মাহমুদুল হকের সাক্ষাৎকার

আহমাদ মোস্তফা কামাল | ৩১ জুলাই ২০০৮ ৩:০২ অপরাহ্ন

mahmudul-haq-5.jpg
মাহমুদুল হক। ছবি: ওয়াসে আনসারী

দিনক্ষণ ঠিক করে, মিনি রেকর্ডার আর কাগজ-কলম নিয়ে কেতাদুরস্ত ভঙ্গিতে যেসব সাক্ষাৎকার নেয়া হয়, এটি সে ধরনের কোনো সাক্ষাৎকার নয়। মাহমুদুল হকের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে ২০০৪ সালের মার্চ মাসে। তার ২/৩ বছর আগেই তাঁর গল্প ও উপন্যাসের ওপর লেখা আমার দুটো প্রবন্ধ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত আমার তৃতীয় গল্পগ্রন্থ অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না বলে আমি তাঁকে উৎসর্গ করি এই বলে “আমাদের সাহিত্যভুবন থেকে এই অসামান্য প্রতিভাবান মানুষটির স্বেচ্ছানির্বাসন আমাকে বিমর্ষ করে তোলে”। বইটি তাঁর কাছে নিজ হাতে তুলে দেবার জন্যই আমি প্রথম তাঁর জিগাতলার বাসায় যাই। তবে, এই যাওয়াটুকুও সম্ভব হতো না, যদি আমার অনুজপ্রতিম আরেফিন হাসানের নিরন্তর তাগাদা না থাকতো। এই তরুণটি গত প্রায় ১১ বছর ধরে একটানা মাহমুদুল হকের সঙ্গে কাটিয়েছেন। এই সুযোগে তার কাছেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যাহোক, প্রথম দেখা হওয়ার পর থেকেই আমাদের আড্ডা শুরু হয়। এই আড্ডা চলে বহুদিন পর্যন্ত। ঠিক দিন-তারিখের হিসাব রাখা সম্ভব হয়নি সঙ্গত কারণেই। সেইসব আড্ডার একটি সংক্ষিপ্ত লিখিত রূপ প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে, প্রথম আলো সাময়িকীতে। আরেকটি অংশ প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ছোট কাগজ লোক-এ। এটি শেষোক্ত সাক্ষাৎকারের পুনর্মুদ্রণ। যেমনটি ছিলো তেমনটিই রাখা হলো, কোনো পরিবর্তন করা হলো না। — আ. মো. কা

●●●


“শিল্পীদের লোভ থাকতে নেই”

— মাহমুদুল হক

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: আহমাদ মোস্তফা কামাল

[মাহমুদুল হকের সাক্ষাৎকার নেয়ার ইচ্ছে আমার দীর্ঘদিনের, কিন্তু কাজটি সহজ ছিলো না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এক রহস্যময় নীরবতা অবলম্বন করে চলেছেন। কিছু লেখেন না তো বটেই, এ সম্বন্ধে কোনো কথাবার্তাও বলেন না কারো সঙ্গে। সাক্ষাৎকার দেয়ার ব্যাপারে, পত্রপত্রিকার মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারে তার অনীহার কথা এখন সর্বজনবিদিত। এই নীরবতার দেয়াল ভেদ করে তাঁকে পাঠকের সামনে হাজির করতে হবে — এমন কোনো পরিকল্পনা থেকে অবশ্য সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা ভাবি নি। তিনি আমাদের প্রধান লেখকদের একজন, তাঁর সঙ্গে কথা বলার একটা ইচ্ছে তো হতেই পারে, কিন্তু তারচেয়ে বড় ব্যাপার — তিনি এমন একজন লেখক, আমাদের লেখালেখির জগতে যাঁর প্রভাব এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। প্রধানত এই কারণেই কথা বলার আগ্রহ। এবং তিনি বলেনও প্রচুর — তবে শর্তসাপেক্ষে — এইসব কথাবার্তা ছাপা যাবে না। তাঁর সঙ্গে আমার বহুদিন কথা হয়েছে। জীবন ও জগতের বহু বহু প্রসঙ্গে তিনি অবিরাম কথা বলে গেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার একটি মজার দিক হলো — তিনি শুধু মতামত দিয়েই ক্ষান্ত হন না, নানা বিষয়ে প্রশ্নকর্তার মতামত-ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও জানতে চান এবং প্রয়োজনে দীর্ঘসময় ধরে মনোযোগ দিয়ে সেই ব্যাখ্যা শোনেন। তাঁর কাছে গেলে ৫/৬ ঘণ্টার আগে উঠে আসা যাবে না — এমনই তাঁর গল্পের স্রোত। এককালের তুখোড় আড্ডাবাজ ‘বটু ভাই’ এখনও আড্ডার আমেজটি সমানতালে ধরে রাখতে পারেন — সেই আগের মতো — শুরু হলে শেষ হওয়ার নাম নেই। কতো বিষয় নিয়ে যে কথা হয় তার সঙ্গে! বিশেষ করে তিনি যখন তাঁর লেখক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন, তখন যেন ৫০/৬০/৭০ দশকের ঢাকা শহর, এর সাহিত্যিক পরিমণ্ডল আর সাহিত্যের মানুষগুলো একেবারে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এখানে যে লেখাটি পত্রস্থ হলো তাতে সেসব কথাবার্তা প্রায় নেই বলতে গেলে — সেগুলো লিখতে গেলে একটা বিরাট উপন্যাস হয়ে যাবে! এখানে কেবল তাঁর লেখালেখি এবং জীবন দর্শন সম্বন্ধে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। এর সব কথা একদিনে হয়নি, তাই কোনো তারিখ দেয়া হলো না।

জীবন আমার বোন, কালো বরফ, নিরাপদ তন্দ্রা, খেলাঘর, অনুর পাঠশালা, মাটির জাহাজ প্রভৃতি উপন্যাস আর ‘কালো মাফলার’, ‘প্রতিদিনি একটি রুমাল’, ‘হৈরব ও ভৈরব’ প্রভৃতি গল্পের অমর স্রষ্টা আমাদের বটু ভাই এখন বেশ খানিকটা বুড়িয়ে গেছেন বলে মনে হয়। শারীরিকভাবেও বেশ খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। নিঃসঙ্গ একজন মানুষ — প্রায় সারাদিনরাত ঘরেই বসে থাকেন, কোথাও যান না, কারো সঙ্গে মেশেন না, একটি লাইনও লেখেননি বহু বছর। তবে কেউ তাঁর বাসায় গেলে আড্ডায় মেতে উঠতে পছন্দ করেন — যদি সুস্থ থাকেন। এখন তাঁর সময় কাটে বই পড়ে বা ব্যালকনিতে বসে রাস্তায় মানুষের স্রোত দেখতে দেখতে। আসুন প্রিয় পাঠক, তাঁর সঙ্গে আড্ডা শুরু করা যাক।]

আহমাদ মোস্তফা কামাল: আপনার লেখালেখির শুরু হলো কীভাবে?

মাহমুদুল হক: সেটা বলা বেশ মুশকিল। ছোটবেলায় দু-চারটে গল্প লিখলেও আমি ঠিক কখন থেকে পরিকল্পনামাফিক লিখতে শুরু করেছিলাম সেটা আর মনে পড়ে না। আমার মধ্যে সম্ভবত লেখক হওয়ার একটা আকাক্সক্ষা ছিল — কীভাবে যে সেটার জন্ম হয়েছিলো তা বলতে পারবো না। মনে পড়ে, ছোটবেলায় বাবার তাগিদে ঈদের জামাতে নামাজ পড়তে গেলে আমি নিয়মিতভাবে একটা প্রার্থনাই করতাম — হে আল্লাহ, আমাকে তুমি শরৎচন্দ্রের মতো লেখক বানিয়ে দাও। মানুষ তো আল্লাহর কাছে কত কিছুই চায়, কত কিছুই তো চাওয়ার আছে, আমি কেন যে লেখক হতে চাইতাম সেটা নিজেই ব্যাখ্যা করতে পারি না, আমি এমনিতে যে খুব আল্লাহভক্ত ছিলাম তা নয়, কিন্তু লেখক হওয়ার জন্য যখন প্রার্থনা করতাম তখন খুব মন-প্রাণ দিয়েই করতাম। (সম্পূর্ণ…)

প্রতিদিনের রুমাল, ষাট-সত্তরের ঢাকা ও চিরদিনের সাহিত্য

সুমন রহমান | ৩১ জুলাই ২০০৮ ১:৪৯ পূর্বাহ্ন

এক.
প্রয়াত হলেন আমাদের অন্যতম প্রধান কথাশিল্পী মাহমুদুল হক। বিরাশি সালের পর থেকে আর কিছুই লেখেন নি এই প্রতিভাধর লেখক, সেই অর্থে mah-p-3.jpg এটি তাঁর দ্বিতীয় প্রয়াণ। যাঁর প্রয়াণের ব্যথাটুকু আমরা গত দুদশক ধরেই আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ও রুমালে বয়ন করে চলেছি, তাঁর শরীরী প্রস্থানের ফলে কেবল আমাদের এই অভ্যাসটুকুরই ইতি ঘটল। প্রশ্নটি কিন্তু রয়েই গেল: মাহমুদুল হক আমাদের কেমন আত্মীয়? প্রতিদিনের, নাকি চিরদিনের?

মাহমুদুল হকের পাঠক কিন্তু এই প্রশ্নের জবাবে কোনো পরিষ্কার পজিশন নেয় না। তাঁকে প্রতিদিনের হুমায়ুনের কাতারে রাখতে সে অপারগ, আবার চিরদিনের হাসান-ইলিয়াস চত্বরেও তাঁর আসন পেতে দিতে দোনোমনা সে। কোনো খাপেই যেন এই তলোয়ার ঢোকে না। সমস্যা কি তলোয়ারটির? নাকি আমাদের সাহিত্যরুচির?

লক্ষণীয়, মাহমুদুল হক আটটি উপন্যাস এবং কমপক্ষে এগারটি গল্প লিখেছেন তাঁর দুদশকের সাহিত্যজীবনে। তুলনায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এবং হাসান আজিজুল হকের উপন্যাসের সংখ্যা দুইয়ের অধিক না। তবু তাঁর পাঠকের দাবি, অনেক কম লিখেছেন এই লেখক। আবার কোনো কোনো বোদ্ধা ভাবেন যে, বিশাল ক্যানভাসে বা মহৎ কোনো উপন্যাস লেখেন নি তিনি। ধন্দ লাগে, এ হেন প্রত্যাশার হেতু কী? যা লিখেছেন মাহমুদুল হক তা নিয়েই আমরা কেন সন্তুষ্ট হতে পারি না? সে কি আমরা তাঁর মাঝে অমিত সম্ভাবনা দেখেছিলাম বলে, নাকি তিনি আমাদের ক্যাটাগোরাইজেশনের নৌকাটিকে মাঝ নদীতে ছেড়ে গিয়েছেন বলে? টানাহেঁচড়া কিছু হয়েছে, হয়ত আরো হবে, কিন্তু তাতে বিশেষ ফল হয় নি। মাহমুদুল হক আসন পেতেছেন এমন একটি নো-ম্যানস ল্যান্ডে যা বিদ্যমান সাহিত্য সমালোচনাধারার জন্য অস্বস্তির। (সম্পূর্ণ…)

ব্যক্ত ও অব্যক্ত মাহমুদুল হক

মফিদুল হক | ২৭ জুলাই ২০০৮ ১:৩৩ অপরাহ্ন

এখন, মাহমুদুল হক চলে যাওয়ার পর, হঠাৎ সচকিত সমাজে তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনার ঢল নামছে পত্র-পত্রিকায়। প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা ও প্রতিষ্ঠিত আলোচকরা এক্ষেত্রে কিছুটা যেন অপ্রস্তুতিতে m-haque.jpg রয়েছেন, কেননা মাহমুদুল হক যে তাদের লেখক ছিলেন না সেটা তারা ঠিক বোঝেন, সে-কথাটা না-বলে তাঁর স্মৃতিতর্পণ কীভাবে করা যাবে সেটা তাদের জন্য জটিল প্রশ্ন। কিন্তু সেইসব বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির কোনো পরোয়া মাহমুদুল হক কখনো করেন নি, আর তাই এটাও আমরা লক্ষ্য করি এবং দেখে প্রাণিত হই যে, মাহমুদুল হককে পুনর্বিচারের যে তাগিদ কিছুটা হলেও এখন আবার জেগে উঠছে সেখানে তাৎপর্যময় মূল্যায়ন সম্ভব হচ্ছে তাদের দ্বারা যারা তরুণ লেখক, সাহিত্যচর্চাকে জীবনের ব্রত হিসেবে মান্য করেন এবং কঠিন পথ বেয়ে চলার রক্তাক্ত সাধনায় যারা পিছ-পা নন। এইসব তরুণেরা তাদের সাহিত্যরুচি ও শিল্পদৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে মাহমুদুল হকের সহায়তা পেয়েছেন, তাঁর লেখার মধ্যে শিল্পপথের নিশানা দেখতে পেয়েছেন এবং এখন সবটুকু আন্তরিকতা ও আবেগ মিলিয়ে এই মহান কথাশিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনে এগিয়ে এসেছেন। তাদের লেখালেখিতে মাহমুদুল হকের সজীব প্রাণময় উপস্থিতি দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল আজকের এই প্রজন্মের, সাহিত্যব্রতী এই তরুণ কথাশিল্পীদের, বড় দুর্ভাগ্য তাদের গড়ে-ওঠার সময়টিতে মাহমুদুল হক সবার মধ্যে থেকেও ছিলেন সবার থেকে দূরে। তাই অনেক চেষ্টা করেও খোলস ভেঙে মাহমুদুল হকের কাছে পৌঁছে সত্তার উত্তাপটুকু পরিপূর্ণভাবে তারা গ্রহণ করতে পারেন নি, আমাদের মতো অপ্রতিভাবানদের জন্য যে-উত্তাপ ও আনুকূল্য ছিল যেন প্রকৃতির আশীর্বাদ এবং তাঁর সান্নিধ্যে জীবনের পাঠ গ্রহণ করে নিজেদের যেভাবে সমৃদ্ধ করতে পেরেছি, বিপুল আগ্রহ সত্ত্বেও পরবর্তী প্রজন্মের তরুণেরা সেভাবে তাঁকে দেখা, জানা ও পাওয়া থেকে বঞ্চিত রইলো। (সম্পূর্ণ…)

মাহমুদুল হকের অনুর পাঠশালা

খঞ্জনা পাখির কাব্য

অদিতি ফাল্গুনী | ২৩ জুলাই ২০০৮ ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

ভাষার মগ্নতা, পেইন্টিংসের অবিশ্বাস্য সব রং আর কবিতার চিত্রকল্প নিয়ে গদ্যভাষাকে ভাঙা-গড়ার খেলাঘরে নিয়ে নিরন্তর ছাঁচ বদলের প্রচেষ্টা আমাদের এই বাংলায় যে গদ্যশিল্পী বিশেষভাবে করেছেন, সেই মাহমুদুল anur-pathshala.jpg…….
অনুর পাঠশালা / মাহমুদুল হক / রচনাকাল: জুলাই ১৯৬৭ / প্রকাশক: সাহিত্য প্রকাশ, মার্চ ১৯৯৯ (চতুর্থ সংস্করণ) / ৯১ পৃষ্ঠা / ৮০ টাকা
……..
হক গতকাল প্রয়াত হয়েছেন। অনেক জল্পনা-কল্পনা হবে এখন। আহা, কেন তিনি লেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন? কেন জীবনের শেষ দু/তিন দশক প্রকাশ্যে বের হননি ইত্যাদি ইত্যাদি! তাঁকে নিয়ে তাঁর সতীর্থদের অনেকেই হয়তো স্মৃতিচারণ করবেন। কিন্তু, শিল্পীদের ক্ষেত্রে যা হয়…দেহের খোলস ছেড়ে শেষপর্যন্ত নিজেদের রেখে যাওয়া সৃজনশীল কাজগুলোই তাদের চিনবার পক্ষে জরুরি স্মারক হয়ে ওঠে, এখন সময় এসেছে ‘বটু ভাই’য়ের চেয়ে মাহমুদুল হকের বইগুলোকে নিয়েই বেশি আলোচনা করার। নিরাপদ তন্দ্রা, জীবন আমার বোন, কালোবরফ, খেলাঘর, মাটির জাহাজ, প্রতিদিন একটি রুমাল, অশরীরী, পাতালপুরী (এখনো অপ্রকাশিত) এবং সর্বশেষে অনুর পাঠশালা…মোট ন’টি গ্রন্থের স্রষ্টা এই লেখক তাঁর কিছু আগের ও পরের অন্যান্য কথাশিল্পী যেমন রশীদ করিম, শওকত আলী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বা হাসান আজিজুল হকের মতো আর্থ-সমাজ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দলিল রচনার চেয়ে ভাষাশরীরে অ্যাবসার্ডিটি ও সুররিয়্যালিজম, ব্যক্তির মনোজগতের টানাপোড়েনের নিদাঘ সাইকো-অ্যানালিসিস, প্রতীকবাদ ও চেতনাপ্রবাহ রীতি দ্বারা বেশি আচ্ছন্ন ছিলেন। কিছুটা ফরাসী ঘরানার এই লিখনশৈলী তাঁর পরে আরো খানিকটা আমাদের এপারে চর্চা করেছেন সম্ভবতঃ জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত।

তৃতীয় বিশ্বের কবি-লেখকদের নানা ধরনের ভাগ্য-বিড়ম্বনা থাকে। দেশের দারিদ্র্য, ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে ভয়াবহ আর্থ-সামাজিক শোষণ প্রভৃতি প্রপঞ্চ প্রায়ই কবি-লেখকদের ‘সমাজতান্ত্রিক সাহিত্য’ বা ‘দায়বদ্ধতার সাহিত্য’ রচনার দিকে ঠেলে দেয়। সুবিমল মিশ্র যে সাহিত্যকে বলেন ‘সমাজতান্ত্রিক সাহিত্যের অদ্বিতীয় বদ্ধ জলাশয়।’ ফলে, ‘আর্টস ফর আর্টস সেক’ ঘরানার বিশুদ্ধ শিল্পচর্চা প্রায়ই আমাদের মতো দেশে করা হয়ে ওঠে না। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে সরে যান। (সম্পূর্ণ…)

বিদায় মাহমুদুল হক। এ জীবনের জন্য বিদায়।

কাজল শাহনেওয়াজ | ২২ জুলাই ২০০৮ ২:৫০ অপরাহ্ন

মাহমুদুল হক আমার প্রিয় লেখক। আজ সকালে (২১ জুলাই ২০০৮) সাড়ে দশটায় তাঁকে দেখতে গেলাম ২৭৪, শেখ সাহেব বাজার (আজিমপুর) এর বাসায়। অনেকগুলি লেন বাইলেন, অনেক ছাদের নিচা, ৯০ ডিগ্রী হাটার
mahmudul-haque-2.jpg
মাহমুদুল হক (বারাসাত, ভারত ১৯৪০ — ঢাকা ২১/৭/৮) এ বছরের মে মাসে লালবাগের বাসায় লেখক; ছবি. Atiqul Alam

বাঁক, আধ খোলা দরজার আহবান পার হয়ে প্রাক্তন উঠানের ওপর অর্ধসমাপ্ত সিঁড়ি ধরে আধা খোলা একটা দোতলায় উঠে দেখি শুয়ে আছেন মাহমুদুল হক — বাংলা গদ্যের এক অতি দক্ষ সেনাপতি, অসংখ্য ভাষাযুদ্ধের সার্থক বিজয়ী, অনিন্দ্য সুন্দর ব্যজস্তুতি আর বক্রোক্তি’র সেনা প্রধান।

মাহমুদুল হক মারা গেছেন বলে বিস্ময় লাগছিল না। কবে থেকেই তো উনি লিখতেন না! বাসাভর্তি তাঁর অতিচেনা স্বজনেরা দরকারী কাজ ও শোকে মুহ্যমান। পাড়ার ছেলেরা গম্ভীর মুখে আসা যাওয়া করছে। শিখশা বাজারের এই এলাকাটা বেশ গা ঘেষাঘেষি করা, মনে হয় অনেকেই অনেকের চেনা। কোনো কিছুতেই লোকবলের অভাব নাই। স্বেচ্ছাসেবী ও নিশ্চয়ই অনেক।

স্বজনদের মধ্যে কয়েকজন বিভিন্ন বয়েসের সাহিত্যসেবীদের মুখও দেখা গেল। তাঁর বয়েসি। তবে তরুণমুখও আছেন। সকালেও কেউ কেউ নাকি এসেছিলেন।

কতগুলি প্লাস্টিকের চেয়ারে আমরা কি একটার জন্য যেন বসে আছি। এরকম আরো কয়েকটা চেয়ার তাঁর খাটের দুই পাশে রেখে একটা কালো মোটা চাদর দিয়ে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে রেখেছে। কে যেন জিজ্ঞেস করে: বুদ্ধিজীবি গোরস্তানে? আরেকজন বলে: ঠিক নাই, আজিমপুরেও বলা আছে। কে জানে ঢাকা শহরের কোন এলাকার মাটি তাঁকে নেবে। দোলাচল। মাটির জাহাজ, তুমি কোন বন্দরে ভিড়বে? (সম্পূর্ণ…)

শ্রদ্ধাঞ্জলি: কবি সমুদ্র গুপ্তকে

পাপড়ি রহমান | ২২ জুলাই ২০০৮ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন

কে না মৃত্যুর পায়ের শব্দ পায়! কবি, ফল বিক্রেতা, মধ্যদিবসের সুঠাম নারী — শীতের রাতে যারা গভীর ঘুমে অচেতন, তাঁরা — আর যাঁরা গ্রীষ্মের samudra-gupta.jpg…….
সমুদ্র গুপ্ত, (সিরাজগঞ্জ ২৩/৬/১৯৪৬ — ব্যাঙ্গালুরু, ভারত ১৯/৭/২০০৮)
…….
পান্থশালায় জড়ো হয়ে দক্ষিণের বারান্দায় — সবাই হাওয়ার মধ্যে এই দাম্ভিক মৃতুর দরোজা খোলার অপেক্ষাই করে — তথাপি আমরা যারা অমরতার কথা বলি, তারা নশ্বর মানুষ! কোনো পতঙ্গ বা বৃক্ষের পক্ষে যা বলা সম্ভব হয়নি।

কবি সমুদ্র গুপ্ত কি ঋতুচক্রের মাঝে বর্ষাকালকে বেশি ভালবাসতেন? তিনি যখন জন্মেছিলেন তখন কি আকাশ মেঘে মেঘে ঢাকা ছিল? সুর্মারঙা মেঘ, কালোকেশর মেঘ, নাকি শিমুলতুলার মতো সাদা মেঘের তলায় সূর্য লুকানো ছিল? অজস্র সূঁচের মতো ঝরে পড়া ঝিরিঝিরি বৃষ্টিপাতে কি পৃথিবী সদ্য ভিজতে শুরু করেছিল? অথবা তুমুল বর্ষণে একেবারে নেয়ে উঠেছিল প্রকৃতি? কবির জন্মদিন ২৩ জুন। বর্ষাজন্মা কবি। এবং তিনি চলে গেলেন ১৯ জুলাই। ঘোর শ্রাবণের এক সকালে! (সম্পূর্ণ…)

আগুনপাখি: ব্যক্তিনির্মাণযজ্ঞ

ইমতিয়ার শামীম | ১৮ জুলাই ২০০৮ ১১:১০ পূর্বাহ্ন

আগুনপাখির কারও আধুনিক ব্যক্তিসত্তা নেই, ব্যক্তিমনন নেই। কিন্তু তারপরও, শেষপর্যন্ত, আধুনিক ব্যক্তিসত্তার উদ্বোধনই এর মূল গল্প, agun-p.jpg
…….
আগুনপাখি/হাসান আজিজুল হক/প্রকাশক: গাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সন্ধানী প্রকাশনী/প্রথম প্রকাশ: ফাল্গুন ১৪১২, ফেব্রুয়ারি ২০০৬/প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরী/১৫৮ পৃষ্ঠা/১৬০ টাকা/উৎসর্গ: মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
…….
ব্যক্তিমননের বিকাশই এর মূল সত্য। আগুনপাখির গল্প অবিরাম বিশ্বস্ত থাকতে চায় সংসার ও সমাজের প্রতি, ধর্ম ও দেশের প্রতি। কিন্তু তারপরও গল্পের সংসার ও সমাজ, ধর্ম ও দেশ ভেঙে যায়; তার বদলে আমরা আভাস পাই ব্যক্তির উদ্বোধনের, ব্যক্তির বিকাশের। এই ব্যক্তি তার সমগ্র অতীত নিয়ে তারই সংসার, সমাজ, ধর্ম ও দেশের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠে দাঁড়ায়। ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে দিয়ে নয়, ব্যক্তিত্বকে নাকচ কিংবা খর্ব করে নয়, আগুনপাখিতে ব্যক্তিকে আমরা উঠে দাঁড়াতে দেখি সংসার, ধর্ম ও রাষ্ট্রের সত্যকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করার মধ্যে দিয়ে।

এরকম গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তি, আরও এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা — নাম নেই তাঁর। অথবা নাম আছে কোনওখানে, কিন্তু এমনই অযত্নে যে আমরা তা খুঁজে পাই না। সে-যে নারী তা অবশ্য আমরা কাহিনীর শুরু থেকেই বুঝতে পারি; কিন্তু নামহীন হওয়ার মধ্যে দিয়ে সে কেবল নারীর নয়, চিহ্নিত করে সমগ্র সাধারণ মানুষের কালীন অবস্থান। একটি চরিত্রের একটি নাম দেয়া নিশ্চয়ই কঠিন ব্যাপার ছিল না; আবার এরকমও নয় যে, সচেতনভাবেই হাসান আজিজুল হক তার নাম দেন নি। আমরা যা দেখতে পাই — নাম না থাকার পরও তার অবয়ব ফুটে উঠছে, ফুটতে ফুটতে সে কেবল নারীদের নয়, সমগ্র সাধারণের ব্যক্তিকৃত রূপ হয়ে উঠছে। (সম্পূর্ণ…)

মিশেল ফুকোর

শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম (কিস্তি ১১)

অদিতি ফাল্গুনী | ১৬ জুলাই ২০০৮ ৪:৪৪ অপরাহ্ন

gloucesterjail.jpg
ব্রিটেনের গ্লুচেস্টার সংশোধনাগার

—————————————————————-
শাস্তির কোমল পন্থা
—————————————————————–

কিস্তি: ১০

অনুবাদ: অদিতি ফাল্গুনী

খণ্ড ২ : শাস্তি

২য় অধ্যায়: শাস্তির কোমল পন্থা (The gentle way in punishment)
(পৃষ্ঠা ১২৩-১৩১)

(গত সংখ্যার পর)

সংশোধনাগারের এই ব্যবস্থা শুধুই যে গার্হস্থ্য অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় জরুরি জটিল স্বার্থগুলোর পুনর্বিন্যাস করবে তাই নয়। বরং সংশোধনাগার নৈতিক বিষয়ের অনুজ্ঞাও নির্ধারণ করবে। সংশোধনাগারের সেল বা ক্ষুদে কুঠুরি যেন খ্রিষ্টীয় সন্ন্যাসীদের মঠের আদলে গড়া যা আগে শুধু ক্যাথলিক দেশগুলোতেই দেখা যেত। ক্যাথলিক মঠের আদলে গড়া সংশোধনাগারের wal-st-j.jpg
ফিলাডেলফিয়ায় ওয়ালনাট সড়কের জেলখানা

এই সেলগুলোই প্রটেস্ট্যান্ট সমাজে সেই যন্ত্রের রূপ ধারণ করে, যার মাধ্যমে কেউ গার্হস্থ্য অর্থনীতি এবং ধর্মীয় বিবেকবোধ দু’টোরই পুনর্গঠন করতে পারে। একদিকে অপরাধ ও আর একদিকে ন্যায়পরতা ও পুণ্যের পথে ফিরে আসা — জেলখানা যেন এই ‘দুই ভুবনের মধ্যবর্তী স্থান’টুকু গঠন করে। দুই ভুবনের মধ্যবর্তী এই স্থানটুকুই যেন ব্যক্তিগত রূপান্তরের জায়গা যা রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেবে তার অতীতের সেই বশমানা প্রজাকে যে প্রজা পরবর্তী সময়ে আইন অমান্যকারী বিদ্রোহীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। (সম্পূর্ণ…)

পিটার নাজারেথ-এর গল্প

মালদার

মাসুদ খান | ১৪ জুলাই ২০০৮ ৩:২১ অপরাহ্ন

সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিল বাবু মান্না লেইতাও। সেটা সেই আমলের কথা, যখন গোয়া-র বাসিন্দাদের কারুরই কোনো গাড়ি ছিল না। ছাতাটাকে ছড়ির মতো করে ধরে শহরটাতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত তাকে, আর সেই কালে তার পক্ষে সেটাই ছিল মানানসই। কিন্তু দশকের পর দশক গুজরে যাওয়ার পর, এখন, যখন গোয়াবাসীরা সাইকেল-যুগ পার করে এসে পা দিয়েছে গাড়ির জমানায়, যখন তারা গাড়ির মালিক হওয়ার মতো যথেষ্ট স্বচ্ছল, তাজ্জব ব্যাপার, এই যুগে এসে কিনা তাকে দেখা যাচ্ছে ভেসে বেড়াতে নেড়িকুত্তার মতো, ফুটপাতে, অলিতে গলিতে। ‘কে এই বেখাপ্পামতন লোকটা?’ — হঠাৎ কারুর মধ্যে এমতো হুশ না হওয়া অব্দি যেন তার হুশের কিনার ধরে চুপিচুপি চলেছে মানুষটা।
—————————————————————–
মূল: পিটার নাজারেথ

অনুবাদ: মাসুদ খান

—————————————————————–
সত্যিই সে বেখাপ্পামতন। ঢাউস সাইজের মেছতাপড়া মুখ। চুলগুলা জলাজংলায় গজিয়ে ওঠা এক কিসিমের ঢেঁকিশাকের মতো, যাদের চোখা চোখা ডগাগুলা আস্তে আস্তে বেঁকে গিয়ে হয়ে যায় কুণ্ডলাকার। কান দুইটা যেন ইটালিক করে দিয়েছে মাথাটাকে আর সেই ইটালিক মাথার চুলগুলা সব মিনি-টেলিভিশন অ্যান্টেনার মতো খাড়া-খাড়া। ঠোঁট দুইটা দেখলেই মনে হয় লালসায় ভরা, আর তা বিশ্বাস যুগিয়েছে এই কেচ্ছাটায় যে — বিয়া না করলে কী হবে, তলে-তলে লোকটা কিন্তু ভীষণ কামুক। গোয়াবাসীরা মনে করত, বিয়া সে করে নাই কারণ বউ-বাচ্চা পালা তো খরচের কাম। (সম্পূর্ণ…)

সফিউদ্দীন আহমেদ: নিভৃতচারী শিল্পগুরু

আবুল বারক্‌ আলভী | ১১ জুলাই ২০০৮ ৩:০৮ পূর্বাহ্ন

এদেশে শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদ প্রচারবিমুখ, প্রচ্ছন্নে থাকা একজন মানুষ। তাঁর ব্যক্তিত্বে এমন এক
safiuddin-1.jpg…..
সফিউদ্দীন আহমেদ (জন্ম. কোলকাতা ২৩/৬/১৯২২); ছবি: ইন্দ্রনীল কিশোর
…….
ধরনের ঋজুতা আছে যা তাঁকে আর দশজনের চেয়ে স্বতন্ত্র বলে চিহ্নিত করে।

সফিউদ্দীন আহমেদ চল্লিশ দশকের মধ্য পর্যায়ে ভারতবর্ষের চিত্রকলা জগতের উদীয়মান উজ্জ্বল পরিচিত নাম। তেলরং, উড এনগ্রেভিং, এচিং, একুয়াটিন্ট, ড্রাই পয়েন্ট সব মাধ্যমেই তাঁর সাফল্য চোখে পড়ার মত। তিনি শিল্পকলা রসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছিলেন সহজেই।

28.jpg
পালতোলা নৌকা, চারকোল ও ক্রেয়ন, ৫১ x ৭৬ সে.মি., ১৯৭৬

কোলকাতা ভবানীপুরের সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে শিল্পীর জন্ম। ১৯২২ সালের ২৩ জুন। ১৯৩৬ সালে কোলকাতা সরকারী আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। ভর্তি হয়ে কাজে মন বসাতে পারছিলেন না। শিক্ষক আব্দুল মঈন এগিয়ে এলেন। 01.jpg
শান্তিনিকেতনের দৃশ্যপট, কালি ও কলম, ১২ x ২০ সে.মি., ১৯৪৫

কাজে উৎসাহ দিলেন, সাহায্য দিলেন। এইভাবে সহযোগিতা পেয়ে ছবি আঁকায় উৎসাহ বাড়লো। এরপর সফিউদ্দীনকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি। ১৯৪২ সালে শিক্ষাজীবন শেষ হয়। এরপর ১৯৪৪ সালে টিচারশিপ পড়ার জন্যে ভর্তি হন একই স্কুলে। শিক্ষক হিসাবে পান রমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে। শিক্ষক রমেন চক্রবর্তীর উৎসাহে ছাপচিত্রে উৎসাহী হয়ে ওঠেন শিল্পী সফিউদ্দীন। এই সময়েই আমরা উড এনগ্রেভিং, এচিং, ড্রাই পয়েন্ট এই তিন মাধ্যমে তাঁর করা অসাধারণ কিছু কাজ দেখতে পাই। (সম্পূর্ণ…)

রেখার অশেষ আলো

আর্টস-এর ওয়েব গ্যালারীতে শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদের ছবি

| ১১ জুলাই ২০০৮ ২:১২ পূর্বাহ্ন

————————————
ছবির সংখ্যা: ৮৬
————————————
sa.jpg

ধানমণ্ডির ‘বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌’-এ ২৩ জুন ২০০৮-এ শুরু হয়েছে শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদের একক প্রদর্শনী: “রেখার অশেষ আলো” (The Limitless Luminosity of Line)। প্রদর্শনী চলবে জুলাইয়ের ১৩ তারিখ পর্যন্ত। বাংলাদেশে শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদের এটিই প্রথম একক। এর আগে ১৯৫৯ সালে লন্ডনের নিউ আর্ট ভিশন গ্যালারিতে একটি একক প্রদর্শনী করেছিলেন তিনি, সেটি উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের কালে।

এবারের প্রদর্শনীতে ছবির সংখ্যা ৮৬। বেঙ্গল শিল্পালয়-এর সৌজন্যে আর্টস-এর ওয়েব গ্যালারিতে সমুদয় চিত্র উপস্থাপন করা হলো। প্রদর্শনীর পরেও আর্টস-এর আর্কাইভে ছবিগুলি দেখা যাবে। প্রদর্শিত চিত্রকর্মের ছবি তুলেছেন সিউতি সবুর।

প্রদর্শনী বিষয়ে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌-এর ভাষ্য:

বাংলাদেশের চিত্রকলার ভুবনে সফিউদ্দীন আহমেদ উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মতো দেদীপ্যমান। দীর্ঘদিনের একব্রতী শিল্পসাধনার মধ্যে দিয়ে এই শিল্পীপুরুষ বাংলাদেশের শিল্পের ভুবনকে নানাভাবে সমৃদ্ধ ও দীপিত করেছেন। তিনিই এদেশের ছাপচিত্রের জগতে অনন্যসাধারণ এক শিল্পগুরু। সমকালীন চিত্রের ভুবনে প্রধান শিল্পীও বটে। তাঁর সৃজনী উদ্যম, শিল্পিত মানস ও শিক্ষাব্রতী হৃদয়ের স্পর্শে আলোড়িত এবং সিক্ত হয়ে এদেশের অগণিত শিল্পী তাঁদের শিল্পীসত্তাকে আলোকাভিসারী করে তুলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

মোহামেদ চউক্‌রির ডায়েরি

তানজিয়েরে জঁ জনে

হোসেন মোফাজ্জল | ৭ জুলাই ২০০৮ ১:২৬ পূর্বাহ্ন

t06.jpg
মেইন স্কয়ার, তানজিয়ের, মরক্কো

genet_book.jpg ফরাসি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও পলিটিক্যাল অ্যাকটিভিস্ট জঁ জনের মরক্কো বাসের সময় সেদেশের লেখক মোহামেদ চউক্‌রির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জঁ জনে ইন তানজিয়ের (Jean Genet in Tanger, ১৯৯৩) বইটি ডায়েরির আকারে লিখিত চউক্‌রির সে সব দিনের স্মৃতিকথা। এখানে চউক্‌রি জনেকে দেখেছেন অনেক কাছ থেকে।

৮০ পৃষ্ঠার বইটি কয়েক কিস্তিতে আর্টস-এ প্রকাশিত হবে। অনুবাদকের ভূমিকার পরে ডায়েরির প্রারম্ভিকা হিসাবে ফ্রান্সের লো মোঁদ পত্রিকার ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত চউক্‌রির পরিচিতিটুকু যুক্ত হলো। পল ফ্রেডরিক বৌলস্-এর ইংরেজি থেকে লেখাটি অনুবাদ করা হয়েছে। বি. স.

১.

অনুবাদকের ভূমিকা

ফরাসী সাহিত্যের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক, নাট্যকার এবং পরবর্তীতে পলিটিক্যাল অ্যাকটিভিস্ট জঁ জনে ছিলেন ঘরপালানো ছন্নছাড়া কিশোর। পনের বছর বয়সে তাকে পেনাল কলোনিতে পাঠানো হয় দুরন্তপনার কারণে। জেলে বসে জনে লেখেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস দ্য মিরাকল অব দ্য jean-genet-alberto-giacomet.jpg……
আলবের্তো জিয়াকোমিত্তির ছবি: ব্যালকনিতে জঁ জনে
……..
রোজ। ফরাসী সামরিক বাহিনী থেকে তাকে বের করে দেয়া হয় সমকামিতার দোষে। পরে অনেক দিন ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাঁর দিন কেটেছে ছেঁচড়া চুরি করে আর বেশ্যার দালালদের সাথে মিশে। এ অবস্থা নিয়ে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস দ্য থিফ্স জার্নাল। এরপর লেখেন আওয়ার লেডি অব ফ্লাওয়ার্স(সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com