সংযোজন

স্বাধীনতার ঘোষণা: বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাৎকার

প্রদীপ চৌধুরী | ২৮ মার্চ ২০১০ ৭:৪৭ অপরাহ্ন

[মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদান ছিল অপরিসীম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্থপতি বেলাল মোহাম্মদের এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ২১ মে মার্চ ২০১০ তারিখে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার প্রদীপ চৌধুরী। এর লিখিত অংশে কিছু সম্পাদনা করা হয়েছে। তিনটি পর্বে সাক্ষাৎকারটি পরিবেশিত হবে। বি. স.]

ভিডিও ১

ভিডিও ২

ভিডিও ৩

১.
প্রদীপ চৌধুরী: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কীভাবে স্থাপন করলেন এবং বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা কীভাবে জাতির কাছে পৌঁছে দিলেন সেটা একটু আমাদের বলবেন।

বেলাল মোহাম্মদ: মুক্তিযুদ্ধের সূচনা লগ্নে ২৬ শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন দখলদার বাহিনী আগের রাতে অর্থাৎ ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে হঠাৎ করে নিরস্ত্র জনতাকে আক্রমণ করে। ঢাকায় বিশেষ বিশেষ কি-পয়েন্ট স্টেশনগুলো দখল করে নেয়। তার মধ্যে রেডিও স্টেশনও ছিল। রেডিওতে গিয়ে তারা বিভিন্ন প্রচার শুরু করে। (সম্পূর্ণ…)

ইতিহাসের দায় ও সাহিত্যের অভিপ্রায়

মফিদুল হক | ২৭ মার্চ ২০১০ ৫:০০ অপরাহ্ন

carrying-woman.jpg

old-sikh.jpg
ওপরে দুই শরণার্থী মুসলমান ডোলিতে টেনে চলেছেন এক বৃদ্ধাকে, পাকিস্তানের পথে; নিচে বৃদ্ধ শিখ স্ত্রীকে কাঁধে করে চলেছেন প্রত্যাশিত ভূমির আশায়। সাল ১৯৪৭, ছবি. Margaret Bourke-White

ইতিহাসের পথপরিক্রমণ কখনোই সরলরৈখিক নয়, এই চলার পথে রয়েছে নানা চড়াই-উৎরাই, পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর এই যাত্রা। মুক্তির জন্য মানুষকে মূল্য দিতে হয়েছে অনেক, আবার মুক্তির অলীক স্বপ্নও মানুষের কাছ থেকে আদায় করে নিয়েছে চড়া মূল্য। এমনি এক মুক্তির প্রহেলিকা উপমহাদেশের মানস আচ্ছন্ন করেছিল ১৯৪৭ সালে, ভারতে বৃটিশ শাসনের অবসানের ঐতিহাসিক ক্ষণ স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের কাল হলেও অবিশ্বাস্য রক্তপাত ও ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর রাতারাতি দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ার ফলে ব্যাপক-সংখ্যক মানুষের কাছে তা আর স্বাধীনতা হিসেবে প্রতিভাত হয় নি, হয়ে আছে পার্টিশন বা দেশভাগ। যে সংঘাত রোধের জন্য ঘটেছিল দেশভাগ, পার্টিশনের পর সেই সংঘাত হিংসার লোলুপ জিহ্বা মেলে গ্রাস করতে চাইলো অযুত মানুষের জীবন। পাঞ্জাবে, সদ্যটানা সীমান্তরেখার এপারে-ওপারে বয়ে গেল রক্তস্রোত, শুরু হলো উদ্বাস্তু মানুষের অন্তহীন কাফেলা, টলে উঠলো লাখো মানুষের সাজানো সংসার। শেষ পর্যন্ত জনবিনিময় নামক অবিশ্বাস্য এক চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিয়ে হিন্দু ও মুসলমানকে সীমান্তরেখা অনুসরণ করে স্থায়ীভাবে আলাদা করবার নীতি গ্রহণ করলো উভয় দেশ। ভাবা হয়েছিল এভাবেই বুঝি আসবে শান্তি, কিন্তু দুই সম্প্রদায়কে যথাসম্ভব পৃথক করবার ফলে সম্প্রদায়গত অবিশ্বাস ও বিদ্বেষ পেল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এবং সাম্প্রদায়িক সংঘাত গেঁড়ে বসলো দৃঢ় আসন। বাংলায় দাঙ্গার লেলিহান শিখা বিস্তার পেয়েছিল ১৯৫০ সালে, বিহারেও তা প্রসারিত হয়েছিল এবং উদ্বাস্তু ঢল নেমেছিল উভয় দিক থেকে। এই বাস্তবতা জোরদার করেছিল সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। অন্যদিকে মুসলমানের স্বঘোষিত আবাসভূমি পাকিস্তান ধর্মের নামে শুরু করে জাতীয় পীড়ন, বাঙালির জাতিসত্তা ও পরিচয় মুছে দিতে চলে জবরদস্তিতার রাষ্ট্র-প্রতিষ্ঠার আয়োজন। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় এসে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সদম্ভে বলেছিলেন যে, উর্দু, একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। হাজার মাইল ব্যবধানের দুই অংশ মিলে যে রাষ্ট্র, সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান হলেও এই মুসলমানদের মধ্যে ছিল স্বাভাবিক বৈচিত্র, পাকিস্তানের মুসলমান নানা ভাষা ও জাতিসত্তার মানুষ, ধর্মের নামে তো জাতি-বাস্তবতা ভুলে থাকা কিংবা মুছে দেওয়ার কোনো জো ছিল না। কিন্তু পাকিস্তান জাতিসমূহের সমন্বিত রাষ্ট্র হওয়ার বদলে পা বাড়ালো জাতীয় অধিকার পদদলনের দিকে। ফলে শুরু থেকেই পাকিস্তান হয়ে উঠলো পীড়নমূলক রাষ্ট্র, এবং ’৪৭ সালে স্বাধীনতা আর স্বাধীনতা হয়ে থাকে নি। (সম্পূর্ণ…)

২৫ শে মার্চ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা

রফিকুল ইসলাম | ২৫ মার্চ ২০১০ ১১:২০ অপরাহ্ন

একাত্তরের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনের দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় ইকবাল হল তথা জহুরুল হক হল থেকে।

potaka.jpg
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলিত প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। ’৭১-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি জয়বাংলা বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার দিয়েছিল এই পতাকা দিয়ে।
charukola-1971.jpg
চারু ও কারুকলার শিল্পীদের স্বাধীনতার দাবিতে শোভাযাত্রা

বস্তুত ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের সময় থেকে ওই ছাত্রাবাসটি ছিল স্বাধিকার তথা স্বাধীনতা সংগ্রামের সদর দপ্তর বিশেষ। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনের ঐতিহাসিক গণরায়কে নস্যাৎ করার জন্য একাত্তর সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান বেতার ঘোষণার মাধ্যমে ৩ মার্চ ঢাকায় আহূত জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় বঙ্গবন

বইমেলা ২০১০

প্রকাশিত বই থেকে ২ পৃষ্ঠা

| ২৪ মার্চ ২০১০ ১১:১২ পূর্বাহ্ন

নক্ষত্র, শাপলা, স্পার্টাকাস ও ভাসানযাত্রার গল্প / অদিতি ফাল্গুনী

হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত গল্প ও প্যারাবল / সম্পাদনা ও সংকলন রাজু আলাউদ্দিন

ajgubi_cov.jpgআজগুবী রাত / সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

আত্মকথা: স্মৃতি-বিস্মৃতির বাংলাদেশ / আকবর কবির

ভাষা শিক্ষা ও ভাষাবিজ্ঞান পরিচিতি / হুমায়ুন আজাদ

শুভ্র গেছে বনে / হুমায়ূন আহমেদ

ফেস বাই ফেস / মাহবুব মোর্শেদ

(সম্পূর্ণ…)

শ্রদ্ধাঞ্জলি

অগ্রযাত্রিক কথাশিল্পী আবু রুশ্‌দের স্মৃতি

আবদুল মান্নান সৈয়দ | ১৯ মার্চ ২০১০ ২:১৭ অপরাহ্ন

[কথাসাহিত্যিক আবু রুশ্‌দ্‌ ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখে গত হয়েছেন। ৯১ বছর বেঁচেছিলেন তিনি। তাঁর স্মরণে আর্টস-এর পাতায় আবদুল মান্নান সৈয়দের এই স্মৃতিকথাটুকু ছাপা হলো। ক্রমে তাঁর আত্মজীবনীর নির্বাচিত অংশ ও কয়েকটি গল্প মুদ্রিত হবে। – বি. স.]

আমাদের প্রথম-আধুনিক কথাশিল্পীদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে, আলাপ-আলোচনা হয়েছেও কারো কারো সঙ্গে, কারো কারো স্নেহও অর্জন করেছি আমি। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, শওকত ওসমান, আবু রুশ্‌দ্‌, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, শাহেদ আলী, আবু ইসহাক, মির্জা আ. মু. আবদুল হাই এ-রকম কয়েকজনকে বলতে পারি আমাদের আধুনিকতার অগ্রযাত্রিক। এই তালিকার প্রথম তিনজনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই।
abu-rushed.jpg………
আবু রুশ্‌দ্‌ (২৫/১২/১৯১৯ – ২৪/২/২০১০)
………
আধুনিক বাঙালি-মুসলমান কথাশিল্পীদের দুজনের আমি সরাসরি ছাত্র—শওকত ওসমান আর আবু রুশ্‌দ্‌ সেই দুজন। ঢাকা কলেজে, আজ থেকে বছর পঞ্চাশ আগে, আমি ওঁদের ছাত্র ছিলাম। শওকত ওসমান ছিলেন বাংলার অধ্যাপক, আর আবু রুশ্‌দ্‌ ইংরেজির। ওঁরা পরস্পরের বন্ধুও ছিলেন—সেই কলকাতা থেকে। এঁদের মধ্যে  শওকত ওসমানের সঙ্গে ছিল আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠতা। আবু রুশ্‌দের সঙ্গে অমন ছিল না।
—————————————————————–
একবার বাংলা একাডেমীতে দেখি তাঁকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, পদ্মাতীরবর্তী মানুষেরা তো অধিকাংশই মুসলমান, মানিকের পদ্মানদীর মাঝি-তে মুসলমানদের সংখ্যা এত কম কেন? অবাকই হয়েছিলাম তাঁর প্রশ্নের ধরনে। তখনই বুঝেছিলাম তিনি স্বাধীন চিন্তক।… সাহিত্যজগতে আবু রুশ্‌দ্‌ কোনোদিনই উপেক্ষিত ছিলেন না, আবার খুব দাপটেও বিরাজ করেন নি। বরাবর একটি নৈর্ব্যক্তিক দূরত্বে অবস্থান করেছেন। গত বছর ২৫শে ডিসেম্বর তিনি ৯০-বছরে পড়েছিলেন। এ বিষয়ে দেশের সুধী সমাজ নীরব ছিলেন। এর মুখ্য কারণ, কোনো সাহিত্যিক রাজনৈতিক তাঁবুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল না।
—————————————————————-
ঢাকা কলেজে ছাত্র ছিলাম তাঁর। সুদর্শন, সুসজ্জিত, সুবাক্—এমন দেখেছি তাঁকে। ক্লাসে এসে খানিক পড়িয়ে বলতেন, ‘Jot down’—আমরা খাতা খুলে লিখতাম বা লেখার ভান করতাম। আমি যে তাঁর ছাত্র ছিলাম, তা তিনি সম্ভবত জানতেন না। যখন পাবলিস সার্ভিস কমিশনে আমি সরকারি কলেজের শিক্ষক হিশেবে ইন্টারভিউ দিতে গেছি—‘এক্সপার্ট’ হিশেবে এসেছিলেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ রেখেছিলেন আমাকে। বঙ্কিমচন্দ্রের সেরা উপন্যাস কোনটি আমার বিবেচনায়, জিজ্ঞেস করেছিলেন। তাঁর সমসাময়িক কবিদের বিশেষতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমার প্রথম পোস্টিং হয়েছিল সিলেট এম. সি. কলেজে। প্রবল অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেতে হয়েছিল ঢাকার বাইরে। সেই আমার প্রথমবার মুক্তযাত্রা। এবং প্রথমবার নিজের মতো বসবাস বৃথা যায় নি। আমার তখন পঁচিশ বছর বয়েস। সে-বছরই আমার প্রথম গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয় সত্যের মতো বদমাশ। সরকারি অনুমোদন নিতে হয়েছিল। এবং অনুমোদনপত্র স্বাক্ষর করেছিলেন স্বয়ং আবু রুশ্‌দ মতিনউদ্দীন। পরের বছর বইটি বাজেয়াপ্ত হয়। কিন্তু, খানিকটা আশ্চর্যই লাগে ভাবতে, আমাকে কোনো কৈফিয়ৎ দিতে হয় নি বা তলবও করা হয় নি। এরকম কিছু যে হতে পারে, সে-বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞান ছিলাম—এখন মনে হয়। সত্যি কথা বলতে কী, আমার লেখার সঙ্গে আমার চাকরির কখনো টক্কর লাগে নি। ধাক্কা আমার চলেছে সবসময় নিজের সঙ্গে। একবার বাংলা একাডেমীতে দেখি তাঁকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, পদ্মাতীরবর্তী মানুষেরা তো অধিকাংশই মুসলমান, মানিকের পদ্মানদীর মাঝি-তে মুসলমানদের সংখ্যা এত কম কেন? অবাকই হয়েছিলাম তাঁর প্রশ্নের ধরনে। তখনই বুঝেছিলাম তিনি স্বাধীন চিন্তক। (সম্পূর্ণ…)

হারুকি মুরাকামির গল্প

উড়োজাহাজ

দিলওয়ার হাসান | ১২ মার্চ ২০১০ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির জন্ম কিয়োতো শহরে ১৯৪৯ সালের ১২ জানুয়ারি। ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে টোকিওতে একটি জাজবার খোলেন। বেসবল খেলা দেখার সময় আকস্মিকভাবেই উপন্যাস লেখার পরিকল্পনা তার মাথায় আসে। প্রথম সেই উপন্যাসটির নাম হিয়ার দ্য উইন্ড সিংস। নোমো সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করে বইটি। এরপরে নরওয়েজিয়ান উড লিখে জাপানসহ সারা বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দেন। কাফকা অন দ্য শোওর-এর জন্য পান কাফকা পুরষ্কার।

মুরাকামির উল্লেখ্যযোগ্য অন্য বইগুলো হচ্ছে: দ্য উইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকল, আন্ডারগ্রাউন্ড, স্পুটনিক সুইট হার্ট, আফটার দ্য কোয়েক, ব্লাইন্ড উইলো স্লিপিং উইমেন, আফটার ডার্ক, এলিফ্যান্ট ভ্যানিশেস।

hmurakami.jpg
হারুকি মুরাকামি

অনুবাদ: দিলওয়ার হাসান

সেই বিকেলে মেয়েটি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “যে ভাবে তুমি নিজের সঙ্গে কথা বলো, তা কি পুরনো অভ্যাস?” টেবিলের ওপর থেকে চোখ তুলে সে এমনভাবে প্রশ্নটা করল যেন ওই ভাবনা তাকে এই মাত্র আঘাত করেছে। বলাই বাহুল্য আসলে তা করেনি।

রান্নাঘরের টেবিলে মুখোমুখি বসেছিল দুজন। পাশের রেলসড়ক দিয়ে কম্পিউটার ট্রেনের যাতায়াতের শব্দ ছাড়া ওই এলাকাটা বেশ নীরব। ট্রেনবিহীন রেলসড়কটা তাদের জন্য এক রহস্যময় নৈঃশব্দ তৈরি করে। কিচেনের পাতলা প্লাস্টিকের মেঝে ছেলেটার পা দুটোকে শীতল পরশ দান করে। মোজা খুলে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলে সে। এপ্রিল মাসের বিকেল হলেও আজকের আবহাওয়ায় একটু বেশি গরমের ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। মেয়েটা তার বিবর্ণ চেক সার্টের হাতা কনুই অবধি গুটিয়ে রেখেছে। তার পলকা ফরসা আঙুলগুলো খেলছে কফি চামচের হাতলের সাথে। ছেলেটা তার আঙুলগুলোর দিকে তাকায়, আর তার মনের ক্রিয়া অদ্ভুতরকমের নীরস হয়ে পড়ে।

ছেলেটা কেবল কুড়িতে পড়েছে, মেয়েটা তার চেয়ে সাত বছরের বড়, বিবাহিত ও এক সন্তানের জননী। ছেলেটির জন্য মেয়েটি হচ্ছে চাঁদের দূরের অংশ।

তার স্বামী এমন একটা ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ যারা বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে পারদর্শী। ফলে তাকে মাসের অধিকটা সময় দেশের বাইরের কোনো শহর যেমন লন্ডন, রোম কিংবা সিঙ্গাপুরে থাকতে হয়। অপেরা ওই ভদ্রলোকের খুব প্রিয়। তার শেলভে তাই জায়গা করে আছে ভার্দি, পুসিনি, দোনিজেত্তি বা রিচার্ড স্ট্রাউসের রেকর্ড। যখন ফুরিয়ে যায় কিংবা করবার কিছু থাকে না ছেলেটা রেকর্ডের শেলভের এ পাশ থেকে ও পাশে চোখ বুলায় আর মনে-মনে অ্যালবামগুলোর নাম পড়ে — লা বোহ…মি, টোসকা, টুরানডট, নরমা, ফাইডেলিও… সে কখনো এসব মিউজিক শোনেনি বা শোনার সুযোগ তার হয়নি। তার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতদের কেউই অপেরার ভক্ত নয়। শুধু জানে অপেরা-সঙ্গীতের অস্তিত্ব এই পৃথিবীতে আছে, কিছু লোক তা শোনে; তবে মেয়েটির স্বামীর এই রেকর্ডগুলো দেখে সে ওই জগৎ সম্পর্কে প্রথম জ্ঞান লাভ করেছে।

মেয়েটিও অবশ্য অপেরার ভক্ত নয়। “তবে ওগুলো আমি ঘেন্না টেন্না করি না। ওগুলোর একটাই দোষ, বড় দীর্ঘ।” বলে সে। (সম্পূর্ণ…)

সন্টু-কাবেরির মধুচন্দ্রিমা ও বাঘের দুধ

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ৭ মার্চ ২০১০ ২:৩৯ অপরাহ্ন

cox-b.jpg
১৯৭৪-এর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

বন্ধুকৃত্য করতে বসেছি। বেশ বিলম্বে যদিও। একসময়ের ঘনিষ্ঠজন সন্টুভাই ইহলীলা সম্বরণ করেছেন বেশ কিছুদিন হল। জানতে পারলাম অনেক পরে। রুবি ও আমি এক ছুটির দুপুরে অসুস্থ বুলুভাইকে দেখতে ওদের বাসায় গিয়েছিলাম।

মাসখানেক আগে হঠাৎ একদিন বুলুভাই ফোন করেছিলেন সন্ধেবেলা। রুবি, আমি কথা বললাম। বললাম, শীগগির-ই যাব একদিন বাসায়।

আজ যাই, কাল যাব করতে করতে অবশেষে যেদিন সকাল সাড়ে দশটায় বাড়ি থেকে দু’জনে বুলুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম, সেদিন আমাদের বাড়ির সামনে লেকের ওপর বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা থেকে সাত মসজিদ সড়কে ঢুকে ডানে যেতে পারলাম না। কেন? আর কেন, সেই সর্বব্যাপী যানজট এখন তথাকথিত আবাসিক এলাকার দৈনন্দিন ঘটনা। বুলুর জন্য মেমারি’র সামোসা, প্যাটি, চকোলেট প্যাস্ট্রি নেবার ইচেছ ছিল।

যানের দঙ্গল আমাদের বাঁয়ে ঘুরিয়ে দু’নম্বর সড়ক দিয়ে মিরপুর প্রধান সড়কে নিয়ে ফেলল। বাঁয়ে থেমে মন্দের ভালো কিছুমিছু নিয়ে ধীরে সুস্থে বুলুর বাড়ির দরজায় যখন গাড়ি পার্ক করলাম, তখন প্রায় সাড়ে বারোটা বাজে। আমাদের ভাগ্য ভাল। লিফট চালু হল, আমাদের পৌঁছেও দিল যথাস্থানে। বাসায় ঢুকে দেখি, সোনালি দাড়িওয়ালা এক যুবক তার সোনালিচুলো শিশুকে যত্ন করে খাইয়ে দিচেছ। লম্বাটে ফ্যামিলি হলঘরের আরেক প্রান্তে বুলু, রিনাভাবি, ওদের মেয়ে প্রবাসী গুটিসুটি মেরে গল্প-গুজব করছিল মনে হল। বুলুকে ওর এইড ধরে ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে এল। বেতের বড় সোফার এক প্রান্তে বসে ডাকলেন, এস ওয়ালি, বোস এখানে। কী মনে করে যেন আমিও আলাদা আসনে না বসে ওর পাশেই বসলাম। রিনা ভাবি এসে রুবির পাশে বসলেন। প্রবাসী ঘরের ওপ্রান্ত থেকে হাঁক দিল, ওয়ালি আঙ্কল, আমি নাইটি বদলে একটা কিছু পরে আসছি। নো প্রবজ, প্রবাসী, তোমার আট খুন মাপ করাই রয়েছে। প্রবাসী হেসে ওঠে ওর সাহেব বরকে তর্জমা করে শোনাতে লাগল।

রিনাভাবির ভাইবোনদের কথা জিজ্ঞেস করতে উনি চুপ রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর জলেভাসা চোখ মুছে বললেন, আপনার বন্ধু সন্টু প্রায় বছর খানেক আগে চলে গেছে। হার্টফেইল্যর। নো ওয়ার্নিং। সকালে উঠতেই বুকে ব্যথা। দশ মিনিটে শেষ। ইউনাইটেড হাসপাতাল তো ওদের বাড়ির সঙ্গেই। ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স এল ওর লাশ নিতে।

আমি হতভম্ব। সন্টু ভাবির পিঠোপিঠি বড়ভাই। আমি ওর নাম ধরেই ডাকতাম। বুলু তখন চিটাগাং জিপিও-তে সিনিয়র পোস্ট মাস্টার হিসাবে কর্মরত। কুমিল্লা থেকে বেড়াতে গিয়ে বুলুর বাড়িতে উঠেছিলাম। ১৯৭৪। সন্টুর সঙ্গে ওখানেই প্রথম আলাপ ও ঘনিষ্ঠতা। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com