কথাসাহিত্য

হোর্হে লুইস বোর্হেসের প্যারাবোল: রাজ প্রাসাদের রূপকথা

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২৩ আগস্ট ২০১৬ ৯:৫৩ অপরাহ্ন

মূলত গল্পকার হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হলেও, হোর্হে লুইস বোর্হেস(১৮৯৯-১৯৮৬) ছিলেন একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, প্যারাবোল-রচয়িতা ও গল্পকার। ২৪ আগস্ট তার ১১৭তম জন্মদিন। বাংলাভাষার শীর্ষস্থানীয় অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের অনুবাদে বোর্হেসের অসামান্য একটি প্যারাবোল অনুবাদের মাধ্যমে আর্হেন্তিনার এই অসামান্য লেখককে বিডিনিউজটোয়েটিফোর ডটকম-এর আর্টস বিভাগের পক্ষ থেকে জানাই জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলী। বি. স.

al-hamraসেদিন পীতাঙ্গ সম্রাট কবিকে তাঁর প্রাসাদ দেখালেন। তাঁরা প্রাসাদের পশ্চিম প্রান্তের সারবদ্ধ প্রথম অলিন্দগুলি পার হয়ে এগিয়ে গেলেন; গিয়ে দাঁড়ালেন সেখানে যেখানে মুক্তমঞ্চের অসংখ্য সিঁড়ির মতো নেমে গেছে সেইসব অলিন্দচত্তর। গিয়ে মিশেছে স্বর্গপুরীতে বা নন্দনকাননে। সেখানে ধাতব মুকুর আর পেঁচানো জটাজালে বিস্তৃত জুনিপার ঝোপঝাড় এক গোলকধাঁধারই ইঙ্গিত দেয়। প্রথমে ওরা বেশ হাস্যলাস্যেই ওই ধাঁধায় হারিয়ে গেলেন যেন বা লুকোচুরি খেলা খেলতে খেলতে; কিন্তু পরে তাঁদের চিত্তে জমে শঙ্কা কারণ সোজাসিধে পথগুলো চলিষ্ণু অবস্থাতেই ক্রমে বেঁকে যাচ্ছিল (আসলে ওই পথগুলো ছিল এক একটা গোপন বৃত্ত)। রাত ঘনিয়ে এলে তাঁরা আকাশের গ্রহরাজি দেখেন, এবং লগ্ন হলে একটা কচ্ছপ বলি দেন। এরপর সেই আপাতঃ ঘোরলাগা অঞ্চল থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কাবোধ থেকে বেরোতে পারেন না। এবং শেষ পর্যন্তও এই বোধ তাঁদের সঙ্গে সেঁটেই থাকে। প্রশস্ত অলিন্দ-চত্ত্বর আর পাঠাগার তাঁরা পার হয়ে আসেন, পার হন জলঘড়িরাখা ষড়ভুজ কক্ষটিও। একদিন সকালবেলা এক উচ্চমিনার থেকে তাঁরা দেখেন এক প্রস্তর মানবকে, কিন্তু লোকটা মুহূর্তে কোথায় হাওয়া হয়ে যায় যে আর কখনো তাকে দেখাই গেল না। চন্দনকাঠের নৌকায় চড়ে তারা কত ঝিলিমিলি জলের নদী পেরিয়ে গেলেন–নাকি একটি নদীই তারা বার বার পার হলেন? রাজ শোভাযাত্রা পেরিয়ে যায় কত জনপদ আর লোকে করে সাষ্ঠাঙ্গে প্রণিপাত। কিন্তু একদিন তাঁরা এক দ্বীপে এসে তাঁবু গাড়ে, সেখানে একটি লোক রাজাকে প্রণিপাত করে না কারণ সে তো কখনো দেবদূত দেখেই নি। তখন আর কি, রাজজল্লাদকে তার কল্লা নিতে হলো। কালো চুলের মাথা আর কৃষ্ণাঙ্গ যুবানৃত্য আর জটিল আঁকিবুকির সোনালী মুখোশ নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে থাকে; বাস্তব আর স্বপ্নের ভেদরেখা যায় ঘুঁচে–নাকি বাস্তবই হয়ে দাঁড়ায় স্বপ্নের স্বরূপ? তখন মনেই হয় না যে পৃথিবীটা এক বাগিচা কি জলাধার কি স্থাপত্যশিল্প কি জমকালো সব সাকার বস্তুর সমাহার ছাড়া অন্য কিছু। প্রতি শতপদ ফারাকে এক একটি মিনার উঠে ফুঁড়ে গেছে নীল আকাশ; চর্মচক্ষে তাদের রঙ এক ও অভিন্ন, তবু প্রথম মিনার দেখতে হলুদ আর সারির শেষটি লাল। এই রঙের ক্রমবিস্তার খুবই নাজুক, ফিনফিনে আর মিনার সারিও খুব দীর্ঘ ও প্রলম্বিত। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১৫ জুন ২০১৬ ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: প্রত্যাখ্যাত রাউলিং ও পুনর্বাসনে লুইয এলিজাবেত ভিযে ল্য ব্রাঁ

বিপাশা চক্রবর্তী | ৩০ মার্চ ২০১৬ ৩:১৩ অপরাহ্ন


এই সময়ের সবচেয়ে সফল নারী লেখক

cacku.jpgহ্যারী পটার খ্যাত জে কে রাউলিং সম্প্রতি টুইটারে বেশ কিছু প্রত্যাখান পত্র প্রকাশ করেছেন। না কোন প্রেম প্রত্যাখান পত্র নয়, বরং বিভিন্ন প্রকাশকদের কাছে পাঠানো তার বইয়ের পান্ডুলিপির প্রত্যাখ্যান পত্র। হ্যাঁ, জে কে রাউলিং যিনি প্রথম নারী লেখক হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম বিলিয়েনিয়ারদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, তিনি একসময় বিভিন্ন প্রকাশকদের কাছে তার বইয়ের পান্ডুলিপি পাঠিয়েছিলেন আর সেই পান্ডুলিপি বই আকারে প্রকাশে অনেক প্রকাশক অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন! তবে রাউলিং সেসমস্ত পান্ডুলিপিতে তার নিজের আসল নাম ব্যবহার করেন নি। ছদ্মনাম রবার্ট গিলব্রেথ ব্যবহার করেছেন।

রাউলিং এক ভক্তের অনুরোধে প্রকাশকদের কাছ থেকে পাওয়া সেই চিঠিগুলোর কপি তার টুইটার একাউন্টে প্রকাশ করেন। তার পরপরই ব্যাপারটা বেশ সাড়া ফেলে। ছদ্মনাম – রবার্ট গিলব্রেথ হিসেবে তার প্রথম গল্প ‘দ্য কাক্কুস কলিং’ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল । শুধু তাই নয়, শিশু সাহিত্যে সাড়া জাগানো বিশ্বে ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রিত রাউলিংয়ের হ্যারী পটার বইটির ক্ষেত্রেও কয়েকবার প্রকাশক ছাপতে চায়নি। তবে এর জন্য তিনি নিরুৎসাহিত হননি বরং তাকে আরো ভাল করার শক্তি যুগিয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ৫ মার্চ ২০১৬ ১:৪৫ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ ১:৩৬ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

পথে, প্রদেশে (পর্ব-৭)

মাসুদ খান | ২১ জানুয়ারি ২০১৬ ৭:৩৪ অপরাহ্ন

(পূর্ব-প্রকাশিতের পর)

ফ্ল্যাশব্যাক: হকসেদ ও যমদূতগণ

এই যে হকসেদ, এ হকসেদ যে-সে হকসেদ না। একে বাগে আনা, বিপাকে ফেলা যার-তার কাজ না। এমনকি মরণদূতদের পর্যন্ত তাড়িয়ে দিয়েছে সে মিষ্টি-মিষ্টি কথা ব’লে, চাপা ছেড়ে। একবার হকসেদের শক্ত অসুখ। যমে-জীবে-টানাটানি দশা। জান কবজ করতে আজরাইল এসে দাঁড়িয়ে আছে দুয়ারে।

হকসেদ নির্বিকার। একসময় আস্তে আস্তে উঠে গিয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে আজরাইলকে। মোলায়েম স্বরে থেমে-থেমে বলতে থাকে, “আদাব আজরাইল সাহেব, কী সৌভাগ্য আমার! আসুন আসুন, অনুগ্রহ করে আসন গ্রহণ করুন। আপনি ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, দীর্ঘ পরিভ্রমণে পথশ্রম হয়েছে প্রচুর। একটু বিশ্রাম নিন, মুখমণ্ডলে শীতল জল ছিটিয়ে একটু আচমন করুন, দেখবেন প্রশান্তি বোধ করছেন। তারপর প্রসাদ খান। জানিই তো, জাতকস্য হি ধ্রুবো মৃত্যু।”

এটুকু ব’লে জলভরা পিতলের কমণ্ডুলু আর সকালে নন্দলাল পুরোহিতের বউ তাকে দেখতে এসে কাসার থালাভর্তি যে নাড়ু আর সন্দেশ এনেছিল, খুব তাজিমের সাথে সেগুলি এগিয়ে ধরে হকসেদ, আজরাইলের দিকে।

তারপর বলতে থাকে, “মহামহিম, অনুমতি দিলে একটা কথা বলতে চাই– আসলে আমি কিঞ্চিৎ বিস্মিত হয়েছি, প্রাণ নেবার জন্য আপনি এসেছেন দেখে। আমি তো ভাই মুসলমান নই। আমি তো ঠিক আপনার অধিক্ষেত্রের মধ্যেই পড়ি না। বিলক্ষণ না। পড়ি কি? ক্ষমা করবেন, দোষ নেবেন না, জলখাবার গ্রহণশেষে আপনি বরং চলে যান। আপনার অনেক কাজ…।”

হকসেদকে সনাতন ধর্মগোষ্ঠীর কোনো শিরোমণি ভেবে ফিরে চলে যায় আজরাইল। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ৩ জানুয়ারি ২০১৬ ৯:০৭ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৪ নভেম্বর ২০১৫ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন


স্বাধীনতা পেল শেলীর যে কবিতাটি

shelley-009.jpgশেলী-ভক্ত পাঠক, সমালোচক ও বিশ্লেষকদের জন্য চমকপ্রদ খবর রয়েছে। অবশেষে অনেকদিন পর শেলীর একটি কবিতা প্রকাশিত হবার স্বাধীনতা পেল। গত নয় বছর ধরে তাঁর ‘স্টেট অব থিংস’-এর উপর ছন্দোবদ্ধ রচনাটি ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল। এটি আদৌ সহজলভ্য ছিল না। এই কবিতার প্রেক্ষাপট হল ১৮১১ সাল। শেলীর তখন মাত্র ১৮ বছর বয়স। অক্সফোর্ডে পড়াশুনা করতেন। ঐসময় নেদারল্যান্ডে ফরাসীদের বিপক্ষে বৃটেনের যুদ্ধের বিভীষীকার উপর একজন আইরিশ সাংবাদিক পিটার ফিনার্টি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। এর ফলে সরকার ঐ সাংবাদিককে ১৮ মাসের কারাদন্ড দেয়। তখন তার মুক্তির জন্য চলে আন্দোলন। ঠিক ঐ সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে শেলী ১৭২ লাইনের ‘ছন্দোবদ্ধ রচনা- ‘স্টেট অব থিংস’ লেখেন। রচনাতে তিনি ফিনার্টির জন্য তহবিল সংগ্রহকারী বারডের জন্য প্রশংসা বর্ণনা করেছেন। রচনাটি ১৮১১ সালের ২ মার্চ থেকে ২০০৬-এর জুলাই পর্যন্ত লাপাত্তা ছিল। কবিতাটি যিনি এতদিন সংরক্ষণ করেছেন পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক। ২০০৬ সালে তিনি এটি জনসম্মুখে প্রকাশের অনুমতি দেন। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৮ অক্টোবর ২০১৫ ৮:৫৩ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

সোয়েতলানা আলেক্সিয়েভিচ: ‘চেরনোবিলের কণ্ঠস্বর’ থেকে

বিনয় বর্মন | ১০ অক্টোবর ২০১৫ ১১:০৫ অপরাহ্ন

border=0সোয়েতলানা আলেক্সিয়েভিচ ২০১৫ সালে সাহিত্যে নোবেলবিজয়ী। ১৯৪৮ সালের ৩১ মে ইউক্রেনে জন্মগ্রহণকারী বেলারুশের এই লেখিকা সাক্ষাৎকারমূলক গদ্য রচনায় সিদ্ধহস্ত। তাঁর গদ্য নিছক সাংবাদিকীয় সাক্ষাৎকার নয়, বরং তা অনবদ্যরূপে সাহিত্যগুণসম্পন্ন, যা বেদনাদায়ক মানবীয় অভিজ্ঞতার করুণ রসে সিক্ত। বর্তমান রচনাটি (‘On Why We Remember’) কীথ গেসেন অনূদিত তাঁর চেরনোবিলের কণ্ঠস্বর (Voices from Chernobyl) গ্রন্থ থেকে গৃহীত। এটি উক্ত বইয়ের Part One: ‘The Land of the Dead’-এর প্রথম অধ্যায়, যেখানে লিপিবদ্ধ পিওতর এস. (Pyotr S.) নামে এক মনোবিদের স্মৃতিচারণ। অনুবাদ করেছেন বিনয় বর্মন। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ৪ অক্টোবর ২০১৫ ১১:৩০ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com