শিবনারায়ণ রায়: বাঙলার রেনেসাঁসের সর্বশেষ দীপ

মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম | ২৯ মার্চ ২০০৮ ৫:৫৪ অপরাহ্ন

sibnarayan_ray_2006.jpg
শিবনারায়ণ রায় (২০/১/১৯২১-২৬/২/২০০৮); ছবি: ফয়জুল লতিফ চৌধুরী ২০০৬

বাঙলার রেনেসাঁসের সর্বশেষ প্রদীপ ছিলেন তিনি। দীপটি নিভে গেল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৮-এ। যথার্থ রেনেসাঁস-সাধক ছিলেন শিবনারায়ণ রায়। নানা ক্রটি-বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও তিনি বাঙলার রেনেসাসের উত্তরাধিকারকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে দেখতেন। এই দেখাটা একজন বিবেকী ভাবুকের, দায়িত্বশীল চিন্তকের। তিনি মনে করেতেন, যে মহৎ কর্মে অপূর্ণতা থাকে, তাকে পূর্ণতা দেবার গুরুদায়িত্ব উত্তর-প্রজন্মের। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে শিবনারায়ণ রায় সেই অসামান্য দায়িত্ব বলা চলে সারা জীবনই পালন করবার চেষ্টা করে গেছেন। তিনি বরাবরই একথা বলেছেন যে, পশ্চিমের মানসমুক্তির ক্ষেত্রে সেখানকার রেনেসাঁসই ছিল প্রধান ভূমিকা স্বরুপ। বাঙলার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল।

উনিশ শতকের বাঙলার রেনেসাঁসের যাঁরা মহৎ প্রতিনিধি ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন অক্ষয়কুমার দাত্ত। শিবনারায়ণ রায় ও-শতকের যেসব মহৎ পুরুষদের প্রভাব তাঁর জীবনে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করেছেন, এই অক্ষয়কুমার দত্ত তাঁদের একজন। শিবনারায়ণ রায় অক্ষয়কুমার দত্তকে র‌্যাডিক্যাল হিউম্যানিস্ট বলে মান্য করতেন।

বাঙলার বিদ্বৎসমাজ অক্ষয়কুমার দত্তের সংবাদ রাখতেন না। শিবনারায়ণ রায়ের মনে এ নিয়ে আক্ষেপ ছিল। আমার সম্পাদনায় সম্প্রতি পরপর তিনটি গ্রন্থ–অক্ষয়কুমার দত্তের শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ (২০০৫), বিজ্ঞান বুদ্ধিচর্চার অগ্রপথিক অক্ষয়কুমার দত্ত ও বাঙালি সমাজ (২০০৬) এবং অক্ষয়কুমার দত্তের শিক্ষাবিষয়ক প্রবন্ধাবলী (২০০৭) প্রকাশিত হলে তিনি খুবই আনন্দিত হন। তিনি এই কাজগুলোর যে ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এর গুরুত্ব আমাকে বোঝান, সে ছিল আমার আশার অতীত এবং এইসব কাজের জন্যেই আমি তাঁর মতো অগ্রগণ্য মনীষীর প্রশ্রয় পেয়েছিলাম। আমি যে তাঁর সান্নিধ্য পেতে পারি এ আমার পক্ষে ছিল দুরাশা মাত্র। কারণ এমনিতেই অক্ষয়কুমার দত্তের নাম এদেশের মানুষ ভুলে গেছে, তার উপর আমি এক অখ্যাত তরুণ। এই দুই অন্ধকার ভেদ করে শিবনারায়ণ রায়ের দৃষ্টিতে পড়েবো–এরকম আমার মনে হয়নি। কিন্তু সেটা ঘটে গেল। সেটাও আমার কারণে নয়–তাঁরই মহৎ গুণের আলোয়। তাঁর অনুসন্ধানী দৃষ্টি ছিল অতুলনীয়। (সম্পূর্ণ…)

একটি গল্প বা স্মৃতিকথা

নূহের নৌকায় শহীদুল জহির (১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৩ – ২৩ মার্চ, ২০০৮)

নাসিমা সেলিম অলীক | ২৯ মার্চ ২০০৮ ৫:০৪ পূর্বাহ্ন

cbazaraug1986.jpg…….
কক্সবাজারে, ১৯৮৬ সালে
……..
ঢাকা শহর থেকে দূরে থাকলে বোঝা যায় একটি হাইজ্যাকার অধ্যূষিত, কাকের-সংখ্যা-বেড়ে-যাওয়া ও কবির-সংখ্যা-কমে-যাওয়া নগরীর মায়া কাটানো কেন কঠিন। বা, প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে অন্য একটি মহানগরে থাকতে হয় বিধায় আমি ঢাকার আওয়াজ অদৃশ্যে শুনতে পাই, এবং সেই ধুনেই ‘পূর্ব’ বাংলার গান গাই। নানা খবর বাতাসে কানাকানি করে। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকা সহ গোটা বাংলাদেশ বিষয়ে কিছু স্বদেশী আর কয়েকটা বিদেশী কাগজ পড়ে জানতে পারি মানে জানাই ছিল; হঠাৎ আল-গোরের ‘একটি অস্বস্তিকর সত্যি কথা’ শুনে আবারও মনে পড়ে–বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক এলাকা আগামী কুড়ি বছরে ডুবে যেতে পারে, এবং এটা নাকি প্রায় সম্ভব। তাহলে আমরা যারা বিদেশে যেতে পারি নাই বা চাই নাই, তারা কোথায় যাব। এমন কি হতে পারে যে আমরা এই দেশেই কোনোমতে ঠাঁই খুঁজে নেব বা কেউ কেউ অধিক হারে উদ্বাস্তু হব ভারত বা অধিকতর ‘উন্নত’ কোনো দেশে আমাদের রিফ্যুজি কলোনি হবে? এই বিরাট ভরাডুবির ফলে দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল সংখ্যক জনগণ উত্তর-পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলের অপরের কাছে জমির ভাগ চাইবে, নতুন করে বাসা বাঁধবে সেটাই কি স্বাভাবিক নয়? সেক্ষেত্রে আমার একটা জরুরি প্রশ্ন আছে: যদি এমন ঘটে এবং তখনও আমাকে বেঁচে থাকতে হয় এই দেশে বা অন্য কোথাও, তবে আমি সঙ্গে কী নেব? কী ফেলে যাব, আর কী রাখব মনে–জীবনে? সেই বিষয়ে আজকে ভাবনা করতে চাই।

২৩শে মার্চ দুপুর বেলা বন্ধু প্রকাশক ঢাকা থেকে ফোন করে মৃদু স্বরে একবার বলেছিলেন: শহীদুল জহির ভোর রাতে মারা গেছেন। তারপর দুবার বা তিনবার তিনি আরও বিস্তারিত কী বললেন। আমি শুধু বুঝতে পারলাম, বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক ডুবে গেলে যদি কোথাও চলে যেতে হয়, শহীদুল জহির সমগ্রটাই নিতে হবে সঙ্গে। আর কেউ বা আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, শহীদুল জহিরের প্রকাশিত-অপ্রকাশিত পুস্তকের অস্তিত্ব জরুরি। কিন্তু দেশ ডুবলে বইগুলিও তো ডুববে, প্রকাশনা সংস্থা দেউলিয়া হবে, পাঠক পড়া ছাড়বে, লেখক হারাবে তার লেখার কলম-কম্প্যুটার অথবা লেখার সময়। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের বন্ধু শহীদুল জহির

ফয়জুল ইসলাম | ২৯ মার্চ ২০০৮ ৪:২১ পূর্বাহ্ন

২১ মার্চ ২০০৮-এ দুপুর ১টার দিকে শহীদুল জহির তাঁর ইস্কাটনের বাসার চার তলা থেকে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে এসেছিলেন বুকের ব্যথা নিয়ে। নিচে নামার পর তিনি আর চলতে পারছিলেন না; বসে পড়েছিলেন সিঁড়ির ওপরে। পাশের বাসার কোনো কাজের ছেলে তাঁকে বসে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আপনি কি অসুস্থ?’

শহীদুল জহির তাকে বলতে পেরেছিলেন, ‘আমাকে রিকশাতে তুলে দাও! হলিফ্যামিলি হাসপাতালে যেতে হবে।’

ছেলেটি তাঁকে কেবল রিকশাতেই তুলে দেয়নি; তাঁর সাথীও হয়েছিল। হলিফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে শহীদুল জহির তাঁর মোবাইল ফোন থেকে ভাগ্নেকে ফোন করেছিলেন, ‘আমার মনে হয় হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তোমরা সবাই হলিফ্যামিলিতে আসো।’

sj2.jpgহলিফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে ল্যাব এইড-এ শহীদুল জহিরকে স্থানান্তরের পর তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষদের কেউ কেউ তাঁর অসুস্থতার খবর জেনেছিলেন। তাঁদের ভেতরে অন্যতম হলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও লেখক আমিনুল ইসলাম ভুইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (যেখানে শহীদুল জহির সচিব হিসাবে কর্মরত ছিলেন)-এর উপ-প্রধান খলিলুর রহমান খান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-এর উপ-প্রধান জীবন রঞ্জন মজুমদার। শহীদুল জহিরের ভাগ্নের কাছ থেকে তাঁরা এ কথাগুলো জেনেছেন। শহীদুল জহিরের সাথে খলিলুর রহমান খান বা জীবন রঞ্জন মজুমদারের আর কথা হয়নি। তিনি তখন ল্যাব এইড-এর সিসিইউতে সংজ্ঞাহীন অবস্থায়। লেখক আনিসুল হকও সেখানে গিয়েছিলেন বলে জেনেছি। (সম্পূর্ণ…)

নিষুপ্ত শেকড়

নিরমিন শিমেল | ২৮ মার্চ ২০০৮ ১০:৫২ অপরাহ্ন

‘ছেলের বাবার নাম কী?’

প্রশ্নটার উত্তর অত্যন্ত সহজ। অথচ এই সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যেন থমকে গিয়েছিলেন সুধাময়ী। অজান্তেই মাথাটা নিচু হয়ে গিয়েছিল। অব্যক্ত এক বিষণ্ন বেদনায় অনবরত চোখের পাতা তির তির করে কাঁপছিল। নিচের ঠোঁটটা টিপে ধরায় চিবুকের ভাঁজে বিষণ্নতার রেখা সুস্পষ্ট।

মিশন স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল পুনরায় জানতে চাইলেন, ‘নাম কী ছেলের বাবার?’

সেদিনের সেই প্রশ্নের জবাবে সুধাময়ী অর্থাৎ তার মা কী বলেছিলেন আজ আর মনে পড়ে না। জবাবটা অস্পষ্ট দ্বিধাগ্রস্থ ঘোরালো হলেও সেদিনের ছোট্ট বাঁধনের বোধগম্য ছিল না পুরো ব্যাপারটা। স্কুলে ভর্তির এক অজানা অভিজ্ঞতা ও সরল উচ্ছাস নিয়ে বাসায় ফিরে এসেছিল। আজ প্রায় দেড়যুগ পরে একই প্রশ্নের সেই পরিচিত কণ্ঠস্বরের জবাব অত্যন্ত সুস্পষ্ট, দ্বিধাহীন ও জোরালো। উত্তরদাত্রী একই হলেও প্রশ্নকর্তা ও বিষয়ের পাত্রটি শুধু ভিন্ন। কণ্ঠস্বরে চমকে উঠেই মহিলার দিকে দৃষ্টিপাত করে বাঁধন। এতটা বছর পরে চিনতে একটুও ভুল হয় না তার। মাকে কি কখনও ভোলা যায়? বা ভুলে থাকা যায়? সঙ্গের ছোট্ট ছেলেটির বাবার নাম সাবলীল ভঙ্গিতে মহিলা উচ্চারণ করেই প্রশ্নকর্তাকে অঙ্গুলি নির্দেশ অদূরে দাঁড়ানো এক ভদ্রলোককে দেখিয়ে দেন। দৃশ্যটা যাচাই করে মুহূর্তে ঘাড় ঘুরিয়ে নেয় বাঁধন। তাৎক্ষণিক দ্রুত হাতে মাফলারটা কান ও মুখের উপর দিয়ে পেঁচিয়ে এনে আত্মগোপন করার চেষ্টা করে। শুধু চোখ দুটো অনাবৃত। সেই চোখের দৃষ্টি টানা সরলরেখা হয়ে ভাবলেশহীন ভাবে দিগন্তে মিলিয়ে যায়। প্রশ্নকর্তাকে হাত ইশারায় বিদায় জানিয়ে ওরা তিনজন স্কুটারে চেপে বসে। স্টিয়ারিং ধরা বাঁধনের হাতদুটো হিম হয়ে আসে। প্রাণপণে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে স্কুটার চালাতে থাকে। এক হাত দিয়ে গাড়ির সামনের ছোট্ট মিররটিকে ঈষৎ অ্যাঙ্গেলে ঘুরিয়ে দেয় যাতে ওর প্রতিবিম্বটি মায়ের আর দৃষ্টিগোচর না হয়।

বাঁধন জানতো যে তার বাবা মারা গেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে সপরিবারে আশ্রয়কালীন সময়ে মায়ের বিয়ে হয়। বিবাহিত জীবন ছিল মাত্র দু’মাস। সেখানেই বাঁধনের জন্ম। তারপর দেশ স্বাধীন হওয়ার বেশ পরে পুনরায় সপরিবারে দেশে প্রত্যাবর্তন। আজন্মকাল মায়ের বৈধব্যের বেশ দেখে এসেছে বাঁধন। শাঁখাহীন বাহু, সিঁদুরহীন সিঁথি, পরনে শাদা থান। (সম্পূর্ণ…)

লেখকের প্রয়াণ: শহীদুল জহির ও আমাদের কথাশিল্পের ভুবন

অদিতি ফাল্গুনী | ২৮ মার্চ ২০০৮ ২:০৮ পূর্বাহ্ন


গত ২৪ শে মার্চ ২০০৮ তারিখে কথাশিল্পী শহীদুল জহিরের আকস্মিক মৃত্যুর প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক শোকবিহ্বলতা থেকে আর্টস ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর জন্য একটি লেখা প্রস্তুত করেছিলাম যা ২৫শে মার্চ বিকেলে প্রকাশিত হয়। গত দু’দিনে শহীদুল জহিরের প্রকাশিত কিছু বই হতে উদ্ধৃতি, ক্ষেত্রবিশেষে ছোট-খাট তথ্য সংশোধন ও পরিমার্জনার পর লেখাটি ঈষৎ পরিবর্ধিত আকারে নিবেদিত হলো।

s-j1-color.jpg……
শহীদুল জহির (১৯৫৩-২০০৮)
……
এবারো চৈত্র-বৈশাখ- জৈষ্ঠ্যে দক্ষিণ মৈশুন্দি, নারিন্দা, বনগ্রাম, ওয়ারি, র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিট, জোড়পুল, ভূতের গলি কি পদ্মনিধি লেনে গরম পড়লে মহল্লায় মহল্লায় তরমুজ বিক্রি হবে। সবুজ রঙা তরমুজের রক্তলাল কাটা ফালির অবিশ্বাস্য বর্ণিল পৃথিবীর ঘুলঘুলাইয়া কি গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাবে মহল্লার মানুষ। মহল্লার কোনো কোনো তরুণ শেফালী নামের কোনো তরুণীকে দেখে ডাক দেবে: ‘এই শেপালী ফুল গাছ!’ তখন মহল্লার মেয়ে ঝর্ণা বসাক একদিন সিনেমার দামি নায়িকা শবনম হয়ে যাবে, চান্দা তালাশ ছায়াছবিতে তাকে দেখা যাবে আর হাজি ফুড প্রোডাক্টসের মালিক বৃদ্ধ হাজি আব্দুর রশিদ সাহেবের মৃত্যুশয্যায় যখন ইচ্ছা হবে তরমুজ খাবার কিন্তু তখন তরমুজ খাবার সময় নয় বলে পাঁচবার তরমুজ চাওয়ার পরও তিনি তরমুজ পাবেন না, তিনি তখন সঙ্কটের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেন এবং বড় ছেলেকে একটা তরমুজের ফ্যাক্টরি বসাতে বলেন, হাজি সাহেবের ছেলে মহল্লার দক্ষিণ প্রান্তে পড়ে থাকা এক টুকরো খালি জমি কিনে ফেলে এবং হাজি ফুড কোম্পানির ফ্যাক্টরি তৈরির কাজ শুরু হয়…আর এভাবেই লেখা হয় আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস। মার্কেজের লিফ স্টর্ম বা পাতাঝড় উপন্যাসের কথা আমাদের মনে পড়ে যেতে পারে। মনে পড়ে যেতে পারে কলাম্বিয়ার আরাকাতাকায় ইউনাইটেড ফ্রুটস কোম্পানির শিল্পায়নের ইতিহাস। জহির তবু জহিরই। আমাদের গরম আর আমাদের তরমুজ তার মতো করে কে আর লিখেছেন? আজো মনে আছে ১৯৯৫ সালের এক মে দুপুর। ১৯৯২-এ নন হজক্যান্স লিম্ফোমা ক্যান্সারের চিকিৎসায় আট কোর্স কিমোথেরাপি নেবার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াবশতঃ ১৯৯৫-এ দু’পায়ে দুটো অপারেশনের পর সম্পূর্ণ শয্যাবন্দি অবস্থায় একদিন শুয়ে শুয়ে পড়ছিলাম মারুফ রায়হান সম্পাদিত মাটি সাহিত্য পত্রিকা। সেখানেই প্রথম শহীদুল জহিরকে পাওয়া গেল। তার তরমুজ খাবার ও খাওয়াবার গল্প। যেন আশ্চর্য এক যাদুকর একটি গোটা বাক্যে গোটা গল্প বা একটি জাতির গোটা কুটিরশিল্পের ইতিবৃত্ত লিখবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় দাড়ি বা পূর্ণ যতিচিহ্নবিহীন এবং শুধুমাত্র কমা ও সেলিকোলন নির্ভর আশ্চর্য ধূলিঝড়ের উদ্ভাসে মুছে দিল পাঠক ‘আমি’র অসুস্থতা-ক্লান্তি-খিন্নতা! মাত্র একটি বাক্যে মুদ্রিত আঠারো পৃষ্ঠার একটি গোটা গল্প শেষ শব্দে এসেও দাড়ি বা পূর্ণ যতিচিহ্ন দেয় না। গল্পটি শেষ হয় একটি কমাতে। এই গল্পে শুধু তরমুজ নয়, আছে মহল্লার লেদ মেশিন কারখানা, মহল্লায় দিনে দেড়মণ নাটবল্টু, দশমণ পাউরুটি/বিস্কুট/লেবেঞ্চুশ, সাত গ্রোস কাচের গ্লাস বানানোর বিবরণ, আছে হরদেও গ্লাস ফ্যাক্টরির কথা, ‘শেফালি ফুল গাছ,’ ঝর্ণা বসাক ও তার পিতা ননী বসাক, মহল্লার একমাত্র কবি ও অন্তিমে পাবনার পাগলাগারদে প্রেরিত আজিজুল হক, অসুস্থ কিশোরী পুতুল এবং হাজি আব্দুর রশিদ কর্তৃক নিঃসন্তান বিধবা রহিমা বিবির দেড়কাঠা জমি গ্রহণ সহ নানা অনুষঙ্গ। কিšত্ত, গল্পের এসব অনুষঙ্গের চেয়ে মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় গল্পের গল্পহীনতা ও অদ্ভুত এক ভাষার ঘূর্ণি। সামান্য উদ্ধৃত করি: ‘আমাদের মহল্লা, দক্ষিণ মৈশুন্দির শিল্পায়নের ইতিহাস আমাদের মনে পড়ে; মহল্লায় গরম পড়তে শুরু করলে চৈত্র, বৈশাখ অথবা জ্যৈষ্ঠ মাসে তরমুজওয়ালারা তরমুজ নিয়ে আসে এবং আমরা তরমুজ খেতে শুরু করি, আমরা তখন তরমুজ সম্পর্কে সচেতন হই; আমরা লক্ষ করি যে, এই তরমুজওয়ালারা মহল্লার গলির সংকীর্ণ একটি জায়গায় মাটিতে দেয়ালের পাশ ঘেঁষে, গোল গোল তরমুজের ছোট ছোট ঢিবি বানিয়ে বসে, তারা এই জায়গায় কেন বসে আমরা বুঝতে পারি না, ফলে এই জায়গায় এসে রিকশা, ঠেলাগাড়ি, গরুর গাড়ি, বেবিটেক্সি, কুকুর, বেড়াল, ছাগল এবং মানুষ একটি জট পাকিয়ে ফেলে; দক্ষিণ মৈশুন্দিতে মাছি বেড়ে যায়, আমাদের নাকের উপর সেগুলো এসে বসে, নীল মোটা মাছি এবং কালো সরু মাছি, ফলে আমরা বিরক্ত হই; আমরা তাদেরকে বলি, তুমরা এই মাছির দিনে তরমুজ লয়া আহ ক্যালা!’ (সম্পূর্ণ…)

সেদিন তুষার ঝরেছিল

ইমতিয়ার শামীম | ২৭ মার্চ ২০০৮ ৮:২৩ অপরাহ্ন

শহীদুল জহিরের মৃত্যুর পরপরই কোনও কিছু লেখার বেলায় আমার ব্যক্তিগত সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই হলো, তাঁর সঙ্গে আমার মুখোমুখি পরিচয় ছিল না। দশকওয়ারি সাহিত্যবিভাজনে বিশ্বাসী সম্পাদক ও
sj1.jpg…….
শহীদুল জহির
…….
আলোচকরা যাদের গায়ে আশির দশকের ছাপ লাগিয়েছিলেন, শহীদুল জহিরসহ আমাদের অনেকের গায়েই সেই ছাপ এতদিনে সুস্পষ্টভাবে বসে গেছে অনেকটা জন্মদাগের মতো। আক্ষরিক জন্মের কথা ধরলে তিনি আমার একযুগ আগে পৃথিবীতে এসেছেন। তবু এখন সম্পাদক ও আলোচকদের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি,–তাঁরা আমাদের একই সময়ের বৃত্তে আবদ্ধ করেছেন জন্যে। আশির দশকের উল্লেখযোগ্য সব লেখকের সঙ্গেই ধীরে ধীরে আমার পরিচয় হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু শহীদুল জহির। তাঁকে আমি মুখোমুখি দেখি নি। তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয় নি।

কালাকালের অর্থে এই দেখা হওয়া না-হওয়া অবশ্য কোনও বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু মানুষ যখন বেদনার্ত হয় তখন মহাকালের কথা ভাবে না। মৃত্যুগন্ধী সময়ের আবেগই তাঁর কাছে বড় হয়ে ওঠে। এ জন্যেই হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটির কথা বলতে গিয়ে হয়তো ব্যক্তিটির সঙ্গে স্মৃতিচারকের স্মৃতিগুলিই বড় হয়ে ওঠে। যতক্ষণ না তা হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটিকে অবলম্বন করে নিজেকেই বড় করে তোলার মতো না হয় ততক্ষণ তা দৃষ্টিকটূও নয়। সত্যিকার অর্থে মানুষটির প্রতি ব্যক্তিগত মুগ্ধতা ছাড়া এইসব সময়ে অন্য কোনও বয়ান খুব বেশি প্রীতিকর মনে হয় না। অথচ তেমন কোনও সঞ্চয়ই নেই আমার, যা দিয়ে আমি তাঁর সঙ্গে একটু ব্যক্তিগত হতে পারি। (সম্পূর্ণ…)

শহীদুল জহিরের সাথে কথপোকথন

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর | ২৬ মার্চ ২০০৮ ১০:১১ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ছোটকাগজ কথার জন্য একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন লেখক শহীদুল জহির। ২০০৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় কথার সম্পাদক কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর লেখকের বেইলি রোডের সরকারী বাসভবনে এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। সাক্ষাৎকারটি লিখিত হওয়ার পর শহীদুল জহির তার বাচন রীতিতে কিছু পরিবর্তন সাধন করেন। কথা সম্পাদকের সৌজন্যে নতুন ভূমিকা সহ সাক্ষাৎকারটি এখানে ছাপানো গেল।

●●●

কোথায় পাব তারে

শহীদুল জহিরের সাথে আমার পরিচয় ছোটকাগজ কথার মাধ্যমেই। সেই ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের কথা, তখন তিনি কোনো একটা মন্ত্রণালয়ের হয়ত sj2.jpg
…….
শহীদুল জহির (১৯৫৩-২০০৮)
…….
যুগ্ম-সচিব ছিলেন। তখন তো সেল ফোনের এত ছড়াছড়ি ছিল না। তাঁরও সেই যন্ত্রটা ছিলই না। ল্যান্ড ফোনের মাধ্যমে তাঁর সাথে কথা হয়। আমি তাঁর নাম্বারটি কালেক্ট করি নিরন্তর সম্পাদক নাঈম হাসানের কাছ থেকে। আমি তখন জানতাম যে নাঈম তাঁর নিরন্তরের জন্য একটা গল্পের ব্যাপারে তাঁর সাথে যোগাযোগ রাখছেন। আমি যখন ফোনে শহীদুল জহির হিসাবে কথা বলতে চাচ্ছিলাম, তিনি সেই চেয়ারের প্রতিনিধি হিসাবে ততবারই সেই চেয়ারের পোশাকি নাম মো. শহীদুল হক হয়ে উঠতে চাইছিলেন। যাই হোক, ফোনে আমায় তিনি এটুকু আশ্বস্ত করলেন যে, আমাকে গল্প দিতে তার কোনো আপত্তি নেই, তবে তাকে সময় দিতে হবে। আমি তখন মাত্র কথা বের করার তীব্র স্পৃহাতে ডুবে আছি। আমার তো তাতে বিন্দুমাত্র আপত্তি থাকার কথা নয়। তাঁর সাথে এভাবে আমার যোগাযোগ শুরু হলেও এটা বুঝতে পারছিলাম ওর সাথে যোগাযোগ মানেই কথার একধরনের সত্তা নির্ধারণের অংশ পেয়ে যাওয়া।

একসময় তিনি কথার জন্য গল্প দিলেন। এতেও তাঁর সিরিয়াসনেস দেখে আমি খুবই মুগ্ধ হয়েছিলাম। তিনি তাঁর লেখার ব্যাপারে, এর ছাপার ব্যাপারে একটা নির্ধারিত ধারা ফলো করতেন। আমি অন্তত তাই দেখেছি। আমি ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেখাটি দিতে প্রস্তাব করলে তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান না-করলেও আমার ধারণা হলো তিনি লেখাটি সরাসরি আমাকে দিতে চান। তখন আমি আমার এক রিলেটিভকে পাঠালাম তার বাসায়। তিনি তাঁর গল্প ‘ঐ ডলু নদী দেখা যায়’ দিলেন। তিনি এর একটা হার্ড কপি যেমন দিলেন তেমনি ফ্লপিতে একটা কপিও দিলেন। আমার ফ্লপিটি আমার কম্পিউটারে অপেন হওয়াতে আমার বেশ ভালো লাগল। কারণ লেখাটি যেমন আছে ঠিক তেমনই আমি ছাপাতে চাচ্ছিলাম। তবে গল্পটি পাঠে এর ভিতরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া অঞ্চলের যে ভাষাটি ব্যবহার করা হয়েছে তার দু-এক জায়গায় কিঞ্চিৎ পরিবর্তনও করেছিলাম। বানান এবং বাক্যের ব্যাপারেও দুই-এক জায়গায় তাঁর সাথে মতবিনিময় আর তাঁর সম্মতির মাধ্যমে পরিবর্তনও করেছিলাম। (সম্পূর্ণ…)

পাঁচটি কবিতা

আলতাফ হোসেন | ২৪ মার্চ ২০০৮ ১১:৫৪ অপরাহ্ন

ফিরে এসেই না দেখছি

একজন ‘আত্মীয়’ দাওয়াত খেতে ডাকলে
রাকা আর আমি
আমরা গোলাম
আমাদের খেতে দেওয়া হলো পায়েস
আমরা খেলাম
খেতে দেওয়া হলো ডিমের হালুয়া
আমরা খেলাম
খেতে দেওয়া হলো কোরবানির খাসির কলিজা
খাসির মগজ
খাওয়া বারণ খাওয়া বারণ
আমরা খেলাম

কোনো কথা না বলে কোনোই কথা না বলে

ফিরে এসেই না দেখছি এমন ফাসবিন্দারের নীরব, স্তব্ধ ছবি!

(আসলে মত হচ্ছে এই আমার যে সকল শব্দেই উদ্ধৃতিচি‎হ্ন বসবে, আর ‘আত্মীয়’ শব্দের সঙ্গে দুটো করে, কিন্তু চি‎হ্নের এমন জঙ্গল তৈরি হলে সেও এক বিচ্ছিরি ব্যাপার! পদ্য-রচয়িতা)

শুভ্রা গানে মজলাম

শুভ্রা গানে মজলাম, মরলাম
বেশ, তবে যা তোমার নাম
কেন তুমি বললে তাঁরই দান, তাঁর
কেন তুমি বললে তাঁরই দান, তাঁর

তোমার তো সুর ছিল, নিজেরই তো সুর, সব সব বোঝাবার! (সম্পূর্ণ…)

কয়েক টুকরো সুইজারল্যান্ড

সুমন কায়সার | ২৪ মার্চ ২০০৮ ৪:২৩ অপরাহ্ন

3.jpg
মাউন্ট পিলাটুস-এর চূড়ায় লেখক

সুইজারল্যান্ড দেশটা যে সত্যিই অন্যরকম–মানে অন্তত ইউরোপের অন্য প্রতিবেশীদের চেয়ে–তা বোঝা গেল জুরিখে পা দিয়েই। এত নামডাকঅলা শহর–কেতাবি ভাষায় রীতিমত নগরী–কিন্তু বড় দালানকোঠা আর ভিড়ের কোনো আভাস মিললো না শহরকেন্দ্রের অদূরের এয়ারপোর্ট থেকে। প্রায়-নির্জন বিমানবন্দরের ভেতরে ভিক্ষে করতে বসা তামাটে চামড়ার বাঁশুরিয়া আরেক চমক। তার পরনে দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসীদের পোশাক বিস্ময়ের ঘোরটায় আরেকটি মাত্রা যোগ করে।

জুরিখকে ভালো লেগে গেলো প্রথম দেখায়। দুনিয়ার সবচেয়ে গিজগিজ ভিড়ের দেশের মানুষ এ ভ্রমণকেচ্ছা লেখকের জনবিরল জায়গামাত্রই অবশ্য ভালো লাগে।

বিমানবন্দর থেকে আমাদের তিন বন্ধুকে রিসিভ করে নিয়ে গেলেন চটপটে প্রবাসী এক যুবক ইকবাল। পথে দেখলাম কয়েকদিন আগে ঝরা তুষারের ছিটেফোঁটা। তবে পাহাড়ে গেলে মেলাই তুষারের ভরসা দিলেন ইকবাল। আমাদের জন্য হোটেলও তিনি ঠিক করে রেখেছিলেন ইতিমধ্যে। ব্রিটেন থেকে বেড়াতে যাওয়ায় আমাদেরকে বোধহয় ‘লন্ডনী’ ভেবে মোটামুটি দামি হোটেল ঠিক করেছিলেন ইকবাল। ট্যাকের জোর টেনেটুনে ব্যাকপ্যাকারের তা বলাবাহুল্য মনে করে তাকে জানানো হয়নি আগে থেকে। হোটেল বদলের পাঁয়তারা নিয়ে বেশ মজাও হয়েছিল। সে আরেক কাহিনী। (সম্পূর্ণ…)

পুজোয় শিলং: অক্টোবর ২০০৪

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২১ মার্চ ২০০৮ ৩:১৫ অপরাহ্ন

02.jpg
নওকালিকাই ফল্‌স, শিশুহন্তারক মায়ের কান্না

03.jpg
রুবি, রুবাই ও লেখক; পেছনে সেভ্‌ন সিস্টার্স প্রপাত

বৃষ্টি ভেজা ঠান্ডার দিনে ভোর-ভোর উঠতে কারও ভাল লাগে? কিন্তু কী করা। কম্বল সরিয়ে বাবুকে উঠতেই হয়েছে। ও না উঠলে বৌ-মেয়ে নড়বে না মোটেও। সকালে তৈরি হতে ওরই সবার চেয়ে বেশি সময় লাগে। তাই আগে উঠে সে টয়লেটে যায়। তার আগে অবশ্য গায়ে একটা হালকা পুলোভার চাপাতে হয়েছে।

এবারের পুজোয় দেশের বাইরে বেড়াতে আসাটা হুটোপাটি করেই করতে হয়েছে। পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না তেমন। বাবু নিজে অবশ্য মে মাসেও একবার ঘুরে গেছে। সঙ্গী ছিল ওর মামাতো ভাই তমাল। সেই ১৯৭২-এর ১লা বৈশাখ কোলকাতা থেকে ঢাকায় এসে নামার পর কাজে-অকাজে ভারতের উত্তর-পশ্চিম-দক্ষিণে বারকয়েক যাওয়া ঘটলেও পুবের পাহাড়ে আর আসা হয়ে ওঠেনি।

মূলত তমালের তাগিদেই গ্রীষ্মের ছুটিতে আসা গিয়েছিল। মেঘালয়ে মে-জুনে বৃষ্টি পড়ে, অক্টোবরে তার ঘটা কমে এলেও বর্ষাবিধুরতা থেকে যায়। টয়লেটে গিয়ে মনে পড়ল, তাড়াহুড়োয় সে ছাতা আনেনি, কিনতে হবে। ওরা বোধহয় এনেছে, গত বর্ষায় দার্জিলিং বেড়াতে গিয়ে ওটা রপ্ত করেছে। আর, মেয়েরা তো এমনিতেও অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যপ্রিয় হয়ে থাকে। ওরা জ্যাকেটও এনেছে। ভাগ্যিস, হোটেলটাতে ২৪ ঘন্টা গরম জলের সরবরাহ রেখেছে। উপমহাদেশে ভ্রমণের যেটুকু অভিজ্ঞতা বাবুর ঝোলায় জমেছে, তাতে শিলং-এর পুলিশ বাজারে এই হোটেল সেন্টার পয়েন্টে উঠে সে মোটামুটি সন্তুষ্ট। কারণ, রুবি ও রুবাই দুজনে বেশ স্বস্তিতে ঘুমোচ্ছে। ওই হিসেবে সে নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করে। ওরা বাতিকগ্রস্ত নয় তেমন, মানে মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা হলেই খুশি।

দেয়ালজোড়া ভারি পর্দা সরাতে ভোরের হালকা কুয়াশা ঢাকা আকাশ, ঘোলাটে মেঘের দলের মন্থর ভেসে যাওয়া আর মেঘ সরে গেলে দূরের শিলং পীক দেখা গেল। হালকা ব্যায়াম সারার মাঝে সে রুম সার্ভিসে ফোন করে ছোট একপট চা দিতে বলল। দরজায় মৃদু নক্ শুনে বাবু ঘুমন্ত মহিলাদের এক নজর দেখে নিয়ে দরজা খুলল। দুজনেই কম্বলের নিচে আপাদমস্তক। (সম্পূর্ণ…)

Oral Traditions of Bangladesh: Some Basic Traits

shamsuzzaman khan | ২১ মার্চ ২০০৮ ২:২৩ অপরাহ্ন

In the USA and some European countries the synchronic method of studying folklore has been a modern trend in recent times. Since this sub¬continent of ours has a history of great antiquity and a perennial backwardness in social development, non-literate culture or oral culture still has an abiding influence. This means the synchronic method in the study of our folkloric corpus will not help us identify the inner significance of many local folk-genres. Therefore, our research paradigm must be formulated integrating both the synchronic and the diachronic methods. Unless we can build a holistic discourse model of this kind, the objective study of our folklore is not possible. A.K. Ramanujan has, as we notice, made an attempt of this kind in his study of Kannada and Tamil folklore1. No such innovative attempt has yet been noticed in the eastern part of the sub-continent, particularly the region comprising Bangladesh, West Bengal etc.

However, it is important to note that the active tradition bearers perform the items of their repertoire keeping in mind the historical continuity of local performance tradition. This is why the performance of a folk narrative or folksong or a ballad cannot be appreciated if it is viewed synchronically.

By ignoring the central authoritarian and hegemonic pressure and studying the ancient scriptures in the minutest detail the rural bards have succeeded in building a liberal cultural worldview of their own which is tolerant of others views and free from the bondage of religious fanaticism and scriptural injunctions. Rabindranath Tagore said, “Bangladesh had always been free from scriptural obsessions. The doctrines of Buddhism and Jainism had always an abiding influence in this country or its neighborhood. Both Magadha and Bengal were treated as outcastes. (সম্পূর্ণ…)

মিশেল ফুকোর

শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম (কিস্তি ৮)

অদিতি ফাল্গুনী | ২১ মার্চ ২০০৮ ১:৫১ অপরাহ্ন

—————————————————————–
সাধারণীকৃত শাস্তি
—————————————————————–
কিস্তি:

অনুবাদ: অদিতি ফাল্গুনী

খণ্ড ২ : শাস্তি

১ম অধ্যায়: সাধারণীকৃত শাস্তি

(গত সংখ্যার পর)

অপরাধের পুনরাবৃত্তি এড়াতে যথার্থ ভাবে শাস্তি প্রদান করতে হবে। উদাহরণের কৃৎকৌশলে এভাবেই পালাবদল আসে। যে শাস্তি অপরাধীর জন্য প্রকাশ্যে নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ড প্রদান অনুমোদন করে, সেখানে শাস্তির দৃষ্টান্তই যেন অপরাধের যোগ্য জবাব। শাস্তির এই দৃষ্টান্তমূলকতার ছিল এক foucaultbuffalo1971.jpg……
মিশেল ফুকো (১৯২৬-১৯৮৪)
…….
ধরনের যমজ প্রকাশভঙ্গি। একইসাথে তা যেন অপরাধ এবং অপরাধের দণ্ডদাতা সার্বভৌম সম্রাটকে তার নিষ্ঠুর চেহারাটি দেখাচ্ছে। যদিও দণ্ডদাতা সম্রাট নিজেই শাস্তিপ্রদান ক্ষমতার মালিক। যেহেতু অপরাধের শাস্তি এক ধরনের হিসাব করে দেওয়া হয় যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ও প্রকরণের শাস্তিতে একটি নির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়া যেতে পারে, শাস্তির দৃষ্টান্ত অবশ্যই উল্লেখ করবে যে ঠিক কোন ধরনের অপরাধের প্রেক্ষিতে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে শাস্তি প্রদান ক্ষমতার ব্যবহার হতে হবে সম্ভাব্য সবচেয়ে গোপনীয় পন্থায় এবং সবচেয়ে বেশি পরিমিতি বোধের সাথে। আদর্শগত ভাবেও, শাস্তির দৃষ্টান্তমূলকতার উচিত অপরাধ এবং অপরাধের দণ্ডদাতা সম্রাট, এই উভয়েরই পুনরাবির্ভাবকে ঠেকানো। শাস্তির উদাহরণ কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয় যা নিজেকে প্রকাশ করে। বরং উদাহরণ প্রতিবন্ধকতার চিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়। দণ্ডমূলক চিহ্নগুলোর এই কৃৎকৌশলের মাধ্যমে দণ্ডমূলক কাজের সাময়িক ক্ষেত্রটি পুরোপুরি উল্টে যাবার একটি প্রবণতা দেখা দেয়। আইনী সংস্কারকরা ভেবেছিলেন যে তারা শাস্তিপ্রদান ক্ষমতাকে একটি মিতব্যয়ী এবং দক্ষ যন্ত্রোপকরণ প্রদান করেছেন যা সমগ্র সমাজদেহের মাধ্যমে সাধারণ্যে প্রবাহিত হবে। এই যন্ত্রোপকরণ সমাজদেহের যাবতীয় আচরণকে বিধিবদ্ধ করতে সক্ষম হবে। এবং এই বিধিবদ্ধকরণের ফলাফল হিসেবেই বেআইনী কার্যক্রমের এলোমেলো পরিসরকে হ্রাস করতে সক্ষম হবে। যে প্রতীকী-কৌশলের (semio technique) সাহায্যে দণ্ডপ্রদান ক্ষমতাকে বলবান করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেই প্রতীকী কৌশল মোটামুটি পাঁচ/ছ’টি প্রধান নিয়মের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:

ন্যূনতম পরিমানের নিয়ম : এই মতানুযায়ী, একটি অপরাধ মূলতঃ সঙ্ঘটিত হয়ে থাকে কিছু সুযোগ-সুবিধার জন্য। অপরাধ সঙ্ঘটনের চিন্তা করার সময় কারো মনে যদি অপরাধের ফলে পাওয়া যেতে পারে এমন কিছু সুযোগ সুবিধার চেয়ে অসুবিধার চিন্তাটি বড় হয়ে দাঁড়াতো, তাহলে কিন্তু অপরাধটি কখনোই সঙ্ঘটিত হতো না। ‘শাস্তিকে সেই মাত্রার হতে হবে, যাতে করে শাস্তির ফলে অপরাধী যে কষ্ট পাবে, সেই কষ্টের মাত্রা অপরাধ করার পর সে যে আরাম বা সুবিধা পেয়েছে, তার থেকে বেশি হয়।’ (বেক্কারিয়া, ৮৯)। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com