কর্কট

রাশিদা সুলতানা | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ১:১৬ অপরাহ্ন

ঘরের দরজায় পাটিতে বসে মালার মাথাটা কোলের উপর ধরে নুরজাহান উঁকুন আনছিল। ঘুপচিগলির এই ঘরে কেবল দরজার কাছটায় দিনের আলোয় খানিক আলোকিত হয়। টিনের একচালা ঘরের এই রুমের বাকি অংশটুকু সারাক্ষণ অন্ধকারেই থাকে। উঁকুনের কামড়ে ঘুমের মাঝে মেয়েটা সারারাত মাথা চুলকায়। দিনের বেলা একঘণ্টা ঘুমালেও মাথার চুলকানিতে অস্থির হয়ে থাকে । দুপুরের খাবারের পর মেয়েকে পাঁকড়াও করে বসে উঁকুন-নিধন যজ্ঞে। ঘরের ঘুলঘুলিতে চড়ুইপাখি চিড়িৎ চিড়িৎ ডেকে যাচ্ছে। চৌকাঠের অদূরে ড্রেনের কালো ময়লা পানি বাতাসে তিরতির তরঙ্গে বয়ে যায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে। কালো মাছি উড়ছে ভন ভন করে। উঁকুন মারা মাছ ধরার মতোই নেশার ব্যাপার। শরীরে ব্যথা থাকায় এবং চোখে খানিক কম দেখায় দু’তিনটা ছোট ছোট উঁকুন তার হাতছাড়া হয়ে যায়। মেয়ের মাথার সব চুল উলটপালট করে লিকি, ঢেলা বেশ কয়টা ধরা পড়ে।

বামদিকের একটা ঘর থেকে ময়না বের হয়ে এসে ড্রেনের উপর বমি করছে। খানিক আগেই তার ঘর থেকে উচ্চ হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। হলুদ আঠালো পদার্থের সাথে একদলা ভাত বেরিয়ে ড্রেনের কালো পানির স্রোতে মিশে যাচ্ছে। মেলামাইনের গ্লাসে পানি নিয়ে কুলি করে। খানিক পরই ময়নার ঘর থেকে ময়না আর এখানকার দালাল সিরাজের উচ্চ হাসির শব্দ শোনা যায়।

ময়নার বমি, কুলি করা, উচ্চ হাসি কোনোকিছুই মাজেদার গভীর অভিনিবেশে উঁকুন আনায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে না। (সম্পূর্ণ…)

অন্য রকম ব্যাটম্যান মুভি: দি ডার্ক নাইট

সাইফ সামির | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ১১:১১ পূর্বাহ্ন

dk1.jpg
জোকারের ভূমিকায় হিথ অ্যান্ড্রু লেজার (১৯৭৯-২০০৮)

ব্যাটম্যান। রিয়ালিস্টিক সুপারহিরো। তার নেই কোনো ঐশ্বরিক ক্ষমতা। আছে উন্নত প্রযুক্তি আর শারীরিক কৌশল। এই নিয়েই তিনি গোথাম সিটির ডার্ক নাইট। ক্রুসেডর। শহরকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করাই তার দায়িত্ব।
—————————————————————–
ডার্ক নাইটের সাফল্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার জোকার — হিথ লেজার। প্রেসক্রিপশনের অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে মৃত্যুর পর তিনি যতোটা না আলোচিত হয়েছেন তার চেয়ে বহুগুণ আলোচিত হয়েছেন ডার্ক নাইটের মুক্তির পর। জোকার চরিত্রে অভাবনীয় অভিনয় করেছেন তিনি। চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়া বলতে যা বোঝায় করেছেন সেটাই।
—————————————————————-
tdk5.jpg…….
ব্যাটমান ও জোকার
…….
ব্রুস ওয়েন/ ব্যাটম্যান (ক্রিশ্চিয়ান বেল) লেফটেনান্ট জেমস গর্ডন (গ্যারি ওল্ডম্যান) ও ডিস্ট্রিক এ্যার্টনি হার্ভি ডেন্টের (অ্যারন একহার্ট) সহায়তায় গোথাম সিটির অপরাধ নির্মূল করছিল। কিন্তু শিগগির ব্যাটম্যান আবিষ্কার করে এক সাইকোপ্যাথ ক্রিমিনাল জোকারকে। শহরের অপরাধ জগতে সে তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। আবার সে-ই তাদেরকে একে একে হত্যা dk9.jpg…….
র‌্যাচেল ডয়েস চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাগি গিলেনহাল (জন্ম. ১৯৭৭)
……..
করতে থাকে। জোকারের লক্ষ্য গোথাম সিটিকে নারকীয় করে তুলে ব্যাটম্যানকে হত্যা করা। ব্যাটম্যান জোকারকে ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে গ্রহণ করে, যা তার নীতিবিরুদ্ধ। ব্যাটম্যান তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শত্রু জোকারের মোকাবেলায় সর্বশক্তি নিয়ে এগিয়ে যায়। দি ডার্ক নাইট (The Dark Knight)-এর গল্পটি এমনই। (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্যে কুম্ভীলকবৃত্তি

দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে

রেজাউল করিম সুমন | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ৪:১৭ অপরাহ্ন

boi_wakilur.jpg
শিল্পী: ওয়াকিলুর রহমান

অনন্যা থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত শিল্পের নন্দনতত্ত্ব নানা কারণেই একটি উল্লেখযোগ্য বই। নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে বাংলা ভাষায় খুব বেশি বই নেই; আর বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত এ-বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা তো অঙ্গুলিমেয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, শিল্পের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে কোনো লিখিত আলোচনা এখনো পর্যন্ত বেরোয়নি, কিংবা বেরিয়ে থাকলেও আমাদের চোখে পড়েনি।
—————————————————————–
আমরা যে-বইগুলি নিয়ে এতক্ষণ আলোচনা করলাম এর প্রত্যেকটিই কবীর চৌধুরীর লিখিত অনুমোদন ও প্রশস্তি লাভে সমর্থ হয়েছে। … আমাদের দেশের এই প্রবীণ, খ্যাতিমান ও বহুপ্রজ অনুবাদক কি বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের খবর আদৌ রাখেন না? … নিউটনের সঙ্গে যৌথভাবে পাস্তেরনাকের ডাক্তার জিভাগো অনুবাদের কথা ভাবছেন কেন তিনি? … জুলফিকার নিউটনের নকল বইগুলি যে-সব প্রকাশক ছাপছেন … এসব প্রকাশক কি সাহিত্যজগতের কোনো খবরই রাখেন না? না কি এই তস্করের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেই এঁরা পাঠক ও ক্রেতাসাধারণের সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণায় লিপ্ত হয়েছেন?
—————————————————————–
এই বইয়ের লেখক জুলফিকার নিউটনের অন্য কোনো বই আমি আগে পড়িনি। যদিও তাঁর নামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই আমরা পরিচিত। ঢাকা ও চট্টগ্রামের দু-একটি দৈনিকের সাময়িকীতে তাঁর লেখা গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হতে দেখা যায়।

শিল্পের নন্দনতত্ত্ব বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে জানা গেল: ‘বাংলা ভাষায় মুষ্টিমেয় যে কজন প্রত্যয়ী লেখক ও গবেষক আছেন, তাদের মধ্যে জুলফিকার zn2.jpg……..
‘অনূদিত’ একটি বইয়ের ব্যাক ফ্ল্যাপে জুলফিকার নিউটন
………
নিউটন অন্যতম। তাঁর লেখার সঙ্গে যারা পরিচিত তারা জানেন আমাদের জীবনযাত্রার, সমাজ ব্যবস্থার, ধ্যান ধারণার, ভাষা এবং সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধন জুলফিকার নিউটনের সাহিত্য চর্চার মূল উদ্দেশ্য।’

এই বইয়ে সংকলিত ‘লেখকের শিল্প সম্পর্কিত এক ডজন প্রবন্ধ’ প্রসঙ্গে ফ্ল্যাপে বলা হয়েছে : ‘তাঁর নিজস্ব চিন্তা, যুক্তি ও সাহিত্য পাঠের অভিজ্ঞতা, রুচি, বিবেক ও বুদ্ধি নির্ভর এই রচনাগুলির অন্তর্লীন গভীরতা যেমন পাঠককে নিয়ত প্রাণিত করে, তেমনই বিস্ময়ের উদ্রেক করে এই বিষয় বৈচিত্র্য। ‘শিল্পের নন্দনতত্ত্ব’ গ্রন্থে নিজস্ব চিন্তা ও মত প্রকাশে জুলফিকার নিউটন কোথাও আপস করেননি।’ (সম্পূর্ণ…)

ঢাকা নিয়ে নতুন দু’টি প্রকাশনা

সুমন কায়সার | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ৪:১১ অপরাহ্ন

ঢাকা নিয়ে সীমিত সামর্থ্য নিয়ে অনেক কিছুই করে যাচ্ছে পুরনো ঢাকার সমাজসেবা মূলক প্রতিষ্ঠান মাওলা বখ্শ সর্দার মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। নানা dhaka-boi-1.jpg…….
সম্পাদক: আবদুল মালেক, ঢাকা কেন্দ্রের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত বিনামূল্য পত্রিকা
……..
ধরনের সেবামূলক কাজের পাশাপাশি তাদের রয়েছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও, যার নবতম শাখাটি প্রকাশনা বিষয়ক। ঢাকা কেন্দ্র নামে একটি গবেষণা বিভাগ রয়েছে ট্রাস্টের। নাম থেকেই স্পষ্ট এর কার্যক্রম। এই ঢাকা কেন্দ্রেরই নতুন উদ্যোগ একটি মুখপত্র যার নাম ত্রৈমাসিক ঢাকা। এর প্রথম সংখ্যাটি বেরিয়েছে গত মার্চ মাসে।

১৫ কোটি মানুষের এই দেশে সৃজনশীল সাহিত্য দূরে থাক, প্রবল আগ্রহের বিষয় রাজনীতি (তা-ও সমকালীন) বা শোবিজ জগতের কেচ্ছাকাহিনীতে ভরপুর সংবাদপত্র ও সাময়িকীর পাঠকসংখ্যাই অঙ্গুলিপরিমেয়। সেখানে dhaka-boi-2.jpg …….
ঢাকা রচনাপঞ্জী সংকলন, সংকলক ও সম্পাদক: আবদুল মালেক, প্রচ্ছদ: সাজ্জাদুল ইসলাম নয়ন, ৩০০ টাকা
……
ইতিহাসের মতো একটি ‘নীরস’ ও গুরুগম্ভীর বিষয় নিয়ে একটি বাণিজ্যিকভাবে সফল সাময়িকীর আশা বাতুলতা মাত্র। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়সহ কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জার্নালই একমাত্র ভরসা। ত্রৈমাসিক ঢাকা আকারে সীমিত কলেবর এবং পরিসরের (শুধু ঢাকা নিয়ে বলে) প্রকাশনা হলেও এই হাতেগোনা গবেষণাপত্রের ভিড়ে আর একটি সংযোজন বলেই তাকে স্বাগত জানাতে হয়।

ত্রৈমাসিক ঢাকা অল্প পরিসরেও অনেক কিছুকে ধারণ করেছে। মাত্র ৬৪ পৃষ্ঠার বুক সাইজের (১/১৬) আকারের এ প্রকাশনাটি বিষয়বৈচিত্রে ভরপুর এটা মানতেই হবে। প্রথম সংখ্যার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকার ৪শ’ বছর পূর্তি, এ নগরীর ঘরবাড়ির বিবর্তন ও ঠিকাগাড়ি নিয়ে তিনটি নিবন্ধ এবং ঢাকা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শরীফ উদ্দীন আহমদের সাক্ষাৎকার। ‘ঢাকাই ছবি/ঢাকার ছবি’ এবং ‘ঢাকার টুকিটাকি’ বিভাগ দুটি দৃশ্যত বৈচিত্র্যের প্রতি সম্পাদকের আগ্রহেরই প্রমাণ। এ লেখাগুলোতে অনেক কৌতূলোদ্দপীক তথ্যের পাশাপাশি ভাবনার খোরাক পাবেন ইতিহাসে আগ্রহী পাঠক। (সম্পূর্ণ…)

মোহামেদ চউক্‌রির ডায়েরি

তানজিয়েরে জঁ জনে (কিস্তি ৩)

হোসেন মোফাজ্জল | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ১১:৪৯ অপরাহ্ন

কিস্তি ১কিস্তি ২

genet_brown.jpg
অ্যালান ব্রাউনের আঁকা জঁ জনে

কিস্তি ৩

অনুবাদ: হোসেন মোফাজ্জল

(গত কিস্তির পর)

১৭/১০/৬৯

দ্য প্লেগ (Le Peste) সঙ্গে ছিল, পড়ার প্রায় শেষের দিকে। ক্যাফে প্যারিসের চত্বরে যেয়ে আমরা বসি।

তুমি দেখি এখনও প্লেগ পড়ছো? জনে জানতে চান।

এক্কেবারে শেষের দিকে চলে এসেছি।

আর আমার ব্যালকনি (Balcon) ওটা কি পড়েছো?

না এখনও হয়ে উঠেনি।

না ক্যান?

মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করছি, যাতে আমি আরেকটা কপি কিনতে পারি।

কীসের জন্যে?

কারণ আমার কপিটাতে কিছু লেখা হয়েছে, মানে আপনি আমার জন্যে বইটাতে সই করে দিয়েছেন।

এর সাথে তার সম্পর্ক কী?

আমি তাকে বলি দেখেন আমি তো ক্যাফেতেই পড়ি, আমার ভয় হয় এমন কিছু হয়তো ঘটেও যেতে পারে যদি বইটা আমার সঙ্গে রাখি! আমি বলি আসলে বইটা আমি একটা স্যূভেনির হিসেবে রেখেছি।

তিনি আমার কাছে এসে দ্য প্লেগ বইটা কেঁড়ে নিয়ে তার প্রথম পাতাটা ছিঁড়ে ফেলেন।

এমনটা আমার বইটাতে যেয়ে করো। যে পাতাটাতে উৎকীর্ণ লেখা অছে সেই পাতাটা এইভাবে ছিঁড়ে ফেলো। নাটকটা পড়ো এবং পরে পাতাটা লাগিয়ে নিয়ো। এটা নিশ্চিত সিগনেচার হারানোর ভয়ে শেলফে বই ফেলে রাখার থেকে বইটা পড়া মেলা ভাল। (সম্পূর্ণ…)

মিশেল ফুকোর

শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম (কিস্তি ১২)

অদিতি ফাল্গুনী | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ৬:২১ অপরাহ্ন

—————————————————————-
বশ মানা শরীরগুলো
—————————————————————–

কিস্তি: ১০১১

অনুবাদ: অদিতি ফাল্গুনী

work-table-2.jpg
কাজের টেবিলে মিশেল ফুকো, ছবি:মার্টিন ফ্রাঙ্ক

খণ্ড ৩ : শৃঙ্খলা

প্রথম অধ্যায়: বশ মানা শরীরগুলো (Docile Bodies)
(পৃষ্ঠা ১৩৫-১৪৫)

(গত সংখ্যার পর)

আসুন, সপ্তদশ শতকের শুরুতে সৈন্যের যে আদর্শ মূর্তি কল্পনা করা হতো, সেই আদর্শ মূর্তিটির কথা আমরা ফিরে আর একবার ভাবি তো! গোড়ার কথা বলতে হলে, একজন আদর্শ সৈন্য হলেন তিনিই যাকে বহু দূর থেকে দেখেও চমৎকার চেনা যেত। আদর্শ সৈন্যকে চেনার কিছু সহজ লক্ষণ বা চিহ্ন ছিল। একদিকে তাঁর শক্তিমত্তা এবং সাহসের সাধারণ চিহ্ন তো ছিলই, সেই সাথে ছিল তাঁর গৌরবের কিছু লক্ষণ। তাঁর দেহসৌষ্ঠবই তাঁর শৌর্যবীর্য প্রকাশের মাধ্যম। একথা সত্য যে যুদ্ধবিদ্যা একজন সৈনিককে শিখতে হয় অল্প অল্প করে। সাধারণতঃ প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রেই এই শেখার প্রক্রিয়াটা চলে। তবু
—————————————————————–
বহুদিন ধরেই ‘পুঙ্খানুপুঙ্খতা’ ধর্মতত্ত্ব এবং তপশ্চর্যার একটি প্রণালী হয়ে দাঁড়িয়েছে। … যেহেতু ঈশ্বরের দৃষ্টিতে কোনো অসীমতাই একটি ক্ষুদ্র অনুষঙ্গের চেয়ে বড় নয় এবং কোনোকিছুই এত ক্ষুদ্র নয় যা ঈশ্বরের একটি ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা হতে তৈরি হয়নি। পুঙ্খানুপুঙ্খতার প্রতাপের এই প্রবল ঐতিহ্যে, খ্রিষ্টীয় শিক্ষা, যাজকিয় অথবা সামরিক স্কুলশিক্ষার যাবতীয় সূক্ষাতিসূক্ষ বিষয়, যাবতীয় ‘প্রশিক্ষণ’ তাদের জায়গা ঠিকঠাকমতো খুঁজে পেয়েছে।
—————————————————————-
japan-trip.jpg
জাপানে ফুকো

মার্চপাস্ট করার মতো শারীরিক নড়াচড়া কিম্বা গর্বিত ভঙ্গিতে মাথা তুলে রাখার মতো মনোভাব প্রায়শঃই একজন সৈন্যের সামাজিক সম্মানের শারীরিক অলঙ্করণ হয়ে দাঁড়ায়। ‘সৈনিকের পেশার সাথে খাপ খায় এমন বিভিন্ন চিহ্নের ভেতর সজীব কিন্তু সতর্ক ভঙ্গিমা, উঁচু মাথা, টানটান পাকস্থলী, চওড়া কাঁধ, দীর্ঘ বাহু, শক্ত দেহকাঠামো, কৃশকায় উদর, পুরু উরু, পাতলা পা এবং শুকনো পায়ের পাতা উল্লেখযোগ্য। এমন দেহসৌষ্ঠবের অধিকারী পুরুষটি ক্ষিপ্র এবং বলিষ্ঠ না হয়ে যায় না।’ সৈনিক যখন বর্শাধারী হবেন তখন ‘সৈনিককে মার্চপাস্টের সময় এমনভাবে পা ফেলতে হবে যেন প্রতিটি পদক্ষেপে যথাসম্ভব মহিমা ও ভাবগাম্ভীর্য ফুটে ওঠে। কেননা, বর্শা হলো একটি সম্মানজনক অস্ত্র যা কেবলমাত্র ভাবগাম্ভীর্য ও সাহসের সাথেই শুধু বাহিত হতে পারে।’ (মন্টগোমারি, ৬ এবং ৭)। আঠারো শতকের শেষ নাগাদ ‘সৈন্য’ হয়ে দাঁড়ালো এমন এক ভাবমূর্তি যা এমনকি ছিরিছাঁদহীন এক তাল কাদা থেকেও বানানো যায়। (সম্পূর্ণ…)

রোদ্দুরের আয়োজনে কবিদের আড্ডা

| ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ৭:৪১ অপরাহ্ন

১৯৯৫ সালে ছোটপত্রিকা রোদ্দুর-এর সম্পাদক লতিফ সিদ্দিকী কয়েকজন কবিকে নিয়ে জুন মাসের এক
latif3.jpg……..
রোদ্দুরের সম্পাদক লতিফ সিদ্দিকী
…….
সকালবেলায় একটি আড্ডা বসিয়েছিলেন গ্রীন রোডের থিয়েটার সেন্টারে। “প্রজন্মান্তরে কবিতার বদল” — এই ছিল আড্ডার আলোচনার বিষয়। আড্ডার ধর্মানুসারে ফ্যামিলি প্ল্যানিং, আমলা কবি, কবিতার ক্ষতি, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, বুদ্ধদেব, আবুল হাসান, পঞ্চাশ, ষাট, কবিতার জনপ্রিয়তা কেন কমে যাচ্ছে… ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ চলে আসে আলোচনায়। প্রবল বৃষ্টিপাতের মধ্যে টিনের চালের নিচে আড্ডা চলে দুপুর পর্যন্ত। উল্লেখ্য, সে আড্ডার তিনজন এখন আর নেই। লতিফ সিদ্দিকী মারা গিয়েছিলেন ক্যান্সারে। পরে কবি আবু কায়সার এবং কবি শামসুর রাহমানও মারা যান। তাঁদের স্মরণে রেখে আড্ডাটি পুনঃপ্রকাশিত হলো। শুরুতে লতিফ সিদ্দিকীর ভূমিকা।

অংশগ্রহণ: শামসুর রাহমান, আবু কায়সার, আলতাফ হোসেন, সাজ্জাদ শরিফ, আনিসুল হক, ব্রাত্য রাইসু, আদিত্য কবির, হুমায়ূন রেজা

সম্পাদক লতিফ সিদ্দিকীর ভূমিকা
ইংরেজি ১৬ জুন ছিল বাংলায় ২ আষাঢ়। সকাল থেকেই আকাশ অন্ধকার। গ্রীণ স্কোয়ারে থিয়েটার সেন্টারের মিলনায়তনে রোদ্দুরের আয়োজনে roddur.jpg
……..
রোদ্দুর, চতুর্থ সংখ্যা, জুলাই ১৯৯৫
………
কবিদের আড্ডা। রোদ্দুরের সম্পাদক হিসেবে আয়োজনের দায়িত্ব আমার। শান্তিনগর (বাসা) থেকে রিকশায় চেপে শিল্পকলা একাডেমী পর্যন্ত যেতেই শুরু হলো বৃষ্টি। শিশু পার্কের কাছাকাছি পৌছুতেই কানফাটানো শব্দে বাজ পড়লো কোথাও একটা। সেই সঙ্গে শুরু হলো প্রবল বর্ষণ। থিয়েটার সেন্টার যথারীতি তখনো কেউ আসেননি। এমন আবহাওয়ায় কেউ যে আসবেন সেরকম ভরসা পাই না। এসময় অলকদা (অলক গুপ্ত, নাট্যকর্মী, সাংবাদিক) আসেন। খানিক বাদে আসেন আলতাফ ভাই। আস্তে আস্তে সবাই আসেন, কেবল সিকদার আমিনুল হক ছাড়া। আড্ডায় সেদিন। যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের নাম ওপরে দেওয়া হলো। এরা ছাড়াও আড্ডায় যারা উপস্থিত ছিলেন কিন্তু আলোচনায় অংশ নেননি তারা হলেন। দিলওয়ার হাসান (গল্পকার), মুনির রানা (কবি, সাংবাদিক) ও আবেদীন চৌধুরী স্টিভ। আড্ডায় সূত্রধরের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে আমাকে।

●●●

লতিফ সিদ্দিকী: রাহমান ভাই বয়োজ্যেষ্ঠ। জীবিতদের মধ্যে প্রবীণতম সম্ভবত।

আবু কায়সার: উহু, আবুল হোসেন আছেন।

লতিফ: না, আবুল হোসেন ঠিক ততোটা সক্রিয় নন কবিতা রচনায়।

কায়সার: বলুন যে রাহমান ভাই হলেন প্রবীণদের মধ্যে সবচেয়ে গ্ল্যামারাস।

লতিফ: সে যাই হোক, রাহমান ভাইরা তাদের সময়ে যেভাবে লিখতেন, এখনকার কবিরা সেভাবে লেখেন না। কবিতার ধারার পরিবর্তন হয়েছে, কবিতা সম্পর্কে কবিদের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন হয়েছে।

ব্রাত্য রাইসু: এটা কি আপনি ধরে নিয়ে কথা বলছেন?

লতিফ: হ্যাঁ।

রাইসু: রাহমান ভাইদের সময়েও তো সবাই একরকম লিখতেন না।

লতিফ: যা হোক, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তো কবিতা বদলায়, কবিতার কাঠামো বদলায়, কবিতায় বলবার বিষয় বদলায়। আজকের মুক্ত আলোচনার বিষয় এটাই। এই পরিবর্তনটা। পরিবর্তনের ধরনটা — এক প্রজন্মের কবিতা আরেক প্রজন্মের চোখে, নিজেদের কবিতা নিজেদের চোখে।

সাজ্জাদ শরিফ: তাহলে শুরু করা যাক। রাহমান ভাইকে দিয়ে শুরু করুন। প্রশ্ন করুন তাঁকে।

লতিফ: সেই পঞ্চাশের দশক থেকে এখনও পর্যন্ত ক্লান্তিহীনভাবে লিখে চলছেন রাহমান ভাই। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আপনার নিজের কবিতাও বদলেছে। সেই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে বলুন। এখনকার কবিতাই বা কেমন ঠেকছে আপনার চোখে?

শামসুর রাহমান: প্রথমত, কবিতা সম্পর্কে কিছু বলা অত্যন্ত কঠিন। এ সম্পর্কে এতো কথা বলা হয়, কিন্তু এখনো ঠিক কবিতা কাকে বলা হয়, মানে এর এবিসিডি কখগঘঙ — আমি বলতে পারবো না। তবে কবিতা আসলে বোধের ব্যাপার। একে সংজ্ঞা দিয়ে বোঝানো মুশকিল। আরেকটা জিনিস আমি বিশ্বাস করি না — কবিদের দশকবন্দি করাটা, এই যেমন অমুক কবি এই দশকের। কবি যিনি, তিনি সব দশকেরই। রবীন্দ্রনাথকে আমরা কোন দশকের কবি বলবো? তেমনি ত্রিশের কবি আমরা যাদের বলি, তারা তো এখনো সক্রিয় কোনো না কোনোভাবে — এমনকি তাদের মৃত্যুর পরও। কাজেই দশকের ব্যাপারটা ঝুট-ঝামেলার। তবু সমালোচকদের সুবিধা হয় কারো গায়ে একটা লেবেল এঁটে দিতে পারলে। অনেক সময় বলা হয়, এরা এই ধারার কবি, এদের কবিতায় রিরংসা আছে, এদের কবিতায় বিপ্লব আছে। বিষ্ণু দেকে বলা হয় মার্ক্সিস্ট ধারার কবি। কিন্তু তিনি তো এমন অনেক কবিতাও লিখেছেন, যা মার্কসীয় ধারায় পড়ে না। তিনি প্রেমের কবিতা লিখেছেন, নিসর্গের কবিতা লিখেছেন, বিদ্রোহের কবিতাও লিখেছেন। (সম্পূর্ণ…)

বোর্হেস সাহেব

রাজু আলাউদ্দিন | ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ৬:৩৪ অপরাহ্ন

fany-borges.jpg
বোর্হেস ও এপিফানিয়া

আর্হেন্তিনীয় লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেসের জীবনে খ্যাতি এসেছিলো অনেক দেরিতে। তবে দেরিতে হলেও তা ছিলো নিশ্চিত এবং স্থায়ী। ক্রমশ তা শাখা-প্রশাখাময় রূপে বিস্তৃত হচ্ছে, দেশে-বিদেশে। তাঁকে নিয়ে বা তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা, নিবন্ধগ্রন্থ, গবেষণা কেন্দ্র এবং ওয়েব তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ভাষায় যে তার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করাটাই এক গবেষণার বিষয় হতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে যেটা বলা যায় তা হলো এই বিপুল সংখ্যার প্রায় সবটাই নিবেদিত তাঁর রচনাকর্মের গুরুত্ব নির্ধারণে। এসবের মধ্যে ব্যক্তি বোর্হেস, অলেখক আটপৌরে বোর্হেসের জায়গা তেমন নেই। কোনো কোনো জীবনীগ্রন্থে তাঁর ঘরোয়া, আটপৌরে জীবনের আলেখ্য প্রাসঙ্গিকভাবে এলেও একটা গোটা বই এই বিষয়কে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে এমন নজীর খুবই বিরল। বছর চারেক আগে ২০০৪ সালে আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেসের এদাসা (Edhasa) প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে বোর্হেসের ঘরোয়া জীবনের অভ্যাস-রুচি পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে এক বই। লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপক বা পেশাদার কোনো সাহিত্য সমালোচক কিংবা সমকালীন বা পরবর্তী প্রজন্মের কোনো সৃষ্টিশীল লেখক নন। বরং বোর্হেস-পরিবারের কাজের মেয়ে এপিফানিয়া উবেদা দে রোবলেদো। যদিও এপিফানিয়া খুব যে স্বতোপ্রণোদিত হয়ে এই গ্রন্থ লিখেছেন তা নয়। বোর্হেস গবেষক এবং জীবনীকারদের অন্যতম আলেহান্দ্রো বাক্কারোর উস্কানিতে এপিফানিয়া এই গ্রন্থ লেখায় বা বলা যাক এই গ্রন্থের মাল-মসলা সরবরাহে উৎসাহিত হয়েছেন। আলেহান্দ্রো দিয়েছেন এর লিখিত রূপ। গ্রন্থের সারাৎসার তুলে ধরার আগে এপিফানিয়া সম্পর্কে একটু ভূমিকা দিলে এই গ্রন্থের প্রতি সুবিচার করা হবে বলে মনে হয়। (সম্পূর্ণ…)

মনিরুজ্জামান স্যারের স্মৃতি

তপন বাগচী | ৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

পঞ্চাশ দশকের কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। কবি ও গীতিকার হিসেবে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে ছিলেন শ্রদ্ধেয়। প্রায় অর্ধশত ছাত্র-ছাত্রী তাঁর moniruzzaman-m.jpg
……..
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (১৫/৮/১৯৩৬ – ৩/৯/২০০৮)
……..
তত্ত্বাবধানে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। বাংলাদেশে তিনিই সবচেয়ে সফল তত্ত্বাবধায়ক। সংখ্যাবিচারে তো বটেই, গুণবিচারেও তাঁর অধীনে পরিচালিত গবেষণার সংখ্যা বেশি। তাঁর ছাত্র কেবল বাংলা বিভাগেই নয়, গ্রন্থাগারবিজ্ঞান কিংবা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগেও রয়েছে। একটু ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা বলতেই হয়।

আমি গবেষণার জন্য যখন প্রস্তুতি গ্রহণ করি, তখন জানতে পারি যে, আমার বিভাগে অর্থাৎ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পিএইচডি গবেষণার পথ খুবই জটিল। জটিল এই কারণে যে, পিএইচডি গবেষকের যোগ্যতা হিসেবে এমফিল কিংবা ডিগ্রি পর্যায়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়, কিন্তু এই দুটির সুযোগ এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের নেই। এত পুরনো বিভাগ, অথচ এমফিল কোর্স খোলা হয়নি! আর দেশের কোনো কলেজে এই বিভাগটি পড়ানো হয় না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাড়া সাংবাদিকতা বিভাগে গবেষণা করার সুযোগ নেই। (সম্পূর্ণ…)

নাজলী লায়লা মনসুর-এর সাক্ষাৎকার

| ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ ৩:১২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সমকালীন চিত্রকলার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব নাজলী লায়লা মনসুর-এর জন্ম ১৯৫১ সালে রাজশাহী শহরে। চিত্রকলায় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূত্রপাত ১৯৬৮ সালে তৎকালীন ঢাকা আর্ট কলেজ-এ হলেও সমাপ্তিটুকু ঘটে ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম nazlee-laila-mansur.jpg
নাজলী লায়লা মনসুর

বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি চট্টগ্রাম আর্ট কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি নিয়মিত ছবি আঁকার কাজ চালিয়ে গেছেন। অংশ নিয়েছেন শিল্পকলা একাডেমির বার্ষিক প্রদর্শনী এবং এশীয় দ্বিবার্ষিক চিত্রপ্রদর্শনীসমূহে। তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারিতে ২০০০ সালে। এরপর ২০০২ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ললিতকলা একাডেমিতে তাঁর আরেকটি ছোট্ট প্রদর্শনী হয়। এ-পর্যন্ত তাঁর সবশেষ প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বেঙ্গল গ্যালারিতে, ২০০৫ সালে। তিনি তাঁর শিল্পকর্মের জন্য দেশেবিদেশে নানা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। নাজলীর ব্যক্তিজীবন, শিল্পীজীবনসহ বিবিধ প্রসঙ্গে এই অন্তরঙ্গ আলাপচারিতাটুকু চট্টগ্রামে তাঁর পাহাড়ের কোলঘেঁষা বাড়িতে নেয়া হয়।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলম খোরশেদএহসানুল কবির

আলম খোরশেদ: আমরা জানি আপনি সমকালীন বাংলাদেশের একজন প্রথম সারির চিত্রশিল্পী। এই জায়গাটিতে পৌঁছাতে আপনাকে নিশ্চয়ই দীর্ঘ, lovers-and-dead-fish-small.jpg…….
Lovers and dead fish, Acrylic on canvas, 122 x 92 cm, 2008
…….
ঘটনাবহুল এক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। আপনার একান্ত নিজস্ব সেই শিল্পযাত্রার গল্প বলুন।

নাজলী লায়লা মনসুর: আর সবার মতো আমিও ছোটবেলায় ছবি আঁকতাম। চট্টগ্রামে খাস্তগীর স্কুলে পড়ার সময়, ছবি আঁকায় আমার আগ্রহ দেখে অংকনশিক্ষিকা নমিতা দিদিমণি আমার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেন। বলতে পারেন, তাঁর তত্ত্বাবধানেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমার ছবি আঁকার শুরু। আমার বড়বোনও ছবি আঁকার ব্যাপারে আমাকে বেশ উৎসাহ দিতেন। ভাইবোনদের মধ্যে সবার ছোট হওয়াতে পরিবারের সবাই আমাকে সব ব্যাপারে উৎসাহ দিত। মেট্রিক পাশ করার পর আমার বড়বোন আমাকে ঢাকা আর্ট কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। উনি তখন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যকলার ছাত্রী। তাই তার সঙ্গে তৎকালীন শিল্পকলার অঙ্গনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের যোগাযোগ ছিল। যাই হোক, আর্ট কলেজে আমার সহপাঠী ছিলেন এখনকার অনেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পী, যেমন অলকেশ ঘোষ, আসেম আনসারী, মনসুর-উল-করিম, হাসি চক্রবর্তী, চন্দ্রশেখর দে, কাজী হাসান হাবীব, বনিজুল হক ও আরো অনেকে। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com