জাপানে কোদো উৎসবে

রাশিদা সুলতানা | ২৬ জুন ২০০৯ ১:৫৭ পূর্বাহ্ন

rs3.jpg
সাদো দ্বীপ

16_kodo_lg.jpg
২০০৬-এর আর্থ সেলিব্রেশন কোদো উৎসবে ড্রাম বাজাচ্ছেন দুই শিল্পী

When I dance
I cannot Judge
I cannot hate
I cannot separate myself from life
I can only be joyful & whole
That is why I dance
–Hans Bos

rs1.jpg…….
সাদো দ্বীপের পাশে সমুদ্রের মাঝে ছোট গোল নৌকায় লেখক
…….
কিয়োতোর এক সান্ধ্য আসরে আমার বান্ধবী স্যালি প্রথম জানায় দুদিন পর তারা যাচ্ছে কোদো উৎসবে। আমার দু’চোখে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেখে সে জানায় নিগাতার কাছাকাছি জাপান সমুদ্রের সাদো দ্বীপে ড্রাম ও সঙ্গীত উৎসব। স্যালি ও উপস্থিত অন্য বন্ধুরা বলে, “তুমিও চলো, দারুণ এক অভিজ্ঞতা।” আমার দোনোমনো কাটে না। কোদো প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতেই, স্যালি, দেইদ্রা-দের চোখমুখের উদ্ভাস দেখে শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।

আমার বন্ধুরা কিয়োতো জার্নাল-এর স্টল বসবে বলে একদিন আগেই রওয়ানা হয়ে যায়। আমি জু’হাচি কিপ্পু টিকিট কিনি, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বছরের বিশেষ সময়ে বিশেষ ছাড় দেওয়া টিকিট। সকালবেলা ট্রেনে চেপে অপূর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ভিতর দিয়ে পার হই একের পর এক শহর। বেশ ক’বার ট্রেন বদলাই। ইট, কংক্রিট, পাহাড়, নদী, সমুদ্রে দৃশ্যপটের বদল ঘটে। পাহাড়, জঙ্গল, শহর আর স্বপ্নোপম উপত্যকার মধ্য দিয়ে নিগাতায় নায়্যেৎসু স্টেশনে পৌঁছাই। স্টেশনে নেমে ফেরির টিকিট কাটি। ফেরিতে উঠেই প্রথমে তিনতলার ডেকে চলে যাই। ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে ম্রিয়মাণ হতে থাকা বন্দরের কোলাহল। আমার মতো অনেকেই ডেকে বসে উপভোগ করে জাপান সমুদ্রের উত্তাল জলরাশি। অল্প সময়ের মধ্যেই আর কোনোকিছুই দৃশ্যমান থাকে না। তিনতলার কেবিনরুমে এসে দেখি ব্যাকপ্যাক পাশে নিয়ে নানা বর্ণের নানা বয়সের নারী-পুরুষ নির্বিচারে কার্পেট-মোড়ানো মেঝেতে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। কারো পায়ের কাছে মাথা, মাথার কাছে পা। সাদো দ্বীপে কোদো দর্শনার্থী এসব মানুষের বেশিরভাগই হয়তো কেউ কাউকে চেনে না, অথচ কী সহজে এ অন্যের পাশে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। রুমের এক কোনায় একটুখানি খালি জায়গা পেয়ে এক মেয়ের পাশে আমিও শুয়ে পড়ি এবং মুহূর্তে ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে যাই। (সম্পূর্ণ…)

বিলবোর্ড-নিবাসিনী

সুমন রহমান | ১৭ জুন ২০০৯ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

rks2.jpg

চিরকাল দূরে থেকে-থেকে তুমি সুদূরের প্রণয়ভাগী হয়ে গেছো
চিত্রার্পিতা, বিলবোর্ড-নিবাসিনী, তোমার গমনোদ্যত পা
মুড়িয়ে দেয়ার জন্য আমি জমাচ্ছি আমার সকল অপরিণামদর্শিতা
সর্বব্যাপী প্রেমোক্র্যাসির ধোঁয়ায় তোমার যতোটুকু শ্বাসকষ্ট
আমি তার ততোধিক নীল নেবুলাইজার
তুমি আসছো মোরগের বিষ্ঠাভরা জংলা পার হয়ে
মিডিয়াগাছের ছায়াফাঁদ বাঁচিয়ে
আমার ডাকবাক্সের ধূলায়, আমার নিখিল বিজ্ঞাপনহীনতায়!

আমি তো তোমার অপলকময়তা দেখে-দেখে
কাঁথামুড়ি দিয়ে পাশ ফিরতাম
নয়তো তোমার গল্পঘরের বারান্দায় বসে দেখতাম
নৈশকোচগুলো গ্যারেজে ফিরছে একে-একে
ঠাণ্ডা চা আর পোঁতানো পপকর্ন গিলছে টহল পুলিশ—
একটা সিএনজি স্কুটার আরেকটাকে পেছনে-বেঁধে
চলে যাচ্ছে দূরে, কোনো সমকামী অভীপ্সার দিকে
এতসব দেখে-দেখে, তোমার নম্র উপেক্ষার ধ্যানে এ জীবন কাটিয়ে দিতাম
ফুটপাতে, শেষরাত্রির প্রিজনভ্যানে!

তোমার চুলে নিরুত্তাপ স্মরণসভার গন্ধ, যেন তুমি
কখনো মানুষ ছিলে, এখন কুঠুরি, দরজা-জানালা বন্ধ
কলতাবাজার কবরস্থান থেকে পালিয়ে আসা লম্বা-লম্বা সিপাহীদের ছায়া
তোমাকে পাহারা দেয়
তোমার বামচোখের ভেতর একটি ঘুরানো সিঁড়ি
উপরে উঠতে-উঠতে হারিয়ে গিয়েছে মহাশূন্যে
তোমার ডানচোখে অতীতকালের একটি চিৎকার জমে বরফ হয়ে আছে (সম্পূর্ণ…)

আর্ট, রিয়ালিটি আর ডিজিটালের চক্করে বাংলা সিনেমা

রাজীব আহমেদ | ১৪ জুন ২০০৯ ১:৩২ অপরাহ্ন

dubshantar.jpg
ডিজিটাল ফর্ম্যাটের ছবি ডুবসাঁতার; পরিচালক ছবিটিকে ‘ডিজিটাল মুভি’ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইছেন।

পঞ্চাশোর্ধ কোনো এক কবীর সাহেব (বা অন্য কোনো সাহেবও হতে পারেন। তবে সাহেব হতে হবে।) এখন আর সিনেমা হলে মুভি দেখতে যান না। বয়সটা বোধহয় এক্ষেত্রে বড় সমস্যা নয়। তার মধ্যবিত্ত মন তাকে বলে: কবীর, এখন আর সিনেমা হলে যাইও না। ওখানে এখন রিকশাঅলারা যায়—হলের পরিবেশ বলে কিছু নেই আর। মুভিগুলো তো যাচ্ছেতাই। অশ্লীলতায় ভরা, স্থুলতায় ভরা, কদর্যে ভরা। এদেশের আর কিছুই হবে না, কবীর।
—————————————————————–
অর্ধেকেরও বেশি সিনেমা হল আজ বন্ধ হয়ে আছে। কিছু কিছু হল টিকে আছে এক টিকেটে দুইটি বিদেশী ছবি দেখিয়ে। এ সময়ে দরকার ছিল একটি মুভমেন্টের–সেটা হলো মেইনস্ট্রিম মুভিকে বাঁচিয়ে রাখার মুভমেন্ট। যেমনটা হলিউড ঠেকাতে তৈরি হয়েছিল ফ্রেঞ্চ নিউ ওয়েভ। আমরা কেউ ওদিকে নজর দেই না। আমরা ধরেই নিয়েছি ওটা যাওয়ার মতো জায়গা না—আমাদের মতো এলিটদের জায়গা ওটা না।
—————————————————————-
কিন্তু তিনি কি মুভি দেখা বাদ দিয়েছেন? না তা নয়;তিনি এখন ডিভিডিতে মুভি দেখেন, স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলিতে মুভি দেখেন। মুভি দেখার মাধ্যম এবং পরিবেশটা পাল্টে নিয়েছেন নিজের মতো করে। তার সামনে এখন অপশন অনেক বেশি, নিজের ইচ্ছামতো মুভিটা নিয়ে গবেষণাও করতে পারছেন। এই তো সেদিন ঐশ্বর্য রাইয়ের একটা নৃত্যদৃশ্য (কজরা রে…) দেখে রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে বিশেষ বিশেষ জায়গাগুলি আগে-পিছে করে দেখেছেন। শুধু তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (বা অন্য কোনো নামও হতে পারে।) মৃদু তিরস্কার করেছিলেন এই বলে যে, তার নাকি বুড়ো বয়সে ভীমরতি হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

সংযোজন

মেলার বই থেকে দুই পৃষ্ঠা

| ৪ জুন ২০০৯ ১০:১০ অপরাহ্ন

[মেলায় প্রকাশিত বইকে পাঠকের কাছে আরো প্রামাণ্য করে তোলার জন্য আর্টস-এ সদ্য প্রকাশিত বইয়ের প্রচ্ছদ, বই সম্পর্কিত বিবরণ আর প্রথম দুই পৃষ্ঠা স্ক্যান করে ‘মেলার বই থেকে দুই পৃষ্ঠা’য় দেয়া হচ্ছে। বইয়ের পাতা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে লেখক বা প্রকাশকের অনুমতি গ্রহণ করা হয়েছে। — বি. স.]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রন্থিত ইতিহাস। গবেষণা। ড. রতন লাল চক্রবর্ত্তী। প্রকাশক: দি ইউনিভার্সেল একাডেমী।

drl_c.jpgদি ইউনিভার্সেল একাডেমী (৪০/৪১ বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০) থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রন্থিত ইতিহাস বইটি প্রকাশ করেছেন এ. এস. এ. ভূঁইয়া শিহাব। অনেক দিন ধরে বিভিন্ন রেকর্ড রুম আর আর্কাইভ ঘেঁটে এ বই রচনা করেছেন ড. রতন লাল চক্রবর্ত্তী।

বইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ের নামকরণে রূপকের আশ্রয় নিয়েছেন লেখক। যথা: প্যাক্স ব্রিটানিকা বনাম ছাত্র-শিক্ষক সমাচার; মুক্তির মন্দির সোপান তলে; অহো, কী সান্ধ্র সম্পর্ক!; অথ গোলাম মঙ্গল কাব্য; সবশেষে পণ্ডিত বিদায় পালা–ইত্যাদি। লেখা সম্পর্কে ভূমিকায় লেখক বলছেন, ‘এই গবেষণা কর্মের যৌক্তিকতা এখানেই নিহিত যে এই গ্রন্থে লিখিত পাঁচটি
—————————————————————–
ইংরেজ সেনাসদস্যদের সাথে প্রথমে তথা ১৯২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময়, যখন ছাত্র ও জনগণের উপস্থিতি সেনাবাহিনী অবাঞ্ছিত মনে করে। ক্রীড়া নৈপুণ্যে ব্যর্থ সেনাসদস্যের প্রতি ছাত্র ও জনগণের ‘হাসি’ সেনাসদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ফলে জনৈক সেনাসদস্য উপস্থিত ছাত্র জনতাকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিত ছাত্রদের কয়েকজন এর প্রতিবাদ করে।
—————————————————————-
ratan-lal-chakraborty.jpg……..
ড. রতন লাল চক্রবর্ত্তী
……..
অধ্যায় সম্পূর্ণভাবে নতুন এবং এই বিষয়সমূহ সম্পর্কে অদ্যাবধি কোন গবেষণামূলক রচনা কোথাও লক্ষ্য করা যায় না।’ তিনি জানাচ্ছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিয়ে রচিত ও সংকলিত গ্রন্থের সংখ্যা একেবারে কম নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সর্বপ্রথম যে গ্রন্থখানা রচিত হয় তা হলো একটি স্মরণিকা। ১৯৭৪ সালের ৩১ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের রামকৃষ্ণ ইন্ষ্টিটিউট অব কালচারে কলিকাতায় অবস্থানরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী-অধ্যাপকদের এক পুনর্মিলন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই উপলক্ষে প্রকাশিত হয় “আমাদের সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়” শীর্ষক স্মরণিকা, যা প্রকৃত অর্থেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল সময়ের মূল্যবান স্মৃতিচারণায় সমৃদ্ধ এক অমূল্য দলিল। (সম্পূর্ণ…)

কবিসভা বিতর্ক ২০০৫
কসমিক থেকে লোকায়ত, ‘ছক’ ও অন্যান্য

| ৪ জুন ২০০৯ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

——————————————————
wb_p.jpg২০০৪ সালের ১২ নভেম্বর তারিখে ইয়াহু গ্রুপ কবিসভা থেকে ই মেইল মারফত এর সদস্যদের কাছে বাংলা কবিতা সঞ্চালন উদযোগ-কিস্তি ৩ (ওয়ার্ড, পিডিএফ) সঞ্চালিত হয়। ৫৭ জন কবির কবিতা এই সঞ্চালনে সংকলিত হয়েছিল। পরে এক এক সপ্তাহে এক এক জনের কবিতার উপর পাঠকের আলোচনা ও মন্তব্য আহবান করা হতো কবিসভায়। তেমনই এক পর্বে মাসুদ খানের কবিতা সমালোচনার জন্য উপস্থাপিত হলে দীর্ঘ আলোচনা পাল্টা আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন মাহবুব মোর্শেদ, নূরুননবী শান্ত, মানস চৌধুরী, মজনু শাহ্, সুমন রহমান, ব্রাত্য রাইসু, শাহাদাতুর রহমান সোহেল, রাদ আহমেদ, অপূর্ব কুমার রায়, মিজান মল্লিক ও রাশিদা সুলতানা। চিত্তাকর্ষক সে আলোচনা কবিসভার সৌজন্যে আর্টস-পাঠকের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

কবি মাসুদ খানের পঞ্চাশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যে সাক্ষাৎকারটি আর্টস-এ পত্রস্থ হয়েছে তার সঙ্গে এ বিতর্ক মিলিয়ে পাঠ করা যেতে পারে। শুরুতে মাসুদ খানের পাঁচটি কবিতা (ছক, প্রত্যাখ্যান, সংকট, হিমযুগ, শৈবালিনী)। পরে কালানুক্রমিক ৩০টি আলোচনা। বি. স.
——————————————————

মাসুদ খান-এর পাঁচটি কবিতা

ছক

দশটি পথ এসে যেখানটায় কাটাকাটি হয়ে চলে গেছে দশ দিগন্তের দিকে, সেইখানটায় গিয়ে বসে থাকেন আমার মা। পথের ধারে বসে মা আমার মানুষ দ্যাখেন, মানুষের আসা-যাওয়া দ্যাখেন। কোনো পথ দিয়ে আসে হারিয়ে যাওয়া মানুষেরা। কোনো পথ দিয়ে আসে গ্রহণ-লাগা, ক্ষয়ে-যাওয়া, নিভু-নিভু সব বনি আদমের দল। আবার মেঘ ও মিথুন রাশির ছায়ায় তুমুলভাবে বাঁচতে থাকা মানব-মানবীদের যাতায়াত কোনো কোনো পথে।

একদিন আসা-যাওয়ার পথের ধারে মা কুড়িয়ে পেলেন আমার ভাইকে (আমি তখনো আসিনি আমার এই মায়ের কাছে)। কিন্তু কিছুকাল পর আমার সেই ভাই হঠাৎ গেল হারিয়ে। তারপর থেকে মা আমার ওই পথমোহনায় বসে তীব্র পুত্রশোকে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদেন।

একবার, গোধূলিরঙের লম্বা-লম্বা চুলদাড়িঅলা এক বুড়ো পথিক ক্ষণিকের জন্যে থামালেন তার পথচলা। মা-র কাছে সব শুনে বললেন, ‘কোথাও তো কিছু হারায় না মা এই মহাবিশ্বে! যাও খুঁজে দ্যাখো।’ তারপর থেকে মা আমার উড়ে উড়ে বিশ্বসংসার তোলপাড় করে খুঁজে ফিরেছেন তার সন্তানকে। শেষে সপ্ত-আকাশের পরপারে আমাকে কুড়িয়ে পেয়ে, এবং তার সন্তানকেই পেয়েছেন মনে করে, উড়িয়ে নিয়ে এলেন এই মর্ত্যের ধুলায়। আমি তখন সাত আসমানের ওপারে অনন্ত নক্ষত্রকুঞ্জের ঝাড়জঙ্গলের ধারে সোনালি খড়ের গাদায় বসে অনাথ শিশুর মতো কাঁদছিলাম একা একা, মাকে হারিয়ে। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com