আদমবোমা: ২ । আত্মহত্যা না সত্যাগ্রহ?

সলিমুল্লাহ খান | ২৯ december ২০০৭ ১০:২০ পূর্বাহ্ন

iraqbombingad.jpg
ভয়াবহতার ধারণা আত্মঘাতী হামলা কমাতে পারে, এ আশায় ইরাকে সম্প্রচারের জন্য আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে বিজ্ঞাপন বানানোর কাজ চলছে।

copy-of-alpa-2.jpg‘আদমবোমা’ নামক পুস্তিকায় তালাল আসাদ তিনটি প্রস্তাব প্রচার করিয়াছেন। প্রথম প্রস্তাবে তিনি দেখাইয়াছেন পশ্চিমা সাম্রাজ্য শাসকরা যে জিনিশকে “সন্ত্রাসবাদ” বলিয়া গালি দিতেছেন তাহার সহিত তাহারা যে বস্তুকে “যুদ্ধ” বলিয়া সালাম করেন তাহার ভেদ বিশেষ নাই। সাম্রাজ্য শাসকদের বিচারে আইনসম্মত হত্যাকাণ্ডকে যুদ্ধ বলা যায় আর আইন বহির্ভূত হত্যা ইত্যাদিরই অপর নাম ‘সন্ত্রাসবাদ’। পার্থক্যটা হত্যা ও অহত্যায় নয়। বরং হত্যা ও হত্যায়। এক হত্যার উদ্দেশ্য—তাঁহারা বলেন—জীবন দান। অন্য হত্যার উদ্দেশ্য নিছক অথবা জীবননাশ।

asad.jpg……
তালাল আসাদ
……..
কিন্তু—তালাল আসাদ দেখাইতেছেন—জীবন বা সভ্যতার সুন্দর প্রহরা দিবার উদ্দেশ্য যাঁহারা যুদ্ধ ঘোষণা করেন তাঁহারা তো তাঁহাদেরই পূর্বঘোষিত যুদ্ধের আইন—যেমন ‘জেনেভা কনভেনশন’—মানিয়া চলেন না। বলপ্রয়োগের যে সীমা আইনে বাঁধিয়া দেওয়া হইয়াছে—যেমন যুদ্ধবন্দি নির্যাতন না করা—তাহা মানিয়া চলেন না। প্রমাণ—গুয়ানতানামো উপসাগরের মার্কিন বন্দিশিবির, প্রমাণ ইরাক, প্রমাণ আফগানিস্তান, প্রমাণ ভিয়েতনাম, প্রমাণ আলজিরিয়া। তাহা হইলে ‘মানবাধিকার আইন’ কথাটি একটি কথার কথা বৈ নহে!

book_t-a.jpgঅথচ এই শক্তিমন্ত দেশের নায়ক ও সেনানায়কগণ সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করিতেছেন। কিন্তু কোন মুখে? তাঁহারা বন্দিজনের পায়ুপথে বিদ্যুতবায়ু প্রবেশ করাইয়াও শান্তি পাইতেছেন না। বলিতেছেন সন্ত্রাসবাদ সভ্যতার অথবা মানবাধিকারের দুশমন। তালাল আসাদ চোখে আঙ্গুল ঢুকাইয়া কহিতেছেন—প্রকৃত প্রস্তাবে পশ্চিমা সভ্যতার যুক্তি হইল, সন্ত্রাসবাদ যাহারা আঁকড়াইয়া আছে তাঁহারা সভ্যতার বাহিরে বাস করিতেছে। কাজেই তাঁহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবার সময় সভ্যতার আইনকানুন—যথা মানবাধিকার আইন—প্রয়োগের প্রয়োজন নাই। (সম্পূর্ণ…)

মিশেল ফুকোর

শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম (কিস্তি ২)

অদিতি ফাল্গুনী | ২৯ december ২০০৭ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন

কিস্তি:

fk.jpg
মিশেল ফুকো (১৯২৬-১৯৮৪)

অনুবাদ: অদিতি ফাল্গুনী

(গত সংখ্যার পর)

খণ্ড ১ : নির্যাতন

প্রথম অধ্যায়: অভিযুক্তের দেহ

গত দু’শো বছরে শাস্তির তীব্রতা কমে আসার সাথে আইনের ইতিহাসবিদরা ভাল ভাবেই পরিচিত। দীর্ঘ সময়ের জন্য এই বিষয়টি কম নিষ্ঠুরতা, কম যন্ত্রণা, অধিকতর দয়া, অধিকতর সম্মান, অধিকতর ‘মানবতা’ এমন পরিমাণগত প্রপঞ্চ হিসেবে থেকেছে। আসলে এই পরিবর্তনগুলো শাস্তি পরিচালনার উদ্দেশ্যর ক্ষেত্রে এক ধরনের স্থানচ্যুতির প্রভাবে প্রভাবিত। এভাবে শাস্তির তীব্রতা কমেছে কি? হয়তো কমেছে। যেহেতু উদ্দেশ্যের কিছু পরিবর্তন সেখানে ঘটেছে।

শাস্তি তার তীব্রতম রূপেও শরীরকে আর লক্ষ্য না করলে কীসের উপর সে তার প্রভাব রাখবে?

boi_f.jpgতাত্ত্বিকদের অত্যন্ত সরল ও প্রায় প্রত্যক্ষ উত্তর হলো, ১৭৬০ সালের দিকে এক নতুন যুগের সূচনা করা হয়েছিল যা আজো শেষ হয়নি। এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্য প্রশ্নেই নিহিত: শাস্তির লক্ষ্য আজ আর কোনোক্রমেই অপরাধীর শরীর নয়। লক্ষ্য তার আত্মা। অতীতে শাস্তি অপরাধীর শরীরকে লক্ষ্য করে দেওয়া হতো, আজ তা হৃদয়ের গভীরতাকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হবে। চিন্তা, ইচ্ছা ও প্রবণতাকে উদ্দেশ্য করে এই নতুন যুগের শাস্তি দেওয়া হয়ে থাকে। মেবলি এই নীতিকে একদা সবার জন্য প্রণয়ন করেছিলেন: “ আমি শাস্তি প্রদান করলে তা’ দেহ নয় বরং আত্মাকে আঘাত করবে। (মেবলি, ৩২৬ পৃ.)।”

এ ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দেহ ও রক্ত, শাস্তির বধ্যমঞ্চের দুই পুরনো অংশীদার, সেই পথ ছেড়ে দিয়েছে। মুখোশপরা এক নতুন চরিত্র দৃশ্যে প্রবেশ করেছে। যেন কোনো বিয়োগান্তক কাহিনীর শেষ। ছায়া অভিনয়, মুখহীন কণ্ঠস্বর, স্পর্শাতীত যত সত্তা নিয়ে কমেডি শুরু হলো। শাস্তিমূলক বিচারের যন্ত্রপাতি এই অশরীরী বাস্তবতায় এখন নির্ঘাত কামড় বসাবে। (সম্পূর্ণ…)

পাঁচটি কবিতা

অবনি অনার্য | ২৯ december ২০০৭ ৩:০০ পূর্বাহ্ন

27-illus.jpg

গণিতশাস্ত্র : + – x -:-
যোগব্যায়াম তো নিয়মমাফিক করো, নাস্তা করি জলযোগেতে রোজ
যোগনিদ্রায় স্বপ্ন দেখো কারে, ভাবনা করি এইমতো ফি-রোজ
যোগভঙ্গ কাহার যোগসাজশে, যোগমায়াগো যোগ্য আমি নই
যোগসাধনে নগ্ন হয়ে বসো, দিচ্ছি কথা স্পর্শিবো না, সই

বিয়োগান্ত নাটক কতো আর, জলবিয়োগ হররোজই তো ঘটে
বউ-বিয়োগে কান্না কেন আসে, পরনারী ক্ষেত্রে কথা রটে

গুণ করা তো জন্মগত তোর, খুন করাও স্বভাবজাত, নারী
পাজামায় যে গুণ সেঁটেছ তুমি, সে-গুণ ধরে টানবে এ-গুনারি
গুণবতীর গুণমুগ্ধ আমি, গুণহীনের একটাই তো গুণ
গুণানুরাগ আছে একজনেরই, বঙ্গে তিনি নির্মলেন্দু গুণ

হতে পারিস মহাজনের বউ, ভাগরা নিছি শাস্ত্রমতে, সতী
তেভাগা আইনে ভাগ নেবো রে ঠিকই, ভাগীরথীর কসম ভগ-বতী
০৩/০৫/০৫

ওঁর সাথে আ(ই)ল ঠেলাঠেলি
ত্যাঁড়ামি করিলে কিন্তু অক্ষরবৃত্তে চিত্তর করিব
অযথা ঘাঁটাও আর আ(ই)ল ঠেলাঠেলি কর ক্যান
ফজরে যাবার কালে বাম থিকা আলে লাথি মারো
আমার খেতের আল ডানদিকে সরে কিঞ্চিৎ
দুইদিক থিকা ক্রস কর মুখে নাই বাতচিৎ (সম্পূর্ণ…)

মাহবুব উল আলম চৌধুরীর হারিয়ে যাওয়া কবিতা, কবিতার ভ্রান্তি নিরসন ও একটি সাক্ষাৎকার

| ২৮ december ২০০৭ ৪:৩৩ অপরাহ্ন

mahbubul-alam-choudhury-4.jpg
পড়ার টেবিলে মাহবুব উল আলম চৌধুরী।

mahbubul-1953.jpg
১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে একুশে উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মাহবুব উল আলম চৌধুরী

গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় মারা গেলেন ভাষাসৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরী। তিনি জন্মেছিলেন চট্টগ্রামের রাউজানে, ৭ নভেম্বর ১৯২৭ সালে। বায়ান্নোর ২১শে ফেব্রুয়ারির সঙ্গে মাহবুব উল আলম চৌধুরীর নাম ঐতিহাসিক ভাবে যুক্ত হয়ে আছে। তিনি একুশের হত্যাকাণ্ডের পরে চট্টগ্রামে জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় মুখে মুখে ‌’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটি রচনা করেন। কবিতাটি প্রকাশের পর পরই বাজেয়াপ্ত হয়। দীর্ঘকাল নিষিদ্ধ থাকার কারণে এক সময় কবিতাটি হারিয়ে যায়। এই কবিতা নিয়ে নানা সময় লিখেছেন ড. আনিসুজ্জামান, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস (কবিতার প্রথম দুই শ্রোতার একজন), ড. রফিকুল ইসলাম, ড. হায়াৎ মামুদ, বশীর আল হেলাল সহ অনেকে। কারো কাছ থেকেই কবিতাটির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায় নি। এমনকি কবি নিজেও তা দিতে পারেন নি। দীর্ঘদিন পরে ১৯৯১ সালে অধ্যাপক চৌধুরী জহুরুল হকের গবেষণায় কবিতাটি সম্পূর্ণ রূপ পায়। তিনি এই কবিতা বিষয়ে তার বই প্রসঙ্গ : একুশের প্রথম কবিতা রচনা করেন। উল্লেখ্য, চৌধুরী জহুরুল হক এই কবিতার দুর্লভ কপি উদ্ধার করেন প্যারামাউন্ট প্রসেস এন্ড প্রিন্টিং ওয়র্কসের স্বত্বাধিকারী আবু মোহাম্মদ তবিবুল আলমের কাছ থেকে। তবিবুল আলম সংগ্রহ করেছিলেন কম্পোজিটার নুরুজ্জামান পাটোয়ারীর কাছ থেকে।

কবি, সম্পাদক, রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী মাহবুব উল আলম চৌধুরী নানা পরিচয়ে পরিচিত। তাঁর সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, এই কবিতা তার একমাত্র পরিচয় হয়ে ওঠায় তিনি অস্বস্তি বোধ করতেন। এখানে কবিতাটির মুদ্রণপ্রমাদ বিহীন পূর্ণপাঠ, কবিতা নিয়ে তৈরী হওয়া ভ্রান্তি বিষয়ে চৌধুরী জহুরুল হকের তথ্যমূলক রচনা ও ইলু ইলিয়াস-এর নেয়া কবির একটি সাক্ষাৎকার পুনর্মুদ্রিত হলো।

● কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি ।। মাহবুব উল আলম চৌধুরী
● সদয় অবগতির জন্য ।। চৌধুরী জহুরুল হক
● কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর সাক্ষাৎকার ।। ইলু ইলিয়াস
(সম্পূর্ণ…)

মা যে আমায় গান শোনাতো

ফৌজিয়া খান | ২৭ december ২০০৭ ১১:১৫ অপরাহ্ন

(এই লেখাটি আমার নির্মাণাধীন নিরীক্ষামূলক একটি চলচ্চিত্রের মনোলগ হিসেবে লেখা। ২০০১ সালের জানুয়ারি মাস। তখন আমার গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা হয়। সেই নির্মম নিদারুণ অভিজ্ঞতাই মা যে আমায় গান শোনাতো-র বিষয়। ওরিয়ানা ফালাসির হাত বাড়িয়ে দাও যারা পড়েছেন তারা এর সাথে বিষয়গতভাবে কিছুটা সাম্য পাবেন।
motherhood-64.jpg
মাতৃত্ব, ডিজিটাল চিত্র, ফৌজিয়া খান ২০০২

মানবপ্রজাতির জন্ম প্রক্রিয়ায় নারী আর পুরুষের অংশগ্রহণ বিষয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে আমার কাছে মা হচ্ছেন এমন জন যিনি পৃথিবীতে মানবপ্রবাহ টিকিয়ে রেখেছেন। বিনিময়ে সামষ্টিকভাবে নারী কিন্তু কিছু অর্জন করেনি; পেয়েছে কেবল লাঞ্ছনা। পথ চলতে গিয়ে প্রায়শ দুই রিকশাচালককে ঝগড়া করতে শুনি। অকারণের তারা পরস্পর পরস্পরের মাকে গালি দিতে থাকে। শুনে আমার গা রি রি করে; মাথার তালু গরম হয়ে যায়। জিভ নিশপিশ করে কিছু বলার জন্য। কখনো বা বলেও ফেলি, মাকে কেন টেনে আনছেন এখানে? আমার প্রশ্নে তারা বিরক্ত হয়। কিন্তু প্রশ্নের জবাবের মর্মার্থ নিয়ে ভাবে না। ফলে আমার মন খারাপ করা মনে আরো একটি কালো রঙের পোচ পড়ে। মাকে আমার তখন বড় নিঃস্ব, যন্ত্রণায় মূঢ় মনে হয়। তবুও আশ্চর্য আমাদের জীবন। অনেক নারীবন্ধু যারা মা হয়েছেন তাদের কাছে শুনেছি সন্তান তাদের কাছে অপ্রার্থিব প্রাপ্তিতুল্য। বঞ্চনায় ভরপুর জীবনে সন্তান তাদের অমূল্য রতন। মাতৃত্ব যেমন সৃষ্টির আনন্দে ভরপুর তেমনি বেদনারও উৎস–এমনই নির্মম বোধ আমার মনের মধ্যে বারবার খেলে যায়। (সম্পূর্ণ…)

উলানিয়া উপাখ্যান: ডিসেম্বর ১৯৭০

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৭ december ২০০৭ ১১:১২ অপরাহ্ন

ulania.jpg ২৮ নভেম্বর ১৯৭০। চরফ্যাশন-লালমোহনে ১২ নভেম্বরের ‘গর্কি’-র ছোবলে বিক্ষত উপকূল আর বেঁচে যাওয়া স্বল্পসংখ্যক মানুষদের হাল সরেজমিনে দেখে ফিরে এসে আমি ‘দ্য ইয়াং ট্রিও’-র নৌকা দ্বিতীয় সফরের জন্য সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। আসলে হয়েছিল কী, প্রথমবারে নিয়ে যাওয়া রিলিফের একাংশ কেবল আমরা বিলিবিতরণ করতে পেরেছিলাম ওই জনবিরল চর এলাকায়। কাজেই এবারে রসদ তেমন লাগবে না। কেবল খাবার-দাবার এবং লেপকম্বল কিছু নিতে হবে আর গৃহস্থালীর জিনিশপত্র বেশি করে নেয়া। আর হ্যাঁ, বাড়ি তৈরির জন্য টিন নিতে হবে। দুই পকেটে টাকা ভর্তি করে নিয়ে মজনু ভাই ও আমি একদিন বুড়িগঙ্গার ওপারে টিনের আড়তে গিয়ে রানিমার্কা টিন কিনে, নৌকা বোঝাই করে, এপারে রাখা লঞ্চে রেখে এলাম। সদরঘাট এলাকায় গেলে আমরা কাজশেষে বাংলাবাজার চৌরাস্তায় মেহেরবান রেস্তোরাঁয় মাটন বিরিয়ানি চেখে ফিরতাম। সাব্যস্ত হয়েছে, এযাত্রায় আমি টিম লিডার, মজনু ভাই ডেপুটি আর শামীম ভাই উপদেষ্টা হিসেবে ক্যাম্প পরিচালনা করবো।

ডিসেম্বরের শুরুতে এক সন্ধ্যায় আমরা সদরঘাট থেকে যাত্রা করলাম। পরদিন বিকেল নাগাদ গলাচিপা পেরিয়ে, উলানিয়া বাজার থেকে একটু আগে লঞ্চ বাঁধা হল। পাড়ে নেমে সবুজ ঘাসে ঢাকা সমতলের শেষে খোয়া বাঁধানো গ্রামসড়কের ধার ঘেঁষে উলানিয়া উচ্চবিদ্যালয়। গাফফার ভাই—দৈনিক পূর্বদেশের আব্দুল গাফফার চৌধুরীর বাড়ি নাকি এখানেই, শোনা ছিল। অতএব উলানিয়ার সঙ্গে আমার আত্মিক যোগাযোগ একরকমের হয়েই ছিল, মনে হল। দ্রুত চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা কজন স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে প্রাথমিক আলাপ সারতে বের হলাম। টিমকে কড়া নির্দেশ দিলাম, নিচে নেমে সামনের মাঠে পায়চারি করতে পারবে যার ইচ্ছে, কিন্তু এই সীমানা পেরোতে টিম লিডার অথবা ডেপুটির অনুমতি নিতে হবে। কেউ একা নিজ দায়িত্বে কোথাও যাবে না, কোনো গ্রামবাসীর সঙ্গে কোনো রকম মৌখিক চুক্তি বা আশ্বাস দেবার বিষয়ে স্থায়ী নিষেধ মেনে চলবে। এর অন্যথা হলে ক্যাম্প নেতৃবৃন্দ যে সাজা দেবেন, তা মাথা পেতে নিতে হবে। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের কপিলা থেকে

| ২৪ december ২০০৭ ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

2nd-page.jpg

কানে ফুল নাকের নোলক তারও
বহু আগে
পঞ্চাশের মন্বন্তর, ডোম্বি বাড়ন্ত আহার

তবু
বাবুদের আনাগোনা
এমন শরীল একহারা
নরম কাদায় চ্যাং

বন্ধকী দিছিস বাজু
এই বাজী
বিয়ের রাতের থনে
জউনার উচাটন সোতে

নাও দিয়ে পারাপার
পারানির কড়ি
চোলাইয়ের
স্বাদে

কার্পাসের ডালে ডালে ফাট্যা পড়ে ফুলের আগুনি
হরিণী কতোটা জানে কতোটা সে সত্যিই হরিণী

নগর বাহিরে
দূরে
ভোর-ভোর পৌষের পার্বণে অন্য
ঢেঁকিতে ধানের গন্ধ
অন্যের দাওয়ায়
হাত পেতে
দু’একটা তেলেভাজা পিঠের আস্বাদ
ঝোলা গুড় (সম্পূর্ণ…)

কেন লেখা হয়েছিল কপিলা

মোহাম্মদ রফিক | ২০ december ২০০৭ ১১:৩৫ অপরাহ্ন

তখন দেশে চলছে স্বৈরশাসন। সে হবে গত শতাব্দীর আশির দশকের শুরুর দিকের কথা। ভাগ্যগুণে বা ভাগ্যদোষে আমাকে মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাদের কিছু প্রতিনিধির এবং তাতে আমার বিশেষ একটি কবিতা রচনার
md-rafique.jpg…….
মোহাম্মদ রফিক, ছবি: শফিউল আলম সুমন……..
সুবাদে তারা বেশ জাঁক করে জিজ্ঞাসা করল এই কবিতাটি আপনি কখন লিখেছেন। আমি বললাম, উত্তর দেয়া যে দুরূহ। ওরা সামান্য চমকে উঠে চেয়ারে নড়ে বসল, কেন? আমি পালটা জানতে চাইলাম, বলুন তো হ্যামলেট শেকসপিয়র কবে লিখছেন? ওদেরকে কিছুটা বিব্রত ও উত্তপ্ত হতে দেখে, আমি আগ বাড়িয়ে আমার কথা পাড়লাম। আমরা সবাই নিশ্চয় অতি সহজেই বলতে পারব, নাটকটি কবে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বইটি তো লেখকের অভ্যন্তরে লিখিত হতে শুরু হয় বহুকাল থেকে। তিনি নিজেই কি তবে খোঁজ জানেন? লেখক বা কবি তো নিমিত্ত মাত্র। দেখলাম, ওরা বেশ স্বস্তি বোধ করতে শুরু করেছে। একটু আলগা এবং খোলামেলা হয়ে বসার চেষ্টা করছে সবাই। আমিও বাঁচলাম হাঁফ ছেড়ে।

boi_kapila-j.jpgএই লেখাটি প্রস্তুত করতে বসেও সেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচার চেষ্টা করছি আমি। লেখালেখির গোড়া থেকেই কিছু কিছু বিশ্বাস ও প্রশ্নের দ্বন্দ্বে ভুগছিলাম। এখনও যে ভুগি না, তা নয়। সত্যি সত্যি কি কবি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কবিতা বা কবিতাটি লেখেন। না লিখতে তিনি বাধ্য হয়। প্রকৃত প্রস্তাবে কে লেখে কবিতা বা বিশেষ কবিতাটি। মানুষ প্রকৃতি ও পরিবেশের টানাপোড়েনে কবির রক্তমাংসে মজ্জায় কতটা অমোঘ হয়ে দেখা দিলে, ব্যক্তিকবি হাতে তুলে নেন কলম, নিবিষ্ট হয় ধ্যানে ও নির্মাণে বা সৃষ্টিতে। বসে যান শূন্য পৃষ্ঠার মুখোমুখি; আত্মোউৎসর্গিত হয়ে পড়েন। উপলে-পাথরে-শব্দে বন্ধুর পথ পরিক্রমায় বা নির্ভেজাল খননে? প্রশ্নটি হয়তো নতুন নয়। তবে চিরপুরাতন বলে তো একটা কথা অবশ্যই চালু আছে। তাই বলে কবি কোনো অসচেতন কর্দমপিণ্ড নয়। কর্দমপিণ্ডও কি সত্যিকার অর্থে অসচেতন? (সম্পূর্ণ…)

ল্যুইস ক্যারল-এর ‘হন্তদন্তের গান’

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ | ২০ december ২০০৭ ১১:৩২ অপরাহ্ন

lewiscarroll.jpg
ল্যুইস ক্যারল (১৮৩২-১৮৯৮)

হন্তদন্তের গান

ল্যুইস ক্যারল

অনুবাদ: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

গানখানি গা’ব তুষারশুভ্র শীতে
তোমাকে গানের সুরের আমোদ দিতে।

বসন্তে পাতা ধরবে যখন শ্যামল বাহার
তোমাকে বোঝাতে চেষ্টা করব অর্থটি তার।

গ্রীষ্মে যখন দিনগুলি বড় হবে
গানের মানেটা বুঝবে হয়তো তবে।

শরতে যখন পাতারা বাদামি গাঢ়
খাতার পাতায় লিখে ফেলো, যদি পারো।

* * * * *

খবর দিলাম মাছেদের, আর
বললাম, “এ-ই ইচ্ছে আমার!”

সাগরের খুদে মৎস্যেরা সত্বর
আমাকে পাঠিয়ে দিল তার উত্তর।

মাছেরা বলল, “নমস্কারম্!
পারব না এটা আমরা, কারণ—”

আবার বার্ত্তা পাঠিয়ে দিলাম, “শোনো,
কথাটা শুনলে হবে না বিপদ্ কোনোও।”

শুনে, রেগে গিয়ে মৎস্যেরা কয়,
“নিজেকে কী ব’লে সন্দেহ হয়?” (সম্পূর্ণ…)

একটি কবিতার বই এবং একখানি নিরীহ জিজ্ঞাসা

আলম খোরশেদ | ২০ december ২০০৭ ১১:২৫ অপরাহ্ন

johir_boi1.jpgবইটির নাম গোস্তের দোকানে। কবিতার বই। রচয়িতা জহির হাসান। তিনি নিজেই পাঠিয়েছেন বইখানির কিছু কপি আমাদের বিশদ বাঙলার বইঘরে রাখার উদ্দেশ্যে। সঙ্গে এক কপি সৌজন্য সংখ্যা এই অধমের জন্যও। তার বিনীত প্রত্যাশা একটি পাঠ প্রতিক্রিয়া। এই লেখাটি মূলত বইখানি পড়ার পর বর্তমান লেখকের মনে যে বিশেষ প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্নের জন্ম হয়েছে তারই বহিঃপ্রকাশ।

জহিরের কবিতা প্রথম পড়ি আন্তর্জালে। তারপর জাহিদ হাসান মাহমুদ সম্পাদিত কবিতামঞ্চ পত্রিকায়। একবার মুখোমুখি আলাপও হয়েছিল ব্রাত্য রাইসুর বরাতে। তার কবিতাকে প্রথম থেকেই আর সবার চেয়ে একটু আলাদা বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু এবারে তার গোটা একটি বই পড়ে বোঝা গেল তিনি স্বতন্ত্র বটে; তবে তিনিও একটি ক্ষুদ্র অথচ ক্রমবর্ধমান গোষ্ঠী কিংবা ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন।

বাংলাদেশের কবিতায় এই ধারাটির সূত্রপাত করেছিলেন ফরহাদ মজহার তার এবাদতনামা গ্রন্থে, তারপর সলিমুল্লাহ খান তাকে আরও কিছুদূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তার অনূদিত কাব্যগ্রন্থ আল্লাহর বাদশাহী-তে। (সম্পূর্ণ…)

জেমস রেনেল ও তাঁহার রোজনামচা : ১৭৬৪-১৭৬৭

সলিমুল্লাহ খান | ২০ december ২০০৭ ১১:২২ অপরাহ্ন

কিস্তি

(তেসরা কিস্তি)

৩য় কিস্তির ভূমিকা

rennell………
জেমস রেনেল (১৭৪২-১৮৩০)
……….

জেমস রেনেল: আরোর আরো

মেজর জেমস রেনেল খ্রিস্টিয় ১৭৭৬ সালে সরকারি চাকুরি হইতে অবসর গ্রহণ করিলেন। ইহার শুদ্ধ কিছুদিন আগে ‘বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ার’ নামক পল্টনে মেজর পদে তাঁহার উন্নতি হইয়াছিল। তখন কলিকাতায় পূর্ব ভারত কোম্পানি নিয়োজিত গভর্নর জেনারেল পদে ওয়ারেন হেস্টিংস আসীন। জেমস রেনেলের নামে মাসিক ৫০/= টাকা পেনসন মঞ্জুর করিয়াছিলেন তিনি। এই কথা আমরা পহিলা কিস্তিতেই উল্লেখ করিয়াছি। ইহার পর দেশের ছেলে দেশেই ফিরিয়া গেলেন। দেশে ফিরিবার পর জেমস রেনেল লন্ডনেই বসবাস শুরু করেন। তাঁহার বাকি জীবন খুব একটা হ্রস্ব ছিল এমন কথা বলিব না। এই নাতিহ্রস্ব জীবন তিনি নানানদেশের ভূগোলবিদ্যা আর সাহিত্য চর্চা করিয়া কাটাইয়াছিলেন।

তাঁহার বড় কীর্তি বাঙ্গালাদেশের ভূচিত্রাবলী যাহাতে হিন্দুস্তানের ঐদিককার রণাঙ্গন আর বাণিজ্যাঙ্গনের মানচিত্র সন্নিবেশিত হইয়াছে বা Bengal Altas, containing Maps of the Theatre of War and Commerce on that side of Hindoostan প্রকাশিত হয় ১৭৭৯ সালে। ১৭৮১ সালে ইহার একটি দোসরা সংস্করণও ছাপা হয়। একই বৎসরে তিনি বিলাতের—রাজসভা বা Royal Society নামেই সমধিক পরিচিত—বিজ্ঞানসাধকমণ্ডলীর সদস্য বা ফেলো নির্বাচিত হইলেন।

ইহার পর তিনি ভারতবর্ষের একপ্রস্ত মোটামুটি নির্ভরযোগ্য মানচিত্র তৈয়ারে মনোনিবেশ করিলেন। (সম্পূর্ণ…)

Flights

Dibakar Barua

dibakar2.jpg

A blue and white jumbo jet shakes free of the earth and roars into an afternoon glare. Shredded clouds, a hard crystalline sheet of water below, and the dotted fragility of the Los Angeles shoreline seem strange and sorrowful.

The last time I crossed the Pacific was five years ago, in 1990, when my wife flew with me to meet my relatives in Bangladesh. The need for this solitary flight came suddenly last week as I tried to cure a bout of mild insomnia by drinking a late nightcap. The phone rang. A raspy voice from the old country crackled through a maze of wires and satellite connections. (More…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com