নজরুলের গজলগান

আবদুল মান্নান সৈয়দ | ২৯ আগস্ট ২০০৮ ৬:৫৫ অপরাহ্ন

shundarban.jpg
ইন্ডিয়ার সুন্দরপুরে বন্ধুদের সঙ্গে নজরুল

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক বিস্ময়কর লেখক। রবীন্দ্রনাথের পর এত বিচিত্রকর্মী লেখক দেখা যায়নি আর। জন্ম ১৮৯৯-এ — সাহিত্যে প্রবেশ ১৯১৯-এ — নিরবতা ১৯৪২-এ — আর মৃত্যু ১৯৭৬-এ। ৭৭ বছরের দীর্ঘ জীবনে সক্রিয় ছিলেন মাত্র ৪৩/৪৪ বছর — তার মধ্যে তাঁর শিল্পজীবন মাত্র ২৩/২৪ বছরের। তাঁর জীবন ও মৃত্যু তাঁর সৃষ্টিকর্মের মতোই আশ্চর্য — বর্ধমানের এক নামহীন পাড়াগাঁয়ে জন্ম, চুরুলিয়া, যে-নামটি আমরা জানি তাঁর জন্যেই — কলকাতায় নীরব হয়ে যান — আর ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

gazal_age1.jpg
গজল লেখার সময়ে নজরুল, ১৯৩০

তাঁর জন্ম, জীবন ও নীরবতা, আর তাঁর মৃত্যু — এ সময়ের মতোই অস্থির পর্যটন যেন তাঁর শিল্পস্বভাব। এরই মধ্যে, তাঁর অজস্র পরিচয়ের মধ্যে প্রধানতম দুটি পরিচয় — তিনি কবি আর তিনি সঙ্গীতকার। এরকম সমগ্র সঙ্গীতকার বাঙালির মধ্যে জন্মগ্রহণ করেননি আর। একই সঙ্গে তিনি গীতিকার, সুরকার, স্বরলিপিকার, গায়ক, বাদক, সঙ্গীতশিক্ষক, সঙ্গীতগবেষক। আবার নাটকে ও সিনেমায় সঙ্গীত-পরিচালক হিশেবেও তাঁকে দেখা গেছে। বিশের দশকে নজরুল বাংলা কবিতার সম্রাট, তিরিশের দশকে বাংলা সঙ্গীতের সম্রাট। এখানে তাঁর বিশাল সঙ্গীতভাণ্ডারের একটি অংশেরও অংশের পরিচয় নেবো আমরা — তাঁর গজলগান। (সম্পূর্ণ…)

চারটি কবিতা

শামসেত তাবরেজী | ২৯ আগস্ট ২০০৮ ৫:৪৪ অপরাহ্ন

কবিতা লেখার আগে ও পরে

অনুষঙ্গে ওরা মেটাফর
নৈয়ায়িক টানে জাগ্রত,
কিঞ্চিৎ যুক্তিশীলও বটে
চেনে আত্মরচিত কবর।

অনু-সঙ্গে আমিও একদিন
পুরুষতা লিখেছি মাটিতে,
লিখে পরে ভুলে গেছি যথা
ভুলে গিয়ে আবার স্বাধীন।

ঘাসে ঘষা লেগে এইরূপ
মনে হলে বিমূর্ততার
জাগ্রত মেটাফর কাঁদে,
অন্যদিকে কাঁদে নলকূপ

যেথা শুধু লোহা-মাখা পানি
অতৃপ্তের অবৈধ রসুই,
তারই তলে ঘাড় পেতে দিয়ে
জ্বরতপ্ত মাথাখানি ধুই।

৩/৮/২০০৮
(সম্পূর্ণ…)

খেলাঘর: যুদ্ধকালের ভালবাসার গল্প

ফাহমিদুল হক | ২৮ আগস্ট ২০০৮ ৬:২৫ অপরাহ্ন

যেকোনো যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী শিকার হয় নারী, তার শরীর হয় হানাদারের সহজ লক্ষ্যস্থল, সেই নারীর মনোবিকলন হয়ে দাঁড়ায় অন্যতম ফলাফল। মাহমুদুল হকের খেলাঘর উপন্যাসটির কাহিনী তেমন একজন নারীর। তবে khelaghor.jpg…….
খেলাঘর / মাহমুদুল হক / রচনাকাল: ১৪-২০ আগস্ট ১৯৭৮ / প্রকাশক: সাহিত্য প্রকাশ, ফেব্রুয়ারি ২০০৪, দ্বিতীয় সংস্করণ (প্রথম সংস্করণ: এপ্রিল ১৯৮৮) / ৮০ পৃষ্ঠা / ৭৫ টাকা
………
উপন্যাসটিতে তার আক্রান্ত হবার কথা নেই (একেবারে শেষে তা জানা যায়), আক্রমণ-উদ্ভূত মনোবিকলনেরও সচেষ্ট বর্ণনা নেই, রয়েছে বিকলন-পরবর্তী তার স্বপ্নময় কয়েকটি দিন, এক যুবার সঙ্গে তার গড়ে তোলা খেলাঘর — এবং যেকোনো খেলাঘরের ক্ষেত্রে যা ঘটে — তার ভাঙনের বর্ণনা।

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে একটি দেশের মানুষকে অন্তঃত তিনটি শ্রেণীতে চিহ্নিত করা যায় — একদল আক্রমণের শিকার হয়, আরেকদল প্রতিরোধ গড়ে আর তৃতীয় দলটি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লিখিত খেলাঘর উপন্যাসটি তিনটি চরিত্রের মধ্যে রেহানা আক্রান্ত, স্কুলমাস্টার মুকুল প্রতিরোধ গড়ছে আর তারই বন্ধু কলেজ-শিক্ষক ইয়াকুব দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। (সম্পূর্ণ…)

মাহমুদ দারবিশের তিনটি কবিতা

‘নির্বাসন ছাড়া আমি কে?’, ‘পাসপোর্ট’, ‘রিতা আর রাইফেল’

অবনি অনার্য | ২৬ আগস্ট ২০০৮ ১১:৫৮ অপরাহ্ন

নির্বাসন ছাড়া আমি কে?

তীরবর্তী পথিক, নদীর মতোই… জল দিয়ে বাঁধা হলো তোমার নামের সাথে। আমার মুক্তদূরত্ব থেকে কোনো কিছুই আর ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না আমার পাম গাছের কাছে — না শান্তি, না যুদ্ধ। কোনো কিছুই আর আমাকে টেস্টামেন্টের বইগুলোতে উৎকীর্ণ করবে না। কিছুই না, ভাটাপড়া তীর আলোকপ্রভ করবার মতো কিছুই আর নেই, টাইগ্রিস আর নিল নদীর মধ্য দিয়ে কিছুই আর প্রবাহিত হয় না। ফারাওদের সুপ্রাচীন রথ থেকে আমাকে আর কেউ নামিয়ে দেয় না। খানিক সময় দেবার মতো কেউ আর নেই, বিশ্বাসে অটল থাকবার অবকাশও কেউ দেয় না — না অঙ্গীকার, না নস্টালজিয়া। আমার এখন কী করা উচিত? নির্বাসনে যাওয়া ছাড়া আমার আর কী করবার আছে, সারারাত জলের দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছাড়া কী করতে পারি আমি?
জল দিয়ে
বাঁধা হলো
তোমার নামের সাথে…
আমার স্বপ্নের প্রজাপতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে বর্তমানে নিয়ে আসবার মতো কিছু নেই — না মাটি না আগুন। সামারকান্দের গোলাপ ছাড়া আমি আর কী করতে পারি? চন্দ্রাকৃতির পাথর দিয়ে বংশী পলিশ করা স্কয়ারে আমি কী করতে পারি? আমরা উভয়েই কত ভারহীন হয়ে গেছি, যেমন দূরবর্তী বাতাসে আমাদের বাড়িগুলো হয়ে গেছে প্রায়-ভরহীন। মেঘেদের অদ্ভুৎসব সৃষ্টির সঙ্গে বন্ধুতা হয়ে গেছে আমাদের উভয়ের; আত্মপরিচয়ের ভূমির মাধ্যাকর্ষণ শক্তির নাগালের বাইরে। এখন আমরা কী করতে পারি… নির্বাসন ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে, সুদীর্ঘ রাত জলের দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া কী করতে পারি আমরা?
জল দিয়ে
বাঁধা হলো
তোমার নামের সাথে…
তোমার জন্য আছি কেবল আমি, আমার জন্য শুধু তুমি… প্রেমিকের ঊরুতে চুমু খায় এক অচেনা পথিক: শোনো হে পথিক! এই সুনসান নীরবতায় আমাদের জন্য যা রাখা আছে, তা দিয়ে কী করতে পারি আমরা, মধ্যদুপুরের যে-ঘুম এক কীংবদন্তী থেকে অন্য কোনো কীংবদন্তীকে বিচ্ছিন্ন করে, তাকে নিয়ে কী করার আছে আমাদের? আমাদেরকে নিয়ে যাবার মতো কেউ নেই — না পথ, না বাড়ি। শুরু থেকেই এই পথ একই আছে তো, নাকি পাহাড়ের উপর মোঙ্গলদের অর্শ্ববহরের মধ্যে ঘোটকীর সন্ধান পেয়ে গেছে আমাদের স্বপ্নগুলো, আর আমাদের বিকিয়ে দিয়েছে? তাহলে আমাদের কী আছে করার?
জল দিয়ে
বাঁধা হলো
তোমার নামের সাথে…
(সম্পূর্ণ…)

সেলিম আল দীন: ব্যক্তিগত এবং ব্যক্তিগতকে ছাড়িয়ে

অরুন সেন | ২৫ আগস্ট ২০০৮ ৩:৩৯ অপরাহ্ন

ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে ১৮ থেকে ২৪ আগস্ট ২০০৮ ঢাকার জাতীয় নাট্যশালায় উদযাপিত হয় সেলিম আল দীন জন্ম উৎসব। এ উৎসবের অংশ হিসেবে শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে ২৩ ও ২৪ আগস্ট দুইদিন ব্যাপী একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারের প্রথম দিনের শুরুর অধিবেশনে প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক অরুন সেন। লেখকের অনুমতিক্রমে ও ঢাকা থিয়েটারের সৌজন্যে সে প্রবন্ধটি এখানে প্রকাশিত হলো।
—————————————————————–
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিলনে তাই তিনি রবীন্দ্রানুসারী এরকম বললেই ঠিক বলা হয়। আসলে দেশের মাটিতে পা রেখে, দেশের জমিতেই শিকড় নামিয়ে তিনি দেশ ও বিদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সমকালীনকে ছুঁতে চান, তাদের মেলাতে চান।
—————————————————————–
selim_quayum.jpg
কাইয়ুম চৌধুরীর আঁকা সেলিম আল দীন, ২০০৮

প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ বা আত্মপ্রসঙ্গের অবতারণা আমরা অনেকেই সাধারণত এড়িয়ে চলতাম। যে রুচিতে বা অভ্যাসে একদা বেড়ে উঠেছি, তাতে ‘আমি’ শব্দের উচ্চারণই প্রায় নিষিদ্ধ ছিল। সেটা হয়তো একটু বাড়াবাড়ি। এখন মনে হয়, ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ তোলারও একটা নিজস্ব জায়গা আছে। আমরা যারা সেলিম আল দীন-কে কমবেশি চিনতাম, তাঁর সম্পর্কে কোনো ভাষণে বা লেখালিখিতে ‘ব্যক্তিগত’ প্রবেশ না করে সে-বিষয়ে সতর্ক থাকতাম। ২০০৮-এর ১৪ জানুয়ারির পর সেই সর্তকতা যেন অবান্তর হয়ে গেল।

sad-arun.jpg
অরুন সেন-এর সঙ্গে সেলিম আল দীন। ছবি: সালাম সাকলাইন, ২৯/১০/২০০৭

অবশ্য সেলিম আল দীনের সঙ্গে আমার পরিচিতি খুব বেশি দিনের বলা যাবে না — এখানে উপস্থিত অনেকের চেয়েই বেশ কম। কিন্তু, অল্পকালের মধ্যেই সেই পরিচয় এমন একটা মাত্রা পেয়েছিল, এবং তার ফলে ব্যক্তিগত ও নৈর্ব্যক্তিকের মধ্যে একটা সমন্বয় তৈরি হয়েছিল, যা নিঃসন্দেহে আমাদের উভয়ের কাছেই ছিল মূল্যবান অভিজ্ঞতা। তার সূত্রপাত অবশ্যই একান্ত ব্যক্তিনিরপেক্ষ। কলকাতায় সেলিমের নাটকের মঞ্চরূপায়ণ প্রত্যক্ষ করার উত্তেজনা আমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল তাঁর নাটকের নিবিড় পাঠে, এবং দুটো মিলিয়েই যে নান্দনিক প্রাপ্তি তার হাওয়াতেই সেলিমের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জমি তৈরি হয়েছিল। কুণ্ঠার সঙ্গে জানাই, সেলিমের নাটক ও ঢাকা থিয়েটার-এর সঙ্গে প্রাথমিক পরিচয়ের ওই উদ্দীপনাময় দিনগুলিতেই কলকাতার একটি অতিপরিচিত সাময়িক পত্রিকায় যে দীর্ঘ, বোধহয় অতি দীর্ঘই, প্রবন্ধ লিখেছিলাম তা-ই কোনো-একভাবে আমাদের মিলিয়ে দিয়েছিল, বলা চলে। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পগুরু সেলিম আল দীনের সঙ্গে (কিস্তি ১)

সাইমন জাকারিয়া | ২২ আগস্ট ২০০৮ ৪:৫৫ অপরাহ্ন

১৮ আগস্ট ছিল লেখক-নাট্যকার সেলিম আল দীন-এর ৫৯তম জন্মদিন। সে উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও ঢাকা থিয়েটার যৌথভাবে সেলিম আল দীন জন্ম উৎসব উদযাপন করছে। ঢাকা ও কলকাতার লেখক-নাট্যকর্মীগণ এই জন্মউৎসবে যোগ দিচ্ছেন। সেলিম আল দীন-এর জন্মদিন স্মরণে রেখে আর্টস-এ লেখাটি প্রকাশিত হলো।

sad-1.jpg
সেলিম আল দীন (১৮/৮/১৯৪৯ — ১৪/১/২০০৮), ছবি: সাহাদাত পারভেজ

সেলিম আল দীন আমার শিল্পগুরু। কিন্তু কীভাবে? খুব মনে পড়ছে, প্রিয় শহর কুষ্টিয়ায় বসে আজ থেকে প্রায় চৌদ্দ-পনের বছর আগে তাঁর নাটকসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম চাকা এবং হরগজ পাঠ করি। তখন আমার বয়স খুব বেশি না হলেও তাঁর নাট্যাখ্যানের মধ্যে এদেশের গ্রামীণ জীবনের প্রতি এক শেকড়সন্ধানী অভিযাত্রা, অভিনব ভাষারীতি ও প্রকাশভঙ্গি, সর্বোপরি দার্শনিক অভিব্যক্তির অপূর্ব সমন্বয় দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে, কোন অচেতনেই যেন তাঁর নিবিড়-নিরাবেগ এক ভাবশিষ্য হয়ে গিয়েছিলাম। স্পষ্ট মনে আছে, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে ইন্টারমিডিয়েট sad-2.jpg……
সেলিম আল দীন, ১৯৭৩ এর আগের ছবি।
…….
পরীক্ষা দেবার পর পরই তাঁর কথানাট্য হরগজ-এর পাঠ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে একখানা চিঠি লিখেছিলাম। পরে জেনেছিলাম, আমার সে চিঠিটা তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে পড়ে শুনিয়েছিলেন। একদিন সেই চিঠির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই তাঁর সাথে সাক্ষাৎ-পরিচয় হয়। প্রথম সাক্ষাতেই তিনি জানিয়েছিলেন, সেই চিঠি তাঁর স্ত্রী বেগমজাদী মেহেরুন্নেছা পারুলের কাছে সংরক্ষিত আছে। বহু মানুষের কাছে সেই চিঠির কথা উল্লেখ করে তিনি আমাকে তাঁর শিষ্য বলে পরিচয় দিতেন। (সম্পূর্ণ…)

শামসুর রাহমান-এর দুর্লভ সাক্ষাৎকার

| ১৭ আগস্ট ২০০৮ ৫:১২ অপরাহ্ন

rahman-02.jpg
শামসুর রাহমান, সাক্ষাৎকার গ্রহণের ৯ বছর পরে। ছবি: হাসান বিপুল ২০০৫

[১৯৯৬ সালে আমরা যখন এই সাক্ষাৎকার নিতে যাই শামসুর রাহমানের বাসায় তখন তার কবিতা লেখালেখির ৫০ বছর হয়ে গেছে। বাংলা একাডেমীর সভাপতি তিনি। বাংলাদেশের প্রধান কবি হিসাবে অনেক গুরুত্বের ভার বহন করতে হয়। লাজুক, বিনম্র এই কবি পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সাক্ষাৎকারে যাতে চপলতা না থাকে সে অনুরোধ করেছিলেন। বলা প্রয়োজন, তা রক্ষা করা যায় নাই।

কবিদের ভেদ বা তারতম্য তিনি মান্য করতেন। তাকে নিয়ে ভক্তদের অতিরিক্ত ভাব বন্দনাকে তিনি পরিস্থিতির নিরিখে দেখতে চাইতেন। একবার তাকে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কবি অভিধায় ভূষিত করলে তিনি বলেছিলেন, “এগুলো তো বোগাস জিনিস। যে শতাব্দীতে রবীন্দ্রনাথ, যে শতাব্দীতে জীবনানন্দ দাশ ছিলেন, যে শতাব্দীতে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন সে শতাব্দীতে আমি কী করে বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ গুরুত্ব পাই?” নিরহংকারী শামসুর রাহমান সকলের কবিতা পড়তে পছন্দ করতেন। মনে করতেন, “তৃতীয় বিশ্বে”র দেশের কবিদের একটি সমস্যা হলো তারা ঘরে থাকতে চাইলেও ঘরে থাকতে পারে না। চারপাশের ডাকে তাদের সাড়া দিতে হয়। এবং বাইরে গেলে লোকে তাকে বাইরের কবিই ধরে নেয়।

সাক্ষাৎকারটিতে শামসুর রাহমান এমন নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন যা সচরাচর তাঁর লেখালেখি বা বক্তব্যের মধ্যে দেখা যায় না। দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় সাহিত্য সাময়িকীতে ১৯৯৬ সালে এটি ছাপা হয়।

২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট এই কবি মৃত্যুবরণ করেন। শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরণে রেখে দুর্লভ এ সাক্ষাৎকারটি এখানে পুনর্মুদ্রণ করা হলো।
— বি. স.]

swakat-shamsur.jpg
শওকত ওসমানের সঙ্গে শামসুর রাহমান। ছবি: ফিরোজ চৌধুরী

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: রাজু আলাউদ্দিনব্রাত্য রাইসু

ব্রাত্য রাইসু: রাহমান ভাই কি এখন সিরিয়াস হইয়া গেছেন?

শামসুর রাহমান: আমি সিরিয়াস হয়ে গেছি মানে?
—————————————————————–
অ্যারিস্টটলের মতো, প্লেটোর মতো, শেক্সপীয়রের মতো, দান্তের মতো, সফোক্লিসের মতো, টলস্টয়ের মতো, দস্তয়েভস্কির মতো, বোদলেয়ারের মতো — এইসব লোক মরে গেলো। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো। কলোশিয়াল ওয়েস্টেজ মনে হয় না? কোটি কোটি কোটি কোটি লোক। আমার জন্মের আগে হাজার হাজার বছর চলে গেছে, আমার মৃত্যুর পরেও হয়তো হাজার হাজার বছর যাবে, এটা ভাবলেই…
—————————————————————–
রাইসু: এই যে ফাজলামী করতে মানা করলেন।

রাহমান: করো তো, তুমি তো করো। ভাষা চেন্‌জ্ করে ফেললে তুমি। ওই ভাষায় কথা বলো? (সম্পূর্ণ…)

কবি শামসুর রাহমানকে মনে করে

আলতাফ হোসেন | ১৭ আগস্ট ২০০৮ ১২:৩০ অপরাহ্ন

rahman-01.jpg
শামসুর রাহমান (২৩/১০/১৯২৯ — ১৭/৮/২০০৬), ছবি: হাসান বিপুল, ২০০৫

দু’বছর আগে আজকের দিনে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন কবি শামসুর রাহমান। গতকাল কাগজে তাঁর ছবিসহ সে খবরটা দেখে তাকিয়ে থাকি সেদিকে অনেকক্ষণ। সবে এই দু-লাইন লিখেছি আমার ডায়েরিতে, নিজেরই জন্য লেখা, রাত সাড়ে দশটা যখন, তারিখ ১৬ আগস্ট, ০৮, আর্টস সম্পাদকের ফোন। দু’এক কথার পরেই বললেন, ‘শামসুর রাহমান সম্পর্কে একটা লেখা দিন, কাল সকালের মধ্যে।’ বললাম, ‘আমি তো এ ধরনের
—————————————————————–
ভাষার বদল হয়েছে, ছন্দের কুশলতা বেড়েছে, কবিতা হয়েছে মুখের ভাষার আরও কাছাকাছি, বিষয়ে এসেছে কতই না বৈচিত্র্য। এবং এসবই বিবর্তিত হয়েই চলেছে। আমাদের দেশে এ বিবর্তনের ছাপ কবিতায় যতটা পড়ার কথা ততটা কিন্তু পড়েনি। এ কথা মনে হলে আমাদের প্রধান কবিদের কথাই মনে পড়ে। তরুণ কবিরা তো অগ্রগামীদের দ্বারাই প্রভাবিত হন।
—————————————————————–
লেখা লিখতে পারি না। তা ছাড়া তাঁর সম্পর্কে লেখার উপযুক্ত লোক বোধহয় আমি নই। জানি খুব কম।’ ছাড়লেন না আমাকে। বললেন, ‘স্মৃতিচারণামূলক কিছু লিখুন, জার্নাল ধরনের কিছু।’ ‘জার্নাল’ শুনতেই দুর্বল হয়ে গেলাম। আর কিছু না পারি, জার্নাল পারি। মানে, আমি-আমি করে লেখা লিখতে পারি, যতই কেননা অপছন্দ করি এমন নির্লজ্জতা। গুরুগম্ভীর, অ্যাকাডেমিক/গবেষণাধর্মী লেখা যেমন পড়তে ইচ্ছা করে না, লিখতেও নয়। ষাটের একজন প্রধান লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দ লিখছেন আজকাল স্মৃতিচর্যা-ধরনের লেখা। বেশ লাগছে পড়তে। যা হোক, জার্নালকেই তবে এগিয়ে নিয়ে যাই যতটা পারি।

তাঁর ছবি দেখতে পেলাম আবার অনেকদিন পর। আগে মাঝে মাঝেই দেখা হত, হয় তাঁকে নয়তো তাঁর ছবি। দেখলেই মন প্রসন্ন হয়ে যেত। সুদর্শন মুখ জুড়ে থাকত হাসি, পরার্থিতা। আর লাগত তাঁকে বাংলাদেশের লেখকদের, বিশেষত কবিদের অভিভাবকের মতো। কাগজে যেমন তাঁর কবিতা থাকত সকল কবিতার মাথার উপরে, বাস্তবেও ছিলেন তিনি ঊর্ধ্বেই সবার। (সম্পূর্ণ…)

চীনাদের বাঘ চিত্রকলা

ব্রাত্য রাইসু | ১৬ আগস্ট ২০০৮ ৬:৫২ অপরাহ্ন

14a.jpg
সন্ন্যাসী ও বাঘেরা, জিয়াও ইয়ান কিং, জলরং, ১১৫ x ২১৫ সেমি., ২০০৩

চীনা রাশিচক্র অনুসারে সারণির তিন নম্বরে থাকা বাঘ ভূমিতে যত প্রাণী আছে তাদের শাসন করবে। (আকাশের প্রাণীদের ভার ড্রাগনদের ওপর ন্যস্ত)। জ্যোতিষ শাস্ত্র বলছে, ব্যাঘ্রবর্ষে জন্মগ্রহণের কারণে (১৯১৪, ১৯২৬, ১৯৩৮, ১৯৫০, ১৯৬২, ১৯৭৪, ১৯৮৬ বা ১৯৯৮) জাতক সাহসী, আশাবাদী, সহিষ্ণু, tcp1.jpg মানবিক, দয়ালু ও আত্মনির্ভরশীল হবে। এরা পাবে দীর্ঘ জীবন। আর অন্যদের নির্দেশ দেওয়ার জন্যেই ব্যাঘ্রজাতকদের জন্ম, মানার জন্য নয়।

চীনা বাঘ উদ্যম, সাহস, আত্মমর্যাদা ইত্যাদি পুরুষালী উদ্দীপনা নিয়ে শিল্পকলায় হাজির রয়েছে। বাঘকে চীনে ‘পাহাড়ের রাজা’ হিসাবেও গণ্য করা হয়। লোকবিশ্বাস, বাঘ অপদেবতা থেকে রক্ষা করবে। সে কারণে বাড়িতে ঢোকার মুখে আর ঘরের ভেতরের দেয়ালে বাঘের ছবি টাঙানোর রীতি আছে, যে বাঘের ছবি থাকলে শয়তান ঘরে ঢুকবে না। প্রাচীন চীনে কৃষকেরা বাঘকে ফসলের দেবতা বলে জানতো আর শত্রুর হৃদয়ে ত্রাসের সঞ্চার করতে চীনা সেনারা শিরস্ত্রাণে খোদাই রাখত বাঘমুণ্ডু।

চীনদেশে বিশ্বাসীরা মনে করে ৫০০ বছরে বাঘ সাদা বর্ণ ধারণ করে। বাঁচে amberpendants.jpg…….
বাঘরঙ অ্যাম্বার লকেট
………
১০০০ বছর পর্যন্ত। মরলে দেহ ছেড়ে মাটির নিচে ঢুকে পড়ে বাঘের আত্মা আর অ্যাম্বারে (গাছের রেজিন বা রজনের জীবাশ্ম) রূপান্তরিত হয়। চীনা ভাষায় অ্যাম্বারের মানেও তাই “বাঘের আত্মা”। (সম্পূর্ণ…)

মাহমুদ দারবিশের কবিতা

‘বিস্মৃতির স্মৃতি’

অজয় দাশগুপ্ত | ১৬ আগস্ট ২০০৮ ১:১২ পূর্বাহ্ন

১৯৮২ সালে ইজরায়েল যখন লেবাননে আক্রমণ হানে, তখন বেইরুটে নির্বাসিতের জীবন কাটাচ্ছিলেন মাহমুদ দারবিশ। ইজরায়েলি বিমান থেকে এক সন্ধ্যায় বেইরুটে কয়েক পশলা বোমাবর্ষণের পর দারবিশের কলম থেকে বেরিয়ে আসে এই কবিতাটি।

বিস্মৃতির স্মৃতি

এই সেই রাস্তা,
আর এখন ঘড়িতে সন্ধ্যা ৭টা।
দিগন্ত যেন ইস্পাত বলয়।
আমার নিষ্পাপ আবেগের কথা
আমি এখন কাকে বলবো?…
এই রাস্তায় এমন আস্তে হাঁটছি
যেন একটা জেট বিমানও
আমাকে বোমার লক্ষ্য হিসাবে ভুল না করে।
শূন্যতা তার করাল বিস্তৃত করেছে,
কিন্তু তাও আমাকে গ্রাস করলো না।
লক্ষ্যহীনভাবে এগিয়ে চলেছি,
যেন এই রাস্তাগুলোকে আমি
প্রথমবার চেনার চেষ্টা করছি
এবং শেষবারের মতো হেঁটে চলেছি।

অনুবাদ: অজয় দাশগুপ্ত

গড়িয়া, কলকাতা

ajoy_dasgupta@hotmail.com

মাহমুদ দারবিশের দীর্ঘ কবিতা

‘অবরোধের কালে’

বদরে মুনীর | ১৫ আগস্ট ২০০৮ ৪:৩৮ অপরাহ্ন

boy-paestine.jpg
ঢিল ছুড়তে গিয়ে ইজরাইলি সেনাদের হাতে ধরা পড়েছে প্যালেস্টাইনি বালক

এখানে, এই পাহাড়ের ঢালে, সন্ধ্যা আর সময়ের কামানের সামনে
ভাঙাচোরা ছায়ার বাগান পাশে রেখে,
আমরা তা-ই করি যা বন্দিদের করণীয়,
আর যা করে বেকারেরা;
আশার আবাদ করি।

একটা দেশ প্রস্তুত হচ্ছে প্রত্যূষের জন্য। আমরা এগোচ্ছি সহজ সরলতায়
কেননা নিকট থেকে দেখতে পাচ্ছি বিজয়ের ক্ষণ:
বোমা বর্ষণের আলোয় জ্বলে না আমাদের কোনও রাত্রি,
শত্রুরা সতর্ক; আমাদের জন্য আলো জ্বালে
কারা প্রকোষ্ঠের অন্ধকারে।

এখানে কোথাও কোনও “আমি” নাই।
এখানে আদম স্মরণ করছে তার কাদার কণিকা।

মৃত্যুর কিনার থেকে আদম বলেন:
হারানোর মতো আর কোনও অবশেষ নাই আমার:
আমি মুক্ত; অবকাশের প্রায় কাছাকাছি।
নিজেরই হাতের মুঠে সমাহিত আমার ভবিষ্যৎ।
শীঘ্রই দেখব আমি আমার জীবন,
জন্ম নেবো মুক্ত, আর পিতামাতাহীন,
এবং যেমন আমার নাম, আমি বেছে নেবো মহানীল অক্ষরসমূহ…

তোমরা যারা দরজায় দাঁড়িয়ে আছো, ভেতরে আসো,
আমাদের সাথে পান করো আরবের কফি
তখন বুঝবে তোমরাও মানুষ আমাদেরই মতো
বাড়ির দোরগোড়ায় যারা দাঁড়িয়ে আছো
আমাদের সকাল থেকে বার হয়ে আসো
আমরা নিশ্চিত হবো তোমাদের মতো আমরাও মানুষ। (সম্পূর্ণ…)

মাহমুদ দারবিশের তিনটি কবিতা

‘পরিচয়পত্র’, ‘ও আমার পিতা, ইউসুফ আমি’ এবং ‘আমার মা’

জুয়েল মাজহার | ১৫ আগস্ট ২০০৮ ৩:৪২ অপরাহ্ন

palestine-1.jpg
বিলাপরত প্যালেস্টাইনি ও ইজরাইলের নিরাপত্তারক্ষী

পরিচয়পত্র

লিখে রাখো!
আমি একজন আরব
এবং আমার পরিচয়পত্রের নম্বর ৫০ হাজার
আমার ৮ টি সন্তান
আর নবমটি পৃথিবীতে আসবে গ্রীষ্মকালের পর
তোমরা কি ক্ষুব্ধ হবে তাতে?

লিখে রাখো!
আমি একজন আরব
কোয়ারিতে সহ-শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করছি আমি
আট সন্তানের বাবা আমি
আমি ওদের এনে দিই রুটি
পোশাক আর বই
এনে দিই পাথর থেকে..

মাগি না ভিক্ষা আমি তোমার দুয়ারে
তোমার কক্ষের দোরগোড়ায় নিজেরে করি না আমি ছোটো
তুমি কি করবে রাগ আমার ওপর?

লিখে রাখো
আমি একজন আরব
আমার একটি নাম আছে পদবিবিহীন
যেদেশে লোকেরা ক্ষুব্ধ
সেই দেশে আমি এক সহিষ্ণু মানুষ (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com