বার্বিকিউ, কুয়াকাটা সৈকতে

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৮ এপ্রিল ২০০৯ ৬:২৫ পূর্বাহ্ন

kua5-edited.jpg
স্থানীয় উপাদানে নির্মীয়মান আলী ভাইয়ের ইকো কটেজ।

একটা কোথাও বেরোতে হবে। জায়গা বাছাবাছির অবকাশ প্রায় নেই। কাজ-অকাজের ফাঁকে যে সময়টুকু বের করা গেছে, সে অবকাশে মেয়ে-জামাইকে নিয়ে কোন শৈলাবাসে যাব, নাকি ঘরের কাছে-পিঠে দু’দিন হাওয়া বদল করে আসব, ভাবছি দ্রুত। এরই মাঝে বিষ্যুদবার সন্ধেবেলা রুবাই-সাজ্জাদ এলো সপ্তাহান্তিক ছুটি কাটাতে।

kua2.jpg……..
সিদ্‌রের চিহ্ন রয়ে গেছে এখনো।
……..
সাজ্জাদ আমাদের সজ্জন জামাই। কথায় বলে, জন-জামাই-ভাগনা, কেউ নয় আপনা। কিন্তু আমাদের জামাইটি প্রবচন মিথ্যে প্রমাণ করেছে তার এ ক’দিনের কাজ-কর্মে, কথাবার্তায়। হাতে-গরম প্রমাণও মিলল। কাপের চা জুড়োনোর আগেই সাজ্জাদের পরামর্শমতো বেড়াবার জায়গা ঠিক হয়ে গেল। যাওয়া হবে এবার কুয়াকাটা—দেশের দক্ষিণ পশ্চিমে
—————————————————————–
অমন বিশাল বুদ্ধমূর্তি ওই গণ্ডগ্রামে দেখব ভাবিনি।… এখানেও কুয়াকাটার বৌদ্ধ মন্দিরের লাগোয়া যেমন, তেমনি এক প্রাচীন কুয়া বা ইঁদারা রয়েছে। বোধকরি, সেকালে দেবস্থানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পানীয় জল সরবরাহের সুব্যবস্থা করা আবশ্যিক শর্ত ছিল। তাই যদি হয়ে থাকে, তবে এই ইঁদারা প্রতিষ্ঠা এক অত্যাবশ্যক জনকল্যাণকর পদক্ষেপ ছিল নিশ্চিত, যা এখনকার মানুষেরও মনোযোগ ও প্রশংসা কুড়োবে।
—————————————————————-
বঙ্গোপসাগর তীরের ছোট্ট জনপদে। চেনাজানাদের অনেকেই বারবার যাওয়া-আসা করে এখনো জায়গাটাকে ম্যাড়মেড়ে, বিবর্ণ করে ফেলতে পারেনি। নানা অপশ্যনের মাঝে আমরা স্টিমার ভ্রমণের সুযোগ নেব, সিদ্ধান্ত নিলাম। (সম্পূর্ণ…)

রৌরব (কিস্তি ৯)

লীসা গাজী | ২৮ এপ্রিল ২০০৯ ৬:১৩ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১কিস্তি ২কিস্তি ৩কিস্তি ৪কিস্তি ৫কিস্তি ৬কিস্তি ৭কিস্তি ৮

(কিস্তি ৮-এর পর)

l9_7.jpgআপাত দৃষ্টিতে ওদের সংসারে কোনো খুঁত ছিলো না। সারা দিন ফরিদার কেটে যেতো সরল স্বাভাবিক জীবন নিখুঁতভাবে চালাতে। দিনের বেলা নাস্তা বানানো, নাস্তা খেয়ে মুখলেস সাহেব আর আবদুল বশির সাহেব বেরিয়ে যাওয়ার পরে পনেরো মিনিটে গোসল সারা, সাহেবদের ছেড়ে যাওয়া কাপড় গুছিয়ে রাখা, ঘরবাড়ি সামলানো, কাপড় ধোওয়া তারপর রান্নার যোগাড় করা, রান্না সেরে বাগানে হাঁটাহাঁটি, শখ করে কখনও চা খাওয়া এবং সাহেবদের জন্য অপেক্ষা করা। তারা ফিরলে ভাত বেড়ে দেয়া, যত্ন করে খাওয়ানো, আবার বিকালে চায়ের পানি বসানো,
—————————————————————–
বিউটি বিশ্বাস করতে পারে না রিয়াজ তাকে ফেলে কোন দুঃখে লাভলির জন্য ছোঁক ছোঁক করত। আহারে, কী বেদিশা অবস্থা দু’জনের। রিয়াজ নোট নিয়ে আসতো, ওরা সব সময় বিউটির ঘরের পড়ার টেবিলে বসত। দরজা তখন হাট করে খোলা থাকতো। আম্মা যেকোনো সময় ঢুকে যেতেন।… ওদের প্রেমাচার সব চলতো টেবিলের নিচে। বিউটি যেদিন প্রথম টের পেলো ভয়ে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেল।
—————————————————————-
নাস্তা দেয়া, ঘর ঝাঁট দেয়া… সংসারধর্ম পালন। রাতের বেলাও কেটে যেতো সরল স্বভাবিক তালে-বেতালে। শুধু কোনো কোনো রাতের মধ্য প্রহরে, যে সময় পেঁচা একটানা ডাকে আর বাদুরের রক্ত পিপাসা বেড়ে যায়, ফরিদা জ্ঞানশূন্য বিছানা থেকে নেমে পড়েন, ভূতে পাওয়া মানুষের মতো দরজা খোলেন—ক্যাঁচ শব্দে প্রতিবারই ভীষণ চমকে ওঠেন, তারপর উত্তরমুখী ঘরের দিকে অবিচল হেঁটে যান। উত্তরমুখী ঘরের দরজা খোলাই থাকে। (সম্পূর্ণ…)

শিরোনামহীন

মোহাম্মদ রফিক | ১৫ এপ্রিল ২০০৯ ৮:০৫ পূর্বাহ্ন


আগুনবলয় থেকে একটি কুণ্ড
ছুটে এসে
স্থির হয় মাঘীকুয়াশায়;
মোটেও আড়ষ্ট নয়, পরিত্রাহি
বিক্ষোভে সন্ত্রাসে
ছড়ায় বিষম শব্দ চতুর্দিকে;

তার জন্ম-পরিচয় জানতে চাইলে,
চন্দ্রবোড়া
ফণা তোলে একটুকরো ধোঁয়া;

যত ক্ষিপ্র ত্রিশুলের মাথা থেকে
জন্ম নেয়
একে-একে স্নেহ, প্রীতি, ভালোবাসা;

ছাইয়ে নয়, অঙ্গীকারে, টপ-টাপ
ঝরতে থাকে
দগ্ধ-চালা, ভাঙা-টিন, অস্থি-মজ্জা!


ভয় কি একদম উবে গেছে
মধ্যরাত্তিরের স্বপ্ন থেকে,

রমণের ঈষদুষ্ণ ইচ্ছা ঝাড়ে
দুটো বিষদাঁত,

মুণ্ডুহীন কায়াবৃত্ত বায়ুর অতল
ফুঁড়ে যেন বিন্দু-বিন্দু জল;

কোনো এক লবণ সাগর
তীরজুড়ে ছেড়ে যাওয়া,

কাঁকড়ার সার-সার খোসা
নড়ে ওঠে উত্তুরে হাওয়ায়, (সম্পূর্ণ…)

বৈশাখ শুধু বাঙালির উৎসব নয়

বৈশাখে আরও যাদের নববর্ষ

সাইমন জাকারিয়া | ১৫ এপ্রিল ২০০৯ ৭:২৩ পূর্বাহ্ন

aprilfourteen-12.jpg
aprilfourteen-13.jpg
শহরবাসীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন, ছবি: মুস্তাফিজ মামুন

প্রতি বছর বাংলা মাসের হিসেবে চৈত্রের দ্বিতীয়ার্ধ এলেই বাংলাদেশের সংস্কৃতবান শহরবাসী জনতা পহেলা বৈশাখকে বাঙালির নববর্ষ হিসেবে পালন করার বিভিন্ন প্রস্তুতি নিতে থাকেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল, জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান পহেলা বৈশাখকে বাঙালির নববর্ষ হিসেবেই মহাসমারোহে উদযাপন করে থাকে। রমনার বটমূলে ছায়ানটের যে অনুষ্ঠান, চারুকলা ইনস্টিটিউটের শোভাযাত্রা সবখানেই বাঙালির নববর্ষ হিসেবেই পহেলা বৈশাখ বরিত হয়। কিন্তু গ্রাম পর্যায়ে বাংলাদেশের বিচিত্র সাংস্কৃতিক তৎপরতার সন্ধানে নেমে গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ করেছি পহেলা বৈশাখ শুধু বাঙালির উৎসব নয়, পহেলা বৈশাখ এদেশে বসবাসরত বেশ কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ। অথচ, পহেলা বৈশাখে বাঙালির নববর্ষ পালনের জাতীয় তৎপরতার মহাডামাডোলের মধ্যে চাপা পড়ে যায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের সুবিস্তৃত ও বর্ণিল আয়োজন। যখন ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পায় তখন এদেশের অন্যান্য ভাষাভাষী জনগণের সংস্কৃতিকে বাঙালির সাংস্কৃতিক তৎপরতার নিচে নামিয়ে রাখার কোনো অর্থ হয় না।

bom_02.jpg…….
বম জনগোষ্ঠীর রোখা বা বাঁশনৃত্য
……..
বাঙালি জনগোষ্ঠীর বাইরে পহেলা বৈশাখে এদেশীয় অন্যান্য যে সকল জাতিগোষ্ঠী তাঁদের নববর্ষ উদযাপন করে বলে তথ্য পাওয়া যায় তারা হলেন: পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী (তথ্য: হাফিজ রশিদ খান), এ ছাড়া বৃহত্তর সিলেট জেলার মণিপুরি জনগোষ্ঠী। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে পহেলা বৈশাখ তথা ১৪ এপ্রিল বার্মা এবং থাইল্যান্ডেও নববর্ষ পালিত হয়। আমরা সেদিকে যাবো না, আমরা আজকের লেখায় পহেলা বৈশাখে বাংলাদেশীয় যে সকল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ তাদের নববর্ষ উদযাপনের বিবরণ উপস্থাপন করবো। (সম্পূর্ণ…)

আদমবোমা (৩) । আদমবোমা না স্বাধীনতা-ব্যবসায়

সলিমুল্লাহ খান | ১০ এপ্রিল ২০০৯ ৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

আত্মঘাতী বোমা প্রসঙ্গে তালাল আসাদের বক্তব্য বিচার

talal-a-1.jpg
তালাল আসাদ, ২০০৮

alpa_1.jpgনতুন ইয়র্ক নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক তালাল আসাদ ২০০৬ ইংরেজি সনের মে মাসে কালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবিন নামক পরিসরে তিনটি বক্তৃতায় আত্মহত্যাকারী বোমা আক্রমণ বিষয়ে বিচার ও আলোচনা করিয়াছিলেন। পরের বৎসর নতুন ইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সেই বক্তৃতামালা লইয়া একখণ্ড ছোট মাপের বই ছাপাইয়াছেন। প্রকাশিত প্রথম দুই বক্তৃতায় তালাল আসাদ আলোচনা করিয়াছিলেন দুই প্রশ্নের: পশ্চিম জগতের নীতি-নির্ধারকরা ‘সন্ত্রাসবাদ’ বা ‘ত্রাসনীতি’ বলিতে কী বোঝেন আর তাঁহাদের বিচারে কোনো কোনো মানুষ কেনই বা ত্রাসনীতির চরম প্রকাশস্বরূপ আত্মহত্যার মতন বোমা ফাটায়।
—————————————————————–
কালো মানুষ কালো মানুষকে আদমবোমায় আঘাত করিলে—যেমনটি শ্রীলঙ্কায় তামিল ও সিংহলিদের যুদ্ধে হইতেছে কিংবা ঘটিতেছে এরাকি স্বাধীনতাকামীদের সহিত সেই দেশের মার্কিন সহযোগীদের সশস্ত্র সংঘাতে—পশ্চিম জগতের মানুষজন তেমন শিহরণ বোধ করে না। অথচ অন্য সময়—যখন কালো মানুষের দল এয়ুরোপের কোনো কোনো যোদ্ধা কিংবা এয়ুরোপীয় বংশের কাহাকেও হামলা করিলে—তাহারা ঢের বেশি শিহরিত হয়।
—————————————————————-
তালাল বইআমি ২০০৭ সনের শেষের দিকে এই দুইখানা বক্তৃতা লইয়া দুই আলোচনা করিয়াছিলাম। তাহার কিছু কিছু সমালোচনাও কেহ কেহ প্রকাশ করিয়াছিলেন। আমি নিজেও এই জাতীয় বোমা আক্রমণ সমর্থন করি কিনা প্রায় সকলেই এই আশঙ্কাজাত প্রশ্ন করিয়াছিলেন। ইহার উত্তর দেওয়া আমার মনে হইয়াছিল অনাবশ্যক। তালাল আসাদের লেখাতেই বরং ইহার উত্তর খোঁজা যাইতে পারে। জ্ঞানী সমালোচকদের জিজ্ঞাসার জওয়াব খোদ তালাল আসাদই উত্তম দিয়াছেন বলিয়া আমার মনে হইয়াছে। এক কথায়,প্রশ্নটা সমর্থনের বা বিরোধের নহে,উত্তরটাই অর্থের।

তালাল বলিয়াছেন তিনি নিজেও তাঁহাদেরই দলে যাঁহারা যুদ্ধে ব্যবহৃত সাধারণ বা গুচ্ছ (cluster) বা নিশ্ছিদ্র (carpet) প্রভৃতি বোমার তুলনায় আদমবোমায় বেশি শিহরণ বোধ করেন। শিহরণ বা ইংরেজি ‘হরর’ কথা দিয়া তিনি এমন কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা বলিতেছেন যাহা ঠিক আতঙ্ক নহে। আর আতঙ্ক বলিতে ‘ভয়’ নামক যে অনুভূতির চরম প্রকাশ চিহ্নিত হয় সেই ভয়ও ঠিক নহে। সুতরাং সমর্থনের প্রশ্নই উঠিতেছে না। (সম্পূর্ণ…)

রৌরব (কিস্তি ৮)

লীসা গাজী | ৯ এপ্রিল ২০০৯ ৪:১৫ অপরাহ্ন

কিস্তি ১কিস্তি ২কিস্তি ৩কিস্তি ৪কিস্তি ৫কিস্তি ৬কিস্তি ৭

(কিস্তি ৭-এর পর)

rourob-8.jpgওদের খাবার ঘরটা ছোটোর মধ্যে নিঁখুতভাবে গোছানো। এটাকে ঠিক পরিপূর্ণ কোনো ঘর বলা যাবে না, বিভিন্ন ঘরে যাওয়ার জন্য একটা কমন জায়গা বলা চলে। রান্নাঘর থেকে বের হলেই খাবার জায়গা আবার রান্নাঘরের উল্টা দিকে পাশাপাশি দু’টা দরজা। একটা লাভলির ঘরের দরজা অন্যটা বিউটির। দু’টা ঘর ছাড়িয়ে গেলে ইংরেজি ওয়াই অক্ষরের মাথার মতো আরও দু’টা ঘর শেষ মাথার দুই প্রান্তে। বাঁয়ের ঘরটা বসার ঘর আর ডানেরটা ফরিদা আর মুখলেস সাহেবের শোবার ঘর। এই বাসার সবচেয়ে বড় ঘর সেটাই। বসার আর ফরিদাদের শোবার এই দু’টা ঘরই রাস্তার দিকে মুখ করে। অবশ্য ফরিদার ঘর থেকে যতো স্পষ্টভাবে রাস্তা দেখা যায় ততোটা বসার ঘর থেকে দেখা যায় না। যাই হোক, সেই খাবার জায়গায় একটা ছয়-সিটের ডাইনিং টেবিল বসানো। টেবিলের মাথায় মুখলেস সাহেবের নির্দিষ্ট জায়গা। তার বাঁ দিকে ফরিদা, ফরিদার পাশে লাভলি বসে, বিউটি ফরিদার উল্টা দিকের চেয়ারে বসে। এছাড়া একটা মিটসেফ আছে, ফ্রিজও এখানেই রাখা। বাঁ দিকের দেয়াল জুড়ে একটা আজমির শরিফের ছবি বাঁধানো।

ইতোমধ্যে খাবার দেয়া হয়ে গেছে, বেশ ধোঁয়া বের হচ্ছে। খাবারের ম ম গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। বিউটির পক্ষে আর বেশিক্ষণ খিদে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সে বেশ মরিয়া হয়ে উঠলো। সে তার নির্দিষ্ট চেয়ারে বসে পড়লো আর সেখান থেকেই জোরে ফরিদাকে ডাকলো। মুখলেস সাহেবকে ডাকার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা না থাকলেও ডাকতে হলো। কারণ তিনি এসে না বসা পর্যন্ত খাওয়া শুরু করা যাবে না। নিঁখুত হতে হবে, সবকিছু নিখুঁত।

— চিল্লাচিল্লি করতেছিস কেন?

—খিদা লাগছে। দুইটা বাজছে অনেক ক্ষণ।

এটা সে কী বললো, এটা কী মনে করিয়ে দেবার মতো কোনো কথা। এই কথার পর মা, মেয়ে দু’জনেই দেয়ালঘড়ির দিকে তাকালো। সেখানে অবশ্য পোনে একটা বেজে ঘড়ির কাঁটা বছর খানিক ধরে দম নিচ্ছে। আল্লাহ’র রহমত! দু’টা বাজার পরেও ঘড়ির কাঁটা ছুটে চলেছে এই দৃশ্য না দেখাই ভালো।

—রাবেয়ার মা, বলছি না খাওয়ার সময় কাছে থাকবা। লাভলির প্লেটটা সরাও।

রাবেয়ার মা ইতস্তত করে লাভলির প্লেট সরালো। ফরিদা বিউটির দিকে তাকিয়ে কারণ ব্যাখ্যা করলেন।

—খালি প্লেট দেখতে ভালো লাগে না।… লাভলি আসলে প্লেট আবার দিয়া যাইও। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com