বাংলা সিনেমার নজরুল

আহমাদ মাযহার | ২৮ আগস্ট ২০০৯ ৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

narod_nazrul.jpg……
ধ্রুব (১৯৩৪)ছবিতে নবীন নারদের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম
……
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন নানাদিক-অভিমুখী সৃষ্টিমাতাল এক মানুষ। ভারতবর্ষের সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক চাঞ্চল্যের এমন এক যুগে তাঁর জন্ম যখন এ-অঞ্চলের মানুষের মধ্যে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা সবে জেগে উঠতে শুরু করেছে। ইহজাগতিকতা ও মানবিকতার বোধ, অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা, তীব্র আত্মজাগরণাকাঙ্ক্ষা ও সিসৃক্ষার উদ্দীপনা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য তখন বাংলাদেশের বেশ কিছু মানুষের মধ্যেই স্ফুরিত হয়েছিল। সকলেই হয়তো স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিভার তুঙ্গকে স্পর্শ করতে পারেন নি, জীবনের সামগ্রিক সংগ্রামের চিহ্নও হয়তো উজ্জ্বলিত হতে পারে নি তাঁদের কারও কারও
—————————————————————–
রবীন্দ্রনাথের গান সঠিক সুরে গাওয়া হয়নি এই মর্মে বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রসঙ্গীত অনুমোদন বোর্ড গোরা (১৯৩৮) ছবিটি সম্পর্কে আপত্তি জানিয়েছিল। ফলে ছবি মুক্তির ব্যপারে সৃষ্টি হয়েছিল জটিলতা।… নজরুল কিছুমাত্র চিন্তা না করে ছবির ফিল্ম এবং প্রজেক্টর নিয়ে সোজা বিশ্বভারতীতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করেন। সব শুনে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘কী-কাণ্ড বল তো? তুমি শিখিয়েছ আমার গান আর ওরা কোন্‌ আক্কেলে তার দোষ ধরে। তোমার চেয়েও আমার গান কি তারা বেশি বুঝবে? আমার গানে মর্যাদা কি ওরা বেশি দিতে পারবে?’ নজরুল তখন রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে একটি খসড়া অনুমোদনপত্রে সই করিয়ে নিয়েছিলেন।
—————————————————————-
জীবনে। কিন্তু স্বীকার করতে হবে যে এই অঞ্চলের বেশ কিছু ব্যক্তিমানুষের মধ্যে উপর্যুক্ত মানবিক বোধসমূহের জাগরণ দেদীপ্যমান হয়ে উঠেছিল। কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সেইসব মানুষদের মধ্যেও অগ্রগণ্য। বাংলার রেনেসাঁসের উপর্যুক্ত প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো বিপুলভাবে সমাহৃত হয়েছিল নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবনে। সামগ্রিকভাবে নজরুল সম্পর্কে এ-কথা মনে রাখলে আমাদের পক্ষে অনুভব করতে সুবিধা হবে চলচ্চিত্রের মতো নতুনতর শিল্পমাধ্যমে তাঁর যুক্ত হবার সূত্রকে। (সম্পূর্ণ…)

কিস্তি ২

ছফামৃত

নূরুল আনোয়ার | ২৮ আগস্ট ২০০৯ ২:০৭ পূর্বাহ্ন

শুরুর কিস্তি

(কিস্তি ১-এর পর)
sofa-23.jpg…….
আহমদ ছফা (জন্ম. চট্টগ্রাম ৩০/৬/১৯৪৩ – মৃত্যু. ঢাকা ২৮/৭/২০০১)
…….
আমাদের মূল বাড়িটা ছিল দোতলা। তাতে রেলিং বারান্দা ছিল, যদিও ওটা ছিল মাটির ঘর। বাড়িটির ওপরে ছিল টিনের ছাউনি। তার সামনে ছিল লম্বা কাছারি ঘর। কাছারি ঘরের একটা কক্ষে থাকতেন ছফা কাকা। শুনতে পাই, তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি এক সময় ভেঙে গেলে বেশ কয়েক বছর এ কাছারি ঘরটিকে স্কুল হিসেবে ব্যবহার করা হত। মূল বাড়িটা এখন আর নেই। ঊনিশ শ’ একান্নব্বই সালের ঘূর্ণিঝড়ে সেটি ভেঙে গিয়েছিল। পরে ঠিকঠাক করা হলেও ১৯৯৩ সালে বাড়িটি সম্পূর্ণভাবেই নষ্ট হয়ে যায়। যা হোক, মূল ঘর এবং কাছারি ঘরের মাঝখানে ছিল সুবিশাল উঠোন। আমরা ছোটকালে দেখেছি এই উঠোনের একপাশে নানা জাতের ফুলের গাছ। সাধারণত ওই এলাকায় কোনো মুসলিম পরিবার ফুলের গাছ লাগানো হত না। ফুলগাছ লাগাত হিন্দুরা। হয়ত পূজা-অর্চনার জন্য ফুলের দরকার ছিল বলে তারা ফুলগাছ লাগাত। মুসলমানদের পূজাও করতে হয় না, তাই ফুলেরও দরকার পড়ে না। কিন্তু ফুলগাছের জন্য আমাদের বাড়িটা ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এ সকল ফুলের গাছ কাকা হিন্দুপাড়া থেকে এনে লাগিয়েছিলেন। তিনি কারও কাছে গাছ চেয়ে না পেলে পরদিন মালিকের অগোচরে তা উঠিয়ে নিয়ে আসতেন। গাছ লাগানোর যে বাতিক সেটা তাঁর ছোটবেলা থেকে ছিল।

ফুলের পাশাপাশি তাঁর আরেকটা জিনিসের প্রতি আগ্রহ ছিল সেটি হল বই। কোনো বই পছন্দ হলে সেটি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিস্তার ছিল না। একটা ঘটনা এরকম :

sofa-jonmo-bari.jpg…….
যে বাড়িতে আহমদ ছফা জন্মেছিলেন। আড়াই তলা এই মাটির বাড়িটি এখন আর নেই। ছবি: আহমদ ছফা ১৯৯১
……..
কাকা হিন্দুপাড়ার কালি মন্দিরে গিয়ে দেখতে পান রামায়ণ, মহাভারত। তাঁর ইচ্ছে তিনি বই দুটি এনে পড়বেন। কিন্তু মন্দিরের ঠাকুর মশায় তাঁকে বই দুটি দিতে রাজি নন। পরের দিন ছফা কাকা কোন ফাঁকে গিয়ে বই দুটি নিয়ে আসেন। ঠাকুর মশায় তাঁর বই না পেয়ে ধারণা করেছিলেন এটা ছফারই কাণ্ড। তিনি হন্তদন্ত হয়ে আমাদের বাড়িতে ছুটে এসেছিলেন। হিন্দুদের সঙ্গে আমাদের পরিবারের একটা সুন্দর সম্পর্ক ছিল। ফলে আমার দাদা তাঁকে বসতে দিয়ে আপ্যায়ন করিয়েছিলেন। নানা কথা বলতে বলতে তিনি সবিশেষ জানতে পেরেছিলেন ছফা কাকা কালি মন্দির থেকে বই চুরি করেছেন। ছেলের এমন অপকর্মের কথা শুনে আমার দাদা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন। ইতোমধ্যে ঠাকুর মশায়ের আগমন টের পেয়ে ছফা কাকা আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

কিস্তি ২

এডওয়ার্ড সাঈদের সাথে সংলাপ / তারিক আলী

হোসেন মোফাজ্জল | ২৩ আগস্ট ২০০৯ ১১:৫৫ অপরাহ্ন

কিস্তি ১

es11.jpg
এডওয়ার্ড সাঈদ (জন্ম. জেরুসালেম ১/১১/১৯৩৫, মৃত্যু. নিউ ইয়র্ক সিটি ২৫/৯/২০০৩)

অনুবাদ: হোসেন মোফাজ্জল

(কিস্তি ১-এর পর)

মিউজিক নিয়ে

একটা পর্যায়ে এসে আপনার কি মনে হয়েছে আপনি পেশাদার মিউজিশিয়ান হবেন?

বেশ, আমি এ নিয়ে টাইজারমানের সাথে আমার টীন্এজ্ বয়সের শেষের দিকে এবং বিশ বছরের শুরুর দিকে মেলা কথা বলেছি কিন্তু সবসময় আমি কেমন জানি একটা অসুবিধা বোধ করতাম। আর তা হলো আমার মনে হয়েছে একজন পারফর্মার হলে পরে, আসলে সেটা আরও অনেক অনেক কিছুরই পথ রোধ করে দেয়, যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক দিকগুলো। আর তাছাড়া আমার আসলে একবারে ছোটবেলা থেকে তেমন কোনো সঠিক ট্রেনিংও ছিল না। টাইজারমানের কাছে আমি গিয়েছি নয় বা দশ বছর বয়েসে, আমার টেকনিক্যাল ফরমেশনটা ওখানেই হয়েছে। কিন্তু আমি যখন সিরিয়াসলি এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠি তখন আমার বয়স আঠারো কি ঊনিশ, আমার মনে হয়েছে মেলা দেরী হয়ে গেছে। আমি এটাও ভেবেছি এ রকম একটা জীবন আমার জন্যে হবে অসম্ভব। কারণ এটা আমাকে টুকরো করে ফেলবে, বলা চলে পুরোপুরি, আমার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টাকে। স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয় এ দুজা’গাতেই আমি যে সব মিউজিশিয়ানদের জানি, আমার কাছে মনে হয়েছে তারা খুবই আচানক স্বভাবের লোকজন। কেবল টাইজারমান বাদে, বলা চলে আসমান থেকে পাওয়া, যিনি কি-না আবার মিশরে বসবাস করেন। তিনি নিজেকে অনেক বিশাল করেই তৈরি করেছিলেন, সেটা হচ্ছে একজন অনন্য ব্যক্তি হিসেবে… আমি তাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম—আপনি ইসরায়েল যাচ্ছেন না কেন? তার জীবনের শেষের দিকটাতে, তখন খুবই খারাপ সময় যাচ্ছিল, ১৯৬৭ যুদ্ধের শুরুতে। উনি বললেন, বাবারে আমি যদি ইসরায়েলে যাই, আমার মতো ভুরিভুরি লোক সেখানে আছে! এখানে আমি কেবল মাত্র একজন! তাই তিনি ছিলেন অপ্রত্যাশিত ভাবে পাওয়া, আপনি যাকে পরিহারের চেষ্টা করতে পারবেন না। তাছাড়া ইঁদুর দৌড়, প্রতিযোগিতা, আর বাকি সবই ছিল বড়রকমের বিরক্তিকর। ঠিক বিশ, একুশ বছর বয়সে এসে বলা চলে আমি ওসব ভাবনা পুরোপুরি পরিত্যাগ করি।

এ নিয়ে কখনো কি আক্ষেপ হয়েছে…

না, একেবারেই না, চূড়ান্ত ভাবে না। না। আমি বাজনা চালিয়ে যাই এবং বিভিন্ন উপায়ে সঙ্গীত নিয়ে আমার আগ্রহ চলতে থাকে। তাই এ নিয়ে আমার কোনো প্রকারের আক্ষেপ নেই। (সম্পূর্ণ…)

কবি ও সরস্বতী

ফরহাদ মজহার | ১৭ আগস্ট ২০০৯ ২:৩৭ পূর্বাহ্ন

saraswati.jpg
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে দেবী সরস্বতীর মূর্তি। উল্লেখ্য বালিতে জ্ঞানের দেবী হিসাবে সরস্বতীর মূর্তি প্রায় সব স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শোভা পেয়ে থাকে।

গাজী রকিব আমাকে দুটো প্রশ্ন করেছেন। খুবই কঠিন প্রশ্ন। কবিতায় বিবর্তন কী? আমি কী করে জানি? প্রশ্ন করেছেন নিজের কবিতায় আমি যেভাবে বিবর্তিত হই সেই সব কথা যেন বলি। হই কি? কে জানে? আমি উত্তর দেবার ভয়ে দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়িয়েছি। কিন্তু রকিবের প্রশংসা না করে উপায় নাই। আমার জীবনে লেখা আদায় করবার জন্য হাজার বার টেলিফোনের স্মৃতি ভুলবার নয়। আমি এখানে কি আসলে তার প্রশ্নের উত্তর দিলাম? নাকি শুধু টেলিফোনের সাড়া দিয়েছি মাত্র? কিন্তু কিছু যদি এখন লিখে থাকি উত্তর দিয়েছি আন্তরিকভাবেই। কোনো ভনিতা না করে।

প্রশ্ন, ‘কবিতায় বিবর্তন কী?’ খুবই গুরুগম্ভীর প্রশ্ন। মাথা চুলকিয়ে আমি ভাবছিলাম আমি কি ‘কবি’ হিশাবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেব, নাকি কাব্যতত্ত্বের জায়গা থেকে? কাব্যতত্ত্ব কবিতা বানায় না কবিতাকে কবিতা
—————————————————————–
কবি ভাষা ব্যবহার করে—আর দশজন যে-বাংলা ব্যবহার করে—শিক্ষিত, নিরক্ষর, জ্ঞানী অজ্ঞানী কবি বা অকবি—সেই সামাজিক ভাষাটাই কবি ব্যবহার করে, কিন্তু একই সঙ্গে কবিতা মানে সেই ভাষাকে নাকচ করে দেওয়া। অথচ কবির ট্রাজেডি হচ্ছে ওখানে যে বিদ্যমান ভাষা বা অন্য সব কবিরা যে ভাষায় লেখেন সেই ভাষার ইতিহাসের মধ্যে দাঁড়িয়েই কাব্যভাষা কোনো একটা অর্থ, প্রতিক্রিয়া বা ইংরেজিতে যাকে বলে ইফেক্ট—সেটা তৈরি করে। ভাষার মধ্যে থেকেও কাব্য ভাষার বাইরে কী যেন একটা ব্যাপার হয়ে যতটুকু হাজির থাকতে সক্ষম হয় ততটুকুই কাব্য।
—————————————————————-
হিশাবে বুঝতে সাহায্যও করে না, তবে কবিতার সমাজতত্ত্ব, অর্থনীতি, কবিতার গঠনবর্ণনা ইত্যাদি বুঝতে সহায়ক হয়। পদ্যের পয়দা হওয়ার কারণ অন্যত্র। কিছু কিছু জীব আছে সমাজে, যারা সমাজে বাস করে অবশ্যই, কিন্তু আবার ঠিক সমাজে ‘বাস’ করে না। বরং বাস করে জর্মন দার্শনিক হেইডেগার যেমন বলেছিলন—ভাষার মধ্যে। চিহ্নব্যবস্থায়। অবশ্য মানুষ আদৌ ভাষার বাইরে ‘বাস’ করতে পারে কিনা সেটা দর্শনের জগতে একটা বড়সড় তর্ক হয়ে রয়েছে। সমাজের মধ্যে থেকে সেই জীব ইন্দ্রিয়পরায়ণ জগতের মধ্যে নিজেকে নিজে রক্তমাংসের ফাঁদ বানিয়ে বসে থাকে, বড়ই বিচিত্র এই প্রাণী। তার সাধ এখনও যেসব নিরাকার বিষয়াদি শব্দ, অক্ষর বাক্য ইত্যাদিতে ধরা পড়ে নি, সে সেই অধরাকে ভাষায় বা কোনো না কোনো চিহ্নে, দাগে, বর্ণে, বিন্যাসে ধরবে। এই প্রাণীকুলেরই সাধারণ নাম ‘কবি’। (সম্পূর্ণ…)

খাগড়াছড়ির ‘সিস্টেম হোটেল’

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১৬ আগস্ট ২০০৯ ১০:১০ পূর্বাহ্ন

system-2.jpg
সিস্টেম হোটেলের প্রবেশদ্বার

মাঘের প্রথমার্ধে খাগড়াছড়ি যাবার তারিখ পড়লো। মেয়ে রুবাই, জামাই সাজ্জাদ, স্ত্রী রুবি এবং আমি–যাত্রীরা সবাই পার্বত্য খাগড়াছড়িতে মাঘের শীতে পর্যুদস্ত হবার আশঙ্কায় প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র সঙ্গে নেবার বিষয়ে একমত হলাম। পার্বত্য ঐ জেলাসদরে সাজ্জাদ বেড়াতে গিয়েছিল গত বছর। আমরা এর আগে যাইনি। পর্যটন মোটেলে ঘর বুক করেছে সাজ্জাদ। ওদের পাড়াতেই পর্যটনের অফিস। কলাবাগানে সাউদিয়ার অফিস থেকে খাগড়াছড়ির কোচের টিকিট নেয়া হয়েছে। রুবাই, সাজ্জাদ আগের দিন সন্ধেয় ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ আমাদের বাসায় চলে এল।

সকাল সাড়ে সাতটায় আমরা কলাবাগান থেকে বাসে উঠব। ভোরে উঠে ব্যায়াম সেরে আমি ওদের ডাকলাম। রুবি, ফরিদা উঠে নাশতা তৈরি করল। ফরিদাকে ছোট শ্যালক মারুফের বাসায় রেখে এলাম আমি। ভোরে রাস্তা ফাঁকা, পুলিশ নেই, পথচারিও নেই। ভোঁ ভোঁ করে শ্যামলী যেতে আসতে মোটে কুড়ি মিনিট সময় গেল। কিছু খাবার ক্যাসারোলে নেয়া হল। ফল আর বিস্কুটও রইল সঙ্গে। ট্যাক্সি পেল না আমাদের কেয়ারটেকার। সাজ্জাদ একটা অটো রিক্‌শ’ ধরে নিয়ে এল। চার প্যাসেঞ্জার, চার ব্যাগ নিয়ে রিক্‌শ’ আমাদের কলাবাগান সাউদিয়ার ডিপোতে নামিয়ে দিল। প্রচণ্ড শীত এবং ঘন কুয়াশা। বাস ছেড়ে দিল। ঢাকা শহরের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে যাত্রী উঠিয়ে যেতে যেতে চালক ৪৫ মিনিট পার করে দিল। কুয়াশা খানিকটা পাতলা হল বটে, কিন্তু সূয্যিদেবের দেখা নেই।

কুয়াশার চাদর যেমন ভারী থেকে হালকা হল ক্রমশঃ, আমরাও তেমনি মেঘনা সেতু, দাউদকান্দি সেতু, ইলিয়টগঞ্জ পেরিয়ে গেলাম। মোটামুটি চারঘণ্টা ধীরেসুস্থে চলে ১১.৩০ মিনিটে চৌদ্দগ্রামে যাত্রা বিরতি করলাম। নেমে টয়লেট সেরে খাবারের সন্ধান করলাম। সঙ্গের খাবার আর রেস্তোরাঁর পরোটা, শাকভাজি, মুরগি ভুনা, গোরু ভুনা আর চা-কফি সহযোগে লাঞ্চ সারা গেল। বেরিয়ে এসে দেখলাম, চালক তখনো আসেননি। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের দুঃসময়ের রবীন্দ্রনাথ

আহমাদ মাযহার | ৬ আগস্ট ২০০৯ ১২:১১ পূর্বাহ্ন

jainul_rt.jpg
জয়নুল আবেদিনের আঁকা রবীন্দ্রনাথ

পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রনাথ বাঙালির কাছে, আরও নির্দিষ্ট করে বললে বাঙালি-মুসলমান মধ্যবিত্তের কাছে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিলেন। বাংলাভাষার সৃষ্টিশীল মহৎ প্রতিভা হিসেবে রবীন্দ্রনাথ যে বাঙালি মাত্রের
boi_rt.jpg…….
রবীন্দ্রনাথ, সম্পাদক, আনিসুজ্জামান; প্রকাশ সাল: ২০০১; প্রকাশক: প্রথম অবসর সংস্করণ: এফ. রহমান, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, ৪৬ হেমেন্দ্র দাস রোড, সূত্রাপুর, ঢাকা ১১০০; [প্রথম সংস্করণের প্রকাশক: মোহাম্মদ ওহিদউল্লাহ, ষ্টুডেন্ট ওয়েজ, বাংলাবাজার, ঢাকা, ১৯৬৮]
……
কাছেই প্রাসঙ্গিক থাকবেন তা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু পাকিস্তানি আমলে বাস্তবে তা ছিল না। কারণ বৃটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্তির যে আকাঙ্ক্ষা সামগ্রিক অর্থে বাংলাভাষা-ভিত্তিক জাতির মধ্যেই জেগে উঠেছিল পাকিস্তান আন্দোলন তাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছিল। পাকিস্তান রাষ্ট্রকে বাংলার মুসলমান মনে করেছিল তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির উপায়। কিন্তু মুসলমানিত্ব যে
—————————————————————–
‘ন্যাশনাল ব্যুরো অব রিকন্সট্রাকশন’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান চালু করে সেই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা ভাবে আর্থিক সুবিধাদি দিয়ে দেশের সৃষ্টিশীল লেখক বুদ্ধিজীবীদের দিক থেকে বিরোধিতার সম্ভাবনাকে দীর্ঘকাল ঠেকিয়ে রাখতেও সক্ষম হয়েছিল আইয়ুব খানের তৎকালীন সরকার। কিন্তু যখন বলা হল পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্বার্থে রবীন্দ্রনাথকে বর্জন করতে হবে তখন পূর্ব-বাংলার লেখক বুদ্ধিজীবীগণ বিপন্ন বোধ করতে শুরু করলেন।… ১৯৬৭ সালের ২২ জুন পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে তথ্য ও বেতার মন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দীন এক সাংসদের এক প্রশ্নোত্তরে জানান যে, পাকিস্তানের বেতার টিভিতে পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী রবীন্দ্রসংগীত প্রচার করা হবে না… এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৯ জন সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এক বিবৃতি প্রচার করেন।
—————————————————————-
একেবারে তাদের বাঙালিত্বের গোড়া ধরে এভাবে টান মারবে তা পূর্ব-বাংলার মুসলমানরা ঠিক কল্পনা করতে পারে নি। যদিও পূর্ববাংলার মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া পাকিস্তানি শাসক চক্রের অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী বা বুদ্ধিজীবীগণ প্রথমে তেমন একটা প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন নি। কারণ সমাজের অগ্রসর মানুষ হিসাবে রাষ্ট্রীয় বৈষম্য তাদের স্পর্শ করে নি তেমনভাবে। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com