বেগম রোকেয়ার রচনায় লোকজ জীবন অভিজ্ঞতা

গীতা দাস | ২৪ নভেম্বর ২০০৯ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

brokeya.jpg

১.
বেগম রোকেয়ার সাথে আমার প্রথম পরিচয় প্রাইমারীতে পড়ার সময়। তাঁর জীবনী পাঠ্য ছিল। রাতের অন্ধকারে বড় ভাইয়ের কাছে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়ার কাহিনী আমাকে রোমাঞ্চিত করেছিল, নিজের পাঠের প্রতিও আগ্রহী করেছিল নিশ্চয়ই এবং ‘স্ত্রী-শিক্ষার’ উন্নতির বিষয়টিই গুরুত্ব দিয়েছিলেন আমার শিক্ষকেরা—নারীর অধিকার নয়।

মাধ্যমিক অথবা উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়েছি সুলতানার স্বপ্ন কাহিনীর অংশ বিশেষ ‘নারীস্থান’। এটি পড়ানোর সময়ও শিক্ষকরা নারীর বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও কল্পকাহিনীকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন—নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ণকে নয়।

বাংলা সম্মান শ্রেণীতে পাঠ্য ছিল বেগম রোকেয়ার অবরোধবাসিণী। পর্দা প্রথার খণ্ড খণ্ড ঘটনা। শিক্ষকরা অবরোধবাসিনী পড়াতে গিয়ে প্রাসঙ্গিকভাবেই এর সামাজিক প্রেক্ষাপটের কথা বলেছেন; কিন্তু নারীবাদ পড়াননি। রোকেয়া ও তার সৃষ্টি বুঝতে ও বোঝাতে যা পড়ানো ছিল অবধারিত ও অপরিহার্য। (সম্পূর্ণ…)

কিস্তি ৪

ছফামৃত

নূরুল আনোয়ার | ৯ নভেম্বর ২০০৯ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

শুরুর কিস্তি

(কিস্তি ৩-এর পর)

sofa_4.jpg
আহমদ ছফা

সন্তোষবাবুর ঘটনার জের ধরে ওইদিন ছফা কাকার সঙ্গে আরেক ভদ্রলোকের পরিচয় হয়েছিল। ভদ্রলোক সন্তোষবাবুর পাশের ঘরে ছিলেন। তিনি ছফা কাকার সঙ্গে তর্কাতর্কি শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এবং ছফা কাকাকে সন্তোষবাবুর খপ্পর থেকে উদ্ধার করে নিজের ঘরে নিয়ে
—————————————————————–
“বার্ট্রান্ড রাসেলের একটা ম্যানাস্ক্রিপ্ট নিয়ে তাঁকে [মফিজ চৌধুরী] খুঁজতে এলাম।… ম্যানাস্ক্রিপটা যখন দিলাম বললেন, আহমদ ছফা সাহেব কে?… উনি মনে করেছেন আহমদ ছফা সাহেবের ম্যানাস্ক্রিপটা আমি চুরি করে নিয়ে গেছি। তখন আমি দেখি যে সব বুর্জোয়ারা একই রকম! চলে আসছি, উনি গাড়ি দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, তুমি গাড়িতে ওঠ। গাড়িতে ওঠার পরে তাঁর ইন্দিরা রোডের বাড়ির সামনে নামতে গিয়ে দেখি পকেটে শ’য়ে শ’য়ে টাকা।… আমি ভাবলাম, আমি পরীক্ষা দেব টাকা নেই, আর এই লোক পকেটে এত টাকা নিয়ে যাচ্ছে। গাড়িটা যখন গেটের কাছে থেমেছে ম্যানাস্ক্রিপটা রেখে পকেট থেকে এক শ’ টাকা যতগুলো পেয়েছি নিয়ে বললাম যে ম্যানাস্ক্রিপ্ট জমা রইল আমি টাকাটা নিয়ে যাচ্ছি।… পরীক্ষা যখন পাশ করে গেলাম, ভাল রেজাল্ট করলাম প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে, তখন তাঁর কাছে টাকা দিতে গেলাম। বললেন যে এগুলো কর্জে হাসানা।”
—————————————————————-
বসিয়েছিলেন। তাঁর কাছ থেকে নানা কথা শুনতে হয়েছিল। বোধহয় ছফা কাকাকে ভদ্রলোকের মনে ধরেছিল। ছফা কাকাকে তিনি আর কখনও আসলে সোজা তাঁর কাছে চলে আসতে বলেছিলেন। তিনি সন্তোষবাবুকে ইঙ্গিত করে বললেন, ভদ্রলোক একটু পাগলা কিসিমের, কিন্তু মানুষটা ভাল। (সম্পূর্ণ…)

রৌরব (কিস্তি ১২)

লীসা গাজী | ৭ নভেম্বর ২০০৯ ৮:৫০ অপরাহ্ন

শুরুর কিস্তি

(কিস্তি ১১-এর পর)

rourob-12.jpgদরজা উড়িয়ে নিয়ে যাবে এমন, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে এমন। তারপর এক সময় সমস্ত ঝড় ঝাপ্টা থেমে যায়। শান্তি! লাভলি দুই পায়ের গোড়ালি দিয়ে চেয়ারটা কিঞ্চিৎ পিছনে ঠেলে দেয়। কাজের কাজ কিছুই হয় না চেয়ারটা একদিকে শুধু সূঁতাখানেক সরে যায় আর বিউটির চুল ওর কনুইয়ে এসে লাগে। নরম মসৃণ চুল। সান সিল্কের ভালো বিজ্ঞাপন হতে পারতো, ভাবে লাভলি। একবারও বিউটির দিকে পূর্ণ দৃষ্টি দেয় না। এক সময় টের পায় মাথার পিছনে টিউব লাইটের হলদে আলো অসহ্য তীব্রতায় গলে গলে পড়ছে—দেয়াল চুঁইয়ে চটচটা গলন্ত আলো চুল পোড়া গন্ধে লাভলির দিকে গড়িয়ে আসে। লাভলি অনেকক্ষণ বুঝতেই পারে না পায়ের নিচে চটচট করছে কী। বাম পায়ের বুড়া আঙুলে ঠাণ্ডা ধাতব-তরল স্পর্শের সাথে সাথে গা গুলিয়ে ওঠে ওর। সেই তরল দারুণ নিষ্ঠায় দুই পায়ের পাতা ছুঁয়ে থাকে। গা ঘিনঘিন করে ওঠে ওর, নাকের ডগা ইষৎ কুঁচকে যায়—কেমন অসহায় লাগে লাভলির। এই মুহূর্তে পানির খুব দরকার ছিলো।
—————————————————————–
পরবর্তী চুয়ান্ন মিনিট একইভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে লাভলি; আর ওর সমগ্র বেঁচে থাকা চুয়ান্ন মিনিট ধরে ওকে ঘিরে পাক খায়। পাকটা পায়ের পাতা থেকে চক্রাকারে মাথার দিকে ধাবিত হয় কিন্তু তালু পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, গলার কাছে এসে চেপে ধরে। দমটা যখন প্রায় বেরিয়ে যাবে যাবে অবস্থা ঠিক তখনই বেমক্কা ছেড়ে দেয় তারপর পাক খেতে খেতে আবার নিচে নামতে থাকে। তারপর আবার উপরে তারপর নিচে তারপর উপরে, নিচে, উপরে…
—————————————————————-
বিউটির দিকে তাকিয়ে থাকে অল্পক্ষণ অথবা বহুক্ষণ। বাতাসে ঝুলতে থাকা বিউটির হাত আলগোছে টেবিলের উপর রাখে। ডাল বাটার গুণাগুণ টের পায়। কী শান্ত ভঙ্গিতে টেবিলের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছে। খুব আদর লাগে লাভলির। (সম্পূর্ণ…)

কিস্তি ৩

এডওয়ার্ড সাঈদের সাথে সংলাপ / তারিক আলী

হোসেন মোফাজ্জল | ৭ নভেম্বর ২০০৯ ২:১৩ অপরাহ্ন

কিস্তি ২
null
শিকাগোতে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটর বারাক ওবামার সঙ্গে প্রফেসর সাঈদ; সঙ্গে মিশেল ওবামা ও মরিয়ম সাঈদ; মে ১৯৯৮; ছবি: আলী আবুনিমাহ

অনুবাদ: হোসেন মোফাজ্জল

(কিস্তি ২-এর পর)

আপনি ইংরেজী সাহিত্যের সাথে কী ভাবে জড়িয়ে গেলেন, আর কী ভাবেই বা সেটা আপনার প্রবল অনুরাগে পরিণত হলো?

আমার তো মনে হয় এটা একটা দুর্ঘটনা। মানে শিশু বয়সে আমি অনেক বই পেয়েছি। আমি ছিলাম একলা একটা শিশু, যার ফলে আমি সহজে যেসব বইগুলোতে গলে যেতে পারতাম তা হলো ইংরেজী উপন্যাস, প্রথম যা আমি পড়েছিলাম সেটা হলো রবিনসনস্ ক্রুশো, বইটা পড়ার ব্যাপারটা আমার খুবই ভাল ভাবেই মনে আছে, চমৎকার একটা সচিত্র সংস্করণ ছিল সেটা, এবং আমি যখনই শুরু করতাম শেষ না করে উঠতাম না। চৌদ্দ বছর বয়সের মধ্যে আমি স্কট এর মেলা বই পড়ে ফেলি—হতে পারে আমি স্কট এর সবগুলো বইই পড়ে ফেলেছিলাম, অতটা মনে করতে পারছি না—আমি সবসময়ই পড়তাম, আর পড়তাম মূলতঃ উপন্যাস, যাই হাতের কাছে পেয়েছি। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com