কিস্তি ১

ছফামৃত

নূরুল আনোয়ার | ২৮ জুলাই ২০০৯ ৬:৪২ পূর্বাহ্ন
লাইফ ইজ এ কম্প্রোমাইজ তত্ত্বে ছফার আস্থা নেই। আজকের বাংলাদেশে এমনি পষ্ট ও অপ্রিয়ভাষী আরো কয়েকজন ছফা যদি আমরা পেতাম, তাহলে শ্রেয়সের পথ স্পষ্ট হয়ে উঠত।
আহমদ শরীফ, ১৯৭২

04.jpg
আহমদ ছফা (জন্ম. চট্টগ্রাম ৩০/৬/১৯৪৩ – মৃত্যু. ঢাকা ২৮/৭/২০০১)

[২০০৯-এর জুলাই ২৮ তারিখে আহমদ ছফার মৃত্যুর আট বছর পূর্ণ হলো। জীবিত অবস্থায় আহমদ ছফাকে নিয়ে লেখক-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে নানান বিতর্ক ছিল। মৃত্যুর পরে তিনি এক অর্থে সে সব বিতর্ক ছাপিয়ে গুরুতর হয়ে উঠছেন। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তাঁকে নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে ও হচ্ছে। প্রায় সকলেই তাঁকে কাছে থেকে দেখেছেন এবং অন্তরঙ্গ ভাবে লিখেছেন। একই ছফা নানারূপে আবির্ভূত হয়েছেন সেসব লেখালেখিতে। আহমদ ছফার ভ্রাতুষ্পুত্র নূরুল আনোয়ার তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১৭ বছর। কাছ থেকে তিনি পিতৃব্য আহমদ ছফাকে যেভাবে দেখেছেন তা তুলে ধরেছেন ছফামৃত লেখাটিতে। আর্টস-এ আট থেকে দশ কিস্তিতে লেখাটি প্রকাশিত হবে। বি. স.]

কিস্তি ১
ছোটকাল থেকে আমি ছফা কাকাকে একজন অভিভাবক হিসেবে পেয়েছিলাম। তিনি আমাকে বাবা হয়ে শাসন করেছেন, গুরু হয়ে শিক্ষা দিয়েছেন এবং বন্ধু হয়ে আমাকে ভালবাসার গল্প শুনিয়েছেন। সুতরাং তিনি একাধারে আমার বাবা, আমার শিক্ষাগুরু এবং আমার বন্ধু। আজকের ছোটখাটো আমার যা অর্জন সবই ছফা কাকার বদৌলতে। তিনি পরিবারের একজন বলেই আমার প্রতি কর্তব্য করেছেন একথা আমি বলব না, খোঁজ নিলে দেখা যাবে পরিবারের ভেতরে বাইরে এ ধরনের দায়িত্ব তিনি আরও অনেকের নিয়ে থাকবেন। এসব কথা এ লেখার মুখ্য বিষয় নয়। তারপরেও ঘটনার প্রেক্ষিতে কিছু অপ্রাসঙ্গিক কথা হয়ত এসে যেতে পারে, যেগুলো না হলে লেখার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা আমার পক্ষে সম্ভব না-ও হতে পারে।

sofa_sultan.jpg……..
শিল্পী এস এম সুলতানের সঙ্গে
……..
ছফা কাকার জন্ম চট্টগ্রাম জেলার গাছবাড়িয়া গ্রামে ঊনিশ শ’ তেতাল্লিশ সালের ত্রিশে জুন। তাঁর মেট্রিকুলেশন সার্টিফিকেটে উল্লেখ পাওয়া যায় তাঁর জন্ম ঊনিশ শ’ বিয়াল্লিশ সালে। মেট্রিক পরীক্ষার সময়ে বয়স কম হওয়ার জন্য এক বছর কমিয়ে ঊশিশ শ’ বিয়াল্লিশ সাল দেখানো হয়েছিল বলে ছফা কাকা তাঁর এক লেখায় উল্লেখ করেছেন।

এক সম্ভ্রান্ত কৃষক পরিবারে ছফা কাকার জন্ম। তাঁর বাবার নাম হেদায়েত আলি। মা আসিয়া খাতুন। তাঁর সাত আট পুরুষ আগে শ্রীমল্ল নামের একজনের পরিচয় পাওয়া যায়। তারই নামানুসারে পরিবারটি শ্রীমল্ল বংশ নামে পরিচিত। শ্রীমল্লের কী পেশা ছিল বলা মুশকিল। তবে তাঁর পরের বংশধরদের কারও কারও নামের পাশে সওদাগর খেতাবটির উল্লেখ আছে। অনুমান করা যায় তাঁদের কেউ কেউ হয়ত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তাঁরা যা-ই করুন, তাঁদের আদি পেশা যে কৃষি ছিল তাতে কোনো ভুল নেই।
—————————————————————–
তাঁর পূর্ব-পুরুষ লাঙল ব্যবহার করে নিজেদের উন্নতির পথটি প্রশস্ত করেছিলেন। ঊনিশ শ’ চুরান্নব্বই সালে আমার বড় ভাইকে স্থানীয় বাজারে একটি বইয়ের দোকান দিয়ে বসিয়ে দিয়েছিলেন ছফা কাকা। তিনি ওই দোকানটির নামকরণ করেছিলেন ‘লাঙল গ্রন্থালয়’।…আমি তাঁর পালকপুত্র সুশীলকে নিয়ে ফার্মগেটের দোকান থেকে একটি বড় আকারের সাইন বোর্ড লিখিয়ে এনেছিলাম এবং এটি ঢাকা থেকে বাসে করে চট্টগ্রামের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে আমাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। গ্রামের লোক এ সাইন বোর্ডের মর্মার্থ বুঝতে না পারলেও একটা জিনিস ভালভাবে অনুমান করেছিল আহমদ ছফা এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন, তা নইলে দোকানের নাম ‘লাঙল গ্রন্থালয়’ হবে কেন?
—————————————————————-
ছফা কাকার এক পূর্ব-পুরুষ আল্লাহর সাধনা করতেন। তাঁর নাম ছিল আজিজ ফকির। তিনি চিরকুমার ছিলেন। ছফা কাকার বাড়ি থেকে তিন মাইল পুবে জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ে তিনি বাস করতেন। শোনা যায় তখন সেখানে বড় বড় বৃরে সমারোহ ছিল। বাঁশ, বেত ইত্যাদি সংগ্রহ করতে মানুষকে ওই পর্যন্ত গেলেই চলত। সেখানে বন্যপ্রাণীর উৎপাতও কম ছিল না। এখন সে জঙ্গলও নেই, বন্যপ্রাণীও নেই। মনুষ্যবসতি এতদূর প্রসারিত হয়েছে যে আগে যে ঘন বন ছিল সেটা অনুমান করা এক রকম দুষ্কর। তবে এখনও ছোট ছোট পাহাড়ের অস্তিত্ব বিদ্যমান। এই পাহাড়গুলো স্থানীয় ভাষায় টিলা নামে পরিচিত।

যুগ যুগ ধরে এ সাধক পুরুষটির প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধের কমতি ছিল না। শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পাহাড়ে তাঁর একটা মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই মাজারে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসে নানা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। প্রতি বছর তাঁর নামে ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাজারে ফকিরের ব্যবহৃত একটি পাটা এবং বাটনা রয়েছে যেগুলোকে মানুষ এখনও ভক্তিভরে স্পর্শ করে। এই সাধক পুরুষের নামে অনেক আজব গল্প প্রচলিত আছে। একটি ঘটনা এই রকম:

আজিজ ফকির বাঘ পুষতেন। তিনি বাঘের গলায় ডোলা ঝুলিয়ে পাশের বরুমতি নদীতে মাছ ধরতেন এবং সেই মাছ সাধক সাহেব বাঘকে নিয়ে খেতেন। একদিন বাঘ আজিজ ফকিরের মুখের কাছে মুখ এনে গন্ধ নিতে আরম্ভ করল। বাঘের এ কাণ্ড দেখে তিনি আহত হলেন। তিনি বললেন, এই যে বাঘ, আমি তোদের রেখে কোনোদিন কিছু খাইনি। আজ তোদের না জানিয়ে নদীতে ভেসে আসা একটা পেয়ারা খেয়েছিলাম, এতে যদি তোরা আমার দোষ ধরিস আমাকে খেয়ে ফেল? বাঘেরা কাল বিলম্ব না করে তাঁকে খেয়ে ফেলেছিল। (সম্পূর্ণ…)

রোল্যান্ড শার্বাটকে

বিশ্বশ্রেষ্ঠ এক গিটার নির্মাতার সঙ্গে

সাগর সরওয়ার | ২৭ জুলাই ২০০৯ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

roland-scharbatke3.jpg……
জার্মানির রোল্যান্ড শার্বাটকে (Roland Scharbatke); পৃথিবীশ্রেষ্ঠ তিন গিটার প্রস্তুতকারির একজন
……
অনেকেই বলেন ইসারলোন শহরের আবহাওয়ার নাকি কোনো চরিত্র বোঝা যায় না৷ ঠিক এমনটাই হলো সকালে যখন সেখানে পৌঁছলাম, তখন আকাশটা একটু মেঘলা ছিল৷ তারপর খটখটে রোদ্দুর৷ দুপুরের পর এক পশলা বৃষ্টিও হয়ে গেল৷

অদ্ভুত সুন্দর এক রোদের ছোঁয়া চারিদিকে৷ শান্ত এই শহরের সবচেয়ে পুরানো একটি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আমার প্রথমেই মনে হলো ভেঙে পড়বে না তো! দরজার খুঁজে তাতে টুং টাং শব্দের দরজাঘণ্টা বাজাতেই একজন এসে দাঁড়ালো৷ মুখে তাঁর হাসি৷ ‘গুটেন টাগ’ বা শুভ দিন বলে হাতটি বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “আমি রোল্যান্ড শার্বাটকে৷ আসুন ভিতরে আসুন।”

roland-scharbatke.jpg
কাজ করছেন শার্বাটকে

আমি একটু চমকালাম, আনন্দে৷ আমি রোল্যান্ড শার্বাটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছি৷ বিশ্বের তিন শ্রেষ্ঠ গিটার প্রস্তুতকারীর একজন৷ শার্বাটকেকে বলা হয় গিটারের সুনিপুণ কারিগর৷ তাঁর গিটারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে৷ আর তা হলো বাজনা, একেবারে একশ ভাগ বাজবে, এতে কোনো রকম সমস্যা থাকবে না৷ প্রকৃতির বাজনা যেন উঠে আসতে পারে গিটারে তার সকল ব্যবস্থাই তিনি করছেন৷

সিঁড়িটা কাঠের৷ দেয়ালটা ভাঙাচোরা৷ এই আস্তানাই শার্বাটকের স্টুডিও, কারখানা, ভালোবাসার জায়গা৷ আমাকে দেয়ালটি দেখিয়ে বললেন, “বলুন তো কত হতে পারে এর বয়স?”

জানি না।

আন্দাজ করুন।

আর কত শ খানিক বছর হবে হয়তো!

না আরও বেশি৷ শ তিনেক বছর তো হবেই৷

গিটারের কাজ শুরু হলো কবে?

সাংবাদিকতা রাখুন না৷ বরঞ্চ একটু গল্প করি। …গান শুনতে আমার বেশ ভালো লাগতো৷ এখানে ওখানে গিয়ে গান শুনতাম৷ দারুণ লাগতো সুরের ছোঁয়া, বাজনা৷ কিন্তু জানেন অদ্ভুত এক ভালোবাসা আমাকে ধরে রাখতো সেই গানের মধ্যে থাকা নানা ধরনের যন্ত্রের বাজনা৷ আমার জন্ম ১৯৫২ সালে৷ এই জার্মানিরই গোটা শহরে (টুরিঙ্গিয়া রাজ্য)৷ (সম্পূর্ণ…)

আমাদের ভাষা আন্দোলনের গাজীউল হক

আহমাদ মাযহার | ১৯ জুলাই ২০০৯ ২:৫৯ পূর্বাহ্ন

bangla-language-day-process.jpg
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের দেশে কোনও কোনও মানুষের একটি-দুটি কীর্তি কোনও কারণে বহুল উল্লিখিত হলে সেই মানুষটিরই জীবনের অন্যান্য উজ্জ্বলতা এই একটি কীর্তিরই বহুল উচ্চারণের নামাবলিতে ঢাকা পড়ে যায়। শুধু তাই নয়, এমনকী gaziul-haq-3.jpg…….
গাজীউল হক (জন্ম. ছাগলনাইয়া, নোয়াখালী ১৩/২/১৯২৯ – মৃত্যু. ঢাকা ১৭/৬/২০০৯)
……..
বহুল উল্লিখিত কীর্তিটিও যথেষ্ট পরিচ্ছন্নভাবে বিশ্লেষিত বা ব্যাখ্যাত হয় না বলে সেই মানুষটি শেষ পর্যন্ত একটা অস্পষ্ট কিংবদন্তী হয়ে বেঁচে থাকেন। ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের বেলাতেও এমনটিই ঘটেছে। গাজীউল হক যে ভাষাসৈনিক ছিলেন সে-কথাটিই কেবলমাত্র প্রচারিত তথ্য, কিন্তু ভাষাসৈনিক হিসাবে তাঁর ভূমিকাটি বাহান্নোর ভাষা-আন্দোলনে ঠিক কী ছিল তা তাঁর সমসাময়িক রাজনৈতিক কর্মীদের কারও কারও জানা থাকলেও উত্তর প্রজন্মের এমনকী সচেতন মানুষদেরও অনেকেরই তেমন জানা নেই। এর জন্য আমাদের সমাজের সামগ্রিক ইতিহাস-চেতনার অভাবই দায়ী।
—————————————————————–
তাঁর সাহসিকতার পরিচয় কেবল ভাষা আন্দোলনের সময়ই দেখা যায় নি। পরবর্তী সকল অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় সংগ্রামে গাজীউল হক অংশ নিয়েছেন। ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৪-র সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠক হিসাবে ও পরে জাতীয় পর্যায়ের লেখক এবং সংগঠকের ভূমিকায় তাঁকে পাওয়া গেছে। তাঁকে পাওয়া গেছে ১৯৮০-র দশক জুড়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে।
—————————————————————-
এ-কথা ঠিক যে ভাষা আন্দোলনে গাজীউল হকের ভূমিকা ছিল তাঁর সমগ্র জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। সেটা ছিল এমন এক সময় যখন নেতৃত্বের ভূমিকা পালনের ক্ষেত্র ছিল প্রস্তুত। কিন্তু কে হবেন ঐ যুদ্ধক্ষেত্রের নায়ক? এ প্রশ্নে আমরা যদি ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারিতে ফিরে যাই তাহলে দেখতে পাব যে গাজীউল হকের ভূমিকা সেখানে উজ্জ্বল! সেদিন রাতে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ’ যে বৈঠকে বসেছিল তাতে গাজীউল হক উপস্থিত না হয়ে অপেক্ষা করছিলেন ফজলুল হক হলে। ঐ বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয় তা জেনে ঠিক করবেন তাঁর কর্মপন্থা। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হল যে, সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হবে না। তাঁদের সিদ্ধান্ত এই কারণে যে, তাহলে গোটা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের ওপর জেল-জুলুম নেমে আসবে। এতে আসন্ন নির্বাচন পিছিয়ে যাবে। তাঁরা ভেবেছিলেন ভাষা আন্দোলনের পক্ষে জনসাধারণের ব্যাপক জমায়েত হবার সম্ভাবনা কম। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের ঐ সভার অধিকাংশ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতেই [১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে ১১, বিপক্ষে ৪] এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন অলি আহাদ ও আবদুল মতিন। তাঁরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে থাকলেও মোহাম্মদ তোয়াহা ভোটদানে বিরত থাকেন কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্ত না থাকায়। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ফজলুল হক হলে অবস্থানরত গাজীউল হক রাত সাড়ে বারোটার দিকে এই খবর পান। সর্বদলীয় সিদ্ধান্তে আওয়ামী মুসলিম লীগ, ছাত্রলীগ এবং সমস্ত রাজনৈতিক দল ১৪৪ ধারা ভঙ্গের বিরোধিতা করেছিল। শুধুমাত্র যুবলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা পরিষদের প্রতিনিধিগণ মত প্রকাশ করেন ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে। পরিষদের প্রতিনিধি তোয়াহার মতও ছিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় তিনি সরাসরি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে ভোট দিতে না পারলেও ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলেন। এখান থেকে শুরু হয় গাজীউল হকের ঐতিহাসিক ভূমিকার সূচনা। বাহান্নোর ঘটনার অন্যতম নায়কে পরিণত হন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

রৌরব (কিস্তি ১১)

লীসা গাজী | ১৯ জুলাই ২০০৯ ১:৫০ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১কিস্তি ২কিস্তি ৩কিস্তি ৪কিস্তি ৫কিস্তি ৬কিস্তি ৭কিস্তি ৮কিস্তি ৯কিস্তি ১০

(কিস্তি ১০-এর পর)

leesa-11.jpgরাবেয়ার মার খুব ভয় লাগছে। খালুজানের জন্য আটার রুটি চার পাঁচটা বেলে রেখেছে, খেতে বসলে গরম গরম সেঁকে দেবে। আপাতত হাতে আর কোনো কাজ নাই। সারা বাড়ি কবরের মতো ঠাণ্ডা মেরে গেছে। এতটাই ঠাণ্ডা যে বারান্দা থেকে একটানা ঝিঁঝির ডাক রান্নাঘর থেকেও শোনা যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে ছেদ পড়ছে আবার শুরু হচ্ছে। বারান্দার দরজা বন্ধ করে আসা দরকার। মুখলেস সাহেব কিছুক্ষণ আগে বসার ঘরে গিয়ে বসেছেন। বারান্দায় মনে হয় ঠাণ্ডা লাগছিল। গরম চাদরে গা মাথা জড়িয়ে রেখেছেন। বারান্দার দরজা খোলা দেখলে
—————————————————————–
তলানির পানি প্লাস্টিকের টেবিল ক্লথের উপর দিয়ে কাঁচের মার্বেলের মতো গড়িয়ে একেবারে প্রান্তে গিয়ে টুপ টাপ ঝরে পড়ে। লাভলির পাঁচ আঙুল চেপে বসে ছুরির বাটে, আঙুলের চাপে হাতের তালু রক্তহীন ফ্যাকাশে হয়ে যায়, নীল শিরা ফুটে বের হয়।… বিউটির প্রায় বুজে আসা চোখ আর ফিক ফিক হাসি থমকে যায়, দুই চোখের পাতা প্রথমে পুরোপুরি বুজে যায়, তারপর বড় হতে থাকে—নদীর চরের সাদা, অর্ধ চাঁদের জ্যোতি, অনন্ত দাঁড়িয়ে থাকা রাতের রেলগাড়ির হেডলাইটের আলোর মতো তীব্র কিন্তু স্থির।
—————————————————————-
ফরিদা নির্ঘাত খেঁকিয়ে উঠবেন। কিন্তু রাবেয়ার মা প্রাণে ধরে যেতে পারছে না। আজকে কী যেন হচ্ছে, বদ বুঁ ঘিরে ধরেছে বাসাটা আর থেকে থেকে শরীরে কাঁপুনি ধরছে। পিচ্চিও রাবেয়ার মার পাশে চুপ করে বসে আছে। তার শীত করছে, হাত-পা হীম হয়ে যাচ্ছে আর মনে হচ্ছে কেউ না কেউ তাকে ধরে বেদম ধোলাই দিবে।

টেবিলে খাবার দিবে কি না রাবেয়ার মা বুঝতে পারছে না। গরম করতেও তো সময় লাগবে। রুটিগুল সেঁকে ফেলা দরকার। সে ভীষণ একটা পেরেশানির মধ্যে পড়েছে।

—পিচ্চি উঠ, টেবিল লাগা গিয়া।

—আইজকা কেউ খাইতো না।

—খাইতো না?

—খাইতো না।

—আমরা কী করতাম? আমার পেট ভুক লাগছে।

—আমারও।

দু’জন মানুষ পেটে ক্ষুধা নিয়ে রান্নাঘরে বসে রইল এক সময় দু’জনেরই ঝিমুনি এল। এর মধ্যে কতটা সময় পেরিয়ে গেছে কেউই জানে না। তবে রাত গভীর হচ্ছে এটা বোঝা যায়। শীতের রাত, কুয়াশার আড়ালে চলে গেল। (সম্পূর্ণ…)

জাতীয় কবিতা উৎসব ২০০৯-এ পঠিত প্রবন্ধ

সাম্রাজ্যবাদের যুগে দুই বিশ্বের কবিতা

সলিমুল্লাহ খান | ১০ জুলাই ২০০৯ ৯:০০ পূর্বাহ্ন

samson-destroys-the-temple.jpg
শিল্পী মার্ক শাগালের ছবিতে মন্দির ভাঙছে স্যামসন।


Hegemony entails the dominance of a given discourse even among those who are not its beneficiaries. It is the cultural arm of imperialism.

যে ভাবধারায় আপনার স্বার্থ নাই সেই ভাবধারার সম্মুখে আপনিও যখন নতি স্বীকার করেন তখন বলিতে হইবে সেই ভাবধারার আধিপত্য কায়েম হইয়াছে। সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক প্রকাশ এমনই।
—একবাল আহমদ (২০০৬/ক: ২৩১)

alpa_1.jpgজাতীয় কবিতা পরিষদের আমন্ত্রণ পাইয়া আমার মনে হইয়াছিল আরেকবার জন্মগ্রহণ করিবার আমন্ত্রণ পাইয়াছি। কিন্তু লিখিতে বসিয়া টের পাইলাম এই কাজ অতিশয় কঠিন—পাণিগ্রহণের চেয়ে কম কঠিন নহে। কথাটা খুলিয়া বলিব।

আর যে অপবাদই কবিদের দেওয়া যাউক না কেন তাঁহারা বড় সহনশীল এই অপবাদ কেহ দিতে পারিবেন না। কবিরা সমালোচনা ব্যবসায়ীদের কত সহ্য করিতে পারেন তাহা আমার জানা নাই। স্মরণ করুন খোদ জীবনানন্দ দাশের বাক্য। সমারূঢ় সমালোচককে তিনি বরং কবিতা লিখিয়া দেখিবার রূঢ় উপদেশই দিয়াছিলেন। কবিরা শুদ্ধ স্বজনের সমালোচনা শুনিতে প্রস্তুত, তাহার অধিক শুনিবেন না।
—————————————————————–
জেমিসনের মতে তৎকথিত ‘তৃতীয় বিশ্বের’ সাহিত্য ব্যক্তি মানুষের গল্প বলিতে একেবারেই অপারগ, একান্তই অক্ষম। ব্যক্তির কথা বলিতে বলিতে সে অজান্তে কেবল জাতির গল্পই বলিয়া বসে।… আমরা ফরাসি শার্ল বোদলেয়ার আর বঙ্গীয় শামসুর রাহমানের দৃষ্টান্তযোগে দেখাইলাম জেমিসনের বক্তব্য সত্য না-ও হইতে পারে।… এজাজ আহমদ লিখিয়াছেন, একই কারণে কোনো দেশের সাহিত্যকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিশ্বের বলিয়া আলাদা করাটা বর্ণবাদের অর্থাৎ পুরাতন উপনিবেশবাদের জের।… জেমিসন মার্কিন জাতীয়তাবাদীর মতন লিখিলেও লোকে ভাবে তিনি বুঝি মার্কস ব্যবসায়ীও বটেন। এজাজ আহমদ তাঁহার মুখোশ কিছু পরিমাণে আলগা করিয়া দিয়াছেন।
—————————————————————-
ইচ্ছায় হই আর অনিচ্ছায় হই, আমি সমালোচনার আদার বেপারি। একদা কবিযশোপ্রার্থীদের সঙ্গে কিছু সময় আমিও কবিতা-জাহাজের খবর লইয়াছিলাম। এই কথা স্বীকার করিতে দোষ নাই। সেই সুবাদে কিনা জানি না: কবিদের সমালোচনা করিবার খানিক অধিকার আমিও হয়তো অর্জন করিয়াছি।

তদুপরি শুনিয়াছি একালের আরবি প্রবাদে আরো একটা কথা চালু আছে। কুল্লু মান কানু আরাবুন ফি লোগাতিহিম, ওয়া সাকাফাতিহিম, ওয়া ওয়ালাইহিম ফা হুম আল-আরাব। অর্থাৎ যে তাহার বাক্যে, আচারে এবং বাসনায় আরব সে-ই আরব। (আহমদ ২০০৬/ক: ৩৭৭)

বাক্যে, আচারে এবং বাসনায় যে কবি সে-ই কবি। এই সংজ্ঞা গ্রহণ করিলে, আমি কবিদের সমালোচনা করিবার অধিকার খানিক অর্জন করিয়াছি কথাটা মনে হয় একেবারে ভিত্তিহীন নয়।


আফ্রিকা মহাদেশের অন্তঃপাতী গিনি বিসাউ ও সবুজ অন্তরীপ দ্বীপপুঞ্জ (Guinea Bissau and Cape Verde Islands) নামক দেশের নেতা মুক্তিসংগ্রামী ও তত্ত্বজ্ঞানী মহাত্মা আমিলকার কাব্রাল (Amilcar Cabral) তাঁহার দেশ স্বাধীন হইবার দুই বৎসর আগে—১৯৭৩ সনের ২০ জানুয়ারি
amilcar-2.jpg……..
আমিলকার কাব্রাল (১২/১০/১৯২৪ – ২০/১/১৯৭৩)
……..
তারিখে—সাম্রাজ্যবাদী পর্তুগিজ সরকারের লেলাইয়া দেওয়া গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হইয়াছিলেন। তাহারও কয়েক বৎসর পূর্বে—১৯৭০ সনে—এক বক্তৃতায়, উত্তর আমেরিকার কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বলিয়াছিলেন, সাম্রাজ্যবাদ জিনিসটা অনেক বিষাদসিন্ধুই রচনা করিয়াছে। এইসব সিন্ধুর মধ্যে বিষন্নতম সিন্ধুর নাম জার্মানির জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক (ওরফে নাৎসি) দল। (কাব্রাল ১৯৭৩: ৩৯)

অনেকেই হয়তো বলিবেন, ইহা এমন কী নতুন কথা হইল? কাব্রাল বলিয়াছিলেন: নাৎসিরা মরে নাই, সাম্রাজ্যবাদের মধ্যেই তাহারা বাঁচিয়া আছে। নতুন কথা সম্ভবত ইহাই। (সম্পূর্ণ…)

স্টিফেন ডান-এর দুটি কবিতা

শামস আল মমীন | ৩ জুলাই ২০০৯ ১১:২০ অপরাহ্ন

[স্টিফেন ডান কবিতার বই ডিফারেন্ট আওয়ারস (২০০০)-এর জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পান ২০০১ সালে। বিশ বৎসর বয়সে কর্পোরেট চাকুরিতে ক্রমাগত ভালো করতে থাকায় ভয় পেয়ে চাকুরি ছেড়ে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন তিনি। এরপর কবি সস্ত্রীক এক dunn1.jpg
……..
স্টিফেন ডান (Stephen Dunn, জন্ম. কুইনস, নিউ ইয়র্ক, ১৯৩৯)
……..
বৎসরের জন্য স্পেনযাত্রা করেন। সেখানে উপন্যাস লিখবার চেষ্টা কবিতা রচনায় মোড় নেয়। এ সময়ে কবির সে সময়কার একমাত্র সাহিত্যিক বন্ধু স্যাম টোপারফ তাঁর কাছে বেড়াতে আসেন। তিনি পরামর্শ দেন কবিতা ঠিক পথে এগুচ্ছে। স্টিফেন ডান এরপর পুরোপুরি কবিতায় মন দেন। বিভিন্ন কলেজে কবিতা এবং ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এর শিক্ষক, সম্পাদক তিনি। পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড় ছিলেন।

কীভাবে কবিতা লেখেন সে ব্যাপারে বলতে গিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কবিতা যখন শুরু করেন তখন কোনো নির্দিষ্ট ডিজাইন থাকে না তাঁর। কখনো কোনো ছবি থেকে কখনো কোনো আইডিয়া দিয়ে অগ্রসর হন তিনি। এবং তাঁর স্বভাব হলো যা তিনি বলতে চান তা বলা থেকে বিরত থাকেন। ফলে তাঁর কবিতার আগানোটি এক অর্থে নানান বাদ দেওয়ার সমাহার যেখানে তিনি হয়তো কিছু বলতে চেয়েছিলেন।]

অনুবাদ: শামস আল মমীন

বাড়িতে নিয়মিত যা যা করি

মা যখন মারা গেল
ভেবেছিলাম: এবার একটা মৃত্যুর কবিতা লেখা হবে।
ওটা ক্ষমার অযোগ্য

তবুও নিজেকে ক্ষমা চোখে দেখি
মায়েদের ভালবাসা পেয়ে
ছেলেরা যেমন করতে পারে।

তাঁর কফিনে স্থির চেয়ে থাকি
যদিও জানি কতকাল এই শুয়ে থাকা,
কত জীবনের সুখ স্মৃতি

মগজের কোষে।
ঠিক বলা মুশকিল
কী ভাবে আমরা বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠি,

কিন্তু মনে আছে আমার, মাত্র
বারো আমি, ১৯৫১, পৃথিবী তখনো
আমার কাছে অপরিচিত।

আমি মার কাছে (ভয়ে ভয়ে)
তার স্তন দেখার আবদার করি
কোনো দ্বিধা কিম্বা লজ্জা ছাড়াই
মা আমাকে তার কামরায় নিয়ে যায়
আমি স্থির তাকাই ওদের দিকে,
সাহস হয়নি আর কিছু জিগ্যেস করি।

আজ, এতদিন পর, একজন বলে
কর্কট রাশির জাতকেরা মায়ের আশির্বাদ না পেলে
অভিশপ্ত হয়, কিন্তু আমি, কর্কটরাশি হয়েও,

নিজেকে আবার ভাগ্যবান মনে করি। (সম্পূর্ণ…)

রিপ্রেজেন্টেশন ও যোগাযোগ: যোগাযোগ পত্রিকায় ‘রেপ্রিজেন্টেশন’

এহসানুল কবির | ১ জুলাই ২০০৯ ৫:১০ অপরাহ্ন

আমাদের দেশে সাময়িক পত্রিকার দুটো বড় ধারা আছে—১. প্রথিতযশা পণ্ডিতবর্গের দুয়েকটা প্রবন্ধ আর সৃজনশীল সম্পাদকের আবেগী বন্ধুকৃত্যকে সম্বল করে বহমান সংকলনধর্মী লিটলম্যাগীয় ধারা; ২. বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষকগণের পদোন্নতির সোপানরূপে, প্রধানত আমজনতার চক্ষুর অন্তরালে, prochchhod_jogajog.jpg…….
যোগাযোগ; সংখ্যা ৮, ফেব্রুয়ারি ২০০৭; সম্পাদক: ফাহমিদুল হক, আ-আল মামুন; মূল্য: ১০০ টাকা; প্রচ্ছদ: শাহীনুর রহমান, দিয়াগো ভেলাসকেজের ‘লাস মেনিনাস’ পেইন্টিং অবলম্বনে।
……..
প্রকাশিত জার্নালীয় ধারা। এ-দুই বড় ধারার মাঝে আরেকটি ধারা ধীরে কিন্তু দৃঢ়ভাবে বয়ে যাচ্ছে এ-দুয়েরই ধনাত্মক সারবত্তাকে আত্মস্থ করে। যোগাযোগ সে-ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। যদিও সম্পাদক পত্রিকাটির পরিচয় দেওয়ার সময় বলে থাকেন ‘অ্যাকাডেমিক পত্রিকা’, যদিও পত্রিকাটির প্রতিটি লেখার মাথার ওপরে জার্নালীয় কায়দায় উল্লিখিত থাকে পত্রিকার নাম, সংখ্যা, প্রকাশের সাল (প্রবন্ধের পৃষ্ঠা নম্বরও দেওয়া থাকলে
—————————————————————–
যে-বৈশিষ্ট্যটি যোগাযোগকে স্বাতন্ত্র্য-ঋদ্ধ করেছে, তা হল এর উদ্দেশ্যের একমুখিনতা। বাংলাদেশের অধিকাংশ সাময়িক পত্রিকায় এর অভাব থাকার কারণে সামগ্রিকভাবে পত্রিকার কোনো চারিত্র দাঁড়ায় না।
—————————————————————-
জার্নালীয় ষোলকলা পূর্ণ হত), যদিও অ্যাকাডেমিক ও নন-অ্যাকাডেমিক লেখার জন্য পত্রিকাটিতে বরাদ্দ থাকে প্রায় ফিফ্‌টি-ফিফ্‌টি অংশ; তবুও পত্রিকাটির চারিত্র ওপরের ২ নম্বরি ধারায় পড়ে না। এখানেই যোগাযোগ-এর প্রতি আমার আন্তরিক পক্ষপাত। রাজনৈতিক ও দার্শনিক অবস্থানের সুস্পষ্টতার বিচারে এ-পত্রিকা এককথায় একমেবাদ্বিতীয়ম্। শুরুতেই তাই এর সম্পাদনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আমার সাধুবাদ।

দুই
যোগাযোগ এ-সংখ্যার ১৮টি লেখার মধ্যে ১১টি অনূদিত, ২টি গ্রন্থালোচনাই মূলত অনূদিত গ্রন্থ-বিষয়ক, প্রধান প্রবন্ধটিও একটি অনূদিত প্রবন্ধ। সঙ্গতভাবেই, এ-আলোচনায় অনূদিত লেখাগুলোর দিকেই আমাদের মনোযোগ বেশি থাকবে। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com