কবি আল মাহমুদের সাক্ষাৎকার

রাজু আলাউদ্দিন | ২৬ অক্টোবর ২০০৮ ১১:৪৫ অপরাহ্ন

almahmud.jpg
নাসির আলী মামুনের কবিতার জীবন (১৯৯৬, অপ্রকাশিত) প্রামাণ্য চিত্রের চিত্রগ্রহণকালে তিতাস নদীতে তোলা আল মাহমুদের (জন্ম: মোড়াইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১৯৩৬) ছবি

[কবি আল মাহমুদের এই সাক্ষাৎকারটি আমি গ্রহণ করেছিলাম আজ থেকে নয় বছর আগে উনিশ শ’ নিরানব্বই সালের ১৪ জানুয়ারি বিকেল বেলায় মানবজমিন পত্রিকার কার্যালয়ে। সাক্ষাৎকারটি ট্রান্সক্রাইব করার আগেই আমি হঠাৎ করেই ঐ একই বছর দেশের বাইরে চলে যাওয়ার কাজটি শেষ করা হয়নি। যদিও ক্যাসেটে ধারণকৃত সাক্ষাৎকারটি আমার সঙ্গে ছিলো। নানান রকম ঝক্কি-ঝামেলার কারণে এটি ট্রান্সক্রাইব করেতে দেরি হয়ে গেছে। দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত যে এর লিখিত রূপটি দাঁড় করানো গেল এতে আমি নিজেই বেশি আনন্দিত। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণের সময় লেখকবন্ধু মশিউল আলম এবং তৎকালে আমার সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম কাদির সঙ্গে ছিলেন। — রাজু আলাউদ্দিন]

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলাউদ্দিন

রাজু আলাউদ্দিন: মাহমুদ ভাই, আপনার একটা বই আছে যে ভাবে বেড়ে উঠি, সেখানে আপনি আপনার বংশ পরিচয়ের কথা বলেছেন। এই বই পড়ে জানতে পারলাম যে আপনার আদি পুরুষ বহিরাগত।

আল মাহমুদ: আমি আমার নয় পুরুষের নাম জানি। এঁদের আগমন সম্পর্কে যেটুকু জানি, আমাদের বাড়িতে একটা কুরসিনামা ছিলো। তা থেকে আমি জানি যে এঁরা বাইরে থেকে এসেছিলেন। এঁরা সব ধর্মপ্রচারক। দিল্লীতে এসেছিলেন। রাষ্ট্রীয় উত্থান-পতনে এঁরা নানান দিকে ছিটকে ছড়িয়ে পড়েছেন। এঁদের মধ্যে ধর্মপ্রবণ একজন ভাটি অঞ্চলে চলে আসেন। এখানে থেকেছেন। এদেশের সাথে মিশে গেছেন।
—————————————————————–
নজরুল যখন লিখলেন: ‘গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদে কচি মেয়ে ফাতিমা,/ আম্মাগো পানি দাও ফেটে গেলো ছাতি মা,’ আশ্চর্য হয়ে গেলাম ‘আম্মা’ শব্দের ব্যবহার দেখে। এটা সম্ভব তাহলে। আমি চেষ্টা করলাম এর মধ্যে আমার অভ্যেস-আচরণ, আমার খাসলত — এটা প্রবেশ করানোর। আমার প্রথম কবিতা থেকেই এটা লক্ষ্য করা যাবে।
—————————————————————-
রাজু: আপনার বলার ধরন দেখে মনে হলো আপনি এতে বেশ শ্লাঘা বোধ করছেন।

মাহমুদ: না, আমি মোটেই শ্লাঘা বোধ করিনি। কারণ আমি মানব সমাজের ইতিহাস তো জানি।

রাজু: আপনি কি মুসলমান হিসেবে শ্লাঘা বোধ করেন না?

মাহমুদ: না মুসলমান হিসেবে করি। কিন্তু তুমি মুসলমান হিসেবে বংশলতিকার উপর নির্ভর করে দেখছ। মুসলমানরা কিন্তু এটাকে নাকচ করার জন্যই এখানে এসছেন।

রাজু: আমি আপনাকে এই প্রশ্নটা এই জন্যে করছি যে… যেমন হুমায়ুন আজাদ (আমার সাথে) এক ইন্ট্যার্ভ্যুতে বলেছেন, “আমার মুসলমান পরিচিতির কোনো দরকার নেই।”

মাহমুদ: আমার মনে হয় যে আমার সেই পরিচিতির দরকার আছে। (সম্পূর্ণ…)

অনেক দিন আগের দিনেরা

রনি আহম্মেদ | ২৬ অক্টোবর ২০০৮ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

ill_ronni-4.jpg

উৎসর্গ: প্রয়াত নীলাকে

বলা যায় দানেশ স্মৃতির পথে ভাবছিল… গাছের ডালপালার ধাঁধা দিয়ে রোদের ছটাগুলো ঘষামাজা পেতল তীর, বেরিয়ে আসছিল স্থির… তার শৈশবের ফেলে আসা গ্রামের কথা… তীর গেঁথে যাচ্ছিল সামনের ছোট লনটার ছোট ঘাসের গোড়ায়।… সে জানে এবং সে জানে না গ্রামটা ছিল অন্য কোথাও, যেখানে ছিল তার চেয়েও বেশি কোথাও… কাছেই ধাঁধার ভেতর থেকে দাঁড়কাক উঠেছিল ডেকে… বিদ্ধ রোদের দিকে সে তাকালে আশা করা সম্ভব পানি দিয়ে রোদগুলো ধুয়ে সাফ করে দেয়া সম্ভব।… কাকটা যখন ডাকলো তখন সে দেখতে পেলো এবং দুজন দুজনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।… রোদগুলো প্রায় ধুয়ে আসছে, সবুজ চোখা ঘাসে পানির সাথে মিশে যাওয়া রোদের মিশ্রণ কাঁপছে সোনালী রং-এ। রোদ কেঁপে কেঁপে ধোঁয়াটে অস্বচ্ছতায় উঠে আসছে সেই অন্য গ্রামটা… হঠাৎ কাকটা গাঙচিলের ভঙ্গিতে উড়ে বসেছিল পাশের বাসার শ্যাওলা ধরা কার্নিশে।… সুতরাং চোখ নিঃশব্দে প্রবেশ করে গ্রামের ভেতর।… কাকটা আবার উড়ে বিদায় নিয়েছিল, যা ছিল এক চিলতে মেঘ/এক খণ্ড গ্রানাইট।… রুপালী দীঘিটা, রোদে ঝিকমিক, আকাশে যখন সাদা গর্ত — থাকবে চাঁদ — দীঘিটা হবে তীক্ষ্ণ আরও।… লনের ঘাসে কাঁচা সবুজ ঘাসফড়িং আসে। ফড়িংটার অবস্থান দুর্ভাগ্যপীড়িত — সেও হয়ে যাচ্ছে ঘাস।… চোখের সামনে, চোখের ভেতরে এবং কোথাও নয়, এক ফোঁটা উলঙ্গ ছেলের উপস্থিতি ধরা পড়ে, জটাধারী এবং মাংসের হৃদয় থেকে উঠে আসা তার গায়ের আন্তরিক রং, ইঁদুর ছানার মত লিঙ্গ তার — সে দাঁড়িয়ে পুকুরপাড়ের প্রকাণ্ড পাথরের উপর। পাথরটা কোনো কিছুর প্রতীক্ষায় অনেক দিনে নিজের ভেতর যে কিছুটা জীবন আনেনি অন্যমনস্ক লোক ছাড়া কেউই তা জোর দাবি করবে না। দৃষ্টির আনন্দ দেহে ছড়িয়ে সেই পাথর থেকে/খাঁ খাঁ পাথর থেকে ঝাঁপ দেয় রুপালী দীঘির দৃষ্টিপথে ফলে বাতাস চিৎকার করে এবং সে দীঘি পিঠে সাঁতরে যায় প্রায় আজীবন।… ফড়িংটাকে শনাক্ত করার মত যন্ত্র আর নেই। সে বিনা কারণে পাশের গোল বেতের টেবিলে পড়ে থাকা ধর্মীয় গ্রন্থটি তুলে নেয়।… একসময় ছেলেটি ক্লান্ত হয় ও দীঘি থেকে উঠে আসলে তার শরীরের এসব ওসব বেয়ে পড়তে থাকা পানির ধারার শব্দও শোনা যায়। ছেলেটি এবার গা ঝাড়া দিয়ে কয়েকটি বলশালী মহীষ হয়ে গ্রামের সবুজ ছায়ায় ধূলো উড়িয়ে মুছে যায় এবং তাদের অনুসরণ কাজ শেষে দেখতে হয় প্রান্তর। প্রান্তর দিগন্তের উপরের মেঘগুলো একশোভাগই কাল্পনিক। সে কারণে তাদের প্রকটতা সামান্যও কম নয়।… গ্রন্থটির পাতার লেখাগুলোর প্রতিটি লাইনই অনবরত অসংখ্য দিগন্ত ছাড়া কিছু নয়। মৃদু বাতাসে হাতে মেলে ধরা গ্রন্থটির পাতা উল্টে যাচ্ছিল। দানেশের বিয়েতে তার এক মুসল্লী বন্ধু লিন্ডাকে এটা উপহার দেবার পর, চিরকালই গ্রন্থটি বুকসেল্ফের কোনায় পড়ে থাকার ফলে সামনের ও পেছনের মলাটে অপরিচিত মাছের মোটা আঁশ গজিয়ে ওঠে। কাল রাতে বেশ কিছুটা পরিশ্রমের পর ছোট চাকুটা দিয়ে আঁশগুলো ছাড়ায় দানেশ। এরপর আঁশগুলো বয়েমে ভরে ডীপ ফ্রীজে রেখে দেয়। আঁশবিহীন ভারমুক্ত বইটা পড়বার ইচ্ছা থাকলে দু তিন পেইজ পড়া হয় মাত্র। (সম্পূর্ণ…)

স্বর্ণজল্লাদ

পিয়াস মজিদ | ২৩ অক্টোবর ২০০৮ ৭:৩২ অপরাহ্ন

১.
ফুলপাহাড়ে যাত্রা তার; তূণের টিলায়। লাল নীল চুমকির বিভায় গলছে যেদিকে মোমের প্রাসাদ। এই দিবসের ডানাভষ্মে গুপ্ত সেই হেমবর্ণ ঢেউ। গোল বাঁকা রাতের রেখায় জাগে ঘুম। এত এত নিশিমাংস-হাড় তবু সুসমাচার জঙ্গলেই সন্ধ্যামালতী যত। আর সব শুষে মেয়ে এক পুষ্পাগ্নির লাভা। কৃষ্ণলয়ে ফুটছে ধীরে মরণসুন্দর।

২.
প্রবুদ্ধ হাওয়ায় ওড়ে শ্রীময়ী সাপিণী। বনে মর্মরিত সবুজে সাত সন্ধ্যার অঙ্গার। চাঁদ থেকে জড়ো করা সূর্যবালির পাহাড় ঐ। সিন্দুকের জঙ্গল; স্বর্ণের গায়ে গজিয়ে উঠছে শ্যাওলা। শেফালির গন্ধবিষে মেঘ হয়, রোদনিখিল। চেনা অচেনা তারার কান্নায় রাত্রি ফেটে যায়। নাচের মৃত্যু আমি আর তোমার ঘুঙুরের হাড়ে — কফিনের জন্মদিন লক্ষ হাজার

৩.
সন্ধ্যা স্নানের গোপন সুন্দর। ডুবে যাওয়া সূর্যের শোণিতে শোধিত নাচ। ওলো আজ লীলাবালি সই। বেণী খুলে দাঁড়িয়েছে অগ্নিবাঈ। চুলের ছায়ায় চুরমার জল। খরধুলোর ভৈরবী কোমল আর শাখা ভরা ফুল। প্রতিবুদ্ধের ধ্যান ফুঁড়ে কামকল্লোল শুরু। দগ্ধ রাতের ফেলে যাওয়া রক্তাক্ত কাচুঁলি এই …

৪.
জলের এই নীল নৃশংসতা; সমুদ্রশ্বাসের পাহাড় থেকে ভেঙে ফেলা মেঘের খিলান; হননের সব সৌধে পুষ্পাভা; কুঁড়ি ও পাতায় গড়ে ওঠা মৃত্যুর ভাণ্ডার সে। বনে আছে তোমার সবুজ নিরাময়। তিনদিকে কিছু রক্তচারী ব্রহ্মা। পথের শেষে স্বর্ণনাদের ছায়া আর দাগ, ধ্বংসের আরাধনায় লাল হলুদ তারায় ঝিলিক। হিমছুরি ফুটেছে; মত্ত সেই দাদুরীর কংকাল ভাসে। (সম্পূর্ণ…)

মান বুকার পুরস্কার ২০০৮ বিজয়ী

দি হোয়াইট টাইগার নিয়ে ঔপন্যাসিক অরবিন্দ আদিগা

কৌশিক আহমেদ | ১৭ অক্টোবর ২০০৮ ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

দ্বিধাবিভক্ত ভারতীয় সংস্কৃতি ও সমাজের অন্তর্দ্বন্দ্বমুখর প্রতিকৃতি উপস্থাপনকারী অরবিন্দ আদিগা ১৯৭৪-এর ২৩ অক্টোবর ভারতের চেন্নাইয়ে ভূমিষ্ঠ হন। এ বছর তাঁর প্রথম উপন্যাস দি হোয়াইট টাইগার জিতে নিয়েছে পঞ্চাশ হাজার পাউন্ড মূল্যমানের মান বুকার পদক। tb-ad.jpg…….
অরবিন্দ আদিগা (Aravind Adiga), চেন্নাই, ইন্ডিয়া ২৩/১০/১৯৭৪
……..
চল্লিশ বছরের বুকার ইতিহাসে আদিগা চতুর্থ লেখক যিনি প্রথম উপন্যাসেই বুকার জিতেছেন। বিখ্যাত চিকিৎসক পরিবারের প্রতিনিধি অরবিন্দ শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন। ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় প্রদেশের প্রথম স্থান লাভ করেন তিনি। পরে তার পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হয়। ১৯৯৭ সালে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে চমকপ্রদ ফলাফল নিয়ে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিক হিসাবে নাম লেখান ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, মানি এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে

ভারতে জন্মগ্রহণকারী বুকার বিজয়ী চতুর্থ লেখক অরবিন্দ আদিগা। তাঁর আগে সালমান রুশদী, অরুন্ধতী রায় এবং কিরন দেশাই এ পুরস্কার পেয়েছেন। দি হোয়াইট টাইগার শক্তসমর্থ দগদগে ও অন্ধকারচ্ছন্নতার রসঘন একটা উপন্যাস যেখানে ভারতের একটা গ্রাম থেকে একজন মানুষের সফল উদ্যোক্তা হিসাবে অধিষ্ঠানের চিত্র দেখানো হয়েছে। উপন্যাসটিকে বলা হচ্ছে ভারতের মুখাবয়ব উন্মোচনের দলিল, একদম গভীরে যার দৃষ্টিপাত। দি হোয়াইট টাইগার পুরস্কৃত হবার কারণ হিসাবে একজন সমালোচকের অভিমত হলো উপন্যাসটিতে একই সাথে বিনোদন ও তীব্র আঘাত প্রদানের সক্ষমতা রয়েছে। ঔপন্যাসিক একজন খলচরিত্রের মানুষের প্রতি পাঠকের সমবেদনা জাগ্রত করার মত দুরূহ কাজটি সম্পন্ন করেছেন অনায়াসে।

দি হোয়াইট টাইগার উপন্যাস গরীব এক গ্রাম্য যুবক বলরাম হালুইকে ঘিরে, যিনি ভারত সরকারের এক মন্ত্রীর গাড়িচালক হিসাবে চাকরি পাওয়ার পর তার জীবন বদলে যায়। বইটি নিয়ে অরবিন্দ আদিগা কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। bookbrowse.com থেকে সংগৃহীত সাক্ষাৎকারটিতে গ্রহীতার নাম পাওয়া যায় নাই।

অনুবাদ: কৌশিক আহমেদ

আপনার সাহিত্যে প্রভাব আছে এমন কয়েকজন কে কে? আপনি কি বিশেষভাবে নিজেকে একজন ভারতীয় লেখক হিসাবে চিহ্নিত করেন?

আমার চেয়ে এই বইয়ের উপরে কাদের প্রভাব রয়েছে সে বিষয়ে বলা বেশি অর্থবহ হতে পারে। দি হোয়াইট টাইগার উপন্যাসটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান লেখকের প্রভাব আছে; এঁরা হলেন: রালফ ইলিসন, জেমস বল্ডউইন এবং রিচার্ড রাইট। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে বছরের পর বছর গেছে কিন্তু আমি তাদের কারো বই পড়ি নাই — ইলিসনের অদৃশ্য মানব পড়েছি ১৯৯৫ অথবা ১৯৯৬ সালে এবং আর কখনই ফিরে দেখিনি — কিন্তু এখন যখন এই বইটি লেখা হয়ে গেল, দেখতে পেলাম কত গভীর ভাবে তাদের কাছে এটি ঋণী হয়ে আছে। একজন লেখক হিসাবে আমি যে কোনো একটা পরিচয়ে বাঁধা পড়তে চাই না, আমি প্রভাব আকর্ষণ করতে আনন্দ বোধ করি তা যেখান থেকেই হোক।
—————————————————————–
এখানকার দুর্নীতি সম্বন্ধে ধনী অথবা গরীব নির্বিশেষে যেকোনো ভারতীয়কে জিজ্ঞেস করুন। এ থেকে মুক্তির কোনো আলামতও দেখা যাচ্ছে না। ভারতের জন্য ভবিষ্যত কী বয়ে আনবে — উত্তর দেবার জন্য এটা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিনতম প্রশ্ন।
—————————————————————-
একজন লেখক হিসাবে আপনার পদ্ধতি একটু বর্ণনা করতে পারবেন? সাংবাদিকতা থেকে কল্পকাহিনীতে উত্তরণ কি কঠিন?

দি হোয়াইট টাইগার উপন্যাসটির প্রথম খসড়া ২০০৫-এ লিখিত এবং এরপর আমি তা একপাশে রেখে দেই। বইয়ের পরিকল্পনাই বাদ দিয়েছিলাম। তারপরে, কোনো এক কারণে নিজেকে পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারি না, অনেক দিন বাইরে থেকে ২০০৬-এর ডিসেম্বরে যখন আমি সবে ভারতে প্রত্যাবর্তন করেছি তখন খসড়াটি আবার তুলে নিলাম এবং এটিকে পুনরায় পুরোপুরি লিখতে শুরু করলাম। পরবর্তী মাস ধরে দিনরাত্রি আমি লিখে চললাম এবং ২০০৭ এর জানুয়ারিতে দেখতে পেলাম আমার হাতে উপন্যাসটি। (সম্পূর্ণ…)

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০০৮ বিজয়ী

জ্যঁ-মারি গুস্তাভ ল্য ক্লেজিও’র সাক্ষাৎকার

অবনি অনার্য | ১১ অক্টোবর ২০০৮ ৫:৪৪ অপরাহ্ন

jean-1.jpg
জ্যঁ-মারি গুস্তাভ ল্য ক্লেজিও (জন্ম:১৩/৪/১৯৪০)

মরিশিয়ান বংশোদ্ভুত ফরাসী ঔপন্যাসিক জ্যঁ-মারি গুস্তাভ ল্য ক্লেজিও-র নাম সম্ভাব্য নোবেল সাহিত্য বিজয়ীর তালিকায় আগেই উঠেছিলো, যদিও তাঁর লেখালেখিকে সমালোচকগণ চলতি-সাহিত্যের কোনো ঘরানার অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। তাঁর নোবেল সাহিত্য বিজয়ের বিষয়টা এতটাই সম্ভাবনাময় ছিলো যে, সাক্ষাতকারগ্রহণকারী একবার প্রশ্নই করেছিলেন, নোবেল বিজয়ী হিসাবে ঘোষিত হবার পর তিনি কী বলবেন। যাহোক, এবার ২০০৮ সালের নোবেল সাহিত্য বিজয়ী হিসাবে তাঁর নামই চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ল্যাবেল ফ্রান্সের কাছে তাঁর দেয়া সাক্ষাৎকারটি এখানে অনূদিত হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন লে ম্যাগাজিন লিটারেয়ার-এর অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড কন্ট্রিবিউটর তীর্থঙ্কর চন্দ।

অনুবাদ: অবনি অনার্য

তীর্থঙ্কর চন্দ: রহস্যময়, দার্শনিক এবং এমনকি বাস্তুবাদী হিসেবে আপনার সাহিত্যকর্মগুলোকে আখ্যায়িত করা হয়। আপনি নিজের মতামতও কি তাই?

জ্যঁ-মারি গুস্তাভ ল্য ক্লেজিও: আপনি যা বলছেন সেভাবে বর্ণনা করা কঠিন। নিজের বইগুলো সম্পর্কে আমাকে বলতে বলা হলে, আমি বরং বলবো যে, ওগুলো ঠিক আমারই মতো। অন্য কথায়, আদর্শ প্রকাশ করার চাইতে আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এই — আমাকে এবং আমার বিশ্বাসকে
—————————————————————–
পশ্চিমা সংস্কৃতি বড্ড দানবিক হয়ে উঠেছে। শাহরিক এবং প্রাযুক্তিক দিকগুলোর প্রতি এতটা গুরুত্ব দিচ্ছে যে, এর মধ্য দিয়ে ধর্মীয় বা আনুভূতিক প্রকাশমাধ্যমের সম্ভাবনাকে দমিয়ে রাখছে এই সংস্কৃতি। যুক্তিবাদের নাম করে মানুষের অজ্ঞাত ব্যপ্তিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে এর মধ্য দিয়ে। আর এ-সচেতনতাই আমাকে অন্যান্য সভ্যতার প্রতি আকৃষ্ট করেছে।
—————————————————————-
তুলে ধরা। যখন লিখি, তখন মূলত প্রতিদিনকার যাবতীয় ঘটনাবলির সঙ্গে আমার সম্পর্কের অনুবাদই আমি করি। আদর্শ আর চিত্রকল্পের বিশৃঙ্খল ঝনঝনানির মধ্যে আমাদের বাস। আর এ-সময়ের সাহিত্যের ভূমিকা বোধ করি এসব বিশৃঙ্খলার প্রতিধ্বনি করা।

তীর্থঙ্কর: সাহিত্য কি এসব বিশৃঙ্খলাকে প্রভাবিত করতে পারে, বা এসবের কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে?

গুস্তাভ: এটা তো সাঁর্ত্রের সময় নয় যে, আমরা দম্ভ করে বলবো, একটা উপন্যাস সমাজ বদলে দিতে পারে। আজকাল, সাহিত্যিকরা কেবল তাঁদের রাজনৈতিক নপুংসকতা লিপিবদ্ধ করতে পারেন। সাঁর্ত্র, কামু, দোস প্যাসোস বা স্টেইনবেক পড়বার সময় আপনি পরিষ্কার দেখতে পাবেন, মানবেতিহাসের ভবিকাল এবং লিখিত শব্দের শক্তির প্রতি এসব নিবেদিত লেখকদের কী সীমাহীন বিশ্বাস ছিলো। (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ, যখন আমি… (কিস্তি ৬)

চঞ্চল আশরাফ | ৬ অক্টোবর ২০০৮ ৩:৪৬ অপরাহ্ন

কিস্তি:

h-a.jpg১৯৯৭ সালে, শীত আসি-আসি করছে এমন এক সন্ধ্যায় হুমায়ুন আজাদকে রিকশায় সেন্ট্রাল লাইব্রেরির উত্তর পাশের রাস্তা দিয়ে পুব দিকে যেতে দেখি। ‘স্যার, স্যার’ বলে চিৎকার করি। কেন যে! তিনি রিকশা থামালেন। ‘শাহবাগ যাচ্ছি। যাবে?’ বললাম, ‘যাব।’ উঠে বসলাম। লাইব্রেরির পেছনে বসে-থাকা জুটিবদ্ধ ছেলেমেয়েদের প্রসঙ্গ এনে তাঁকে বললাম, ‘স্যার, এই-যে প্রেমের বা শারীরিক ঘনিষ্ঠতার দৃশ্য দেখা যায়, এতে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা খুব খারাপ হয়ে গেছে।’
—————————————————————–
‘দেখেছি ঈদ সংখ্যার অপদার্থ লেখক ও টিভির শোচনীয় নাটক, হুমায়ুন আহমেদের শরৎসমগ্র; দেখেছি কবির চেয়ে আবৃত্তিকারের সম্মান … বাস্তবিক, আর কিছু দেখেছি কি? দেখি নি কি তোষামোদে উড়ে আসে সব পুরস্কার?’ পরের বছর, বইমেলায় হুমায়ুন আজাদ আমাকে দেখেই বললেন, ‘তোমার দারুণ সাহসী একটা লেখা পড়লাম। আরও যা-যা দেখছ, সব লিখবে, তুমি পারবে। থেমো না।’
—————————————————————-
বললেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের এই অবস্থা দেখে আমার আনন্দ হয় আবার বেদনাও বোধ করি। তাদের শারীরিক আনন্দের কোনও ব্যবস্থা নেই। সেটা অবশ্য কোনও অবিবাহিতেরই নেই। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের যৌনানন্দের জন্যে, বিশেষ করে যারা অবিবাহিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত হলগুলোতে একটা ব্যবস্থা রাখা। কী বলো!’ (সম্পূর্ণ…)

সম্পর্ক

তারিক আল বান্না | ২ অক্টোবর ২০০৮ ১২:৫০ অপরাহ্ন

দুই বন্ধু রফিক আর সাইফুলের গল্প এটা। গত শতকের শেষ দশকের প্রথমার্ধের এক অদ্ভুত সময় তখন; বয়স্কদের শাসন করছে শিশুরা (গণতন্ত্র)। নতুন সরকারের আগমনের সাথে সাথে নতুন উদ্যমে ঢুকছে ফারাক্কার পর স্বাধীনতা পরবর্তী গত ৩৭ বছরে প্রতিবেশীর দেয়া ২য় শ্রেষ্ঠ প্রীতি উপহার। ১ নম্বরটার উপলক্ষ্য ছিল পেট-খাদ্য-কৃষি, আর ২ নম্বরটা উপলক্ষ্য ছিল আসক্তি—মগজহীন একটা গোটা প্রজন্ম। আরও অনেকের মত রফিক আর
—————————————————————–
‘মতি ভাই, প্লিজ, বোজনের চেষ্টা করেন, ছোটবেলা থেইকা একলগে বড় হৈছি। এহন একটা ভুল বুঝাবুঝির কারণে জানে মাইরা ফালামু? এইটা বেইনসাফি হৈবো, মতি ভাই। আমারে দিয়া এইটা করায়েন না। অর গলায় ক্ষুর চালানের আগে আমি আমার গলায় চালামু।’ নিজের গলায় ক্ষুর ঠেকায়া কয় সাইফুল।
—————————————————————-
সাইফুলও কৈশোর থেকে একত্রে বড় হওয়া—নৌকায় করে বছিলা, রায়েরবাজার পার হয়ে কামরাঙ্গীর চর হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত চলে যাওয়া, মিরপুর ব্রিজ থেকে একত্রে তুরাগে লাফিয়ে পড়ার দুঃসাহসী নির্মল আনন্দ, টার্মিনালের মতিগো লগে লাগলে একত্রে হকিস্টিক-রামদা নিয়ে হিটে যাওয়া, আরও কয়েক বছর পরে, ততদিনে ডাইল চিনে গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকায় বাগবাড়ী, মুন্সীবাড়ির ঘাট পার হয়ে মাইলের পর মাইল ভিতরের নির্জনতার মধ্যে একান্ত-আসল-নিজস্ব আড্ডা দেয়া প্রজন্মের প্রতিনিধি।

অন্যদের মত তারাও এই যুক্তিহীন বয়স্কদের বালখিল্যতায় ভরা এই সময়ের বলি।

‘এমন মুহূর্ত, সময় বা দিনও আসে মানুষের জীবনে!’ রফিকের কাহিনী শুনতে শুনতে ভাবছিলাম। এই সুন্দর পৃথিবীতে বড় জটিল, বিচিত্র আর কখনো কখনো বীভৎস মানুষের জীবন। একটা নদীর মত সাবলীল, গতিশীল, দীর্ঘমেয়াদী ও ধারাবাহিকভাবে সফল হতে থাকা পরিকল্পনার নিরাপত্তাসহ পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার আশ্বাসে ঘেরা দুই পাড়ের মাঝ দিয়ে বইতে থাকা নিরাপদ, নিশ্চিত জীবনের অন্তঃস্রোত মুহূর্তে নিমজ্জিত হয় অচিন্তনীয় পঙ্কিলতার মুক্তিহীন ক্লেদাক্ত আবর্তে। কোনো স্বর্গীয় মোহনায় পৌঁছানো তো দূরের কথা, তার চিন্তা করাও তখন বিরক্তি উদ্রেককারী ও হাস্যকরভাবে অর্থহীন; শুভ্রতার ফলদায়ক ভূমিকার অপরাজেয়, অন্তহীন, জীবনস্পর্শী আসল সত্যও তখন, একবারের জন্য হলেও মনে হয়, বা চিরকালের জন্য হয়ে যায়, কুৎসিত জঘন্য মিথ্যা, মনে হয়, চিরকালীন মানবাত্মার প্রতি বিধাতার তীব্র বিদ্রুপ, হৃদয়ের প্রতি জীবনের বীভৎস ঠাট্টা। রফিকের গল্প শুনতে শুনতে এসব ভাবনা ভাঙাচোরা কাচের টুকরার মত ঝলকে উঠছিল আমার মাথায়। (সম্পূর্ণ…)

তিতা মিঞার জঙ্গনামা

অদিতি ফাল্গুনী | ২ অক্টোবর ২০০৮ ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

১.
শ্রী শ্রী এলাহি ভরসা

মোরসেদের বাহুর তলেনাচার সাজন বলে
ফজল কর আজি জেল গপ ফুল।
নামনি হালদারের গাতিমেসে-সোমপুর বসতি
জমা রাখি পাশ আউসে সোমপুর।
বড় ভাই-এর নাম মাজমছোট পাতলা মেজো সাজন
ছোট ভাই গিয়েছে মরে।
সাজন বড় গোনাগারসাত বছর মেয়াদ তার
কয়েদ হ’ল দিনের লড়াই করে।

পাশাপাশি দুই গ্রাম। মেসে আর সোমপুর। লোকে মেসে গাঁ-কে মাসিয়া-ও বলে। সোমপুর সাজন গাইনের বাড়ি। সাজন গাজি বা সাজন গাইন, যে নামেই ডাকো না কেন। সোমপুরের উত্তরে উত্তরপাড়া আর রামচন্দ্রপুর, দক্ষিণে ধরো গে তোমার মাসকাটা খাল, পূর্বে মেসে বা মাসিয়া গ্রাম আর
—————————————————————–
… একুন এই আলীপুর জেলের অন্ধকার দরজা-জানালার শিক গুনতে গুনতে তোমরাই কও, হে এই জঙ্গনামার পাঠকেরা, মুই সাজন গাজি আর কী করতি পারি এই ময়লা খাতাটায় জঙ্গের গানগুলো আর চাষার বাদশা তিতা মিঞার কতা সাজোয়ে-গুচোয়ে রাকা ছাড়া?
—————————————————————-
পশ্চিমে হলো গে সেই মাসকাটা খাল আর তোমার ভড়ভড়িয়ার বিল। রাত জেগে লুকিয়ে লুকিয়ে সাজন গাজি আর তার জোয়ান দুই ভাই নীলের বীজ সিদ্ধ করে। সাত সকালেই কোম্পানির লোক এসে বলবে জমিতে নীল বোনা হয় নাই? বাপ পুরুসউল্লাহ ভয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে যাবে। কেন যে এত ভয় বুড়োর? আরে, তার তিন জোয়ান ছেলে আছে না? মাজম, সাজন আর পাতলা। পাতলার আসল নাম গোলাব। তবে, মানুষটা সে রোগা-পাতলা বলে সবাই তাকে পাতলা বলেই ডাকে। পাতলার মাথাতেই এলো এই বুদ্ধি। ভোর বেলা জমিদার আর কোম্পানীর লোক এসে যেই না কিনা খোঁজ করবে নীলের বীজ পোঁতা হয়েছে কিনা, রাত জেগে সেদ্ধ করা নীলের বীজ তারা তখন টপাটপ বুনবে ভুঁইয়ে। হে..হে..সেদ্ধ বীজে তো আর চারা গজাবে না। বেলা পড়ে এলে, কোম্পানী আর জমিদারের লোক যখন তাদের ডেরায় ফিরে যাবে, তখন মাজম, সাজন আর পাতলা মিলে সেদ্ধ নীল বুজে তুলে আবার ধানের বীজ বুনবে সে জায়গায়। বছর শেষে আমন ধানের কচি ডগা লকলক করবে ক্ষেতে। তবে, সাজন গাজি কি আর আজকাল চাষ করে? সে যোগ দিয়েছে তিতা মিঞার দলে। তিতা মিঞার দলে বিশেষ কদর সাজন গাজির। কারণ, সাজন গাজিদের বংশ আসলে গায়েনের বংশ। গান বান্ধার বংশ। মুখে মুখে গাজির গীত, মনসামঙ্গল, সত্যপীরের পুঁথি কী না তারা গাইতে পারে! মুখে মুখে গান সাজাতে পারে বটে সাজন গাজি। তিতা মিঞার গৌরব সেসকল গানে। লোকে কয় জমিদার আর কোম্পানীর দিন সামনে আর বেশি দিন না! তিতা মিঞাই নদীয়া, কুষ্টিয়া আর সাতক্ষীরার সব জমির বাদশাহ হতে যাচ্ছে। তিতা মিঞা অবশ্য কন অন্য কথা। তিনি বলেন যে জমির মালিক আল্লাহ। সাত আসমানের নিচে যত জমিন, তার ভাগ নাকি সকল মানুষের সমান। হও তুমি মুসলমান কি হিন্দু। হও উঁচু জেতের হিন্দু কি নিচু জেতের হিন্দু। হও তুমি গোরা সৈন্যের মতো ধলা কি কালা কুষ্টি দেশি মানুষটি। জমির হক সবার সমান। (সম্পূর্ণ…)

বর্ষায়, বাদাবনে

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১ অক্টোবর ২০০৮ ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

ওয়ার্ল্ড কনসার্ভেশ্যন ইউনিয়ন অর্থাৎ আইইউসিএন-বাংলাদেশ অফিসে আমরা ক’জন অর্থাৎ রাকিব, রকিব, ফারজানা, হাসিব, মনির, শুভ, শাহ্‌জিয়া, 04.jpg……
কটকা ওয়াচ টাওয়ার
…….
ডমিনিকা এবং আমি কাজ করি তখন। শুক্‌কুর-শনিবার ছুটি হলেও আমি এবং আমার নিকট সহকারী রাকিব, মনির, হাসিব — আমরা ঢালাও ছুটি কাটাতে পারি না। কান্ট্রি অফিসের রেপ্রিজেন্টেটিভ ডঃ আইনুন নিশাত প্রায়ই বিদেশে যান নানা কাজে। প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্র্যাম এবং দৈনন্দিন যোগাযোগ রক্ষা, সভা-সমিতির কাজ পরিচালনা আমার করার কথা। আমার সৌভাগ্য, সহকর্মীরা আমাকে ভালবাসত, তাই সকল কাজের দায়ভার ওরাও সক্রিয়ভাবে বইত।

08.jpg
কটকা সৈকতে

সহকর্মীদের উৎসাহ যোগানোর উদ্দেশ্যে এবং নিজেকে চাঙ্গা রাখতে আমি বিকেলের দিকে গরম-গরম আলুপুরি বা মোগলাই পরটা আনিয়ে কফি-চা সহযোগে সেগুলোর সদ্ব্যবহার করতে করতে এদিক-সেদিক বেড়াতে যাবার প্রস্তাব দিতাম। বলাই বাহুল্য, এরকম গোঁফখেজুরে আলাপে বাঙালি অতি সরস। তক্ষুনি নিখুঁত পরিকল্পনা ছকে ফেলা হত। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com