অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০

প্রকাশিত বইয়ের দৈনিক তালিকা

| ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৪:০২ পূর্বাহ্ন

[আর্টস-এর পাতায় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০’-এ বের হওয়া বইপত্রের তালিকা নিয়মিত প্রকাশিত হবে। তালিকাটি সরবরাহ করছে বাংলা একাডেমীর ‘সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ’। উল্লেখ্য ১ ফেব্রুয়ারির কোনো তালিকা পাওয়া যায় নি। লিটল ম্যাগাজিনগুলির তরফে প্রকাশিত কিছু পত্রপত্রিকা এই তালিকার বাইরে থেকে যেতে পারে। তালিকার বাইরে থেকে যাওয়া বই ও পত্রপত্রিকা বইমেলায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর স্টলে জমা দিলে আমরা বাদ পড়া বইয়ের তালিকায় সে বই সংযুক্ত করব। ‘গ্রন্থমেলা ২০১০-এ প্রকাশিত বই’ বলতে গত বইমেলার পরে প্রকাশিত সব বই বোঝানো হয়েছে। – বি. স.]

ekushe2.jpg

২৫ ফেব্রুয়ারি । ● ২৬ ফেব্রুয়ারি

২২ ফেব্রুয়ারি । ● ২৩ ফেব্রুয়ারি । ● ২৪ ফেব্রুয়ারি

১৯ ফেব্রুয়ারি । ● ২০ ফেব্রুয়ারি । ● ২১ ফেব্রুয়ারি

১৬ ফেব্রুয়ারি । ● ১৭ ফেব্রুয়ারি । ● ১৮ ফেব্রুয়ারি

১৩ ফেব্রুয়ারি । ● ১৪ ফেব্রুয়ারি । ● ১৫ ফেব্রুয়ারি

১০ ফেব্রুয়ারি । ● ১১ ফেব্রুয়ারি । ● ১২ ফেব্রুয়ারি

৭ ফেব্রুয়ারি । ● ৮ ফেব্রুয়ারি । ● ৯ ফেব্রুয়ারি

৪ ফেব্রুয়ারি । ● ৫ ফেব্রুয়ারি । ● ৬ ফেব্রুয়ারি

২ ফেব্রুয়ারি । ● ৩ ফেব্রুয়ারি
(সম্পূর্ণ…)

বিতর্ক

লেখার ভাষা :: মুখের ভাষা

| ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৯:৪০ পূর্বাহ্ন

অনলাইন বৈঠকে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন। শুধু বাংলা ভাষায় লেখা প্রতিক্রিয়াই গ্রহণ করা হবে। যারা ইউনিকোডে অভ্যস্ত নন তারা মন্তব্যের ফাঁকা ঘর-এ বিজয় পদ্ধতিতে লিখে পেস্ট করবেন। অথবা arts@bdnews24.com-এ ই-মেইলের মারফতে লেখা পাঠাবেন। কাগজে লিখে স্ক্যান করে লেখা পাঠানো যাবে।

এখানে মন্তব্যগুলি নিচ থেকে উপরের দিকে সাজানো হয়েছে। অর্থাৎ নতুন প্রতিক্রিয়া উপরে থাকবে।
kamol-copy.jpg
ছবি. কমলকুমার মজুমদার

‍‍অনলাইন বৈঠক ১ শুরু হয়েছে ২৬/১০/২০০৭ তারিখে। এর বিষয়:

লেখার ভাষা বা সাহিত্যের ভাষায় মুখের ভাষা বা কথ্য ভাষার মিশ্রণ রচনার শিল্পগুণ নষ্ট করে।

এ পর্যন্ত লিখেছেন:

১. শোহেইল মতাহির চৌধুরী
২. ফকির ইলিয়াস
৩. সাঈদ জুবেরী
৪. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (১)
৫. অবনি অনার্য
৬. চয়ন খায়রুল হাবিব
৭. আইরিন সুলতানা
৮. আদনান সৈয়দ
৯. আদনান সৈয়দ
১০. তাহমিদাল
১১. জগলুল হায়দার
১২. সারওয়ার রেজা
১৩. ফারিহান মাহমুদ
১৪. সারওয়ার চৌধুরী

●●●

১৪. সারওয়ার চৌধুরী

বেশি না, পঞ্চাশ বছর আগের মুখের ভাষা ও লেখার ভাষায় বিস্তর ব্যবধান পাওয়া যাবে পৃথিবীর যে-কোনো প্রতিষ্ঠিত ভাষায়। শব্দ প্রয়োগে, উচ্চারণে, অন্য ভাষার শব্দের মিশ্রণে বানানো শব্দ, সরাসরি অন্য ভাষার শব্দ ব্যবহার ইত্যাদি কারণে ‘শিক্ষিত’ বা ‘অশিক্ষিত’ মানুষের মুখের ভাষা ও লেখার ভাষায় পরিবর্তনটা আসে।

পঞ্চাশ বছর আগের আরবী ফারসি ইংরেজী উর্দূ হিন্দি মুখের ভাষা ও লেখার ভাষা আর এখনকার মুখের ভাষা ও লেখার ভাষায় রদবদলের ব্যাপারটা চোখে পড়ার মতো। ব্যাকরণের মানটাকে মেনেই এই বদলটা আসছে লেখার ভাষাতে। মুখের ভাষায় ব্যাকরণের আইন সকল সময় না-মানা সত্ত্বেও বোধ-সংবেদ-অনুভূতি বিনিময় হয়ে আসছে। অভিজ্ঞতায় পাইলাম কিছু ভাষার মধ্যে পরস্পর খুব সখ্য; ভারতের কেরালা রাজ্যের ‘মালায়ালাম’ ভাষার সাথে তামিলনাড়ু রাজ্যের ‘তামিল’ ও শ্রীলংকার ‘তামিল’ ভাষার লেখার অক্ষরে পার্থক্য আছে কিন্তু শব্দার্থে যথেষ্ট মিল। মালায়ালীরা তামিল বোঝে, তামিলরা মালায়ালী বোঝে। আবার ওই তামিল ও মালায়ালাম ভাষার সাথে ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ‘কানাড়ি’ ভাষারও মিল আছে। কানাড়িভাষী মালায়ালাম ও তামিল বোঝে। উচ্চারণে হেরফের আছে। ওদিকে সংস্কৃত হ’তে অদলবদল হ’য়ে আগত অনেক শব্দ হিন্দিতে, তামিলে, মালায়ালামে, কানাড়িতে, এবং বাংলাতে আছে। শুধু উচ্চারণে ও লেখায় ব্যবধান বিদ্যমান। ইউরোপেও লাগোয়া দেশগুলোর পরস্পরের ভাষার সাথে মিল আছে। অস্ট্রীয়রা জার্মান ভাষা বোঝে ইত্যাদি।

আবার দেখুন, পঞ্চাশ বছর আগের সিলেটের, চট্টগ্রামের, কুমিল্লার, নোয়াখালি ইত্যাদি জেলা ভিত্তিক আঞ্চলিক ভাষা আর বর্তমানের আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে ব্যবধান পাওয়া যাবে ‘শিক্ষিত’ ‘অশিক্ষিত’ নির্বিশেষে। কেউ বলতে পারেন আগের চাইতে এখন পরিশীল আঞ্চলিক ভাষাগুলো। আর লেখক-কবিরা তো শব্দ তৈরি করতেই আছেন। প্রবাসীদের মুখে মুখে ভাষার ভেতরে নতুন নতুন শব্দ ঢুকে যাচ্ছে। সিলেটে ও চট্টগ্রামে দেখেছি আরব প্রবাসী পরিবারগুলোতে ‘ইয়াল্লা খালাস’ খুব ব্যবহার হয়। এবং তা অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ইয়াল্লা খালাস’ মানে ‘ঠিক আছে, হয়েছে বা থাক’। (সম্পূর্ণ…)

একুশের শহীদেরা অমর অক্ষয় চিরঞ্জীব

বেবী মওদুদ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

bhashani-mujib.jpg……..
১৯৫৪-র ২১ ফেব্রুয়ারি র‌্যালিতে ভাসানী ও মুজিব খালি পায়ে।
……..
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে যারা জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন তারা এই বাংলার অমর সন্তান। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির বুলেটে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আমরা স্মরণ করি, ফুলে ফুলে সাজিয়ে দেই তাদের কবর এবং তাদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার। শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় পবিত্রতায় আমরা এক নতুনতর চেতনায় ও দীপ্ততায় আবার শক্তি অর্জন করি। একুশের শোককে আমরা শক্তি হিসেবে ধারণ করে এসেছি বলে যে কোনও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারি। বাঙালি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল একাত্তরেও পাকিস্তানি সামরিক শাসক গোষ্ঠির দমন নিপীড়ন, বৈষম্য-বঞ্চনার বিরুদ্ধে। বাংলার ছাত্র-জনতা রক্তাক্ত গেরিলা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয় অর্জন করেছিল।

eden-c.jpg…….
ইডেন কলেজের ছাত্রীরা শহীদ মিনার বানাচ্ছেন। কিছু শিক্ষক তাদের নিষেধ করছেন।
…….
বায়ান্ন থেকে শুরু হয়েছিল বাঙালির জাতিসত্তার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রাম। মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাঙালি সেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। পকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি চেয়েছিল একমাত্র উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা। অথচ জনসংখ্যার দিক থেকে বাঙালি ছিল পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই তারা সেদিন এই অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি বরং কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদমুখর হয়েছে। সংগ্রাম-আন্দোলন গড়ে তুলেছে, পুলিশের রাইফেল- লাঠির মার খেয়েছে, বুটের আঘাত সহ্য করেছে, টিয়ার গ্যাসের যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়েছে এবং জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

একুশে নিয়ে আর্টস থেকে কয়েকটি লেখা

| ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১২:৫৯ অপরাহ্ন

১.

মাহবুব উল আলম চৌধুরীর হারিয়ে যাওয়া কবিতা, কবিতার ভ্রান্তি নিরসন ও একটি সাক্ষাৎকার


১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে একুশে উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মাহবুব উল আলম চৌধুরী

● কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি ।। মাহবুব উল আলম চৌধুরী
● সদয় অবগতির জন্য ।। চৌধুরী জহুরুল হক
● কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর সাক্ষাৎকার ।। ইলু ইলিয়াস

২.

একুশে ও বিশ্বমাতৃভাষা দিবস / রবিউল হুসাইন

“…হাজার বছর বিদেশী শাসনের অধীনে থেকে থেকে আমরা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি যে-সময়ে ভুলে যেতে বসেছিলাম, ঠিক সেই সময়ে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে এদেশের মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষের আত্মাহুতি ও আত্মোৎসর্গের ঘটনা আমাদের সর্ব উৎস-মূলে আঘাত হেনে আমাদের নিস্তেজিত চেতনাকে টলমলিয়ে দেয়। সেখানে থেকেই শুরু হয় স্বাধীনতার অঙ্কুরোদ্গম।…”

৩.

আমাদের ভাষা আন্দোলনের গাজীউল হক / আহমাদ মাযহার

>

“…তাঁর সাহসিকতার পরিচয় কেবল ভাষা আন্দোলনের সময়ই দেখা যায় নি। পরবর্তী সকল অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় সংগ্রামে গাজীউল হক অংশ নিয়েছেন। ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৪-র সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠক হিসাবে ও পরে জাতীয় পর্যায়ের লেখক এবং সংগঠকের ভূমিকায় তাঁকে পাওয়া গেছে। তাঁকে পাওয়া গেছে ১৯৮০-র দশক জুড়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে।…”
(সম্পূর্ণ…)

ধম্মপদ, ক’এক টুকরো

গৌতম চৌধুরী | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৩:৪৬ অপরাহ্ন

শল্যশাস্ত্র না জেনে ডাক্তারের ছুরি-কাঁচি নিয়ে খুব একচোট নাচানাচি করলে ব্যাপারটা যা দাঁড়ায়, তেমন একটা বালখিল্যতাই করা গেল ধম্মপদ-এর এই শ্লোকগুলো নিয়ে। হাতে এসেছিল ১৩৬০ বঙ্গাব্দে লেখা আচার্য প্রবোধচন্দ্র সেনের একটি চটি বই ধম্মপদ-পরিচয়। বইটির শেষে প্রবোধচন্দ্র ধম্মপদের প্রায় ৭০টি পদের মূল এবং বাংলা গদ্যানুবাদ উৎকলিত করেছেন। তাঁর সেই গদ্যানুবাদগুলিই ছিল আমার আশ্রয়। সেগুলি অবলম্বন করেই, পালিভাষার ‘প’ না জেনেও হঠকারীর মতো কয়েকটি পদের পদ্যরূপ দিতে প্রলুব্ধ হলাম।

এই আকর্ষণের মূল কারণ হল, এই পদগুলির দার্শনিক কচকচিহীন সওয়াল। কোনও পারলৌকিক মোক্ষের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন এই পদগুলি সরাসরি আবেদন জানিয়েছে ব্যক্তিমানুষের ইহলৌকিক জীবনাচরণের কাছে। ব্যক্তিস্বরূপের বিনির্মাণের সেই আহ্বান এই অস্ত্রশাসিত পৃথিবীতে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক বলে অনায়াসেই রায় দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবু, ব্যক্তিক স্তরে তার প্রয়োগ কষ্টকর হলেও, আজও অবান্তর হয়ে যায়নি বলে মনে হ’ল। এই অনুভবটুকুই আমার এই সামান্য চর্চার প্রাপ্তি।

প্রাত্যহিকের ভাষার স্থূল অবলেপ দিয়ে হয়ত অনেক জায়গাতেই মূলের গাম্ভীর্যকে ব্যাহত করেছি। তবে জ্ঞানত, কোনও বাচনকে বিপরীতগামী করে তোলার স্বাধীনতা নিইনি। – অনুবাদক

gc111.jpg

অনুবাদ: গৌতম চৌধুরী

উৎসর্গ: ব্রাত্য রাইসু, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ, সৌম্য দাশগুপ্ত

১.

বুলি কপচাও বহু সংহিতা ঘেঁটে
ওরে প্রমত্ত, আচরণে স্রেফ ফাঁকি
পাবে না পাবে না পাবে না শ্রমণতা

গরু গোনে যারা পরের গোয়ালে হেঁটে
দুধের সোয়াদ যোগাবে সে-বিদ্যা কি
পাবে না পাবে না পাবে না শ্রমণতা

যমকবগ্‌গো, ১৯।১৯

২.

দমে উদ্যমে
সংযমে অপ্রমাদে
মেধাবী রচেন দ্বীপ
কে তাকে ভাসাবে?
ধায় জল কলনাদে,
অধরা অন্তরীপ!

অপ্পমাদবগ্‌গো, ৫।২৫

৩.

বিদ্বেষকারী
যত ক্ষতি করে
যত ক্ষতি করেবৈরী
মিথ্যায় ভরা
মনটিতে তোর
আরও ক্ষতি আছে তৈরি

চিত্তবগ্‌গো, ১০।৪২

৪.

সুভাষিতের ভাষণ শুধু বাজে
যদি না কেউ ভরিয়ে তোলে কাজে
যেমন রূপ-রঙের ছলাকলায়
সুরভিহীন ফুলটি নিষ্ফলা

পুপ্‌ফবগ্‌গো, ৮।৫১ (সম্পূর্ণ…)

গোলাপের নাম

উম্‌বের্তো একো

জি এইচ হাবীব | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

অনুবাদ: জি এইচ হাবীব

লিংক: কিস্তি ১

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ২
———————————————————————————

কিস্তি ১-এর পরে

castle-ursino.jpg

castel-del-monte.jpg
ওপরে মন্টি-র দুর্গ, নিচে উরসিনোর দুর্গ; কলেবর আর আকারের দিক থেকে অ্যাডিফিসিয়ামটি উরসিনো অথবা ডি মন্টি দুর্গের মতো’

প্রথম দিবস

প্রা ই ম

মঠের পাদদেশে পৌঁছান গেল এবং উইলিয়াম তাঁর অসাধারণ বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতার স্বাক্ষর রাখলেন।

নভেম্বরের শেষ দিকের এক সুন্দর সকাল। রাতে বরফ পড়েছিল, তবে সামান্যই, ঠাণ্ডা একটা চাদরে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল ভূপ্রকৃতি, যদিও তিন আঙ্গুলের চেয়ে বেশি পুরু ছিল না তা। লঅডসের ঠিক পরপরই অন্ধকারে ভেতর উপত্যাকার একটি গাঁয়ে মাস্-এর আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম আমরা। তারপর যাত্রা শুরু করেছিলাম পর্বতের দিকে, ততক্ষণে সূর্য বেরিয়ে পড়েছে।

eco_3.jpg……..
উম্‌বের্তো একো
………
পর্বতগাত্র পাক খাওয়া পথটা বেয়ে যথেষ্ট মেহনত করে উঠে এসে দেখতে পেলাম আমি মঠটাকে। অবাক হয়ে গেলাম, তবে সেটার চারধার ঘিরে থাকা, গোটা খৃষ্টীয় জগতেই যেগুলো দেখা যায় সেগুলোর মতো দেয়াল দেখে নয়, বরং পরে যেটাকে অ্যাডিফিসিয়াম বা বিশাল ভবন বলে জানতে পেরেছিলাম সেটার কলেবর দেখে। ওটা একটা অষ্টকোণাকৃতি অট্টালিকা, দূর থেকে মনে হয় চতুষ্কোণী (যা কিনা একটা নিখুঁত আকার, এবং ঈশ্বর এর নগরের বলিষ্ঠতা ও অভেদ্যতার পরিচায়ক), সেটার দক্ষিণের ধারগুলো অবস্থিত মঠের মালভূমির ওপর, ওদিকে উত্তরের ধারগুলো বেরিয়েছে পর্বতের খাড়া পাশটি থেকে, একবারে খাড়া একটি ঢাল সেটা, সেদিকেই নেমে গেছে ধারগুলো। এমনও বলতে পারি, নিচ থেকে, কিছু কিছু স্থানে খাড়া দুরারোহ পাহাড় যেন স্বর্গ পানে উঠে গেছে, প্রস্তরের একই বর্ণ আর উপাদান রক্ষা করে, যা কখনো কখনো পরিণত হয়েছে দুর্গ আর বুরুজে (এমন সব দৈত্যের কাজ যাদের নিবিড় পরিচয় ছিল মাটি আর আকাশের সঙ্গে)। জানলার তিনটি সারি সেটার চড়াই-এর একের ভেতর তিন ছন্দ ঘোষণা করছে, যাতে করে ভূমিতে চতুষ্কোণ তৈরি করেছে আকাশে তা আধ্যাত্মিকভাবে ত্রিভুজাকার। আরো কাছে গিয়ে আমরা উপলব্ধি করলাম যে চতুষ্কোণী আকৃতিটার প্রতিটি কোণে একটি করে সপ্তকোণী বুরুজ রয়েছে, বাইরে থেকে যার পাঁচটি পাশ দৃশ্যমান – তারমানে, বড় অষ্টকোণীর আটটি পাশে চারটি ছোট ছোট সপ্তভুজাকৃতি তৈরি হয়েছে, বাইরে থেকে যেগুলোকে পঞ্চভুজাকৃতি বলে বোধ হয়, আর তার ফলে যে কারোরই নজরে পড়বে এতোগুলো পবিত্র সংখ্যার এক চমৎকার ঐক্য, যা এক সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক তাৎপর্য প্রকাশ করে। আট, প্রতিটি চতুষ্কোণ ক্ষেত্রের জন্যে নিখুঁত সংখ্যা; চার, সুসমাচারের (গসপেল) সংখ্যা; পাঁচ, পৃথিবীর পাঁচটি মণ্ডলের সংখ্যা; সাত, পবিত্র আত্মার উপহারের সংখ্যা। কলেবর আর আকারের দিক থেকে অ্যাডিফিসিয়ামটি উরসিনো অথবা ডি মন্টি দুর্গের মতো, যে দুটো আমি পরে দেখবো ইতালীয় উপদ্বীপের দক্ষিণে, কিন্তু সেটার অনধিগম্য অবস্থান সেটাকে অন্যগুলোর তুলনায় আরো বেশি ভয়ংকর এবং সেটার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে থাকা কোনো ভ্রমণকারীর চোখে ভীতি উদ্রেককারী করে তুলেছে। আর সৌভাগ্যক্রমে, সেটা যেহেতু ছিল খুবই পরিষ্কার এক শীতের সকাল, ঝোড়ো দিনগুলোতে অট্টালিকাটিকে যেমন দেখায় আমার প্রথম দর্শনে ওটাকে আমি সেভাবে দেখতে পাইনি। (সম্পূর্ণ…)

‘অশ্লীলতা’-বিরোধী প্রপাগান্ডা ও ‘সুস্থ’ চলচ্চিত্রের যুগে ঢাকাই সিনেমা

মোহাম্মদ আজম | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ন

monpura011.jpg
“কিছু ভালো জিনিসের সাথে নিশ্ছিদ্র বিপণন কৌশল আর সুস্থতার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে মনপুরা ভালোই দেখিয়েছে।”

jamelasundari.jpg
ঢাকাই মেইনস্ট্রিম, জমেলা সুন্দরী

এই লেখাটি আল্লার নামে লিখতে চাই। অবশ্য মিশেল ফুকোর নামেও লিখতে পারতাম। সেই ফুকো যিনি একবার টিভি সাক্ষাৎকারে নোম চমস্কি সহ উপস্থিত হয়ে চমস্কির বিপরীত অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন—‘মানব-প্রকৃতি’ বলে কোনো বস্তু আছে কিনা, তা আদৌ তাঁর মাথাব্যথা নয়; বরং ইতিহাসের বিশেষ বিশেষ পর্বে ‘মানব-প্রকৃতি’র ধারণা কীভাবে রূপ পেয়েছে আর মানুষকে চালিত করেছে—তা-ই তাঁর পর্যবেক্ষণের বিষয়। এ রকমের কিছু একটা তিনি বলেছিলেন। কথাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। যুৎসই মনে হয়েছে। আমিও নিয়ত করেছি, অশ্লীলতার কোনো সংজ্ঞায়নে যাব না, বস্তুটা আদতে ভালো না খারাপ, সেসব তালাশ করব না; বরং ঢাকায় শব্দটি কোন পরিস্থিতিতে কী প্রকারে ভদ্রলোকসমাজে এতটা মশহুর হয়ে উঠল, আর তাতে কী ফলটাই বা ফলল, তার ‘মনে হয়’ ধরনের কিছু খোঁজখবর নেব।
—————————————————————–
অনেক বছর ধরে অনুদানের ছবি তৈরি হলেও দেশ-বিদেশের দর্শক বা বোদ্ধামহলে তো এ বাবদ কোনো সাড়া পড়েনি। আমার আন্দাজ, সাড়া না পড়াটাই এ ছবিগুলোর পুরস্কৃত হওয়ার মূল রহস্য। উল্লেখযোগ্য কিছু তৈরি না হওয়ায় সরকারি টাকার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর এ প্রশ্নকে ঠেকানোর জন্যই পুরস্কার যোগ করে ছবিগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে করে অনুদান দেয়া-নেয়া পক্ষগুলো নিজেদের বৈধতা দিতে পারে।… এভাবে বিচিত্রভাবে মেইনস্ট্রিম সিনেমার বিকাশপথ ক্রমেই সংকীর্ণ করে তোলা হচ্ছে।
—————————————————————-
bobita_ashani_sanket.jpg……..
সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত-এ ববিতা। ছবির ফরাসী সংস্করণের পোস্টার।
…….
মুশকিলের কথা এই, ফুকোর পদ্ধতি রীতিমাফিক এস্তেমাল করার বিদ্যা আমার পেটে নাই। তাই আগ্রহ থাকলেও আমার কথাগুলো ফুকোর নামে সাজাতে পারছি না। নিজের কব্জির জোরও সামান্য। কারণ, ঢাকাই সিনেমায় ‘অশ্লীলতা’র প্রবেশ ও বিস্তার আর পত্রপত্রিকা-টেলিভিশন ও সভাসমিতিতে এতদ্বিষয়ে ভদ্রলোকশ্রেণীর প্রতিক্রিয়ার ধরন ‘ইতিহাস’সম্মতভাবে হাজির করার জন্য নিষ্ঠাবান গবেষকের শ্রম দরকার। আমি তা করে উঠতে পারিনি। তাই অগতির গতি আল্লাই ভরসা।


ঢাকাই সিনেমার অশ্লীলতা সম্পর্কে ভদ্রসমাজের প্রপাগান্ডা প্রথম ব্যাপকভাবে আমার—এবং সম্ভবত আরো অনেকের—নজরে আসে একটি প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিকের ‘ছি!নেমা’ শিরোনামের নিয়মিত কলামে। ঐ পত্রিকার রঙ্গম্যাগাজিনে কলামটি ছাপা হত বলে তাতে রঙ্গব্যঙ্গের প্রকোপ ছিল বেশি। কিন্তু পাশাপাশি কোনো ‘সিরিয়াস’ কলামে ঢাকাই সিনেমার হালহকিকত বিশ্লেষিত না হওয়ায় আমরা ধরে নিতে পারি, পত্রিকার নীতিনির্ধারকদের কাছে ব্যাপারটি রঙ্গব্যঙ্গের জন্যই যুৎসই মনে হয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, ঢাকার, এবং সম্ভবত সারা দেশের, ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের মধ্যে এ ব্যাপারে বিরল ঐকমত্য দেখা গেছে। তার প্রমাণ পাই ভদ্রলোকশ্রেণীর সব ধরনের মিডিয়ায় প্রায় সমধর্মী মতামতের প্রতিফলনে। সে আজ প্রায় দেড় দশক আগের কথা। তখন থেকে অনেক দিন ঢাকার পত্রপত্রিকায় ‘অশ্লীল’ ছবি প্রদর্শনের খবর প্রকাশিত হতে থাকে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পক্ষগুলোও তৎপর হয় বা হতে বাধ্য হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ‘অশ্লীল’ ছবি আটক হবার খবর আসে; চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ঢাকাই ছবির অধোগতি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।

সিনেমার অধোগতি তো জাতীয় অধোগতিরই স্মারক। এই অবস্থার দায় ভদ্রলোকেরা নেবে কেন? তারা নেয়ও নি। তাদের মিডিয়ায়, সভা-সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বিপুল হুঙ্কার ধ্বনিত হয়েছে। তাতে একদিকে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সচকিত-সচেতন হয়েছে; অন্যদিকে সামাজিক মূল্যবোধের চাপেই সম্ভবত, বিভিন্ন সরকার সাধ্যমত অশ্লীলতা রোধের জন্য আইনি উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অশ্লীল সিনেমার ব্যাপারিদের উপর চরম আঘাত হেনেছে গেল ‘সিভিকো-মিলিটারি-কর্পোরেট’ সরকার। রীতিমত সামরিক অভিযান চালিয়ে তারা এই দুষ্টক্ষতের মূলোৎপাটন করতে পেরেছে। এ বাবদ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত উল্লাস আমাদেরও—যেহেতু আমরাও রুচিশীল ভদ্রলোক—আনন্দের কারণ হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

হার্টা ম্যুলার-এর গল্প

আমার পরিবার

শিবব্রত বর্মন | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

herta_5.jpg

herta-6.jpg
নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার পর দুটি ছবিতে হার্টা ম্যুলার

ভাষান্তর: শিবব্রত বর্মন

আমার মায়ের গলায় সমস্যা, চিঁচি করে কথা বলেন।

আমার দাদির চোখ ছানি পড়ে অন্ধ হয়ে গেছে। এক চোখে ধূসর ছানি, আরেক চোখে নীলাভ।

আমার দাদার স্ক্রটাল হার্নিয়া।

অন্য এক নারীর গর্ভে আরেকটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন আমার বাবা। সেই অপর নারীকে আমি চিনি না, সন্তানটিরও কোনো খবর জানি না। শুধু জানি, সে বয়সে আমার চেয়ে বড়, আর সে জন্যে লোকে বলাবলি করে, আমার বাবা আসলে অন্য কেউ।

বাবা সেই অন্য সন্তানটিকে বড়দিনের উপহার কিনে দেন আর আমার মাকে বলেন, সেই অপর সন্তানের পিতা আসলে অন্য আরেকজন।

প্রতি নববর্ষে ডাকপিয়ন একশ ‘লেই’-এর নোট ভরা একটা খাম তুলে দেয় আমার হাতে, আর বলে, এটা সান্টা ক্লজের কাছ থেকে এসেছে। তবে আমার মা বলেন, আমার অন্য কোনো বাবা নেই।

লোকে বলে, আমার দাদি আমার দাদাকে বিয়ে করেছিলেন দাদা জমিজায়গার মালিক বলে, আর দাদির আসলে প্রেম ছিল আরেক লোকের সঙ্গে আর সেই অপর লোকটাকে বিয়ে করলেই দাদি ভালো করতেন, কারণ আমার দাদা তার আত্মীয় সম্পর্কের মধ্যেই পড়েন, এতো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় যে, ব্যাপারটা অজাচারের পর্যায়ে পড়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

কিস্তি ৬

ছফামৃত

নূরুল আনোয়ার | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৫:৩৩ অপরাহ্ন

shamim-shikder-sofa.jpg
ছফা, শামীম শিকদারের সঙ্গে

শুরুর কিস্তি

(কিস্তি ৫-এর পর)

সত্তরের দশকে তিয়াত্তরের প্রথমদিকে দৈনিক গণকন্ঠতে যোগদান করে ছফা কাকা তাঁর জীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন। পরে পঁচাত্তর থেকে বিরাশি সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকার সম্পাদকীয় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

10-janu-75-sofa.jpg…….
১৯৭৫-এ আহমদ ছফা (জানুয়ারি ১০), এ সময় তিনি জাসদ করতেন।
…….
পত্রিকাটির জীবনে কম ঝক্কি-ঝামেলা, উত্থান-পতন হয়নি। তারপরেও এটি একটা বড় সময় টিকে থাকতে পেরেছিল। যতদিন পত্রিকাটি বেঁচেছিল ছফা কাকাও এর একটা অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। এ পত্রিকায় তিনি যত লেখা লিখেছেন জীবনে অন্যকোন পত্রিকায় অত লেখা লিখেননি। ছফা কাকাকে যে দ্রোহী এবং প্রতিবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তার সূত্রপাতও অনেকটা এই পত্রিকা থেকে। তখনকার প্রায় লেখার মধ্যে তাঁর একটা প্রতিবাদী ভাব ফুটে ওঠত। এ জন্য তাঁকে সরকারের রোষানলেও পড়তে হয়েছে বারংবার। কবি ফররুখ আহমদ যখন চাকরি হারিয়ে পথে বসেছেন, মরতে বসেছেন তখন ছফা কাকা এই পত্রিকার মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছিলেন, ‘কবি ফররুখ আহমদের কি অপরাধ?’ ছফা কাকার সেই প্রতিবাদ এত তীব্র ছিল যে সরকার তাঁর কথা কানে তুলতে বাধ্য হয়েছিল।
—————————————————————–
শেখ মুজিবের সঙ্গে যখন তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল তিনি তাঁকে ‘স্যার’ সম্বোধন করেছিলেন। শেখ মুজিব নাকি তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ছফা, তুমি আমাকে ভাই বলে ডেকো। ওইদিন ছফা কাকাকে শেখ মুজিবুর রহমান একটি কম্বল উপহার দিয়েছিলেন। কম্বলটি ছিল কমলা রঙের এবং খুব হালকা। মাপলে এক কেজিও হবে না। ছফা কাকা যতদিন বেঁচেছিলেন ওটি জড়িয়ে ঘুমোতেন। এখনও কম্বলটি আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। তিনি একই কাপড়-চোপড় বেশিদিন ব্যবহার করতেন না। কিন্তু কম্বলটি হাতছাড়া হবার ভয়ে শীতের শেষে লন্ড্রি থেকে ধোলাই করে এনে তালা বদ্ধ করে রাখতেন।
—————————————————————-
‘গণকন্ঠ’-এর মাধ্যমে ছফা কাকা বিপ্লব ঘটাতে চেয়েছিলেন। প্রায় দশ বছর তিনি এ পত্রিকার সঙ্গে কাটিয়েছেন। এই দশটি বছরকে তিনি তাঁর জীবনের বিপ্লবের বছর হিসেবে উল্লেখ করতেন। এর পেছনে তিনি অনেক শ্রম-সাধনা করেছেন। অর্থ সংগ্রহের জন্য নানাজনের কাছে ধন্না দিয়েছেন। কোথাও কাজ হয়েছে, কোথাও হয়নি। যখনই পত্রিকাটির কোন রকম অধঃপতন গোচরে আসত তাঁর বুকটা হু হু করে উঠত। ‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণে’র একটি পাতায় তাঁর মনোকষ্টের কিঞ্চিত উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন:

“ঊনিশ শ’ আশি সালের আগস্ট মাসের দিকে হবে। টিপু সুলতান রোডে ‘দৈনিক গণকন্ঠ’ পত্রিকার অফিসে গিয়ে নিশ্চিত হলাম, পত্রিকাটি মরতে যাচ্ছে। আমার বুক ফেটে কান্না আসছিল। এত চেষ্টা চরিত্র, এত পরিশ্রম সব বৃথা যাচ্ছে। কতজনের কাছে ভিক্ষা করলাম। দেশি, বিদেশি কত মানুষের দুয়ারে টাকার জন্য ধন্না দিলাম। যা হওয়ার কথা ছিল তা হতে যাচ্ছে। আগামীকাল থেকে মেহনতি জনগণের মুখপত্রটি মুখ বুজে আত্মহত্যা করবে। (ছফা, খ. ২, পৃ. ২৫)

ছফা কাকা তখন জাসদ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ‘গণকন্ঠ’ ছিল জাসদের মুখপত্র। ‘গণকন্ঠ’ বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে জাসদের অঙ্গহানী ঘটা। সুতরাং এটা ছফা কাকার সইবে কেন। জাসদ এবং ‘গণকন্ঠ’ দুটোই তাঁর কাছে সমান গুরুত্ব বহন করত। জাসদের সঙ্গে তিনি যতদিন জড়িত ছিলেন ওই সময়টাকে তিনি উল্লেখ করেছেন মুগ্ধতার বছর হিসেবে। ওই সময়ে বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেয়ার কারণে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলে সঙ্গত কারণে তাঁর অনেক শত্রুর জন্ম সম্ভব হয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের কক্ষও ছাড়তে হয়েছিল। গবেষণাকর্মটিও না ছেড়ে তাঁর উপায় থাকল না। এসবই ছিল জাসদের সঙ্গে জড়িত থাকার ফল। (সম্পূর্ণ…)

গোলাপের নাম

উম্‌বের্তো একো

জি এইচ হাবীব | ২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ১:২৮ অপরাহ্ন

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১
———————————————————————————
[ইতালির ঔপন্যাসিক উমবের্তো একোর বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস The Name of the Rose। আর্টস-এর জন্য বিশালকায় (আনুমানিক ৫০০ পৃষ্ঠা) এই উপন্যাসের অনুবাদ করছেন অনুবাদ পত্রিকা তরজমা-র সম্পাদক ও পেশাগত জীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক
rose2.jpg জি এইচ হাবীব। আশা করা যাচ্ছে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল বারে আর্টস-এর পাতায় এই উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে। এবারে অনুবাদের সঙ্গে মধ্যযুগের একটি সংক্ষিপ্ত কালপঞ্জি থাকছে, যা উপন্যাস পাঠে পাঠককে সুবিধা দেবে। এ ছাড়া লেখার নিচে প্রয়োজনীয় টীকাও থাকছে। আর্টস-এ আগে প্রকাশিত একটি রচনা (উপন্যাস যথা মহাকালিক আয়োজন/হোসেন মোফাজ্জল) আগ্রহীদের উপকারে আসতে পারে।

উল্লেখ্য হাবীব এর আগে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অভ্ সলিচিউড (নিঃসঙ্গতার একশ বছর), ইয়স্তাইন গার্ডারের সোফি’য ওয়ার্ল্ড (সোফির জগৎ ), আইজাক আসিমভের ফাউন্ডেশন, আমোস তুতুওলার দ্য পাম-ওয়াইন ড্রিংকার্ড (তাড়িখোর), ইতালো কালভিনোর ইনভিযিবল সিটিয (অদৃশ্য নগর) এবং রুপার্ট ক্রিস্টিয়ানসেনের হু ওয়ায উইলিয়ম শেক্সপীয়র (উইলিয়ম শেক্সপীয়র কে ছিলেন) অনুবাদ করেছেন। – বি. স.]
louvre-museum-in-paris-wed.jpg
উম্‌বের্তো একো

অনুবাদকের নোট
বিশ্বখ্যাত ইতালীয় দার্শনিক, চিহ্নবিজ্ঞানী, ঐতিহাসিক এবং সাহিত্য সমালোচক উম্‌বের্তো একো-র (জ. ১৯৩২) প্রথম উপন্যাস Il nome della rose ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হলে সাহিত্যাঙ্গনে একটি সাড়া পড়ে যায়; বছর তিনেক পর উইলিয়াম উইভারের ইংরেজি অনুবাদ The Name of the Rose-এর প্রকাশ সেই সাড়াকে প্রায় বিশ্বব্যাপী একটি আলোড়নে পরিণত করে৷আরো তিন বছর পর গ্রন্থটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়, এবং তাতে প্রধান চরিত্রে রূপদান করেন বিখ্যাত অভিনেতা শন কনোরি৷

ফুকো’য পেন্ডুলাম (১৯৮৮),দি আইল্যান্ড অভ্‌ দ্য ডে বিফোর (১৯৯৫), বাউদোলিনো (২০০০), দ্য মিস্টেরিয়াস ফ্লেইম অভ্‌ কুইন লোয়ানা (২০০৫) নামে আরো চারটি উপন্যাসও রচনা করেছেন একো৷ এছাড়াও রয়েছে তাঁর পাঠক সমাদৃত প্রবন্ধ সংকলন মিসরিডিংস, ট্র্যাভেলস ইন হাইপাররিয়ালিটিহাউ টু ট্র্যাভেল উইদ আ স্যামন অ্যান্ড আদার এসেজ৷ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে পাঠক নন্দিত আরো তিনটি গ্রন্থ: অন লিট্‌রেচার, অন বিউটি, এবং অন আগলিনেস৷ শিশু-কিশোরদের জন্যেও রচনা করেছেন দুটি গ্রন্থ, ইউজেনিও কার্মির সঙ্গে যৌথভাবে, দ্য বম্ব এন্ড দ্য জেনারেলদ্য থ্রী অ্যাস্ট্রনট্‌স্‌৷ বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিওটিক্স-এর অধ্যাপক একো-র নিবাস মিলান৷

১৩২৭ খৃষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের শেষাশেষি ইতালির একটি বেনেডিক্টীয় মঠে এসে উপস্থিত হয়েছেন মধ্যবয়স্ক ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসী বাস্কারভিলের উইলিয়াম ও তাঁর সঙ্গী শিক্ষানবিস অ্যাড্‌সো, যীশু খৃষ্টের দারিদ্র্য বিষয়ক একটি বিতর্কে পোপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অংশ নেয়ার জন্যে৷ তাঁরা মঠে পৌঁছে দেখেন সেখানে এক সন্ন্যাসীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে৷ উইলিয়ামের ওপর দায়িত্ব পড়ে এই মৃত্যু- রহস্য উদ্‌ঘাটনের৷ দেখতে দেখতে, সাতদিনের মধ্যে অত্যন্ত বীভৎসভাবে মৃত্যুবরণ করে প্রায় আধডজন সন্ন্যাসী৷ উইলিয়াম কীভাবে এই হত্যারহস্য উন্মোচন করলেন তা যেমন অত্যন্ত আকর্ষণীয়, সেই সঙ্গে আকর্ষনীয় ‘গোলাপের নাম’ নামক এই বুদ্ধিবৃত্তিক রহস্যোপন্যাসে যেভাবে লেখক উম্‌বের্তো একো চিহ্নবিজ্ঞান, সাহিত্যতত্ত্ব, বাইবেলের নানান ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, মধ্যযুগের দর্শন, ইতিহাস, ইত্যাদির চমকপ্রদ মিশ্রণ ঘটিয়েছেন৷

উপন্যাসটি বিশেষত মধ্যযুগীয় নানান ঐতিহাসিক ঘটনা এবং গুরুত্বপূর্ণ-অগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের উল্লেখে ভরপুর৷ এখানে উল্লিখিত হয়েছেন অসংখ্য সন্ত [যেমন এজিলাফ (Agiluf), আলদেমার (Aldemar), ফলিনো-র অ্যাঞ্জেলা (Angela of Foligno), মন্টেফাল্‌কো-র ক্লেয়ার (Clare of Montefalco)], বিভিন্ন হেরেটিক বা ধর্মদ্বেষী ব্যক্তি বা দল [আর্নল্ডিস্ট (Arnoldist), বেগার্ড (Beghards), বিতোচি (Bizochi), ভালদেনসীয় (Waldensians), উইলিমাইট (Williamites)]; রয়েছে ককেইন (Cockaigne), কিমেরীয় কুয়াশা (Cimmerian fog), ব্লেমীয়ে (Blemmyae) আর ফ্যালারিসের ষাঁড়ের (Bull of Phalaris) মতো নানান পৌরাণিক উল্লেখ৷ উপন্যাসের গোলকধাঁধাময় গ্রন্থাগারের তাকগুলোতে মুখ গুঁজে থাকা অনেক নিতান্ত তুচ্ছ এবং অখ্যাত লেখকের নাম আর গ্রন্থের কথাও উল্লেখ করেছেন একো৷ আর আছে, অসংখ্য লাতিন, ফরাসী এবং জার্মান শব্দ, শব্দবন্ধ, বাক্য ও অনুচ্ছেদ, যেসবের অনুবাদ লেখক ইচ্ছাকৃতভাবেই সরবরাহ করেননি৷ ফলে, সব মিলে পাঠকের জন্যে তৈরি হয় এক দুস্তর বাধা৷ এই বাধা দূর করতে অ্যাডেল জে হ্যাফট, জেন জি. হোয়াইট এবং রবার্ট জে হোয়াইট ১৯৮৭ সালে প্রকাশ করেন তাঁদের যৌথ গ্রন্থ দ্য কী টু দ্য নেইম অভ্‌ দ্য রোয, যেখানে তাঁরা উপন্যাসটিতে উল্লিখিত নানান ঘটনা, ব্যক্তিত্ব, এবং অ-অনূদিত লাতিন, ফরাসী এবং জার্মান শব্দ, শব্দবন্ধ, বাক্য ও অনুচ্ছেদ ইত্যাদির টীকা-ভাষ্য আর অনুবাদই উপস্থিত করেননি, উপন্যাসটির পটভূমি, বিষয়বস্তু, মর্মার্থ ইত্যাদি সম্পর্কে কয়েকটি প্রবন্ধ এবং মধ্যযুগের একটি প্রাসঙ্গিক কালপঞ্জিও জুড়ে দিয়েছেন৷ (সম্পূর্ণ…)

সাঈদ আহমদের সাক্ষাৎকার, ১৯৯৯

ব্রাত্য রাইসু | ১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ৮:১৬ পূর্বাহ্ন

sayeed-ahmed1.jpg
সাঈদ আহমদ (১/১/১৯৩১ – ২১/১/২০১০)

[নাট্যকার সাঈদ আহমদের সঙ্গে আমার সদ্ভাবের শুরু ১৯৯২ সালে। সেই সময় চিত্রকর কালিদাস কর্মকারের বাংলা মোটরের বাড়িতে একটা পার্টির মধ্যে একদিন যাইচা তাঁর সঙ্গে পরিচিত হই আমি। বিশেষত অ্যাবসার্ড ড্রামা ব্যাপারে আমার তৎকালীন গভীর অনুরাগ তাঁর ব্যাপারে আমারে আগ্রহী করছিল। তিনি ফোন নম্বর দিয়া পরদিন তাঁর বাড়িতে যাইতে বলেন। আমি সকালে তাঁর লালমাটিয়ার বাসায় যাই। তিনি তাঁর সংগ্রহের বই, চিঠিপত্র আর কিছু নথি দেখান। এবং অতিথি আপ্যায়ন করেন। খাওয়ার পরে ফল খাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

আঙুলের গিঁটে সমস্যা থাকায় লিখতে অসুবিধা হইত তাঁর। ওনার অনুরোধে কিছু লেখার ডিকটেশান নিতে রাজি হই আমি। বলা যাইতে পারে, তাঁর লেখ্য গদ্যরীতিটি আমার ভালো লাগতো না। একটা নাটক (নাটকটা তিনি আর শেষ করেন নাই) নিয়া দুই দিন বসার পরে আমি এই বিরক্তিকর কাজটা আর করি নাই। ওই বিরানব্বইয়ে কিছুদিন সাঈদ ভাইরে বেশ কাছ থিকা দেখার সুযোগ হয় আমার। সাঈদ ভাই নিঃসন্তান আছিলেন। এই নিয়া তাঁর কোনো আক্ষেপ আছে কিনা জিগাইলে জানায়ছিলেন বাচ্চাকাচ্চা ব্যাপারটা ভেজালের। এইটা ঠিক যে তাঁর মধ্যে আমি বাৎসল্য রসের ছিটাফোঁটা দেখি নাই।

ঢাকার সাংস্কৃতিক সমাবেশে তাঁর উপস্থিতি সব সময়ই নিতান্ত উজ্জ্বল ব্যাপার আছিল। বিবিধ অনুষ্ঠানে দেখা হইলে—এবং সব সময় পারভিন ভাবি সঙ্গে থাকতেন—সাঈদ ভাই সহাস্য স্নেহ সম্প্রদান করতেন (অন্য অনেকের মতো ওয়ান টু ওয়ান মৃদু হাসির অভ্যর্থনা তিনি করতেন না; যেটি দস্তুর)। সাঈদ আহমদের ব্যাপারে আমার বিবেচনা এই যে তিনি বৈঠক ইত্যাদিতে অনেক চিত্তাকর্ষক থাকতেন। তবে তাঁর ভাষা প্রায়ই ঢাকাইয়া থিকা শুদ্ধের দিকে চইলা যাইতে চাইত। আর তিনি ঘরের চাইতে বাইরে বেশি বন্ধুবৎসল আছিলেন। অর্থাৎ এক কালের এই সচিব ভদ্রলোকটি সমষ্টির মধ্যে বা সমাবেশগুলিতে তাঁর ব্যক্তিত্বের সবলতা ও সাফল্য উপলব্ধি করতেন।

১৯৯৯ সালে মুক্তকণ্ঠ পত্রিকার ‘খোলা জানালা’র জন্য এই সাক্ষাৎকার নেই আমি। ‘খোলা জানালা’র সম্পাদক আবু হাসান শাহরিয়ার সাক্ষাৎকারটার খোলামেলা ও লঘু চালের ব্যাপারটারে সাদরে গ্রহণ করছিলেন। এবং কোনো কর্তন-বর্জন ছাড়াই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরে সাঈদ ভাইরে একটা কপি দিয়া আসছিলাম। ইচ্ছা আছিল কখনো সাঈদ ভাইয়ের একটা বুক লেংথ ইন্টারভিউ নিব। সেইটা আর হইয়া উঠল না। তাঁর সাম্প্রতিক প্রয়াণে (২১/১/২০১০) আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করতেছি।—ব্রাত্য রাইসু]

sayeed-ahmed.jpg
১৯৯২ সালে নিউইয়র্কে তোলা ছবিতে সাঈদ আহমদ ও স্ত্রী পারভিন আহমদ; ছবি. নাসির আলী মামুন

আমি কত কথা কইতাম, কিন্ত এখন আফটার ব্রেইন হেমারেজ কথা কইতে পারি না। আর বড় কষ্ট কইরা কথা কইতে হয়। আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে একটু ইমপ্রুভমেন্টের দিকে যাইতে আছি। আমার জীবনে একটা গণ্ডগোল হইয়া গেছে। বড় রকমের গণ্ডগোল। দুই বছর আড়াই বছর আগে আমারে কইলো যে তুমি দিল্লিতে আসো…

কে কইল?

গভর্ণমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’র কালচারাল মিনিস্ট্রি। কইল যে তুমি দিল্লিতে আসো। তোমার সঙ্গে একটা বইয়ের পরামর্শ হবে। বই লেখার ব্যাপারে তারপরে আমি দিল্লি গেলাম। এই সব লিখো না।

ঠিক আছে অন্য প্রসঙ্গে যাই। শামসুর রাহমানের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক নিয়া বলেন।

শামসুর রাহমানের বাবা আর আমার বাবা দুই পার্টনার ছিল। নরায়ণগঞ্জে ডায়মন্ড টকিজ করত। নাইনটিন থারটি নাইনের যুদ্ধের আগে।

তাইলে তো আপনেরা অনেকদিন থেকে কালচারের সঙ্গে, কালচারের ব্যাপারটা তাইলে পারিবারিক ভাবেই।

মোটামুটি। তো আমার বাবা আর শামসুর রাহমানের বাবা মোখলেছুর রহমান…

আর আপনের বাবার নাম ছিল—

মীর্জা ফকির মোহাম্মদ।

আপনার বড় ভাই?

বড় ভাই, নাছির ভাই বড় ছিলেন। আর নাজির ভাই মেজো আর থার্ড ব্রাদার হামিদুর রাহমান। আর আমি ফোর্থ ব্রাদার।

ব্রাদার তো আর না আপনি।

না ব্রাদার না, আমি ফোর্থ।

তাহলে ‘রাহমান’ শুধু হামিদুর রাহমানেরই ছিল। আর কারও না।

না। আর ওইটাও রাগ কইরা। ও স্কুলে পড়ার সময় ওর নাম রাখলো অ্যাহমাদ। কিন্তু মাস্টারের সঙ্গে রাগ কইরা কইল, যা শালা, এই নাম রাখুমই না। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com