গল্প

শারমিন শামসের গল্প: ক্যারাভান

শারমিন শামস্ | ১২ এপ্রিল ২০১৭ ১২:৪৩ অপরাহ্ন


– একটা উঁচু পাহাড়ঘেরা শান্ত ছিমছাম শহর, সেইখানে এসে দাঁড়াবে আমার ক্যারাভান
– ক্যারাভান থাকবে?
– উমম নাও থাকতে পারে। আচ্ছা ধরে নিলাম থাকবে নাহ
– হুম
-একটা রাকস্যাক নিয়ে আমি এসে থামবো ওই শহরে। তারপরে সেখানেই থাকবো যতদিন মন চায়
– তারপর
– তারপর আর কি? তারপর নতুন শহর নতুন গ্রাম নতুন কোন দেশ ডাক দেবে। আমি চলে যাব
– হুম
– আই নিড মানি। আই নিড এ ওয়ে অফ আর্নিং এন্ড ট্রাভেলিং অ্যাট দ্য সেইম টাইম
– হাও?
– আই ডোন্নো
– হুম
কথাবার্তা এই পর্যন্ত এগোয়। তারপর থেমে যায়। পরের সাত আটদিন কোনভাবেই মিঠু নামের মেয়েটার কাছে পৌঁছুতে পারেন না তৌফিক। না ফোনে না চ্যাটবক্স। তারপর হুট করে একদিন তার অফিসে এসে হাজির মিঠু। তৌফিক তখন কেবল বোর্ড মিটিং শেষ করে নিজের ঘরে এসে লাঞ্চের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পিএ লাবনী জানায়, মিঠু নামের একটা মেয়ে দেখা করতে চায়। আধাঘণ্টা হলো এসে বসে আছে।
মিঠুর আসা অবাক হবার মত কিছু না। মিঠু কখন কী করবে তা এই মেয়ে নিজেও বলতে পারবে না। তবু তৌফিক কিছুটা অবাক হন।
Caravan
– অফিস চিনলে কীভাবে?
– এইটা কোন ব্যাপার হলো! তোমার এত্ত বিখ্যাত অফিস।
– হুম তাই!
মিঠু মিষ্টি করে হাসে। (সম্পূর্ণ…)

জীবন্ত মানুষ এবং আটপৌরে ঘ্রাণের আখ্যান

অলভী সরকার | ২৯ মার্চ ২০১৭ ৮:০৭ পূর্বাহ্ন

ঠাকুমা মারা গেছেন!!!
যার শরীর জুড়ে ‘রতন’ জর্দার মাতাল করা ঘ্রাণ, সেই ঠাকুমা মারা গেছেন।

দিব্যি সুস্থ মানুষ। লোকে বলে, অকারণে ছটফট করে, অবশেষে ততোধিক শান্ত হয়ে মারা গেছেন। সকালবেলা খালি পেটে খুব করে রতন জর্দা দিয়ে পান খেয়েছিলেন। যাতে প্রেম, তাতেই মৃত্যু। যে, মানুষের সবচেয়ে আপনজন, তারই তো সুযোগ থাকে ঘাতক হবার!

ঠাকুমা কেন ‘রতন’ জর্দা খেতেন, আমি ঠিক জানি না; এখন জানার কোনো উপায়ও নেই। অবশ্য নৃ-তাত্ত্বিক গবেষণার পথ বেছে নিলে ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু, গবেষণায় সবসময় সত্যিকারের তথ্য পাওয়া যায় কি? সে যাই হোক, শুধু মনে পড়ে, গ্রামের বাড়িতে গেলে খুব ঘটা করে বাবা ‘রতন জর্দা’ কিনতেন। কোনো ব্র্যান্ডিং- এর ব্যাপারস্যাপার ছিল বোধহয়; এখনকার আরো অনেক কিছুর মতোই। মানুষ ভোগ্যদ্রব্যের দাসত্ব কত আগে থেকেই করতো, কে জানে!

old-womanপূর্বপুরুষের ভূমি থেকে আড়াইশো কিলোমিটার দূরে, যে জায়গাটিতে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে, তাকে আমি বলি স্বয়ংসম্পূর্ণ জেলখানা। এর উঁচু প্রাচীরের ঘের দেয়া আওতার ভেতর সব ছিল- স্কুল, কলেজ, কিন্ডারগার্টেন, হাসপাতাল, বাজার, আবর্জনা, নর্দমা- সবকিছু। যা ছিল না, তা হল,বাইরে যাবার সুযোগ এবং মানসিকতা। আর, প্রয়োজনই বা কী? মানুষ স্বভাবতই আরামপ্রিয়। ‘কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে?’- বস্তুত, হৃদয়-শরীর- কোনোটা খুঁড়েই মানুষ বেদনা জাগাতে চায় না। আমার কৈশোরও সীমাবদ্ধ ছিল কিছু নির্দিষ্ট মানুষের চেনা চাহনি, হাসি, কথা, খেলাধুলা, হাঁটার ভেতর।

নিজের একটা জগৎ তৈরি করেছিলাম আমি। স্কুল থেকে ঠিকঠাকমতো হেঁটে এলে বাসায় পৌঁছতে সময় লাগতো পাঁচ মিনিট। আমি রাস্তার বাম-ডান এবং ডান-বামে কোনাকোনি হেঁটে আসতাম, যাতে সময় বেশি লাগে। চেনা মানুষের গণ্ডির বাইরেও দু’একটি মানুষ আমার জীবনে জায়গা করে নিল। ওরা আসতো আশে পাশের গ্রাম থেকে- কেউ ভিক্ষা করতে, কেউ দুধ বিক্রি করতো, ছিল ছাই-বিক্রেতা, এলাকার শাক নিয়ে আসতে অনেকে। (সম্পূর্ণ…)

একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ: ওরা কারা

রুখসানা কাজল | ২৬ মার্চ ২০১৭ ১০:০১ পূর্বাহ্ন

তালিয়া
গার্লস ইশকুলের রাস্তা দিয়ে যতবার গাড়ি যায়, তালিয়া ততবার ইশকুলের গেটটা দেখে শিউরে ওঠে। পাশে বসা সহকর্মী বা অন্য কাউকে অবশ্য বুঝতে দেয় না। এমনিতে পাথরের মত মুখ করে থাকে। দরকারের বাইরে বাড়তি কথা খরচ করে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত হাসে না। স্থানীয় কেউ কথা বলতে গেলে দূরত্বের কঠিন গন্ধ পায়। ফলে স্থানীয় কারো সাথেই কাজের বাইরে কোন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি তালিয়ার। স্বামী রায়হান ইউএনডিবির চাকুরে। আজ এদেশ কাল ওদেশ। একমাত্র ছেলে স্বাগত সিডনি। কম্যুনিকেশন এবং জার্ণালিজমে পড়াশুনা করছে। ছেলের খুব ইচ্ছে এদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে পরিবর্তনশীল সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে লেখালেখি এবং ফিল্ম বানানোর।
মুক্তিযুদ্ধে রায়হানের বাবাকে মেরে ফেলেছে স্থানীয় রাজাকাররা। রায়হান বাবাকে পেয়েছিল মাত্র আট মাস। বাবার সাথে কিছু ছবি ছাড়া আর কোনো স্মৃতি নেই ওর। মামারা অল্পবয়সি মাকে বেশিদিন একা থাকতে দেয়নি। দ্বিতীয় বিয়ের ফলে মা হয়ে যায় প্রবাসি। একলা পড়ে যায় রায়হান। একবার দাদাবাড়ি একবার মামাবাড়ি। শেষ পর্যন্ত ক্যাডেট ইশকুল এন্ড কলেজ পেরিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং। কি যে নেশা রায়হানের যেখানেই একাত্তরের কিছু হয় ও পাগলের মত ছুটে যায়। ছেলে স্বাগতের তখনো কথা ফোটেনি ভাল করে সেও বাবার সাথে মাথা দোলায়, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসিইইইই –
রায়হান কতবার ডেকেছে, হাত ধরে টেনে নিয়েছে, তালিয়া একবার গলা মেলাও, প্লিজ! ছেলে চোখে, মুখে, চিবুকে চুমু খেয়ে বলেছে, গাও মা গাও—তালিয়া কখনো গায় নি। ওর মা জেলা শহরের গার্লস ইশকুলের হেডমিস্ট্রেস ছিল। মার কাছে গল্প শুনেছে সদ্যস্বাধীন দেশে নাকি নিয়ম করে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হত। এসেম্বলীতে সব ধর্মের ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে ধর্মপাঠও করানো হত। এমনকি এক ধর্মের ছাত্রি অন্য ধর্মের আয়াত, শ্লোক, বাণী পাঠ করলেও কেউ কিছু মনে করত না। সম্প্রীতির সহবস্থান ছিল, মায়া মমতা ছিল, ভালোবাসা ছিল। তালিয়ার সময় এগুলো আর হয়নি। এসেম্বলিই হত না নিয়মিত। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার সাথে সাথে সম্প্রীতি, সদ্ভাব উবে গিয়ে দেখা গেলো নিজস্ব সংস্কৃতি ভুলে বাঙালীরা দ্রুত খাঁটি মুসলিম হতে উঠে পড়ে লেগে গেছে। এমনকি কেউ কেউ বলেও ফেলেছে, হিন্দুর লেখা গান কেনো বাঙালি মুসলিমদের জাতীয় সংগীত হবে?
three-girlsমা ছিল জয়বাংলার কট্টর সমর্থক। বাবা নামের লোকটা যুদ্ধের পর পর পালিয়ে চলে যায় ইংল্যান্ড। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একবার এসেছিল। পাকিস্তানের সমর্থনে আর বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ছেলেমেয়েদের আজেবাজে কথা শেখানোর পাশে পাক সার জমিন নামে একটা গানও শেখাতে শুরু করে। মা প্রচুর আপত্তি করে। আপত্তি থেকে ঝগড়া আর ঝগড়া থেকে ছেলেকে নিয়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিলে মা কি সব কাগজপত্র বের করে বলে, এক্ষুণি বেরিয়ে না গেলে পুলিশের কাছে যাবে। আর আসেনি লোকটা। শুনেছে পাকিস্তানী কোন মহিলাকে বিয়ে করে ইংল্যান্ডে ভালই আছে। বাবা চলে যাওয়ায় মা বা ওরা কেউ দুঃখ পায়নি। বরং যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল। তালিয়া বেশি খুশি হয়েছিল কারণ বাবাটা সুযোগ পেলেই তালিয়ার পিঠ খামচে দিয়ে বলত, তোর জন্যে পাক সার জমিন। তু তো হাফ পাকিস্তানি হ্যায়। (সম্পূর্ণ…)

সাগুফতা শারমীন তানিয়ার গল্প: অপ্রাপনীয়া

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ২০ মার্চ ২০১৭ ৬:০৬ অপরাহ্ন

-“জানো তো, ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমায় আমার এক রাঙাদাদা মিঠুন চক্রবর্তীর স্যাঙাতদের একজন হয়ে নেচেছিল।”
পোড়া হাতরুটির ফোস্কা ফুটো করে তাতে মিষ্টিকুমড়োর ঘ্যাঁট মাখিয়ে খেতে খেতে বলি আমি। হঠাৎ করেই। যেন এমন দাদার ছোটভাইকে এ’রকম পোড়া রুটি আর ঘ্যাঁট খেতে দিতে নেই। যাকে উদ্দেশ্য করে বলা, কাচা চাদরটা তারে মেলে দিতে দিতে সেই কাজরীর খোঁপায় লতিয়ে থাকা গামছাটা খুলে এলো। পেছন থেকে তার গলা-বুক-মুখের শ্বেতীর সামান্য ছোপগুলি দেখা যায় না আর তাকে টনটনে সুন্দর দেখায়। কাজের ঝি লতিকা জলে এক ছিপি কেরোসিন মিশিয়ে সেটা দিয়ে মুছে চকচকে করে দিয়ে গেছে পেটেন্ট স্টোনের মেঝে, সারা ঘরে মাথা ধরানো কেরোসিনের গন্ধ আর একটা চটচটে আর্দ্রতা বাতাসে। কাজরী আমার কথা গ্রাহ্যই করলো না, ওকে দেখলে মনে হবে ও এমনকি কোনো মানুষ কথা বলছে এমনটিও কানে শুনতে পায়নি। ক’দিন ধরে খুব বাড়িঘর সাফ করছে কাজরী, সব পুরনো ড্রয়ার, সিন্দুক নাড়াচাড়া দিয়ে- জিনিসপত্র বের করে বাড়িটা গোডাউন বানিয়ে ফেলেছে। বালতির বাকি কাপড় শুকোতে দিয়ে সে চটি ফটাফট করে চলে গেল আর আমার মনে হলো- কতদিন ‘হ্যাপিনেস’ শব্দটা কোথাও লেখাও দেখি না। কতদিন ধরে পোড়া হাতরুটির ফোসকা ফুটো করে মিষ্টিকুমড়োর ঘ্যাঁট মাখিয়ে খেতে খেতে আমি এই শেতলতলা, কচ্ছপখোলা- বারাসাতের একটা একতলা বাড়ির সামনের পানাপুকুর পাহারা দিয়ে যাচ্ছি। পুকুরটার জলে একরকমের শাদা শাদা ফুল হয়, তার বাংলা নাম ‘চাঁদমালা’।
tania-painting
ইটের রাস্তার ওপারে কলাবতীর ঝাড়ের পাশে কলতলায় ঝপঝপ শব্দে স্নান সারছে মেনকা সোরেন। দূরদর্শনের সকালের অনুষ্ঠানে কে ঝুমুর গাইছে ‘মন দে যৈবন দে, দুইঠো ডানাই লাগাই দে’। সাধ কত! স্নানের শব্দে আমার মনে পড়ে গেল শোভনের নানাজান গুনগুন করতে করতে ঝপঝপিয়ে তোলা জলে স্নান করতেন- ‘যাব নূতন শ্বশুরবাড়ি/ আহ্লাদে যাই গড়াগড়ি/ সাবান মেখে ফর্সা হবো/ কাটবো মাথায় লম্বা টেরি…’, মরচে লাল সিমেন্টের মেঝে স্নানের ঘরে- শোলমাছরঙা লোহার বালতি আর মগ। বের হবেন যতক্ষণে- ততক্ষণে বুক আর পিঠ গামছার লালে নাকি রগড়ানিতে গোলাপি লাল। অম্লানবদনে বলে ফেলতেন- “ওরে আমরা জোলার জাত। কাজীবাড়ির ধার দিয়া হাঁটতে দিত না আমাদের, অথচ ভক্ত কবীররে দত্তক নিছিল এক জোলা। কাজীবাড়ির কেহ ভক্ত কবীরের নাম জানে না অবশ্যি।” (আমার ওঁর মতো করে বলতে ইচ্ছে করে, মেনকা সোরেনের বাড়ির কেহ একলব্যের নাম জানে না অবশ্যি।)আমরা শোভনদের গ্রামের বাড়িতে থেকেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের সময়। আমার দাদা মেঘালয়েপাহাড়ঘেরা জাওয়াই উপত্যকার ‘ইকো-১’ নামের একটা ট্রেনিং সেন্টারে চলে গেছিল, পরে ফিরে এসে খুব যুদ্ধ করেছিল দাদা- আমরা ভেবেছিলাম দাদাকে ‘বীরপ্রতীক’ উপাধি দেয়া হবে। আর কাজরী কি না আমাকে কালো রুটি আর ডেলাপাকানো ঘ্যাঁট খাওয়াচ্ছে। (সম্পূর্ণ…)

দাঁড়াও পথিক

আকতার হোসেন | ২০ মার্চ ২০১৭ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

ভ্রূণের মধ্যে আটকে আছি শত বছর ধরে। জঠর থেকে জঠরে হস্তান্তরিত হয়েছি, পেয়েছি শত মায়ের আদর। ভাবছি এবার গ্রিন সিগনাল দেব। বেরিয়ে আসবো অন্ধকার থেকে। পাশে দাঁড়াবো আতঙ্কগ্রস্থ পিতার। হাত ধরবো প্রিয়ভাষিণীর। ভয়ানক অশান্ত হতে যাচ্ছে তোমাদের শহর বন্দর গ্রাম। আমি প্রস্তুত। খুলে দাও কপিকল। সীমান্ত সীমানায় তাঁর হুকুমের অপেক্ষায় আমি।

Afsanপ্রথমে যাবো টুঙ্গিপাড়া করবো সেলাম গেমাডাঙ্গা স্কুল। মধুমতীতে সাঁতার কেটে খুঁজবো শেখ মুজিবের গাঁয়ের গন্ধ। তারপর শিলাইদহ কুঠি বাড়ি থেকে সরাসরি যাব সীতাকুণ্ড। অমিত পুরুষ নুরালদীনের রংপুরে রাখবো পা। সেন্ট মার্টিনের পানি থেকে নামাবো বিষ। খাঁচায় পুষে রাখা অচিন পাখীর কণ্ঠ শুনে আসবো। বাংলাদেশ না হলে অন্য কোথাও নামবো না, অন্য গ্রহ নক্ষত্র করবো না স্পর্শ।
ফিরে আসবো সেই বাংলাদেশ থেকে যতদিন দেখতে পারি দেখব তাল বেল সুপারির দেশ। রহিমুদ্দিনের ছোট্ট বাড়ি যাব মুড়কি খেতে। পড়ে থাকা রাইফেল তুলে নিয়ে ট্রিগারে টিপ দিব। মরুক শালার আশি বছরের শত্রু -তাতে কি। বয়স মানে না শত্রু মিত্র খেলা। শুধু ভালোবাসার বয়স নির্ধারিত। আজন্ম তার সীমানা। বাকি সব সুতোয় বাঁধা গুটি গুটি তসবি চিহ্ন।

জন্ম নিয়েই সেই স্কুল পড়ুয়া কিশোর হব। তারপর সুপ্রিমকোর্টের ভাস্কর্য নিয়ে বিভ্রান্তি মেটাবো। মুছে দিব সংখ্যালঘু শব্দটি। হেলতে দুলতে থাকা চব্বিশ হাজার নত শিরকে ইস্পাতসম কঠিন করে তুলবো। ওরাও হবে বাংলাদেশের অংশ। ফিরে এলে ফিরিয়ে নেব, না হলে কচুকাটা করবো আগাছার মত। ফাঁসি দিলে বলবো রশি বদলাও। ক্ষুদিরামের দড়িতে পিচ্ছিল মোম লাগাও সেই দড়িতে মরবো। (সম্পূর্ণ…)

মণীশ রায়ের গল্প: টিয়া

মণীশ রায় | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১২:৪৯ অপরাহ্ন

1229055-7ইলিয়াছ আজ রোমান্টিক হতে চায়।
কৈশোরে সে এক আঁতেল বন্ধুকে এর মানে জিজ্ঞাসা করেছিল।
সে রবীন্দ্রনাথের ফটিকের মতো নিঃসীম আকাশে চোখ ফেলে উত্তর দিয়েছিল,‘ওড়াওড়ি।’
কমবয়সের শব্দ তো; সঙ্গে সঙ্গে গেঁথে রইল অন্তরে।
এখনো শব্দটা কোথাও উচ্চারিত হলে হাসানের সেই স্মৃতিটা মনে পড়ে যায়। ওড়াওড়ি ওর জন্য শব্দ নয় কেবল; বন্ধু হাসানের মুখ থেকে শোনা স্মৃতিময় এক চিত্রকল্প।
আজ সে রোমান্টিক ওড়াওড়িতে নিজেকে জড়াবে; এজন্য দুমাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ছুটির দিনে ঘুরে-ঘুরে লাল পাঞ্জাবী কিনেছে। ক্রেডিট-কার্ডের ১০% সুবিধা ভাঙিয়ে কান্তার জন্যে উপহার হিসাবে পারফিউমের সেট নিয়েছে।
ইটালিয়ান জুতো কেনার শখ থাকলেও দরদামে বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মধ্যবিত্ত-জনপ্রিয় টেকসই বাটার স্যান্ডেল জোড়াই পায়ে গলাতে হয়েছে।
ব্যাংকের কর্মকর্তা সে। বছর চারেকের চাকরি জীবন; এরই মাঝে সে একটি পদোন্নতিও বাগিয়ে ফেলায় মনে মনে সে খুব গর্বিত। সম পদমর্যাদার বয়স্ক সহকর্মীদের দিকে তাকিয়ে প্রায়ই ওর কেন যেন হাসি পায়। কান্তার মন জয় করার মতো পদোন্নতিও ছিনিয়ে নিতে পারায় ওর মেজাজ-মর্জি নিমহাওয়ার মতো স্বাস্থ্যকর ও ফুরফুরে।
এরকম মন নিয়ে ইলিয়াছ আকদ হওয়া স্ত্রী কান্তার সঙ্গে দেখা করতে চলেছে আজ।
এজন্য এক সপ্তাহ আগেই বসের কাছ থেকে একদিনের নৈমিত্তিক ছুটির অনুমোদন পেয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

মাহী ফ্লোরার গল্প: ঝোঁক

মাহী ফ্লোরা | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৪:০৬ অপরাহ্ন

কল ছাড়ার শব্দ পেতেই দেবব্রত চঞ্চল হয়ে ওঠে। হাতের পত্রিকাটা আস্তে করে নামিয়ে রাখে পাশে। সাড়ে সাতটা বাজতে ঠিক পাঁচ মিনিট বাকি। মিনতি এ সময় খুব দ্রুত হাতে সকালের নাস্তার জন্য লুচির আটা মাখে। তার শাখা নোয়ার সাথে পিতলের বাসনে ঠোকার আওয়াজ বড্ড মধুর লাগে। স্টোভের শোঁ শোঁ শব্দ প্রেসার কুকারের সিঁটি সব ছাপিয়েও কল ছাড়ার শব্দটা দেবব্রতকে টানে। পা টিপে টিপে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায় সে। বাম দিকে তাকালে মিনতির উবু হয়ে বসে থাকা নজরে আসে। বুবুন হবার পর মিনতির পিঠে ব্লাউজের ভেতর থেকে যেন বেরিয়ে আসতে চায় বাড়াবাড়ি রকমের মাংসল ভাঁজ। খোলা পিঠে ছড়িয়ে থাকা চুলের ভেতর দেবব্রত মনটাকে আটকে ফেলতে পারতো হয়ত। কিন্তু এ সময়টা ঠিক এ সময়টাতে তার আনচান লাগে।

paintings-16-728ডান দিকে কলতলার একটা অংশ ঘিরে চান করার ব্যাবস্থা। টিনের খাটো দরজা ছাদ খোলা। দরজার উপর দিয়ে সাদা ছোট পাড়ের শাড়ি আর বাদাম রং এর একটা ছায়া ঝুলছে। দরজার নিচ দিয়ে একজোড়া ধবধবে সাদা পা তাকে টানতে থাকে। দেবব্রত জুলজুল করে তাকিয়ে থাকে।
মিনতির বাবা মারা গেলেন গত পৌষ মাসে। মা তার পর থেকেই এ বাড়িতে আছে। শ্বশুরের একটাই মেয়ে হওয়ায় সব কিছু দেবব্রতকেই দেখাশোনা করতে হত। গ্রামের ছোট্ট বাড়ি আর অল্প কিছু জায়গা জমি সব বেঁচে দিয়ে দেবব্রতই নিয়ে এসেছেন তাঁকে। এখানে একটা কোনো রকম মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়ে গেছে ওই টাকায়। জায়গাটায় একটু মফস্বল মফস্বল ভাব আছে, তবু মন্দ না। (সম্পূর্ণ…)

রবিউল করিমের গল্প: মধুচক্র

রবিউল করিম | ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ ৫:০৫ অপরাহ্ন

এই মধুচক্র কীভাবে, কোথায় শুরু হয়েছিল জানি না। কিছু দৃশ্য শুধু স্মৃতির কোঠরে লেপটে আছে। সেই লেপটে থাকা কুয়াশার পরতের তুলো একটু একটু করে সযতনে সরতে থাকলে আমি দেখি, শৈশবের মধু দৌড়াচ্ছে।
বাপ আমাকে আদর করে মধু পাগলা ডাকতেন। সেই নামের পেছনের ইতিহাসটা বড় গোলমেলে। কিন্তু আমি জানি, জন্মের পর আমার মুখে প্রথম মধুই তুলে দেয়া হয়েছিল। আর এ কথা আমাকে বলেছিল মা। মা তো মিথ্যে বলতে পারে না। যে শিশুটি পৃথিবীর প্রথম স্বাদ গ্রহণ করেছিল মধুর; সে যে ভাবিকালে মধু পাগলা হবে এতে আশ্চর্যের কী আছে?
modhu
মনে পড়ে, তখন ক্লাস টু কী থ্রিতে পড়ি। বাড়ি থেকে স্কুল প্রায় দু ক্রোশ দূরে। হেঁটেই যাই আসি। আমার সাথে যায় আমারই সহপাঠি গোল্লা, নারায়ণ, বাসেত, রমেশ, শুকবর। রমেশের বাড়ি আমাদের বাড়ির লাগোয়া। সে এসে ডাক দিলেই মা তড়িঘড়ি করে আমার চুলে তেল দিতে লাগতেন। আমি যতই বলি, হেছ তো, স্কুলত দেরি হয়্যা য্যাবিনি। ততই তিনি সরিষার তেল মাখানো আঙুল চুলের ভেতরে নিয়ে মালিশ করতে করতে ধমক দিয়ে বলতেন, থাম ছোড়া, চুলগুলার কি অবস্থা কর‌্যা রাখিছু! ইংক্যা করা স্কুলোত যায়। মাস্টার কি কবেনি? চুলেত ত্যাল দিলে মাথা ঠান্ডা থাকে। পড়াত তো আর মন নাই, খালি ছটফট। তারপর চিকন দাঁতের চিরুনি দিয়ে থুতনিটা শক্ত করে ধরে চুল আঁচড়িয়ে দিতেন। ততক্ষণে রমেশ বার কয়েক ডেকে বাইরে অস্থির। নিত্যদিন এইসব হ্যাপা সামলিয়ে যখন পড়ার বইগুলো বুকে চেপে ধরে দৌড় দিতাম; তখনো মা চেঁচিয়ে বলতেন, দেখিছু দেখিছু, এই ছোড়া পড়্যা যাবু তো। কিন্তু কোনোদিনই পড়ে যাওয়ার বিপত্তি না ঘটিয়ে দু বন্ধু ছুটে যেতাম স্কুলে। পথে সঙ্গি হতো ওরা চার জন। এই ছয়জন মিলে সেই দু ক্রোশ পথ পাড়ি দেয়া ছিল এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণ। কখনো বাসেতদের শবরিগাছে ঢেলা দিয়ে শবরি খাওয়া, কখনো গাবলের গাছে চড়ে ঘুঘুর ডিম পেড়ে আনা, কত কী। হরিশপুরের শেষ মাথা থেকে আতাইকুলার রাধারমন প্রাইমেরি স্কুল পর্যন্ত পথে পথে ছড়িয়ে থাকত আমাদের দুষ্টামি। (সম্পূর্ণ…)

৮৭তম দিনে তারা এবং আমি

রুবাইয়াৎ সিমিন | ৫ জানুয়ারি ২০১৭ ১২:৫৬ অপরাহ্ন

monish.jpgমুহূর্তের পর মুহূর্ত বেদনার্ত মনে বসে থেকে সে বেরিয়ে আসে মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য। তারপর আবার বাষ্পযুক্ত শ্বাস ফেলে ঢুকে যায় খোলা স্নানাগারে।
নিষ্পলক কয়েকটি মুহূর্ত মাত্র অপেক্ষা তার, ৮৭তম দিন আজ।
ইশ, ওর আসবার দিনও সব ঠিক ছিল! দু’দিন অন্তর বদলেছে পানি, জেট যুক্ত করে তার মাঝে আবার কখনো পরম মমতায় কিংবা খুব তাড়াহুড়োয় বদলেছে ডুবে থাকার জায়গাটা । কাউকে বলে আসলে বোঝানো যায় না অনেক কিছুই যেমন এখন বোঝানো যাচ্ছে না নিজেকেই। এমনটা কি করে হল! অসাবধনতা, পুরো ব্যাপারটাই ঘটে গেছে তার অসাবধানতায়।
সেবার যেবার পাহাড়ে গেল সবাই মিলে সেবারও কি কম কাণ্ড হলো?
সবার সাথের সব কিছু যেমনটি নিয়ে গিয়েছিল তেমনটিই ফেরত আসলো, আসলো না শুধু ওগুলোই। পরে ড্রাইভার, গাইড কতজনকে ফোন করে খুঁজে পেতে আনা গেলো তবুও।

মনে আছে, খুব মনে আছে বৃষ্টিভেজা দিনে অনেক ছবি তোলা হল, আনন্দ আড্ডা হল। তারপর এসে পরম মমতায় ভিজিয়ে দিল ফেনিল; জেট পাউডারে তৈরী ফেনিল বুদবুদে। কয়েকটি গোল গোল হাওয়াভর্তি বড় আকারের বুদবুদ হাতের উপর দিয়ে ভেসে গেল রংধনুর ন্যায় বর্ণচ্ছটা তৈরী করে। ইশারা! কত রকমের ইশারা চলে জগতে। এই ভেসে ভেসে যাওয়া ব্যাপারটাই বা কম কি? ক’টা বুদবুদে ক’টা রংধনু তৈরী করেছিল, কোনরূপ কি কোন ঈঙ্গিতমূলক ব্যাপার ছিল! অথচ প্রায় দু’ কি তিনদিন অন্তর ও বদলেছে পানি, নতুন পানি, নতুন করে বানানো জেট পাউডারের গোলা; তার মধ্যে পরম মমতায় অপেক্ষা, উপযুক্ত সময়ের না পর্যাপ্ত সময়ের অপেক্ষা! (সম্পূর্ণ…)

রুখসানা কাজলের গল্প: জ্যোৎস্নাধরা

রুখসানা কাজল | ২১ december ২০১৬ ৩:২৮ অপরাহ্ন

monish.jpgদুধজোস্নায় ভেসে যাচ্ছে চারদিক। খোলা বারান্দায় চকিতে শুয়েছিল গনেশ। কাঁঠাল গাছের পাতাগুলো তারার মত চকচক করছে। তার পাশে বারোমাসি আমড়াগাছ। আমকাঁঠালের পাতার বুননে বানানো জালে ধরা পড়ে জ্যোৎস্না হাসছে কলকলিয়ে। ঠিক এই সময়ে ভুতু কেন যেনবড় উঠোনের মাঝখানে এসে চাঁদের দিকে মুখ উঁচু করে লেজ নামিয়ে ডেকে উঠল, ঘুঘুঘুউউ ঘুউ ঘুউঘুউউউউউউউউউউউ—বিষ কামড় দিয়ে উঠল গণেশের শরীর! ভয় আতংকে কেমন কেমন করে উঠছে বুকের ভেতর। তড়াক করে উঠে বসে বিছানায়। ঠাকুমার কাছে শুনেছে বিপদ আপদের কথা নাকি পশুপাখিরা আগে ভাগে জেনে যায়। আর জানতে পারে বলে এরকম আর্তচিৎকার করে পাড়া মাতিয়ে কেঁদে কেঁদে উঠে। কোথায় কার কি হলো কে জানে! ধুকপুক করতে থাকে গনেশের বুকের ভেতর।
ভিজে জ্যোৎস্না চাঁদকে নিয়ে ঢুকে যাচ্ছে মেঘের কোলে। আবার ভেসে উঠছে মণিমুক্তোর মত আলো ছড়িয়ে। এই রকম আলো আঁধারে অনেকক্ষণ ধরে একটানা ডেকে ডেকে একসময় থেমে যায় ভুতু। তারপর গনেশের দিকে মুখ করে দুপা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে । পায়ের ফাঁকে কাত করে রাখা ভুতুর মাথাটাকে অদ্ভুত অসহায় লাগে। সাড় শব্দহীন। কেবল একটা চোখ জ্বলজ্বল করছেভুতুর। শালা মাথা কাত করে রাখিছে ত রাখিচ্ছেই। একবারের জন্যিও লড়াচড়া নাই। এট্টু খানি মাথাও ওঠায় না ভুতুরবাচ্চা। বাঁচি আছি ত? আরো ভয় খায় গনেশ, মরি গেল নাহি! মারিচ্ছে ত আমাগের! পোষা কুকুরের আতকা মরণ গেরস্তোর জন্যে সুলক্ষণ নয় মোটেও। তার উপর কদিন ধরে যে বিপদ চলিচ্ছে সংসারে! তিন লাফে ভুতুর কাছে গিয়ে লেজ ধরে টান দেয় গনেশ। ভুতু সেই ভাবে শুয়েই ঝাঁকি দিয়ে লেজ টেনে নেয়। গনেশ যেন অচ্ছুত। একবার ফিরেও তাকায় না। (সম্পূর্ণ…)

ফতেবেওয়ার একসঙ্গে সাতটি সন্তান প্রসবের ঘটনা সম্পর্কে মন্ত্রণালয় অবগত নন

আফসান চৌধুরী | ১৪ december ২০১৬ ৫:৫২ অপরাহ্ন

ফতেবেওয়া নামক বিধবা মহিলা যিনি রামপুর মাজারের বাসিন্দা বলে কথিত তিনি যুদ্ধের পর পরই এক সঙ্গে সাতটি সন্তান প্রবস করেছে বলে গণমাধ্যমে যেসব তথ্য এসেছে সে সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কিছু জানে না। তাদের নথিতেও কোনো উল্লেখ নেই। তবে ওই এলাকায় পাক আর্মি যখন গিয়েছিল, তারা গণহত্যা ও নির্যাতন চালায়। কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুবিধা পেতে হলে সবাইকে সনদ ও প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।

১.ফতেবেওয়া
যতদিন সবার স্মরণে আছে তিনি এই দরগাতেই আছেন। প্রয়োজনে মানুষ তার কাছে যায় বিভিন্ন রকম সাহায্যের জন্য। পাকিস্তান আর্মি এলাকায় পৌঁছে কিছুদিন থাকার পর মেয়েদেরকে তাদের কাছে পাঠাতে বলে। গ্রামের দরিদ্র কুমার সম্প্রদায়ের ওপর এই চাপটা পড়ে বেশি। তারা দুই বোন মিলি আর কলিকে পাকিস্তান আর্মির হাতে তুলে দিতে রাজি হয়। শান্তি কমিটি তাদের বলে, এর বদলে অন্য কোনো মেয়েকে আর উঠিয়ে নেওয়া হবে না। হাফিজ রাজাকারের সঙ্গে ওরা দুই বোন চলে যায়। ফেরত আসার মাস খানেক পরে ওদের পেটে বাচ্চা আসে।

সম্প্রদায়ের মানুষের টিটকারী-গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে মিলি গাছে ঝুলে কষ্ট থেকে পালায়। এরপর ওর বাবা উপায় না দেখে হাফিজ রাজাকারকে দিয়ে কলিকে ফতেবেওয়ার কাছে পাঠায়। রাত্রে আহারের পর ফতেবেওয়া মেয়েটাকে নিয়ে শুতে যায়। তারপর মেয়েটির কোমড়ে দড়ি বাধে। দড়ির অন্য অংশটি বাধে নিজের পেটে। তারপর দু’জনে ঘুমিয়ে যায়। ভোরের দিকে পেটের বাচ্চাটা কলির পেট ছেড়ে দড়ি বেয়ে ফতেবেওয়ার পেটে আশ্রয় নেয়।

২. মাজার
মাজারের ছাঁদে আর দেয়ালে রাতে একদল জোনাক পোকা নামে। জোনাকির আলোয় সব কিছু উদ্ভাসিত হয়। খাদেম সাহেব ওদের জন্য জলের মধ্যে মিশ্রি মিশিয়ে রেখে দেন। যাতে জোনাক পোকারা আকাশে উড়ে যাবার আগে ওই পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

আমি আমার বাবার দিকে তাকিয়ে আছি

কিযী তাহনিন | ১২ december ২০১৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

Kizi-1বাইশ নাকি তেইশ? চব্বিশ তো নয়, একদমই নয়। না না, বাইশ, মনে পড়েছে। ১৯৭১, বাইশে জুলাই। মনে মনে উচ্চারণ করলো সে। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে সব কিছু ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। সে কিছু ভুলেনি। দিনক্ষণে একটু গোলমাল হচ্ছে খালি। তা সে এখন মারা যাবে বলে নয়, সবসময়ই হয়। নিজের মৃত্যুর দিন’টি সবাই কি জেনে যায়? যারা গাড়ি চাপা পরে? কিংবা ঘুমের মাঝে? বাহ্, সে ভাগ্যবান। সে জেনে গেছে, দিনটির কথা, সময়টা জানতে পারলে ভালো হতো। প্রায় চার ঘন্টা তো হয়ে এলো। অপেক্ষা শেষ হবার অপেক্ষা চলছে। সে তাকিয়ে আছে সামনে।

তখন ও তাকিয়ে ছিল সামনে, স্টিমারের সেলুনে বসে। স্টিমার থামে। সে বসে আছে তার পরিচিতজনদের সাথে। একই এলাকায় বাস, একসাথে ইউনিভার্সিটি’তে পড়ে। এমন সময়গুলোতে, পাশে বসে থাকা মানুষগুলোই পরিচিত মানুষ হয়ে ওঠে। বনরুটি কামড় দিয়েছিলো কি মাত্র? হ্যাঁ দিয়েছিলো এক কামড়। তারপরেই শব্দ, ভারী জুতোর মাটিতে আঘাতের শব্দ।

অকস্মাৎ ব্যাথা অনুভব করলো, উফফ, চুলে পেছন থেকে মুঠো করে টান দিয়ে ধরেছে কেউ। কয়েক মুহূর্ত। বোঝা হয়ে গিয়েছিল পেছনে কারা দাঁড়িয়ে। তাদের চেহারা না চিনলেও দেখতে কেমন হয় তা জানে। ওরা দেখতে সবাই একইরকম। বা আমরা ভেবে নেই যে তারা সবাই দেখতে একই রকম। কারণ তারা আমাদের মতন নয়, অন্যরকম। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com