২০১০: ঢাকা শহরের চারশ’ বছর পূর্তি

শামসুজ্জামান খান | ২৭ জুন ২০০৮ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

lalbag.jpg
১৮১৬ সালে Sir Charles D’Oyly (১৭৮১-১৮৪৫)-এর আঁকা লালবাগ দুর্গের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত। দুর্গ নির্মাণের শুরু ১৬৭৮ সালে, আওরঙ্গজেবের পুত্র মোহাম্মদ আযম শাহের হাতে। তিনি এর নাম রেখেছিলেন কেল্লা আওরঙ্গবাদ।

ঢাকা শহরের চারশ’ বছর পূর্তির আর মাত্র দু’বছর বাকি। আগামী ২০১০ সালে আমাদের প্রিয় শহর ঢাকা চারশ’ বছরে পড়বে। সাবেক পূর্ব বাংলা এবং বর্তমান বাংলাদেশের জন্য এ বড়ো গৌরব ও আনন্দের সংবাদ। আমাদের এই বাংলা অঞ্চল বিশেষ করে আদি বঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত এই ভূ-খণ্ডের মানুষের সামাজিক পশ্চাদপদতা, সাধারণ মানুষের সংস্কারাচ্ছন্নতা ও দারিদ্র্য এবং শিক্ষা-দীক্ষার অভাবের পটভূমিকা বিবেচনা করলে ঢাকার মতো একটি পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী শহর এখানে গড়ে ওঠাকে ভূ-রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়।

dacca_litho-2.jpg
ডিকিনসন অ্যান্ড সন কোম্পানির লিথোগ্রাফে ১৮৪৭ সালের নদী থেকে দেখা ঢাকা শহর।

স্মর্তব্য যে, ঢাকা কোলকাতার চেয়ে পুরনো শহর। মাত্র কয়েক বছর অগেই কোলকাতা শহরের তিনশ’ বছর পূর্তি উৎসব অত্যন্ত সাড়ম্বরে এবং সাংস্কৃতিক ও বৃদ্ধিবৃত্তিকতার আঙ্গিকে সুসম্পন্ন হয়েছে। নতুন করে লেখা হয়েছে শহর কোলকাতার ইতিহাস। (সম্পূর্ণ…)

একটি ক্ষুদ্র পুরাতন দীর্ঘশ্বাস

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ২৬ জুন ২০০৮ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

tiger.jpg
সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদী পার হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়া বাঘ। তিনজন মানুষ হত্যার পরে গ্রামবাসী বাঘটিকে পিটিয়ে মেরেছে। বাঘটি আশ্রয় নিয়েছিল শ্যামনগরের কদমতলার রণজিৎ মণ্ডলের রান্নাঘরে। ছবি দৈনিক প্রথম আলোর সৌজন্যে।

গত বড়দিনে লন্ডনে আমি একজন সদ্য বিধবা আইরিশ মহিলার কাছ থেকে একটি চলচ্চিত্রের কপি উপহার পেয়েছিলাম — অ্যান আনফিনিশ্ড লাইফ (২০০৫)। মৃত এবং মুমূর্ষুকে ঘিরে জীবনের ওঠাপড়া। ওয়াইয়োমিংয়ের এক আধবুড়ো মিচ ব্র্যাডলী (মর্গান ফ্রিম্যান) — তাকে মর্মান্তিক ভাবে আহত করে একটা বুনো ভাল্লুক। ভাগ্যচক্রে একসময় ভাল্লুকটা লোকালয়ে আসে আবার। ধরা পড়ে। স্থানীয় চিড়িয়াখানার ক্ষুদে খাঁচা তার জন্যে বরাদ্দ হয়। অসুস্থ মর্গান ফ্রিম্যান তাকে দেখতে আসে, পশুর অনিকেত অদম্য স্পৃহার সেই খাঁচার চৌখুপীতে যে অসম্ভব অবদমন — যা পৃথিবীর মতো, রিপুর মতো পুরাতন — তাকে তিলে তিলে মরতে দেখে মর্গান ফ্রিম্যান-এর চোখে যে গভীর বিদ্ধ বেদনা, তার তুলনা হয় না। ফ্রিম্যান-এর সানুনয় অনুরোধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আইনার (রবার্ট রেডফোর্ড) ভাল্লুকটাকে চিড়িয়াখানা থেকে ছেড়ে দেয়। কাকতালীয়ভাবে ভাল্লুকটার সাথে মর্গান ফ্রিম্যান-এর আবার দেখা হয়, এইবার হয়তো নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু অপেক্ষমান মৃত্যুপথযাত্রীকে তেমন কিছু না বলে একটা হ্রস্ব হুঙ্কার ছেড়ে ভাল্লুক চলে যায়।

রেডফোর্ডের দূরবীনে ধরা পড়ে পাহাড়ের চড়াই ভেঙে গহীন অরণ্যের দিকে ফিরে যাচ্ছে ভাল্লুক, প্রকাণ্ড মা-পৃথিবীর কোলে তার বিপুলকায় বালক ফিরে যাচ্ছে।

সিনেমার দুনিয়াতে পশুর ভাগ্য ভাল বলতে হবে। বাস্তবের দুনিয়াতে পশু লোকালয়ে আসে। নরহত্যা করে। নরহত্যার শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড (যদি না সে সরকারী দল করে), অতএব রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে না অনবধানে, সেই তর্ক অর্থহীন। অন্ততঃ বাংলাদেশে এই তর্কের কোনো মানে নেই।

যেহেতু বাঘের কোনো বাবা মা আহাজারি করে না, বাঘের কোনো ভাই প্রশাসনকে প্রশ্ন করবার — সাংবাদিক সম্মেলন করবার বুদ্ধিবৃত্তিক জোর রাখে না, সেহেতু এই বাঘটাকে কেউ মনে রাখবে না। রণজিৎ মণ্ডলের রান্নাঘরের খড়ের চালে আয়েশ করে বসে থাকা জুলজুলে চোখের এই বাঘটা যাত্রা করবে আরও দশটা বাঘ (সাতক্ষীরায় পিটিয়ে মারা বাঘগুলি) যেখানে গেছে সেই দিকে। (সম্পূর্ণ…)

এবাদুর রহমান এবং তাঁর দাস ক্যাপিটাল

সিউতি সবুর | ২৫ জুন ২০০৮ ১১:৩২ অপরাহ্ন

এবাদুর রহমানের লেখা প্রথম পড়ি কাউন্টার ফটো পত্রিকায়, বন্ধু মানস চৌধুরীর উছিলায়। পরবর্তীতে ওঁর উপন্যাস দাস ক্যাপিটাল-এর কথা বন্ধু মানস এবং সুমন রহমান জানান গত বছরের শেষ দিকে। বইটি প্রকাশ das-c.jpg…….
এবাদুর রহমান প্রণীত দাস ক্যাপিটাল । প্রকাশক: অস্ট্রিক আর্যু, বাঙলায়ন, রুমি মার্কেট ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা ১০০০, ই মেইল: banglayan@ yahoo.com । প্রথম প্রকাশ: ফাল্গুন ১৪১২, ফেব্রুয়ারি ২০০৬। স্বত্ব: বেরেনিস গাজ্যে । প্রচ্ছদ ও অলংকরণ: এবাদুর রহমান । বহি পরিকল্পনা: মুসতাইন জহির । মূল্য: ২৯০ টাকা ।
…….
করেছে বাঙলায়ন। বই হাতে পেয়ে পড়তে পড়তে বছর গড়ায়। এবং পড়া মাত্র বইটি নিয়ে লিখবার তাগিদ অনুভব করি। তাগিদটা খানিক এসেছে ওঁর দুর্দান্ত ভাষা ব্যবহার দেখে — সেই ভাষার ছত্রে ছত্রে ওর ‘নিজ’-বিনির্মাণ প্রক্রিয়া দেখে। প্রক্রিয়াটার কামিয়াবি বা নাকামিয়াবি বিচার করা আমার লক্ষ্য নয়। এমনকি আমার ইরাদা এবাদের কাজের সাহিত্যগুণ বিচার করাও নয়। বরং আমার বাসনা বইটি যে সামাজিক-ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে সেটা নিয়ে দু’চার কথা বলা। এবাদ-ভাষা রাজ্যে প্রবেশ করা। আরো খোলাসা করে বললে, আমার আগ্রহ বইটা যে আলোচনায় পাঠককে শামিল করতে চেয়েছে তার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।

ebadur-r2.jpg…….
এবাদুর রহমান
…….
এবাদের উপন্যাসের বিন্যাস ভীষণরকম কৌতূহলোদ্দীপক। বঙ্গভাষা মানচিত্রে ওঁর কাবিল অবস্থানকে ওঁ স্পষ্ট করেন বঙ্গভাষী বিখ্যাত লেখকদের তাঁর সম্পর্কে লেখা প্রশংসানামা বিজ্ঞপ্তি আকারে পাঠক-মেহফিলে পেশ করে। এবাদ পাঠককে উপন্যাসটি পড়বার সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিফ করান। এবাদ ভূমিকাতে ওঁর সময়ে, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ‘নিজ’-এর অবস্থিতি স্পষ্ট করেন — সচেতন ভাবে নিজ অবয়ব নির্মাণ করেন। ওঁর বসতি, গোত্র পরিচয়, ওঁর বেড়ে ওঠা, যাপন পদ্ধতি, রাষ্ট্র নিয়ে বোঝাপড়া প্রতিটা ব্যক্তিক অনুভূতিকে ভাষিক রাজনীতির উপাচারে রূপান্তরিত করতে সচেষ্ট হন। ভূমিকাটি মূলত ওঁর উপন্যাসে আপাত বিচ্ছিন্ন গদ্য, প্রবন্ধ এবং সাক্ষাৎকারগুলোর মূল সুর নির্ধারণ করেছে। (সম্পূর্ণ…)

বকুলের নাইওর

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২২ জুন ২০০৮ ৪:৫৪ অপরাহ্ন

শিমুলের মা বকুল। কাজী হুসনেআরা বেগম। ১৯৪৬ সালে আঠারো বছর বয়সে বকুলের বিয়ে হয় কোলকাতাবাসী বাটা স্যু কোম্পানির চাকুরে মীর আমজাদ আলীর সঙ্গে। কোলকাতায় বছর দুই সংসার করে ভারতভাগের পর গর্ভবতী বকুল বাপের বাড়ি যশোরের মাগুরা মহকুমার শ্রীপুর থানার চৌগাছি গ্রামে ফেরেন। পরের বছর বড় ছেলে শিমুলের জন্ম ওখানেই। আর কোলকাতা ফেরা হয় না বকুলের। আমজাদ আলী বদলি হয়ে কোলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৫০ থেকে ওদের ঢাকায় বসবাস।

ভাড়াবাড়িতে সংসারযাত্রা। সেকালের ঢাকা অর্থাৎ পুরনো ঢাকা নামে এখন যে এলাকা পরিচিত, মোটামুটি জনপদ ছিল। রাস্তাঘাটে তেমন ভিড় ছিল না। পিচঢালা রাস্তায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিত্যক্ত এঞ্জিনের ওপর বডি বসানো বাস দু’একটা বিস্তর শব্দ করে চলত গুলিস্তান-সদরঘাট-পাটুয়াটুলি- চকবাজার-পলাশি-আজিমপুর-নিউমার্কেট রুটে। ভাড়া ছিল এক আনা, দু’আনা। ষোল আনায় একটি টাকা হত। এক টাকায় তখন বত্রিশটা বিশুদ্ধ বরফের কাঠি বেঁধানো আইসক্রিম পাওয়া যেত। দু’আনা খরচ করলে অত্যন্ত সুস্বাদু ক্রিম, পেস্তাবাদাম গাঁথা বেবি, ম্যাংগোলিয়া কোম্পানির আইসক্রিম খাওয়া যেত। এক আনার অর্ধেক দু’পয়সায় ঝালমুড়ি পাওয়া যেত, একই পয়সায় চিনেবাদাম কিনে শর্টসের পকেটে পুরে, ঘুরে ঘুরে, ভেঙে ভেঙে খাওয়া চলত বেশ কিছুক্ষণ। দু’আনায় একশিক কাবাব আর দু’আনায় দু’টো পরটা কিনলে তোফা পেটপুজো সারা যেত একবেলার মত।

ওহ্, কেবল খাবার-দাবারের কথাই হচ্ছে। ফেরা যাক্ বকুলের নাইওর করার গল্পে। শ্বশুরবাড়ি পাবনা যাবার সুযোগ তেমন না ঘটলেও বকুলের ফি’বছর বাপের বাড়ি যাওয়াটা কেমন-কেমন করে যেন ঘটে যেত। নানান কাজে ঢাকায় আসা মামা-খালু-নানা, কারো না কারো সঙ্গে বকুল ঠিকই বাপের বাড়ি যেতেন, বছরে অন্ততঃ একবার তো হতই। (সম্পূর্ণ…)

অ্যাপোক্যালিপ্টো: মায়ানদের নিয়ে ছবি

সাইফ সামির | ২২ জুন ২০০৮ ৩:০৬ অপরাহ্ন

18704304.jpg
নরবলির জন্য ধরে আনা গ্রামবাসী

ছবির প্রথম মিনিট থেকেই গতিময় অ্যাপোক্যালিপ্টো (Apocalypto, 2006)। হলিউডের আর দশটা ছবির চেয়ে ভিন্ন এই ছবির প্লট। পুরো দুই ঘণ্টা ১৮ মিনিট সবকিছু ভুলে গিয়ে বসে থাকতে হয়। সাসপেন্স প্রতি মুহূর্তে।

ছয় শো বছর আগের মায়া সভ্যতার পটভূমিতে নির্মিত মেল গিবসনের (Mel Gibson, জন্ম. নিউইয়র্ক ১৯৫৬) অ্যাপোক্যালিপ্টো অনেক কারণেই apocalypto2.jpg
…….
কীভাবে পানি কেটে এগোতে হবে দেখাচ্ছেন মেল গিবসন
……
ইন্টারেস্টিং। প্রথমত, এটি মায়ান ভাষায় নির্মিত। ছবির প্রয়োজনে মায়ান ভাষা রপ্ত করে নিয়েছিলেন মেল গিবসন। ভাষা মায়ান হলেও ইংরেজি সাব টাইটেল থাকায় বুঝতে অসুবিধে হয় না। ভাষা মায়ান হওয়ায় বেস্ট ফিল্ম নট ইন দি ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্যাটাগরিতে BAFTA অ্যাওয়ার্ডের জন্য নমিনেশন পেয়েছিল অ্যাপোক্যালিপ্টো। তাছাড়া ডিরেক্টর একজন মুভমেন্ট টিচারও নিয়োগ করেছিলেন যিনি সবার বডি ল্যাঙ্গুয়েজের দিকে নজর রাখতেন।

dalia_rudi.jpg…….
জাগুয়ার প এবং স্ত্রী সেভেন
…….
ছবিতে স্প্যানিশ অভিযাত্রীরা পৌঁছানোর আগে মেক্সিকোর জঙ্গলে মায়ান জীবনযাপনের খণ্ডচিত্র দেখিয়েছেন গিবসন। শুটিংও হয়েছিল মেক্সিকোতে।

গোড়াপত্তনের পর ৮০০ শতকে মায়া সভ্যতা পূর্ণ বিকশিত হয়েছিল। কিন্তু ১০০০ শতকের কিছু আগে থেকে ক্রমাবনতি শুরু হয় এই সভ্যতার। অ্যাপোক্যালিপ্টোর কাহিনী ১৫০০ সালের। তখন মায়া সভ্যতা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। (সম্পূর্ণ…)

ভ্ল­াদিমির মায়াকভস্কি ও আন্দ্রেই ভজ্‌নেসেন্‌স্কির দুটি কবিতা

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ | ২০ জুন ২০০৮ ৫:০৮ অপরাহ্ন

অনুবাদ: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

majakovskijface.jpg
ভ­াদিমির মায়াকভস্কি (জন্ম. বাঘদাতি, জর্জিয়া ১৯/৭/১৮৯৩ — ১৪/৫/১৯৩০)

১.

ভিন্নরুচির্হিঃ লোকাঃ

ভ্ল­াদিমির মায়াকভস্কি

ঘোড়াটি
দেখে উটটিকে
নিজস্ব কর্কশ অট্টহাস্যে লুটোপুটি
ফেটে প’ড়ে বলে, “মন,
চেয়ে দ্যাখ্,
ঘোড়াত্বের কী-সাঙ্ঘাতিক এ-
অতিরঞ্জন!”

বিরক্ত উটটি তখন:
“তুই — ঘোড়া!
নাহ্!
তুই তো অপরিণত এক
উটই।”

শুধু বিধাতাই,
সর্বজ্ঞ যে-জন,
জানত, ওরা
স্তন্যপায়ী
দু’টি
ভিন্ন ঘরানার।
(সম্পূর্ণ…)

মিশেল ফুকোর

শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম (কিস্তি ১০)

অদিতি ফাল্গুনী | ২০ জুন ২০০৮ ৩:১১ অপরাহ্ন

—————————————————————-
শাস্তির কোমল পন্থা
—————————————————————–
paris-prison.jpg
প্যারিস জেলখানা, ১৯৭১ সালে তোলা ছবি

কিস্তি:

অনুবাদ: অদিতি ফাল্গুনী

খণ্ড ২ : শাস্তি

২য় অধ্যায়: শাস্তির কোমল পন্থা (The gentle way in punishment)
(পৃষ্ঠা ১১৩-১২২)

(গত সংখ্যার পর)

পুরনো শাস্তি ব্যবস্থার উত্তরসূরী হিসেবে নয়া শাস্তি ব্যবস্থায় একমাত্র যে অপরাধের জন্য অপরাধীকে কঠিনতম নির্যাতন করা হতো তা হলো রাজহত্যা। এই অপরাধে অপরাধী হলে হতভাগ্য ব্যক্তির চোখ উপড়ে ফেলা হতো। তাকে পাবলিক স্কোয়ারে বাতাসশূন্য একটি লোহার খাঁচায় বন্দি করা হতো। রাখা হতো সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায়। কোমরে একটি লোহার বেড়ির মাধ্যমে তাকে সেই খাঁচার ইস্পাত পাতের সাথে শক্ত ভাবে আটকে রাখা হতো। দিনের শেষে খেতে দেওয়া হতো শুধুই রুটি আর পানি। ‘এভাবে ভিন্ন ভিন্ন মৌসুমের আবহাওয়ার যাবতীয় কষ্ট যেন অপরাধী ভোগ করতে পারে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হতো। শীতের দিনে তার মাথা ঢেকে যাবে তুষারে। আবার গরমে সে ঝলসে যাবে সূর্যের তাপে। এমন কঠিন নির্যাতনের মাধ্যমেই কেবল মানুষ বুঝবে যে রাজহত্যার অপরাধে দণ্ডিত খলনায়কের কী কঠোর শাস্তিই না হওয়া উচিত। স্বর্গীয় যে বিধান লঙ্ঘন করে সে রাজহত্যা করেছে, তার অপরাধে সে আর কখনো স্বর্গে যেতে পারবে না। রাজহত্যা এমন এক অপরাধ যে এর মাধ্যমে শুধু স্বর্গ নয়, অপরাধী কলঙ্কিত করে পৃথিবীর পবিত্রতাকেও। কাজেই, পৃথিবীতেও সে খুব বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারে না। তাই তার শাস্তি যেন যন্ত্রণাময় জীবন শুধু নয়, যন্ত্রণাময় মৃত্যুরও দ্যোতক হয়ে ওঠে।’ (ভার্মেইল, ১৪৮-৯)। অপরাধীকে শাস্তি প্রদানকারী শহরের মাথায় ঝুলবে মাকড়সার মত দেখতে এই লোহার খাঁচা যেখানে অপরাধী নয়া আইনের অধীনে পিতৃহত্যাতুল্য অপরাধ অর্থাৎ রাজহত্যার জন্য ফাঁসিতে লটকাবে।

দেখতে দেখতে ছবির মতো অজস্র শাস্তিতে ভরপুর এক নয়া গুদামঘরই যেন গড়ে উঠল এসময়। ‘একই ধরনের শাস্তি বারবার দিও না,’ মেবলি বলেন। মেবলির সময় নাগাদ অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সামান্য হেরফেরের সমধর্মী শাস্তি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আরো যথাযথভাবে বলতে গেলে: এসময়কার আইনবিদরা অপরাধীকে জেলখানায় বন্দি করাকে খুব বড় শাস্তি হিসেবে মনে করতেন না। অপরাধীকে যথার্থ শিক্ষাদানের জন্য জেলখানায় নির্বাসনকে আইনবিদরা কখনোই সুনির্দিষ্ট এবং প্রত্যক্ষ শাস্তির প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করেন নি। (সম্পূর্ণ…)

শিশিরের সমাজ

রনি আহম্মেদ | ১৬ জুন ২০০৮ ৬:৫১ অপরাহ্ন

ঢাকার উত্তরার গ্যালারি কায়ায় (বাড়ি ২০, রাস্তা ১৬, সেকটর ৪) শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য্যের চিত্রকলা প্রদর্শনী ‌”লাইনস এন্ড লিরিকস” শুরু হয়েছে জুনের ৬ তারিখে। চলবে ২০ তারিখ পর্যন্ত। এ প্রদর্শনীর ছবি ও শিশিরের অন্যান্য কাজের ভিত্তিতে লিখেছেন শিল্পী রনি আহম্মেদ।

the-picture-2-f.jpg
দি পিকচার ২, ক্যানভাসে তেল ও অ্যাক্রেলিক, ২০০৮

শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য্যের ছবি বাস্তবের সমালোচনা ও বাস্তবের আবহ পরিবর্তন সাপেক্ষে তৈরি হয়। তাঁর ছবির আবহ ফ্যান্টাসির কিন্তু সেটা বাস্তবমুখী, অর্থাৎ সরাসরি সমাজ বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি
shishi-protrat-1.jpg……
শিশির ভট্টাচার্য্য
…….
সমাজের নানা অগ্রগতি নিয়ে চিন্তিত এবং বাস্তবতার নন্দন নৈতিকতা ও রাজনৈতিক ফলাফল তাঁকে বিব্রত করে। তাঁর ছবিতে মানুষ কমেডির উপকরণ এবং এই কমেডি প্রাত্যহিক জীবনের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। তিনি তাঁর চিত্রজগতে রাজনৈতিক দর্শন অপেক্ষা রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেন, যে বাস্তবতা উপরিতলে ঘটে চলেছে বিশ্বব্যাপী। সেখানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে কিছু কিছু আন্তর্জাতিক অনুসঙ্গ দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী সামরিক শক্তির যে দাপট সেটার সমালোচনায় তিনি প্রতীকী খেলনা ট্যাংক, সৈন্য ব্যবহার করেছেন। বাংলা মূলধারা চলচ্চিত্রের নানা চরিত্র বাস্তব প্রতিকৃতি নিয়েই তাঁর ছবিতে উপস্থিত। মান্না, পূর্ণিমাসহ আরো অনেকে এক প্রকার ভায়োলেন্স, কমেডি ও বায়বীয় চরিত্র নিয়ে তাঁর ছবিতে প্রতিস্থাপিত হয়। বাংলা মূলধারা ছবির কাল্পনিক জগৎ থেকে শিল্পী শিশির নিজের জগৎকে পরিপুষ্ট করেছেন এক প্রকার সমালোচনামূলক প্রহসন দিয়ে। সেখানে ভিলেন, নায়ক আর নায়িকা একই অর্থহীন ক্রিয়ায় রত, যার the-picture-2002.jpg…….
দি পিকচার, ক্যানভাসে মিশ্র মাধ্যম, ১৩৫ x ১৩৫ সেমি, ২০০২
…….
মূল ভাষ্য বিকৃতি ও রুচিহীনতা — মধ্যবিত্তের রুচির জন্য যা হুমকিস্বরূপ এবং অরুচিকর। সে ক্ষেত্রে শিল্পী মধ্যবিত্ত প্রতিবাদী গোষ্ঠির একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। সে কারণে অবাধ যৌনাচার ও ভোগবিলাসের সমালোচনা প্রথম থেকেই তাঁর ছবিতে দেখা যায়। তাঁর ছবি অনৈতিক যৌনতার বিরোধিতা করে। প্রতিনিয়ত সমাজ ব্যবস্থার দুর্নীতি, জটিলতা, কপটতা, ছলচাতুরী এই সকল পতন তাঁর চরিত্রগুলোর মুখাবয়বে, দেহভঙ্গিমায় এবং কার্যকলাপে ফুটে ওঠে। ক্ষমতার দম্ভ এবং অক্ষমতার আস্ফালন যুগপৎ তাঁর ছবির দ্বৈতস্বর। (সম্পূর্ণ…)

ভাষা, অর্থ এবং অনুভবশক্তি

হাসনাত আবদুল হাই | ১৫ জুন ২০০৮ ১১:২৩ অপরাহ্ন

আমরা সাধারণতঃ মনে করে থাকি যে প্রতিটি ভাষার অন্তর্গত শব্দ এবং বাক্যের নির্দিষ্ট অর্থ আছে যা তার ব্যবহারকারীরা জানে এবং সেই ধারণার ভিত্তিতে ব্যবহার করে থাকে। এটা সত্য কেবল ভাষার সেই ব্যবহারকারীদের hasnat-a-h2.jpg…….
হাসনাত আবদুল হাই (জন্ম. ১৯৩৯)
……
ক্ষেত্রে যাদের মাতৃভাষা আর লিখিত বা মুখের ব্যবহৃত ভাষা এক। তাদের কাছে একটি শব্দের কেবল নির্দিষ্ট অর্থই থাকে, অন্য কিছু নয়। কিন্তু সেই ভাষার ব্যবহারকারীর মাতৃভাষা যদি হয় অন্য ভাষা তাহলে একই শব্দ তার কাছে ভিন্ন অর্থ বহন করতে পারে, অন্ততঃ কিছু ক্ষেত্রে। এমন হতে পারে যে একটি শব্দ বাক্য গঠনে ব্যবহৃত হয়ে এই ব্যবহারকারীর কাছে ভিন্ন অর্থের প্রতিনিধিত্ব করে। মাতৃভাষা আর ব্যবহৃত ভাষা এক না হলে এমন দ্ব্যর্থবোধকতা এসে যেতে পারে, সব শব্দের ক্ষেত্রে না হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে।

কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে বিদেশী ভাষা ব্যবহার করতে গিয়ে অর্থের অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থবোধকতা এসে যেতে পারে তার একটা নির্দেশিকা হতে পারে অনুভবের শক্তি ও তার ব্যবহারে পরম্পরা। প্রত্যেক ব্যক্তি বা ভাষা-ভিত্তিক গোষ্ঠী অনুভব প্রকাশের ক্ষেত্রে তার/তাদের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, এবং দৈনন্দিন জীবনে ভাবের আদান-প্রদানের পদ্ধতি ও উপকরণের উপর নির্ভরশীল। কোন ভাষা-ভিত্তিক গোষ্ঠীর অনুভব করার ক্ষমতা (সেনসিবিলিটি) তার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের (বৃহৎ অর্থে) পটভূমি নিরপেক্ষ নয়। তার সংস্কৃতিই বলে দিচ্ছে প্রতিটি শব্দের অর্থ কী হতে পারে এবং সেই ভাষাভাষি ব্যক্তি যখন শব্দগুলি ব্যবহার করে তাদের কাছে সংস্কৃতি-নির্দিষ্ট এই অর্থই প্রধান এবং কার্যকর হয়। (সম্পূর্ণ…)

শান্তিশর্মা: এক গান্ধর্বীর কথা

দিঠি হাসনাত | ১৪ জুন ২০০৮ ১:৪৬ অপরাহ্ন

কখনও ভাবিনি আমার শান্তিদিদিকে নিয়ে এভাবে লিখতে বসব। শ্রীরাম ভারতীয় কলাকেন্দ্রের নাম আমার স্কলারশিপ ফর্মে আমি লিখেছিলাম শুধু তাঁরই জন্য।

তখন ক্লাস নাইনে পড়ি, ছায়ানটের ছাত্রী। একদিন সন্‌জীদা খালামনি এসে shanti-sarma.jpgবললেন, “আজকে তোরা কেউ ক্লাসের পর বাড়ি যাবি না। গুণী এক শিল্পীর গান শুনে যাবি।” ক্লাশ শেষে সবাই ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের বড় হলরুমে গেলাম। শিল্পী এসে বসলেন। দুপুর ১২টায় ভৈরব গাওয়া শুরু করলেন তিনি। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তখন কিছুই বুঝি না। কিন্তু ভাল লাগতে শুরু করল। শিল্পী ভোরের পবিত্র আবহ তৈরি করলেন সুরের জাল বিস্তার করে। তখন থেকেই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত, দিদি এবং দিদির ব্যক্তিত্ব আমাকে খুব আকৃষ্ট করল। এরপর তিনি ২০০৩ সালে বেঙ্গলের ওয়ার্কশপে এলেন। তখনও ভীষণ ইচ্ছা ছিল তাঁর ক্লাসগুলোতে অংশগ্রহণ করার। কিন্তু সুযোগ হয়নি।

তারপর আরও দুটো বছর কেটে গেছে। অনেক কিছু করে যাচ্ছি — মাস্টার্সের পড়াশোনা, স্কুলে পড়ানো — কিন্তু কোনো কিছুই যেন করা হচ্ছে না ঠিকভাবে, তাই অস্থির লাগে। ঠিক করলাম, এভাবে না, গানটা আরও ভালভাবে করা দরকার। অনেক দিনের ইচ্ছা, সব ছেড়ে সবার থেকে দূরে গিয়ে গান করার চেষ্টা করব ঠিকভাবে। কীভাবে তা জানি না। তারপর দিদির কারণেই স্কলারশিপ ফর্মে ডিগ্রী বেছে নিলাম, বেছে নিলাম শ্রীরাম ভারতীয় কলাকেন্দ্র। (সম্পূর্ণ…)

জীবনানন্দ দাশের ‘অবসরের গান’:

একটি জ্যামিতিক পর্যবেক্ষণ

এহসানুল কবির | ১২ জুন ২০০৮ ৬:২২ অপরাহ্ন

গোড়াতেই একটা গোড়ার প্রশ্ন রেখে শুরু করি — ‘অবসরের গান’ কেন ‘গান’, ‘কবিতা’ নয় কেন? স্মরণ করতে পারি, বাংলা কবিতায় আধুনিকতার (ব্যাপক অর্থে; রোমান্টিকতা-উত্তর অর্থে নয়) যিনি প্রথম উদ্গাতা, সেই রবীন্দ্রনাথের আগমন ঘটেছিল ‘গান’ নিয়েই। সন্ধ্যাসঙ্গীত, প্রভাতসঙ্গীত, jibananda.jpg…….
জীবনানন্দ দাশ (১৭/২/১৮৯৯ — ২২/১০/১৯৫৪)
……..
ছবি ও গান, কড়ি ও কোমল প্রথম চারটি কাব্যগ্রন্থের নামের মধ্যে প্রথম তিনটিই সঙ্গীত/গান-শব্দযুক্ত, বাকিটি সঙ্গীত-অনুষঙ্গযুক্ত। আরও স্মরণ করতে পারি, বাংলাদেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে। আধুনিক বাংলা কবিতার কালগত দিক থেকে দু’প্রান্তের দু’জন কবির উদাহরণ টানলাম জীবনানন্দকে মাঝখানে রেখে একটা সরলরেখা টানার সুবিধার্থে। সরলরেখা টানায় অতি-সরলীকরণের ঝুঁকি আছে, এটা যেমন ঠিক তেমনি
—————————————————————–
যাদেরকে জীবদ্দশায় পান নি, তাদেরকেও তিনি জিতিয়ে দিচ্ছেন ‘অনেক মাটির নিচে’ কোনো এক সম্রাটের খুলির সঙ্গে তাদের খুলি মিশিয়ে… সেইসব ভাঁড়দের গল্প বলতে বলতে এঁকে দিয়েছেন প্রাক-সামন্ত থেকে সামন্ত হয়ে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পর্যন্ত সমাজবিকাশের দীর্ঘ রেখাটি।
—————————————————————–
এটাও ঠিক যে, এক শতাব্দীর দীর্ঘ কালপরিক্রমায় বাংলা কবিতা তার চলার পথে যেসব আন্তর সাধারণ সূত্র রেখে গেছে, সেসবের কিছু মৌল ইশারাও এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে। (সম্পূর্ণ…)

অরুন্ধতী রায়ের নিউইয়র্ক বক্তৃতা

ইনস্ট্যান্ট-মিক্স সাম্রাজ্যীয় গণতন্ত্র (একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি)

শামীমা বিনতে রহমান | ৯ জুন ২০০৮ ৪:০০ অপরাহ্ন

ar1.jpg
নিউইয়র্কের রিভারসাইড চার্চে বক্তৃতা করছেন অরুন্ধতী রায়, ১৩/৫/২০০৩। ছবি: Sari Goodfriend

সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষ করে বর্তমানের চলতি মার্কিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বরের একজন অরুন্ধতী রায়। গড অব স্মল থিংস লেখার পর, দীর্ঘ বিরতি দিয়ে হালে আবার উপন্যাস লেখা শুরু করছেন তিনি। কিন্তু মাঝের উপন্যাস-বিরতি পর্বে চুপচাপ কলম তুলে না রেখে তিনি বরাবরই ব্যস্ত ছিলেন পরিবেশবাদী আন্দোলন, মানবাধিকার আন্দোলন এবং সবচে বেশি মার্কিনী যুদ্ধ, আগ্রাসন আর নয়া গণতন্ত্রের ফতোয়া আর তার প্রয়োগের বিরুদ্ধে। লিখেছেন যেমন, বক্তৃতাও দিয়ে গেছেন, সমান ধারে। এ লেখাটি সেরকম একটি বক্তৃতার অনুবাদ, যেটি তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির দি রিভারসাইড চার্চে দিয়েছিলেন, ২০০৩ সালের ১৩ মে। পরবর্তীতে, ২০০৫ সালে তার আরো বেশ কিছু লেখা ও বক্তৃতার সঙ্কলন হিসেবে লেখাটি অ্যান অর্ডিনারি পারসন’স গাইড টু এমপায়ার বইতে সংযুক্ত হয়। সেখান থেকেই এ লেখাটি নির্বাচন এবং অনুবাদ। বছর কয়েক পুরনো হলেও মার্কিনী সাম্রাজ্যবাদ, একে টিকিয়ে রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের চেহারা উন্মোচনে লেখাটি এ বিষয়ক আগ্রহীকে রসদ দেবে। একই সঙ্গে মার্কিনী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যক্তির অবস্থান ও অনুপ্রেরণার উচ্চারণ তার বক্তৃতার আরো একটি দিক। লেখাটির ইংরেজি নাম, ‘ Instant-Mix Imperial Democracy (Buy One, Get One Free)’।

মূল: অরুন্ধতী রায়

অনুবাদ: শামীমা বিনতে রহমান

আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার এই সময়ে যখন আমরা গতির সাথে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি, এবং যখন অল্প কয়েকজনই কেবল পারছে ফুটনোট ও রেফারেন্সসজ্জিত একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক থিসিস নিয়ে ar2.jpg
……..
অরুন্ধতী রায় (Suzanna Arundhati Roy, জন্ম. শিলং, ভারত, ২৪/১১/১৯৬১);ছবি: Sari Goodfriend
……..
পুনরাবির্ভূত হতে অথবা থিসিস নিয়ে ফিরে আসতে, কিছু সময়ের জন্য রাস্তা থেকে ঘরে ফিরে যাওয়ার বিলাসিতা দেখাতে, তখন এই রাতে কী প্রাচুর্যময় উপহার আমি দিতে পারি আপনাদের!

এক সঙ্কট থেকে আরেক সঙ্কটের মধ্যে প্রতিনিয়তই খাবি-খাচ্ছি দশা যখন আমাদের, স্যাটেলাইট টিভির মাধ্যমে সেসব যখন সরাসরি ঢুকে পড়ছে মগজের ভেতর, তখন আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় ভাবতে হবে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com