চিত্রনাট্য: জীবনানন্দ দাশের ‘আমার এ ছোটো মেয়ে’

জীবনানন্দ দাশ (১৭/২/১৮৯৯–২২/১০/১৯৫৪)
ভূমিকা
জীবনানন্দ দাশের কবিতার সাথে আমার পরিচয় যখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। ১৯৯৩ সাল। বাংলা বিভাগে তৃতীয় সম্মানের পাঠ্যসূচীতে তিরিশের পাঁচ কবির কবিতার একটি অপশন্যাল কোর্স ছিল। কোর্সটি পড়াতেন প্রয়াত শিক্ষক ড. হুমায়ূন আজাদ। অপশন্যাল হলেও কোর্সটি নিয়েছিলাম। কারণ হুমায়ুন আজাদ পড়াতেন। তিনি নম্বর কম দিতেন বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই কোর্সের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ ছিল না। আমরা বিশ/পঁচিশ জন হবো যারা ওই কোর্সটি নিয়েছিলাম। হুমায়ুন আজাদের অনেক কিছু আমরা অপছন্দ করলেও তাঁর পাঠদান পদ্ধতির খুব ভক্ত ছিলাম আমরা। তিনি যে নিপুণ দক্ষতার সাথে আমাদের ভাষাবিজ্ঞান পড়িয়েছেন — ঠিক একই দক্ষতায় তিরিশের কবিদের কবিতার কোর্সটি পড়িয়ে এই কবিদের সম্পর্কে আমাদের মধ্যে নিবিড় এক আগ্রহও তৈরি করেছিলেন। তাঁর শিক্ষকতার গুণেই বলা চলে জীবনানন্দীয় ভুবনের সাথে আমার অন্তরঙ্গ পরিচয় ঘটেছিল।
১৯৯৫ সাল। মাস্টার্স শেষ বর্ষের কোর্স ফাইন্যাল পরীক্ষা চলছে। এক মাস অন্তর একটি পরীক্ষা হতো। দুই মাসে দুটি কোর্সের পরীক্ষা দেবার পর ভারত সরকারের বৃত্তি পেয়ে সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে পুনায় চলে যাই চলচ্চিত্র পড়তে। দর্শক হিসেবে ফিল্ম দেখতাম অনেকদিন ধরেই — কিন্তু ফিল্ম পড়ার কোনো প্রস্তুতিই তখন ছিল না আমার। সুতরাং পুনায় প্রথম তিন মাস খুব কষ্টে কেটেছে। নিজেকে ফিল্ম পড়ার উপযোগী করে তোলার জন্য প্রতিদিন প্রাণান্ত চেষ্টা করতে হয়েছে। এই প্রাণপাত চেষ্টার সময় বাংলা সাহিত্য পড়ার অভিজ্ঞতা ভীষণভাবেই সহায়ক হয়েছিল। (সম্পূর্ণ…)



