবিষ্যতে ছাপতে পারবেন না বইলা সাব্যস্ত করছেন, তা না। উনি লেখাটায় কিছু বিব্রতও হইছেন বইলা মনে হইছিল। উনি কইতেছিলেন একদিন, লেখাটা ছাপার আগে একটা নোট দিতে হবে। মশি ভাই ভাবতেছিলেন, নোটে লেখবেন, ‘জানি না মীজানুর রহমান, এই ভাষায় এই লেখা পেয়ে কী করতেন…’। আমি ভাবতেছিলাম, কী করতেন আসলে? এখন বুঝতেছি, মীজানুর রহমান যা করতেন মশিউল আলমও তাই করলেন। মীজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক দীর্ঘজীবী হউক।

বলাবাহুল্য, লেখাটা পাক্কা এক বছর আগের। কী লিখছি, কী ভুল আছে আর ফিরে দেখি নাই। কেউ যদি পইড়া কোনো তথ্যে ভুল ধইরা দেন তাইলে ভাল। স্মৃতি চঞ্চলা। অতএব ভ্রান্তি মার্জনীয়।

১.
সেলিম আল দীনের সঙ্গে আমার শেষ দেখা হইছিল উনি মারা যাওয়ার বছরখানেক আগে। ওনার সঙ্গে যোগাযোগ, দেখাসাক্ষাৎ কমতে কমতে শেষদিকে এমন এক জায়গায় এসে ঠেকছিল যে দেখা হওয়ার জন্য একটা উপলক্ষ দরকার হয়া পড়ছিল। উপলক্ষ হিসাবে মহুয়া উৎসব যুৎসই আয়োজন। আমি তখন দৈনিক যায়যায়দিনে কাজ করি। আমার মোবাইল ফোনে ওনার ফোন নাম্বার ‘সেলিম স্যার’ নামে সেভ করা আছিল। কিন্তু সেইটা কোনো কামে আসত না। কারণ উনি বা আমি কেউই কাউরে ফোন দিবার প্রয়োজন অনুভব অনেক দিন থিকাই করি না। পথ যখন দুই দিকে বেঁকে যায় তখন প্রত্যহ প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিকেও পথের কোনো বাঁকে আর পাওয়া যায় না। লোকমুখে শুনতেছিলাম এইবার স্যার ঘটা করে মহুয়া উৎসব পালন করার উদ্যোগ নিছেন। খবর পাওয়ার পর আর দেরি হইল না। এক দুপুরে ওনার ফোন আসল। স্যার কইলেন, ‘এবার বড় আকারে মহুয়া ফোটার উৎসব হবে। তুই চলে আয়।’ দিন-তারিখ ও উৎসবে উপস্থিতি হওয়ার সময় উল্লেখ করে স্যার যাইতে নির্দেশ দিলেন। আমি নানা গাঁইগুই করার চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হইল না। বুঝলাম, স্যারের কাছ থেকে দূরে গিয়া আমরা একটু বড় হওয়ার ভান করতেছি বটে, কিন্তু উনি এখনও বড়ই আছেন। ওনার নির্দেশ অমান্য করা আমাদের পক্ষে দূরত্ব ও ব্যস্ততা সত্ত্বেও অসম্ভব এখনো হয়া উঠে নাই।
—————————————————————–
মোহাম্মদ রফিকের কবিতা খুব খেয়াল করে পড়তেন। আর অযথা প্রশংসা করতেন। মহাকাব্যিক, অসাধারণ এইগুলা ছিল তার প্রশংসার সাধারণ ভাষা। কারো নিন্দা করলে চোদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে ফেলতেন। স্যারের লেখালেখির ইতিহাসটা বড়ই মজার। উনি প্রথম যৌবনে কবি হইতে চাইছিলেন। কবিতার বইও বাইর করছিলেন। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সময়ের স্বরটা উনি ধরতে পারেন নাই। একভাবে ব্যর্থ হয়ে নাটকে হাত মশকো করেছিলেন রফিক আজাদ ও ফরহাদ মজহারের পরামর্শে। রফিক আজাদকে তিনি বাবা ডাকতেন। দেখা হলেই পা ছুঁয়ে সালাম করতেন।
—————————————————————-
উৎসবের দিন সকালবেলা স্যার ফোন দিয়া তাড়া দিলেন। জিগাইলেন কখন রওনা দিব। কইলাম, অফিস শেষ হইলেই রওনা দিব। স্যার বললেন, দুপুরের আগে আসতে হবে। আমি অনেক কষ্ট করে বিকাল চারটায় রওনা হওয়ার পক্ষে স্যারকে রাজি করাইতে পারলাম। হিসাব মতো আমার সাড়ে পাঁচটার মধ্যে অকুস্থলে পৌঁছানোর কথা। দেখলাম স্যার ঠিক সাড়ে পাঁচটায় আবার ফোন দিছেন। দিয়াই কইলেন, ‘তুই কোথায়?’ আমি বললাম, ‘আপনার সামনে। স্যার, আমি আপনারে দেখতেছি। আপনি দেখতে পাইতেছেন না।’

আমি রিকশাগুলার আড়ালে আছি। আমার হাতে সিগারেট। আধখাওয়া সিগারেটের ভাগ্যে খারাবি লেখা আছিল। স্যার দেখলাম, আমার বক্তব্যের সত্যাসত্য নিরূপণের জন্য রিকশাগুলার দিকে উঁকি দিতেছেন। তাই আধখাওয়া সিগারেট ফেলায়া দিয়া আমি আগায়া গিয়া স্যারের সান্নিধ্যে উপস্থিত হইলাম। স্যার তখন গাছের নিচে মঞ্চ স্থাপনের কাজ তদারক করতেছিলেন। ঐতিহ্য অনুসারে মহুয়া গাছে কাপড় বেঁধে গাছের নিচে মঞ্চ করে গান আলোচনা কবিতা বক্তৃতা হয়। গাছে কিছু লাইটিংয়ের ব্যবস্থা হয়। সন্ধ্যা ঘনাইলে এই মঞ্চ দূর বা কাছ দুই অবস্থান থিকাই মোহনীয় হয়।

১৯৯৯ কী ’৯৮ কী ’৯৭ সালের এক বৃষ্টির দিনে এই মহুয়া গাছের পাশ দিয়া স্যার আর আমি যাইতেছিলাম। তখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হইতেছিল। বৃষ্টি হইলেই স্যারের মধ্যে ‘ময়ূরযান’ নামে এক নাটক লেখার আইডিয়া চাগান দিয়া উঠত। ‘ময়ূরযান’ হইল স্যারের অলিখিত এক নাটক। বছর বছর বৃষ্টি হইলেই উনি ‘ময়ূরযানে’র কথা ভাবতেন, বলতেন। সেদিনও উনি কেমনে ‘ময়ূরযান’ লিখবেন, লিখতে হইলে তাকে কী কী করতে হবে সেই কথাগুলা বলতেছিলেন। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com