অন্তরের নীলাভ আলো দিয়ে মুদ্রিত হোক নবীন ছবিমালা

নূরুল আলম আতিক | ২৯ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৪৫ অপরাহ্ন

roopban.jpg
রূপবান; এক সময় দর্শকরা এখানকার ছবিগুলো মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন

১.
হ্যাঁচ্চো –
ভাড়ুই পাখি
চোখের আড়ালে।
– ইআউ

চলচ্ছবির ম্যাজিক পূর্বকালে অনেক বেশি কার্যকর ছিল, ইহকালে এই ম্যাজিক অনেকটাই ম্লান হয়ে আসছে এবং পরকালে কী হবে, আল্লা-মালুম। ম্যাজিক আয়নাতেও আছে, তবে সিনেমারটা ‘লার্জার দ্যান লাইফ’। আমাদের অভিজ্ঞতায় ইদানিং সিনেমা আয়নার সমতুল মাত্র। কারণ আমরা বেশিরভাগ মানুষ এখন সিনেমা দেখি টিভিতে, ঘরে বসে কম্পিউটারে, ডিভিডিতে। সিনেমার সেই জৌলুস, স্বপ্নময়তা, মুগ্ধতা, ম্যাজিক সকলি খোয়া যাচ্ছে। একসঙ্গে অনেক মানুষ অন্ধকার হলঘরে ছবি দেখার রিচুয়ালটাও কমে আসছে দিনকে দিন। অন্তত আমাদের দেশে।

ইদানিং ডিজিটাল সিনেমা প্রসঙ্গে ইতিউতি নানা কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। সিনেমা ত সিনে-মা ই। ছবি তো মুখেরই ছবি। তবু কেন ডিজিটাল-অ্যানালগ সমাচার? দর্শকরা সিনেমাটা-ই দেখতে চাই, ডিজিটাল-অ্যানালগ বুঝতে চাই না। প্রতিদিন নতুন নতুনতর সিনেমা দেখতে চাই। এই সিনেমা কীভাবে আমরা পাবো, কার কাছ থেকে পাবো? আসুন পাঠক আমরা এইসব প্রশ্নের উত্তরমালা খুঁজে বের ক’রে নিজেদের সিনেমা নিজেরাই দেখি।

২.
তরমুজ খেতে
চোর আর শেয়ালে
ঠোকাঠুকি।
– তাইগি

দিন কতক আগে ঢাকার জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, গ্যেটে ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে দিনব্যাপী ডিজিটাল মুভির একটি আয়োজন করেছিল ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ। তাদের এই আয়োজনে শামিল হয়েছিল প্রায় শ’দুয়েক চলচ্চিত্রপ্রেমী। এই প্রোগ্রামে ছিল দেশে তৈরী ৫টি ডিজিটাল মুভির নমুনা ও নতুন ছবির সম্ভাবনা নিয়ে নির্মাতা ও দর্শকদের আলোচনা।
next-gen-digital-movie-came.jpg
নেক্সট জেনারেশন ডিজিটাল মুভি ক্যামেরা; ডিজিটাল মুভিমেকিং দিনকে দিন সহজ পথে এগিয়ে যাচ্ছে

অনুষ্ঠানের একটি উদ্দেশ্য ছিল, সেটা হল – বাংলাদেশের দর্শক ও নির্মাতারা আদৌ ডিজিটাল ফর্মাটে সিনেমার কথা ভাবছেন কিনা, ভাবলে সেটার চেহারাটা কী, তা জানা এবং প্রচলিত সিনেমা আর টিভি ইন্ডাস্ট্রির বাইরে কী করে ইনডিপেনডেন্ট ছবি নির্মাণ করা যায় নির্মাতা আর দর্শক মিলেমিশে তর্ক বিতর্কের মধ্য দিয়ে তার একটা রাস্তা তালাশ করা। (সম্পূর্ণ…)

উৎসর্গ

অসীম সাহা | ২৯ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৪০ অপরাহ্ন

kabita.jpg
আমরা আলোর সন্ধানে বেরুলাম।
কোথায় আলো?
নদী-সমুদ্র-পর্বত পেরিয়ে, আকাশ-নীলিমা অতিক্রম করে
আমরা চলে এলাম
সত্য ও সুন্দরের প্রতীক কয়েকজন মৌন মনীষীর কাছে।
হাত দিয়ে তাঁদের দেহ স্পর্শ করতেই ধ্যানমগ্ন
তাঁরা চোখ মেলে তাকালেন –
সঙ্গে-সঙ্গেই আমরা বললাম, ‘হে সত্য, আলো দাও।’
আমাদের কথা শুনে তাঁরা চোখ বন্ধ করলেন।
আর তাঁদের পবিত্র গ্রন্থের ওপরে কীসের যেন ঘন ছায়া পড়লো।
সেই ঘন আবরণের ভেতর থেকে একটুখানি মুখ বের করে
তাঁদের কেউ একজন বলে উঠলো, ‘চরৈবেতি, চরৈবেতি।’
আমরা মুখ ফিরিয়ে এগোতে লাগলাম।
পথে-পথে দূর সমুদ্রের হাওয়া এসে
শীতল করে দিতে লাগলো আমাদের দেহ।
আমরা পূত-পবিত্র এক অহিংস মানবের কাছে এসে দাঁড়ালাম।
বললাম, ‘হে অহিংস, আলো দাও।’
আমাদের বাক্যবন্ধ শুনেই সেই মহামানব চিরকালের জন্যে
এক মৌন পাথরে রূপান্তরিত হলেন। (সম্পূর্ণ…)

অস্বস্তির সঙ্গে বসবাস

ফাহমিদুল হক | ২৯ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৩৬ অপরাহ্ন

galpa.jpg

ছোকরাটা একটা ব্লেড নেয়। ধীরে ধীরে ব্লেডের কাভার খোলে। প্রথমে ওপরের রঙচঙা অংশটি ফেলে, পরে ভেতরের সাদা কাভারটিও খোলে। এরপর রুপালি রঙের ব্লেডটি নির্বিকারভাবে মাঝ বরাবর ভেঙে ফেলে। অর্ধেক ব্লেড সাদা কাভারের ভেতরে সযত্নে রেখে দেয়। আরেক অংশ ক্ষুরের ভেতরে প্রবিষ্ট। এবার ক্ষুরটি নিয়ে সে আমার দিকে এগিয়ে আসে। এখন সে আমার গলায় ক্ষুরটি আলতো করে ছোঁয়াবে – পাতলা ত্বকের নিচেই খাদ্যনালী, শ্বাসনালী – খ্যাচ্ করে কেটে ফেলতে বাড়তি কোনো আয়াস করতে হবে না। কারণ আমি মাথা-ঘাড় উঁচু করে গলাটা বাড়িয়ে রেখেছি। পশু কোরবানির সময় অসহায় জীবটির থুতনি চেপে ধরে গলাটাকে টানটান করা হয়, জবাইটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য; ঠিক তেমনিভাবে আমি আমার গলাটাকে বাড়িয়ে রেখেছি। এজন্য কাউকে জোরাজুরি করতে হয়নি, আমি নিজেই যথাসম্ভব টানটান করে রেখেছি গলাটাকে। ছোকরাটা দেখতে প্যাকাটে-দুর্বল হলেও তার জিলেট ব্লেডটি তো অরিজিনাল। এখনি সাফল্যের সঙ্গে আমার গলাজবাই হয়ে যাবে। গলগল করে বেরিয়ে আসবে খাঁটি হিমোগ্লোবিনসমৃদ্ধ টকটকে রক্ত। কী বীভৎস ব্যাপার!

আমি স্বেচ্ছায় জবাই হতে এসেছি।

ছোকরাটি হাসি হাসি মুখ করে আমার দিকে ক্ষুর নিয়ে এগিয়ে আসে। তার মাথাটা গানের তালে তালে হালকাভাবে নড়ছে-চড়ছে। পাশেই ক্যাসেট প্লেয়ারে মমতাজের গান হচ্ছে, পোলা তো নয় সে যে আগুনের গোলা গো…। (সম্পূর্ণ…)

গর্কি: ১২ নভেম্বর ১৯৭০

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ২৯ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৩১ অপরাহ্ন

1970.jpg

নভেম্বর ১৩, ১৯৭০। সকাল থেকে মন খারাপ। ‘দৈনিক পাকিস্তান’ ও ‘দৈনিক পূর্বদেশ’ – দুটো কাগজেই দক্ষিণের ঘূর্ণিঝড়ের ওপর এলোমেলো, আনুমানিক ও সত্যনির্ভর নানা ধরনের খবর ছেপেছে। শিমূলের কেবলই মনে হচ্ছে, উত্তর হাতিয়া যদি জনমানবহীন বিরান ভূমি হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে মনুভাইয়ের বাড়ির মানুষজন, গোরুমোষ, পুকুরভর্তি মাছ, কালাম নানা, হাতিয়া দ্বীপ মহাবিদ্যালয়, বোস্টুমির আখড়া, কীর্তন, মোষের দুধের অতিঘন দৈ-গুড় মেখে ভাত খাওয়া, মনুভাইয়ের বাবা হাতিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মোক্তার ফসিহুল আলম সাহেবের অপার স্নেহ, ওকে লিখে দেয়া এক কানি অর্থাৎ ১৬ বিঘে জমি – সবই মিছে? দুঃস্বপ্নের মতো ভ্যানিশ করে গেল? এ কেমন গর্কি?

শামিম ভাইয়ের বাসায় যাওয়া যাক ভেবে ১১ টা নাগাদ সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। দশমিনিট হাঁটলেই তাহেরবাগ লেইন। বেল টিপতে শামীম ভাই দরজা খুললেন, বসবে একটু? আমি প্রায় তৈরিই আছি। তুমি এককাপ চা খাবে? না শামীম ভাই, চলেন যাই ওদিকে। বেরিয়ে বিসিসি রোডে হাঁটতে হাঁটতে ওরা নবাবপুরের মোড়ে পৌঁছে ডানে ঘুরল। বাঁয়ে তাজ হেটেল, সেন্ট্রাল হোটেল, বাটার দোকান পার হয়ে ক্যাপিটালের সামনে শিমূল দাঁড়িয়ে পড়ল। আজ শরীফের সিঙাড়ার বদলে ক্যাপিটালের মোগলাই খাই, কী বলেন? শিমূলের প্রশ্নের জবাবে শামীম ভাই মৃদু হেসে রেস্তোরাঁর কাচের দরোজা ঠেলে ঢুকে পড়েন। পকেটে টাকাকড়ি আছে তো বেশ? আমি কিন্তু তোমার ঘাড়ে আজ…কোই পরোয়া নেহি। শুধু মনুভাইয়ের পাত্তা লাগাবো বলেই আজ পরীক্ষার পড়া ফেলে বেরিয়েছি। ভাল লাগছে না ঝড়ের সংবাদ শুনে আর পড়ে অবধি…শিমূল মখা কথা শেষ করে না। ইচ্ছে করে না। দুজনে চুপচাপ সিগ্রেট ধরায়। একসময় ধোঁয়াওঠা ঘি-এর ম’ ম’ গরম-গরম লালচে ভাজা মোগলাই এসে গেল টেবিলে। পরোটা-কফি খেয়ে এক টাকা পঁচাত্তর পয়সা বিল মিটিয়ে, শিমূলরা বেরিয়ে এসে গুলিস্তান থেকে দোতলা বাস ধরে টিএসসি মুখো হল। শরীফ মিয়ায় চলছে একই আলোচনা – দক্ষিণের ‘বইন্যা’ বা ‘গর্কি’ অর্থাৎ সাইক্লোন আর প্রলয়ঙ্করী জোয়ারের বৃত্তান্ত। হাতিয়ায় কিছু নেই – ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে – এর বেশি কিছু জানা গেল না। (সম্পূর্ণ…)

এমিলি ডিকিনসন মিউজিয়ামে

সেলিনা শিরীন শিকদার | ২৯ নভেম্বর ২০০৭ ১১:২৭ অপরাহ্ন

dagt1.jpg
এমিলি ডিকিনসন (১৮৩০-১৮৮৬)

উনিশ শতকের আমেরিকান কবিদের মধ্যে দুজনকে অরিজিনাল কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন ওয়াল্ট হুইটম্যান অপরজন এমিলি ডিকিনসন। এমিলি ডিকিনসন তার কবিতায় ভাঙা ছন্দ, ড্যাশ চিহ্ন, যত্রতত্র বড় হাতের অক্ষর ব্যবহারের মাধ্যমে নিজস্ব প্রকাশরীতির জন্য আজ বিশ্বব্যাপী খ্যাত। আমেরিকান স্কুলে অহরহ এমিলির কবিতা পড়ানো হয়। স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়ে থেকে শুরু করে এ দেশের সব ধরনের মানুষ এমিলি ডিকিনসনের নাম ও লেখার সাথে অল্পবিস্তর পরিচিত। যে কোনো লাইব্রেরীতে গেলে তার উপর শতখানেক বই পাওয়া যাবে। তারপরও তার উপরে অনুসন্ধান করে চলেছেন পণ্ডিতরা। এমিলি ডিকিনসন প্রায় ১৮০০ কবিতা লিখেছেন। তার মধ্যে ৮/১২ কবিতা তার জীবদ্দশায় ছাপা হয়েছিল। যে অন্তর্গত তাঁকে জীবন সম্পর্কে লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিলো সেই অন্তর্জগতের ভিত গড়ে উঠেছে সত্যকে (অন্য কথায় সৌন্দর্যে) জানার অদম্য আকাঙ্ক্ষা, প্রেম ও মৃত্যুচিন্তা থেকে। আর পাশাপাশি দুটি বাড়ি যে বাড়িতে এমিলি ডিকিনসন থাকতেন এবং তার পাশের বাড়ি যেখানে তার ভাই অস্টিন ও তার পরিবার বাস করতো – এই দুটো বাড়ির মধ্যেই এমিলি ডিকিনসন তার জীবন ও চলাফেরা সীমিত রেখেছিলেন। তাই পাশাপাশি এ দুটি বাড়ি তার অন্তর্জগত ছুঁয়ে নানা রূপে ও রূপকে উপস্থাপিত তার কবিতায়।
emily-dickinson-back-side.jpg
মিউজিয়ামের পেছন দিক। দরজার সর্বডানে রান্নাঘর, যেখান থেকে ট্যুর শুরু হয়। ছবি – লেখক

এমিলি ডিকিনসনের বাসার দরজায় দাঁড়িয়ে মনে হলো তার বিখ্যাত কবিতার কয়েকটি চরণ:

          I'm Nobody! Who are You?
          Are you nobody, too?
          Then there 's a pair of us—don't tell!
          They 'd banish us, you know.

এমিলি ডিকিনসনের বোধে যে নির্মোহতা যা তার কবিতায় প্রতিফলিত তা তার দীর্ঘদিনের সাধনার অর্জন। সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মাঝে পরিভ্রমন ও সত্য অনুসন্ধানে এমিলির প্রয়োজন ছিল সীমাহীন নির্জনতা। এই নির্জনতা তিনি খুজে নিয়েছিলেন তার মতো করে। এমিলির বাবা মা তাদের তিন সন্তানের ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও তাদের ইচ্ছার প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। এমিলি চেয়েছিলেন একজন লেখক হতে। গৃহস্থালী কাজের দায়িত্ব এমিলি নিতে চাননি, গ্রহণও করেননি উনিশ শতকের এমহার্স্টের সুন্দরীতম এই নারী। সৃজনশীল কাজের জন্য প্রয়োজন নিজস্ব সময় ও অনুশীলন। লাজুক প্রকৃতির হলেও এমিলি ডিকিনসন খুব শক্তভাবেই জানতেন তিনি কি চান। (সম্পূর্ণ…)

শিল্প-সাহিত্যের সংবাদ

মামুন খান | ২৯ নভেম্বর ২০০৭ ১১:২৪ অপরাহ্ন


মুর্তজা বশীর

murtoja-bashir.jpgচিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর জানালেন তিনি হাতের ইনফেকশনে ভুগছেন। হাতের দশটি আঙুলে ঘা দেখা দেয়ায় গত জুনের পর থেকে নতুন কোনো ছবির কাজে হাত দিতে পারেন নি। তবে তুলি ধরতে না পারলেও তিনি থেমে নেই। এখন তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় পূর্ব-ভারতের শিল্পীদের সর্ম্পকে প্রচুর পড়ছেন। মুর্তজা বশীরের বাংলা কবিতার ইংরেজি অনুবাদ নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে আগামী বই মেলায়। ‍

~

রুবী রহমান

rubi-r.jpgইদানিং খুব কমই লিখছেন কবি রুবী রহমান। পারিবারিক নানা ব্যস্ততার কারণে লেখালেখির সাথে খানিকটা দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে তার। ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলেকেই এখন বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি। ফাঁকে ফাঁকে পড়ছেন আবদুর শাকুরের গোলাপ সংগ্রহ, সেলিনা হোসেনের লারা। আর নতুন করে পড়ছেন বোর্হেসের একটি বই। লিখতে বসলে প্রথমত কবিতাই লেখার চেষ্টা করেন তিনি। তবে তা খুবই কম। গত তিন মাসে তার লেখা কবিতার সংখ্যা ৫টির বেশি হবে না। মাঝে মাঝে টুকটাক গদ্যও লিখতে হয় তাকে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ফরমায়েশি গদ্য লিখেছেন। এখন লিখছেন শামসুর রাহমানকে নিয়ে। নিয়মিত টেবিলে বসতে না পারায় লেখাটি শেষ হতে একটু সময় লাগবে বলে মনে করেন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

দুটি প্রাচীন ইংরেজি গাথা

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ | ২৯ নভেম্বর ২০০৭ ১১:১৪ অপরাহ্ন

উত্ত্যক্ত কবর

‘হাওয়া ঝিরিঝিরি বয় মনোরম,
	গুঁড়িগুঁড়ি ঝরে বৃষ্টি হায়;
আর কোনো প্রেম ছিল না কো মম;
	সে আজ কবরে একা ঘুমায়।

‘আমার প্রেমের জন্য করব
	তা-ই, যা সকল তরুণ করে,
বারো মাস আর এক পুরো দিন
	রোদন করব তার কবরে।’

বারো-মাস-এক-দিন হ’লে পার
	মৃতের গলার আওয়াজ বাজে :
‘আহা, কে কবরে ব’সে আছে, আর
	আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না যে?’ (সম্পূর্ণ...)

It’s only a story

Fazal M. Kamal

kamal-21.jpg

She was drop-dead beautiful. He was more than cynical.

She had rose-petal lips. He had a profusion of blemishes.

She was blossoming. He was intensely hungry for the world.

The first time he saw her he couldn’t restrain himself from staring at her. The first time she saw him she couldn’t restrain herself from running away.

They were from different constellations. There just wasn’t any point of connect. There just wasn’t any hope in a projected relationship. There just wasn’t anything that could interest her in him. Because he offered nothing that she couldn’t get in a better form. Because she was the luminescent embodiment of Dido’s voice.

And yet he tried. He tried, oblivious to her apathy. He tried persistently. In simple terms, he pestered her. He was wont to having Ally McBeal moments because, as many had claimed before, in his desperate life he intermittently lived in a parallel galaxy. And the more he lived, the more desperate he became. His was a life lived in the constant knowledge of the finiteness of time. (More…)

জেমস রেনেল ও তাঁহার রোজনামচা ১৭৬৪-৬৭

সলিমুল্লাহ খান | ২২ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৫০ অপরাহ্ন

james_rennel.jpg
জেমস রেনেল (১৭৪২-১৮৩০)

খ্রিষ্টিয় ১৮শ শতাব্দীর মাঝামাঝি বঙ্গদেশে ইংরেজ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যক্ষ ফল আজকের বাংলাদেশশুদ্ধ অখিল ভারতবর্ষের পরম দারিদ্র ও দুর্গতি। এই কথা মোটেও অতিশয় নয়। অখিল ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের অভিশাপ প্রায় দুই শত বৎসর বহন করিয়াও আমরা আজও
বুঝিতে পারিতেছি না এই উপনিবেশবাদ বা পরশাসন কী পরিমাণে আমাদের দেশের ক্ষতিসাধন করিয়াছিল।

আমাদিগের ইদানিন্তন শাসক ধনবান শ্রেণী ইহার কারণ জানিবার প্রয়াসও করে না। তাঁহারা পশ্চিমা সাম্রাজ্য শাসকদের সহিত গাঁটছড়া বাধিয়া এই দেশ চালাইতেছেন। ইংরেজ শাসনের পাপ এখন মার্কিন সাম্রাজ্যের তাপে চাপা পড়িতেছে।

দুইশত বর্ষব্যাপী ইংরেজি শাসনপাপের মধ্যে যে দুই চারিটি প্রায়শ্চিত্ত হইয়াছে মেজর জেমস রেনেলের রোজনামচা তাহাদের মধ্যে পড়ে বলিয়া বর্তমান লেখকের ধারণা। কথায় বলে শয়তানকেও তাঁহার প্রাপ্য দিতে হইবে। রেনেলের জরিপকর্ম বাবদ এই প্রাপ্য ইংরেজ ডাকাতদেরও দিতে হইবে।

জেমস রেনেল যে সময় বঙ্গদেশের নদনদী জরিপ কার্যে মন দেন তখন বাংলাদেশে ইংরেজি ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে কিন্তু ইংরেজ-দায়িত্ব প্রবর্তিত হয় নাই। দেশের অবস্থা তখন সম্পূর্ণ অরাজক। পূর্ব ভারত কোম্পানি খাজনা আদায় করিতেছে কিন্তু কোন শাসন ব্যবস্থাই প্রবর্তন করে নাই। কিছুদিন পর চালু হইবে দ্বৈত শাসন-ব্যবস্থা। এতদিন পর্যন্ত যাহা চলিতেছিল তাহা নামে নবাবের শাসন আর কাজে ইংরেজ কোম্পানির ক্ষমতা। (সম্পূর্ণ…)

সঞ্জীবদা, আমার সেই গান আর লেখা হলো না!

সেজান মাহমুদ | ২২ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৪০ অপরাহ্ন

01.jpg
সঞ্জীব চৌধুরী, ছবি : হাসান বিপুল

ছাত্র ইউনিয়নের অনুষ্ঠানের রিহার্সেলে সঞ্জীব চৌধুরী, মানে আমাদের সঞ্জীবদার সঙ্গে প্রথম দেখা। আমাদের গান শেখাচ্ছিলেন শক্সকর সাঁওজাল। রিহার্সেল শেষে চারুকলার সামনে খুপরি ঘরের চায়ের দোকানে আড্ডা। তারপর আর থেমে থাকে নি সম্পর্কের চাকা। ‘সঞ্জীবদা’ থেকেও তিনি বন্ধুর চেয়েও বন্ধু, আপনের আপন হয়ে উঠেছিলেন। তাঁকে দেখলেই বলে উঠতাম, ‘এ আজব কোন জীব? সঞ্জীব সঞ্জীব!!’

সে সব আশির দশকের কথা। আমি তখন দেদারছে গান লিখছি বাংলাদেশের উঠতি প্রতিশ্রুতিশীল সব শিল্পীদের জন্য। সামিনা, কনকচাঁপা, তপন চৌধুরী, সবার জন্য। এসব গান আমাদের আধুনিক গানের প্রচলিত ধারার গান। সঞ্জীবদা বলতেন, ‘এই বেয়াদব ছেলে, তুমি সবার জন্য গান লেখো আমার জন্য লেখো না। আমার জন্য গান লেখো, আমি গাব।’

আমি বলতাম আপনি সিরিয়াসলি গান করেন আমি লিখবো। তখন সঞ্জীবদা ঘরোয়া আড্ডায়, বা খুপরি ঘরের চায়ের দোকানে বসে গুন গুন করে গাইতেন। শাহ আবদুল করিমের গান এত দরদ দিয়ে আমি কাউকেই গাইতে দেখিনি। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের সঞ্জীবদা

গিয়াস আহমেদ | ২২ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৩৭ অপরাহ্ন

এই যে আজ তাঁকে নিয়ে লিখতে বসেছি, এই ‘লিখতে পারা’র অনেকখানিই তাঁর কাছে শেখা। তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন – কী করে লিখতে হয়। শিখেছি কতটুকু জানি না, তবে তাঁর জানানোর আন্তরিকতা ছিল আকাশের মাপে মাপে।
photo-1.jpg
দার্জিলিং-এর পথে গাড়িতে সামনের সিটে সঞ্জীব চৌধুরী

তিনি সঞ্জীব চৌধুরী – আমাদের সঞ্জীব’দা। কবে তাঁর সাথে পরিচয় হয়েছিল? কোথায়? এই কদিন ধরে নিজের ভিতরে হাতড়াচ্ছি। দুটো ছবি ভাসে আবছা। একটি টিএসসি’র ঘাসে। আরেকটি আজকের কাগজ-এর ঘরে। মনে হচ্ছে, আজকের কাগজেই মুন্নী পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। মুন্নী সাহা আমাদের ভার্সিটি বন্ধু। ও তখন সাংবাদিকতা পড়ে আবার কাজ করে আজকের কাগজ-এ।

আমরা যেতাম আজকের কাগজ-এ মুন্নীর সাথে আড্ডা মারতে। এই দৃশ্যটি বড় উজ্জ্বল হয়ে উঠছে আজ – মুন্নী সব ভুলানো হাসি আঁকা এক ঝাকড়া চুলোকে দেখিয়ে বলেছিল, ‘এই আমাদের সঞ্জীব’দা।’ (সম্পূর্ণ…)

সঞ্জীব চৌধুরীর কয়েকটি গল্প

| ২২ নভেম্বর ২০০৭ ১১:৩০ অপরাহ্ন

[অকালপ্রয়াত গায়ক ও লেখক-কবি সঞ্জীব চৌধুরীর এই গল্প-সমষ্টিটি গল্পলেখক পারভেজ হোসেন-এর সৌজন্যে ছাপা হলো। এটি তার ছোট কাগজ সংবেদ-এর দশম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯৯৪ সালের জুন মাসে। গল্পের পর্বগুলিতে লেখক ও একটি চরিত্র বার বার ঘুরে ঘুরে এসেছে। গল্পকার ও চরিত্রের এই উপস্থিতিটুকু বাদ দিলে প্রত্যেকটি গল্প আলাদা। বি. স.]

অবদমনগুলি
আগুন আর বাতাস তাঁকে তৈরি করেছিলো। তিনি, ক্লিওপেট্রা, শুভ্র সুডৌল, অবস্থান্তরে ঈষৎ লাল – যখন সূর্য ওঠে। তিনি ঋজু এবং সাবলীল হাঁস। জল তাঁকে স্পর্শ করে না, কাদা তাকে কলঙ্কিত করে না। যখন জনতার স্রোতে তিনি হাঁটেন, তখন চুম্বকত্ব প্রাপ্ত হন। লোহা, ইস্পাত, আলপিন…ঐহিহাসিক নিয়তির কারণে তাঁর শরীরে আছড়ে পড়ে। বস্তুগুলি লেপ্টে থাকে। তিনি সচেতন এবং কোনো কিছুই তাঁকে বিচলিত করে না। উদাসীন তিনি, অথবা নন। বোঝা যায়, অথবা একেবারেই দুর্বোধ্য। তবু বৃষ্টিতে চিক্কন। আর কদাচিৎ বলেন, ‘একদিন বিচ্ছিরি রকম মোটা হয়ে যাবো।’

cliopetra.jpg

‘মোটা হবেন কেন?’

‘আমার মা মোটা। আমার বাবা মোটা। আমার বাবার বাবা মোটা। বংশের মধ্যে মোটার একটা ধাঁচ আছে তো !’

‘ও।’

মাগো, যদি ধুমসি হয়ে যাই!’

‘বয়স কত হলো?’

‘এই…চব্বিশ-টব্বিশ।’

‘তাহলে মোটা হওয়ার রিস্ক আর নাই।’

‘একথা কেন বললেন?’

‘সান্ত্বনা দিলাম আর কি!’ (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com