“মৃত্যু: নিঃসঙ্গ ভেড়ার চেহারা”

সুমন রহমান | ১৪ এপ্রিল ২০০৮ ১০:০৫ অপরাহ্ন

মান্দাই ক্রিমাটোরিয়ামে পৌঁছালাম সাড়ে চারটায়, দুপুরশেষের ঝা ঝা রোদের মধ্যে। বুকিত্তিমা রিজার্ভ ফরেস্টের বেশ অনেকটা ভিতরে সুনসান একটা ভবন। গাড়ি ঢুকতেই রাস্তা দুইভাগ হয়ে গেছে। একটা মড়ার গাড়ি যাওয়ার জন্য, অন্যটা দর্শনার্থীদের। আমাদের গাড়ি দর্শনার্থীদের রাস্তা ধরে আরো একটু আগাল। তারপর নেমে গেলাম।

sumon-1.jpg

ফটক পার হলেই মাঝারি সাইজের একটা ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড। সেখানে আমাদের অকালপ্রয়াত বন্ধু সাথিয়াবতী-র অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় দেয়া আছে, পাঁচটা পয়তাল্লিশ। সাতটায় আরেকটা দাহ, একটা চীনা নাম ডিসপ্লেতে। একই আগুনে!

সাথিয়া মারা গেছে গতকাল রাতে। আরো দুইদিন আগে আমরা জেনেছিলাম সাথিয়া মারা যাচ্ছে। কিন্তু সাথিয়া সেটা জেনেছিল আরো একবছর আগেই। যখন ধরা পড়ল অসুখ, তখন তার ক্যান্সার-এর ফেজ থ্রি। এক অবধারিত মৃত্যুকে বুকে চেপে তামিল সিনেমার ওপর পিএইচডি থিসিস লিখত সে, দুর্দান্ত নাচত ভরতনাট্যম, আর স্থানীয় বাসান্তম টেলিভিশনে বাচ্চাদের জন্য একটা পাপেট শো করার প্ল্যান করতাম আমরা। (সম্পূর্ণ…)

ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম-এর সঙ্গে এক সন্ধ্যা

| ১৪ এপ্রিল ২০০৮ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলম খোরশেদএহসানুল কবির

শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা উপমহাদেশেরই একজন প্রথম সারির ধ্রুপদী বংশীবাদক ওস্তাদ ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল ইসলাম-এর জন্ম (২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৫), পিতার কর্মসূত্রে রাজবাড়িতে হলেও তাঁর aziz.jpgপূর্বপুরুষের আদি বসত ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ-র স্মৃতিধন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। পেশাগত জীবনে নাবিক, ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীতের একনিষ্ঠ অনুরাগী ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম কর্মজীবনের ফাঁকে ফাঁকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শ্রবণ ও তার চর্চা অব্যাহত রাখেন। চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ওস্তাদ ইসলাম প্রথমে স্থানীয় আর্য সঙ্গীত সমিতির প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্ত ও পরে ওস্তাদ বেলায়েত আলী খান সাহেবের কাছে ধ্রুপদী সঙ্গীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সরোদিয়া ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খাঁ-র কাছেও নাড়া বেঁধে কিছুকাল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তালিম গ্রহণ করেন। তবে শাস্ত্রীয় বংশীবাদনের ক্ষেত্রে ওস্তাদ পান্নালাল ঘোষই ছিলেন তাঁর প্রথম ও প্রধান প্রেরণা। মূলত তাঁর বাজনা শুনেই তিনি ধ্রুপদী বংশীবাদনের প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে উপমহাদেশের দুই দিকপাল বংশীবাদক দেবেন্দ্র মুর্দেশ্বর ও ভি.জি. কারনাড-এর কাছ থেকে দিকনির্দেশনা লাভ করলেও ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম মূলত একজন স্বশিক্ষিত শিল্পী । ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম তাঁর ত্রিশ বছরেরও অধিক কালের বর্ণাঢ্য শিল্পীজীবনে দেশে বিদেশে বহু নামিদামি প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে বংশীবাদন পরিবেশন করেন। স্বদেশে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমী, বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘর, জাতীয় প্রেসক্লাব, ছায়ানট, বেঙ্গল ফাউণ্ডেশন ছাড়াও ভারতের কোলকাতা, দিল্লী, মুম্বাই, চেন্নাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিকবার সঙ্গীত পরিবেশনের বিরল সম্মান অর্জন করেন। তিনি দুই দুইবার চ্যানেল আই-সিটিসেল সঙ্গীত পুরস্কারে ভূষিত হন। সম্প্রতি তার পৈত্রিক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমি তাকে বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করে। ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে সমর্পিতপ্রাণ একজন আপাদমস্তক শিল্পী যিনি এখনও প্রতিদিন নিয়মিত রেওয়াজ করে থাকেন। বিশদ সংবাদ এর সম্পাদক আলম খোরশেদ ও নির্বাহী সম্পাদক এহসানুল কবির এর সঙ্গে এই অন্তরঙ্গ কথোপকথনে উঠে আসে তার সঙ্গীতজীবনের অনেক অজানা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

আলম খোরশেদ: আপনার নামের আগে দুটি পদবি বা উপাধি আমরা শুনে থাকি। একটি হচ্ছে ‘ক্যাপ্টেন’ আরেকটি ‘ওস্তাদ’। ব্যাপারটা বেশ আগ্রহোদ্দীপক এবং খানিকটা ব্যতিক্রমীও বটে। এই সূত্র ধরেই কথা শুরু করি। আপনি কীভাবে জাহাজের ক্যাপ্টেন থেকে ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম হয়ে উঠলেন?

আজিজুল ইসলাম: জাহাজের ক্যাপ্টেন, এটা তো আমার প্রফেশনাল পরিচয়। মার্চেন্ট নেভিতে এবং সব জায়গায় ক্যাপ্টেন ইসলাম নামেই আমাকে চিনে। মাসিক সরগম নামে যে পত্রিকাটা আছে, ওরা আমাকে নিয়ে জাদুঘরে একবার একটা অনুষ্ঠান করে। সেখানেই তারা ঘোষণা করে, “ ‘ক্যাপ্টেন ইসলামকে’ আমরা এখন থেকে ‘ওস্তাদ ইসলাম’ নামে ডাকব।” আমার সিডিতে কিন্তু ‘ক্যাপ্টেন’ শব্দটা নাই। সেদিন সিংগাপুরে যে-অনুষ্ঠানটা করলাম ওটাও ‘ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম’ নামেই।

আ খো: আমার জিজ্ঞাসাটা ছিল আপনি জাহাজের ক্যাপ্টেন থেকে বাঁশীর ওস্তাদ হয়ে উঠলেন কীভাবে? আপনার সংগীতজ্ঞ হয়ে ওঠার ইতিহাসটাই আসলে আমরা জানতে আগ্রহী।

আ ই: আমি সঙ্গীতের সঙ্গে জড়িত তো ছেলেবেলা থেকেই। আমার ছোট বোন বেলা, ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল, নামকরা উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী। ও ছোটবেলা থেকেই গান শিখত, আমি খুব আগ্রহভরে পাশে বসে শুনতাম। ওর হয়তো মনে নেই, আমার এখনও মনে আছে–‘ভলোবাসা মোরে ভিখারি করেছে’ এই গানটা দিয়েই ওর হাতেখড়ি হয়। তো শখটা ছেলেবেলা থেকেই ছিল। আর আমার নানা সেতার বাজাতেন। আমার মামাও গান-বাজনা করেন। নজরুল সঙ্গীত করেন উনি। (সম্পূর্ণ…)

২০০৮-এ প্রকাশিত

প্রথম বই নিয়ে লেখকদের কথা

| ১৪ এপ্রিল ২০০৮ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় লেখক-কবিদের প্রথম প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। প্রায় সব সময়ই প্রথম বই লেখক/পাঠকদের জন্য বিশেষ গুরুত্ববাহী। প্রথম বইয়ের ব্যাপারে লেখক যেমন যত্নশীল থাকেন, পাঠকও থাকেন তেমনি সহনশীল। সে কারণে প্রথম বইয়ের সঙ্গে আবেগ-উদ্দীপনার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। এবারে যাদের বই প্রথম বারের মত বের হলো এমন কয়েকজন লেখকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তাদের বই সম্পর্কে। আরো যারা এবারে প্রকাশিত নিজের প্রথম বই সম্পর্কে জানাতে চান তাদের প্রতি আর্টস-এর ঠিকানায় (arts@bdnews24.com) লেখা ও প্রচ্ছদের ছবি পাঠানোর অনুরোধ রইল।
বি. স.

অভিজিৎ দাস

ovizit-das.jpg‘নিগ্রো পরীর হাতে কামরাঙা কেমন সবুজ’। গ্রন্থের নাম শুনে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, বিশেষত বইটি নিয়ে যাদের সাথে আমার আলাপ হয়েছে। অনেকেই অবাক হয়েছেন, পরী আবার নিগ্রো হয় নাকি? তা-ও সেই পরীর হাতে কিনা আবার কামরাঙা। পরীর তো হাত থাকার কথা না! পরীদের তো ডানা আছে, যাতে ভর করে ওরা উড়ে বেড়ায় যেখানে খুশি। যাক, না হয় ধরা গেল যে ডানার আবডালে ওর দুটি ফুটফুটে ছোট হাতও রয়েছে। তবে এত কিছু থাকতে কেনই বা সেই হাতে কামরাঙা এত গাঢ় সবুজের শিহরন তুলবে! এত এত অনুন্মোচিত রহস্যের ধুম্রজালে আমি মৃদু হেসে মাথা নেড়ে সবার কথায় সায় দেই। মনে পড়ে, গ্রন্থটির প্রসবসম্ভবা সেই দিনগুলো। প্রথমবার ১৯৯৯ সালে, যখন আমার কবিতা লেখার বাল্যকাল, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম একটি কাব্যপুস্তিকা প্রকাশের। নাম রাখা হল ‘পথে হাঁটা বিকেল ও গন্তব্য’। একটি সাময়িকপত্র বিজ্ঞাপনও ছেপেছিল আমার প্রকাশিতব্য বইয়ের। সেই থেকে শুরু, সেদিনের কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা হার মেনেছিল অস্বচ্ছলতার কাছে। আজ নয় বছরের ব্যবধানে যখন আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পেল, কিন্তু গ্রন্থে সংকলিত এইসব কবিতার জন্মলিপি, বিচ্ছিন্ন অনুভূতিমালার সামষ্টিক অবয়ব ও এর গঠন, প্রকৃতির বাইরেও যে অপ্রকাশ্য আবেগ, সংবেদন, বেদনা, আনন্দ, ক্রোধ, প্রতিশোধ প্রবণতা, অক্ষমতা, নিজের রুগ্নতার আড়ালে নিজেকেই লুকিয়ে রাখা, আত্মহন্তারক হবার বাসনা–এ সবকিছুকে লিপিবদ্ধ করা যাবে সেই ভাষা কি আমার জানা আছে? যে লেখাগুলিকে গ্রন্থভুক্ত করে সাজিয়ে গুছিয়ে ‘এটি একটি কাব্যগ্রন্থ’ বলে ছুড়ে দেয়া হল পাঠকের হাতে, সেইসব পঙ্‌ক্তিমালা কি প্রস্তুত এমন করে সকলের মননে আশ্রয় নিতে কিংবা প্রত্যাখ্যাত হতে? আমার ওদেরকে নিয়ে ভয় হয়, ভীষণ। আবার যখন নিজেরই রচিত কোনো পংক্তি নিজের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়, তুমুল বাক-বিতণ্ডায় আমাকেই অস্বীকার করে, তখন এই ভেবে আশ্বস্ত হই যে, আর যাই হোক, ওরা অনাথ নয়। ওদের জন্ম-ইতিহাসে আছে, কারো সঙ্গে না হোক, অন্ততঃ আমার সম্মুখে তো কথা বলে ওঠে ওরা। এও কি কম সান্ত্বনার! শৈশবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েছিলাম ‘মোরগের লড়াই’য়ে। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে ধাক্কাধাক্কিতে পেরে না উঠে হেরে গিয়েও সান্ত্বনা পুরস্কার হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম। সেই থেকে আমি আর কোনো প্রতিযোগিতার খাতায় নাম লেখাইনি, ঐ সান্ত্বনা পুরস্কারের দিকে তাকিয়ে থেকেই শান্তি অনুভবের পদ্ধতি আয়ত্ত করে ফেলেছি। কবিতা আমার জন্য এমন একটি সান্ত্বনা পুরস্কার হয়ে চেতনার শূন্য পৃষ্ঠাকে ভরাট করে চলুক, চিরকাল। আর নিগ্রো পরীর হাতেও জ্বলে উঠুক সবুজ কামরাঙা।

নিগ্রো পরীর হাতে কামরাঙা কেমন সবুজ / শিল্পরূপ / প্রচ্ছদ: শাওন আকন্দ / ৬৪ পৃষ্ঠা / ৭৫ টাকা

মাসুম মোকাররম

masum-mokaram.jpgজীব-জগতের সকল প্রাণী কোনো না কোনো শস্যদানা খেয়ে জীবনকে ধারণ করে। তার মধ্যে শুধুমাত্র মানুষ খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি তার চারপাশের নানান অভিজ্ঞতা অনুভব নিয়ে বেঁচে থাকে। এবং এ সমস্ত ধুয়া-ধুলো-ঘাম-কাম-ক্লেদ-রিরংসা-আনন্দ সবই মানুষকে শিহরিত করে। আমি আমার কাব্যগ্রন্থ শিহরিত শস্যদানায় সম-সাময়িক বিশ্বের অস্থির রাজনৈতিক অবস্থা, আধিপত্যবাদ, বিশ্বায়ন, ইয়াঙ্কি হুমকী এবং ব্যক্তিগত অনুভবের কথা বলতে চেয়েছি।

এটি আমার প্রথম গ্রন্থ। আমার সময়ের কবিদের প্রায় সবারই গ্রন্থ হয়ে গিয়েছে অনেক আগে। সেদিক থেকে আমার গ্রন্থ প্রকাশ বেশ পরেই হলো। প্রথম গ্রন্থ প্রকাশ আমার কাছে এক মিশ্র অনুভুতির জন্ম দিয়েছে। বইটি কেমন হবে, পাঠক বন্ধুরা কেমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে এ নিয়ে দ্বিধা তো ছিলোই। আরো সমস্যা হয়েছিলো কবিতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে। যাই হোক, তারপর বই বেরিয়ে গেলো। কিন্তু বইটির ছাপাশৈলী যতটা নান্দনিক হবে বলে মনে করেছিলাম তা হলো না। ফলে স্বপ্নভাভার বেদনাও সহ্য করতে হলো।

শিহরিত শস্যদানা / পাঠসূত্র / প্রচ্ছদ: শাহীনুর রহমান / ৬৪ পৃষ্ঠা / ৮০ টাকা /
(সম্পূর্ণ…)

লোকনাট্য-গান সংগ্রহ ও উৎসব-নৃত্য প্রত্যক্ষণ

প্রণমহি বঙ্গমাতার ফিল্ডওয়ার্ক পদ্ধতি

সাইমন জাকারিয়া | ১৪ এপ্রিল ২০০৮ ১০:০০ পূর্বাহ্ন

আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে প্রথম আলো সাহিত্য সাময়িকীর পাতায় কবি সাজ্জাদ শরিফ pronomohi-4rth_covar.jpg
……
প্রণমহি বঙ্গমাতা (চতুর্থ পর্ব) ।। মাওলা ব্রাদার্স ।। ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ।। পৃষ্ঠা ১৬০ ।। ২০০ টাকা ।। প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরী ।।
……
ও ব্রাত্য রাইসুর প্রশ্রয়ে একটি নিয়মিত কিন্তু অনিয়মিত কলাম হিসেবে প্রণমহি বঙ্গমাতা লিখতে শুরু করি। তারও প্রায় পাঁচ বছর আগে থেকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্যধারার স্বরূপ অনুসন্ধানে গ্রামে গ্রামে ঘুরছিলাম। এই ঘুরাঘুরির মধ্যে বিশেষত এদেশের বহুবিধ উৎসব-নৃত্য, লোকনাট্য-গান প্রত্যক্ষণ এবং সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যসংগ্রহের ভেতর দিয়ে নিজস্ব একটি ফিল্ডওয়ার্ক পদ্ধতি অনুসরণ করতে থাকি। উল্লেখ্য, নিজস্ব সেই পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে পত্রিকার কলামের পাশাপাশি প্রণমহি বঙ্গমাতার চারটি খণ্ড গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এখানে পাঠকদের জন্য প্রণমহি বঙ্গমাতার ফিল্ডওয়ার্ক পদ্ধতিটি ব্যক্ত করছি।

●●●


“বুদ্ধি আছে কিন্তু সাধনা নেই, এইটেই আমাদের দেশে সাধারণতঃ দেখতে পাই,
অধিকাংশ স্থলেই আমরা কম শিক্ষায় বেশী মার্কা পাবার অভিলাষী।”

–‘হরপ্রসাদ শাস্ত্রী’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হরপ্রসাদ-সংবর্দ্ধন-লেখমালা (দ্বিতীয় খণ্ড),
শ্রীনরেন্দ্রনাথ লাহা ও শ্রীসুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (সম্পাদিত), কলিকাতা : বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষদ, ১৩৩৯

আজ থেকে প্রায় পৌনে একশত বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বলা কথাটা বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চার ক্ষেত্রে খুব বেশি করে খাটে। ব্যক্তিগতভাবে 15.jpg
সিলেটের ধারাবহরে অজামিলচন্দ্রনাথ ও সুকৃতি দেবনাথের বিয়েতে ধামাইল গান ও নাচ শেষে শিল্পীদের কাছে নিয়ম-কানুন বুঝে নিচ্ছেন লেখক। ছবি: মাহবুবুর রহমান, ২১/১০/৭

প্রায় চৌদ্দ বছর ধরে নিতান্ত প্রেমের টানে ফোকলোর বিষয়ক ফিল্ডওয়ার্কে নেমে উপলব্ধি করেছি–আসলেই এ দেশে ফোকলোর চর্চায় ফিল্ডওয়ার্ক- কর্মীদের মাঝে নিষ্ঠা ও সাধনার যোগ খুব কম। (সম্পূর্ণ…)

চেমা খালে

তানিয়া বুলবুল কিটি | ১৪ এপ্রিল ২০০৮ ৯:৪২ পূর্বাহ্ন

mroder-ghor.jpg
চেমাখালে ম্রোদের বাসা

তলপেটে নিম্নচাপের প্রবল বেগ। ত্যাগের তিতিক্ষায় দৃষ্টিগোচর হয় না অনেক কিছুই। ফ্লাস টেনেছি কিনা মনে নাই। দেখা হল তক্ষকের সাথে। শুধু তাই নয়, আয়নার পিছনে মুখ বের করে থাকা ব্যাঙটির ভীতার্ত চোখে আটকে যায় চোখ। নিজের চেহারা আয়নায় দেখতে পাই না। ছোটবেলায় গল্পে গল্পে শুনেছিলাম মৃত ব্যক্তিদের অবয়ব আয়না ধরতে পারে না।

বান্দরবান শহরের মিলনছড়ি রিসোর্টটি বেসরকারি। এখানে এই রকম nouka-o-golui.jpg…….
শঙ্খ নদীতে, নৌকার গলুই
…….
উদ্যোগ এটিই প্রথম। পরিবেশের সাথে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রায় পনেরো একর জায়গা জুড়ে বিচ্ছিন্ন কিছু কটেজ করেছেন তারা। আমি এরকম একটি কটেজ “মারমা”র দুই দিনের অতিথি। সকালে নাস্তার টেবিলে কেওক্রাডং অভিমুখী একটি দলের সাথে দেখা হল। (সম্পূর্ণ…)

কবিতা, মানবজাতির মাতৃভাষা

মাসুদ খান | ১৩ এপ্রিল ২০০৮ ৪:৫৯ অপরাহ্ন

কারো মাতৃভাষা বাংলা, কারো চাকমা, কারো-বা ফারসি, ফরাসি, আরবি, ইংরেজি, চৈনিক, হিন্দি, হিস্পানি, জাপানি…। পৃথিবীতে কত জাতি, কত জনগোষ্ঠী, আর তাদের ভাষা, তাদের বুলি কত বিভিন্ন ও বিচিত্র! কিন্তু অনুভূতির মৌলিক ভাষা তো এক, অভিন্ন। সেই বিমূর্ত অনুভূতির সৎ ও মূর্ত প্রকাশই কবিতা। কবিতাকে তাই বলা হয়ে থাকে সমগ্র মানবজাতির মাতৃভাষা। মাতৃভাষা আমাদের যা-যা দেয়, যা-কিছু জোগায় — সৌন্দর্য, মাধুর্য, সহজতা, চিদানন্দ, জৈবটান, মাধ্যাকর্ষণ, জৈবানুভূতি, শুশ্রূষা, উপশম, স্তন্যদুগ্ধ, মোক্ষণশান্তি, প্রেরণা, এষণা, সাহস, শক্তি, উদ্দীপন, অক্সিজেন, করণ, বাহন, মাধ্যম…, তার অনেক কিছুই আমরা পাই কবিতার কাছ থেকে।

জন্মসূত্র, নাভিচিহ্ন
এক অর্থে কবিতার জন্ম ভাষারও জন্মের আগে। সেই অর্থে কবিতা মানুষের সমান বয়সী। বলা হয়, শ্রমই আদি মানুষকে ক্রমে ক্রমে মানুষ বানিয়েছে। পরিশ্রম করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের ঝোঁক বা ঘাতের সঙ্গে উচ্চারিত হয় কিছু ধ্বনি। সেই ধ্বনিগুচ্ছ যখন উচ্চারিত হয় নির্দিষ্ট পর্যায়বিরতিতে, তখন তৈরি হয় এক ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনির মালা। দেখা গেল, ছন্দোস্পন্দিত সেই ধ্বনিমাল্যের মাজেজা এমনই যে, তা মানুষকে দোলা দিতে পারে, করতে পারে উদ্দীপিত।

যৌথশ্রমের সময় প্রয়োজন হয় ঐক্য ও একাত্মতার, দরকার হয় উদ্দীপকের। সেই উদ্দীপকের কাজ করতে থাকল ওই ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনিপুঞ্জের সাম্য, প্রতিসাম্য ও পর্যায়বিরতি। যেখানেই যে-কাজেই আদিম মানুষের প্রয়োজন হতো যৌথশ্রমের, যৌথশক্তির, সেখানেই সেই ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনির মালা — উদ্যম ও উদ্দীপনার জন্য, ঐক্য ও একাত্মতার জন্য, স্পিরিট ও ইমপালসের জন্য। ওই ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনির মালাই কবিতার আদি রূপ, বীজাকার। কবিতার প্রোটোটাইপ।

কবিতা, ধ্বনির মালা থেকে নান্দনিক শব্দ-আলপনা
কালে কালে জনগোষ্ঠীতে ধ্বনির সমন্বয়ে গড়ন পেয়েছে শব্দ, শব্দসমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ভাষা। হাজার হাজার বছর ধরে চলেছে এই প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া যৌথের, সমাজের। ভাষা তাই যৌথের সম্পদ। (সম্পূর্ণ…)

লাল ব্যাসার্ধ্ব

শামীমা বিনতে রহমান | ১০ এপ্রিল ২০০৮ ১:৩৭ পূর্বাহ্ন

তখন ট্রান্সপোর্টের পাশের লেকের ধারের সিঁড়িতে বসে উমা বলেছিল, “আমরা কখনো বিয়ে করবো না। মানে ‘বিবাহ’ করবো না। বুঝলি?” উমার কথা শুনতে শুনতে আমি সিঁড়ির তল থেকে চুঁয়াতে থাকা পানির মধ্যকার গোল গোল গোলকগুলাকে গুনতেছিলাম। এর আগে সে ‘আমরা পরাজয় মানবো না/দুর্বলতায় বাঁচতে শুধু জানবো না’ গাচ্ছিল; এর মধ্যে বলে কিনা জীবনে বিবাহ করবে না! আমার জলের গোলক গোনার মধ্যে গোলমাল লেগে গেল, বলালম, ‘মানে?’

‘মানে বিয়ে হইলো এক জাতীয় বন্ধন, এক পুরুষের সাথে–সারাজীবন! চিন্তা কর, কী দুর্বিষহ?’

আমি চিন্তা করতে থাকলাম আর ভাবতে থাকলাম, এই জীবনে কারও সঙ্গেই তো আমার সম্পর্ক বেশি দিন আগায় নাই। মানে ভাল্লাগে নাই। তাই যোগাযোগ রাখি নাই। আমার কলেজ ফ্রেন্ডরা আমার ওপর খুব বিরক্ত এই একটা কারণে। উমার কথা শুনে আমার ঠোঁট পানির গোলক গোনা বন্ধ করেছিল যেই পজিশনে, সেই পজিশন থেকে ঠোঁট ফুটে একটাই শব্দ বের হোল, ‘তাই তো!’ উমা বলতে থাকলো, ‘তাই-তো মানে তাইতো-ই, ওইটা একটা বন্দিখানা। তুই কি চাস তোর লাইফটা জেলখানায় বন্দি হইয়া থাক, আর আরেকজন চাবি হাতে লইয়া নাকের সামনে ঘুর ঘুর করবো? মানে, ওই ঘর ছাড়া পৃথিবীর সব খানে স্বাধীনতার বাতাস ঘুরাঘুরি করবো, আর তুমি ওই ঘরে বইসা ঝিমাইবা আর আফসোস করবা! বুঝছিস এবার।’

আমার মাথায় খাট করে আরেক চিন্তা জেগে উঠলো। ‘শোন ছেলারা তো সেক্স করে যখন, মেয়েরা তো তখন নিচে শুয়ে থাকে, এটাও তো একটা প্রবলেম।’

‘অনেক প্রবলেম, সেক্স, সেক্সের বাইরে সবখানে।’

আমরা এরপর ক্যাম্পাসের নানা অলি-গলি ঘুরে, নানা রকম আড্ডা দিতে দিতে লোপামুদ্রা আর মৌসুমী ভৌমিক গাইতে গাইতে রাত ১১টায় হলে ফিরলাম। হলের গেইটে খানিকটা কড়াকড়ি ফেইস করতে গিয়ে প্রথমে হাসি দিয়ে শুরু করে পরে কঠিন কঠিন সংলাপ উচ্চারণে জবাব শেষ করলাম। হাউজ টিউটর কবিতা ম্যাডামের চোখ ছানাবড়া করে ফেলেছিলাম। হলের ভেতর ঢুকে শুনি কবিতা ম্যাডাম সবাইকেই এক কথা বলেছেন, ‘এ্যাতো রাতে তোমরা কোথায় ছিলা জানি না? ইউনিভার্সিটি স্কুলের পেছনের পেয়ারা বাগানে বসে ছিলা। আমি সন্ধ্যার সময় ইনকোয়ারি করছি, সব জাহানারা ইমাম হলের ফাস্ট ইয়ার/সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে বইসা আছো ছেলেদের হাত ধইরা।’ (সম্পূর্ণ…)

পাঠ: বেদের মেয়ে জোস্‌না

ফরহাদ মজহার | ৯ এপ্রিল ২০০৮ ৪:৩৭ অপরাহ্ন

05.jpg
বেদের মেয়ে জোস্‌না ছবির দৃশ্য

প্রয়াত তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত বেদের মেয়ে জোস্‌না ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৯ সালে। মুক্তি পাওয়ার পরই ছবিটি দর্শকদের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগায়। ছবি সম্পর্কে তখন ভদ্রমহল থেকে রুচিবিকারের অভিযোগ ওঠে। কবি ফরহাদ মজহার তাঁর সম্পাদিত অনিয়মিত পত্রিকা প্রতিপক্ষে পরের বছর ছবিটির পক্ষে একটি দীর্ঘ লেখা প্রকাশ করেন। লেখার শিরোনাম ছিল ‘বেদের মেয়ে জোস্‌না: ছবিটি কেন এত দর্শক টেনেছে?’ লেখায় তিনি ছবিটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ খণ্ডন করেন। প্রতিপক্ষের সৌজন্যে সে লেখাটি আর্টস-এ প্রকাশিত হলো।

প্রসঙ্গ প্রবেশের আগে : জোস্‌না কেমন ফুটেছে!
বেদের মেয়ে জোস্‌না ছবিটি প্রথমে মফস্বলে মুক্তি পেয়েছিল। ছবিটি মেলা দর্শক টানছে এই খবর যখন কাগজে দেখেছি তখনই নামটা খেয়াল করি। বেদের মেয়ের নাম ‘জ্যোৎস্না’ নয়–জোস্‌না’–এটা লক্ষ্য করে মজা পেয়েছিলাম। ‘জ্যোৎস্না’ শব্দের অপভ্রংশ এক্ষেত্রে খণ্ড-ত (ৎ) ত্যাগ করে সহজ ও লৌকিক উচ্চারণের পথ ধরেছে। মূল শব্দে খণ্ড-ত (ৎ) ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। শব্দের প্রাচীনতা, বিশুদ্ধতা ও সংস্কৃত ব্যুৎপত্তির গর্ভ বা স্বকীয়তা এই খণ্ড-ত-য়ের মধ্যে ধৃত। লৌকিক উচ্চারণে তার লোপ একটা গ্রামীণ দ্যোতনার সৃষ্টি করে, ফলে নামের মধ্যে একটা কৃষক বালিকার মুখচ্ছবি তড়পায়। জ্যোৎস্না শব্দের আভিধানিক মানে ইন্দুদ্যুতি বা চাঁদের কিরণ, এটা অবশ্য যে কেউই জানেন। কিন্তু তিনি যে ব্রহ্মার শরীর থেকে উৎপন্ন এবং গন্ধর্বগণের পত্নী এটা সবার জানার কথা নয়। খণ্ড-ত(ৎ) চ্যুতির আগৌরব ‘জোস্‌না’কে এই সকল শরীফ কিংবদন্তির ওজন থেকে হালকা করেছে। ফলে বেদের মেয়ে হতে তার বাধা হয়নি। শব্দের বৃত্তান্ত খুঁজে এসব বের করা অনর্থক নয়, কারণ ওর সূত্র ধরে এগুলোয় এমন সব চিহ্ন আবিষ্কার করা সম্ভব, যা ছবিটির বিচার করতে আমাদের কাজে লাগে, ওতে সামাজিক অবচেতনার নানান ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার হদিস মেলে, যার সম্পর্কে আমাদের পোশাকি সচেতনতা হামেশাই বেখেয়াল। যেমন, খুব গভীরে না গিয়েও জ্যোৎস্না নামের অপভ্রংশিত রূপান্তরের সরাসরি তাৎপর্যটা অন্তত খেয়াল করা যায়।

যে ‘জোস্‌না’ একেবারেই একটি গ্রাম্য সাধারণ, সহজ এবং স্বতঃস্ফূর্ত–যার কোনো আভিজাত্যমূলক অতীত নেই, উৎপত্তি নেই কিংবা উৎস নেই।

tojammel-h-b1.jpg…….
তোজাম্মেল হক বকুল
……..
ফলে বেদের মেয়ে জোস্‌নানামটা আমার ভালো লেগেছিল। আমি আরো মজা পেয়েছি এই ভেবে যে, জ্যোৎস্নার পরিচিত ভ্রংশ রূপটা এখানে ব্যবহৃত হয়নি। অর্থাৎ নামটা ‘জোছনা’ হয়নি। যেমনটি আছে রবিবাবুর গানে: যথা, ‘জোছনা কেমন ফুটেছে’ ইত্যাদি। পদ্যমূলক বাবু সংস্কৃতির পথে ‘জোস্‌না’ যে যায়নি তাতে আমি খুশি। কারণ তাহলে সর্দিলাগা গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া কোনো এক উন্নাসিক মধ্যবিত্তের বিবাহযোগ্য কন্যার কথা মনে পড়ে যেত। তখন রবীন্দ্র সঙ্গীতের ব্রাহ্ম গাম্ভীর্য থেকে জোস্‌নাকে কিছুতেই উদ্ধার করা যেত না। (সম্পূর্ণ…)

শহিদ কবীরের একক চিত্রপ্রদর্শনী, ২০০৮

| ৯ এপ্রিল ২০০৮ ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

01-love-small-2.jpg…….
ভালোবাসা, বোর্ডে এগ টেম্পারা, ৪৬ x ৯২ সেমি
…….
ধানমণ্ডির গ্যালারী চিত্রক-এ (রাস্তা ৪, বাড়ি ২১) ২৯ মার্চ ২০০৮ থেকে শুরু হয়েছে শিল্পী শহিদ কবীরের একক চিত্রপ্রদর্শনী। এটি শিল্পীর ১২তম একক প্রদর্শনী। এর আগে দেশে ২০০১ সালে গ্যালারী চিত্রকেই তার একক প্রদর্শনী হয়েছিল। এবারের প্রদর্শনীর উদ্ধোধন করেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্থপতি সামসুল ওয়ারেস। প্রদর্শনীর কোনো নাম দেননি শিল্পী। জানালেন নাম দিতে ইচ্ছে করে নাই তাই তিনি নাম দেন নাই। তবে যদি একান্তই নাম দিতে হতো তাহলে দিতেন ‌’‌ও আমার দেশের মাটি’।

প্রদর্শিত ছবি থেকে
ছবি বড় সাইজে দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।

শহিদ কবীরের জন্ম ১৯৪৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে শিল্পশিক্ষা শেষে ওই একই প্রতিষ্ঠানে ১৯৬৯ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে স্পেনের মাদ্রিদে ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট

sk3.jpg
বিশেষ ভঙ্গিতে শহিদ কবীর

হিসেবে কাজ শুরু করেন। তারপর থেকে সেখানেই আছেন । বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন ছাড়াও ১৯৮৪ সালে স্পেনের মাদ্রিদ থেকে carmen arozamena পুরস্কার পান। বিভিন্ন দেশে তাঁর ছবির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত তিনি টেম্পারা মাধ্যমে কাজ করেন। (সম্পূর্ণ…)

সাংস্কৃতিক পরিবেশন, অধিপতি মধ্যবিত্তের আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন এবং ‘অন্য’ নিম্নবিত্তের ‘নির্মাণ’

নাদিমূল হক মণ্ডল | ৮ এপ্রিল ২০০৮ ১:৩০ পূর্বাহ্ন

আপনি সামনের দিকে তাকিয়ে দেখুন। দাঁড়কাকেরা পাতিকাকদের কিভাবে মেরে তাড়িয়ে দিচ্ছে’। ‘আমি তাকিয়ে দেখলাম, আট দশটা দাঁড়কাক একজোট হয়ে যেখানেই পাতিকাক দেখছে খেদিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার পরদিন থেকে দেখতে থাকলাম দাঁড়কাকেরা দলবেঁধে জঙ্গিবিমানের মতো বেগে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেখানেই পাতিকাক দেখছে হামলা করছে। কাকের জগতেও হিংস্রতা ও মাস্তানি প্রবেশ করেছে। একসময় হয়ত এমনও হতে পারে দাঁড়কাকেরা এই শহর থেকে পাতিকাকদের তাড়িয়ে দেবে।

(পুষ্প বৃক্ষ বিহঙ্গ পুরাণ, আহমদ ছফা, ১৯৯৬)

আমি মধ্যবিত্ত; জন্ম, অর্জন দু সূত্রেই এবং ‘শিক্ষিত’। পরিবার থেকে চেনানো জীবনপরিজন ও জ্ঞাতিদের প্রবল অংশই মধ্যবিত্ত, ‘শিক্ষিত’। বিষয় এ নয় যে নিম্নবিত্ত, ‘অশিক্ষিত’ আত্মীয় নেই। যা বিষয় তা হলো : বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিম্নবিত্ত, ‘অশিক্ষিত’দের নয় বরং আগ্রহ নিয়ে চেনানো হয়েছে ‘শিক্ষিত’ মধ্যবিত্তদের, মিশতেও উৎসাহিত করা হয়েছে এদের সাথেই। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা, এ শ্রেণীর অধিপতির ভূমিকা টের পেতে সাহায্য করেছে নানানভাবে, নানান সময়, বিভিন্ন ঘটনায়।

সে থেকেই নিজের মধ্যেই জিজ্ঞাসার দানা বাঁধা। আমি কি সেই দাঁড়কাকরূপী মধ্যবিত্ত, যে কিনা পাতিকাকরূপী নিম্নবিত্তের উপর অধিপতি? মধ্যবিত্তের অধিপতি ভূমিকা নিজের কাছে মানতে না পারা অস্বস্তিকর, সে কারণেই এ শ্রেণীর (ক্ষমতা) অনুশীলনের উন্মোচন গুরুত্বপূণ–বিদ্যাজাগতিক ও রাজনৈতিক উভয় বিবেচনাতেই। উত্তর আধুনিক জ্ঞানচর্চার বৈশিষ্ট্য, জ্ঞানকে রাজনীতি হতে বিযুক্ত করে না দেখা বরং জ্ঞান কীভাবে ক্ষমতার সাথে যুক্ত তার তালাশ করা, আমাকে প্রভাবিত করে। নিজ শ্রেণীর অধিপতি ভূমিকা উল্টে পাল্টে দেখবার চেষ্টা এসব কিছুরই ফলাফল। (সম্পূর্ণ…)

জার্নাল: মার্চের অন্তিম, ২০০৮

আলতাফ হোসেন | ২ এপ্রিল ২০০৮ ২:১৪ পূর্বাহ্ন

শহীদুল জহির
বই দিয়েছিলেন সেই আশির দশকের প্রথম দিকে: জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। ভদ্রলোকের সঙ্গে ভদ্রতা করে নিয়েছি। মুখে বলেছি, ধন্যবাদ। তখন তিনি, শহীদুল জহির, আমাদের প্রতিবেশী। বেইলি রোডের সরকারি দু-কক্ষের কোয়ার্টার্সে। আমরা থাকতাম তিনতলায়, চারতলায় থাকতেন তিনি একা। চারতলায় আগে থাকতেন হুমায়ুন কবির, শহীদুল জহিরের ব্যাচমেট ও বন্ধু। আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল হুমায়ুনের সঙ্গে। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে হুমায়ুনের মতো ভদ্রলোক কম দেখেছি, ভদ্রমানুষ দ্বিতীয় দেখলাম শহীদুল হক (জহির)-এর মধ্যে। শহীদের সঙ্গে কথা বলেও খুব ভালো লাগত, তবে বুঝেছিলাম, একটু লাজুক তিনি। নিজের সম্পর্কে কথা বলতেন না বলে সাহিত্যের ব্যাপারে তিনি কতখানি আগ্রহী বুঝতে পারিনি তখন। সে কারণেই নিশ্চয়, বইটি হাতে নিয়ে বাসায় ফিরে রেখে দিয়েছি কোথাও, পড়া হয়নি। তারপর তো কত বই হারালো, কত বই হারালো। এখন জানি, সেটাও অদৃশ্য হয়ে গেছে। তবে দুটো বই তাঁর ভালোভাবেই আছে: ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প, আর মুখের দিকে দেখি। যে বছর ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প বেরল সে বছর বাংলা একাডেমী বইমেলায় আমি, শহীদুল জহির, ব্রাত্য রাইসু, রাকা আমরা একসঙ্গে কিছুক্ষণ হেঁটেছিলাম; সেসময় রাইসু শহীদকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ডুমুরখেকো একসঙ্গে হওয়া উচিত ছিল না? আমারও চোখে পড়ল ব্যাপারটি। ‘ডুমুরখেকো’ ছাপা হয়েছিল ‘ডুমুর খেকো’। কী করবেন তিনি, প্রকাশকেরই অনবধানবশত হয়েছে নিশ্চয়। আমাকে দিলেন তিনি বইখানি। বাসায় এনে রেখে দিলাম যথারীতি। তারপর পড়া হলো অনেকদিনে। কিন্তু তাঁকে আর জানানো হয়নি বইটি সম্পর্কে মতামত। এখন তো মনে হচ্ছে কীরকম এক আত্মকেন্দ্রিকতা আমার সেদিন ছিল যে তাঁর বই হাতে নিয়ে খুশি হয়েছিলাম কারণ তিনি বলেছিলেন, আমার কবিতা তাঁর ভালো লাগে! প্রসঙ্গত, তখন, অথবা পরে একবার বলেছিলেন আমার দুটো কবিতার অনুবাদ করেছেন তিনি, ডেইলি স্টারে নাকি ছাপা হয়েছে। (কেউ যদি দেখে থাকেন সে লেখা তবে প্রকাশের আনুমানিক সময় জানালে আমি চেষ্টা করব খুঁজে পেতে)। কৌতূহল হয়েছিল দেখার। কিন্তু এত নিভৃতস্বভাবী, লাজুক তিনি তাঁকে এ নিয়ে আর বিরক্ত করিনি। তবে তাঁর বইগুলো পড়তেই হবে ভেবেছিলাম। বিয়ে করেননি, বন্ধুবান্ধব নেই, ধারণা হচ্ছিল সাহিত্যই নিশ্চয় তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্যে সঙ্গীতের ছোঁয়া: দ্য কালার অফ ওয়াটার

আফিফা আনোয়ার খানাম | ১ এপ্রিল ২০০৮ ১০:৫২ অপরাহ্ন

color.jpg জেমস ম্যাকব্রাইড তার দ্য কালার অফ ওয়াটার মেমোয়ার গ্রন্থটিকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করেছেন অনেকগুলো দিক থেকে। লেখক তার মেমোয়ারে দুটো ভয়েস ব্যবহার করেছেন। তার জীবনকাহিনী পাঠক শুধু তার কাছ থেকেই শোনেনি, শুনেছে তার মা রুথি ম্যাকব্রাইড জরডানের কাছ থেকেও। জেমস তার লেখায় শুধুমাত্র একজন ভালো মেমোয়ারিস্ট-এর কলাকৌশলই ব্যবহার করেননি, বর্ণবাদের অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পাবার জন্য তিনি ওরাল হিস্টোরিয়ান-এর মতোও কাজ করেছেন।

দ্য কালার অফ ওয়াটার একটি পরিবারের নিজস্ব সত্ত্বার অনুসন্ধানও বটে। ম্যাকব্রাইড অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বর্ণনা করেছেন একজন কালো মানুষ দাবি করা সাদা মায়ের সন্তান হিসেবে তার জীবনযাত্রা ও সেই মায়ের বারোটি সন্তান কী কী অভিঘাতের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে কালো অধ্যুষিত এলাকায়।

mcbrideandmother.jpg……
জেমস ম্যাকব্রাইড ও তার মা
…….
জেমস ম্যাকব্রাইড নিউ ইয়র্কের ব্রুকলীন এলাকায় কালোদের জন্যে নির্মিত প্রজেক্ট হাউজে বারো জন ভাইবোনের মধ্যে মানুষ হয়েছেন। তার বাবা ছিলেন একজন কালো চার্চ মিনিস্টার ও সাদা রেসের মা যিনি কিছুতেই নিজেকে সাদা হিসেবে স্বীকার করতেন না। কালো এলাকায় জেমস সব সময় তার মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। কিন্তু মা তা উপেক্ষা করে নিজেকে নিরন্তর কালো হিসেবে দাবি করেছেন আর তার সবগুলো সন্তানের কলেজ গ্র্যাজুয়েশনের স্বপ্ন দেখেছেন। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com