ঢাকায় আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব, ছবি মেলা ৫

| ৩১ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:২০ পূর্বাহ্ন

cm-logo-with-theme.jpg

ঢাকার আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি উৎসব ছবি মেলা ৫-এর আয়োজন করেছে দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও দ্য সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফি পাঠশালা। জাতীয় জাদুঘরের শহীদ জিয়া মিলনায়তনে ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৪ টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। চলবে ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত।

এবারের ছবিমেলার থিম ‘মুক্তি’ বা ফ্রিডম। জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টস, দৃক গ্যালারি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, গ্যেটে ইনস্টিটিউট, ব্রিটিশ কাউন্সিল, এশিয়াটিক গ্যালারি অব ফাইন আর্টস, শাঁখারীবাজারের কল্পনা বোর্ডিংস, কারওয়ানবাজার আন্ডারপাস ও ছবির হাট এই ১১টি ভেন্যুতে ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া ১০টি রিকশ ভ্যানে করে ঢাকা শহরের রাস্তা ও মার্কেটগুলির সামনের খোলা জায়গায় ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা আছে। মোট ৬২টি আলাদা প্রদর্শনীতে ৩৫ দেশের ফটোগ্রাফারদের এক হাজারের বেশি ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে এবারের ছবি মেলায়।

৩১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার গ্যাটে ইন্সটিটিউটে থাকছে ছবি নিয়ে বক্তৃতা, বিতর্ক, আলোচনা, ডিজিটাল উপস্থাপনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় লেখক মহাশ্বেতা দেবী। তাঁর সঙ্গে মার্কিন চিন্তাবিদ নোম চমস্কি ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনায় যুক্ত হন। তাঁদের আলোচনার বিষয়ও ছিল ‘মুক্তি’। ছবিমেলা থেকে এবার আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন মোজাম্বিকের ফটোগ্রাফার রিকার্ডো রাঙ্গেল।

অংশগ্রহণকারী দেশ হিসাবে আছে সাউথ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, নেপাল, ফ্রান্স, ইউকে, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, লেবানন, চায়না, জার্মানি, ইন্ডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, ইটালি, ইরাক, জাপান, মালি, মেক্সিকো, রাশিয়া, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, পাকিস্তান, প্যালেস্টাইন, ফিলিপিনস, নেদারল্যান্ডস, ইউএসএ, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, সৌদি আরব ও সুইডেন।

উল্লেখ্য ছবি মেলা ৫-এর উৎসব পরিচালক হিসাবে থাকছেন আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। তিনি ২০০০ সাল থেকে ছবি মেলা উৎসবের আয়োজন করে আসছেন।

ওয়েব লিংক

স্লাইড শোর জন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর ফটো গ্যালারি দেখুন।
http://www.bdnews24.com/chobimela/index.php?s=gallery

বিস্তারিত বিবরণের জন্য ছবিমেলার সাইট ব্রাউজ করুন।
http://www.chobimela.org

নতুন সিনেমা: নির্মাণ ও প্রদর্শন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা

নূরুল আলম আতিক | ৩০ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

নতুন সিনেমা কী ও কেন?

সিনেমার আবার নতুন পুরান কী? সিনেমা সিনেমা। পুরান অনেক সিনেমা আজকের দিনেও নতুন। এরমধ্যে কিছু ছবি কালোত্তীর্ণ। সিনেমা-ছবি-চলচ্চিত্র-ফিল্ম-বায়োস্কোপ-বই যে নামেই ডাকি না কেন, ‘সিনেমা কী?’ — পাঠক তার স্বরূপটুকু জানেন। কিন্তু ‘নতুন সিনেমা’র ব্যাপারটা কী? ব্যাখ্যা করছি। তার আগে প্রয়োজন দেশের সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতিটা এক নজর পরখ নেয়া।

‘সত্যের জয় হবেই’, ‘মায়ের মতো আপন কেউ নাই’, ‘সবার উপরে মা/মাটি/মানুষ’,‘প্রেমের মরা জলে ডোবে না’, ‘বন্ধু তুমি শত্রু তুমি’ ইত্যাদি ইত্যাদি — এগুলোই হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন থেকে, মানে আমাদের সিনেমার মূল ফ্যাক্টরি, বিএফডিসি থেকে উৎপাদিত ছবির মূল আইডিয়া। প্রায় একই ধরনের কাহিনী-বিন্যাস ও চরিত্রায়ণের মধ্য দিয়ে এই আইডিয়াবীজগুলো পল্লবিত হয়। ফর্মুলাভিত্তিক এই ছবিগুলোর টার্গেট-অডিয়েন্স নিম্ন আয়ের মানুষজন। নিম্নমানের সেট, খারাপ ল্যাবওয়ার্ক ও অন্যান্য টেকনিক্যাল ত্রুটি সম্বলিত এই ছবিগুলি যখন একটি ছোট শহরের হলে গিয়ে পৌঁছায় — তখন তার চেহারা যা দাঁড়ায় তা বলা বাহুল্য। অস্পষ্ট আওয়াজ আর ঝাপসা ছবির এক জঘন্য মহড়া।

এদিকে বছর কুড়ি হলো — শর্টফিল্ম, প্যারালাল ফিল্ম, অলটারনেটিভ ফিল্ম, ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ইত্যাকার নানা নামে কিছু ছবি তৈরি হচ্ছে। শুরুতে ১৬মি.মি. এ চালু হলেও এখন তা ৩৫ মি.মি.-এ নির্মাণ ও প্রদর্শন হচ্ছে। বিএফডিসি’র অংশীদারিত্বে এই প্রক্রিয়াটি চালু থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শ্যুটিং পরবর্তী কাজগুলো হয় বিদেশে। মুক্তিযুদ্ধ, দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম, সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা, নর-নারীর মানবিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রকাশ করে — এমন সব বিষয়াবলী এই ধারার মূল বিষয়বস্তু। মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু মহতী এই উদ্যোগ আমাদেরকে ইন্ডাস্ট্রি-চলচ্চিত্রের শোচনীয় দশা থেকে রেহাই দিতে অক্ষম। শুরুতে মধ্যবিত্ত দর্শক বিপুল উৎসাহে সাড়া দিলেও আজকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন; প্রাণহীন, উদ্দেশ্যপ্রসূত, দুর্বল এই চলচ্চিত্র সমূহ থেকে। অনেকে আবার এই ধারাকে ‘আর্টফিল্ম’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, আর তা করেন নিন্দার্থে। এই ছবিগুলোর অনেকগুলোই দেশে সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত কিম্বা বিদেশের ফান্ডে নির্মিত। প্রদর্শিতও হয় খুব সীমিত পরিসরে।

একসময় সিনেমা দেশের মানুষের যে পরিচয়কে প্রকাশ করতো এখন তার জায়গা নিয়েছে টেলিভিশন। ‘বোকা বাক্স’টি মোটেই বোকা নয় আর। এদেশের প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে সিনেমা ত দেখায়ই, টেলিফিল্মও দেখায়। যদিও টেলিফিল্ম বলতে যা বোঝায় তা মোটেই নয়; টেলিভিশন-অডিয়েন্সের জন্য নির্মিত টেলিভিশন-প্রোডিউসড ফিল্ম না হ’য়ে এগুলো মূলতঃ বড় নাটক অথবা ইন্ড্রাস্ট্রির ফর্মুলা-সিনেমার রেপ্লিকা। সোপ-সিরিয়ালের বাইরে বাংলাদেশ টেলিভিশন একটি আশ্চর্য জিনিসের জন্ম দিয়েছে তা হলো — খন্ড নাটক বা একপর্বের নাটক। বিনোদন জগতে একটি বড় সংযোজন। বলা ভালো অর্জন। সারা পৃথিবী জুড়েই এটি একটি অনন্য ঘটনা। (সম্পূর্ণ…)

রৌরব (কিস্তি ২)

লীসা গাজী | ৩০ জানুয়ারি ২০০৯ ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

কিস্তি ১

(গত কিস্তির পর)

rourob-2a.jpgদোকানদার লোকটা এবার একটু কৌতূহলের সাথে ওকে লক্ষ্য করছে। কতো আজব পাবলিক যে আসে। এই বেটিরে মনে হইতেছে কার লগে যেন ফিসফিস কইরা কথা কয় আবার আতখা চমকাইয়া উঠে। মাথার ইস্ক্রুপ সব ঢিলা নাকি?

— আপা, আর কিছু লাগবে?

— আপা না ভাবি, ভাবি ডাকতেছিলেন। না আর কিছু লাগবে না।

লাভলী হালকা পায়ে দোকান থেকে বেরিয়ে এলো। বেশ ফুরফুরে লাগছে। একটা কাজের মতো কাজ হয়েছে। বিউটি বিশ্বাসই করতে পারবে না। বাসায় গিয়ে খুব কায়দা করে ছুরিটা দেখাতে হবে ওকে। অবশ্য মহারানীর দরজা যদি খোলা থাকে তবেইসেন। খাবার সময় তো খুলবেই, তখনই দেখানো যাবে। এমনভাবে দেখাবে যেন ব্যাগের ভিতরে একটা ধারালো ছোরা থাকা কোনো ব্যাপারই না। গল্প করতে করতে আলগোছে বের করা।

চকিতে পিছন ফিরে তাকালো লাভলী, দোকানদার বেটা দোকান থেকে বের হয়ে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। ঝট করে আবার মাথা ঘুরিয়ে নিলো লাভলী। এখান থেকে সরে পড়তে হবে, যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব। কিন্তু কেন? ও তো অন্যায় কিছু করেনি। একটা নিষ্পাপ ছুরি কিনেছে মাত্র। আবার হাঁটার গতি স্বাভাবিক হয়ে এলো লাভলীর।

—————————————————————–
– আফা, ঐ যে একটুক দূরে বড় গাছটার ছেমায় একটা বেটা খাড়ায় আছে, হে আপনের লগে কথা কইতে চায়।

মেয়েটা কথা কয়টা বলতেই লাভলির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। বড় গাছটার ছেমায় নাকি একটা বেটা খাড়ায় আছে আর সেই বেটা নাকি ওর সঙ্গে কথা কইতে চায়, এর মানে কী? ওর সঙ্গে কেন কথা বলতে চাইবে! চকিতে লাভলী গাছটার দিকে তাকিয়ে আবার মাথা ঘুরিয়ে ফেললো। সে প্রায় কিছুই দেখতে পেলো না। গাছের পিছনে লোকটা গা ঢাকা দিয়ে আছে। শুধু লোকটার লাল রঙের মাফলার চোখে পড়লো।
—————————————————————-
ধীরে সুস্থে জায়গাটা পার হলো। নিউ মার্কেটের গেট দিয়ে বের হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, কী করবে এখন? মাথার লোকটা জীবনের প্রথম এক ধমক খেয়ে সত্যি সত্যি চুপ মেরে গেছে। এই মুহূর্তে একটা বুদ্ধির দরকার। কোথায় যাবে সে। বাসায় এতো তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

ছুরিটাকে ঝোলা থেকে বের করে আরেকবার দেখতে খুব লোভ হলো। চেইন খুললো, ঝোলা থেকে বের হয়ে এলো ছুরিটা। প্লাস্টিকের মোড়কের ভিতর ছুরি, তারপর আবার একশ’ বত্রিশটা টেপ লাগানো। খেয়ে দেয়ে কোনো কাজ পায় না। প্লাস্টিক না এখন ব্যবহার করা নিষেধ। ছুরিটাকে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখার জন্য হা পিত্যেশ করে উঠলো মন। টেনেটুনে প্লাস্টিকের মোড়কটার বারোটা বাজালো লাভলী। ছিঁড়ে ফেলে দিলো গাড়িপার্কের ড্রেনের ভিতর। ছুরিটা চলে এলো হাতে আর সাথে সাথে শীতের রোদের আদুরে তেজ মসৃণ স্টেনলেস স্টিলের গায়ে পিছল খেলো। আলোর বিচ্ছুরণ আতশবাজির মতো ছিটকে পড়লো লাভলীর চোখে মুখে। সে যে কী সুখ!

( — দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করবেন নাকি রমনা পার্কে যাবেন?)

যাবো যাবো, রমনা পার্কে যাবো। লোকটার কথায় চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছা করলো। এতো খুশি কি তার কখনও লেগেছে? হ্যাঁ লেগেছে। যেদিন রিয়াজ… (সম্পূর্ণ…)

ব্যাঙের সঙ্গে কবির টক্কর ও অন্যান্য

কামরুজ্জামান কামু | ২৯ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:২৩ অপরাহ্ন

ব্যাঙ ডাকে

লেকের ধারে ভেকের ডাক
অনর্থক আমরা আজ
শুনতেছি

তার ব্যাকুল কণ্ঠস্বর
ভাল্লাগে একটু পর
ব্যাঙটাকে

বস্তুতই রোদ পোহায়
গান করে তারস্বরে
দিনরাতে

আমরা তাই যাই লেকে
জানতে নাই তার কারণ
বৃষ্টিতে

ঐক্যময় ভেকদলে
ডাক পাড়ুক এই লেকের
চারপাশে

ব্যাঙের সঙ্গে কবির টক্কর

ঘাটপাড়ে মত্ত ব্যাঙ ডাক পাড়ে
তীর দিয়ে জয় কবি কাক মারে

ব্যাঙ-ব্রাদার ড্যামকেয়ার কাজকামে
জয় কবি গোস্বাতে যায় বামে

নাই কামে ঝগড়া হয় তাই নিয়ে
কাক মারা কষ্টকর তীর দিয়ে

ডাকতে চায় ব্যাঙ ডাকুক ঠ্যাঙ তুলে
জয় কবি কাক মারা যাক ভুলে

মামুজির সঙ্গে দেখা আবারো নৌকায়

মামুজির সঙ্গে দেখা আবারো নৌকায়
ঢেউ এসে পাটাতনে সোজা বাড়ি খায়
ফলে নৌকা বাঁকা হয়ে তেরছাভাবে দোলে
বোতলের মুখে ছিপি মামুজি তা খোলে (সম্পূর্ণ…)

রৌরব (কিস্তি ১)

লীসা গাজী | ২৩ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

আর হবে না মানব জনম
কুটলে মাথা পাষাণে

rourob-1.jpg

১.

রাস্তায় আবোল তাবোল ঘুরতে লাভলীর খুব ভালো লাগে। কিন্তু বাসা থেকে বের হওয়াটা পুল সিরাত পার হওয়ার মতো কঠিন এবং জটিল। আজ অবশ্য ঘটনা অন্য রকম, আজ সে সম্পূর্ণ একা বের হয়েছে। কীভাবে এই অসম্ভব সম্ভব হলো তা একমাত্র খোদা’তায়ালাই বলতে পারেন। তাই বলে একেবারেই যে বাইরে যাওয়া হয় না, তা না। তবে যখন যায় মায়ের সাথেই যায়, দু’একবার অবশ্য বিউটির সাথেও গেছে। সেও যাকে বলে মনে রাখবার মতো ঘটনা। কিন্তু আজ শেলওয়ার কামিজের কাপড় কেনার উদ্দেশ্যে ও একাই বেরিয়েছে। অবিশ্বাস্য, কিন্তু সত্যি। অবশ্য ফরিদা খানম, লাভলীর মা, যথারীতি বিউটিকে সাথে নিয়ে যাবার জন্য অনেক পীড়াপিড়ি করেছেন। আশ্চর্য ব্যাপার হলো, বিউটি শেষমেশ যাচ্ছে না দেখেও ওর যাওয়া বন্ধ করেন নাই। তার মতির এই হঠাৎ পরিবর্তনের কারণ কী কে বলতে পারে। বরং গাউছিয়া যাওয়ার প্রস্তাব তার মুখ থেকেই এসেছিলো।

— গাউছিয়া গেলে চল। দেখ বিউটি যাবে কী না? মহারানী তো মটকা মাইরা পইড়া আছে।

লাভলী বৃথাই কিছুক্ষণ বিউটির দরজা ধাক্কা দিলো। ভিতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এটাই হচ্ছে অসুবিধা, একবার যদি ঘুম দেন মহারানী সেই ঘুম ভাঙতে খবর আছে। সবে তো বাজে নয়টা, দশটা সাড়ে দশটার আগে বিউটির ঘুম ভাঙে না। ঘুম ভাঙার পরেও নানান কায়দা। দাঁত
—————————————————————–
অনেকেই তার পাশ দিয়ে হুটহাট চলে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু একটু দূরে গিয়েই আবার মাথা ঘুরিয়ে ওকে আপাদমস্তক দেখে নিচ্ছে। দু’টা অপরিপাটি লম্বা বেণী, কামিজের ঝুল হাঁটু ছাড়িয়ে আরও এক বিঘৎ নেমে গেছে, ভ্রুজোড়া যেমন কে তেমন, চোখে বিহ্বল হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টি, মুখের লাবণ্যটুকু বিদায় হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমন জিনিস ঢাকা শহরের বাজারে সচরাচর দেখা যায় না। একটা কাপড় নিয়ে কতোক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে দোকানদারও পাত্তা দিচ্ছে না। হঠাৎ করে চোখ ভিজে উঠলো লাভলীর।
—————————————————————-
মাজা, মুখ ধোওয়া এগুলো তো আছেই এছাড়া আর যা আছে তাতেই তার ঘণ্টাখানেক লেগে যায়। মাথার ঠিক মাঝখানে সিঁথি করে ডান পাশের চুল আর বাঁ পাশের চুল গুনে গুনে একশো’বার আঁচড়াবে, তারপর চুল ছেড়ে রাখবে বা টানটান করে একটা লম্বা বেণী করবে। বিউটির জন্য সব সময় ডাল বাটা ফ্রিজে তৈরী থাকে, সেই ডাল বাটা মুখে দিয়ে কম পক্ষে আধ ঘণ্টা বসে থাকবে। ডাল বাটা মুখে শুকিয়ে ঝুরঝুর করলে একটা ছোট তোয়ালে গরম পানিতে ডুবিয়ে ভালো করে চিপে নিয়ে সেটা দিয়ে আস্তে আস্তে মুখ পরিষ্কার করবে। সুতরাং বারোটার আগে যে তাকে তৈরি করানো যাবে না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তাও লাভলী ফরিদা খানমের কথামতো বিউটিকে ঘুম থেকে তোলবার চেষ্টা করলো কিন্তু লাভ হলো না।

— আম্মা বিউটি ঘুমাইতেছে। ডাকলাম শুনে না।

— ডাইকা লাভ নাই, হাটকালের বংশ। নামায নাই কালাম নাই শুধু ঘুম। ঘুম থিকা উঠলেও লাভ নাই, আয়না নিয়া বসবেন। যা, তুই তৈরি হ… যাওয়ার আগে দ্যাখ, যায় কী না…।

লাভলীর অতো বায়নাক্কা নাই। বিউটির মতো ও চুলে সিঁথি কাটতেও বসলো না, মুখে ডালও ঘষলো না। কোনো রকমে চুলটা আলুথালু বাঁধলো। সব সময় যা করে তাই করলো — দু’টা লম্বা বেণী। চুল বাঁধতে গিয়ে টের পেলো আগা ফেটে চৌচির। চুল পিঠ ছাড়িয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু নিচের দিকে ইঁদুরের লেজের মতো অবস্থা। না, বিউটিকে ব‌লতে হবে আগাটা একটু ছেটে দিতে। মুখে সাবান ঘষলো। আজকাল মুখে সাবান দিলেই মুখ টানতে থাকে। আগে এরকম হতো না — ভাবতে ভাবতে মুখে নিভিয়া ক্রিম মাখে লাভলী। শীতের সময়ই যা একটু ক্রিম লাগায় ও। গরমের সময় ওর ওসব লাগে না। ড্রয়ার খুলে যে কামিজটা প্রথমে চোখে পড়লো তাই টেনে বের করলো। লাভলী মনে মনে খুব চাইছে আজকে যেন ফরিদা খানম ওদের সাথে না যান। এই চাওয়ারও কোনো কারণ নাই। ফরিদা খানম সাথে না গেলেও যে খুব একটা উনিশ বিশ হবে তাও না। বড় জোর দুই বোনে মিলে চটপটি বা ফুচকা খাবে। ফরিদা খানম সাথে থাকলেও খাওয়া যায়, তবুও শুধু ওরা দুই বোন যখন যায় তখন অন্য রকম ফুরফুরা লাগে।

লাভলীর তৈরি হতে লাগলো বড় জোর দশ মিনিট। কিন্তু বিউটি কিছুতেই সাথে যেতে রাজি হলো না। দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে কী করছে কে জানে। লাভলীর মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। ফরিদা খানম দু’একবার চেষ্টা করলেন ধাক্কা দিয়ে দরজা খোলাতে, কিন্তু পারলেন না।

‘অলক্ষীর একশেষ।’ ফরিদা খেদ ঝাড়লেন। ‘এক বান্দা সারাক্ষণ বাইরে যাওয়ার জন্য কই মাছের মতো হাঁ কইরা থাকে, আরেকটারে মাইরাও বাইর করা যায় না।’ (সম্পূর্ণ…)

গ্যালারি কায়ায় মুখোশ প্রদর্শনী

| ২২ জানুয়ারি ২০০৯ ২:২৬ অপরাহ্ন

shj-2.jpg
…….
মুখোশ ২, সাইদুল হক জুইস
…….
১৬ জানুয়ারি থেকে উত্তরার গ্যালারি কায়ায় শুরু হয়েছে মুখোশ প্রদর্শনী। ‘মুখ ও মুখোশ ২’ নামের এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন সাইদুল হক জুইস, তরুণ ঘোষ, কাজী রকিব, মাসুদা কাজী, সাবিন শাহরিয়ার, বিশ্বজিৎ পাল, রতন কুমার সরকার, মুনির উদ্দিন আহমেদ টভেল, মো. আবদুর রহিম, নাসরীন শাহরিয়ার, সন্দীপ কুমার দেবনাথ, কনক কুমার পাঠক, মো. নূরুল ইসলাম, খোন্দকার নাসির আহম্মেদ, লাফিজা নাজমীন (অন্বেষা) এই ১৫ শিল্পী। প্রদর্শনী চলবে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে প্রদর্শনী। কায়ার ঠিকানা: বাড়ি ২০, রাস্তা ১৬, সেক্টর ৪, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০। ফোন: ৮৯৫৯৪৫৩।

গ্যালারি কায়ার সৌজন্যে প্রদর্শনীর ৯৮টি মুখোশ থেকে আর্টস-এ ৫০টি মুখোশের ছবি উপস্থাপিত হল। প্রদর্শনীশেষেও আগ্রহীরা মুখোশের ছবি এখানে দেখতে পাবেন।

প্রদর্শনীর ছবি
————————————
মুখোশের ছবির সংখ্যা: ৫০
————————————
ছবি বড় সাইজে দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।

সংস্কৃতির শেকড় সংস্কৃতির লড়াই

আনু মুহাম্মদ | ২০ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

‘মানুষের এই বিশাল পরিবর্তনের ধারা সুগোল — চাঁদ ও নদীর বুকে জমা হয় নাকি? চাঁদও রূপান্তরিত হয় কণায় কণায়, নদী নিরন্তর সঞ্চরণশীল। তারও আছে জোয়ার ভাটা, চর, ভাঙা কুল-প্লাবন ও শীর্ণতা। এই তেতো লবনাক্ত জীবনের বাঁকে বাঁকে মানুষের জন্য অপেক্ষা করে রূপান্তর। কিন্তু সে কি এতই সহজ! তার জন্য আছে অশ্রুঘামরক্তমৃত্যু দুয়ার। আছে দীর্ঘ পথ পরিক্রমা।’
সেলিম আল দীন, কিত্তনখোলা

সংস্কৃতি ক্ষেত্রে আমরা কিছু মৌলিক প্রশ্ন মোকাবিলা করছি যেগুলো সেলিম আল দীনের কাজের ক্ষেত্রেও মনোযোগের কেন্দ্রে ছিল। এগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে নিজের পরিচয়কে শনাক্ত করা। শেকড় সন্ধান করা। কী আমি? কার আমি? কোথায় আমি? কোথায় আমার ঘর? কোথায় আমার বসত? কী আমার পরিচয়? কোনদিকে যাবো আমি?

ঊনিশ শতকে বাংলাসহ ভারতবর্ষ যখন উপনিবেশ তখনই জাতিরাষ্ট্র কাঠামোয় দুনিয়ার ভৌগোলিক চিত্র একটি সংহত রূপ নেয়। রাষ্ট্র বলতে তখন ছিল শুধু ঔপনিবেশিক কেন্দ্রগুলো। পুরো দুনিয়ার মধ্যে এগুলো ছিল দ্বীপের মতো, বাকি পুরো সাগরই তখন উপনিবেশ। উপনিবেশ শৃঙ্খলে থেকে থেকে এসব অঞ্চলের মানুষ ভুলতেই বসেছিল তারাও স্বাধীন মানুষ ছিল কিংবা হতে পারে। কিংবা প্রশ্ন এখনও করা যায়, ভুলতে বসেছিল বলবো নাকি বলবো যে ভুলেই আছে? না এর বিপরীত চিত্র সবসময়ই ছিল। দৃষ্টিগ্রাহ্য মাত্রা তা লাভও করেছে কখনও কখনও।

দূররাজ্যের রাজা বাদশার দখল, লুণ্ঠন, নির্যাতন আধুনিক ঔপনিবেশিক কাল দিয়েই শুরু হয়নি। কিন্তু আধুনিক ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও প্রভাব তুলনায় অনেক বেশি। এটি শরীর মন শুধু নয় অস্থি তরুণাস্থি পর্যন্ত স্থায়ী বসত গাড়ে। এই ব্যবস্থা শুধু অর্থনৈতিক লুণ্ঠন বা রাজনৈতিক নির্যাতন করে না, সমাজের চিন্তাশক্তির মধ্যে ঔপনিবেশিক ভক্তির ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় পোক্তভাবে। দেখতে মনে হয় মানুষ, কিন্তু আসলে উপনিবেশ। কিন্তু আমরা এখনও যে দাঁড়িয়ে নিজেদের চিন্তা নিজেরা করতে পারছি এর কারণ একটাই যে, উপনিবেশিক প্রবল জ্ঞানতাত্ত্বিক আধিপত্যের শিকার পুরো সমাজ হতে রাজি হয়নি। বাংলাতেও না, পৃথিবীর কোথাও না।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাসে একজন বৃদ্ধ মানুষের চরিত্র আছে। গ্রামের সেই মানুষ দীর্ঘকাল জমিদারের সেবা করেছেন শরীর মন সব দিয়ে, তারপরও লাথিগুতা খেয়েছেন বেশুমার। জমিদার গেছে, জমিদারী গেছে, কিন্তু যৌবনকালে জমিদারের কাছ থেকে খাওয়া শক্ত একটা জুতার লাথির দাগ ঘাড়ের কাছে রয়েই গেছে। শীতে তাতে ব্যথার টনটনও করে। তারপরও বৃদ্ধ সেই জায়গা নিয়ে কোনো চিকিৎসা করতে নারাজ। বরং পরম যত্নে প্রায়ই ঐ দাগের উপর হাত বুলানো আর সুযোগ পেলেই গর্বের সঙ্গে তা মানুষদের দেখানোতেই তার প্রবল আগ্রহ। ঘটা করে বলেন কী জবরদস্ত লোক ছিলেন তার প্রভু। এমন লাথি দিয়েছেন যার দাগ এখনও যায়নি। বলে বলে নিজের ওজন বাড়াতে অস্থির তিনি। যেন সেই দাগ হারিয়ে গেলে তার গুরুত্বও চলে যাবার সম্ভাবনা। (সম্পূর্ণ…)

নিরাকারের মুখ

সৈয়দ তারিক | ১৬ জানুয়ারি ২০০৯ ১:২৬ অপরাহ্ন

st.jpg

১.
পড়ো, তুমি করো পাঠ: প্রথম অনুজ্ঞা এই ছিলো;
করো পাঠ অস্তিত্ব তোমার;
তোমার আমিকে পড়ো, কামনাকে পাঠ করো, আর
দ্যাখো ক্রোধে হয়েছ কেমন এলোমেলো।

পড়ো, তুমি করো পাঠ : কী করে পড়বো আমি, সাঁই?
কেবল বাইরে দেখি, দুই চোখ বন্ধ করে নিজেকে দেখতে শিখি নাই।
২৬/৭/২০০৪

২.
এই যে কাঁপনগুলো — পর্দার — বলেছিলে, এ-ও নাকি তুমি;
তোমাকে আড়াল তুমি রাখো;
আমাকে খাটিয়ে নাও অবিরাম যেন খুঁটে খুঁটে
দেখি আমি পর্দায় কেমন ইন্দ্রজাল আঁকো।

গহন আবেশে আমি অতিশয় মুগ্ধ যখন —
মুগ্ধতা সেও তো তোমার;
তোমাকেই ভালোবেসে ভালোবাসাকেও ভালোবাসি:
তুমি নাও, প্রভু, সেই সাহজিয়া প্রণয় আমার।
২৮/৭/২০০৪

৩.
ধাঁধার মতন লাগে, এই হয় এই নয়, কোনখানে ঠাঁই?
চলেছি বাঁধন ছিড়ে, ছিঁড়ে নিতে কাঁপে যেন প্রাণ;
এও কি মায়ার খেলা? তবে কোন পারে
পারহীনতার বাজে গান?

যে তুমি নিজেই পার, পারের ওপারে তুমি থাকো;
এ-পারে ও-পারে যোগাযোগ
নেই কোনো? প্রভু দয়াময়,
দিয়ো — আর কিছু নয় — কেবল তোমাকে উপভোগ।
২৮/৭/২০০৪

৪.
যেখানেই যাই আমি দেখি যেন তোমাকে কেবল,
সেখানে তুমিই যেন যাও;
প্রভু, তুমি আছো আর অনুপম শুধু তুমি থাকো,
মায়ার অতীত তুমি: অবিকল তুমি এ মায়াও।
২৮/৭/২০০৪

৫.
আমাকে নামিয়ে দিয়ে নাম-ভূমিকায়
ঠোঁটে ঠোঁট মিলছে যখন
ঘোষণা করেন তিনি: কাট্‌।

আমিও ভুলেই যাই — প্রায়শই ভুলে থাকি — আছি অভিনয়ে
ভুলি — পরিচালনায় রয়েছেন তিনি;
নায়িকার হাত ধরে চোখে চোখ রেখে মনে হয়
জন্মান্তর হতে তাকে আমি চিনি।

তারও চোখে জ্বলে প্রেম, তারও ঠোঁটে অবিকল হাসি,
ভুলে যায় সংলাপ পাঠ;
মেঘের ওপার থেকে গম্ভীর বজ্রের স্বরে
চেঁচিয়ে ওঠেন তিনি: কাট্‌।
৩১/৭/২০০৪ (সম্পূর্ণ…)

শিল্পগুরু সেলিম আল দীনের সঙ্গে (কিস্তি ২)

সাইমন জাকারিয়া | ১৪ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:২৩ অপরাহ্ন

selim-ad2.jpg
সেলিম আল দীন (১৮/৮/১৯৪৯ – ১৪/১/২০০৮), ছবি: নাসির আলী মামুন

কিস্তি ১

১৪ জানুয়ারি লেখক-নাট্যকার সেলিম আল দীন-এর তিরোধান দিবস। সে উপলক্ষে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, ঢাকা থিয়েটারসহ সারাদেশের বহু নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সেলিম আল দীন স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। ঢাকা ও কলকাতার লেখক-নাট্যকর্মীগণ যোগ দিচ্ছেন। সেলিম আল দীন-এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লেখাটির দ্বিতীয় কিস্তি প্রকাশিত হলো। প্রথম কিস্তি প্রকাশিত হয়েছিল গত বছর সেলিম আল দীন জন্মোৎসবে।

যে জন কেবল দেশী ফুলে মুগ্ধ
পুঠিয়ায় এক শীতের ভোরে আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেন সেলিম আল দীন। বললেন, চল হেঁটে আসি গ্রামের ভেতর। তড়িঘড়ি বিছানা ছেড়ে প্রস্তুত হয়ে নিলাম। এবার আমাকে সঙ্গে নিয়ে ঘর থেকে বাইরে এসে শিশির ভেজা গ্রামীণ পথ ধরলেন। পথের শুরুতেই একটা মরা নদী। তার শান্ত বুকে সারি সারি বেগুনি ও সাদা রঙের আবেশ ছড়ানো কচুরি ফুলে আমার চোখ মুগ্ধতায় আঁটকে গেল। সদাই ফুলে মুগ্ধ, ফুলে আনন্দিত গুরুকে সেই সকালে মুগ্ধতায় ফেলে দেওয়ার কৃতিত্ব লাভের প্রত্যাশায় বেগুনি-সাদার আবহে ভাস্বর কচুরির ফুলকে ইঙ্গিত করে মুগ্ধতা প্রকাশ করলাম। কিন্তু ব্যর্থ হলাম তাঁকে মুগ্ধ করতে, বরং তার বদলে ভীষণ কড়া একটা ধমক খেলাম। মনে মনে খুব কষ্ট পেলাম, মনে হলো আজকের সকালটাই মাটি হয়ে গেল, আবার ভাবলাম, ব্যাপারটা আসলে কী? কোনো ফুল দেখে তো তাঁকে কোনোদিন মুগ্ধতা প্রকাশে দ্বিধা করতে দেখিনি, আজ হঠাৎ এমন কী হলো! গতকাল ঢাকা থেকে এই রাজশাহীর পুঠিয়া আসার পথেও তো তিনি ছিলেন ফুলের প্রতিই মুগ্ধতা প্রকাশে উচ্ছল। এইসব ভাবনার মধ্যে একসময় নিরবতা ভেঙে সেলিম আল দীন বললেন, তোর এই মুগ্ধতাটা আমার ভালো লাগলো না। কারণ, ওটা আমাদের দেশি ফুল নয়।

মানে?

ওটা বহু বছর আগে এক বন্যায় এই দেশে ভেসে এসেছে।

বুঝলাম, শিল্পগুরু সেলিম আল দীনের শিষ্য হিসেবে মুগ্ধতা প্রকাশেও দেশজ হতে হবে। (সম্পূর্ণ…)

মোহামেদ চউক্‌রির ডায়েরি

তানজিয়েরে জঁ জনে (কিস্তি ৪)

হোসেন মোফাজ্জল | ৩ জানুয়ারি ২০০৯ ৪:৫০ অপরাহ্ন

কিস্তি ১কিস্তি ২কিস্তি ৩

genet_book2.jpg ফরাসি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও পলিটিক্যাল অ্যাকটিভিস্ট জঁ জনের মরক্কো বাসের সময় সেদেশের লেখক মোহামেদ চউক্‌রির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জঁ জনে ইন তানজিয়ের (Jean Genet in Tanger, ১৯৯৩) বইটি ডায়েরির আকারে লিখিত চউক্‌রির সে সব দিনের স্মৃতিকথা। এখানে চউক্‌রি জনেকে দেখেছেন অনেক কাছ থেকে।

৮০ পৃষ্ঠার বইটি মোট ৪ কিস্তিতে প্রকাশিত হলো। এটি লেখার শেষ কিস্তি। পল ফ্রেডরিক বৌলস্-এর ইংরেজি থেকে লেখাটি অনুবাদ করা হয়েছে। বি. স.

কিস্তি ৪

অনুবাদ: হোসেন মোফাজ্জল

(গত কিস্তির পর)
paul-bowles4.jpg
১৯৬১ সালে মরক্কোতে পল বৌলস্‌।

২২/১০/৬৯
লাপাসেদের সাথে দেখা করি। জনে তার দুপুরের সিয়েস্তা দিতে চলে গেছে। আমরা মারিয়ার রেস্টুরেন্টে আসি। লাপাসেদ আমাকে বলেন: আমার কাছে মনে হচ্ছে জনে ফুরিয়ে গেছেন। কোথায় অ্যাডভাঞ্চেরার জনে, কোথায় বারসেলোনা, তিউনিশিয়া আর গ্রীসের জনে?

আমারও মনে হয় লাপাসেদ সঠিক। জনে তার অতীতের যৎসামান্যই বলেছে। যখনই আমি তাকে তার কোনো বই নিয়ে কথা তুলেছি, তিনি উত্তর দিয়েছেন: তাই, আমি তো ওটা বছর খানিক আগে লিখেছিলাম। এক দুপুর বেলায় আমি তাকে জিজ্ঞেস করি: আজ আপনাকে তেমন ভাল দেখাচ্ছে না। তিনি আমার দিকে মরা চোখ নিয়ে তাকিয়ে বলেন: তুমি ঠিকই ধরেছো। আজ আমি খুবই বিষণ্ন।

পরে ফ্রান্স বারে বসে জনে আমাকে ফিসফিস করে জানতে যায় ওয়াকরিম, যে আমাদের সাথেই টেবিলে বসে ছিল তাকে উদ্দেশ্য করে, সে আমার কাছে কোনো প্রাপ্তি আশা করে কি?

আমি প্রশ্নটা ওয়াকরিমের কাছেই উত্থাপন করি।

না, মঁসিয়ে জনে, সে বলে। তারপর সে আরবিতে চালিয়ে যায়। আমরা বন্ধুমানুষ। কিন্তু আপনি হয়তো আমাকে অন্যভাবে সাহায্য করতে পারেন। এমন কিছু যার প্রতি আমার আগ্রহ আছে।

portraits-of-famous-people.jpg
পিটার অরলোভস্কি, উইলিয়াম বারোজ, অ্যালেন গিনসবার্গ, অ্যালান আনসেন, গ্রেগরি করসো, পল বৌলস, আয়ান সামারভিল। ১৯৬১ তে বিখ্যাত সব লেখক জড়ো হয়েছিলেন তানজিয়েরে।

জনে তাকে বলে তোমাকে আমি যে কোনো উপায়ে সাহায্য করতে তৈরি আছি।

আমি যা চাই, ওয়াকরিম বলে, তা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কারুর কাছে লেখা একটা পত্র যে কি না আমাকে সেখানকার কোনো নাচের স্কুলে ঢুকিয়ে দিতে পারবে। (সম্পূর্ণ…)

সংযোজন

আরবি কবিতা

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ | ১ জানুয়ারি ২০০৯ ৬:০৪ অপরাহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রথম কি দ্বিতীয় বর্ষে আমি যখন, আমাদের ইংরেজি বিভাগের এক সিনিয়র ভাই ইকবাল শাইলোর একখানা অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশ করেন, সপ্ত ঝুলন্ত গীতিকায় রোমান্টিসিজম। ঐ বইটি পড়বার আগে nostalzia-khaled-al-saai.jpg
…….
নস্টালজিয়া, ক্যানভাসে অ্যাক্রেলিক, ২০০৭; শিল্পী: খালেদ আল-সাই (জন্ম. সিরিয়া ১৯৭০)
……..
প্রাক্-ইসলামিক তো বটেই, কোনোরূপ আরবি কবিতারই বিষয়ে আমার কিঞ্চিন্মাত্র জ্ঞান ছিল না। ঐ বইয়েরই কল্যাণে জানতে পারলাম যে ইসলামের অধিষ্ঠানের পূর্বে কাবা শরিফে এক বাৎসরিক মেলা বসত, যাতে কবিতা প্রতিযোগিতাও হ’ত, এবং নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ সাতটি কবিতাকে পরের বছরের মেলা পর্যন্ত কাবা-গাত্রে ঝুলিয়ে রাখা হ’ত (যার থেকে সপ্ত “ঝুলন্ত” কবিতা)। ইসলামের আগমনে, বলা বাহুল্য, এই প্রথা বিলুপ্ত হয়, এবং ঐ বাৎসরিক কাবা-গমনও ইসলামি হজ-এ রূপ নেয়। তারপর বেশ কিছুকাল, যাকে বলে সেকুলার সাহিত্য থ মেরে থাকে। কিন্তু যেই-না মক্কা-মদিনার তাঁবু থেকে বাগদাদ-দামেস্কের দরবারে ইসলামের কেন্দ্র স’রে যাওয়া, অমনি আবার আরবি কবিতার উৎসমুখ খুলে যায়, এবং নানা ঘাত-প্রতিঘাত সত্ত্বেও, সেই ফোয়ারা আজও বারিবর্ষণক্লান্ত হয় নি।

lion.jpg……
ক্যালিগ্রাফিক সিংহ, ইসলামের চতুর্থ খলিফা ইমাম আলী ইবনে আবু তালিবের শক্তির প্রতীক
………
“আরব” কথাটা কানে এলেই আমাদের মরম দখল ক’রে বসে মরুবালু, খেজুরগাছ, উট আর বেদুইন। আমরা বেমালুম ভুলে যাই যে আরব জাহানের সিংহভাগ বাসিন্দা প্রথমাবধি ছিলেন নগরবাসী, এমনকি বিশ্বের প্রাচীনতম নগরসভ্যতাগুলির council-of-the-king-of-the.jpg……
কাকরাজার সভা, সংস্কৃত পঞ্চতন্ত্রের অরবী অনুবাদ কালিলাহ্‌ ওয়া-দিমনাহ্‌ (Kalilah wa-Dimnah) (১২১০)-র অলংকরণ।
……..
জাতক — যাদের হাতে শুধু যে নগর নির্মাণের সূচনা ঘটেছিল তা-ই নয়, ঘটেছিল নানা শিল্পমাধ্যমেরও বিকাশ (ভারত [সিন্ধু/হরপ্পা], চীন, তুরস্ক [হিত্তি/মিতান্নি], মিসর, আমেরিকার সভ্যতাগুলিও হরেদরে একই সময়ে বিকশিত হ’লেও, সেসব সভ্যতার প্রাচীনতম পর্যায়গুলোর থেকে নিছক কবিতার নিদর্শন বড় বেশি পাওয়া যায় নি)। অপিচ স্মরণ করুন যে আরবি গীতিকবিতা একদা য়ুরোপিয় গীতিকবিতার নবজন্মকেও সম্ভব করেছিল একদিন: হিস্পানি মুরদের দ্বারা, ত্রুবাদুরদের, মিনেস্যেঙ্গারদের পথিকৃৎ-রূপে।

আধুনিক আরবি কবিতাও — যা প্রধানতঃ পাশ্চাত্ত্য নিপীড়নের এক শৈল্পিক প্রতিবাদরূপে বিংশ শতকের প্রথম পাদে বিকশিত হ’তে শুরু করে — মরু-আরব নয়, বরং বাগদাদ দামেস্ক বৈরুত জেরুসালেম কায়রোরই অবদান, আর এর বিষয়ে আমাকে প্রথম অবহিত করেছিলেন আমার দুই কবি-বন্ধু সৈয়দ তারিক এবং সাজ্জাদ শরিফ। সাজ্জাদেরই অনুবাদে সম্ভবতঃ, আদনিসের কবিতা আমি প্রথম পড়েছিলাম।

musicians-persian-654-12.jpg
মিউজিশিয়ানস, পারস্য, ৬৫৪-১২৫৬

লাতিন আমেরিকার কবিতার সঙ্গে আধুনিক আরবি কবিতার একটা বিশেষ মিল আমার নজরে পড়ে। উভয়েরই প্রধান প্রণোদনা রাজনৈতিক — এবং, তা-সত্ত্বেও, তারা অধিকাংশ সময়েই, বাংলাদেশের (ধরা যাক) সত্তরের গরিষ্ঠাংশ কবিতার মতো, চিৎকারসর্বস্ব স্লোগানের ভুসিমালে পর্যবসিত হয় নি। আরবের চামড়ার নীচে তেল নয়, কবিতা প্রবাহিত হয় — এমন কথা কবি নিজার কাব্বানি বলেছিলেন একদা, কবি-বন্ধু রাজু আলাউদ্দিন-এর একটা অনুবাদে দেখেছিলাম যেন। আমি পরে যত পড়েছি আরবি কবিতা, তত এই কথাকে সত্য হ’য়ে উঠতে দেখেছি আমার সংবেদনে। এমনিতে বিশুদ্ধ রাজনৈতিক কবিতার, কবিতা হ’য়ে ওঠাটা প্রায় একটা ডিঙি নৌকায় ক’রে বসফরাস পেরোনোর শামিল… ট্র্যাপিজের মতো প্রায়, একচুল বাঁয়ে হেললে গলাবাজি, আর ডানে হেললে শিল্পবিলাস। কত শত শতাব্দীর অত্যন্তপরিচয় কবিতার সঙ্গে থাকলে এই বিপজ্জনক দড়ির উপর দিয়ে নাচতে-নাচতে বৈতরণি ত’রে যাওয়া যায় তা আমরা অনুমানই করতে পারি শুধু আদনিস বা দারবিশ বা, পক্ষান্তরে, নেরুদার কবিতাকে চোখের সামনে রেখে।

কিন্তু আমার অনুবাদগুলোর থেকে কী পাবেন পাঠক? বলা হয়, কবিতার অনুবাদে যা হারিয়ে যায়, তা-ই কবিতা। আর তা যদি হয় অনুবাদের অনুবাদ? অলমতি বিস্তরেণ।

পুনশ্চ: বন্ধু জুয়েল মাজহার আমাকে নাম-ভুলে-যাওয়া সিনিয়র ভাইয়ের নাম আর বইটার পুরো নাম স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন পরে। তাঁকে অশেষ কৃতজ্ঞতা।

the-phoenix-by-manafi-al-h.jpg
ফিনিক্স, মানাফি আল-হায়াওয়ান, পারস্য, ১৩ শতক

আবু আল-শামাক্‌মাক্‌ (?-৭৯৬)

যদি আমি…

যদি আমি জাহাজ ভাসাই দরিয়ায়
শুকায় ফেনারা যত, ঢেউ জ’মে যায়।

যদি হাতে রেখে দেখি দ্যুতিমান্ মণি
মণিখানি কাচ হয়ে যায় যে তখনই।

যদি পান করি মিঠা ফোরাতের জল,
আমার মুখের মধ্যে লবণ কেবল।

আল্লা আর মালিকের প্রতি আর্জি মম:
আমার বাজেরা ওড়ে মুরগির সম।

আব্বাস ইব্‌ন্‌ আল-আহ্‌নাফ (৭৫০-৮০৯)

নির্‌-‌জনতা

আব্বাস, তোমার জামা আমি যেন হই
বা আমার জামা তুমি, সখা!
অথবা আমরা যেন একই পাত্রে রই
তুমি মদ, আমি জল তথা।
কিংবা হ’য়ে একজোড়া চখি আর চখা
মরুভূতে খুঁজি নির্জনতা —
নির্‌-‌জনতা।

(ইরাক)
(সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com