তত্ত্ব

স্টিফেন হকিং: ‘ব্ল্যাক হোল থেকেও পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে’

অরণি সেমন্তি খান | ১৭ জুন ২০১৬ ৯:৩৩ অপরাহ্ন

s-h.jpgপদার্থবিজ্ঞানের জীবন্ত কিংবদন্তী স্টিফেন হকিং মহাবিশ্ব, ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব এবং এদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে দিয়েছিলেন ‘রেইথ লেকচার’। বিবিসি’র রেডিও ফোর’কে গত বছর দেয়া এ বক্তৃতার অনুলিপি এ বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে প্রকাশ করে বিবিসি। দুই খন্ডের সেই অনুলিপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য অনুবাদ করেছেন অরণি সেমন্তি খান।

রেইথ লেকচার: ১

আমার বক্তৃতা ব্ল্যাক হোল নিয়ে। কথায় আছে, কিছু সত্য কল্পনার চেয়েও অদ্ভুত। আর এই কথাটি ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রেই মানানসই।
যদিও ব্ল্যাক হোলের ধারণাটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকেও আশ্চর্যজনক, এটি দৃঢ়ভাবে বৈজ্ঞানিক। নক্ষত্র নিজেদের মহাকর্ষের বলে নিজেরাই সংকুচিত হয় এবং এর ফলে সৃষ্ট বস্তুটির প্রকৃতি কেমন হবে, এই বিষয়টি বৈজ্ঞানিক সমাজ উপলব্ধি করতে অনেক সময় নিয়েছে।
১৯৩৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আলবার্ট আইনস্টাইন দাবি করেন – যেহেতু পদার্থ একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে সংকুচিত করা যায় না, তাই নক্ষত্র নিজ মহাকর্ষ বলে সংকুচিত হতে পারে না। বহু বিজ্ঞানী তাঁর এই কথায় একমত হয়েছিলেন।
তবে একজন আমেরিকান বিজ্ঞানী সেই দলে ছিলেন না এবং তাকেই বলা যায় ব্ল্যাক হোল গল্পের পথিকৃৎ । ৫০ এবং ৬০ এর দশকে তাঁর গবেষণার কাজে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন নক্ষত্রের সংকোচন এবং এ সংক্রান্ত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সমস্যাগুলোর উপর। এছাড়াও তিনি নক্ষত্রের সংকোচনের ফলে সৃষ্ট ব্ল্যাক হোলের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পোষণ করেছিলেন।
একটি সাধারণ নক্ষত্র তার সহস্র বছরের জীবনকালে তাপীয় বহির্মুখী চাপের সহায়তায় নিজের মহাকর্ষের বিপরীতে নিজেকে বজায় রাখে। এই চাপ উৎপন্ন হয় হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে রূপান্তর করার পারমাণবিক প্রক্রিয়ায়।
ধীরে ধীরে নক্ষত্রের এই জ্বালানী শেষ হয়ে যায়। তারপর সে সংকুচিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে নক্ষত্রটি একটি শ্বেত বামন হিসেবে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখে।
তবে ১৯৩০ সালে সুব্রামানিয়ান চন্দ্রশেখর দেখিয়েছিলেন, একটি শ্বেত বামনের সর্বোচ্চ ভর হতে পারে আমাদের সূর্যের ভরের ১.৪ গুন।
এছাড়াও একজন সোভিয়েত বিজ্ঞানী লেভ লান্দাউ নিউট্রন দ্বারা নির্মিত একটি নক্ষত্রের জন্য একই ধরণের সর্বোচ্চ ভরের সীমারেখা গণনা করেছিলেন।
তাহলে পারমাণবিক জ্বালানী শেষ হয়ে গেলে সেসব অসংখ্য নক্ষত্রের কি পরিণতি হবে, যাদের ভর শ্বেত বামন বা নিউট্রন নক্ষত্রের চাইতে অধিক?
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই গবেষণা করেছিলেন অ্যাটম বোমার জনক হিসেবে খ্যাত রবার্ট ওপেনহাইমার। জর্জ ভল্কফ এবং হার্টল্যান্ড স্নাইডারের সঙ্গে ১৯৩৯ সালের কিছু গবেষণাপত্র তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এমন একটি নক্ষত্র বহির্মুখী তাপীয় চাপ দিয়ে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারবে না। এই চাপ বাদ দিলে, একটি সুষম গোলীয় নক্ষত্র অসীম ঘনত্বের একটি বিন্দুতে সংকুচিত হয়। এই বিন্দুকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি। (সম্পূর্ণ…)

কেন কোনো কিছু না থাকার বদলে কিছু আছে?

অভিজিৎ রায় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ২:৪৪ অপরাহ্ন

কেন কোনো কিছু না থাকার বদলে কিছু আছে? (Why there is something rather than nothing?) – প্রথম কবে এ প্রশ্নটির মুখোমুখি হয়েছিলাম তা আজ মনে নেই। সম্ভবত: জঁ-পল সার্ত্রের(১৯০৫- ১৯৮০) অস্তিত্ববাদী দর্শন ‘বিয়িং এণ্ড নাথিংনেস’ কিংবা মার্টিন হাইডেগারের (১৮৮৯ -১৯৭৬) অধিপদার্থবিদ্যা বিষয়ক বই ‘ইন্ট্রোডাকশন টু মেটাফিজিক্স’ পড়তে গিয়ে। শেষোক্ত বইটির প্রথম লাইনটিই ছিল – ‘হোয়াই দেয়ার ইজ সামথিং র‌্যাদার দেন নাথিং?’। তারপর থেকে বহু বইয়ে, অসংখ্য জায়গাতেই এর উপস্থিতি টের পেয়েছি। দার্শনিক উইলিয়াম জেমস (১৮৪২ – ১৯১০) তার ‘সাম প্রবলেমস অব ফিলসফি’ গ্রন্থে এ প্রশ্নটিকে চিহ্নিত করেছিলেন ‘অন্ধকারতম দর্শন’ হিসেবে। জ্যোতির্পদার্থবিদ স্যার আর্থার বার্নার্ড লোভেল (১৯১৩ – ২০১২) একে দেখেছেন ‘ব্যক্তির মনকে ছিন্ন ভিন্ন করা’ প্রশ্ন হিসেবে। সত্যিই তো – এই যে বিশাল মহাবিশ্ব আর এই বস্তুজগৎ, এতো সবকিছুর বদলে যদি কিছুই না থাকতো – কীই বা ক্ষতি হতো? আর কেনই বা কোনো কিছু না থাকার বদলে এতো কিছু আছে? বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আমার পড়া এখন পর্যন্ত সর্বশেষ বই জিম জোল্টের ‘হোয়াই ডাস দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সিস্ট’ (২০১২) । সেখানে লেখক রসিকতা করে বলেছেন –‘সাইকিয়াট্রিক রোগীরা এই প্রশ্ন দিয়ে বরাবরই আচ্ছন্ন থাকে’! (সম্পূর্ণ…)

ন্যানো সাহিত্যতত্ত্ব: একটি ইশতেহার

রাজু আলাউদ্দিন | ২৫ নভেম্বর ২০১৩ ৩:০০ অপরাহ্ন

তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের বহু দিনের স্বপ্ন বস্তুজগতের তাবৎ রহস্যকে–প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলকে এক করে–একটি মাত্র তত্ত্বের সংকেতে (Grand Unification theory) প্রকাশ করা। স্বভাবসুলভ উচ্চাশায় ভর করে, বোর্হেস স্বপ্ন দেখতে গিয়ে বলেছিলেন, “কেমন হয় যদি সকল ভাষা, সকল অভিব্যক্তি, সমগ্র কবিতা কেবল একটি পংক্তিতে, বা এমনকি একটি মাত্র শব্দে সংকুচিত করা যায়?” (সম্পূর্ণ…)

সাহিত্য সমালোচনা ও সমালোচনা সাহিত্য

সেজান মাহমুদ | ৩০ জুন ২০১১ ১:০১ পূর্বাহ্ন


বাংলাদেশে সাহিত্য সমালোচনা বিষয়ক তর্ক-বিতর্ক বেশ তুঙ্গে। দৈনিকের সাহিত্য পাতার ফরমায়েশি লেখা, বয়োজ্যেষ্ঠ লেখকদের মননশীল ধারাভাষ্য থেকে শুরু করে প্রায়-আকাদেমীয় গবেষণাপত্রের মতো তথ্যনির্ভর পর্যালোচনা, আর আন্তর্জালে বা ইন্টারনেটে আসর গরম-করার মতো চুটকি আলোচনা সবই চলছে পুরোমাত্রায়। এই আলোচনা সমালোচনা যদি একটি যৌক্তিক ধারার দিকে যেতে বা চিন্তার মুক্তি ঘটাতে সাহায্য করে তাতে সাহিত্যের উপকার বই অপকার হবে না বলেই মনে হয়।

hahsrn.jpg……..
হাসান আজিজুল হক প্রসঙ্গে সেলিম রেজা নিউটনের পুনর্মুদ্রিত রচনা, ২০১০
…….
গত ২০০৭ সালে ২৯ জুন ও ২৩ জুলাই প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায় কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ‘সাহিত্য সমালোচনা কীভাবে সম্ভব” শিরোনামে দুই কিস্তির লেখা মুদ্রিত হয়েছিল।[] এর প্রেক্ষিতে সেলিম রেজা নিউটন-এর ‘চিন্তার সংকট সাহিত্যের স্বাধীনতা: মানুষের মুক্তি; প্রসঙ্গ হাসান আজিজুল হকের কার্তেসীয় পদ্ধতি এবং সাহিত্যে আত্নঘাতী বোমাবাজির প্রবণতা’ শিরোনামের এক দীর্ঘ লেখা প্রথম লিটল ম্যাগাজিন কাকতাড়ুয়ায় (২০০৮), পরে bdnews24.com-এর আর্টস বিভাগে পুনঃপ্রকাশিত হয় (২০১০)।[] দুটো লেখার ধরনের মধ্যে বিরাট ফারাক আছে; হাসান আজিজুল হক লিখেছিলেন একজন প্রাজ্ঞ সাহিত্যিকের সমালোচনা বিষয়ে ধারাভাষ্যের মতো করে, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে দর্শনশাস্ত্রে শিক্ষকতার প্রভাব অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন কিন্তু প্রত্যক্ষ প্রভাব রেখেছে তাঁর লেখক সত্তা; অন্যদিকে নিউটন নিজেও সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগের তরুণ শিক্ষক, তিনি দর্শনের পদ্ধতিগত ধারাকে ঠিক রেখে যুক্তির কাঠামো তৈরি করে যাচাই করে দেখতে চাইছেন কী আমাদের চিন্তার স্বরূপ, কী আমাদের গলতি আর তার মধ্য থেকে আমাদের নিজস্ব, স্বাধীন, চিন্তন ধারার সূচনা বা পরিস্ফূটন করা যায় কিনা (খুব সাধারণভাবে বললাম)।

srn11.jpg……..
সেলিম রেজা নিউটন
…….
প্রথমেই প্রশ্ন আসতে পারে একটি দৈনিক পত্রিকায় একজন প্রাজ্ঞ লেখকের অনেকটা ধারাভাষ্যের মতো লেখাকে পাল্টা একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণী, প্রায়-একাডেমিক লেখা দিয়ে আক্রমণ বা বিচার করা যথাযথ কি না? কেন এই প্রশ্ন? আমাদের সাহিত্য পাতায় কেউ গবেষণাপত্র লেখেন না, দর্শন বা সাহিত্য বিষয়ে তো নয়ই। এ কারণে হাসান আজিজুল হকের লেখার ধরন, যুক্তির কাঠামো অনেকটাই সাহিত্যের ক্লাসে মনোগ্রাহী বক্তৃতার মতো শোনালেও তাঁকে দোষ দেয়া যায় না। আগেই জানিয়ে রাখছি আমার এই লেখার উদ্দেশ্য কোনোভাবেই এই দুই লেখকের সমালোচনা করা নয়। বরং এই সূচিত আলোচনার মধ্য থেকে কোন একটি দিকে আমার বিশ্লেষণ ধাবিত করা, যা থেকে হয়তো কিছু একটা বের হয়ে আসতে পারে—যা কারো কাছে দরকারি মনে হতে পারে, অথবা ভবিষ্যতের কোনো আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।
(সম্পূর্ণ…)

ডেনিস ডাটনের বক্তৃতা

সৌন্দর্য ও ডারউইনের থিওরি

লুনা রুশদী | ২৯ জানুয়ারি ২০১১ ১:৫৩ পূর্বাহ্ন

dennis_dutton.jpg
…………
ডেনিস ডাটন (৯.২.১৯৪৪ – ২৮.১২.২০১০)
…………

[গত এক শতাব্দী ধরে শিল্প সমালোচকেরা বলে এসেছেন সামাজিক পরিবেশ শিল্পের রুচি গড়ে তোলে। ডাটন ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, শিল্প বিষয়ক রুচি, সেটা যে কোন শিল্প মাধ্যমই হোক না কেন, গঠিত হয়েছে বিবর্তনের মাধ্যমে, ডারউইনের থিওরি দিয়ে যার ব্যাখ্যা করা যায়। সৌন্দর্যের প্রতি আমাদের ভালোবাসা সহজাত। নান্দনিক অনেক ভালোলাগা সংস্কৃতি নির্ভর হয় না। যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে ডাটন দেখিয়েছেন ভাববাচক বা বিমূর্ত কোনো তত্ত্ব নয়, বরং বিবর্তন বিষয়ক উপলব্ধিই শিল্প সমালোচনার ভিত্তি। তাঁর মতে সৌন্দর্য, যে কোনো রকম আনন্দ ও দক্ষতা শিল্পমূল্যের অর্ন্তগত।—বি.স.]

অনুবাদ: লুনা রুশদী

আজ আমার প্রিয় একটা বিষয় নিয়ে কথা বলবো। নন্দনতত্ত্ব আমার পেশা। দার্শনিক, বৌদ্ধিক ও মনস্তাত্ত্বিক আঙ্গিক থেকে আমি সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতাকে বুঝতে চেষ্টা করি। এ বিষয়ে যুক্তিগতভাবে কী বলা যায়? বিষয়টা জটিল। তার একটা কারণ হলো এর পরিধি, ভেবে দেখেন, কত বিচিত্র কিছুকে আমরা সুন্দর বলি—একটা শিশুর মুখ, বার্লিওজের ‘হ্যারল্ড এন ইতালি’, উইজার্ড অফ ওজ-এর মতো সিনেমা, চেখভের নাটক, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য, হকুসাইয়ের আঁকা ‘মাউন্ট ফুজি’, ওর্য়াল্ড কাপ ফুটবলে একটা দারুণ গোল, ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’, জেন অস্টেনের উপন্যাস অথবা পর্দায় ফ্রেড এস্টেয়ারের নাচ। এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছে মানুষ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিল্প ও অন্যান্য মানবিক দক্ষতা। তালিকাভুক্ত সমস্ত কিছুর সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করা সহজ কাজ হবে না।

dd_4.jpg……
ডেনিস ডাটনের বই: দি আর্ট ইনস্টিংক্ট–বিউটি, প্লেজার অ্যান্ড হিউম্যান ইভ্যুলুশন
…….
তবে আমি, আমার জানা মতে আজ সৌন্দর্য বিষয়ক সবচেয়ে শক্তিশালী থিওরির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারি। এবং এ থিওরি কোন দার্শনিক বা পোস্টমডার্ন শিল্পের নামকরা কোন সমালোচকের কাছ থেকে আসেনি, এসেছে এক জাহাজীর কাছ থেকে, যিনি কেঁচো আর কবুতর পালতেন। এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনারা বুঝে গেছেন যে আমি চার্লস ডারউইনের কথা বলছি।

‘সৌন্দর্য’ কী? অনেকেই মনে করেন তাঁরা এই প্রশ্নের উত্তর জানেন। যেমন, ‘সৌন্দর্য থাকে যে দেখে তার দৃষ্টিতে’ অথবা ‘যা কিছুই আমাদের ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দেয়, তাই সুন্দর।’ অথবা কেউ কেউ, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবীরা বলে থাকেন ‘সৌন্দর্য থাকে যে দেখে তার সংস্কৃতি-নিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিতে।’ (সম্পূর্ণ…)

জ্যঁ ফ্রাসোয়া লিওতার

উত্তরাধুনিক অবস্থা*

আহমেদ জাভেদ চৌধুরী রনি | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ৬:৪৭ অপরাহ্ন

অনুবাদ : আহমেদ জাভেদ চৌধুরী রনি

আমার লেখার উদ্দেশ্য হলো সবচেয়ে উন্নত সমাজের জ্ঞানের অবস্থা পর্যালোচনা করা। ‘উত্তরাধুনিক’ কথাটা আমি ব্যবহার করবো অবস্থাটিকে ব্যাখ্যা করার জন্যে। শব্দটি মার্কিন মুল্লুকের সমাজবিজ্ঞানী ও সমালোচকরা lyotard.jpg……..
জ্যঁ ফ্রাসোয়া লিওতার (১৯২৪-১৯৯৮)
…….
আকছার ব্যবহার করেন। এটি ব্যবহার করা হয় আমাদের সংস্কৃতির সেসব পরিবর্তন বোঝাতে যেগুলো উনবিংশ শতাব্দির শেষভাগ থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পকলার মূল-নিয়ন্ত্রক সূত্রগুলো (Game rules) পাল্টে দিয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো এ-পরিবর্তনগুলোকে আখ্যান (Narratives) রচনার সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ করা।

বিজ্ঞানের সঙ্গে আখ্যানের সবসময়ই দ্বন্দ্ব চলছে। বিজ্ঞানের মাপকাঠি দিয়ে বিচার করলে অধিকাংশ আখ্যানই রূপকথায় পরিণত হবে। কিন্তু যখন বিজ্ঞান কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুনগুলো উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না-থেকে সত্যের খোঁজ করে, তখন নিজের নিয়ম-কানুনগুলোকে (game rules) সে বৈধতা দেয়ার বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে। ফলে তার অবস্থানকে বৈধতা দেয়ার জন্যে একটি প্রতর্কের (Discourse) জন্ম দেয় যার নাম ‘দর্শন’। ‘আধুনিক’ কথাটাকে আমি ব্যবহার করবো সেইসব বিজ্ঞানকে বোঝাতে, যারা অন্য একটা মেটাডিসকোর্স/‘বড়-গল্পে’র (Metadiscourse) মধ্যে দিয়ে নিজের অবস্থানকে বৈধতা দেয়। মেটাডিসকোর্সগুলো কোনো না কোনো ধরনের মহা-আখ্যানের (Grand Narrative) দোহাই দিয়ে এসব বিজ্ঞানের বৈধতায় মদদ দেয়। যেমন, দ্বান্দ্বিক-যুক্তিবাদ (Dialectics of Reason), শব্দার্থের তাফসীর (Hermeneutics of Meaning), যুক্তিবাদী কিংবা পেশাধারী প্রজার (Working Subject) মুক্তির স্বপ্ন অথবা সম্পদ-সৃষ্টির মহা-আখ্যানগুলোর দোহাই প্রায়ই দেয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোন বক্তব্য লেখার ক্ষেত্রে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে সত্যাসত্য নিয়ে ঐকমত্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন দুজনই যুক্তি-বুদ্ধি সম্পন্ন; এটি হলো একটি এনলাইটেনমেন্টের আখ্যান। যেখানে জ্ঞানের নায়ক কাজ করে একটি সু-নীতি ও সু-রাজনীতির পক্ষে, বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে। উল্লিখিত নমুনা থেকে সহজেই বোঝা যায়, এমন মহা-আখ্যান যদি ইতিহাস চিন্তায় আরোপিত হয়ে জ্ঞানকে জায়েয করার কাজ করে, তখন সামাজিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এগুলোকে অবশ্যই বৈধ হতে হবে। এভাবেই মহা-আখ্যানের কাছে সত্যের মতো ন্যায় বিচারও হাত-পা বাধা। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com