শিমূলের বিজয়োৎসব

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ৩১ জানুয়ারি ২০০৮ ১১:২৮ অপরাহ্ন

০৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনী সুরমা নদী পেরিয়ে সুনামগঞ্জে প্রবেশ করছে। সঙ্গে অন্যান্য সহযোগী গ্র“প। ক্যাপ্টেন মোতালিব সাব সেক্টর কমান্ডারের স্টাফ অফিসার শিমূল স্ফূর্তিতে, উৎসাহে সর্বক্ষণ টগবগ করছে।

জুলাই-আগস্ট মাসে যখন শিমূল সুনামগঞ্জ থেকে ওপরে, পাহাড়ে বালাট শরণার্থী ক্যাম্পে দেশত্যাগী মানুষের সেবায় মেতেছে, তখন হঠাৎ-ই সেখানে একদিন আগরতলা মামলার খ্যাতিমান প্রাক্তন আসামী ক্যাপ্টেন মোতালিব পরিদর্শনে আসেন। ক্যাম্প অফিসে প্রথম আলাপ।

বাড়ি কোথায়? বাজখাঁই আওয়াজে চমকে তাকাতেই শিমূল বুঝল, প্রশ্নের উত্তর তাকেই দিতে হবে।

ঢাকায়, স্যার। লেখাপড়া কদ্দূর? মাথায় খেলোয়াড়ী টুপি, ঢোলা, খাকি শর্টস আর গাঢ় সবুজ টিশার্ট পরিহিত খোঁচা দাড়িওয়ালা আনকুথ ক্যাপ্টেনকে দেখে শিমূল কৌতূহলী হয়েছিল। মানুষটাকে আরও জানতে হবে। জেনেওছিল ক্রমে। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে। কাজ এবং আড্ডার মধ্য দিয়ে।

ইংরেজিতে এম. এ পরীক্ষা দিয়ে বসে ছিল সে, মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে পদ্মার ওপারে, মামাবাড়িতে ঘুরেফিরে মাসদুই কাটল। ইতোমধ্যে বন্ধু সয়েল সায়েন্সের মিটু ঢাকা থেকে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের একজন আমলার সইমোহরকৃত পরিচয়পত্র পাঠিয়ে দিল মাগুরায় নানাবাড়ির ঠিকানায়। মিটুর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বাবা ভূঁইয়া সাহেব সেটি সযত্নে তৈরি করেছিলেন। সেই সরকারী খবরপত্রের সাংবাদিকের পরিচয়পত্রের ভরসায় একদিন শিমূল চৌগাছির শান্তি-বলয় ছেড়ে যশোর এবং ঢাকা হয়ে সীমান্ত মহকুমা সুনামগঞ্জের সদরে গিয়ে উঠল মধুমিতা হোটেলে। আলাপ হল মহকুমা প্রশাসনের অনেকের সঙ্গে। ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাঙ্কের ম্যানেজার বাতেনের টেবিলে বসে একাউন্ট খোলা হল এবং একদিন যথারীতি নদী পেরিয়ে লম্বা হেঁটে, সীমান্ত পেরিয়ে অনেকানেক শরণার্থীর সাথে বালাট ক্যাম্পে পৌঁছে গেল। (সম্পূর্ণ…)

Twist of fate

Stawb Peter | ৩১ জানুয়ারি ২০০৮ ১১:২৫ অপরাহ্ন

“Kid… you sure about this? Look this isn’t a toy…it’s the real thing—you pull the trigger and it’s all over in a split second!”

moonlight-rater-pistol-2.jpgHe was sweating profusely; sweat dripping off his forehead said it all. His heart was in his mouth, and he exactly knew what he was doing. His eyes showed the gravity, his voice transcended his determination. He looked straight in the eye and said, “I know what I’m doing. Just give it to me, you got your money, give me my thing—there’s someone I need to take care of.”

There was a moment of silence and glances. No words, only heavy breathing, the atmosphere was all nerves. With the pistol under his jacket Jason walked off in the darkness. It was high time he took care of someone… That someone was… he himself! (সম্পূর্ণ…)

An Afternoon with Jon Fosse

Ahmed Ahsanuzzaman | ৩১ জানুয়ারি ২০০৮ ১১:১৯ অপরাহ্ন

To Sabiha Huq, an Ibsen admirer and detractor,
who inspired me to write the piece at one go.

He is a living legend of Norwegian literature. He is an all-in-one — a poet, a novelist, a playwright and an essayist. Above all, he is a prolific writer — tirelessly fosse-with-ahmed-ahsanuzzam.jpg
Jon Fosse with the interviewer

contributing in all genres of literature. Norway’s Literature Abroad (NORLA) would describe him as the country’s “most popular dramatist both nationally and internationally”. Being labeled as the ‘most popular’ writer could be wearisome — as more often than not, popularity demands yielding to cheap taste.

Fortunately, however, it has never been so for Jon Fosse (b. 1959). Every inch an artist, Fosse, on the contrary, gives utmost importance to the ‘high’ level of the piece being created. In other words, for Fosse, it is the standard of the
jon-fosse-at-work.jpg………
Jon Fosse at work
……..
piece that makes a writer popular, and not the other way around. He has always been conscious of the portrait of an artist as well as of the significance of the art itself. (সম্পূর্ণ…)

বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম-এর সাক্ষাৎকার

| ২৭ জানুয়ারি ২০০৮ ৫:০৭ অপরাহ্ন

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলম খোরশেদএহসানুল কবির

১৯৩৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের যশোর জেলার ঝিনাইদহ শহরে জন্মগ্রহণকারী জামাল নজরুল ইসলাম একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পদার্থবিদ ও গণিতবিশারদ। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, জামাল njir.jpg………
বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ জামাল নজরুল ইসলাম
………
নজরুল ইসলাম লণ্ডনস্থ ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়-এর অ্যাপ্লায়েড ম্যাথেমেটিক্স অ্যান্ড থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স বিভাগ থেকে পিএইচডি ও ডিএসসি ডিগ্রী লাভ করেন যথাক্রমে ১৯৬৪ ও ১৯৮২ সালে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও অধ্যাপনাশেষে ১৯৮৫ সালে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে এসে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে যোগ দেন। সেখানে তিনি সেন্টার ফর ম্যাথেমেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেস নামে একটি বিশ্বমানের গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং অদ্যাবধি তার পরিচালক পদে নিয়োজিত রয়েছেন। জামাল নজরুল ইসলাম-এর গবেষণার প্রধান বিষয় আপেক্ষিকতাবাদ ও মহাকাশবিদ্যা। এ বিষয়ে তাঁর অসংখ্য গবেষণাপত্র ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একাধিক গবেষণাগ্রন্থ রয়েছে।

●●●

আলম খোরশেদ: প্রথমেই বলে রাখি যে এটা কোনো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার নয়। ঘরোয়া পরিবেশে একটা খোলামেলা আন্তরিক আড্ডা দিতে চাই আমরা। আর এর মাধ্যমে আপনার কাজকর্ম এবং চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জানতে চাই। এ ছাড়া সামাজিক সাংস্কৃতিক বিভিন্ন বিষয়ে আপনার নিজস্ব মূল্যায়ন ও মতামত জানতেও আগ্রহী আমরা। আপনি একজন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী, একজন বিশিষ্ট গণিতবিদ–এটা আমরা সবাই জানি। আজকে আমরা আপনার নিজের মুখ থেকেই একটু বিশদভাবে শুনতে চাই বিজ্ঞানের জগতে আপনার অবদান ও আপনার অন্যান্য কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে। (সম্পূর্ণ…)

সুন্দরবনে, সিডরের পরে

মুস্তাফিজ মামুন | ২৬ জানুয়ারি ২০০৮ ১১:৩৫ অপরাহ্ন

32.jpg
সুন্দরবনের কচিখালী অভয়ারণ্যের কাশিবনে।

শুনেছিলাম সিডরে সুন্দরবনের অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। সিডরের পরে সেখানে পর্যটকের আনাগোনা নাকি কমে গেছে। সুন্দরবনের অবস্থা দেখাতে কিছু সংবাদকর্মীকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল বেসরকারি একটি ভ্রমণ সংস্থা। আমাদের সাথে ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক মাসুদ
10-a.jpg
সুন্দরবনের নীলকমল অভয়ারণ্যের একটি খাড়ি।

হোসেন আর সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ খসরু চৌধুরী।

ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বাস ছাড়ল মংলার উদ্দেশ্যে। কুয়াশাঢাকা ভোরে আমাদের বাস এসে থামল মংলা বন্দরে। সেখানে আমাদের জন্য
53-a.jpg………
কচিখালীর কাশিবনে বনফুল।
………
অপেক্ষা করছিল ভ্রমণতরী এমভি ডিঙ্গি। তড়িঘড়ি করে সবাই উঠে পড়লাম লঞ্চে। এর পর চার দিনের জন্য আমাদের ঘর-বাড়ি এই ডিঙ্গি।

লঞ্চ ছাড়ল ঢাংমারী ফরেস্ট স্টেশনের উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে নেওয়া হলো বনে প্রবেশের অনুমতি। এর পর নিরাপত্তাকর্মী সঙ্গে নিয়ে ছুটে চলা। পশুর নদী হয়ে আমাদের গন্তব্য শরণখোলা রেঞ্জের নীল কমল। পশুরের দুই পাশে সুন্দরবনের ঘন জঙ্গল। দেখে বোঝার সাধ্য নেই মাত্র একমাস আগে সিডরের তাণ্ডব বয়ে গেছে এ বনের উপর দিয়ে। (সম্পূর্ণ…)

সায়েরার সঙ্গে ডিজিটাল মোলাকাত

মানস চৌধুরী | ২৬ জানুয়ারি ২০০৮ ১:২৬ পূর্বাহ্ন

সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীর টীকা
সায়েরা (Saera) জন্মেছেন এবং বড় হয়েছেন টোকিওতে। ইংরেজি ও sayera-13.jpgজাপানীতে দ্বিভাষিক হবার সুবাদে, তিনি লন্ডন যান ইউনিভার্সিটি অব আর্টসে ফ্যাশন এবং পোর্ট্রেইট ফোটোগ্রাফি নিয়ে পড়ালেখা করতে। টোকিওতে ফিরে তিনি এখন সংবাদ- আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করছেন এশীয় পত্রিকা মেরি ক্লেয়ার হংকং বা কসমোপলিটান হংকং-এ। আমেরিকার রিঅ্যাক্টর পত্রিকার জন্য ফ্যাশন ফোটোগ্রাফার হিসেবেও কাজ করছেন।

এটি নেয়া হয়েছিল ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০০৫ জাপানের সময় রাত ৮ টা থেকে, এমএসএন মেসেনজার মারফতে। ১৫ই সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল, এবং সময় নিয়ে ভুলবোঝাবুঝিতে সেটা সম্ভব হয়নি। সাক্ষাৎ না হয়েই
5.jpg……..
সায়েরার মডেল ফোটোগ্রাফি
………
সাক্ষাৎকার নেয়া! কিন্তু পদটির গুণগত কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যবহার করা বাদ দেবার কথা ভাবতে পারিনি। একেবারে খাপছাড়া লাগতে পারে এমন দু’চার লাইন ছাড়া প্রায় অবিকল ধারাবাহিকতায় এটা পুনর্লিখন করার চেষ্টা করেছি। অনুবাদের ক্ষেত্রে বড়জোর ভঙ্গি বোঝাতে একটা বা দুটো শব্দ আনা-নেয়া করেছি–উভয়ের বেলাতেই। (সম্পূর্ণ…)

রুপালি ধ্বংসস্তুপ ও একটি গোলটেবিল বৈঠক

বাকী বিল্লাহ | ২৬ জানুয়ারি ২০০৮ ১:২৩ পূর্বাহ্ন

sidr.jpg
সিডরের পরে, ছবি: ফিরোজ আহমেদ

সবুজ প্রকৃতি চাঁদের আলো ধারণের জন্য যথাযথ নয়। রাস পূর্ণিমার রাতে বলেশ্বরের তীরে দাড়িয়ে এটিই লক্ষ করা গেল। বিস্তীর্ণ বলেশ্বরের শান্ত বুক আর গুড়িয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি-গাছপালার ওপর চাঁদের আলো প্রতিফলিত হয়ে জোছনা যেন একেবারে ফেটে পড়ছে। দূরে ঝুলতে থাকা একখণ্ড রুপালি টিনের ওপর চাঁদের সর্বাত্মক ঝাপ দেয়ার দৃশ্য দেখে অন্য কোনো সময় হলে অচেতনেই হয়ত কাব্য বেরিয়ে পড়ত, ‌’ও চাঁদ তুমি কেন মাটিতে নেমে এলে।’ প্রকৃতির এক অগ্নিচোখ (সিডর) তার খাণ্ডবদাহনে সব ছারখার করে দিলেও আরেকটি চোখ মমতামাখানো আলোয় চারপাশ ছাপিয়ে দিয়ে যেন আশ্বস্ত করতে চাইছে–না, প্রকৃতি শুধু কেড়েই নেবে না, মানুষের সাথে 02.jpg…….
সিডরের পরে, ছবি: ফিরোজ আহমেদ
……..
আবারো বাঁধবে ভালোবাসার যৌথ বসত। দৃশ্যকল্পের এরকম ভয়ংকর অনুপমতায় খুব স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা পরাবাস্তবতার আমদানী ঘটতে পারত। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা আগে দেখা ভাসমান মানব শিশু ও মায়া হরিণের শব তখনো স্মৃতিতে এত জান্তব যে চেতনায় ভাবালুতা প্রবেশের রন্ধ্রে তা গরম কাঠকয়লার মতই অস্তিত্বশীল।

কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে থাকা পদ্ম হঠাৎ একটি উদ্ভট প্রশ্ন করে এসব নানা অপচিন্তার ছটফটানি থেকে আমাকে মুক্ত করল। পদ্ম ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইন আর্টসে পড়ে, ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী। পদ্ম সম্পর্কে একটি কথা বলা দরকার। অসাধারণ কয়েকটি গণসঙ্গীতের স্রষ্টা সে। ওর সৃষ্টি ’হাতে হাত চোখে চোখ’ `রাত যায় আসে রাত’ ’এক দেশের সব স্বপ্নওয়ালা’ বিভিন্ন ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েদের মুখে মুখে ফেরে। দু সারিতে সমান্তরাল ভাবে স্থাপিত গণকবরের পাশে অনেক সময় নিবিষ্ট মনে দাড়িয়ে পদ্ম যে প্রশ্নটি ছুড়ে দিল তা হল, এখানে ১১টি কবর বাচ্চাদের, বাকিগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের, কিন্তু সব কবরই একই সাইজের কেন? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর আমি দিলাম না। তাফালবাড়ি লঞ্চঘাট ছেড়ে ক্যাম্পের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। (সম্পূর্ণ…)

যেভাবে ঘরের কিসসা রচিত হয়

ওমর কায়সার | ২৫ জানুয়ারি ২০০৮ ৪:০৭ অপরাহ্ন

ronni-22.jpg

ঘরে আঁসে, ঘরে হাঁদে
ঘরে মানুষ তোয়ায়
সুন্দর ঘরগান ছাড়ি গেলগুই
আঁ-র উগগা ফোয়ায়।
(ঘরেরও হাসি কান্না আছে, মানুষ খোঁজে। কী সুন্দর ঘর ছেড়ে চলে গেল আমার সন্তান)

ঘরের ভেতর আমি ঢুকব কিভাবে। আমার ভেতর ঘর ঢুকে আছে বহুকাল আগে। আমার নিজের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সেতো অজস্র জনম ধরে। পৃথিবীর কোথাও তাকে খুঁজেও পাই না।

আঁরে তুই কেনে ফাবি
আকাশ বাতাস বিচারী
ঘরেরে তুই হাঁছা ভাইববোছ
উড়াল দিয়ছ ঘর ছাড়ি।
(আকাশে বাতাসে খুঁজে আমাকে পাবে না। ঘরকে খাঁচা ভেবে তুমি উড়াল দিয়েছো।)

কোথাও পাব না ঘর। শুন্যে বুঝি উড়াল দিয়েছে। ঘরের ছিল না ডানা। আমার মনের ডানা কখন সে চুরি করে নিয়ে গেছে আরেক জনমে। বিষণ্ন শঙ্খের জল আমি জানি কতবার উঠোনের নিষিদ্ধ সীমায় জলতরঙ্গ বাজিয়ে ছিল তার দৃষ্টি আকর্ষণে। (সম্পূর্ণ…)

দ্বিতীয় জীবন

ইরাজ আহমেদ | ২৪ জানুয়ারি ২০০৮ ১১:১৮ অপরাহ্ন

ronni.jpgদুপুরবেলা তিন তলা বাড়িটা একদম ফাঁকা হয়ে যেতো। কাজের লোকেরা নিচের সার্ভেন্টস কোয়ার্টারে। দোতলায় দুজন বাসিন্দা প্রতিদিনের মতো ঘুমের কাছে সমর্পিত। আর আমি তখন গাছপালায় ঘেরা বিশাল বাড়িতে একমাত্র জীবন্ত প্রাণী। ফাঁকা বাড়িতে ঘুরতে ঘুরতে নিজেকে মাঝে মাঝে একটা কাচের বোতলে আটকে পড়া মাছির মতো মনে হতো। এখানে ওখানে উড়ে বেড়াচ্ছি, কোথাও ঝিম মেরে বসে থাকছি কিন্তু বের হওয়ার কোন পথ নেই। আমার কখনোই বইপত্র পড়ার অভ্যাস ছিলোনা। কোন কাজও করার ছিলো না। ফলে সেইসব নির্জন দুপুরে তিনতলায় নিজের ঘরের জানালার পাশে বসে বাইরে আকাশ অথবা গাছপালার দিকে তাকিয়ে থাকাটা ছিলো আমার একমাত্র কাজ। তখনই আমি বিষয়টা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলাম। এ বাড়িতে আসার প্রথম বছরে ভাবনাটা চেতনার স্রোতের ভেতরে পাল তুলে দেয়নি। তখন অনেক কাজ ছিলো আমার। অধিকাংশ দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় কোন না কোন অনুষ্ঠান থাকতো। সকালবেলা ব্যস্ত থাকতাম ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার কাজ তদারকি নিয়ে। ভেবেছিলাম দাঁতে দাঁত কামড়ে সবকিছু ভুলে থাকবো। কিন্তু তা আর হলো কই? এখন ভাবি, কী রকম বোকা ছিলাম আমি। আমার নিজেরই এখন সেই সরল মনটার জন্য খুব মায়া হয়। (সম্পূর্ণ…)

মিশেল ফুকোর

শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম (কিস্তি ৫)

অদিতি ফাল্গুনী | ২৪ জানুয়ারি ২০০৮ ১১:১৫ অপরাহ্ন

কিস্তি:


শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম

মিশেল ফুকো

অনুবাদ: অদিতি ফাল্গুনী

খণ্ড ১ : নির্যাতন

দ্বিতীয় অধ্যায়: বধ্যমঞ্চের জমকালো প্রদর্শনী

(গত সংখ্যার পর)

এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে প্রকাশ্য নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ড প্রদানের অস্তিত্ব শাস্তির অভ্যন্তরীন প্রতিষ্ঠানের বদলে অন্য কিছুর সাথে জড়িত ছিল। রুশ্চে (Rusche) এবং কির্শহেইমার (Kirchheimer) এই বিষয়টিকে যথার্থই এমন এক উৎপাদন ব্যবস্থার প্রভাব হিসেবে দেখেন যাতে শ্রম ক্ষমতা এবং মানব শরীরের না আছে কোন উপযোগ না কোন বাণিজ্য মূল্য।foucault-shiri.jpg……
মিশেল ফুকো (১৯২৬-১৯৮৪)
……..
শিল্পায়ন অর্থনীতিই তাদের উপর এই উৎপাদন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। উপরন্তু, প্রকাশ্য নির্যাতনে মানব শরীরের প্রতি সাধিত ‘অবমাননা’ মৃত্যুর প্রতি সাধারণ ভাবে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সম্পর্কযুক্ত। এবং এমন এক দৃষ্টিভঙ্গিতে কেউ যে শুধু যথার্থ খ্রিষ্টিয় মূল্যবোধই শণাক্ত করবেন তা’ নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে আরো রয়েছে জৈবিক অবস্থান: অসুস্থতা ও ক্ষুধার ধ্বংস, মন্বন্তরের কালিক যত সংহার, পরিতাপযোগ্য শিশুমৃত্যুর হার, জৈব-আর্থনীতিক ভারসাম্যের অনিশ্চয়তা প্রভৃতি। এসকল উপাদান মৃত্যুকে আরো পরিচিত করেছে। সৃষ্টি করেছে এমন সব আনুষ্ঠানিকতার যা মৃত্যুকে অন্তর্ভুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করা এবং মৃত্যুর আগ্রাসনকে চিরকালীন অর্থ প্রদানের প্রয়াস চালায়। কিন্তু, কেন প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড প্রথা এত দীর্ঘ সময় ধরে চালু ছিল, তা’ বিশ্লেষণ করতে হলে ঐতিহাসিক সঙ্কটমুহূর্তগুলো লক্ষ্য করা প্রয়োজন। একথা ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না যে ১৭৬০ সালের অধ্যাদেশ কোন কোন ক্ষেত্রে পুরনো আইনগ্রন্থগুলোর কঠোরতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ, এই অধ্যাদেশই ফরাসী বিপ্লবের সময় অবধি অপরাধ বিচারকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। পুসোর্ট, কমিশনারদের ভেতর যার দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন নথিপত্র প্রস্তুত করা, মূলতঃ রাজার ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করতেন। পুরনো আইনগ্রন্থের কঠোরতা বাড়ানোর জন্য তিনিই দায়ী ছিলেন, যদিও লামোইগনের মতো ম্যাজিস্ট্রেটরা এই কঠোরতা বাড়ানোর বিরোধী ছিলেন। ধ্রুপদী যুগে সম্রাট-বিরোধী বিক্ষোভের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, গৃহযুদ্ধের সময় বিক্ষোভ কমে আসা, সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজার ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা ইত্যাদি সব কারণ মিলেই এত কঠোর একটি দণ্ড আইনের দীর্ঘকাল টিঁকে থাকার কারণ। (সম্পূর্ণ…)

জেমস রেনেল ও তাঁহার রোজনামচা : ১৭৬৪-১৭৬৭ (চতুর্থ কিস্তি)

সলিমুল্লাহ খান | ২১ জানুয়ারি ২০০৮ ১১:৩১ অপরাহ্ন

কিস্তি

(চতুর্থ কিস্তি)

rennell.jpg
জেমস রেনেল (১৭৪২-১৮৩০)

আমিন জেমস রেনেল

বিরচিত

শুকনা মৌসুমে গঙ্গানদী হইতে কলিকাতা যাইবার নিকটতম পথ খুঁজিয়া পাইবার লক্ষ্যে জলঙ্গি নদীর মাথা হইতে ব্রহ্মপুত্র বা মেঘনা নদীর সঙ্গমস্থল পর্যন্ত গঙ্গার; লক্ষীপুর হইতে ঢাকা পর্যন্ত মেঘনা ও অন্যান্য নদীর; এবং দক্ষিণ তীরবর্তী নদীনালার জরিপকার্যের বিবরণী সংযুক্ত

রোজনামচা

সন ১৭৬৪-১৭৬৭

তর্জমা: সলিমুল্লাহ খান

(গত সংখ্যার পর)

৩রা হইতে ৮ই জুলাই পর্যন্ত বেশির ভাগ সময়ই বৃষ্টি হইল, পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব দিক হইতে ঝড়ো হাওয়া বহিল। বাহিরে যাইবার পথ বন্ধ হওয়ায় আমি নদীনালার মানচিত্র নকল করিতে আর গভর্নর সমীপে পাঠাইতে শুরু করিলাম আর ৭ তারিখ রাত্রি নাগাদ কাজ শেষ করিলাম [compleated them] আর পরদিন সকালবেলা যে দুইজন হরকরা দুইটি পত্র লইয়া আসিয়াছিল তাহাদিগের হাতে মানচিত্রগুলি পাঠাইলাম।

৫ তারিখে, পাটনামুখি একখানি ৪০০০ মণি নৌকা পাশ দিয়া চলিয়া গেল। ইহা মাত্র ৪ ৩/৪ হাত পানি কাটিল।

৮ তারিখে জরিপে হাত দিলাম। আজ ঘন ঘন কয়েক পশলা বৃষ্টি হইল। আমার আন্দাজ হয় ৬ হাত মতো পানি বাড়িয়াছে। আজ অপরাহ্ণে একটা উঁচা মন্দির (Pagoda) দেখিলাম, ইহা দক্ষিণ পূর্ব দিকে ২ কি ৩ মাইল দূরে হইবে। ইহা মথুরাপুর (Motrapur) গ্রামের অদূরে।

৯ তারিখ সকাল বেলা দক্ষিণ পশ্চিম দিক হইতে ঝড়ো হাওয়া ছিল। পূর্বাহ্নে একই দিক হইতে তাজা হাওয়া বহিতেছিল; অপরাহ্ণে বিরতিহীন বৃষ্টি। আজ অনুমান করি ৭ হাত পানি বাড়িয়াছে। নদীগুলি বড় আকাবাঁকা, দেশগ্রাম খোলামেলা আর চক্ষু জুড়ায়।

১০ তারিখ ঝড়ঝঞ্ঝাময় আর বৃষ্টি হইল। মথুরাপুরের মন্দির পার হইলাম। মন্দিরটি খালের পুবপাড়ে। এই মন্দিরের দুই মাইল ভাঁটিতে একটি বড় খাল বাঁদিকে মোড় লইল। এই খালটি এখন এই ঋতুতে বড় বড় নৌকা চলাচলের উপযোগী কিন্তু শুকনা মৌসুমে কোন কোন স্থান একদম শুকাইয়া যায়। (সম্পূর্ণ…)

সেলিমের জন্য

ফরহাদ মজহার | ১৯ জানুয়ারি ২০০৮ ২:৪১ অপরাহ্ন

আমি যাদের সঙ্গে ষাট ও সত্তর দশকে বড় হয়েছি, এক ঘরে থেকেছি, গাদাগাদি করে এক ঘরে তিনচারজন ঘুমিয়েছি, তারাশংকরের রাইকমল পড়ে জগৎময় শ্রীমতি রাধিকাকে দর্শন করে বেড়িয়েছি তাদের মধ্যে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সেলিম আল দীন। আজ বুঝতে পারি ঘনিষ্ঠ হবার বিস্তর
sad-2000.jpg………
২০০০ সালে জনৈক ছাত্রের তোলা সেলিম আল দীনের ছবি, মাহবুব মোর্শেদের সৌজন্যে পাওয়া
………
কারণের মধ্যে একটা কারণ ছিল সেলিম নোয়াখালির আর আমিও নোয়াখাইল্যা। না, নোয়াখাইল্যা বলে ওর সঙ্গে আমার উঠতি যৌবনের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়েছিল বলা যাবে না। কিন্তু সংবাদ হিশাবে সকলকে বলে রাখা ভাল—আমি ও সেলিম আল দীন আমাদের মাতৃভাষা বলতে নোয়াখাইল্যা ভাষা বুঝতাম—ঘরে আম্মার সঙ্গে যে-ভাষায় দৈনন্দিন কথা বলি সেই কথাশৈলীর বাকমাধুর্য, ধ্বনি ও কলিজার ভেতর থেকে পদ প্রকরণ তৈরির কারখানার আওয়াজ রহস্যজনক ব্যাপার-স্যাপার হয়েই আমাদের তাড়া করত। সোজা কথা, প্রমিত ভাষা বলে কোনো স্থির ও খাপ খাপ ভাষা আছে সেটা আমরা মানতাম না। কসম খোদার। সব ভাষাই ভাষা, যদি যুৎ মতো কওন যায়—এটা আমাদের চেয়ে খিস্তিখেউড়ে পারঙ্গম আর কোন্ শালা জানত? (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com