গল্প

ফতেবেওয়ার একসঙ্গে সাতটি সন্তান প্রসবের ঘটনা সম্পর্কে মন্ত্রণালয় অবগত নন

আফসান চৌধুরী | ১৪ december ২০১৬ ৫:৫২ অপরাহ্ন

ফতেবেওয়া নামক বিধবা মহিলা যিনি রামপুর মাজারের বাসিন্দা বলে কথিত তিনি যুদ্ধের পর পরই এক সঙ্গে সাতটি সন্তান প্রবস করেছে বলে গণমাধ্যমে যেসব তথ্য এসেছে সে সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কিছু জানে না। তাদের নথিতেও কোনো উল্লেখ নেই। তবে ওই এলাকায় পাক আর্মি যখন গিয়েছিল, তারা গণহত্যা ও নির্যাতন চালায়। কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুবিধা পেতে হলে সবাইকে সনদ ও প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।

১.ফতেবেওয়া
যতদিন সবার স্মরণে আছে তিনি এই দরগাতেই আছেন। প্রয়োজনে মানুষ তার কাছে যায় বিভিন্ন রকম সাহায্যের জন্য। পাকিস্তান আর্মি এলাকায় পৌঁছে কিছুদিন থাকার পর মেয়েদেরকে তাদের কাছে পাঠাতে বলে। গ্রামের দরিদ্র কুমার সম্প্রদায়ের ওপর এই চাপটা পড়ে বেশি। তারা দুই বোন মিলি আর কলিকে পাকিস্তান আর্মির হাতে তুলে দিতে রাজি হয়। শান্তি কমিটি তাদের বলে, এর বদলে অন্য কোনো মেয়েকে আর উঠিয়ে নেওয়া হবে না। হাফিজ রাজাকারের সঙ্গে ওরা দুই বোন চলে যায়। ফেরত আসার মাস খানেক পরে ওদের পেটে বাচ্চা আসে।

সম্প্রদায়ের মানুষের টিটকারী-গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে মিলি গাছে ঝুলে কষ্ট থেকে পালায়। এরপর ওর বাবা উপায় না দেখে হাফিজ রাজাকারকে দিয়ে কলিকে ফতেবেওয়ার কাছে পাঠায়। রাত্রে আহারের পর ফতেবেওয়া মেয়েটাকে নিয়ে শুতে যায়। তারপর মেয়েটির কোমড়ে দড়ি বাধে। দড়ির অন্য অংশটি বাধে নিজের পেটে। তারপর দু’জনে ঘুমিয়ে যায়। ভোরের দিকে পেটের বাচ্চাটা কলির পেট ছেড়ে দড়ি বেয়ে ফতেবেওয়ার পেটে আশ্রয় নেয়।

২. মাজার
মাজারের ছাঁদে আর দেয়ালে রাতে একদল জোনাক পোকা নামে। জোনাকির আলোয় সব কিছু উদ্ভাসিত হয়। খাদেম সাহেব ওদের জন্য জলের মধ্যে মিশ্রি মিশিয়ে রেখে দেন। যাতে জোনাক পোকারা আকাশে উড়ে যাবার আগে ওই পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

আমি আমার বাবার দিকে তাকিয়ে আছি

কিযী তাহনিন | ১২ december ২০১৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

Kizi-1বাইশ নাকি তেইশ? চব্বিশ তো নয়, একদমই নয়। না না, বাইশ, মনে পড়েছে। ১৯৭১, বাইশে জুলাই। মনে মনে উচ্চারণ করলো সে। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে সব কিছু ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। সে কিছু ভুলেনি। দিনক্ষণে একটু গোলমাল হচ্ছে খালি। তা সে এখন মারা যাবে বলে নয়, সবসময়ই হয়। নিজের মৃত্যুর দিন’টি সবাই কি জেনে যায়? যারা গাড়ি চাপা পরে? কিংবা ঘুমের মাঝে? বাহ্, সে ভাগ্যবান। সে জেনে গেছে, দিনটির কথা, সময়টা জানতে পারলে ভালো হতো। প্রায় চার ঘন্টা তো হয়ে এলো। অপেক্ষা শেষ হবার অপেক্ষা চলছে। সে তাকিয়ে আছে সামনে।

তখন ও তাকিয়ে ছিল সামনে, স্টিমারের সেলুনে বসে। স্টিমার থামে। সে বসে আছে তার পরিচিতজনদের সাথে। একই এলাকায় বাস, একসাথে ইউনিভার্সিটি’তে পড়ে। এমন সময়গুলোতে, পাশে বসে থাকা মানুষগুলোই পরিচিত মানুষ হয়ে ওঠে। বনরুটি কামড় দিয়েছিলো কি মাত্র? হ্যাঁ দিয়েছিলো এক কামড়। তারপরেই শব্দ, ভারী জুতোর মাটিতে আঘাতের শব্দ।

অকস্মাৎ ব্যাথা অনুভব করলো, উফফ, চুলে পেছন থেকে মুঠো করে টান দিয়ে ধরেছে কেউ। কয়েক মুহূর্ত। বোঝা হয়ে গিয়েছিল পেছনে কারা দাঁড়িয়ে। তাদের চেহারা না চিনলেও দেখতে কেমন হয় তা জানে। ওরা দেখতে সবাই একইরকম। বা আমরা ভেবে নেই যে তারা সবাই দেখতে একই রকম। কারণ তারা আমাদের মতন নয়, অন্যরকম। (সম্পূর্ণ…)

মণিকা চক্রবর্তীর গল্প: দেহোত্তর

মণিকা চক্রবর্তী | ৬ december ২০১৬ ২:০১ অপরাহ্ন

Image-1বাসটা চলতে চলতে হঠাৎ ব্রেক করে। গতি কমিয়ে দেবার পর বরকত টের পেল সে এতক্ষণ চলতি বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ঘুমাচ্ছিল। তার শরীর দিয়ে তখন দরদরিয়ে উপচে পড়ছে ঘাম। সামনের লোকটিকে সে যেমন করে জাপটে ধরে রেখেছিল ভেতরের দিকে চেপে, তেমনি পেছনের লোকটিও তাকে চেপে ধরাতে তার দমবন্ধভাব লাগছে। আর এই দমবন্ধভাবটি সে সবেমাত্র টের পেল বাসটি ব্রেক কষার পর। এ অবস্থায় এতক্ষণ ঘুমাচ্ছিল কী করে সে ভেবে দেখতে লাগল। বাইরের ঝাঁ ঝাঁ রাক্ষুসে রোদ যেন সবাইকে গিলে খাবে। খবরে বলেছিল আজকের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি। বৃষ্টি হবার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এত গরমের মধ্যেও বাসের সিটে অগণিত মাথাগুলো ঢুলছে আর ক্লান্তিতে ঝিমুচ্ছে। ভেতরে ভেতরে সবাই বিধ্বস্ত আর গুমরাচ্ছে চাপা ক্রোধে। গরমের দায় কারও উপর ছাড়া যাচ্ছে না। সবার চোখমুখগুলোতে নির্মম রোদের মতোই একটা বিদ্বেষভাব প্রখর হয়ে আছে। তীব্র গরম এই বাসের ভিতর ছড়িয়ে দিয়েছে অদৃশ্য বিষাদ, মানুষগুলো কোনো কথাও বলছে না। শুধুমাত্র বাসের হেলপারটির ডাইনে-ডাইনে, প্লাস্টিক-প্লাস্টিক, বাঁয়ে লন―এসব চিৎকার ভেতরের গুমোট নীরবতাকে কিছুটা ছুঁয়ে যাচ্ছে। রাস্তার দিকে তাকিয়ে বরকতের মনে হল, রাস্তার কালো আলকাতরাগুলো যেন রোদের আগুনে গলছে। আর সাথে সাথে আরও টের পেল তার মাথাটা প্রচণ্ড ক্লান্তিতে পাথরের মতো ভারী । (সম্পূর্ণ…)

কচ্ছপ ও কৈ মাছ

মাসুদা ভাট্টি | ২ december ২০১৬ ১২:২১ অপরাহ্ন

Rubelলতার চোখেই পড়লো, অথচ সকলেই লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে এই নয়’তলা ফ্ল্যাটবাড়ির ছয় তলায় লিফট থামার অপেক্ষা করে। ঠিক লিফটের সামনেই একটি বিশাল এ্যাকুয়ারিয়াম রেখেছেন লতাদের সামনের ফ্ল্যাটের ভদ্রলোক। খুব সৌখিন মানুষ ভদ্রলোক, মাছ পোষেন, কচ্ছপ পোষেন, ছাদে শ’খানের ফুলের টবে লাগিয়েছেন নানা ধরনের ফুলের চারা, ফলও আছে কিছু, যেগুলো আজকাল ছাদেই ফলাচ্ছে নগরচাষীগণ।

এ্যাকুয়ারিয়ামটি যেদিন থেকে এখানে বসেছে সেদিন থেকেই লতা এটির দিকে তাকান, আশেপাশে কেউ না থাকলে এ্যাকুয়ারিয়ামের বাসিন্দাদের তিনি খাবার দেন। খাবারভর্তি কৌটোগুলো অবশ্য এর ওপরেই রাখা থাকে। দু’টো বড় বড় কৈ মাছ, দু’টো কচ্ছপ, বিঘতখানেক লম্বা একটি পাঙ্গাস মাছ এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। তবে কিছু দিন পর পর বাজার থেকে আনা যে কোনো তাজা মাছই এই স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগ দেয়, পরদিন কিংবা তারপর দিন সেটা মরে গিয়ে ফুলেটুলে ঢোল হয়ে ওঠা অবধি নতুন মাছটিকে এই পুরোনো বাসিন্দারা নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুই তার জন্য যেন নির্ধারিত ছিল, হয় তরকারীর কড়াইয়ে কিংবা এখানে, এই ঢাউস এ্যাকুয়ারিয়ামে। কোথাওই হয়তো এই ক্ষুদ্র ও বেঁচে থাকা মাছেদের জায়গা হয় না। লতা ভাবেন। কিন্তু লতা আশ্চর্য হন অন্য কারণে, লক্ষ্য করে দেখেন যে, একটি কই মাছের লেজটা ক্রমশঃ ছোট হয়ে যাচ্ছে, একটুক্ষণ তাকিয়ে দেখেন যে, একটি কচ্ছপ সুযোগ পেলেই একটি কৈ মাছের লেজের দিকটায় কামড় বসাচ্ছে। কৈ মাছটা যেদিকে কচ্ছপটি থাকে সেদিকে যাচ্ছে না, কিন্তু কিছুক্ষণ পর কচ্ছপটি নিজেই এসে কৈ মাছের পেছন থেকে কামড় দেয়। লতা বুঝতে পারেন যে, কী ভাবে কৈ মাছটি তার লেজ হারাচ্ছে। এটা দু’একদিন আগের কথা। একটুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখে লতা লিফট ধরে নীচে নামেন। কিন্তু নামতে নামতেই তার ভেতরটা কেমন করে ওঠে, নিজের জীবনের সঙ্গে কি তিনি মিল পান কিছু কৈ মাছটার? (সম্পূর্ণ…)

এক ফালি চাঁদ কিংবা এক টুকরো কেকের গল্প

মাহবুবুল হক শাকিল | ২৬ নভেম্বর ২০১৬ ৯:৫২ অপরাহ্ন

Shakil-storyমেয়েটা ঘুমিয়েছে কিছুক্ষণ আগে। এখনো তার কপালে জলপট্টি। দুপুরে অনেক কষ্ট করে খাওয়াতে পেরেছে জাউভাত আর ডিমের ঝোল। কাল সকাল থেকেই মেয়েটার জ্বর। সন্ধ্যার পর থেকে শরীর গনগনে কাঠকয়লার আগুনের মতো গরম ছিল। সারা রাত সে মেয়ের শিয়রে। জ্বরের ঘোরে মেয়েটা কতই না আবোল-তাবোল বকেছে। সে শুধু তার জানা কয়েকটি সূরা বারবার পড়েছে আর মেয়ের বাবাকে কিছুক্ষণ পর পর অভিশাপ দিয়েছে। মেয়েটা জ্বরের ঘোরে কতকিছু খাওয়ার আবদার করেছে। একবার বলে পোলাও-কোরমা খাবে তো আবার বলে উঠে, মা, আইসক্রিম খাব। গতকাল দুপুরের রান্না করা ভাত আর ঘন মুসুরের ডাল ছিল ঘরে। মেয়ের মুখে দু লোকমা দেওয়ার পরেই সে বমি করে দেয়। তারপর শুধু চিনি গোলানো পানি। লেবুও ছিল না ঘরে, শরবত করে দেওয়ার মতো। ভোরের দিকে জ্বর কিছুটা কমার পর মা আর মেয়ে দুজনেই ঘুমায়। ঘুমের ভেতরে সে স্বপ্ন দেখে, সুখকর কিছু নয়, তার জীবনের প্রতিটি দিনের মতো সেইসব স্বপ্ন শুধুই দুঃস্বপ্নের গল্প নিয়ে আসে।
সকালে সে মেয়েকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল। মগবাজার রেললাইনের পাশে তাদের বস্তির কাছেই বাজার। সেই বাজারের একমাত্র ফার্মেসিতে ডাক্তার বসে। লোকটার মুখ, কুঁচকানো ভুরু আর ঠোঁটে অনবরত জ্বলতে থাকা সিগারেট দেখে মনে হয় সে সমস্ত জগত-সংসারের প্রতি কোনো কারণে ভীষণ বিরক্ত হয়ে আছে। প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়েই সে বাচ্চাটিকে দেখে। তারপর নাম আর বয়স জিজ্ঞেস করে প্রেসক্রিপশন লেখে।
এই ওষুধগুলা খাইতে থাকুক। তিন দিন পর আবার নিয়া আসবা। রক্ত পরীক্ষা করতে অইবো। তারপর বুঝা যাইবো ডেঙ্গু না টাইফয়েড।
তার বুকটা ধড়াস করে কেঁপে ওঠে। সে শুনেছে ডেঙ্গু হলে নাকি অনেক সময় মানুষ বাঁচে না। এক অজানা শংকায় হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে সে। তার কান্নায় ডাক্তারের মুখের বিরক্তির পর্দা অনেকটা সরে যায়।
আরে! ভোদাইয়ের মতো কান্দো ক্যান? আমি কি কইছি নাকি যে ডেঙ্গু অইসে? রক্ত পরীক্ষা করলে কইতে পারুম। অহন ওষুধগুলা নিয়ম কইরা খাওয়াইয়া যাও আর ভালামন্দ খাওন দেও। দেইখ্যা তো মনে অয় শইলে রক্ত নাই। হের বাপে কৈ? (সম্পূর্ণ…)

আসমানী যানবাহন সম্পর্কিত মসজিদের বিজ্ঞপ্তি

আফসান চৌধুরী | ২২ অক্টোবর ২০১৬ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

মগবাজার বেগুনবাড়ী মসজিদের অন্যতম প্রধান আলেম জানাইতেছেন যে গভীর রাতে আকাশে চলাচলকারী যানবাহনের দিকে গুলি, ঢিল, পাথর নিক্ষেপ করা ঠিক না যেহেতু এদের মধ্যে কিছু কিছু রুহ বহনকারী যানবাহন থাকতে পারে। তিনি আরও জানান যে মগবাজার বেগুন বাড়ী খালের কাছে বেশ কিছু জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে যাতে নতুন একটি গোরস্থান নির্মান করা যায় মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য।

১. মগবাজার
গোটা এলাকা জুড়ে অস্ত্র উদ্ধার চালানোর কালে যাদের সন্দেহ হয় তাদের বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের প্রহার করা হয় এবং এতে অনেকেই স্বীকারোক্তি দেয় অস্ত্রের ব্যাপারে। অবশ্য যাদের কাছে কিছু পাওয়া যায়নি তাদের সাথে করমর্দন ও যৌথভাবে জিন্দাবাদ ধ্বনি দেওয়া হয়। যাদের মুখে বন্দুক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারা চোয়াল নাড়াতে না পারায় বিভিন্ন আওয়াজ ও অঙ্গভঙ্গি করে তাদের সমর্থন জানায় এই কার্যক্রমের প্রতি।

২. গভীর রাতে আকাশে
প্রহারের পর আর নিদ্রা যাওয়া কঠিন হাওয়ায় সে ছাদে যায় হাওয়া খেতে এবং দেখে তার মাতামহ হুইল চেয়ারটিতে পড়ে আছে। কয়েকজন সেই ভাঙা বাহনটি সরানোর চেষ্টা করছে। কাছে গেলে তারা জানায় যে যখন তার উপরে প্রহার চলছিল তখন তার নানা মারা যায় এবং তারা ওনাকে নিতে এসেছেন আসমানে। কিন্তু যেহেতু তিনি একজন দেহভারী মানুষ তাই তারা উড়তে গিয়ে চেয়ারটির সাথে কর্নিসের ধাক্কা লাগায়। তাই তারা হুইল চেয়ারটি এখানেই সারিয়ে নিচ্ছেন যাতে যদি এটি উপরে গিয়ে দরকার হলে ব্যবহার করা যায়। তার নানার মৃত্যুতে তার কষ্ট নয় স্বস্তি হলো যেহেতু তিনি অনেক দিন ধরে ভুগছিলেন কিন্তু মরছিলেন না। তার চেহারা বেশ মৃত মৃত বলে ঠাহর হলো তার। একসময় কাজ শেষ হলে তারা তার নানা উপবিষ্ঠ হুইল চেয়ারটিসহ বাড়ীর চারদিকে, যেটি তিনি একসময় নিজেই নির্মাণ করেছিলেন, কয়েক বার ঘুরপাক খেয়ে আকাশে মিলিয়ে যায়। মনে হলো প্রস্থানকালে মৃধু হেসে নানা তার দিকে হাত নেড়ে বিদায় জানালেন আকাশ থেকেই। (সম্পূর্ণ…)

মায়াবতী

শারমিন শামস্ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

Anondo(বহুকাল আগে হারিয়ে যাওয়া সিমিকে ভেবে…)
মায়াবতীকে তাদের বাড়ির কাছাকাছি নামিয়ে দিয়ে রিকশা ঘুরিয়ে আমি চলে এসেছিলাম। তারপর সারারাত তার সাথে আমার আর কোন কথা হয়নি ফোনে। সকালে জানলাম, মায়াবতী আত্মহত্যা করেছে। বন্ধু হুমায়ূন ফোন করে খবরটা আমাকে দিল। আরো বললো, দোস্ত, একটু সাবধানে থাক। তোরে নিয়ে টানাহ্যাঁচরা করবো পুলিশ।
হুমায়ূনের কথা সঠিক। পুলিশ আমাকে নিয়ে যথেষ্ট টানাহ্যাঁচরা করলো। তিনবার থানায় ডেকে পাঠালো। একেক বার দশ থেকে পনেরো ঘণ্টা বসিয়ে রেখে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে আমাকে এমন পর্যায়ে নিতে চাইলো, আর একটু হলেই আমি বদ্ধ উন্মাদ হয়ে বলতাম, সব দোষ আমার। মায়াবতীর মৃত্যু, তার আত্মহত্যা, তার অপমান, তার বেদনা, বিমর্ষতার সব দায় এই আমি, মোহম্মদ রাকিবুল ইসলাম, এই আমি মাথা পেতে নিলাম।
কপাল ভালো, এরকম কিছু ঘটলো না। কেস পরিস্কার। পাড়ার মোড়ে প্রতিদিন যে ছেলেগুলি জোট পাকিয়ে মায়াবতীকে যথেচ্ছ অপমান করতো, তাদের উপর খেপে গিয়ে সেদিন ঘুরে দাঁড়িয়ে তর্ক ঝগড়া করেছে মায়াবতী। তারপর সেই ছেলের দল বাড়ি এসে শাসিয়ে গেছে মায়াবতী আর তার বাড়ির লোকদের। বলেছে, তারা তাকে কাপড় খুলে ন্যাংটো করে পুরো পাড়ায় চক্কর দেয়াবে। বাপ মা ভাইয়ের সামনে তারে ধর্ষণ করে এই বাড়িতে বসেই পোলাও মাংস খেয়ে পার্টি করবে- এরকম অজস্র হুমকি দিয়ে বীরদর্পে বেরিয়ে গেছে ছেলের দল। (সম্পূর্ণ…)

পৃথিবীর ছায়া

দীপেন ভট্টাচার্য | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৬:৫৮ অপরাহ্ন

১.
সে অনেক দিন আগের কথা। বছর ত্রিশ তো হবেই। আমরা থাকতাম ময়মনসিংহ শহরের আমলাপাড়া এলাকায়, তখ্নও সেই শহরে কিছু বাংলো বাড়ি অবশিষ্ট ছিল, তাদের সামনে ছিল মাঠ, পেছনে বাগান, বড় আঙ্গিনা বা পুকুর। আমরা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম সে বাড়িটা ছিল দোতলা, পুরনো জমিদার বাড়ি, সামনে প্রায় বিঘাখানেক ফাঁকা জমি। ঐ শহরে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাটবাড়ির ধারণা তখনও আসেনি, কিন্তু আমাদের বাড়িতে তিনটে পরিবার ভাড়া থাকত। ওপরে একটি, নিচে দুটি। বাড়িওয়ালা এমনভাবে নিচের তলাটি ভাগ করে দিয়েছিলেন যাতে অন্য অংশটির ভাড়াটেদের দেখা না যায়। বাড়ির সামনে একদিকে একটা বড় আম গাছ, অন্যদিকে গাঁদা আর জবার ছোট বাগান। তারকানাথ রায় রোড থেকে শুরু করে ঘাসের মধ্যে দিয়ে পায়ে চলা পথটা একটা ছোট সিঁড়ির তিন চারটা ধাপ বেয়ে উঠে এসেছে নিচু বারান্দায়। সেই সিঁড়ির এক একপাশে তিনটে করে জমিদারি কায়দার স্তম্ভ, স্তম্ভের ওপরের চার কোনায় উদ্ভিদ ও ফুলের কারুকাজ। বারান্দাটা পেরিয়ে একটা বড় প্রশস্ত সিঁড়ি উঠে গিয়েছিল, সেটা একটা ল্যান্ডিং পৌঁছে পুরো ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে দোতলায়, তারপর আবার একেবারে তেতলার ছাদে। বাড়ির পেছনে একটা ছোট আঙিনা, লিচু, নিম, কাঁঠাল এরকম কিছু গাছ ছিল। গ্রীষ্মের সবচেয়ে তপ্ত দিনেও ঘন ছায়া ঘেরা থাকত সেই আঙিনা। বাইরের মাঠে খেলতাম ব্যাডমিনটন, ভেতরের আঙিনায় লুকোচুরি।

Dipen-2বারান্দায় উঠে ডানদিকে গেলে বাঁদিকে পড়বে আমাদের বাসা। আমার নাম অমল। আমি যে দুবছরের কথা বলছি তখন আমার বয়স নয়/দশ হবে। পড়তাম মৃত্যুঞ্জয় স্কুলে, ক্লাস ফ্লাইভ আর পরে সিক্সে। আর আমার বড় ভাই বিমলদাদা পড়ত আনন্দমোহন কলেজে। সে তখন লায়েক, বাসায়ই থাকত না বেশীরভাগ সময়। আর আমাদের সবচেয়ে যে বড়, সে হল কমলাদিদি, সে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ত, রোকেয়া হলে থাকত। এছাড়া বাসায় আমার মা ও বাবা। বাবা তখন জেলা আদালতে ওকালতি করতেন আর মা বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াতেন। দেশভাগ হলে আমাদের মাসী-পিসী কাকা-মামা গুষ্ঠিশুদ্ধ কলকাতা চলে গিয়েছিল। আমার মাতামহ ও পিতামহ রয়ে গিয়েছিলেন, নিজের দেশে নতুনভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে তাদের বেগ পেতে হয়েছিল। দেশের নানান টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে তাঁদের সন্তানরা যে যেমনভাবে পারে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিল। (সম্পূর্ণ…)

জবানা ও নেতার গল্প

ফয়সাল আহমেদ | ১৬ আগস্ট ২০১৬ ৭:০১ অপরাহ্ন

mojibমুন্সি বাড়ির পুকুর পাড়ের ঠিক দক্ষিণ দিকে অনেকগুলো চেয়ার, বেতের তৈরি মোড়া ও লম্বা কাঠের টুল পাতা হয়েছে। পুকুরের এদিকটায় গাছের সংখ্যা বেশি থাকায় বেশখানিকটা জায়গাজুরে ছায়া পড়েছে। সে কারণে এখানেই বসার আয়োজন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, পর্দানী বাড়ির বড়পর্দানী, পূর্বপাড়া যুব কল্যাণ সমিতির সভাপতি, মুন্সি বাড়ির ছোটমিয়া, ভূইয়া বাড়ির বড় ভূইয়াসহ সবাই এসেছেন। বলতে গেলে এলাকার গণ্যমান্য কেউ বাদ যায়নি, যিনি এখানে আসেননি। জয়বাংলা বাজারের দোকানীরাও এসেছেন দলবেঁধে। ঘটনা যেহেতু ওখানেই ঘটেছে তাই বিষয়টি নিয়ে তাদের আগ্রহও অধিক। ঘটনার সাথে জড়িত দুই পক্ষও হাজির। তারপরও আলোচনা শুরু করা যাচ্ছেনা। যার জন্য সবার এই অপেক্ষা তিনি আব্দুল হালিম, তবে এলাকায় ছেলে-বুড়ো সবার কাছে জবানা মামু নামেই পরিচিত। ঘটনাচক্রে আজকের সালিশের একমাত্র সাক্ষী তিনি। বিচারের রায় কি হবে তা এই মুহূর্তে বলতে না পারলেও, এটি যে হবে জবানার কথার উপর ভিত্তি করে তা একরকম নিশ্চিত করেই বলে দেয়া যায়।
সত্য বলা মানুষ হিশেবে জবানার আলাদা একটা সুনাম আছে। যদিও সে একটু ভিন্ন প্রকৃতির খেয়লি মানুষ বলেই সবাই মনে করে। যুবক ছেলেদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাত কাটিয়ে দেওয়া, যাত্রা দলের সাথে দিনের পর দিন পার করা, মাইলের পর মাইল হেঁটে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা, নিজে অভাবি হলেও এলাকার কেউ সমস্যায় পড়লে তার পাশে দাঁড়ানো এসবই জবানার বৈশিষ্ট্য। ছেলেপুলেদের হৈ হৈ উল্লাসের মধ্য দিয়ে জবানা উপস্থিত। সবাই একটু নড়েচড়ে বসলেন। শুরু করলেন বড় ভূইয়া, কারণ তাকেই সবাই সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। প্রথমপক্ষ অভিযোগকারী তার অভিযোগ উত্থাপন করার সুযোগ পেয়ে বললেন- আমার কওনের কিছু নাই, জবানা মামুই আমার একমাত্র সাক্ষী তাইনেই সব কইবেন। দ্বিতীয়পক্ষ যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেও বললো- সভাপতি সাব আমারও কিছু বলার নাই, যা বলার জবানা মামুই বলবেন। স্বাভাবিকভাবেই এবার জবানার পালা। তবে সরাসরি জবানাকে বলার সুযোগ না দিয়ে মুন্সি বাড়ির ছোট মিয়া বললেন মামু আজকের এই দরবারের রায় আপনার উপর নির্ভর করছে, সুতরাং সত্য কথাই প্রত্যাশা করি আপনার নিকট। বিষয়টি মাথায় নিয়ে কথা বলবেন। (সম্পূর্ণ…)

ফেসবুক

শাকুর মজিদ | ১১ আগস্ট ২০১৬ ৭:০৩ অপরাহ্ন

facebookমজিদ সাহেব লেখার কথা বলে রাত জাগেন, কিন্তু লিখেন না কিছু। মাঝে মাঝে কিছু বই পড়েন। বেশির ভাগ সময় ল্যাপটপ আর ফোনে টেপাটিপিতে থাকেন। এখানে কী কী করেন, আমরা জানি না, তবে অনুমান- তাঁর কিছু ভক্ত আছে যারা তাঁর কোন লেখা পড়ে কি লিখলো সেসব তিনি পড়েন। এসব ভক্তদের মধ্যে কিছু তরুণীও আছেন, তাদের কথাকে বিশেষ গুরুত্ব তিনি দিয়েও থাকেন।
তাঁর লেখার বিষয় প্রত্নতত্ত্ব। ইদানিং তিনি প্রথম মানব নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন, সবই ইন্টারনেট ঘেটে। গুহামানব আগে না এডাম আগে, এটা নিয়ে লেখা। সেখান থেকে কোট করে তিনি কিছু স্ট্যাটাসও দিয়েছেন । অসংখ্য শেয়ার হয়েছে স্ট্যাটাসের। কমেন্টের পর কমেন্টে ভরে যাচ্ছে তাঁর ফেসবুক ওয়াল। দুইজন ফেসবুক ফ্রেন্ড তাঁর একটা কথা নিয়ে কমেন্ট বক্সে ক্রমাগত বিতর্ক করে যাচ্ছে। মজিদ সাহেবের খুব মজা।

ঘরে তাঁর বিদুষী স্ত্রী। বিকেলবেলা অফিস থেকে ফিরে রান্না-বাড়া-খাওয়া-দাওয়া শেষে করে টিভির দিকে হা করে তাকিয়ে থাকেন, যতক্ষণ না স্টার জলসায় চেঁচামেচি শেষ হয়। এই অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য লেখক পাশের ঘরে বই-খাতা-ল্যাপটপ নিয়ে বসেন। লেখকের স্মার্টফোনে হাত চলে ভালো। তিনি বসে বসে ল্যাপটপে আঙুল চালানোর জন্য সেলফোন নিয়ে শুয়ে শুয়ে টিভি শোনেন, আর ফোনে গুঁতাগুঁতি করেন। বিষয়টি লেখকপত্নির একেবারে অপছন্দের। কিন্তু লেখকের কপাল বারাক ওবামার চেয়ে ভালো, মিশেলের মতো তাঁর স্ত্রী এখনো এসে তাঁর ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়নি।

একদিন রাত সাড়ে বারোটায় লেখক তাঁর ফোন টেপার ঘরের জানালার পাশে বসে আছেন। বাইরে ঝিরঝিরে শব্দ। বৃষ্টি হচ্ছে বোধ হয়। জানালার কাঁচ সরিয়ে তিনি নিশ্চিত হলেন। হঠাৎ তাঁর মনে হলো, ছোটবেলার এক ঝড়ের রাতের কাহিনী লিখবেন। রাতে ঝড় এলে তাঁর দাদা আজান দিতেন আর তাকে চৌকির তলায় ঢুকিয়ে দেয়া হতো। ঝড় না থামা পর্যন্ত চৌকি থেকে বেরোনো যেতো না।
তিনি ল্যাপটপ বন্ধ করলেন, ফোন সরিয়ে রাখলেন। লেখার খাতা বের করে দেখেন অনেক ধুলো জমে আছে। (সম্পূর্ণ…)

অন্ধ হয়ে যাওয়ার রাতটি

অলাত এহ্সান | ২৩ জুলাই ২০১৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন

Alatঅন্ধ অনেক রকমই হয়। এর মধ্যে যাদের দৃষ্টি ক্ষমতাটুকু নেই তাদেরই কেবল সবাই দেখতে পায়। কিন্তু আমার এক জোড়া চোখ আছে। তা ঘুরিয়ে চারপাশের সবকিছু দেখি। দেখতে দেখতে আবার অনেককিছু বদলেও যায়। তারপরও আমি নিজেকে কেন অন্ধ বলছি, তা কারোর বোঝার কথা নয়। বুঝতে হলে আমাকে সেই রাতের ঘটনাটি বলতে হবে, যখন মেয়েটির শরীর থেকে অজস্র বিচ্ছু তৈরি হয়েছিল এবং একটি বিচ্ছু আমার দ্বিতীয় চোখটিও নষ্ট করে দিল। আমার সারাজীবনে সেটা একটা ঘটনা যার ছায়া আজও বয়ে বেড়াতে হয়। অন্ধত্ব তো এমনই, মানুষ একবার হয় আর বাকি জীবন হাতড়ে বেড়ায়।
সে রাতে বাসে উঠার পরই আমার মনে হয়েছিল—বাসটা আমাকে ঠিক জায়গায় নিয়ে যাবে তো? কেন যেন সেদিন সকাল থেকে আমার ভেতর প্রচণ্ড উৎকণ্ঠা হানা দিয়েছিল। যেন কিছু একটা হতে যাচ্ছে, কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না। আসলে প্রকৃতির সবকিছুই আগাম জানিয়ে আসে। মানুষ তার যতটুকু আলামত বুঝতে পারে, সেটাই তার অর্জন। এপাশ-ওপাশ কোনো রকম ভাবাভাবি ছাড়াই আমি তরতর করে বাসে দোতালায় উঠে গেলাম। যদিও কেউ দাঁড়িয়ে ছিল না, কিন্তু সব সিট প্রায় দখল হয়ে গেছে। যাত্রীরা বসে আছে এক-একটা কাঠের পুতুলের মতো—সোজা আর আড়ষ্টভাবে। অশেষ কৃপা যে মাঝখানে মাত্র একটা সিট ফাঁকা ছিল। তা খুঁজে পেতে আমাকে বিশেষ বেগ পেতে হলো না। সামনের সিটে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইলাম ড্রাইভারের হাতে নিজেকে সপে—সে নিশ্চয়ই গন্তব্যে পৌঁছে দিবে। প্রচণ্ড ঝালে হাঁপানোর মতো দম ছাড়ছিলাম-নিচ্ছিলাম। পাশের যাত্রীকে মনে হলো নিকটতম সুদূরের বাসিন্দা। (সম্পূর্ণ…)

এশাহাক মণ্ডল এবং তাঁর আব্বার সাথে গল্প

আশরাফ জুয়েল | ১৬ জুন ২০১৬ ৫:২২ অপরাহ্ন

বাবা নিয়ে আমার স্মৃতি সদ্য টাইফয়েড রোগ থেকে সেরে ওঠা রোগীদের মতোই দুর্বল। চেরাগের আলোয় খুঁজে দেখতে গেলে কিছু একটা রেটিনা বরাবর স্থির হতেই চেরাগ নিজেকে নিভিয়ে ফ্যালে। কেন? জানি না। তারপর সেই স্মৃতি হাতড়াতে থাকা নিউরনগুলো মাথা ঘুরে পড়ে যায় আকাশ খুঁজে না পাওয়া ঘুড়ির মতো।
ঘুড়ির কথা যখন এসেই গ্যালো, তাহলে ঘুড়ি থেকেই আরম্ভ করা যাক – আমি তখন ক্লাস থ্রি-র দাঁত মেজে চলেছি। আমরা থাকি মণ্ডমালা নামের লাল মাটির ফাঁকা, ছিমছাম একটা গ্রামে। গ্রামটা দেখতে হঠাৎ বড় হয়ে ওঠা ফ্রক দিয়ে হাফপ্যান্ট ঢাকা কিশোরীর মতো। লোভ জাগানিয়া। খেলাধুলা বলতে ছোঁয়াছুঁয়ি, অবাধ পুকুরে চোখলাল করা সাঁতার এবং সাঁতারে পারদর্শী হবার জন্য পানি পোকা আর ছোট্ট জ্যান্ত চিংড়ি গিলে ফেলা।
images.jpgঘুড়ি প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। এর আগে পরিষ্কার করে দেয়া ভালো যে আমরা বাবাকে বাবা বলতাম না। বলতাম আব্বা বলে। আরেকটা কথা, আমার সন্তানেরা কিন্তু আমাকে আব্বা বলে না। ওরা আমাকে বলে বাবা। তো ঘুড়ি ওড়ানোর কৌশল রপ্ত করতে আমি তখন মহা ব্যস্ত। সুতো, নাটাই, ঘুড়ি, আকাশ প্রস্তুত কিন্তু ঘুড়ি আর ওড়ে না। আমি নাটাই হাতে কিছু দুরে, আমার সহযোদ্ধা আকতারি প্রস্তুত – আকাশ একটু নড়ে চড়ে উঠলেই আকতারি ঘুড়িটাকে ধাক্কা মারত আকাশের দিকে, আমি উল্টো দিকে দেই ভৌ দৌড়। কিন্তু ঘুড়িটা আমার আর আমার সহযোদ্ধা আকতারির দিকে ভ্রুকুটি মেরে একটা হাসি দিয়ে নীচে নেমে আসতো। এভাবে ঘুড়ি ওড়ানোর তোড়জোড় ধিমিয়ে আসার আগেই একদিন বাবা, না না আব্বা হাল ধরলেন। আমাকে ডেকে বললেন, ‘ব্যাটা ঘুড়ি ওড়াতে গেলে মনের ভেতর পাখা লাগাতে হবে, বুঝেছ?’ এমনিতেই আব্বা আমাকে তুই করেই ডাকতেন। বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে তুমি বলতেন। আব্বার কথাটা আমি কিন্তু ধরতে পারিনি সেদিন। যাই হোক আব্বা একদিনেই আমাকে ঘুড়ি ওড়ানোর কৌশল শিখিয়ে দিলেন। সম্ভবত মনের ভেতর পাখা লাগানোর কৌশলও। আমি কিন্তু আব্বাকে আপনি করেই ডাকি। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো আমার সন্তানেরা আমাকে তুমি বলে, আমিও তাদের ডাকি তুমি বলে। মাঝে মাঝে ব্যত্যয় ঘটে। আমি রেগে গেলে আমার সন্তানদের তুই বলি হটাৎ হঠাৎ।আমার ছেলে ইদানীং মাঝে মাঝে আমাকে ডাকে, হেই ম্যান! (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com