তিনটি কবিতা

বদরে মুনীর | ২২ নভেম্বর ২০০৭ ১১:২৭ অপরাহ্ন

altaf-6.jpg

একটা মুখোশ

একটা মুখোশ প’রে আছি।
দেখা যাচ্ছে, শ্রুতিও সজাগ;
মনে হচ্ছে মুখোশটা মুখ
হয়ে উঠছে, মিশে যাচ্ছে দাগ।
ভালোই তো ধাবমান সব,
চলমান, ঢলোঢলোমান;
গতিশীলতার গর্ত ঘিরে
নিরত নিযুত হন্যমান।
আমি দেখি, আমাকে দেখে না –
কত বড় বাতেনি ব্যাপার!
কত দূর, কত আপেক্ষিক
মুখোশের ওপার, এপার! (সম্পূর্ণ…)

শিব্যলেথ : মহাফাটলের উপকথা

চয়ন খায়রুল হাবিব | ২২ নভেম্বর ২০০৭ ১১:২৪ অপরাহ্ন

dsc00116.JPG
লন্ডনের টেট মডার্ন শিল্পশালার ‘টারবাইন হল”-এর মেঝে জুড়ে এ-মাথা থেকে ও-মাথা অব্দি এক লম্বা আঁকাবাকা ফাটল।

দরিস সালসেদোর (Doris Salcedo, born 1958) খোঁড়া এ-ফাটল শুধু যে কংক্রিটের মেঝেতে চিড় ধরিয়েছে তাই নয়, এ-ফাটল এক টানে টেট-এর ভিত্তিমূলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।

দরিস সালসেদো জন্মেছিলেন কলম্বিয়ার বোগোটা শহরে ১৯৫৮ সালে। ফাইন আর্টস পড়াশোনা করেন বোগোটা আর নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে। গেরস্থালির পরিত্যক্ত, ভাঙাচোরা চেয়ার, টেবিল, খাট, জানলা, দরজা ইত্যকার আসবাবপত্র একটার সাথে আরেকটা খ্যাপা-বেখাপ্যা ভাবে জুড়িয়ে তৈরি তার ভাস্কর্যগুলো আশি ও নব্বই দশকে লন্ডনে সাড়া জাগায়। সে সূত্রেই এ-বছরের শেষ থেকে আগামি বছরের শুরু অব্দি টেট-এ আয়জিত The World As A Stage প্রদর্শনীতে তার আমন্ত্রণ।

অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি মতে Shibboleth শব্দের অর্থ হচ্ছে : উচ্চারণ রীতির ব্যবহার করে লোকজনের আঞ্চলিকতা নির্ণয়। এমন একটা শব্দ বলতে বিদেশীদের বাধ্য করা যা উচ্চারণ করা শুধু দুষ্করই নয়, অসম্ভব। শিব্যলেথ হচ্ছে এক সম্প্রদায়ের সাথে আরেক সম্প্রদায়ের সম্পর্কে ভাঙন ধরানোর শাব্দিক কৌশল। (সম্পূর্ণ…)

Waiting

Fazal M. Kamal

kamal-2.jpg

I waited.
(Patiently.)
I left.
(Dejectedly.)
You never called.
(Predictably.)
As you said you’d.
(Inaccurately.)
I still wait.
(Patiently.)

fazal.kamal@bdnews24.com

মানুয়েল মুহিকা লাইনেস-এর গল্প ‘গুরুত্ব’

আলম খোরশেদ | ২২ নভেম্বর ২০০৭ ১১:০৯ অপরাহ্ন

del-freshno.jpg

মূল: মানুয়েল মুহিকা লাইনেস
অনুবাদ: আলম খোরশেদ

মিসেস এরমোসিয়া দেল ফ্রেসনো একাধারে বিধবা ও গুরুত্বপূর্ণ মহিলা। অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ বিধবা অধ্যুষিত এই বিশাল শহরে মিসেস এরমোসিয়া দেল ফ্রেসনো-র মত এতটা গুরুত্বপূর্ণ আর কেউই নন। তার গুরুত্বের সঙ্গে মানানসই এক বিশাল প্রাসাদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র ও এক পাল পরিচারক পরিবেষ্টিত হয়ে বাস করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজনে সদাব্যস্ত, গুরুত্বপূর্ণ সভাসমিতির পৌরোহিত্য করেন। ভাগ্যের এক আজব কারসাজিতে এই চমৎকার প্রেক্ষাপটে একটা বিষয়েই কেবল গুরুত্বের অভাব, সেটা তার পরিবার : তার সন্দেহজনক বংশপরিচয়, সে ব্যাপারে কারো কোনো সংশয় নেই, বিশেষত সমাজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহিলাদের। তার বংশপরিচয়ের (যা কিনা তার রাজসিক বিবাহ অনুষ্ঠানের চটকেও চাপা পড়েনি) সাক্ষী কতিপয় যারপরনাই দীনহীন দূরসম্পর্কের আত্মীয়স্বজন, যাদের তিনি কালেভদ্রে দেখে থাকবেন। কখনো তাদের পরিচয় দিতে বাধ্য হলে – যা তিনি কৌশলে এড়িয়ে চলেন সচরাচর – তিনি তাদের নামধাম এবং সম্পর্কসূত্র আধহাসি আর আনমনা চাহনির মোড়কে ঢেকে দিতে সক্ষম হন, যদিও তার ভেতরের ছাইচাপা দেমাগ তখন ওঁৎ পাতা বাঘের মত আড়মোড়া ভেঙে অগ্নিথুতু ছিটাতে থাকে। (সম্পূর্ণ…)

খালিদ মাহমুদ মিঠুর ‘রঙের নিনাদ’

| ২২ নভেম্বর ২০০৭ ১১:০৬ অপরাহ্ন

32.jpg

ধানমণ্ডির ‌’বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌’-এ ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে শিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠুর একক চিত্রপ্রদর্শনী। ‘রঙের নিনাদ’ (Sound of Colour) নামের এ প্রদর্শনী চলবে নভেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত।

১৯৬০ সালে জন্ম শিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮৬ সালে এমএফএ করেন তিনি। এটি তাঁর ১১ তম একক প্রদর্শনী। ২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত ১৬ তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে ‌’আরব বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কার’ লাভ করেন । এবারকার প্রদর্শনীতে শিল্পীর ৬১টি পেইন্টিং প্রদর্শিত হচ্ছে। বেঙ্গল শিল্পালয়-এর সৌজন্যে আর্টস-এর ওয়েব গ্যালারিতে সমুদয় চিত্র উপস্থাপন করা হলো। প্রদর্শনীর পরেও আর্টস-এর আর্কাইভে ছবিগুলি দেখা যাবে।
khalid.jpg

নিচে প্রদর্শনী বিষয়ে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌-এর ভাষ্য তুলে দেয়া হলো। প্রদর্শিত চিত্রকর্মের ছবি তুলেছেন সিউতি সবুর। (সম্পূর্ণ…)

আল মাহমুদ ও জয় গোস্বামীর সঙ্গে আলাপ

ব্রাত্য রাইসু | ১৫ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৪০ অপরাহ্ন

joy-al-131.jpg

ভারতের পশ্চিমবাংলার কবি জয় গোস্বামী গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশে আসেন। এ সাক্ষাৎকারের দুই দিন আগে তিনি কবি আল মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন। কবি আল মাহমুদের সঙ্গে তার সে সাক্ষাতকে তিনি তীর্থ দর্শন বলে অভিহিত করেন। দুই দেশের দুই কবিকে এক সঙ্গে বসিয়ে একটি সাক্ষাতকার গ্রহণের ইচ্ছা ব্যক্ত করলে কবি দুজন তাতে রাজি হন। জয়ের বাংলাদেশ ছাড়ার দিন ৭ নভেম্বর দুপুরে কবি আল মাহমুদের গুলশানের বাসভবনে এ সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়।

~

ব্রাত্য রাইসু: মাহমুদ ভাই, বললেন জ্বর আসছে আপনার, সিগরেট খাচ্ছেন যে?

আল মাহমুদ: সিগারেট খাচ্ছি, সিগারেট ছাড়া থাকতে পারি না, কী করবো? মানুষের তো…এটাই তো আছে। আর তো কোনো শখ নাই, কিছু নাই। কোনো কিছু করি না।

জয় গোস্বামী: আপনি সুরা পান করেন না?

মাহমুদ: না। আমি সুরা পান করতে পারি না। সুরা পান করলে আমি অসুস্থ হয়ে যাই।

জয়: আপনার চোখের অবস্থা ভালো নয়, কিন্তু আমি আমার কবিতা সংগ্রহ-এর তৃতীয় খণ্ডটি নিয়ে এসেছি। আপনার কাছে রেখে যাবো। কখনো সময় পেলে একটু উলটে দেখবেন।

মাহমুদ: ঠিক আছে, আমি দেখব।

জয়: কখনো সুযোগ পেলে একটু বইটা পড়ে দেখবেন। এই আর কি।…বাবা তোমার নাম কী? (ঘরে আসা একটি মেয়েকে নাম জিজ্ঞেস করেন জয় গোস্বামী।)

মাহমুদ: এই, এদিকে আসো, নাম বলো। (আল মাহমুদ মেয়েটিকে নাম বলতে বলেন।)

জয়: নাম কী? অ্যাঁ?

মেয়েটি: প্রথমা।

জয়: প্র থ মা! ও বাবা! কী সুন্দর নাম!

মাহমুদ: আমার নাতনী।

জয়: বুঝেছি। কাবেরী (জয় গোস্বামীর স্ত্রী) আসতে পারল না এজন্যে যে আজগে যেহেতু আমরা চলে যাব, আমাদের সমস্ত কিছু এদিক-ওদিক হয়ে গেছে। সকাল থেকে লোক আসতে শুরু করেছে হোটেলের ঘরে। বিভিন্ন কারণে দেখা করতে করতে আমাদের সব পিছিয়ে গেছে। স্নান ট্নান কিছু হয়নি। ও আর কিছুতেই বেরুতে পারল না। ওর খুব ইচ্ছে ছিল যে আপনাকে একবার দেখবে। আমরা তো এলামও অনেক দেরিতে। যে সময়টা দিয়েছিলাম সে সময় আসতে পারলাম না। (সম্পূর্ণ…)

চাঁদে পাওয়া গাধা ও উজবুক

জুয়েল মাজহার | ১৫ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৩৫ অপরাহ্ন

juwel-2.jpg

একটি নৌকায়           যেকোনো সন্ধ্যায়
সবার অগোচরে         সুদূরে যেতে চাই 
অথচ নদী নেই        দখলি জল ঘিরে 
উঠেছে বাবেলের        হর্ম্যমিনার;

নৌকা? সে-ও নেই;        আকাশগঙ্গায় 
থুবড়ে পড়ে আছে            চন্দ্র সদাগর 

তোমাকে ধরা যেতো         একটি শব্দে
সান্দ্র মেঘস্বরে          তোমাকে বলা যেতো  
লম্বা মেহগনি            গাছের শীর্ষে 
তোমাকে বসিয়ে          দিলেই উড়তে 


ক্লান্ত পরিযায়ী 
পাখিরা আসতো 
লম্বা লেজঝোলা 
আসতো দলে দলে;

শিশুর মতো তারা 
নিতো কি বিশ্রাম 
তোমার কুচযুগে
নিবিড় আশ্রয়ে? (সম্পূর্ণ...)

মিশেল ফুকোর বাতি জ্বালানি

সলিমুল্লাহ খান | ১৫ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৩০ অপরাহ্ন

foucault1.jpg
মিশেল ফুকো (১৯২৬-১৯৮৪)

~ মিশেল ফুকো বিষয়ে সলিমুল্লাহ খানের সেমিনার ~

মুখবন্ধ

নিচের প্রবন্ধটি বর্তমান লেখকের বলা একটি বক্তৃতার লিখিত ভাষ্য। ফিতার রেকর্ড থেকে অক্ষরে লিখে নেওয়ার মেহনতটুকু করেছেন আমার বন্ধু জামিল আহমদ। তিনি আমার কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন। এই বক্তৃতা কয় তারিখে দিয়েছিলাম রেকর্ডে তার নিদর্শন নাই। আমার ধারণা তারিখটা হয়ত মার্চ কি এপ্রিল মাসের কোন শুক্রবার হবে। যতদূর মনে পড়ে এই বক্তৃতামালা শেষ করেছিলাম মোট আট দিনে। বর্তমান লেখাটি দ্বিতীয় দিনের রেকর্ড থেকে তৈরি করা বলে মনে হয়। প্রথম দিনের বক্তৃতা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সঠিক রেকর্ড হয় নাই।

জানিয়ে রাখা যায় আমাদের বিজ্ঞাপিত সমাজের সামান্য নাম ছিল ‘জাক লাঁকা বিদ্যালয়’ আর ঐবারের বিশেষ বক্তৃতামালা প্রচারিত হয়েছিল ‘মিশেল ফুকো বোধিনী’ নামে। মিশেল ফুকো তাঁর দেশের অপর প্রভাবশালী তত্ত্বজ্ঞানী জাক লাকাঁর ঋণ বিশেষ স্বীকার করেন নাই। তবে লাকাঁর ঋণ তিনি দুই হাতেই নিয়েছেন।

তত্ত্বজ্ঞানী জাক দেরিদার সঙ্গে ফুকোর মতভেদ প্রকৃত প্রস্তাবে মহাত্মা লাঁকার শিক্ষার দুই দিক নিয়ে টানাটানির অধিক নয়। জাক লাকাঁ ভাষার বা পদের একাধিপত্য বলে যে উপপাদ্য প্রচার করেন, দেরিদা সেই বক্তব্যই নিজের বলে জাহির করেছিলেন। ‘লেখার বাহিরে কিছু নাহিরে’ বলে তিনি বেশ বাড়াবাড়ি করেছিলেন বৈ কি ।

মিশেল ফুকো আঁকড়ে ধরেন জাক লাকাঁর অপর একটি উপপাদ্য। এই উপপাদ্য অনুসারে মানুষের ইতিহাসে ভাষাই শেষ কথা নয়, শেষ কথা ‘সহজ মানুষ’ বা সাবজেক্ট। যে ইতিহাসে অর্থ তৈরি করে থাকে তাকেই সহজ মানুষ বলে। জীবনের শেষদিকে ফুকো প্রকারান্তরে সেই সত্য স্বীকার করেছিলেন। বাতি জ্বালানি বা এনলাইটেনমেন্ট বিষয়ে মহাত্মা ফুকোর বক্তব্যে সেই অঙ্গীকারের পুবাল হাওয়ার ছোঁওয়া পাওয়া যায়।

সকলেই জানেন মনীষী মিশেল ফুকো ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৮৪ (অর্থাৎ তাঁহার অকাল মৃত্যুর পূর্ব) পর্যন্ত ফরাসি দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যালয় কলেজ দহ ফঁসের অধ্যাপক ছিলেন। অনেকেই জানেন তিনি ঐ বিদ্যালয়ে যে অধ্যাপনার পদ অলংকৃত করতেন তার নাম ছিল ‘চিন্তাজগতের ইতিহাস’। ইতিহাস বিচারে প্রতিষ্ঠালব্ধ ফরাসি মনীষী ফেরনঁ ব্রদেল (Fernand Braudel) প্রস্তাবিত পদ্ধতির বিরুদ্ধাচরণ করেন তিনি। ব্রদেল যেখানে এক যুগের সহিত অন্য যুগের যোগধর্ম বা ‘কনটনুয়িটি’ আবিষ্কার করার দিকে মন সংযোগ করতেন সেখানে ফুকো যুগান্তর বা এক যুগের সহিত অন্য যুগের বিয়োগধর্ম অথবা ‘ডিস্কনটনুয়িটি’র জয় ঘোষণা করতে বিস্তর দিনক্ষণ ব্যয় করেছিলেন। (দান্তো ১৯৯৮: ১৮১-৮২) (সম্পূর্ণ…)

রূপকথা

লুনা রুশদী | ১৫ নভেম্বর ২০০৭ ১১:২৭ অপরাহ্ন

wali-2.jpg

‘‌‌দেখিস আবার ভান করতে করতে আসলেই খাইয়া ফেলতে পারোস।’ খালাম্মা বললো।

আমরা শুক্রবারের সকাল বেলায় বসার ঘরে বসে ছিলাম। মানে আমি, আম্মা, ছোট মামা, রাজু ভাই, খালাম্মা আর দাদী। আব্বা নিজের ঘরে কাজে। রিমা আর লিমা পাড়ার মাঠে। ওদের ততদিনে অনেক বন্ধু হয়েছে। স্কুলের দিন প্রতি বিকালে খেলতে যায় আর ছুটির দিন সকাল বিকাল।

রাজু ভাই কোত্থেকে যেন কাগজের টুকরায় করে কাকের গু ধরে নিয়ে আসছে। এখন জনে জনে সবার সামনে দাঁড়িয়ে ভান করছে সেই জিনিস খাওয়ার। এইবার মোটামুটি সারা বসার ঘর রাউন্ড দেয়ার পর ছোটমামার সামনে দাঁড়ালো। ছোটমামা আর রাজু ভাই প্রায় এক বয়সী, দুইজনই কলেজে পড়ে তখন। রাজুভাই মাথা নিচু করে জিভ বের করে ঢঙ আরম্ভের সাথে সাথেই মামা হঠাৎ রাজুভাইয়ের কাগজ ধরা হাত ধরে উপরে তুলে দিল। সাথে সাথে কাগজের জিনিস মুখে ট্রান্সফার। আমরা কিছুক্ষণ হতভম্ব থাকার পরে হাসতে হাসতে শেষ। বেচারা রাজু ভাই তখন প্রবল আক্রোশে মামার কর্ডের প্যান্টে জিভ মুছছে আর আঃ আঃ জাতীয় শব্দ করছে। মামা পরম আদরে তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলছে, ‘কেমন লাগে বাপধন? মা-বাবার কথা সাথে সাথে ফলে!’

এমন সময় কলিংবেল। এক মিনিটের মধ্যেই তিনবার বাজাতে বুঝলাম নিশ্চয়ই রিমা-লিমা ফিরলো। আম্মার সাথে সাথে আমিও উঠে গেলাম। দরজার ওপাশ থেকেই কী নিয়ে যেন ওদের বেশ উত্তেজিত কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিল। দুইজন একইসাথে কথা বলছিল বলে কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। আম্মা দরজা খুলতেই তার দুইহাতের তল দিয়ে দুজন ঢুকে দৌড় লাগালো আব্বার পড়ার ঘরে।

‘অ্যাই কী হইছে? তোর আব্বার ঘরে এখন ঢুকলে কিন্তু রাগ করবে!’ বলতে বলতে আম্মা ওদের পিছন পিছন গেল। আর তার পিছন পিছন আমি। প্রায় একই সাথে চারজনকে ঘরে ঢুকতে দেখে আব্বা মুখ তুলে আম্মার দিকে তাকালো। আম্মা একটা বেচারা বেচারা আধা হাসি শুরু করতে করতেই আব্বা বললো, ‘তুমি এইরকম কুইচা মুরগির মতন সবসময় ছানাপোনা সঙ্গে নিয়ে ঘুরঘুর কর কেন, কী সমস্যা?’

‘আরে ওরাই তো তোমার ঘরে আসলো মাঠ থিকা আইসাই। আমি দেখতে আসলাম কী হইছে।’ আম্মার প্রম্পট পাওয়ার সাথে সাথেই দুইজন একসাথে মুখ খুললো। আব্বা বললো, ‘আরে আরে থামো থামো। একজন একজন করে…হুম বল রিমা।’

‘আচ্ছা আব্বা এক মন তুলার ওজন বেশি না এক মন লোহার ওজন বেশি?’

‘আব্বা লোহার ওজন বেশি না? আমি রিমারে বললাম যে লোহা বেশি ভারি! কিন্তু গাধাটা দৌড়াইয়া বাসায় আসছে। এতক্ষণে ওরা বোধহয় নিয়া গেল।’ (সম্পূর্ণ…)

ব্যুরজোয়ার মাকড়সা বৃত্তান্ত

চয়ন খায়রুল হাবিব | ১৫ নভেম্বর ২০০৭ ১১:২২ অপরাহ্ন

lb.JPG
মেঘলা এক রোববারে টানা ঝিরঝির বৃষ্টি মাথায় নিয়ে প্রায় ঘন্টা দেড়েকের টিউবভ্রমণ শেষে যখন টেট মডার্ন-এ পৌঁছলাম তখন ভ্রমণক্লান্তিতে প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। স্ত্রী প্যাট্রিসিয়া আর চার বছরের পুত্র মাতিসও ক্লান্ত।

আয়োজনটা প্যাট্রিসিয়ার। বিয়ের দশ বছর পূর্তি উদযাপন। লন্ডনের দক্ষিণপ্রান্তে সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালের উল্টোপাশে মিলেনিয়াম সেঁতুর এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে অন্য পাশের টেট শিল্পশালার বিশাল চিমনির সামনে চত্বরে রাখা লুই ব্যুরজোয়ার মাকড়সাটাকে দেখামাত্র এক ঝাঁকুনিতে তিনজনের ক্লান্তি কেটে গেল। তারপর পুরো বিকেল চমকের পর চমক, ভোজের ভেতর ভোজ, কবিতার ভেতর কবিতা, বলায় যার শেষ নেই, রূপকথাতেই পরিচয়।

dsc00008.JPG

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এক দানবীয় বিদ্যুত তৈরির কারখানাকে নব্বইয়ের দশকে টেট মডার্ন শিল্পশালায় রূপান্তরের সময় স্থপতিরা আগের আদল এমনকি কয়লায় চালানো এঞ্জিন ঘরের চিমনিটুকু পর্যন্ত বদলায়নি। এঞ্জিন ঘরের মূল নাম ‘টারবাইন হল’ এখনো প্রদর্শনীর সময় ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ-বছরের ২৪ অক্টোবর থেকে আগামি বছরের পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত টেট-এ চলবে ‘The World as a Stage’ নামের প্রদর্শনী। এতে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় সেসব শিল্পীকেই নিমন্ত্রণ করা হয়েছে যাদের শিল্পকর্মে ফাইন আর্টস-এর সাথে পারফরমেন্স-এর মেলবন্ধন ঘটেছে। (সম্পূর্ণ…)

মাসুদ খানের গোধূলিব্যঞ্জন

মুজিব মেহদী | ১৫ নভেম্বর ২০০৭ ১১:২১ অপরাহ্ন

soraikhana-o-harano-manush.jpg
স্ত্রীবাচক শব্দ ‘গোধূলি’ সংস্কৃত বংশজাত একটি কাব্যানুকূল বিশেষ্য। বাংলাভাষায় শব্দটি এখনো তৎসম চরিত্র নিয়েই অবিকল টিকে আছে, অর্থাৎ এ যাবৎ এর কোনো তদ্ভব রূপ সৃষ্টি হয় নি। বঙ্গীয় শব্দকোষ জানায়, বহুব্রীহি সমাসনিষ্পন্ন এই পদটির ব্যাসবাক্য হলো ‘গোখুরোত্থিত ধূলি যে সময়ে’, অর্থাৎ কিনা গোধূলি হলো গো-প্রচারদেশ হতে গোসমূহের গৃহে আগমণকালে খুরোত্থাপিত ধূলিযুক্ত সময়বিশেষ। উল্লিখিত কোষগ্রন্থটি গোধূলির ঋতুনিষ্ঠায় ভরা একটি সংজ্ঞাও সরবরাহ করে। জানা যায়, ‘হেমন্তে ও শিশিরে সূর্য্য মৃদুতাপ-পিণ্ডীকৃত হইলে, বসন্তে ও গ্রীষ্মে সূর্য্য অর্দ্ধাস্তমিত হইলে এবং বর্ষায় ও শরতে সূর্য্য অস্তগত হইলে, গোধূলি হয়।’ বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধান অনুসারে শব্দটির প্রতীকী মানে হলো সন্ধ্যাবেলা, সায়ংকাল, সূর্যাস্তকাল প্রভৃতি। গরুর পাল গৃহে ফেরার সময় তাদের খুড়ের আঘাতে প্রান্তরে যে ধূলি উড়ে, সূর্যের ডুবি-ডুবি সময়ের লালাভ আলোর প্রেক্ষাপটে ওই ধূলি এক বিশেষ বর্ণময়তা সূচিত করে। আমূল ওই ছবিটিকে ধারণ করে বলে কাব্যাঙ্গনে শব্দটির বিশেষ সুখ্যাতি আছে। কালে কালে কবিদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করবার নেপথ্যে হয়ত শব্দটিতে নিহিত ওই অসাধারণ চিত্রময়তাই দায়ী। বাংলাভাষায় বিভিন্নকালে রচিত বিভিন্ন কবির কবিতা থেকে শব্দটি প্রয়োগের বিস্তর উল্লেখ সম্ভব। কোনোরূপ তুলনামূলক আলোচনার উদ্যম এ যাত্রা রহিত বলে এখানে সেসবের কয়েকটির নমুনা-উৎকলন মাত্র করা হলো। কৌতূহলী রসিক পাঠকগণ ইচ্ছে হলে নিজেরাই পরস্পরের মিল-অমিল খুঁজে দেখতে পারেন। আসুন পড়ি, ‘গোধূলি সময় বেলি’ (বিদ্যাপতি), ‘গোধূলি-ধূসর, বিশাল বক্ষস্থল’ (জ্ঞানদাস), ‘আইলা গোধূলি আইলা রতন ভালে’ (মধুসূদন), ‘ঊর্দ্ধপুচ্ছ গাভী ঐ পাইয়া গোধূলি। ধাইতেছে ঘরমুখে উড়াইয়া ধূলি॥’ (হেমচন্দ্র), ‘মালঞ্চের চঞ্চল অঞ্চল, বিদায় গোধূলি আসে ধূলায় ছড়ায়ে ছিন্নদল’ (রবীন্দ্রনাথ) এবং ‘ফুরায়ে গিয়েছে যা ছিল গোপন, স্বপন ক’দিন রয়! এসেছে গোধূলি গোলাপিবরণ, এ তবু গোধূলি নয়!’ (জীবনানন্দ)। (সম্পূর্ণ…)

ইতালো কালভিনোর গল্প : ‘জেদ’

শিবব্রত বর্মন | ১৫ নভেম্বর ২০০৭ ১১:১৬ অপরাহ্ন

shibu.jpg

মূল : ইতালো কালভিনো
ভাষান্তর : শিবব্রত বর্মন

ওপর দিকে তাকিয়ে থেকে ফুটপাথ ডিঙিয়ে আমি কয়েক পা পিছিয়ে এলাম। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাত দুটোকে মুখের কাছে চোঙার মতো ধরে ভবনের সবচেয়ে উঁচু তলার বাসাটাকে লক্ষ্য করে চেঁচিয়ে উঠলাম, ‘টেরেসা!’

চাঁদের আলোয় শিউরে উঠল আমার ছায়া, সরে এলো পায়ের কাছে।

পাশ দিয়ে হেঁটে গেল কেউ একজন। আমি আবার চেঁচালাম : ‘টেরেসা!’

লোকটা আমার কাছে এসে বলল,‘আপনি আরো জোরসে না ডাকলে ভদ্রমহিলা তো আপনাকে শুনতে পাবে না রে ভাই। আসুন আমরা দুজনে মিলে ট্রাই করি। তিন পর্যন্ত গুণছি, তিন বলামাত্র আমরা দুজন একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠবো।’ বলেই লোকটা গুণতে শুরু করে দিলো : ‘এক, দুই, তিন।’ আমরা দুজনেই গলা ছুড়লাম, ‘টেরে…সা…!’

থিয়েটার বা ক্যাফে থেকে ফিরছিল ছেলেছোকরাদের একটা দল। আমাদের এই চেঁচামেচি তাদের চোখে পড়ল। তারা বলল,‘আসেন ভাই, আপনাদের সাথে আমরাও গলা মেলাই।’ মাঝরাস্তায় তারাও আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে গেল। তাদের মধ্যে প্রথমজন এক থেকে তিন গুণলো আর তখন সবাই একযোগে চেঁচিয়ে উঠলাম, ‘টে..রে…সা…!’

আরো কেউ একজন হেঁটে যাচ্ছিল। সেও আমাদের সাথে যোগ দিলো। মিনিট পনেরোর মধ্যে আমরা জনাবিশেক লোক জমে গেলাম। থেকে থেকেই নতুন কেউ না কেউ যোগ দিচ্ছে। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com