আর্টস-এর দু বছর

কিছু বাছাই লেখা

| ১৮ অক্টোবর ২০০৯ ৮:৩৩ অপরাহ্ন

bdarts2.jpg

[আর্টস-এর প্রকাশনা শুরু হয় ২০০৭ সালের ১৮ অক্টোবর। সে অনুসারে আজ ১৮ অক্টোবর ২০০৯-এ আর্টস-এর ২ বছর পূর্ণ হলো। এই ২৪ মাসে আর্টস-এ যে সব লেখা প্রকাশিত হয়েছে তা থেকে ৩০টি রচনার লিংক এখানে সন্নিবেশ হলো। প্রায় দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এ বাছাই। কেউ পুরনো কোনো লেখায় হয়তো আগ্রহী হয়ে উঠবেন এমন আশায়ই এ উপস্থাপন। বি. স.]

রচনার পটভূমি
‘রামপ্রসাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক’ কবিতা রচনার পটভূমি
নির্মলেন্দু গুণ । ১৮ অক্টোবর ২০০৭
ngoon.jpg[…] রামপ্রসাদের গান আমাদের এলাকায় খুব প্রচলিত ছিলো। আমার বাবাও রামপ্রসাদের গান গাইতেন।… জগা সাধুর আশ্রমে রামপ্রসাদের গান শুনতে শুনতে হঠাৎ একদিন আমার মনে হলো, এই লোকসুরে আমি যদি কিছু গান লিখি, তো মন্দ হয় না। সাহিত্যের খুব উপকার না হলেও তাতে আমার অন্তর শান্ত হবে। তখন আমি রামপ্রসাদী সুরে কয়েকটি গান লিখি। শুধু রামপ্রসাদী সুরে নয়, রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরেও তখন আমি কিছু গান বেঁধেছিলাম। […]

সাক্ষাৎকার
ফয়েজ আহ্‌মদের সঙ্গে আলাপ
ব্রাত্য রাইসু । ১৮ অক্টোবর ২০০৭
fayez-a.jpg[…] ওরা ঢাকায় আইসা যখন ফুর্তি করে আর গুলশানে বড় দোকানে খায় যখন পোলাপাইনে তখন কৃষকরা ওইখানে মঙ্গায় মারা যায়। এই হইল খবরটা। এখন আমি কইলাম, লোকগুলি কী রকম তোমাদের দেশের যে তারা এই প্রতিরোধ আর করে না। আজকা পঞ্চাশ বছর যাবৎ এই-ই শুনতেছি-মঙ্গা! মঙ্গা! এই ছেলে। ছেলে চটপটে ছেলে, ওইজন্যই জিগ্যেস করছিলাম। তো কয় যে আমাদের দেশে অনেকগুলি ভাগ আছে। এই জমি যেমন আমাদের একটাও না। আমি থাকি চরের ছাপড়ায়। ধান বানবো-টানবো, দিয়া আসবো, কিছু পাবো। খাইয়া-টাইয়া নয় মাস চলে। আর তিন মাস চলে না। […]

আল মাহমুদ ও জয় গোস্বামীর সঙ্গে আলাপ
ব্রাত্য রাইসু | ১৫ নভেম্বর ২০০৭
joy-al.jpg[…] মাহমুদ : আর আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো নারী। এবং এটা অকপটে বলা উচিত।/জয় : এবং সেটা সৌন্দর্য। আপনার কাছে নারী মানে সৌন্দর্য।/রাইসু : মাহমুদ ভাই কি স্বীকার করেন কিনা যে নারী মানেই সৌন্দর্য?/মাহমুদ : না, নারী মানে সৌন্দর্য এটা আমি বলি না। কিন্তু নারী আকর্ষণ করে।/
জয় : না, আমি বলছি কবিতায় এই যে নারীর উদ্দীপনা আপনার মধ্যে যা তৈরি করে তা দিয়ে যে কবিতাটা লেখেন সেটা একটা সৌন্দর্যের উপাসনা।/রাইসু : আল মাহমুদ কী বলতে চাচ্ছেন, সাবজেক্ট হিসাবে নারী না উদ্দীপনার জন্যে নারী? মাহমুদ ভাই কোনটা বলছেন?/মাহমুদ : দুইটাই মিলে মিশে থাকে অবশ্য। […]


সাক্ষাৎকারে সরদার ফজলুল করিম
বিষয়: অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক

মোহাম্মদ আলী | ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯
sarder-mali.jpg[…] তিনি অকৃতদার ছিলেন। খুব ভালো রান্না করতে পারতেন। পারতেন ভালো দাবা খেলতে। সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। অন্যদের পড়ার জন্য নিজের লাইব্রেরি থেকে বই বের করে দিতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো শিক্ষক সংগ্রহ করা ছিল তাঁর কাজের অন্যতম অংশ। আবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি পড়াতেন না। “রাজ্জাক স্যারের কল্লা চাই” বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলও হয়েছে। আবার তিনি এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় অধ্যাপকও হয়েছিলেন। […]

প্রত্নতত্ত্ব
যে কারণে প্রত্নসম্পদ বিদেশ পাঠানোয় বিরোধিতা
শামসুজ্জামান খান । ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৮
pratna.jpg[…] বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ সুরক্ষার জন্য মিশরের মতো প্রত্নসম্পদ সুরক্ষা ও তদসংক্রান্ত যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি সর্বোচ্চ পরিষদ বা জাতীয় কমিশন গঠন করতে হবে। এ সংস্থা হবে স্বশাসিত ও সরকারী নিয়ন্ত্রণমুক্ত। এই সংস্থার প্রথম কাজ হবে একটি নতুন প্রত্নসম্পদ সুরক্ষা নীতিমালা এবং ১৯৬৮ সালের আইনের দুর্বলতা দূর করে একটি নতুন আইন প্রনয়ন করে পার্লামেন্টে পাশ করানো। […]

স্মৃতি
শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ, যখন আমি তাঁর ছাত্র
চঞ্চল আশরাফ । ২৫ অক্টোবর ২০০৭
humayun-a.jpg[…] বাংলা বিভাগের করিডোরে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিলাম। হুমায়ুন আজাদকে আসতে দেখে আমি সিগারেটটা ফেলে জুতা দিয়ে চেপে রাখলাম। উনি কাছে এসে জিগ্যেস করলেন, ‘তুমি কি বাংলা বিভাগের ছাত্র?’ বললাম, ‘হ্যাঁ’। ‘সবাই জ্বি বলে, তোমার কি হ্যাঁ বলার অভ্যাস? ভালো। কিন্তু সিগারেট ফেলে দিলে কেন?’ আমি চুপ। উনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই বাবার টাকায় খাও। কিন্তু সিগারেট খাওয়ার সঙ্গে শ্রদ্ধার কোনও সম্পর্ক নেই, যেমন নেই পান খাওয়ার সঙ্গে। বুঝেছ?’ বলেই হাঁটা, ডিপার্টমেন্ট অফিসের দিকে। […]

বিচিত্র
সালভাদর দালি: গোঁফ দিয়ে কথা বলা
সুমন রহমান | ১ নভেম্বর ২০০৭
dali.jpg[…] সালভাদর দালি। চিত্রশিল্পী এবং সেলিব্রিটি। কেউ বলেন, আগে সেলিব্রিটি এবং পরে চিত্রশিল্পী! মজার বিষয় হল, দ্বিতীয় মতাবলম্বী যারা তাদের পুরোভাগে দালি স্বয়ং। তিনি একদিন কথাচ্ছলে বলছিলেন, ‘সামারে অনেক আমেরিকান ট্যুরিস্ট আমায় দেখতে আসে। তারা কি আমার ছবি দেখতে আসে? মোটেও না! তাদের সবার আগ্রহ আমার গোঁফের ব্যাপারে। মহৎ চিত্রকলার দরকার নাই পাবলিকের, দরকার খালি একটা জম্পেশ গোঁফ।’ […] (সম্পূর্ণ…)

কিস্তি ৩

ছফামৃত

নূরুল আনোয়ার | ১৩ অক্টোবর ২০০৯ ১০:২০ পূর্বাহ্ন

শুরুর কিস্তি

(কিস্তি ২-এর পর)
sofa_sharif.jpg
ছফা ও আহমদ শরীফ

sofa_noren.jpg
ছফা আর নরেন বিশ্বাস, ১৯৭৫

এরপর প্রাইমারি স্কুলে থাকা অবস্থায় ছফা কাকা আর কোনো কবিতা লিখেছেন কিনা জানা যায়নি। তিনি তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত স্কুলে প্রাইমারি শেষ করেছিলেন। প্রাইমারি পাশ করে তিনি একই গ্রামের গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। সময়টি বোধকরি ঊনিশ শ’ একান্ন সাল ছিল। এ স্কুলে পড়তে গিয়ে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। এখানে কতিপয় শিক্ষক তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁদের সান্নিধ্যে এসে তিনি মনে-প্রাণে একজন পাকা মানুষে পরিণত হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন:

“আমি যখন হাই স্কুলে আসি একসঙ্গে চারজন সাহিত্যপ্রেমিক শিক্ষকের স্নেহ আকর্ষণ করতে সক্ষম হই। তার প্রথম জন হলেন শিবশঙ্কর তালুকদার, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে তৎসম শব্দের মিশেল দিয়ে এক ধরনের বাংলা কথাবার্তা তিনি বলতেন। শিববাবু সম্পর্কে আমার অন্য রচনায় কিছু কথাবার্তা বলেছি। তিনি আমাকে মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি নবীনচন্দ্র সেন এবং কবি কায়কোবাদ এঁদের রচনা খুব যত্নসহকারে পাঠ করতে বাধ্য করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাঁর এক ধরনের অবজ্ঞার ভাব ছিল। তিনি মনে করতেন, যাঁর রচনা পড়ামাত্রই মানুষ বুঝে যায় তাঁর মধ্যে কবিত্ব কোথায় থাকে। তিনি আরও মনে করতেন, যে কবি ভালভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দে কবিতা রচনা করতে পারেন তিনিই আসল কবি। আর সবাই ফালতু। শিববাবুর পাল্লায় পড়ে আমি অমিত্রাক্ষর ছন্দের কসরৎ করে যাচ্ছিলাম। সে সময় অনেক কবিতা লিখেছি, লেখাগুলো কোথায় গেছে আল্লাহ গায়েবুল মালেক মালুম। যা হোক, সে সময়ের অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনার কিছু অংশ এখনও আমার মনে আছে। ওই কবিতাটি শিববাবুর অনুপ্রেরণায় মাইকেল মধুসূদনকে নিয়ে লিখতে হয়েছিল। স্মৃতিতে যেটুকু ধৃত আছে উদ্ধৃত করার চেষ্টা করছি:
‘হে বঙ্গকবিকূল চূড়া শ্রী মধুসূদন
তোমার যাওয়ার পথে বায়ু সমবেগে
আমিও বাসনা করি যেতে। কিন্তু সদা ভয় জাগে
যদি যায় সঙ্কল্প টলিয়া, পারিপার্শ্বিক পৃথিবীর চাপে,
যেমতি নদী এসে বাধা পড়ে শিলাময় পাহাড়ের ধারে
যদি কোনমতে তারে বারেক টলাতে নারে–
হয় প্রবাহিত ভূ-গর্ভের নিরপেক্ষ স্তরে।’

এই ‘নিরপেক্ষ স্তর’ শব্দটা দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছিলাম এখন ঠিক মনে পড়ছে না। (সম্পূর্ণ…)

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০০৯

রেডিও আলাপে হার্টা ম্যুলার

রাজু আলাউদ্দিন | ১২ অক্টোবর ২০০৯ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

hm5.jpg

হার্টা ম্যুলারের আলাপচারিতাটি রেডিও রোমানীয়া ইন্টারন্যাশনাল ২০০৭ সালের ১৭ আগস্টে সম্প্রচার করে। এ সাক্ষাৎকারে ম্যুলার কথা বলেছেন রোমানীয় ভাষায় অনূদিত তাঁর বইগুলো নিয়ে। আলোচনায় তাঁর অনুবাদিকা নোরা ইউগা ছিলেন। অনুবাদক লেখাটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন। বি. স.

অনুবাদ: রাজু আলাউদ্দিন

hm7.jpg

hm4.jpg
হার্টা ম্যুলার জার্মানীর বরেণ্য লেখকদের একজন। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য তালিকায় তিনি জার্মানির প্রতিনিধিত্বকারী। রোমানীয়ার পশ্চিম বানাত অঞ্চলের সোয়াবিয় সম্প্রদায়ে তাঁর জন্ম। তিমিশোয়ারাতে তিনি জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন করেন এবং পরে এক গাড়ি নির্মাণ কারখানায় দোভাষীর কাজ নেন। নিরাপত্তা গোয়েন্দা পুলিশ (Securatate secret police) কে সহযোগিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি দোভাষীর কাজটি হারান। ১৯৮৭ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অভিবাসনের আগে জার্মান ভাষার শিক্ষকতা করে জীবিকা অর্জন করতেন।
—————————————————————-
লেখিকা আমাদের বললেন, দুটো ভাষার মেজাজও আলাদা। রোমানীয় ভাষায় ‘তুষারপাত’ মানে ‘মৃদু অশ্রুপাত’। জার্মান ভাষায় এর অর্থ ‘মেইগলখেন’ (Maiglokhen) মানে লিটল মে বেলস (Little may bells)। তার মানে হচ্ছে এই যে আমরা কেবল ভিন্ন শব্দের কথা বলছি না, বলছি ভিন্ন জগতের কথা। রোমানীয়রা যখন একটি নক্ষত্র খসে পড়তে দেখে তখন ওরা বলে কেউ একজন মারা গেছে, কিন্তু জার্মানরা সেক্ষেত্রে কোনো অভিলাষ ব্যক্ত করে (make a wish)।
—————————————————————-
১৯৮২ সালে সাহিত্যিক স্বীকৃতির পর হার্টা ম্যুলারের প্রকাশিত ২০টি বই বহু ভাষায় অনূদিত হয়। প্রায় প্রতি বছরই তিনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো না কোনো সাহিত্য পুরস্কার পেয়ে আসছেন। যেমন, ‘রিকার্ডা হাক’, ‘ক্লেইস্ট’, ‘জোসেফ ব্রেইটবাখ’ এবং ‘আইএমপিএসি ডাবলিন সাহিত্য পুরস্কার’। পত্রপত্রিকায় তাঁকে নিয়ে লেখা হয়েছে বহু নিবন্ধ। সম্মানজনক সাহিত্য পত্রিকা টৈক্সট + ক্রিটিক্ তাঁকে নিয়ে একটি গোটা সংখ্যাই প্রকাশ করেছিলো। (সম্পূর্ণ…)

এবাদুর-ইনারিতু সংলাপিকা

এবাদুর রহমান | ১০ অক্টোবর ২০০৯ ৬:০২ অপরাহ্ন

[এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মানির বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শুরুর আগে সেখানে ঢাকার লেখক এবাদুর রহমান মেক্সিকোর চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেন। ইংরেজি ভাষায় গৃহীত এ সাক্ষাৎকারের বঙ্গানুবাদও এবাদুরেরই করা। লেখক এবাদুর রহমান লেখালেখির ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদে ‘ছ’ অক্ষরটি বদলে ‘স’ ব্যবহার করেন। তাঁর সে ব্যবহার এখানে অবিকল রাখা হলো। বি. স.]

innaritu_01.jpg
আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু, ১১’০৯”০১- সেপ্টেম্বর ১১ ছবির শুটিং-এ

babel_innaritu_.jpg
বাবেল ছবির জন্য অভিনেত্রী কেইট ব্ল্যানশেটকে একটি ভঙ্গি ধরিয়ে দিচ্ছেন ইনারিতু, পেছনে অভিনেতা ব্র্যাড পিট

আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা করায়ত্তকারী মেহিকান চলচ্চিত্রকরিয়ে। তিনিই প্রথম মেহিকান যিনি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা পরিচালকের শাখায় মনোয়ন লাভ করেন। তিনি ১৫ অগাস্ট ১৯৬৩ ঈসায়ীতে মেহিকোসিটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমেরোস পেরোস (২০০০) এর জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে ক্রিটিকস্ উইক গ্রান্ড প্রাইজ ও ইয়ং ক্রিটিকস্ অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট ফিচার জয় করেন। তিনি মোট এই পর্যন্ত ৪৫টি পুরস্কার এবং ২৯টি মনোনয়ন লাভ করেছেন।

poster_ap.jpg……..
আমেরোস পেরোস ছবির পোস্টার
………
অ্যালেহান্দ্রো, ১৯৬৩ ইসায়ীতে, মেক্সিকো সিটি নামধেয় সহরে অবতীর্ণ হন। কমবয়সেই তিনি মেক্সিকো সিটির জনপ্রিয় রেডিও স্টেশন, ডাব্লিউ এফ.এম-এ, ডিজেগিরি শুরু করসিলেন; ইনারিতুর বাচাল ও ফানি রেডিও পার্সোনা ও দুর্দান্ত সংগীত রুচি তারে অচিরেই, তরুণদের ভিতর, বহুৎ জনপ্রিয়তা হাসিল করায় ও এই কাজে বোরড্ হয়ে তিনি নূতন একটা টিভি স্টেসনে জয়েন করেন; মূলত এসময়, ইনারিতুরে প্রোমো রচনা ও ডিরেক্ট করতে হইত—একাজেও তিনি সাফল্য পান। (সম্পূর্ণ…)

হার্টা ম্যুলার-এর গল্প

অন্ত্যেষ্টির বয়ান

শুভাশীষ দাশ | ৯ অক্টোবর ২০০৯ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

fm_an.jpg
বার্লিনে একটি প্রেস কনফারেন্সে হার্টা ম্যুলার, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরে

ছোটগল্প সংকলন নাদিরস (‘নিদারুনজেন’) বা ‘Lowlands’ ২০০৯ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী রুমানিয়ার লেখিকা হার্টা ম্যুলারের প্রথম প্রকাশিত বই। ১৯৮২ সালে প্রকাশ পাবার পরপরই বইটি সেন্সরশিপের কবলে পড়ে। চসেস্কুর নির্মম শাসনকালে রুমানিয়ার গ্রামজীবনে যে দুর্বিপাক নেমে এসেছিল Lowlands-এ তার চিত্র ফুটে উঠেছে। লেখিকা গল্প লিখেছেন তাঁর অনবদ্য কাব্যিক গদ্যে। Lowlands বইয়ের প্রথম গল্প ‘The Funeral Sermon’।

অনুবাদ: শুভাশীষ দাশ

রেলস্টেশনে লোকজন ট্রেনের সাথে সাথে দৌড়াচ্ছে আর হাত নেড়ে নেড়ে বিদায় জানাচ্ছে।

এক যুবক ট্রেনের জানালার নিচে দাঁড়িয়ে। শার্সিটা একদম তার বগল পর্যন্ত। দুমড়ানো একগোছা ফুল সে বুকে চেপে রেখেছে। মুখ পুরা শুকনো।

এক কুঁজো তরুণী শান্ত এক বাচ্চাকে কোলে নিয়ে এগোচ্ছে।

ট্রেন যাচ্ছে যুদ্ধের দিকে।

আমি টিভি বন্ধ করে দিলাম।

ঘরের মাঝে বাবা শুয়ে আছে। কফিনে। সারা দেয়াল জুড়ে অনেক ছবি। দেয়াল যে আছে তাই বোঝা যাচ্ছে না।

প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে বাবা তাঁর চেয়ে দ্বিগুণ লম্বা চেয়ারে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে।

অন্য ছবিতে বাবা বরের সাজে। বুকের অর্ধেকটা কেবল দেখা যায়। মায়ের হাতের বিশাল ফুলের তোড়ায় বাকি কিছু দেখার উপায় নেই। দুজনের মাথা এত কাছাকাছি, কানের লতি ছুঁয়ে ছুঁয়ে আছে।

আরেকটাতে বাবা কোনো বেড়ার পাশে একদম সিধা দাঁড়িয়ে। জুতোর নিচে বরফ। ভীষণ রকমের সাদা। বাবাকে মনে হচ্ছে শূন্যে একা। বাবার স্যালুট করা অবস্থার ছবি। কলারে নানান ব্যাজ।

এর পাশের ছবি। বাবা দাঁড়িয়ে। শাবল কাঁধে। পিছনে ক্ষেত। মাথায় টুপি। টুপিটার লম্বা ছায়ায় মুখ ঢেকে গেছে প্রায়।

এর পরের ছবিতে ট্রাকের স্টিয়ারিংয়ের পিছনে বাবা। গরুতে বোঝাই ট্রাক। সপ্তায় সপ্তায় বাবা গরু বোঝাই করে নিয়ে যেত কসাইখানায়। বাবার মুখ দেখাচ্ছে সরু। চোয়াড়ে। (সম্পূর্ণ…)

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০০৯

নিজের একটি বই নিয়ে হার্টা ম্যুলার

শুভাশীষ দাশ | ৯ অক্টোবর ২০০৯ ১:২৮ পূর্বাহ্ন

hm300.jpg…….
হার্টা ম্যুলার (জন্ম. রুমানিয়া ১৭/৮/১৯৫৩)
…….
হার্টা ম্যুলার জার্মান কবি। ঔপন্যাসিক। জন্ম ১৯৫৩ সালে রুমানিয়ার ট্রান্সিলভেনিয়ায়। তাঁর পরিবার ছিল রুমানিয়ায় সংখ্যালঘু জার্মান সম্প্রদায়। পড়াশোনা করেছেন জার্মান ভাষা ও রোমান সাহিত্যের উপর। রুমানিয়ার রাজনৈতিক একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণে চাকরি হারান। চসেস্কুর আমলে। তারপর জীবিকার জন্য বাচ্চাদের স্কুলে চাকরি নেন। ম্যুলারের বাবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসীদের অঙ্গসংগঠন ওয়াফেন এস এসে ছিলেন। তাঁর মাকে পাঁচ বছরের জন্য তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার শ্রমশিবিরে পাঠানো হয়। নিজে কমিউনিস্টদের চর না হতে চাওয়ায় পুলিশ কর্তৃক অনেকবার হেনস্থা হন। প্রথম বই প্রকাশ পায় ১৯৮২ সালে। বইয়ের নাম ‘নিদারুনজেন’ বা Lowlands। বইটি সেন্সরশিপের তোপে পড়ে। ১৯৮৭ সালে রুমানিয়া থেকে জার্মানি চলে যান। তারপর থেকে নির্বাসিত জীবন বার্লিনে। ম্যুলারের সাহিত্যে জীবনের টানাপোড়েন গভীরভাবে প্রকাশ পায়। তাঁর কাব্যিক গদ্যে রয়েছে তীব্র শ্লেষ আর হাস্যরস। লিখেন জার্মান ভাষায়। ইংরাজীতে অনুদিত তাঁর বইয়ের মধ্যে রয়েছে Lowlands, The Passport, The Land of Green Plums, Traveling on One Leg, The Appointment, Breath Swing ইত্যাদি। রুমানিয়ার লেখক রিচার্ড ভাগ্নার তাঁর স্বামী। অনেক সাহিত্যের পুরস্কার পেয়েছেন। সর্বশেষ সংযোগ ২০০৯ সালের সাহিত্যের নোবেল। কম্যুনিজমের পতনের বিশ বছর পূর্তির সময়ে তিনি পেলেন এই সন্মাননা। নোবেল কমিটির ভাষ্য: “ম্যুলারের কবিতার গভীরতায় আর সহজ গদ্যে বঞ্চিতদের বয়ান নিঁখুত ফুটে ওঠে।” নাম ঘোষণার সময় সুইডিশ একাডেমির কর্মকর্তা পিটার এনগ্লান্ড জানান: “একদিকে যেমন ম্যুলারের রয়েছে স্বতন্ত্র গদ্যভঙ্গী তেমনি তাঁর লেখায় রয়েছে স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে বেড়ে ওঠার হাহাকার…।”

জার্মান পত্রিকা Frankfurter Rundschau-এর নিকোল হানবার্গ হার্টা ম্যুলারের সাক্ষাৎকারটি নেন। বিষয় ছিল তাঁর সাম্প্রতিক বই Breath Swing; বইটি জার্মান বুক পুরস্কারের জন্য মনোনীত।

অনুবাদ: শুভাশীষ দাশ

নিকোল হানবার্গ: জার্মান সংখ্যালঘুদের রুমানিয়ায় চলে যাওয়ার ব্যাপারটা এক ধরনের নিষিদ্ধ আলোচনা হয়ে উঠলো কীভাবে?

হার্টা ম্যুলার: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রুমানিয়া কিছুটা জার্মানির পক্ষে ছিল। সেসময় থেকে শুরু। তবে যুদ্ধ শুরুর পর রুমানিয়া সোভিয়েতের পক্ষ নেয়। যুদ্ধশেষে সোভিয়েতের পক্ষে থাকার বিষয়টা কেবল বলা হয়। অন্যটা বেমালুম চেপে যাওয়া হয়। যুদ্ধের জন্য রুমানিয়ার সীমান্তে জার্মান সংখ্যালঘুদের জন্য সাহায্যের আবেদন হয়। তখনো রুমানিয়ার সেনাবাহিনী স্টালিনগ্রাদে। ইতিহাস মুছে ফেলায় বেশির ভাগ রুমানিয়ার লোক আসল কথা জানে না। ইউক্রেনের অনেক লোক বিশ্বাস করেন না শ্রমশিবিরের অস্তিত্ব। সাবেক সোভিয়েতরা যাবতীয় চিহ্ন মুছে ফেলেছে। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকা ক্লাব ও লুঙ্গি বিতর্ক

ঢাকা ক্লাব ও বাংলাদেশে ঔপনিবেশিক ঘৃণা চর্চা

ফরিদা আখতার | ৮ অক্টোবর ২০০৯ ১১:৫৫ অপরাহ্ন

কিছুদিন আগে ঢাকার শাহবাগে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী রোডে অবস্থিত ঢাকা ক্লাবে ঢোকার সময় প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা রক্ষীদের বাধার সম্মুখীন হন কবি ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার। লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ঢাকা ক্লাবে প্রবেশ করা যাবে না এমন আপত্তির মুখে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি বহুদূর গড়ায় এবং ক্লাবের উচ্চপদস্থ একজন কর্তার সঙ্গে ফরহাদ মজহারের বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এখানে লেখক ও নারী আন্দোলন কর্মী ফরিদা আখতার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল তা বর্ণনা করেছেন। এ লেখায় তিনি ঢাকা ক্লাবের ব্যাপারে ‘ঘৃণা চর্চা’র অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। আর্টস-এ এ বিষয়ে আগ্রহীরা তাদের মতামত জানাতে পারেন। উল্লেখ্য ঢাকা ক্লাব নির্মিত হয় ১৯১১ সালের ১৯ আগস্ট। ঢাকার নওয়াব পরিবার ঢাকা ক্লাবকে ভূমি লিজ দিয়েছিল। বি. স.

ঢাকা ক্লাবের ঘটনা এখন নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে। সেদিন ছিল ২রা অক্টোবর। সেই ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। ঢাকা ক্লাবে আমরা পারিবারিকভাবে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম আমাদের ভাতিজি, কেয়া ফারহানার মেয়ে সাফায়রার প্রথম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে। কেয়া যখন আমন্ত্রণ
—————————————————————–
ফরহাদ মজহার বাড়াবাড়ি করেছেন, ইচ্ছে করে ঘটনা ঘটিয়েছেন এমন কথা হচ্ছে কয়েকটি পত্রিকায় এবং ঘটনার কয়েকদিন পরে।… একটি স্বাধীন দেশে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যে-পোশাক পরে, যে-পোশাক আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেই পোশাক পরার ক্ষেত্রে বাধানিষেধ জারি রাখার বিধান বহাল রাখার ঔপনিবেশিক ‘নিয়ম’ বা ঔদ্ধত্য কোন প্রতিষ্ঠানের থাকতে পারে কি না। ব্যক্তি, ক্লাব, প্রাইভেট প্রপার্টি, সংগঠন, সমিতি যাই বলি না কেন তারা কি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বাইরে? সংবিধানের বিরোধী বা সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোন ‘কোড’, ‘আইন’, বা ‘বিধান’ বহাল রাখতে পারে কি কেউ?
—————————————————————-
জানাবার জন্যে ফোন করে, অনুষ্ঠানের স্থান ঢাকা ক্লাবের কথা শুনেই ফরহাদ মজহার বলেছিলেন ‘ওখানে আয়োজন করেছিস? আমি তো লুঙ্গি পরে চলি…।’ কেয়া শুনে মন খারাপ করেছিল। ভেবেছে কাকা বুঝি আসতে চাইছে না। তার স্বামী তখন তার কাকা যেন আসতে পারে তার জন্য নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণ করে। কাকা আসতে যেন কোন অসুবিধা না হয় সেই জন্য বিশেষ ভাবে বলা থাকবে রিসেপশনে, এই কথা জানানো হোল সেদিন বিকেল ৫টার দিকে। (কেয়ার স্বামীর চাচা আবু জাফর আজাদ সদস্য বলে জন্মদিনের ভেন্যু হিসেবে হল ব্যবহারের সুযোগটি পেয়েছে)। ফলে ভাতিজির মন রক্ষা করার জন্যে, তার মেয়ের জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্যই সেদিন ফরহাদ মজহারের ঢাকা ক্লাবে যাওয়া। কেয়ার মা নেই, তার দাদীর বিশেষ আদরের নাতনী কেয়া—তাকে কষ্ট দিতে চাননি তার কাকা ফরহাদ মজহার।

fmazhar.jpg……
ফরহাদ মজহার (জন্ম. নোয়াখালী, ১৯৪৮)
…….
অনুষ্ঠানটি ছিল রাত ৮টায়, ক্লাবের গেস্ট হাউজের নীচতলার হল রুমে। যেটা তারা বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দিয়ে থাকে। আমরা গাড়ি নিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। গাড়ি থেকে নামতেই ওদের সামনে পেলাম। রিসেপসনের সামনে দিয়ে বাঁ দিকে হল রুমের দিকে ঘুরতেই রিসেপসন কাউন্টারের একজন তরুণ বয়সের কর্মচারী বললেন, ‘এক্সকিউজ মী, লুঙ্গি এখানে এলাউড নয়।’ বলাটা এমন ছিল যে যদি আর এক কদম এগিয়ে যাওয়া হয় তাহলে তারা আটকাবে। সাথে সাথেই ফরহাদ মজহার ঘুরে রিসেপশন কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়ালেন। (সম্পূর্ণ…)

আর. কে. নারায়ণ-এর গল্প

ঈশ্বরণ

আনিকা শাহ | ৬ অক্টোবর ২০০৯ ২:৪৭ অপরাহ্ন

rk_narayan-3.jpgভারতীয় ঔপন্যাসিক রসিপুরম কৃষ্ণসোয়ামি আয়ার নারায়ণস্বামী-এর জন্ম ১৯০৬ সালে মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই)। নারায়ণ ইংরেজিতে লেখালেখি করেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস Swami and Friends বেরিয়েছিল ১৯৩৫ সালে। ঔপন্যাসিক গ্রাহাম গ্রিন এটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন। গ্রাহাম গ্রিনের পরামর্শে তিনি নাম সংক্ষিপ্ত করে আর. কে. নারায়ণও করেছিলেন। তাঁর উপন্যাস The Financial Expert মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। আর. কে. নারায়ণের ১৫টি উপন্যাসের ১৪টিরই পটভূমি কাল্পনিক শহর মালগুডি। নিখুঁত সৌন্দর্যমণ্ডিত, বুদ্ধিদীপ্ত, জীবনঘনিষ্ঠ ও উপলব্ধিজাত তাঁর লেখার বর্ণনা প্রায়শই দক্ষিণ ভারতের গ্রামজীবন ছুঁয়ে যায়। ২০০১ সালে মারা যান আর. কে. নারায়ণ। আর. কে. নারায়ণকে আমেরিকান ঔপন্যাসিক উইলিয়াম ফকনারের সঙ্গে তুলনা করা হয়। মানবিকতায় ঋদ্ধ তাঁর লেখালেখিতে প্রাত্যহিক জীবনের আনন্দ ও প্রাণশক্তি টের পাওয়া যায়।

cartoon-r-k.jpg
…….
(বড়ভাই) ইন্ডিয়ার জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট আর. কে. লক্ষণের কার্টুনে লেখক আর. কে. নারায়ণ
……
আর. কে. নারায়ণের প্রবাদপ্রতীম গ্রহণযোগ্যতা সত্ত্বেও কিছু সমালোচনা হয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার কিছুদিন পর ভারতেরদি হিন্দু পত্রিকায় লেখক ও সমালোচক শশি থারুর ‘Comedies of Suffering’ লেখায় এভাবে বলেছিলেন, “Narayan was a consummate teller of timeless tales, a meticulous recorder of the ironies of human life, an acute observer of the possibilities of the ordinary: India’s answer to Jane Austen… …But I felt that they also pointed to the banality of Narayan’s concerns, the narrowness of his vision, the predictability of his prose, and the shallowness of the pool of experience and vocabulary from which he drew.”

অনুবাদ: আনিকা শাহ

জুনের এক বিকেলে, যখন মালগুড়ির তাবৎ ছাত্রসমাজের মনে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার রেজাল্ট পাবার উত্তেজনা আলোড়ন তুলছিল, সেই সময়ে ঈশ্বরণ নির্বিকার এবং নির্লিপ্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।

ঈশ্বরণ ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসের সবার মধ্যে বয়োজেষ্ঠ্য হবার খ্যাতি অর্জন করেছিল। সে অ্যালবার্ট মিশন স্কুলে এসেছিল ঠোঁটের উপর অস্পষ্ট গোঁফের রেখা নিয়ে, একজন তেজী তরুণ হিসেবে। এখনও অবশ্য তাকে সেখানেই দেখা যাচ্ছিল। শুধু তার গঠন হয়ে উঠেছিল আরও বলিষ্ঠ ও পেশিবহুল এবং চিবুকও তামাটে আর দৃঢ় দেখাচ্ছিল। কেউ কেউ এমনকি এ কথাও বলে যে ঈশ্বরণের মাথায় নাকি সাদা চুল দেখা যায়। প্রথমবার সে যখন ফেল করল তখন তার পরিবারের সবাই তাকে সমবেদনা জানালো। দ্বিতীয়বারও সে তাদের সমবেদনা আদায় করে নিতে সক্ষম হল। কিন্তু ধীরে ধীরে তারাও ছিদ্রান্বেষী আর নাছোড় হয়ে উঠল এবং এক সময় ঈশ্বরণের উপর্যুপরি অকৃতকার্যতায় তার পরীক্ষার উপর থেকে সমস্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলল। ওর বাবা-মা ওকে প্রায়ই বলতেন, “তুই লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে কাজের কাজ কিছু করতে পারিস না?” আর ঈশ্বরণও প্রতিবার মিনতি করে বলত, “আমাকে এই শেষবারের মত চেষ্টা করতে দাও।” সে গভীর অনুরাগ নিয়ে নাছোড়বান্দার মত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার পেছনে লেগে থাকত। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com