হুমায়ুন আজাদ-এর সঙ্গে আলাপ (১৯৯৫)

| ২৮ এপ্রিল ২০০৮ ১০:১০ অপরাহ্ন

[১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকার হুমায়ুন আজাদের নারী বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তার কিছুদিন পরে এ সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়। এটি দু পর্বে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার তখনকার সময়ের বিশেষ পাতা ‘সাক্ষাৎকার’-এ ছাপা হয়েছিল। হুমায়ুন আজাদ আরো পরে তাঁর দেয়া সাক্ষাৎকারের একটি সঙ্কলন আততায়ীদের সঙ্গে কথপোকথন প্রকাশ করেন, সেখানে প্রায় সব সাক্ষাৎকার সংযোজিত হলেও এটি তিনি সঙ্কলিত করেন নি। সাক্ষাৎকারে নিষিদ্ধ ঘোষিত বই নারী, তসলিমা নাসরিন, এরশাদ, আল মাহমুদ, সচিব, মন্ত্রী, রবীন্দ্রনাথ, প্রবচন ইত্যাদি বিবিধ প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন হুমায়ুন আজাদ। উল্লেখ্য ২০০০ সালে হাইকোর্টের রায়ে নারী বইয়ের নিষেধাজ্ঞা বাতিল ঘোষিত হয়। আজাদ সাক্ষাৎকারে আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে বলেছিলেন, “এই বই আছে এবং থাকবে, বরং যারা নিষিদ্ধ করেছে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, বাতিল হয়ে যাবে, নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।”

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গুপ্তঘাতকদের আক্রমণে মারাত্মক ভাবে আহত হন হুমায়ুন আজাদ। আরোগ্য লাভের পর একই বছরের আগস্ট মাসে জার্মান রোমান্টিক কবি হাইনরিখ হাইনের ওপর গবেষণা কাজে জার্মান যাত্রা করেন। সেখানে ১১ আগস্ট মিউনিখ শহরে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে আকস্মিক ভাবে মারা যান তিনি। অকালপ্রয়াত হুমায়ুন আজাদের একষট্টিতম জন্মদিন মনে রেখে দুর্লভ এ সাক্ষাৎকারটি পুনর্মুদ্রণ করা হলো।
— বি. স.]

humayun_azad.jpg
হুমায়ুন আজাদ (২৮/৪/১৯৪৭-১১/৮/২০০৪)

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: রাজু আলাউদ্দিনব্রাত্য রাইসু

ব্রাত্য রাইসু: আপনার নারী নিষিদ্ধ হয়েছে। এই মুহূর্তে আপনি কী ভাবছেন?

হুমায়ুন আজাদ: হ্যাঁ, বেশ অদ্ভুত হচ্ছে। তবে আমি বইটি নিষিদ্ধ হয়ে গেছে এটি মনে করছি না, বা মনেও হচ্ছে না।

রাইসু: প্রসিদ্ধ হলো বরং?

হুমায়ুন: প্রসিদ্ধ এটি আগেই ছিলো। আমার মনে হচ্ছে যে এই বই আছে এবং থাকবে, বরং যারা নিষিদ্ধ করেছে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, বাতিল হয়ে যাবে, নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। এ-বইকে কারো পক্ষে নিষিদ্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো বইকে নিষিদ্ধ করে রাখা যায় নি। (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ যখন আমি…(কিস্তি ১)

চঞ্চল আশরাফ | ২৮ এপ্রিল ২০০৮ ২:১১ অপরাহ্ন

hacolor.jpg
হুমায়ুন আজাদ

১৯৯০ সালের খুব সম্ভবত এপ্রিলে, মাঝামাঝি কোনও এক দিনে হুমায়ুন আজাদের সামনে নিজের কবিতা নিয়ে হাজির হওয়ার প্রথম সুযোগটি পাই। অনুষ্ঠানটি হয়েছিল টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার দক্ষিণপাশে, রোদ-ঝলমল বিকালে, বেশ অনাড়ম্বরভাবে। উদ্যোক্তা ছিল মঙ্গলসন্ধ্যা। মিহির মুসাকী, সরকার আমিন, লিয়াকত জুয়েল কবিতা পড়েছিলেন। সবার শেষে আমার পালা এলে আমি সে-সময়ের লেখা নিজের সবচেয়ে ভালো কবিতাটি পড়ি। পড়ার সময় থেকে বুকে যে কাঁপুনি শুরু হয়েছিল, তা অনুষ্ঠান শেষ-হওয়া পর্যন্ত ছিল। সবার কবিতা পড়া শেষ হলে হুমায়ুন আজাদ সে-সব নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। কার কবিতা নিয়ে কী বলছেন সেদিকে আমার খেয়াল নেই। থাকার কথাও নয়। কারণ, (অন্যরা গোল্লায় যাক) আমার কবিতা নিয়ে তিনি কী বলেন, সেই ভাবনায় আচ্ছন্ন ছিলাম তখন। কিন্তু কিছুই বললেন না। শুধু সামান্য তাচ্ছিল্যের হাসি মিশিয়ে আমাকে দেখিয়ে বললেন, ‘ওকে আল মাহমুদের ছেলে বলেই মনে হয়। এ্যাই, তুমি তার ছেলে না-কি!’
—————————————————————–
আমার কবিতা নিয়ে তিনি কী বলেন, সেই ভাবনায় আচ্ছন্ন ছিলাম তখন। কিন্তু কিছুই বললেন না। শুধু সামান্য তাচ্ছিল্যের হাসি মিশিয়ে আমাকে দেখিয়ে বললেন, ‘ওকে আল মাহমুদের ছেলে বলেই মনে হয়। এ্যাই, তুমি তার ছেলে না-কি!’
—————————————————————–
উল্লেখ বাহুল্য নয়, ১৯৯২ সালে আন্ওয়ার আহমদের বাসায় আল মাহমুদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই আমি তা বলি এবং তিনি আমাকে নিজের পুত্র বলে ঘোষণা দেন। শুনে আন্ওয়ার ভাই হেসে ওঠেন। আমি বলি যে ব্যাপারটা নিয়ে গর্ব করা যেত যদি আমি কবিতা না-লিখতাম; যদি বাপের পরিচয়ে আমার চলতে হতো। আর, আমার জন্মদাতা বেঁচে আছেন। যা-ই হোক, সাহিত্যিক হিসেবে হুমায়ুন আজাদের সামনে আমার প্রথম উপস্থিতি সুখকর হয় নি। (সম্পূর্ণ…)

জার্নাল: এপ্রিলের ২০-২৬, ২০০৮

আলতাফ হোসেন | ২৮ এপ্রিল ২০০৮ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

এই ব্যাপারটা ভালো লাগল। মার্চ অন্তিমকালে জার্নাল লিখে পাঠকদের উদ্দেশে দেবার কথা ভেবে যখন ব্রাত্য রাইসুর ঠিকানায় সকাল দশটা-এগারোটার দিকে পাঠালাম এবং তারপর দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে তা altaf.jpg……
আলতাফ হোসেন
…….
তৈরি হয়ে আকাশে ছড়িয়ে পড়ল তখন আমিও একজন পাঠক হিসাবে তা পড়তে পারলাম। ভলো লাগল ব্যাপারটা। অনেকেরই ক্ষেত্রেই নিশ্চয় এমনটা ঘটেছে। ভালো লাগতে পারে তাঁদেরও এমন তাৎক্ষণিক যোগাযোগের ঘটনাগুলো।

লেখা লিখে মার্জনা-পরিমার্জনা অনেক চলতে পারে, কিন্তু একবার তা চূড়ান্ত করা হয়ে গেলে তক্ষুনি-তক্ষুনি তা ছাপানোর ইচ্ছা হওয়াটাই কি স্বাভাবিক নয়? এটাও একরকম ছাপা হওয়া, এই আর্টস.বিডিনিউজ২৪.কম থেকে ইন্টারনেট-গ্রহীতাদের কাছে প্রকাশিত হওয়া।

লেখার পর পাঠকের কাছে এত দ্রুত পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা একেবারেই আজকের দিনের।

কজনের কাছে পৌঁছল, রসিকজনদের কাছে গেল কি না, দেশি লোকদের চেয়ে প্রবাসীদের কাছেই কি বেশি গেল না, তা অবশ্য ভিন্ন প্রশ্ন। ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন।

আর একটি ব্যাপারও লাগল ভালো। যদিও একটি প্রতিষ্ঠানই এই ওয়েবসাইটটি, তবু পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে এখনও স্বাগত জানিয়ে চলেছে এটি।

আর যা খারাপ লাগে তা হচ্ছে নাম, এর ইংরেজি নাম। (সম্পূর্ণ…)

আমেরিকানদের প্রিয় কবিতা

মিল্লাত হোসাইন | ২৭ এপ্রিল ২০০৮ ২:০৬ অপরাহ্ন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফি বছর একজন রাজকবি (Poet Laureate) নিয়োগ দেয়া হয়। মার্কিন কংগ্রেস এই নিয়োগ দেয়। ১৯৯৭ সালে ৩৯ তম রাজকবি হিসেবে নিয়োগ পান রবার্ট পিনস্কি (Robert Pinsky)। তিনি আমেরিকানদের প্রিয় কবিতা (American’s Favorite Poem Project) নামে একটি প্রকল্প হাতে নেন। মার্কিনিদের প্রিয় কবিতা কোনটি এবং কেন — তা জানাতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। এক বছরের মধ্যে ১৮,০০০-এরও বেশি সাড়া মেলে। ৫ থেকে ৯৫ বছর বয়েসী মাকির্নিরা এতে অংশ নেয়। সেসব থেকে বাছাই করে তিনি ক’টি সংকলন বার করেন। এগুলো হলো — Americans’ Favorite PoemsPoems to Read। সেগুলো থেকে আমার পছন্দের কিছু কবিতা তরজমা করেছিলাম অনেক দিন আগে। এতো দিন পড়ে ছিলো কম্পিউটারে। যান্ত্রিক মহাফেজখানা থেকে বার করে কতকটা ঝালাই-মেরামত করে সেসব পাঠালাম আর্টস বিডিনিউজ টৌয়েন্টিফোর ডটকম-এ ।

এই কবিতাগুলো আমাকে দারুণ দোলা দিয়েছে। একই সাথে দুর্দান্ত মন্তব্যগুলোও। নানান বয়েসী ও ধর্ম-বর্ণ-গোত্র ও অভিবাসী মার্কিনিদের জীবনে কবিতা কী ভূমিকায় তার কিছু সই-সাবুদ এতে পাওয়া যাবে। মার্কিন রাজ্য বলতে যে কেবল বুশ অ্যান্ড কোং বোঝায় না তারও কিছু নমুনা পাওয়া যাবে এসব কবিতা থেকে।

অনুবাদ: মিল্লাত হোসাইন

দণ্ড
আন্না আখমাতোভা

আর পাথর শব্দগুলো পড়ছিল
আমার আজো স্পন্দিত বুকের ওপর
তাতে কী, আমি তো প্রস্তুতই ছিলাম
যেভাবেই হোক মানিয়ে নেবো। (সম্পূর্ণ…)

উইলিয়াম শেক্সপিয়র-এর ট্র্যাজেডি অবলম্বনে

এ নিউ টেস্টামেন্ট অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট

সাইমন জাকারিয়া | ২৫ এপ্রিল ২০০৮ ১২:০৪ অপরাহ্ন

কথামুখ
‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’-এর কাহিনীকার হিসেবে উইলিয়াম শেক্সপিয়র-এর নামটি জানা থাকলেও আমাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে, এর কাহিনীটি অতি প্রাচীন এবং শেক্সপিয়র এ কাহিনীটি ধার romeo_and_juliet_brown.jpg
…….
১৮৭০-এ আঁকা ফোর্ড ম্যাডক্স ব্রাউনের তেলছবি, রোমিও জুলিয়েট-এর বিখ্যাত ব্যালকনি দৃশ্য
…….
করেছিলেন তাঁর থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে লেখা ইংরেজ লেখক আর্থার ব্রুকস্-এর দি ট্র্যাজিক্যাল হিস্ট্রি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট নামের একটি মহাকাব্যিক রচনা থেকে।

কাহিনী হিসেবে রোমিও-জুলিয়েটের ইতিহাস শুধু এটুকুই নয়, বরং তা সুদূর অতীত পর্যন্ত বিস্তৃত। গবেষণায় জানা যায়, রোমিও-জুলিয়েটের এই সকরুণ bandello.jpg…….
মাতিয়ো বান্দেলো (১৪৮০-১৫৬২)
…….
প্রেমকাহিনী সংঘটিত হয়েছিল ইতালিতে। সেখানে এই প্রেমময় জীবন-গাঁথা উপাখ্যান হিসেবে আনুমানিক ১৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ পেলেও মূল কাহিনীটি সম্ভবত ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের। আর মূলকাহিনীতে দেখা যায়, প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবার চেয়ে আত্মহত্যাকেই শ্রেয় বলে মেনে নেয়।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ইতালির এমন ঘটনার একশত বছর আগে প্রায় একই রকম আরেকটি কাহিনীর সন্ধান পাওয়া যায় স্পেনের তেরুয়েলে। অবশ্য স্প্যানিশ আখ্যানে এ কাহিনীর একটু ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। রোমিও সেখানে আত্মগোপন করে রয়েছেন, আর জুলিয়েট সেই সময়ে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে বসেন এবং নতুন বিয়ে করা স্বামীর সাথে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার পর তার (জুলিয়েটের আগের) স্বামী এসে তাদেরকে একসঙ্গেই সমাহিত করেন।

shex.jpg…….
উইলিয়াম শেক্সপিয়র (১৫৬৪-১৬১৬), শিল্পী: Martin Droeshout, ১৬২৩
…….
গবেষক মনে করেন, স্পেনে সংঘটিত ওই প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলের গল্পটা একসময় ইতালিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে তা কিংবদন্তীর আকার লাভ করে। সে কিংবদন্তীকে অবলম্বন করে ইতালির লেখক মাতিয়ো বান্দেলো একটি উপন্যাস রচনা করেন। ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দে বান্দেলোর সে উপন্যাস থেকেই কাহিনী ধার করে ইংল্যান্ডের লেখক আর্থার ব্রুকস্ তাঁর মহাকাব্যিক রচনা দি ট্র্যাজিক্যাল হিস্ট্রি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট প্রকাশ করেন। তারও ত্রিশ বছর পরে আনুমানিক ১৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে আর্থার ব্রুকস্-এর কাহিনী ধার করে শেক্সপিয়র বিখ্যাত ট্র্যাজেডি রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট রচনা করেন।

সত্যি কথা বলতে কী, বর্তমান নাটকটি লেখার আগ পর্যন্ত এ সব তথ্য আমার নিজেরও জানা ছিল না। কিন্তু নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে শেক্সপিয়রের আখ্যান নির্ভর এই নাট্য রচনার পর আমার মনে অনেকগুলো প্রশ্ন জন্ম নিল, তার মধ্যে প্রধান প্রশ্নটি হলো — শেক্সপিয়রের অন্যান্য নাট্যাখ্যানের মতো এ আখ্যানটিকে নিয়েও বহুভাবে, বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিশ্চয় সারা পৃথিবীতে ব্যাপক নাট্যকর্ম সৃজিত হয়েছে, এক্ষেত্রে নিজের অজ্ঞতায়, অজ্ঞানে পৃথিবীর অন্য কোনো নাট্যকারের নাট্যচিন্তা ও নাট্যকর্মের পুনর্বয়ান বা পুনর্নিমাণ করলাম না তো? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশের তরুণতর বিশ্বসাহিত্যের পাঠক থেকে শুরু করে বিশ্বসাহিত্য বিশেষজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্বনাট্য দর্শনে অভিজ্ঞ নাট্যনির্দেশক ও কাছের বন্ধুদেরকে নাটকটি পাঠ করতে দেই, সর্বোপরি ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করি।

প্রায় সব ধরনের অনুসন্ধানের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসা তথ্যগুলো বর্তমান নাট্যকর্মের পক্ষে জোরালো কিছু যুক্তি এনে দেয়। কেননা, প্রাগৈতিহাসিক কালের রোমিও-জুলিয়েটের আসল কাহিনীকে ট্র্যাজেডি-নাট্যে রূপ দিতে মহাত্মা উইলিয়াম শেক্সপিয়র যা করেছিলেন তা সুচতুর একটি খেলা ছাড়া কিছু নয়, বর্তমান নাটকটি সে-কথাই প্রমাণ করেছে। এক্ষেত্রে বিশেষ কৌশলে দেশ-কাল-পাত্রের সীমাবদ্ধ গণ্ডীকে অতিক্রম করে শিল্পের সার্বজনীন ভূখণ্ড, সময় এবং চরিত্র সৃজন করেছি মাত্র। যা নাট্যচিন্তা প্রকাশের তীব্রতাকে বাড়িয়েছে বলে আমার ধারণা। (সম্পূর্ণ…)

সেদিন বৃষ্টি ছিল

মৃদুল আহমেদ | ২৩ এপ্রিল ২০০৮ ১২:৪৪ অপরাহ্ন

সূর্যটাকে আচমকা এক ফুঁ-তে নিভিয়ে দিয়ে রবিশঙ্করের তানপুরার মতো রিমিঝিমিয়ে বৃষ্টি নামল!

রিকশাঅলাও সাথে সাথে রিকশাটা রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে ফেলল। কোনো রকমের ঘোষণা ছাড়াই। বৃষ্টি শুরু হলে রিকশাঅলারা সাধারণত থামে না। চাকা না ঘুরলে পয়সা আসে না, ওরা জানে। হালের বলদের মতো নকল গোয়ার্তুমি দেখিয়ে সমানে প্যাডেল মারে।

কিন্তু এই রিকশঅলা ঝটাং করে রিকশা থামাল। বৃষ্টির প্রথম ছাঁটটা শুরু হবার সাথে সাথেই। যেন ইন্সটল করা সফটওয়্যার, বৃষ্টির টাচ লাগামাত্র রিকশা থেমে যাবে।

মোস্তাফিজ অন্যমনস্ক সুরে বলল, অ্যাই, তোমার পলিথিন নাই?

জবাবে রিকশাঅলা ক্যাবলার মতো হাসল, নিয়া বাইর হই নাই! ক্যাডায় জানে, এইরম আঁতকা বৃষ্টি আইব?

আসলেই, এ সময়ে বৃষ্টির ধরনটা এরকমই। দিব্যি জ্বলজ্বলে একটা দিন, রোদ ঝকঝক করছে, কিন্তু কোত্থেকে হঠাৎ তেড়েফুঁড়ে একটা হাওয়া দিল, বেশ মেঘ করে এল ওপরে, তারপরই ঝিরঝিরিয়ে নামল বৃষ্টি।

ওঃ বৃষ্টি! সে কী আশ্চর্য বৃষ্টি! মুহূর্তের মধ্যেই পুরো জায়গার চেহারাটাকে বদলে দিল। একটা ঝকমকে উজ্জ্বল বিকেল দু-মিনিটের মধ্যেই হয়ে গেল একটা বিষণ্ন প্রায়ান্ধকার সন্ধ্যা।

গলির ভেতর কতগুলো মানুষ হাঁটছিল, দাঁড়িয়ে ছিল। এ-বাড়ির ছাদ থেকে ও-বাড়ির ছাদের মেয়েদের দিকে তাকাচ্ছিল ছেলেরা, মেয়েরাও আড়চোখে সেই দৃষ্টি ফেরত দিচ্ছিল। চা-বিড়ির দোকানের সামনে বেঞ্চে অলস বসে ছিল দুই-চারটা লোক, ক্রিকেট খেলবে বলে ইঁটের ওপর ইঁট সাজিয়ে স্ট্যাম্প বানাচ্ছিল পিচ্চি পোলাপানের দল, কিন্তু বৃষ্টিটা এসেই সবাইকে হটিয়ে দিয়ে চারদিক এখন একেবারে শুনশান। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরীর সাথে কিছুক্ষণ

আদনান সৈয়দ | ২২ এপ্রিল ২০০৮ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

কবি শহীদ কাদরী ৭৮ সালের পর থেকেই বাংলাদেশের বাইরে। জার্মান, ইংল্যান্ড হয়ে তিনি এখন আমেরিকায় পাকাপাকিভাবে বসবাস করছেন। পঞ্চাশ উত্তর বাংলা কবিতা ধারায় আধুনিক মনন ও জীবনবোধ সৃষ্টিতে shahid-1 যে কজন কবির নাম করা যায় কবি শহীদ কাদরী ছিলেন তাঁদের মাঝে অন্যতম। বিশ্ব-নাগরিকতা বোধ, আধুনিক নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, রাষ্ট্রযন্ত্রের কূটকৌশল এসব কিছুই তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে স্বতস্ফূর্তভাবে। উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা এবং কোথাও কোন ক্রন্দন নেই এই তিনটি মাত্র কাব্যগ্রন্থ দিয়ে কবি শহীদ কাদরী বাংলার
————————————

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আদনান সৈয়দ

————————————
কবিতায় একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকের মত ঝলসে উঠে কবি যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ঠিক তখনি লেখালেখির জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ইউরোপ পাড়ি জমালেন। বাংলাদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে কবি তাঁর ঠিকানাটি বেছে নিলেও দেশ থেকে বয়ে নিয়ে আসা স্মৃতিগুলো সবসময় তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, এক ধরনের নস্টালজিক আবেগ তাড়িত করে বেড়ায়। শহীদ কাদরীর সাথে যখনই আড্ডা দেই সে আড্ডার এক বিশাল অংশ জুড়েই থাকে শুধু বাংলাদেশ আর তাঁর ছেলেবেলার কবি বন্ধুদের কথা। বর্তমানে কবি শারিরীকভাবে খুবই অসুস্থ। সপ্তাহের তিনদিন ডায়লিসিস করার পর এই পয়ষট্টি বছরের শরীর নুয়ে যাবার কথা। কিন্তু কবি শহীদ কাদরীকে যাঁরা চেনেন তাঁরা সবাই জানেন যে আড্ডার কাছে শহীদ কাদরীর শারিরীক অসুস্থতা কোনো বিষয়ই নয়। কবির সাথে আড্ডা মানেই হল কবির নিত্য ব্যবহৃত পাইপের ধোয়ায় নিমজ্জিত কবি শহীদ কাদরী নির্দ্ধিধায় বিচরণ করে চলেন শিল্প-সাহিত্যে তো বটেই আড্ডার জাল ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, ধর্ম-দর্শন থেকে শুরু করে কবির বাংলাদেশের ফেলে আসা অস্পষ্ট কোনো ধূসর শহরের অলি-গলি অব্দি। কবি শহীদ কাদরীর নিউইয়র্কের জ্যামাইকার বাসভবনে যখন যাই তখন নিউইয়র্কের রাস্তায় সবেমাত্র সন্ধ্যর বাতি জ্বলতে শুরু করেছে। অবশ্য এ কথা আমরা আগে থেকেই জানি যে শহীদ কাদরীর সাথে আড্ডার মানেই হল বিকেলের নরম রোদ ফিকে হয়ে তা গভীর রাত অব্দি গড়িয়ে যাওয়া। উল্লেখ্য, সেদিনের আড্ডার বেশির ভাগ অংশ জুড়েই ছিল কবির অন্যতম বন্ধু প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ।

আদনান সৈয়দ: কবি শামসুর রাহমানের সাথে আপনার পরিচয়ের যোগসূত্রটা কীভাবে হয়?

শহীদ কাদরী: খোকন ছিল আমার কলকাতার বাল্যবন্ধু। আমি যখন কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এলাম তখন খোকনও ঢাকায় চলে আসে। খোকন জানতো যে আমি একটু-আধটু কবিতা লেখার চেষ্টা করি। শামসুর ss2.jpg
শহীদ কাদরীর বাসায় আড্ডা
রাহমানের সাথে তার বেশ জানাশোনা ছিল। শামসুর রাহমানের কানে আগে থেকেই সে আমার কথাটা বলে রেখেছিল। এদিকে ‘জলকন্যার জন্যে’ কবিতাটি ছাপা হবার পর থেকে আমি প্রায়ই পত্রিকার স্টলে দাঁড়িয়ে আমার কবিতাটি বার বার পড়তাম এবং আড় চোখে দেখতাম যে তা অন্য কেউ পড়ছে কিনা? তা রোজই আমাকে এ কাজটা করতে হত। আমি একদিন প্রায় দুপুর বেলা স্টলে দাঁড়িয়ে আছি এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার কবিতাটি পড়ছি। আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আমাকে যে একজন ভদ্রলোক লক্ষ্য করছিলেন তা আমি বেশ টের পাচ্ছিলাম। আমি ঘাড় ফিরিয়ে দেখি খুব ফর্সামত মানে সর্ব অর্থে সুন্দর একজন পুরুষ স্পন্দন খুলে আমার কবিতাটি পড়ছে। তখন আমাদের চোখাচোখি হল। শামসুর রাহমান তখন আমাকে বললেন, আচ্ছা আপনি কী শহীদ কাদরী? (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্যের ঘটনা: অব্যক্ততার বয়ান

ইমরুল হাসান | ২২ এপ্রিল ২০০৮ ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

আল মাহমুদ-এর বইটা পড়ার পর থিকাই ভাবতেছিলাম যে, এইটা নিয়া লিখবো। কিন্তু লিখার কথাগুলি বলতেছিলাম পরিচিত মানুষজনকে তাই আর লিখা হইতেছিল না। যার ঠিক উল্টা কাজটা আল মাহমুদ করছেন বলে আমার মনে হইছে। তিনি বলার কথাগুলিরেই লিখিত করছেন। হয়তো বলা al-mahmud_low.jpg……
বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ / একুশে বাংলা প্রকাশন / বইমেলা, ২০০৭ / প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ / ১৯২ পৃষ্ঠা / ২০০ টাকা
…….
যায় যে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও সামাজিক না, সাহিত্যেরও নিজস্ব ঘটনা ও ইতিহাস আছে, এইগুলি যে কীভাবে সম্ভব হইতে পারে, তার একটা ধারণা হয়তো এই বইটা পড়লে টের পাওয়া যাইতে পারে…।

অন্য দিক দিয়া মনে হইতে পারে যে, একটা ‘পাপ’ না করতে পারার সাফল্যই তারে বাঁচাইয়া দিছে। বইটাতে তিনি তাঁর বিয়া’র কয়দিন পরেই আরেক মেয়ের প্রতি তাঁর ‌’লোভ’-এর কথা বলছেন, এই ধরনের স্বীকারোক্তি করতে গেলেও বুকের পাটা লাগে; কারণ বিবাহ করা মানেই তো ‘কাম’-এর নিবৃত্তি না, এই যে মনোগ্যামিতার অস্বীকার তাঁর আছে, এইটা একটা বড় ব্যাপার বলে মনে হইছে, যদিও আল্লাহ উনারে বারবারই বাঁচাইয়া দিছে…এইটা ধরলেও তাঁর স্বীকারোক্তি অনেক কিছুই খোলাসা করে যৌনতা বিষয়ে…আবার বিয়া’র পরপরই অন্য মেয়ের প্রতি ‘লোভ’-এর জন্যে তিনি যে চড়ও খাইছেন, সেইটাও তিনি বলে দিতে পারছেন…আর এইটা পইড়া এইরমও মনে হইছে যে, সেই সময়ের তাঁর এই স্বচ্ছতার বোধই হয়তো সোনালী কাবিন-এর জন্ম দিছে…। (সম্পূর্ণ…)

উইলিয়াম ব্লেইক-এর কবিতা

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ | ২০ এপ্রিল ২০০৮ ১২:১৫ অপরাহ্ন

william_blake.jpg
উইলিয়াম ব্লেইক (William Blake, ১৭৫৭-১৮২৭), অঙ্কন: Thomas Phillips, ১৮০৭

অনুবাদ: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

সংজ্ অভ ইনোসেন্স্ থেকে

blake_innocen.jpg
উইলিয়াম ব্লেইক-এর করা সংজ্ অভ ইনোসেন্স্বইয়ের টাইটেল প্লেট

উপক্রম

বাজাচ্ছিলাম বাঁশি যখন সুখের সুরে,
বাজাচ্ছিলাম বাঁশি যখন উপত্যকায়,
একটা মেঘে দেখতে পেলাম এক শিশুরে,
মোহন হাসি হেসে শিশু বলল আমায়:

“মেষশিশুকে নিয়ে গান-এক শুনিয়ে দাও!”
সুখের সুরে বাঁশিতে গান উঠল বেজে।
“বাঁশিওয়ালা, গানটি তুমি আবার বাজাও!”
তাই বাজালাম, কিন্তু শুনে কাঁদল সে যে!

“দাও, ফেলে দাও আনন্দিত বাঁশি তোমার,
গানখানি গাও গলা ছেড়ে, সুখের সুরে!”
গাইলাম তাই ঐ গানটাই ফের একবার,
সুখের সুরে ফের কাঁদালাম ঐ শিশুরে।

“বাঁশিওয়ালা, ব’সো এবার, লেখো এ-গান
পুথির পাতায়, সবাই যেন পড়তে পারে।”
বলতে-বলতে করল শিশু অন্তর্ধান–
হানা দিলাম খাগড়া-বনে, নদীর পাড়ে,

খাগড়া দিয়ে বানাই একটা গ্রাম্য কলম,
স্বচ্ছ জলে আলতা গুলে বানাই কালি;
গান লিখে যাই, আনন্দিত, আর মনোরম,
শুনে সকল শিশু বাজায় করতালি।

রাখাল

কী সুন্দর রাখালের ঐ মেষপাল!
তাদের চরায় সে যে সকাল-বিকাল।
পালের পিছনে ছুটে কোনো ক্লান্তি নাই,
গলায় মধুর গানে শুধু প্রশংসা-ই–

কারণ, সে শোনে, মেষশাবকের ডাকে
সজীব জবাব দেয় সুখী মাতা-মেষ;
পালক সতর্ক, তাই পাল সুখে থাকে,–
রাখাল কাছেই আছে–জানে তারা বেশ। (সম্পূর্ণ…)

সালমান রুশদির সঙ্গে একটি সন্ধ্যা

সেজান মাহমুদ | ১৮ এপ্রিল ২০০৮ ৩:৫৬ অপরাহ্ন

salman-rushdie-at-florida-s.jpg
ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্যার আহমেদ সালমান রুশদি (জন্ম. ১৯/৬/১৯৪৭)

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে মুসলিম বিশ্বের কাছে বিতর্কিত, পশ্চিমা বিশ্বের লেখক-সমালোচকদের কাছে এ শতাব্দীর একজন অন্যতম শক্তিশালী লেখক সালমান রুশদি আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ট্যালাহাসি শহরে এলেন বক্তৃতা দেয়ার জন্য। এখানে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে সাতদিনের আনুষ্ঠানমালার সূচনা-বক্তার মর্যাদায় এলেন তিনি। এদিন আমার বাড়িতে মেহমান, অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে আমার এক চিকিৎসক বন্ধু, আর বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তপন চৌধুরী। আমার কাছে midnights_children.jpg……
Midnight’s Children (1981)
…….
টিকিট আছে মাত্র দুটো। দ্বিধা কাটালেন তপন দা নিজেই, বললেন, ‘আমার কোনো আগ্রহ নাই যাওয়ার, তোমরা যাও।’ অতএব তপনদাকে প্রতিবেশীর বাসায় রাতের খাবারের নেমন্তন্ন খেতে দিয়ে আমরা চলে এলাম ইউনিভার্সিটির রুবি ডায়ামন্ড অডিটোরিউয়ামে।

সালমান রুশদি এখানে আসবেন এ খবর চাউর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি তাঁর বর্তমান কর্মস্থলে যোগাযোগ করি সামনা-সামনি একক সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য। কিছুটা আশার আলোও দেখা দিয়েছিল, কিন্তু যেই না জানালাম যে আমি বাংলাদেশের লোক, তারপর থেকেই নানান নিরাপত্তামূলক প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে হলো। অগত্যা একক সাক্ষাৎকার না করে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব মেনে নেওয়া ছাড়া গতি থাকে না।

আমি বন্ধুকে নিয়ে অডিটরিয়ামের ভেতরে ইউনিভার্সিটির ফ্যাকালটিদের shame_book.jpg……
Shame (1983)
…….
ব্যালকনিতে আসন নিলাম। সালমান রুশদি তাঁর আলোচিত-সমালোচিত উপন্যাস স্যাটানিক ভার্সেস লেখার জন্য ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনীর দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ জারির সাত বছর পর অনেকটা সাবধানতার সঙ্গে জনসমক্ষে আসা শুরু করেছেন। এর মধ্যে আমেরিকার ‘ফিল ডোনাহিউ শো’তে এসছিলেন, এসছিলেন জনপ্রিয় টক শো লেট নাইট উইথ জে লোনো-তে। এছাড়া এই দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর নতুন উপন্যাস দ্য মুর’স লাস্ট সাই-এর প্রচারনার কাজে আমেরিকায় অনেকটা সর্বসাধারণের জন্য আধা-উন্মুক্ত (সেমি-পাবলিক) পাঠ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ‘এমেরি’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ‘বিশিষ্ট আবাসিক লেখক’-এর মর্যাদায় শিক্ষকতা শুরু করেছেন। এই সূত্রেই তিনি আমাদের শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন, এখান থেকে তাঁর নতুন খণ্ডকালীন কর্মস্থল মাত্র আধা ঘণ্টার বিমান-দূরত্বে। (সম্পূর্ণ…)

Ibsen and Words of Liberty

Rajeev Ahmed | ১৭ এপ্রিল ২০০৮ ৪:২৭ অপরাহ্ন

This often misunderstood Norwegian playwright once remarked, “With pleasure I will torpedo the ark.” As a young writer, he was discontent with everything. He found himself ibsen.jpg……
Centennial Essays On Ibsen / Edited by Niaz Zaman & Sadrul Amin / Published by the Department of English, University of Dhaka. / Cover Painting: Nazlee Laila Mansur / Cover Design: Zahirul Islam Auntor / Price: 200.00 taka
……..
unable to identify with any existing forms of drama, so Henrik Ibsen- the second most performed playwright in the prestigious stages of the world after William Shakespeare, set out to create his own.

Ibsen experienced multiple shifts in dramatic form and philosophy as he gradually came to terms with the intellectual, emotional, and spiritual forces that were at war within his complex psyche. But throughout, his plays are characterized by their rebellious spirit and their unforgiving scrutiny of Ibsen’s own faults and virtues.

The book “Centennial Essays on Ibsen” is the literary piece of work of a couple of days Ibsen Commemoration organized by the English Department of Dhaka University, in May 2006. It is one of the most convivial tributes to the Father of Modern Realistic Drama on his hundredth anniversary of death from Bangladeshi and Norwegian scholars, academics and students. (সম্পূর্ণ…)

মগের মুল্লুকে ফিরিঙ্গির বেসাতি

বাঙলায় হার্মাদি-মগাই জলদস্যুর ইতিকথা

নূরুল আলম আতিক | ১৪ এপ্রিল ২০০৮ ১০:১২ অপরাহ্ন

একটি অডিও-ভিস্যুয়াল প্রোজেক্শন

boat-kantaje-mandir1.jpg
দিনাজপুরের কান্তজী মন্দিরের পোড়ামাটির ফলকে পর্তুগীজ যুদ্ধজাহাজ

কৈফিয়ত
বিজ্ঞ পাঠক, প্রথমেই কবুল মানি, আমি ইতিহাসের ভাষ্যকার নই। নই কোনো লিপিকর, সাহিত্যিক। তবু কেন এই অডিও-ভিস্যুয়াল প্রজেক্শন, কেন এই প্রস্তাবনা?

মনে বড় সাধ সিনেমা করবো। সি-নে-মা। মা-আ; মামা সিনেমা করতে টাকা লাগে, কইলজার দম লাগে, আরো লাগে– কী নিয়া সিনেমা করবা তার সাথে নিজের এ্যাটাচমেন্ট, সর্বোপরি এই মানবজন্ম নিয়া নিজের একটা উপলব্ধি। কী কইতে চাও তুমি সিনামায়? যা মুখে বলতে পারো না, লেইখা ব্যক্ত করা যায় না? বাড়তি কী আছে তোমার ওই পর্দায়? বেপর্দা হইয়া বলি, এর কোনোটাই ঠিক ম্যানেজ করতে না পেরে আমি দিশাহারা। প্রায় বছর দেড়েক খাঁড়ার উপরে বেকার। আকার দেবার মতো কোনো কাজ নাই হাতে, তাই শুরু করি ইতিহাসের খৈ ভাজা। বলছি ২০০৩-২০০৪ সালের কথা।

ভাঁজটি খুলে দিলো আহমদ ছফার দু’টি বই–প্রথমটা সেই নব্বইতে পড়েছিলাম, বাঙালি মুসলমানের মন আর দ্বিতীয়টা সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস। ইতোমধ্যে নীহাররঞ্জন রায়ের আদিপর্বের বাঙালির ইতিহাস উল্টেপাল্টে দেখেছি, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কিশোর সংস্করণ ত খুবই সুখপাঠ্য লেগেছিলো কৈশোরে। আহমদ ছফা’র আবেগায়িত উচ্চারণ, আব্দুল করিমের খোঁজখবর এবং বিক্রমপুরের ঐতিহাসিক জয়নাল আবেদিনকে জানবার পর অনেক ঝামেলায় পড়ে যাই। আগুপিছু নানান কথা মনে আসে–ইতিহাস মূলত বিজয়ীর ইতিহাস। হ্যাঁ পাঠক, পুরান কথা। ইতিহাস নির্মাণের বিষয়। অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ইতিহাস পাল্টে ফেলবারও বিষয়। আজকের দিনে ইতিহাস নাকি মানুষের ইতিহাস, কিন্তু এই অধমের মনে প্রশ্ন উঁকি দেয়–ইতিহাস কি ঐতিহাসিকের নিজস্ব ব্যক্তিগত জ্ঞানগম্মির ইতিহাস নয়? তার মনোলোকের ইতিহাস নয়? খুঁজেপেতে পাওয়া বইপত্রগুলো ঘাঁটতে ঘাঁটতে মনে হলো ইতিহাস পুনঃনির্মাণেরও। ৭১-এর কাছাকাছি সময়ে জন্ম নিয়ে, এ যাবতকাল বেড়ে উঠে কিংবা বেড়ে না উঠে, বর্তমানের ব্যাড়াছ্যাড়া অবস্থাটির সাথে একটি মোক্ষম শব্দবন্ধ যোগ হলো–‘মগের মুল্লুক’। আহা কী কথা–মগের মুল্লুক! অনুপ্রাসের কী যে মহিমা। আহা, কী বাঙ্ময় এই আমাদের বাংলা ভাষা!

‘এইটা কি মগের মুল্লুক নাকি?’ যার যা খুশি, যেনতেনভাবে করবে আর ক’রে খাবে? আর হায়, আমার কোনো কাজকম্ম থাকবে না! বেকার, আমি বেকার থাকি। হ্যাঁ, পাঠক, দেশে ভালো সিনেমার আন্দোলনকর্ম আর নিজের ব্যর্থ কর্মপ্রচেষ্টা নিয়ে দেড়যুগের যোগাযোগের সারবস্তুটি হল–‘এই মগের মুল্লুকে আমাকে দিয়ে কিছু হবার না।’ অনেক লম্বা লম্বা কথা কইছি, মাফ চাই। এদিকে যে আমি এতোকাল বসে বসে আবহমান বাঙালী কৃষকের (কালচার করা লোকেদের কথা, আর ওই নীহারবাবুর ইতিহাসের মারপ্যাঁচ এবং যূথবদ্ধ সমাজের স্বপ্নবাজদের কথামৃত) ঘামে ভেঁজা চাল খেয়ে এতকাল পার করলাম। তার দায় শোধ করতে হবে না? কাজকাম ত কিছুই নাই তাই বউয়ের কান্ধে বইসা বান্দা(দাস)দের শুলুকসন্ধান শুরু করি। মগবস্তুটি দেখে ছাড়বো–এই পণ ক’রে বছর দেড়েক বইপত্র খোঁজাখুজি করতে শুরু করি। কিন্তু হায়! এই জাতি তার কোনো কিছুই সংরক্ষণ করতে শিখে নাই, তদুপরি মগের সাথে জুড়েছে হার্মাদ। কৈশোরে পড়েছিলাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জলদস্যু। পট্টগীজ হার্মাদ ‘সেবাস্টিয়াস গঞ্জালেস টিবাও’ আমার কৈশোরের হিরো। নসরত শাহ্ লিখেছিলেন ধানশালিকের দেশে একই রকমের একটি গল্প, পর্তুগীজ জলদস্যুদের নিয়ে।

prachin-arakaner-rajdhani-m.jpg
প্রাচীন আরাকানের রাজধানী ম্রোহং

বাঙলায় মগ আর পর্তুগীজ দস্যুদের কাণ্ডকারখানাই এই গ্রন্থনার মৌল বিষয়। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com