স্ট্যানলি কুবরিক-এর ‌‌‘চলচ্চিত্র বিষয়ে নোট’

রাসেল পারভেজ | ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ৫:৫৪ অপরাহ্ন

strode_spartacus.JPG
কুবরিকের ছবি স্পার্টাকাস-এর দৃশ্য

বিশ শতকের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন চলচ্চিত্রকার স্ট্যানলি কুবরিক বিখ্যাত সব ছবি পরিচালনা করেছেন। তাঁর অনেক ছবিই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখানে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত তার ‘Notes on Film’-এর অনুবাদ প্রকাশিত হলো। বিভিন্ন সময়ে টুকে রাখা টুকরো টুকরো ভাবনার সংকলন এটি। এতে সে সময়ের ছবি, এর উপস্থাপন ও নির্মাণরীতি নিয়ে কুবরিকের নিজের ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে। কুবরিকের ছবিগুলো হচ্ছে Fear and Desire (1953), Killer’s Kiss (1955), The Killing (1956), Paths of Glory (1957), Spartacus (1960), Lolita (1962), Dr. Strangelove or: How I Learned to Stop Worrying and Love the Bomb (1964), 2001: A Space Odyssey (1968), A Clockwork Orange (1971), Barry Lyndon (1975), The Shining (1980), Full Metal Jacket (1987), Eyes Wide Shut (1999)। দেখা যাচ্ছে কুবরিকের বেশির ভাগ ছবিই এই নোটের পরের। ফলে তাঁর সব ছবিকে এই নোটের পরিপ্রক্ষিতে বিবেচনা করা যাবে না। পরবর্তী কালে ছবি বিষয়ে তাঁর চিন্তায় সংযোজন বিয়োজন ঘটে থাকতে পারে। তবে কুবরিকের এই নোট চলচ্চিত্র নির্মাণ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অনুবাদ: রাসেল পারভেজ

আমার মনে হয় না লেখক, চিত্রশিল্পী কিংবা ছবি নির্মাতারা বিশেষ কোনো বক্তব্য প্রকাশের জন্যই কাজ করেন। ভেতরের অনুভুতি প্রকাশের জন্য kubrick01.jpg
……
স্ট্যানলি কুবরিক (Stanley Kubrick; ১৯২৮-১৯৯৯)
……
নির্দিষ্ট একটা শিল্পরূপ তাদের পছন্দ—কেউ শব্দ ভালোবাসেন—কেউবা রংয়ের গন্ধ কেউ কেউ সেল্যুলয়েড আর ফটোগ্রাফিক ইমেজ আর অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করেন। তবে আমার মনে হয় না কোনো প্রকৃত শিল্পী কখনো বিশ্লেষণাত্বক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু সৃষ্টি করেছেন—এমন কি করতে যদি চেয়েও থাকেন।

যে ঐতিহাসিক পটভূমিতেই কিংবা যে মাপের সেটেই নির্মিত হোক না কেন প্রতিটা ছবি নির্মাণের জন্য প্রায় একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। আপনাকে বুঝতে হবে প্রতিটা দৃশ্যে কী ঘটছে আর নির্ধারণ করতে হবে এটা প্রকাশের সবচেয়ে উপযুক্ত পন্থা কী হতে পারে।

eyeswideshut.jpg
আইজ ওয়াইড শাট ছবির দৃশ্য

স্পার্টাকাস ছবির বিষয়ে বলতে পারি, নিরেট দেয়ালের পটভূমিতে কিংবা শত শত মানুষকে পেছনে রেখে যেভাবেই কোনো দৃশ্য চিত্রায়িত হোক না কেনো, এই ছবির প্রতিটা দৃশ্য ভাববার সময় আমি ভেবেছি পটভূমিশূন্য ভাবে—সেভাবে এটার রিহার্সেল হয়েছে—তারপর উপযুক্ত পটভূমি নির্ধারণ করেছি। (সম্পূর্ণ…)

পুরির গল্প

ইমরুল হাসান | ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ৩:০০ অপরাহ্ন

গল্পটা আসলে পুরির। চা-পুরি-সিঙ্গারা’র পুরি; সিলেটী পুরি, উৎপল বসু’র পুরি-সিরিজের পুরি কিংবা অন্য আর কিছুই না। খুবই বেদনাদায়ক ঘটনা এইটা। চূড়ান্ত অসাফল্যের একটা ইতিহাস, না-পারার একটা করুণ অধ্যায়।

তখন আমার বয়স দশ। শৈশব শেষ হচ্ছে প্রায়। একটু একটু কিশোর। পাড়ার মাঠ ছেড়ে রেলের মাঠে যাই মাঝে মাঝে। মাঝে মাঝে বাজারে যাই আব্বার সাথে। বাজার শেষে রিকশা করে দিলে একা একা বাসায় ফিরতে পারি। ইত্যাকার সব লক্ষণ। মানে আমি বোঝাতে চাইতেছি যে, আমি তখন আসলে আর শৈশবের ভিতর নাই। কিন্তু আমার সম্পর্কে তখনও নর-নারী ভেদ পুরাপুরি ঘটে নাই। নানুবাড়ি গেলে নানা-নানির সাথে এক বিছানাতেই থাকি। একটা বিহ্বল অবস্থার সূত্রপাতও হয় নাই। তখনও আমি কিশোর হওয়ার যোগ্যতাগুলির ভিতর দিয়ে যাওয়া শুরু করি নাই।

তখন আমি পড়ি ক্লাস ফাইভে। পৌরসভার মডেল প্রাইমারী স্কুলে। আমি বলছি, আশির দশকের মাঝামাঝির একটা সময়ের কথা। কিন্ডারগার্ডেন স্কুল তখনও চালু হয় নাই সেখানে। পৌরসভার মধ্যে নামকরা প্রাইমারী স্কুল। পৌরসভার তথা সমস্ত উপজেলার ট্যালেন্টপুল বৃত্তির একটা বড় অংশ এই স্কুল থেকে আসে। আমাদের আগের ব্যাচে উপজেলার সাতটা ট্যালেন্টপুল বৃত্তির পাঁচটাই এই স্কুলের ছিল। গল্পের এবং স্কুলের সাফল্যের সীমানাটুকু এই পর্যন্তই। এরপর থেকে আমার অধ্যায়, ব্যর্থতা আর অসাফল্যের গাঁথা। সেই ইতিহাসের বিবরণটা এবার পেশ করি। (সম্পূর্ণ…)

এবারের মেলায় আপনার কী বই বের হলো…

ব্রাত্য রাইসু | ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

১. সৈয়দ শামসুল হক
২. মুনতাসীর মামুন
…..

১.
সৈয়দ শামসুল হক

“রয়ালিটি এখনও রীতিবদ্ধ হয়নি এদেশে।”

syed-s-h.jpg

রাইসু: আপনার এই বছর কোনো বই বের হইছে কি?

হক: কেন, কাগজে দেখো নাই?

রাইসু: সবগুলি দেখি নাই, একটা দেখছি আপনার জেসমিন রোড

হক: দুরো প্রত্যেকটা ইয়েতে…কাগজ তো দেখো না! তোমার হোমওয়ার্ক নাই তো। তুমি কী সাংবাদিকতা করো! হে? ঐ? সব কাগজে বাইরাইছে। টেলিভিশনে সবসময় বলি। এত করলাম, তুমি বলো ‌জেসমিন রোড! জেসমিন রোড তো একটা পুরানো রিপ্রিন্ট।

syed-h-1.jpgরাইসু: তো, আপনি যদি বলতেন আপনার বই সম্পর্কে।

হক: বই সম্পর্কে তো না, তালিকা দিতে পারি।

রাইসু: তালিকা দিতে পারেন আর যদি অল্প কইরা বইগুলা সম্পর্কে কিছু বলেন আর কি।

হক: না বইগুলো সম্পর্কে কিছু বলার নাই। বই তো বইই। এই যেমন ধরো কবিতার বই। কবিতার বই বেরিয়েছে, অনন্যা প্রকাশ করেছে এটা। বইয়ের নাম হচ্ছে আমার সমাধি কালের প্রসাধন। এই কবিতার বই। (সম্পূর্ণ…)

পদ্মাপারের কড়চা

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ১১:২৬ অপরাহ্ন

মার্চের শেষ, ১৯৭১। লাগাতার কার্ফিউ চলছে। শিমূল পান্নুভাইয়ের আস্তানা থেকে নড়েনি। এরি মাঝে খবর এসেছে, ওদের ওয়ারির বাড়িতে তালা দিয়ে সবাই নানাবাড়ি চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ, কার্ফিউ বিরতি বাদ দিয়ে বাকি সময় তখন ঢাকাবাসী যার যার কন্দরে অন্তরীণ, পাড়ায় পাড়ায় রেইড হচ্ছে। ফাঁদে পড়া ইঁদুরের মতো ঢাকাবাসীকে ওরা পছন্দমাফিক তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

অপরিসীম আতংক সর্বত্র। যুক্তি, বুদ্ধি কাজ করছে না। শিমূলের অবাক অবাক লাগে, শহরটা অচেনা হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। নিরাপত্তার কোন বোধই যেন আর চেনা নয়। বিশেষ করে ওদের মতো ইউনিভার্সিটির শেষ পরীক্ষা দিয়ে বসে থাকা তরুণেরা তখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পড়েছে, রাতগুলো দুঃস্বপ্নের দখলে।

সায়েন্স ল্যাবে পান্নুভাইদের সেকশনে, ড. আমিনউদ্দীনের গবেষণাগারে আর কতক্ষণ কাটানো যায় ! মায়ের সঙ্গে কথা হল। ওরা চলে যাবেন যে-কোন দিন। কবে আবার আরিচা-গোয়ালন্দ ফেরি বন্ধ হয়ে যায়, সে শংকাও রয়েছে।

পাকিরা বড় বড় শহরে ওদের অবস্থান শক্ত করে নিয়ে দিন সাতেকের মধ্যে ক্রমশঃ বাইরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। আর, চারদিক থেকে তখন অবাঙালি মানুষজন ঢাকায় এসে নামছে, বাঙালিদের ছেড়ে যাওয়া বাড়িঘর দখল করে নিচ্ছে, এরকম কথাও কানে আসছে। ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকের উল্টো ফুটে চিটাগাং রেস্টোর‌্যান্টে চা খেতে বসে শিমূল শুনল, ময়মনসিংহ থেকে আসা বিহারিদের একটি দল নাকি ওয়ারি এলাকার বাড়িঘরে উঠে পড়েছে। (সম্পূর্ণ…)

ত্‌লাংময় স্বপ্নচূড়ায়

সজল খালেদ | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ২:১২ অপরাহ্ন

কেওক্রাডং কিংবা তজিনডং (বিজয়) নয়, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পাহাড়ের নাম ত্‌লাংময় স্বপ্নচূড়া (৩৪৬১ ফুট)

041tlangmoy-swapnachura.jpg
ত্‌ল­াংময় স্বপ্নচূড়া

ভূমিকা
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পাহাড় নিয়ে কিছু বাদানুবাদ ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। দ্বিতীয় আরোহনকারী একটি চালাক দল (যাদের সাথে ফেরার পথে আমাদের দেখা হয়) আমাদের চার/পাঁচ দিন পর শিখর বিজয় করে ফিরে এসে তড়িঘড়ি করে আমাদের সংবাদ সম্মেলনের দুদিন আগেই কয়েকটি পত্রিকাতে তাদের লেখা ছাপানোর ব্যবস্থা করে। অনৈতিকভাবে তাদের লেখায় প্রথম বিজয়ী দলের কথা না লিখে তারা নিজেদের কথাই বলে এবং আমাদের নির্ধারিত নাম উপেক্ষা করে নতুন একটি নাম তারা ঘোষণা করে। প্রসঙ্গতঃ বিশ¡ব্যাপী নামবিহীন অপরিচিত শৃঙ্গের নামকরণ করে থাকেন প্রথম বিজয়ীরা।

একটি জাতীয় দৈনিকে রিপোর্টে বিভ্রান্তকর বক্তব্য এবং ভুল তথ্যের মিশেলে পুরো ব্যাপারটিকে গোলমেলেভাবে উপস্থাপন করা হয়। পরে আমাদের পাঠানো একটি প্রতিবাদ তারা আংশিক প্রকাশ করে।

প্রথম সমতলের বাঙালি হিসাবে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গবিজয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর খুটিনাটি নির্ভুল রাখা জরুরি।

047.jpg
ত্‌ল­াংময় স্বপ্নচূড়ায় অভিযাত্রীদল

পর্বতারোহী জিং ফালেন
এই খবরটি শুনলে কেমন লাগবে যে বিশ্ববিখ্যাত বৃটিশ পর্বতারোহী জিং ফালেন ২০০৫ সালে প্রথমবারের মত আরোহণ করার আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পাহাড়টি এতদিন সবার অলক্ষে রয়ে গিয়েছিল! (সম্পূর্ণ…)

পাঁচটি কবিতা

মুজিব ইরম | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ৪:২১ অপরাহ্ন

শ্রী

আগরধূপ ও গোলাপজলে পন্থধারা ধুয়ে দিয়ে
পাকপাঞ্জাতন বন্দি করে যদি ডাকি
ও আমার নির্ধনিয়ার ধন…
পাঁচটি মোমের বাতি হয়ে আসবায় নি গো তুমি?

আমার মুর্শিদ-ফকির নাই
আমার ঈমান-আমল নাই
তোমার শ্রীতনুতে সিজদা হয়ে মৃদঙ্গ রাঙ্গাই।

নাই ক্ষমতা ফানাফিল্লা হবো
মেঘ-আন্দারি রাতে
পাঞ্জাতনের আসর বসাই তোমার চরণ ছোঁবো।

শ্রী রাগ

এমন সায়ংকালে বাঁধিয়াছো তুমি শ্রী রাগ স্তব্ধতা…
আমাকে উজাড় করো–
স্ফূরিত তানের মোহে ফানা হয়ে থাকি…
আরাত্রিক তাপে কালিজা চৌচির করে নেমেছে গমক
গিটকিরী ভুলে আর কি হবো না সমর্পিত আরাধ্য-বেলায়?
প্রত্যহ জপেছি–
তোমার নামের মাঝে বাজুক কম্পন
এমন আহ্নিক-কালে পুনর্বার সাষ্টাঙ্গে মিনতি–
আমাকে তোমার এসরাজের ছিঁড়ে-যাওয়া তারের কম্পিত কান্না করে নাও। (সম্পূর্ণ…)

Shudhiranjan and the early morning train

Mir Waliuzzaman

‘I’ve to catch the early morning train, wake me up at dawn’-
Saying so, Shudhiranjan stepped into the water.

This is Shudhiranjan, waves kiss his hands and feet,
Floral green motifs on the end of a sari dance in his view, a pair of bracelets adorns
An ethereal shape supine—spread out in water, on landmass,
A civil posture indeed.

Waves rise and fall, rhyming with the steam engine’s shrilly call
At a distance–
A python hisses in every cell of the brains,
Swallows without compunction—all happy portraits, sonic Memories nocturne, exquisite utensils cast in metals!

Behold, the engine has broken speed alongside the platform,
Holding the world within its carriages,
Pale visage rubs against the misty panes,
Sons and daughters, father and mother,
Languishing locks of hair, a feline profile exudes coital bliss,
Eager, indifferent.

Waves curb themselves on the ancient, timeworn ebony quay,
As the dawn train slams on the brakes; from abysmal depths
Someone blows the compulsive whistle, Shudhiranjan slips down and
Down; the platform looks deserted, water sport terminates,
Shudhiranjan the aquanaut surfaces like a Poseidon!

Bangla original: Habibullah Shirajee
English version: Mir Waliuzzaman

Penance

Nudrat Lohani | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ৩:৩৫ অপরাহ্ন

Won’t you save me, hon?
Standing at your threshold,
Mundane madness.
My hair blows in the screaming wind.
And here they come.

Won’t you save me, hon?
Drenched in your holy water;
My demons gone mad.
Trumpets of the death parade.
And here they come.

Won’t you save me, hon?
My skin might crawl,
But I am willing to purge
My sanity.
Through the hollow heart
Of your prisoner.
Sweat beads of my penance
Lazily surface on my forehead.
Sluggishly climbing down my age lines
To your vision of the white.
And here they come.

And I leap.
Reach out for your halo.
My fingers forge through
Your holograph.

And here they are.
Melting us.
Purging us.
Merging us.
As your essence rises above me.

Oh honey,
Save me.

বাংলা ভাষা, হিন্দি ভূত এবং কিছু প্রসঙ্গ

আদনান সৈয়দ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ৩:১৯ অপরাহ্ন

boi-mela.jpg
বইমেলায় নিজ গালে শহীদ মিনার আঁকিয়ে নিচ্ছে এক শিশু

ফারাবীর বয়স আট, পড়ছে একটি ইংরেজী মিডিয়ামে। বেশ প্রাণচঞ্চল আর প্রচণ্ড মেধার অধিকারী এই ছোট্ট শিশুটির চোখে-মুখে অনেক আশাবাদী স্বপ্নের ছোঁয়া লেগে আছে। ফারাবী বাংলা-ইংরেজী মিশিয়ে ওর মা-বাবা আর চারপাশের চেনা-পরিচিতদের সাথে ভাষাগত যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে। কিন্তু গত পরশু একটা ছোট্ট ঘটনা ওর পরিবারের সবাইকে একটা বিপদে ফেলে দিল। ফারাবী কম্পিউটারে ভিডিও গেম খেলছে আর অনর্গল হিন্দিতে নিজের সাথেই কথা বলে যাচ্ছে। অবাক কাণ্ড! বিশুদ্ধ হিন্দি জবান এই আট বছরের শিশুর মুখে!! সবাই খুব অবাক হলেও ওর মা কিন্তু মোটেও ততটা অবাক হলেন না। ওর মার দাবি এর জন্য দায়ী টিভি মিডিয়া অর্থাৎ হিন্দি চ্যানেল। বাচ্চাগুলো কার্টুন নেটওয়ার্ক-এর ওপর প্রায় সারাক্ষণই হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকে। আর এই কার্টুনগুলো ইংরেজী ভাষা থেকে হিন্দিতে রূপান্তরিত। বোঝা গেল এই কচি কণ্ঠে বিশুদ্ধ হিন্দির জায়গা করে নেওয়ার পেছনের রহস্যটা কী? এবার সত্যি ভয় পেতে হল! বাংলা ভাষাটা অদূর ভবিষ্যতে বাংলা ভাষাতে থাকবে তো? যে ভাষার জন্য আমাদের এত প্রাণ, এত রক্তক্ষয় সেই প্রিয় ভাষাটি ধীরে ধীরে হিন্দি-ইংরেজি সংমিশ্রণে এক কিম্ভূতকিমাকার ভাষায় পরিণত হয়ে যাবে এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠল। শুধু ভাবছিলাম, বুদ্ধদেব বসু যে অর্থে আধুনিক নগর সভ্যতাকে ‌`সভ্যতার চণ্ডলাবৃত্তি’ বলে গাল দিয়েছিলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের ভাষার বারোটা বাজানোর জন্য আমরা কি এই প্রক্রিয়াকে `মিডিয়ার চণ্ডলাবৃত্তি’ বলতে পারি না? কার্টুনগুলো বাংলায় রূপান্তর করে আমাদের জাতীয় চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে সহজ বাংলায় শিশুদের পাতে তুলে দেওয়া হয়তো প্রাথমিক ভাবে খুব ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার, কিন্তু চেষ্টাটা করতে অসুবিধা কোথায়? (সম্পূর্ণ…)

প্রাচীনতম সভ্যতা, চিরন্তন সম্প্রীতি এবং (প্রত্ন)সম্পদের জন্য ব্যাকুল কামনা!

স্বাধীন সেন | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ৫:৪৬ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্বের দাপুটে ধারণা ও অনুশীলনের জমিতে একটি অনুসন্ধানমূলক খনন

4.jpg
প্রত্ন-ঢিবি ও মন্দিরকে কেন্দ্র করে চৈত্র সংক্রান্তির মেলা

প্রথম শ্রমিক : এই দালানের ভিতগুলান তো সীতার কোটের মতন বড়।

দ্বিতীয় শ্রমিক : আরে, সীতারকোটে তো সীতার বনবাস হইছিল। ওইহানে তো একটা হীরার বাইস পাওয়া গেছিল। পরে সরকারে নিয়া নেছে।

তৃতীয় শ্রমিক : তোরা তো জানস না যে সীতারকোট পুরাডা এক রাইতের মধ্যে বানাইন্যা হইছিল।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রমিক : হ, সবই আল্লাহর কুদরত।

[দিনাজপুরে নবাবগঞ্জের দোমাইলে এটি বৌদ্ধবিহার উন্মোচনকালীন সময়ে পাশ্ববর্তী ইটভাটার কয়েকজন শ্রমিকের মধ্যে সংঘটিত সংলাপ। সীতারকোট হচ্ছে একই থানায় অবস্থিত সীতাকোট বৌদ্ধ বিহার।]
—-

টকশোর সঞ্চালক : আচ্ছা, আপনাদের কী মনে হয়। বাংলাদেশের প্রত্নম্পদগুলো যে নষ্ট বা পাচার হয়ে যাচ্ছে তার কারণগুলো কী?
প্রথম বিশেষজ্ঞ : অনেকগুলো কারণই আছে। সরকারের উদাসীনতা, সঠিক ও যথাযথ আইনের অভাব, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত না নেয়া, ইত্যাদি।

দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞ : আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষ তাদের গৌরবময় ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন নন। আসলে, অতীতের সমৃদ্ধি, গৌরব আর স্বর্ণযুগ নিয়ে আমাদের নিরক্ষর ও অজ্ঞ সাধারণ মানুষের কোনো ভাবনা নাই।

তৃতীয় বিশেষজ্ঞ : দেখেন, আমরা এই দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, মুসলমান–সব ধর্মের প্রত্ননিদর্শন পাচ্ছি। এটা তো প্রমাণ করে যে আমাদের দেশে সব ধর্মের মানুষ সুদুর অতীত থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করছে। এই অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য সম্পর্কে মানুষ সচেতন নয়।

টকশোর সঞ্চালক : ঠিক বলেছেন, আগে ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে সবাইকে। যে-জাতি নিজের ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন নয় সেই জাতি সত্যিকার অর্থে জাতি হিসাবে বিবেচিত হতে পারে না। আসুন, আমরা সবাই আমাদের সমৃদ্ধ অতীত ও গৌরবময় ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠি।

[উপরের সংলাপটি আংশিক কাল্পনিক হলেও বক্তব্যগুলো টিভি চ্যানেলগুলোর সাম্প্রতিক টকশোগুলোর কয়েকটি থেকে নেয়া হয়েছে]

●●●

বন্ধনীযুক্ত কোনো টিকা যদি নাও থাকত তারপরেও উপরে উল্লিখিত দুটি সংলাপ পাঠ করলে বেশিরভাগ মানুষই ধরে নেবেন যে প্রথম সংলাপটি ‘অজ্ঞ’, ‘অসচেতন’, ‘নিরক্ষর’ মানুষজনার আলাপচারিতা আর দ্বিতীয় সংলাপটি ‘শিক্ষিত’, ‘সচেতন’ ও বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী কয়েকজন মানুষের কথোপকথন। ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে উচ্চবর্গের এলিট নাগরিকদিগের মধ্যে যে-ধারণাগুলো প্রতিষ্ঠিত ও ধরে-নেয়া, সেগুলোর নিরিখে বিচার করলে সংলাপ দুটোর মধ্যে প্রত্যক্ষ ভাবে প্রকাশিত ও পরোক্ষভাবে দ্যোতিত বিভিন্ন ডিসকোর্স ক্রিয়াশীল হিসাবে শনাক্ত করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম দৃশ্যের সংলাপকারীগণ লোককাহিনী ও কিংবদন্তীর মাধ্যমে দুটি বৌদ্ধবিহারের নির্মাণ প্রক্রিয়াকে বয়ান করেছেন। তারা, অধিকন্তু, পরবর্তী ঘটনাবলীকেও (হীরার বাইস পাওয়ার ঘটনা) ওই লোককাহিনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছেন এবং সর্বোপরি, অপার্থিব শক্তির কুদরত হিসাবে বৌদ্ধবিহার দুটোর সৃষ্টি-রহস্য ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন। আধুনিক, সেক্যুলার ও যুক্তিবাদী আখ্যান অনুসারে বয়ান নির্মাণের এই পদ্ধতি মিথিকাল, এই বয়ান মিথ/অতিকথন। আধুনিকীকরণ প্রকল্প ও তার সঙ্গে বিজড়িত সেক্যুলারকরণের ক্ষমতার পরিসরে ‘মিথের’ (এবং বিপরীত অর্থবোধক হিসাবে সংজ্ঞায়িত সত্য/ফ্যাক্ট নির্ভর ইতিহাসের) ধারণায়নে যে বদল ঘটেছে তার প্রেক্ষিতে রূপান্তরিত ও পুনর্গঠিত এই মিথ তার নতুন সংজ্ঞায়ন মাফিক এখন নিদেনপক্ষে প্রতীকগত ও অন্তর্নিহিত কোড বিশ্লেষণের বিষয় হতে পারে; কিন্তু কখনো সত্য/ফ্যাক্ট হিসাবে পরিগণিত হতে পারে না। ফ্যাক্টের সঙ্গে তুলনায় এগুলো হলো কল্পকাহিনী/ফিকশন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দৃশ্য যেটি কিনা প্রচারিত ও রেপ্রিজেন্টেড হচ্ছে প্রচারমাধ্যমে, প্রশ্নাতীত ও স্বতঃসিদ্ধভাবেই সত্য ও বাস্তব হিসাবে বিবেচিত হবে। কেননা আলাপচারীতার বিষয় ও বক্তব্য এবং তার মধ্যে প্রচ্ছন্ন ধারণাগুলো সর্বজনস্বীকৃত, যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত হিসাবে চিহ্নিত ও সংজ্ঞায়িত হয়। বেশিরভাগ দর্শক-শ্রোতারই মনে হবে যে, আসলেই তো, বক্তারা ঠিক কথাই বলছেন। (সম্পূর্ণ…)

গহ্বর

জাহিদ হায়দার | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ১১:৩২ অপরাহ্ন

১.
এক হালকা বৃষ্টির সন্ধ্যায় রিয়ার সঙ্গে রিংকুর বিয়ে হলো, বেজেছিল সানাই।

বিবাহ, এই শব্দ উচ্চারণে আজও অনেকের মনে শিহরণ জাগে। শিহরণে চোখ চঞ্চল হয়। চঞ্চলতা যে ছবি ধরে, সেখানে প্রকাশিত আনন্দকর সঙ্গ। বিবাহের পরে অনেকের মধ্যে বিবাহ বিষয়ে বিষাদ জন্মায়। এ কী এক জটজটিল খাঁচা! মুক্তি আসবে কীভাবে? কবে রেহাই পাওয়া যাবে। বৌটা মরে না কেন, স্বামীটা বেঁচে আছে কেন? আবার অনেকে মনে করে, আহা কী আনন্দ, দুজন বৃষ্টির দিনে হালকা নরম কাঁথার নিচে। কাঁথা ছাড়া অন্য কোনোকিছুতে বিহ্বলতা আসে না, বিশেষ করে বঙ্গে যাদের জন্ম, তাদের। আজকাল এই বাংলাদেশেও, শোনা যায়, অনেক তরুণতরুণী পাশ্চাত্য-ধরনে বিয়ে না করেই একসঙ্গে থাকাথাকি করে। ঐ থাকাথাকির ভেতর আছে প্রয়োজন আর শরীর-সম্পর্কের কথা। এদের কাছে বিবাহ প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। প্রাচীনে কে থাকিতে চায় রে কে থাকিতে চায়! প্রেম চলা পর্বে রিংকুকে হাসি টেনে রিয়া বলেছিল, লিভ টুগেদার করলে কেমন হয়? সংক্ষেপে রিংকুও হেসে বলেছিল, তুমি আর আমি মনে হয় অতটা ওয়েস্টার্ন হইনি, আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ঐসব টুগেদাররে অনুমতি দেয় না।

মহসিন হাফিজ, ডাক নাম রিংক, সুদর্শন তরুণ। এক বহুজাতিক কোম্পানিতে অনেক বেতনের চাকরী করে। অফিসে হাফ হাতা শার্ট পরে না। বহুজাতিকের অনেক কৌশলের এই একটি কৌশল; কর্মীদের, বিশেষ করে এই দেশের কর্মীদের টাই, বেল্ট, পলিশ করা জুতো, সফ্ট কালারের, বিশেষ করে হালকা নীল কাপড়ের ফুল স্লিভ শার্ট, পরতে হয়। অকারণে ইংরেজি বলতে হয়। কথায় কথায় প্লিজ, থ্যাঙ্কিউ, এক্সকিউজমি বলতে হয় মৃদু হেসে। না হাসলে অফিস-ম্যানারের ঘাটতি পড়ে। রিংকুর প্যান্টের ঝুল ৪১, কোমর ৩৩, উচ্চতা ৫ ফিট ৯ ইঞ্চি, মাথায় চুল কম। শরীর গরম গরম থাকে। সিংহ রাশির জাতক। ঐ রাশির জাতকদের শরীর নাকি গরম গরমই থাকে, রিংকুর এক পামিস্ট বন্ধু বলেছিল। চুল বাড়াবার জন্যে অনেক রকম টনিক গিলেছে। কাজ হয়নি। (সম্পূর্ণ…)

বিষয় ‘‌‌বুদ্ধিজীবী’

আজফার হোসেনের সঙ্গে আলাপ

ব্রাত্য রাইসু | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ৩:১৯ অপরাহ্ন

azfar.jpg
আজফার হোসেন, জন্ম. ১৯৬৫; ছবি: মমিনা জলিল

[নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক আজফার হোসেনের এ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছিল আজ থেকে ১৩ বছর আগে ১৯৯৫ সালে। আলাপচারিতায় সমাজে বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা অনুসন্ধান করা হয়েছিল। এখনো প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করায় দুর্লভ এ সাক্ষাৎকারটি পুনর্মুদ্রণ করা গেল। – বি. স.]

ব্রাত্য রাইসু : আপনি তো নিজেকে বুদ্ধিজীবী ভাবেন, আপনার কী মনে হয়?

আজফার হোসেন : তা ঠিক না।

রাইসু : মানে ভাবাটা ঠিক না, আপনি যে ভাবেন এটা ঠিক না?

আজফার : বুদ্ধিজীবী যে ভাবাটা, সেটা ঠিক ভাবি নিজেকে তা ঠিক না। আর এভাবে ভাবতেই তো নিজের কষ্ট লাগে। কারণ বুদ্ধিজীবী যে এসোসিয়েশন বহন করে সেটা ঠিক পজেটিভ এসোসিয়েশন না। যদি নিজেকে কিছুটা ভালোবাসা যায় তাতে করেও তো নিজেকে বুদ্ধিজীবী ভাবার কোনো কারণ দেখি না। ‘বুদ্ধিজীবী’ একটা গাল হিসেবেই ব্যবহার করা হয়, তাই না? নিজেকে নিজে অনেক সময় অন্য ব্যাপারে গালি দেই, ‘বুদ্ধিজীবী’র চেয়েও বড় গালি আছে যেগুলো নিজেকে মাঝে মাঝে দেয়া হয়।

রাইসু : তাহলে আপনি বুদ্ধিজীবী নন?
—————————————————————–
এই শ্রেণীটা নিজেদের একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে সব সময়। যে, “আমি আলাদা, দেখো তোমার থেকে আলাদা, উঁচু, আমি তোমার চেয়ে ভালো। আমার রুচি ভালো, আমি যা বলছি সেটাই ঠিক, আমি অনেক কিছু বুঝি।” মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে আগত বুদ্ধিজীবীদের একই সমস্যা।
—————————————————————–
আজফার : না, ঠিক বুদ্ধিজীবী বলতে যা বোঝানো হয় সেই অর্থে বোধহয় না।

রাইসু : সে ক্ষেত্রে আপনার যে লৈখিক এবং মৌখিক কর্মকাণ্ড এগুলোকে কী বলবেন?

আজফার : হ্যাঁ, আমি যেই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সেই কাজটা আসলে অঙ্গীকারে বিশ্বাস করি। ‘অঙ্গীকারে বিশ্বাস’–এটি সাম্প্রতিক কালে কিছু বিভ্রান্ত উত্তরাধুনিকতাবাদীদের কাছে বেমানান ঠেকলে ঠেকতেও পারে।

রাইসু : উত্তরাধুনিকতাবাদীদের দিকে আমরা শেষের দিকে যাই?

আজফার : তাহলে আমরা কোন জায়গায় আছি সেই জায়গাতেই ফিরে আসি।

রাইসু : সেই জায়গাটা হচ্ছে কমিটমেন্ট–বাংলায় আপনি কী যেন বললেন?

আজফার : বাংলায় যেটাকে আমরা ‘অঙ্গীকার’ বলি।

রাইসু : অঙ্গীকার–অঙ্গীকারে আপনি বিশ্বাস করেন বললেন। ‘অঙ্গীকার করা’ মানেই কি ‘অঙ্গীকারে বিশ্বাস করা’?

আজফার : বটেই, অঙ্গীকার করা মানেই অঙ্গীকারে বিশ্বাস করা, বটেই।

রাইসু : বা অঙ্গীকার না করলেও চলে, বিশ্বাস করলেই অঙ্গীকার করা হয়ে গেলো?

আজফার : তা হতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com