বইমেলা

বইমেলা ২০১৭: আলোকোজ্জ্বল একশ বইয়ের সন্ধানে…

আবদুর রাজ্জাক শিপন | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৭:২৮ অপরাহ্ন

BooksWhenever you read a good book, somewhere in the world a door opens to allow in more light. –Vera Nazarian

ভালো বই পৃথিবীর যে কোথাও আলোকোজ্জ্বল একটি দরজা খুলে দেয় । একুশের বইমেলা ২০১৭ তে, ফেব্রুয়ারির ২৫ পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩ হাজারের অধিক ! ৩ হাজার বইয়ের সবগুলো নিশ্চয় ভালো বই নয় । ৩ হাজার বইয়ের ভেতর আছে আলোকোজ্জ্বল কিছু বই ! সে সংখ্যা কত হবে, ১০০ শ’ ? ২০০ শ’? ৩ হাজার বইয়ের গাদা থেকে আলোকোজ্জ্বল সেই বইগুলোর সন্ধান কীভাবে পাওয়া সম্ভব ? পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেখে ? রিভিউ পড়ে ? পাঠকের মুখে শুনে ? সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকা দেখে ?

বিদ্যমান নিবন্ধে উত্তরগুলো খুঁজবো । তার আগে, শুদ্ধতম কবিখ্যাত রূপসী বাংলার জীবনানন্দ দাশের দিকে খানিক মুখ ফেরানো যাক । আমাদের এই লেখাতে প্রাসঙ্গিকভাবেই ভদ্রলোক এসে হাজির হয়েছেন । মৃত্যুর পূর্বে তাঁর রচিত ছোটগল্প ১০৮ টি । ২১টি উপন্যাস । জীবদ্দশাতে তিনি এই লেখাগুলোর একটিও ছাপার অক্ষরে আলোর মুখ দেখান নি । কবি হিসেবে ততোদিনে তিনি বেশ আলোচিত হচ্ছিলেন যদিও। পাঠক কী একটু অবাক হচ্ছেন ? বর্তমান সময়ের যশঃপ্রার্থী লেখকের সঙ্গে মিলিয়ে ? কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক, প্রকাশকাল ১৯২৭ । দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ধূসর পাণ্ডুলিপি, ১৯৩৬ । প্রথমটির সঙ্গে ব্যবধান ৯ বছর । ততোদিনে নিজের ভেতর নিজেকে কবি ঝালিয়েছেন, একটু একটু করে ঝালিয়ে নিয়েছেন । পরিপক্ক করেছেন নিজেকে । তারও ৬ বছর পর প্রকাশিত হয় তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বনলতা সেন’ ! বাংলা কবিতা পাঠকমাত্রই বনলতাসেনের কথা জানেন । (সম্পূর্ণ…)

আমাদের বইমেলা ও কিছু প্রশ্ন

আনিসুর রহমান | ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ ৫:৫৮ অপরাহ্ন

Shishu+Prohor-book+fair-05022016-17প্রতিবছর নিয়মিতভাবে একুশে গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হবার বয়স তিন দশকের উপরে। প্রতিবছরই এই বইমেলা ঘিরে একই ধরণের গৎবাঁধা অনুষ্ঠানমালা। নেই তেমন কোন সংযোজন, নেই কোনো পরিমার্জন। শুধু আমরা সংখ্যায় বাড়িয়েছি স্টলের সংখ্যা, বইয়ের সংখ্যা, গায়ে গতরে মেলা বেড়ে বেড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে ভালো। আর ভেতরের চিত্র প্রকাশকরা নিজ নিজ স্টল সাজিয়ে বসবেন-পাঠক আর ক্রেতারা আসবেন, বই কিনবেন জনপ্রিয় লেখকরা স্টলে বসে বিরামহীন অটোগ্রাফ দিয়ে যাবেন। আর অজনপ্রিয় লেখকরা চেয়ে চেয়ে দেখবেন।
আর নজরুল মঞ্চে রিলিফের ভিড়ের মতো জনস্রোত ঠেলে কেউ একটু নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন। এইতো আমাদের বইমেলার মোটা দাগের চিত্র। আমি যত বছর ধরে ঢাকা শহরকে চিনি ঠিক একই সময় যাবৎ আমি আমাদের অমর একুশে বই মেলাকেও জানি। এই জানার দুই দশকের অধিককাল সময় ধরে কয়েকটি প্রশ্ন নানাভাবে ঘুরে ফিরে আসে। কিন্তু প্রশ্নগুলো নিয়ে খোলামেলা কোনো আলোচনা বা কার্যকর বিতর্ক আমি কোথাও লক্ষ করিনি। প্রশ্নগুলো যদি লিখি তাহলে মোটামুটি এমন দাঁড়ায়:
১। বই তেমন বিক্রি হয় না কেন? (প্রকাশকরা লেখকদেরকে এরকমই বলে থাকেন বলেই এই প্রশ্নটা এলো।)
২। বিক্রি না হলেও প্রকাশকরা বই বের করেন কেন? তারপর প্রকাশনা ব্যবসার টিকে থাকেন কিভাবে? (সম্পূর্ণ…)

গ্রন্থমেলা ২০১৬ : নির্বাচিত বই

অলাত এহ্সান | ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ন

13_bookfair_29022016_08.jpgফাল্গুনে শুরু হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। শেষ হয় বসন্তের যৌবনে পা রেখে। গত কয়েক বছরে মেলার পরিধি বেড়েছে। বেড়েছে মেলাকেন্দ্রিক বই প্রকাশের উৎসাহ। মাত্র একমাসে প্রতিবছর প্রায় চার হাজার বই প্রকাশ হচ্ছে। এর বিরাট অংশই তরুণ লেখকদের বই। বিপুল সংখ্যক বই প্রকাশের কারণে তার মান কতটুকু বজায় রাখা সম্ভব হয়, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। মেলা উপলক্ষেএ পর্যন্ত প্রকাশিত বইগুলোর একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা বইয়ের নাম, লেখক, প্রকাশক ও গায়ের মূল্য উল্লেখসহ আলাদা আলাদা বিভাগে উপস্থাপন করা হলো। তালিকাটি প্রস্তুত করেছেন গল্পলেখক অলাত এহসান। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথের জমিদারগিরি: রবীন্দ্রজীবনের তথ্য ও সত্য

মুহিত হাসান | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৬:১২ অপরাহ্ন

jamidargiri.jpgরবীন্দ্রনাথ বিষয়ে বছরে বছরে বাংলা ভাষায় মোট কয়টি বই প্রকাশিত হয়, সেই হিসাব পাওয়া দুষ্কর। তবে সেসবের মধ্যে মানসম্পন্ন কিংবা ভিন্নতাবাহী বইয়ের সংখ্যা নেহাতই কম― এমন ধারণা কষ্টকল্পিত নয়। তাই রবীন্দ্র-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যতিক্রমী বই পাঠান্তে একইসঙ্গে সমৃদ্ধ ও শাণিত হই। তৃপ্তির সঙ্গে তেমনই একটি বই পড়া গেল সম্প্রতি, কুলদা রায় ও এম আর জালালের লেখা রবীন্দ্রনাথের জমিদারগিরি। নামটি সাদামাটা, কিন্তু বইয়ের ভেতরের মালমশলা মোটেও সেরকম নয়―বরং এই বইয়ের উদ্দেশ্য রবীন্দ্রনাথের জীবনপ্রবাহের নানান ঘটনাকে তথ্য ও সত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে পাঠকের সামনে স্বচ্ছরূপে তুলে ধরা। এজন্য লেখকদ্বয় গুজব ও রটনার মায়াবী পর্দাকে নিপুণ হাতে সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

গ্রন্থমেলা ২০১৬: নতুন মুখ নতুন বই

অলাত এহ্সান | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১০:২৯ অপরাহ্ন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন বইয়ের কাঁচা সৌরভে উদ্বেল। বাংলা একাডেমির ষাট বছর পদার্পনের এই বছরে বইমেলার পরিসর বেড়েছে আগের চেয়ে। ফাগুনের এই মেলা ঘিরে বইপ্রেমি মানুষের সমাগম। নতুন ও পুরাতন বইয়ের উৎসব। বইমেলা প্রতিবছর হাজার হাজার নতুন বই নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে নতুন লেখকদেরও পরিচয় করিয়ে দেয় এই মেলা। এবারও মেলায় প্রথম বই বের করেছেন এমন লেখক কম নন। এদের অধিকাংশই তরুণ। বিষয় ভাবনা ও সাহিত্য সাধনায় কেউ কেউ যথেষ্ট পরিপক্ক। তার কারণ দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও একাগ্রতা। এবারের নতুন কেতন উড়িয়ে প্রথম বই প্রকাশ করেছেন এমন বই ও সাহিত্যিক নিয়ে লিখছেন অলাত এহ্সান।

গুলতেকিন খান : আজও, কেউ হাঁটে অবিরাম
border=0এবারের বই মেলায় গুলতেকিন খানের প্রথম বই প্রকাশ একটি বড় খবর। বাংলা গল্প-উপন্যাসের পাঠকদের কাছে তিনি অপরিচিত নন। বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে স্বনামধন্য লেখক প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁয়ের নাতনী তিনি। তাকেও ছাপিয়ে তার আরেক পরিচয় তিনি প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমদের সাবেক স্ত্রী। কিন্তু তিনি নিজেও যে একজন সাহিত্যিক তা অনেকেরই জানা ছিল না। স্কুলবেলা থেকে ছড়া চর্চা ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশ তা প্রকাশ করলেও কবিতায় তার সৃষ্টিশীল হাতের পরিচয় ঘটেছে এই প্রথম। তাম্রলিপি থেকে প্রকাশ হয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ আজও, কেউ হাঁটে অবিরাম। প্রথম বইয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বই প্রকাশের অনুভূতি খুবই ভাল।’ তিনি স্মরণ করেন, ‘সেই কিশোরী বয়স থেকেই ছড়া লিখতাম। ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণিতে থাকাকালেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ প্রায় মুখস্থ হয়ে যায়। আসলে দাদার উৎসাহেই আরো পড়া হত। পত্রিকায় ছড়া প্রকাশ হওয়ার পর দাদাকে দেখালে আমার মাথায় হাত রেখে আর্শিবাদ করেন। তাঁর অনুপ্রেরণায়ই এগিয়ে যেতে থাকি। কিন্তু বিয়ের পর আর কবিতা চর্চা হয়ে ওঠেনি। কেউ আমাকে উৎসাহ দেয় নি। বিয়ের আগে দাদা ছিলেন, কিন্তু বিয়ের পরে কেউ না। দেখা যেত আমার সন্তানের বাবা রাত জেগে লিখছেন, আর আমি একা একা পড়ছি। তারপর প্রবাসে থাকায় তাতেও ছেদ পড়ে। বিদেশ থেকে ফিরে এসে স্কুল শিক্ষকতায় যোগ দেয়ার পর সহকর্মীদের মধ্যে আমার কবিতা লেখার সংক্রমণ ছড়াতে থাকে। শ্রদ্ধেয় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যার উৎসাহ দেন লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন ফেসবুকে কবিতা লিখতাম। তারা ভীষণ উৎসাহ দিতেন। উৎসাহ দেন বই করার জন্য। কন্যা-পুত্ররা ধরে এবার বই মেলাতেই বই করার জন্য। মূলত ফেসবুকে লেখা সেই কবিতাগুলোর থেকে যাচাই বছাই করে এবার বই করলাম। বই প্রকাশ করে খুব ভাল লাগছে। এখন প্রিয় মানুষরা পড়তে পারবে। দাদাকে বইটা উৎসর্গ করতে পেরে ভাল লাগছে। তিনিই ছিলেন আমার সকল প্রেরণার উৎস। এখন পাঠকদের কাছ থেকে কেমন সারা পাই, তার ওপর নির্ভর করবে আমার আগামীতে বই করার ইচ্ছা। তবে লেখালিখি তো চলবেই।’ (সম্পূর্ণ…)

নারী দীপাবলী: তুমি হবে সে সবের জ্যোতি

বিপাশা চক্রবর্তী | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

border=0নারী কি পুরুষের চেয়ে বুদ্ধি আর কর্ম ক্ষমতায় কম? পুরুষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই কি নারী মুক্তির পথ! নারীর ওপর সনাতন আধিপত্য বজায় রেখেই কি পুরুষ পেতে পারে জীবনের শ্রেষ্ঠ আনন্দ!
ভিভ ল্য দিফেরঁস! অর্থাৎ ‘বেঁচে থাক নারী-পুরুষের বিভেদ’–এই বলে এক সময় শোর তুলেছিলেন নারী মহিমার পূজারী ফরাসিরা। বলা ভাল, ফরাসি পুরুষরা। দেখা যায়, জগৎ জুড়ে পুরুষরা দুটো কাজই করেন- নারীর পূজা আর নারী নিপীড়ন। যেটা করে উঠতে পারেন না সেটা হল নিজের পাশাপাশি নারীকে সমমর্যাদায় স্থাপন। অভিযোগ হয়তো পুরুষেরও থাকতে পারে। সভ্যতার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে মাতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষ হয়তো যথাযথ মর্যাদা পায়নি। তারপরেও অধিক শারীরিক বলের অধিকারী পুরুষের দাপটেই ছেয়ে আছে, নারী-পুরুষের যৌথ মানব সভ্যতার ইতিহাস। নারী-পুরুষের শারীরিক, মানসিক, জৈবিক ভূমিকায় পার্থক্য স্পষ্ট। প্রাকৃতিক কারণে কেউ নারী কেউ পুরুষ হয়ে জন্মায়। বয়োসন্ধি বা একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর শারীরিক মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে হরমোনের প্রভাব এবং অবশ্যই বংশবিস্তারের প্রবণতা থেকে তারা একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, কাছে আসে, ভালবাসে, মিলিত হয়, সন্তান জন্ম দেয়। এটাই জগতের নারী পুরুষের পরিপূরক শাশ্বত রুপ। অথচ এই রূপ কালে কালে তার প্রাধান্য হারিয়েছে। নারীর থেকে পুরুষ, পুরুষ থেকে নারী দূরে সরে গেছে ক্রমশঃ। নারী-পুরুষের গভীর অনুরাগের সম্পর্কে কোথায় যেন ঢুকে গেছে রাজনীতি। নারী স্বাধীনতার প্রবক্তা কেট মিলেটের ভাষায় ‘সেক্সুয়াল পলিটিক্স’। পৌরুষময় সমাজে ঘরে বাইরে নারীর সম-অধিকার, সম্মান, মর্যাদা ইত্যাদি–এসব নিয়ে ভেবেছেন ও এখনও ভেবে চলেছেন বহু নারীনেত্রী ও অতিউৎসাহী নারীবাদী লেখক। তাদের কাজগুলো কখনও ছিল যৌক্তিক ও ন্যায্য। তেমনি অনেকের কাজ ও কথায় ভ্রান্ত উদ্ভট সব দাবী ও ধারণাও রয়েছে। এমনকি কিছু কিছু নারীবাদী নারীকে স্পর্শকাতর, সংবেদনশীল, লাজুক, নরম, দুর্বল করেই উপস্থাপন করে নিজের কথাগুলো বলতে পছন্দ করেন। আর এসবই হয়ে উঠেছে কারো কারো কাছে বিখ্যাত হবার হাতিয়ার। বেশিরভাগ নারীবাদী লেখায়, আন্দোলনে ও উচ্চারণে নারীর যৌন বিষয় ও ঘরে-বাইরে সমঅধিকার যতটা আসে ততটা আসে না নারীপুরুষের বিবর্তমান সম্পর্ক ও ইতিহাস, জৈবিক ভূমিকা, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, নতুন-পুরোনো সমস্যার সমাধান ও ভবিষ্যতের ভাবনা। (সম্পূর্ণ…)

‘যখন ক্রীতদাস স্মৃতি ’৭১’: দহন ও দ্রোহের অনন্যোপায় প্রকাশ

অলাত এহ্সান | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:১৯ অপরাহ্ন

border=0বইটি পড়ে মনে হয়, লেখক নাজিম মাহমুদ এটি মোটেই লিখতে চান নি। কিন্তু সেই সময়ের অবস্থা এমনই ছিল যে, এটা লিখতে বাধ্য হয়েছেন। অনন্যোপায় হয়ে লিখেছেন। প্রচণ্ড অনীহা ও সন্দিগ্ধতার ভেতর দিয়ে লিখেছেন। একজন মানুষের দহন ও দ্রোহের গভীর থেকেই কেবল এই ধরনের স্মৃতি লেখা যায়। আমরা যতটা সহজভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়কে ফ্রেম বন্ধী করি, ব্যাপারটা ঠিক ততটা সহজ কিছু ছিল না। এর এক-একটি মুহূর্ত এক-একটা বছর কিংবা যুগের যন্ত্রণা নিয়ে হাজির হয়েছে কারো জীবনে। হানাদারদের কবল থেকে বাঁচতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছেড়ে একটু দূরের মীরগঞ্জে আশ্রয় নিয়েছেন লেখকের পরিবার, সেখানেও হানাদারদের উপস্থিতি। তখন বাঁচার তাগিদে গর্তে নেমেছিলেন সপরিবারে। হায়, সেটা বাঁচার জন্য ক্ষণিক আশ্রয় হলেও, ওটা মানুষের মল-মূত্রের ওই ভাগাড়ে এক মুহূর্ত একবছরের চেয়েও দীর্ঘ মনে হবে।

তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময়প্রবাহে অজস্র গলি, রন্ধ্র, চোরাস্রোত, চোরাবালির ফাঁদ আর মহাকালের গহ্বরের মতো অতিকায় ক্ষত ছিল। সেই ক্ষতগুলো, ফাঁকগুলো খুঁজে বের করা দরকার। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর কিভাবে অজস্র চোরাবালির ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, তার ওপর দিয়ে কিভাবে শ্বাপদরা দাপিয়ে বেড়ায় নাজিম মাহমুদ আমাদের সেই দিকে নজর এনেছেন। এটা কেবল কোনো ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের আত্মকথা নয়, এটা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভেতরের শক্তিকে চিহ্নিত করে, মানুষের যন্ত্রণার অবয়ব তুলে ধরে। (সম্পূর্ণ…)

ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের প্রকাশনা শিল্পের মর্যাদা অর্জন

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২৫ অক্টোবর ২০১৫ ৬:২৬ অপরাহ্ন

ass.jpgইউরোপে হেমন্তে গাছের পাতায় যখন তামা রং ধরে, প্রকৃতি জানান দেয় পাতাঝরা আর আসন্ন বিষণ্ন শীতের কথা; ঠিক তখনই আয়োজন হয় ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা। যে দেশে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনী বই পুড়িয়ে দিয়েছিলো, সেখানেই এখন বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা! সেই মেলায় যাবার জন্য সেবাস্তিয়ান উইলহেম আমাকে ৬৫তম আন্তর্জাতিক ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ২০০৪ সালের মেলায় অংশ নিয়ে এক বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ইতোপূর্বে টোকিও আন্তর্জাতিক বইমেলা, হংকং আন্তর্জাতিক বইমেলা, কলকাতার বইমেলা দেখেছি। তবে এ কথা না বল্লেই নয়, আমাদের একুশের বইমেলাও গর্ব করার মতো বিষয়! প্রথমতঃ এই মেলার সাথে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য মেশানো, দ্বিতীয়তঃ মাসব্যাপী দীর্ঘ বইমেলা বিশ্বে আরো কোথাও নেই!

আমি মেলার দু’দিন আগে চলে যাই দুবাই। তারপর দুবাই থেকে আমার সাথে সঙ্গী হলেন অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম। আর মেলায় গিয়ে পেলাম অঙ্কুর প্রকাশনীর মেজবাহকে। আগে এভাবে আমাদের প্রকাশকেরা ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বা মেলার আমন্ত্রণে অংশ নিতেন। এবার ব্যতিক্রম ঘটলো, আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন- সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও কবি কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কবি মাহবুবুল হক শাকিল। সেই সাথে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক। সমিতির সভাপতি ওসমান গনি যাবার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যেতে পারেননি অসুস্থতার জন্য। অথচ গনি ভাই এবং প্রিয়ভাজন মাজহার বারবার মেলায় যাবার জন্য বলেছেন। অফিসের ছুটি সংক্রান্ত জটিলতার জন্য তা আর হলো না। (সম্পূর্ণ…)

অমর একুশে গ্রন্থমেলার আরও কিছু বই

চিন্তামন তুষার | ২ মার্চ ২০১৫ ৯:২৬ অপরাহ্ন

cover-1.jpgদেখতে দেখতে পার হয়ে গেল ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। এরই সঙ্গে শেষ হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা, ২০১৫ সালের আসর। বইপ্রেমী ও তাদের যোগানদাতাদের সমাবেশ এ বছরের মতো শেষ হওয়ার পথে আরও কিছু নতুন বই এসেছিল মেলায়। কৌতূহলী পাঠকদের জন্য একনজরে সেসব বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিত এখানে দেয়া হলো। বি.স.

বইয়ের নাম: রমেন্দ্রনাথ ঘোষ দার্শনিক প্রবন্ধাবলি
সম্পাদনা: হাসান আজিজুল হক, মহেন্দ্রনাথ অধিকারী
বইয়ের ধরণ/বিষয়: দর্শন/মুক্তচিন্তা
প্রকাশক: ইত্যাদি
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
মূল্য: ৫২৫
দেশের প্রকৃত বিদ্বান ও মনীষীর এই দূর্ভিক্ষের সময় প্রায় অপরিচিত মনীষী রমেন্দ্রনাথ ঘোষের রচনাসংগ্রহ প্রকাশ অত্যন্ত জরুরী কাজ বলে মনে হয়েছে সম্পাদকদ্বয়ের। রমেনের বহুমাত্রিক চিন্তা, প্রাগ্রসর ‍দৃষ্টিভঙ্গি, দেশ-সমাজ-রাষ্ট্র-রাজনীতি বিষয়ে তাঁর ব্যাপক ভাবনা, চিন্তা, সমস্যা শনাক্তকরণ ইত্যাদি সবই যে তাঁর চিন্তাবিশ্বের কেন্দ্রে ছিল–এ সত্যটি এমনকি সম্পাদকদ্বয়ের কাছেও এতটা স্পষ্ট ছিল না। রচনাগুলোর বিষয়, শিরোনাম, উৎকর্ষ, অনুৎকর্ষ ইত্যাদি সবই মানোত্তীর্ণ এবং সর্বসাধারণের সামনে প্রকাশের দাবি রাখে। এ দায় এড়াতে না পেরেই গ্রন্থটির অবতারণা। (সম্পূর্ণ…)

বিপিএল থেকে আরও চারটি বই

চিন্তামন তুষার | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ৭:৪৩ অপরাহ্ন

border=0মাশুকের দরবার
প্রেম, হাস্য- রসের গল্পের পাঠক যুগে যুগে এবং নিয়মিত তৈরি হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। কিন্তু ‘মাশুকের দরবার’-এ কী নিবেদন করা হচ্ছে, তা না চেখে কেন বলবেন ভুল আশেকের আহবান। মুখ ঘুরিয়ে কেনইবা ‘গালিভারের নিদ্রাভঙ্গ’-এর দায় দেবেন প্রকাশকের ঘাড়ে; অযথা। রসশ্রেষ্ঠ হাস্যরস কাব্যরস অধিক ঘন, সর্ববিধ বিজ্ঞদের মতামত। সবার হাতে ‘চাঁদের আলো’য় ‘কিউপিডের দুষ্টামি’র কথা ফুল হয়ে ফোঁটে না তাই। বরং ‘বসন্তের বধু’র চোখে বিরহ জাগিয়ে তোলে ক্ষেত্রবিশেষে। যুগে যুগে, বাদে-অনুবাদে হাস্যরসের রহস্য উদঘাটনে রসিক ভ্রমরাদের গুঞ্জরণে আক্রান্ত হয়েছে বইয়ের পৃষ্টা এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ।
এস. ওয়াজেদ আলীর গল্পগ্রন্থ ‘মাশুকের দরবার’। প্রথম প্রকাশ ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ, ১৯৩০ ঈসায়ী সনে। লেখক হিসেবে ওয়াজেদ আলীকে তৎকালীন বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমাজের একজন কর্ণধার বলা অত্যুক্তি হবে না। তার গদ্য লেখায় পরিমিতিবোধ, প্রাঞ্জলতা, আকর্ষণক্ষমতা ঈর্ষনীয়।
দুর্লভ গ্রন্থের সঙ্গে আধুনিক যুগের পাঠকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রকাশক বিপিএল। পুণঃমুদ্রণে মূল রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে সর্বোচ্চ। আরও আছে গল্পের সঙ্গে প্রাচীন চিত্রকর্মের ছবি, যা গল্প পাঠের আবহ সৃষ্টি করবে। গ্রন্থের প্রচ্ছদ, অলঙ্করণ ও টাইপ সেটিং করেছে পি অ্যান্ড জে।
১৩৩ পৃষ্ঠার গ্রন্থের মূল্য ২৫০ টাকা।
স্টল ৫২৫-২৬
বাংলা একাডেমি পুকুরপাড় (সম্পূর্ণ…)

অমর একুশে গ্রন্থমেলার নতুন বই: দ্বিতীয় সপ্তাহ

চিন্তামন তুষার | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ৮:৫১ অপরাহ্ন

cover-1.jpgপ্রাণের ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ ২০১৫-এর দ্বিতীয় সপ্তাহ পার হয়েছে। ইতিউতি ঘোরাঘুরি করতে করতে অনেকেই বই কেনাও শুরু করেছেন। ক্রেতার প্রতি দৃষ্টি রেখে বিক্রেতা অর্থাৎ প্রকাশকরাও তাদের পণ্যসম্ভার সাজিয়ে বসেছেন এবং প্রকাশ করছেন নতুন বই। প্রকাশকদের কাছ থেকে পাওয়া নতুন বইয়ের প্রাকতথ্যাদি তুলে ধরা হলো এ লেখায়।


বইয়ের নাম: আমার জীবন ও অন্যান্য

লেখক: মুর্তজা বশীর
বইয়ের ধরণ/বিষয়: আত্মজীবনী
প্রকাশক: বেঙ্গল পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ অলঙ্করণ: কাইয়ূম চৌধুরী
মূল্য: ৫২৫

দীর্ঘদিনই ধরেই লেখালেখি করছেন তিনি। শিল্পী হয়েও তিনি যে লেখকের ভূমিকায় কম যান না তার প্রমাণও দিয়েছেন। শিল্পকলা থেকে শুরু করে স্মৃতিকথামূলক রচনায় তার স্বাতন্ত্র্য চোখে পরার মতো। তার রচনায় একদিকে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর সাহিত্যবোধ ও সাহিত্যরুচি, অন্যদিকে তিনি ছাত্রাবস্থা থেকে যে অঙ্গীকারের চেতনায় আন্দোলিত হয়ে বৃহত্তর সৃজনভূবনে প্রবেশ করেছিলেন তা খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে উঠে এসেছে। যৌবনের প্রারম্ভে তিনি বামপন্থা ও সমতাভিত্তিক সমাজনির্মাণের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা তাঁর ঔজ্জ্বল্যেও দীপ্ত এসব রচনা। এছাড়া পঠন-পাঠন এবং সাহিত্য ও শিল্পের নানা দিগন্তের উন্মোচন আমাদের অভিজ্ঞতার দিগন্তকে বিস্তৃত করে। চিত্রশিল্পে বিচরণে তিনি কোন পরিপ্রেক্ষিত ও দৃষ্টিভঙ্গিকে ধারণ করে হয়ে উঠেছেন এদেশের একজন শীর্ষ ও প্রথিতযশা শিল্পী তা তাঁর কয়েকটি রচনা পাঠে উপলব্ধি করা যায়। তাঁর খ্যাতনামা পিতা ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পর্কে তিনি স্মৃতিচারণ করেছেন। এই স্মৃতিতে তাঁর পিতার পাণ্ডিত্য, ব্যক্তিস্বরূপ দ্যুতিময় হয়ে ফুটে উঠেছে। এছাড়া তাঁর শিক্ষক জয়নুল আবেদিন, শিল্পী কামরুল হাসান এবং বন্ধু শিল্পী আমিনুল ইসলাম শিল্পী সোমনাথ হোর, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, শিল্পী রশিদ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর শিল্পসাধনা ও সৃজন নিয়ে তিনি আলোকপাত করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

অমর একুশে গ্রন্থমেলার নতুন বই: প্রথম সপ্তাহ

চিন্তামন তুষার | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ৯:৪৪ অপরাহ্ন

cover-1.jpgপ্রাণের ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ ২০১৫-এর প্রথম সপ্তাহ পার হয়েছে। ইতিউতি ঘোরাঘুরি করতে করতে অনেকেই হয়ত বই কেনাও শুরু করেছেন। ক্রেতার প্রতি দৃষ্টি রেখে বিক্রেতা অর্থাৎ প্রকাশকরাও তাদের পণ্যসম্ভার সাজিয়ে বসেছেন এবং প্রকাশ করছেন নতুন বই। প্রকাশকদের কাছ থেকে পাওয়া নতুন বইয়ের প্রাকতথ্যাদি তুলে ধরা হলো এ লেখায়।

বইয়ের নাম: শেখ মুজিব আমার পিতা

লেখক: শেখ হাসিনা
বইয়ের ধরণ/বিষয়: স্মৃতিকথা/ আত্মজীবনী
প্রকাশক: আগামী প্রকাশনী
প্রচ্ছদ: মাসুম রহমান
মূল্য: ২৫০

‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থটি মূলত শেখ হাসিনার স্মৃতিকথামূলক আত্মজীবনী যেখানে বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবন ও তার পরিবারের আভ্যন্তরিণ অনেক অজানা তথ্য রয়েছে। একইসঙ্গে উঠে এসেছে জননেত্রী শেখ হাসিনার লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসও। এই যুগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার যে অপচেষ্টা চলছে এবং যেভাবে বিকৃত করা হচ্ছে জাতির গৌরবের ইতিহাস— গ্রন্থটি থেকে তার নিদের্শনাও পাবেন পাঠক।

বইয়ের নাম: শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ
লেখক: আনিসুজ্জামান
বইয়ের ধরণ/বিষয়: প্রবন্ধ
প্রকাশক: কথা প্রকাশ
প্রচ্ছদ: সব্যসাচী হাজরা

তিরিশটি প্রবন্ধের সংকলন গ্রন্থ এটি। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রবন্ধগুলোর উপজীব্য। বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালির ইহজাগতিকতার স্বরূপ-সন্ধান তার মধ্যে একটি। অন্য দুটি আনিসুজ্জামানের অভিজ্ঞতায় গড়ে-ওঠা বিষয়ের নিপুন ও নির্মল পর্যবেক্ষণ। সংকলিত রচনাগুলো ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত আরও কিছু তাৎপর্যবহ কথা নিত্যস্মরণযোগ্য ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে আলোচনায় উঠে এসেছে যা বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে অঙ্গীভূত। ভাষাপ্রয়োগে অসামান্য সংযম, তথ্যবিচারে অপক্ষপাত, অভিজ্ঞতা আর নানা জ্ঞানের আলোয় প্রবন্ধগুলো সমকালের এক পরিশীলিত মনীষার অনন্য ভাষ্য। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com