সাক্ষাৎকার

মারিয়া বাররেরা আগারওয়াল: আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে বাঙালিদের কাছ থেকে

সামিন সাবাবা | ১৬ এপ্রিল ২০১৭ ১:৩৯ অপরাহ্ন

17887233_1475700202475455_1890454691_oইস্পানোআমেরিকার তরুণ প্রজন্মের লেখকদের মধ্যে অগ্রগন্য মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়ালের জন্ম একুয়াদরে। পড়াশুনা করেছেন একুয়াদর, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পেশায় আইনজীবী হলেও তার মূল আগ্রহ সাহিত্য। লাতিন আমেরিকার হাতেগোনা যে দুই একজন লেখক-প্রাবন্ধিক দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় লেখালেখি করেন মারিয়া এলেনা তাদের মধ্যে অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, গালিব, মহাদেবী বর্মা, ভৈকম মুহাম্মদ বশীর এবং কুররাতুলাইন হায়দারের রচনাকর্ম নিয়ে বহু প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। এদের মধ্য থেকে বেশ কিছু প্রবন্ধ পরবর্তীকালে তার গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৪ সালে তার অনুবাদে প্রথমবারের মতো স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত হয় নজরুলের কবিতা ও প্রবন্ধের তর্জমা। নিউ ইর্য়কে বসবাসকারী মারিয়ার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে:

La Flama y el Eco (Ediciones Sarasvati, 2009), Jornadas y Talentos (UESS, 2010), Merton y Ecuador, la busqueda del pais secreto (PUCE, 2010). Nazrul: Prosa y poemas selectos ( Nazrul Institute, 2014),Leon Americano (Sureditores, 2013) ইত্যাদি।
২০১০ সালে তিনি একুয়াদরের জাতীয় পুস্কার Aurelio Espinosa Polit-এ ভূষিত হন সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য। মারিয়ার এ সাক্ষাৎকারটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর কার্যালয়ে ইংরেজিতে গ্রহণ করেছিলেন সামিন সাবাবা ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় তর্জমা করেছেন রেশমী নন্দী(সম্পূর্ণ…)

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: বাংলাতে হিন্দু নেতারাই চাইলেন যে, ভারতবর্ষ ভাগ হলে বাংলাকেও ভাগ করতে হবে

সাব্বির আজম | ২২ মার্চ ২০১৭ ২:৩৮ অপরাহ্ন

Partha Chatterjeeপার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই সাক্ষাৎকারটা নিয়েছিলাম ২০১৫ সালের ৬ই অগাস্ট । সেদিনই তার সাথে সরাসরি প্রথম দেখা । এর আগে ই-মেইলে যোগাযোগ হয় । ই-মেইলে যখন বললাম কলকাতা এসে তার সাক্ষাৎকার নিতে চাই তখন তার স্বভাবগত আন্তরিকতায় দিনক্ষণ ঠিক করলেন । সাক্ষাৎকারের স্থান সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, কলকাতা ( সিএসএসআর) । বহু বছর ধরে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়ান । কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানই তার ধ্যান ও জ্ঞান । জাতীয়তাবাদ, দেশভাগ, পাকিস্তান থেইকা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বড়াই ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গে আলাপ হয়। আমি ট্রান্সক্রাইব করার পরে তিনি লিখিত রূপটি চূড়ান্ত করে পাঠান। – সাব্বির আজম

সাব্বির আজম: আপনার লেখালেখিতে জাতীয়তাবাদ যেহেতু প্রধান বিষয়, জাতীয়তাবাদ দিয়েই আলাপ শুরু করতে চাই। যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের আবির্ভাব এবং পরবর্তীতে জাতিরাষ্ট্র হিশেবে ভারতের পত্তন, সেই প্রেক্ষাপটে এর প্রধান চারিত্র্য কী?

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
: জাতীয়তাবাদ বলতে আমি রাজনৈতিক বিরোধিতা অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক ধরনের বিরোধিতাকে বুঝি যার পেছনে আধুনিক জাতিরাষ্ট্র তৈরি করার একটা ইচ্ছা ছিল। এইটাকেই আমি জাতীয়তাবাদ ধরছি। একারণে, যেমন ধর ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ নিশ্চয়ই ব্রিটিশবিরোধী, তাতে ভারতবর্ষের বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সমর্থনও ছিল। কিন্তু আমার মতে, একে জাতীয়তাবাদ বলা উচিত না। কারণ সেটার পেছনে ইংরেজকে সরিয়ে ফের মুঘল সম্রাটকে সামনে রেখে,বিশেষ করে রাজা-রাজড়ারা অনেক বেশি ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকবে–এরকম একটা ধারণা ছিল। একটা নতুন জাতিরাষ্ট্র বলতে আমরা এখন যা বুঝি সেরকম ধারণা এই বিদ্রোহে ছিল না। সুতরাং আমার মতে, মোটামুটি ১৮৭০-৮০-র আগে ঠিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদ বলতে যা বোঝায় সেটা ছিল না। কিন্তু ১৮৭০-৮০ থেকে কী ধরনের জাতীয়তাবাদ এল এবং এর উদ্ভব হওয়ার কারণগুলো কী এবং এর মধ্যে কী কী বিশেষ চরিত্র আছে? (সম্পূর্ণ…)

নাসির আলী মামুন: বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছে থেকে, তার কাছাকাছি গিয়ে ছবি তুলেছি

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৯ মার্চ ২০১৭ ৪:৪১ অপরাহ্ন

Nasir-1একটি জাতি কত সমৃদ্ধ তা বোঝা যায় তার বড় মানুষদের সংখ্যাধিক্যে। নাসির আলী মামুন বাঙালি জাতির বড় বিজ্ঞাপন বড় বড় মানুষদের মুখাবয়ব ধরে রেখে আদতে এই জাতির একটি ফটোগ্রাফিক অবয়ব নির্মাণ করেছেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির পুরোধা বলা যায় নাসির আলী মামুনকে। তার শস্তা ক্যামেরার লেন্সেই রচিত হয়েছে পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির এক অনবদ্য কাব্যময়তা। নিরন্তর পোর্ট্রেট তোলার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা নাসির আলী মামুন ছুটে বেরিয়েছেন দেশ-দেশান্তরে। তার তোলা পোর্ট্রেটের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। শিল্পী, লেখক, রাজনীতিবিদ, বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যক্তিরা হয়ে উঠেছেন তার শিল্পিত লেন্সের অন্তর্দর্পন। এছাড়া তার একটি বিশেষ শখ শিল্পীদের শিল্পকর্ম সংগ্রহ এবং খ্যাতনামা ব্যক্তিদের হাতে খাতা ও রঙ-তুলি দিয়ে ছবি আঁকিয়ে নেয়া। ব্যক্তিত্বের পোর্ট্রেট সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের গহিনে লুকিয়ে থাকা অন্য এক সত্তাকে তিনি আবিষ্কার করে আনেন। ব্যক্তির মননে লুকিয়ে থাকা শিল্পীর জাদুকরী নান্দনিক রেখায় ধরা দিয়েছে নাসির আলী মামুনের সমৃদ্ধ শিল্প সংগ্রহশালা। বাংলাদেশের শিল্পী শাহাবুদ্দীন, কাজী আবুল কাশেম, আমিনুল ইসলাম, কামরুল হাসান, যোগেন চৌধুরী, সুহাস চক্রবর্তী, দেবদাস চক্রবর্তী, মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউনূস, পরিতোষ সেন, সন্তুর সম্রাট শিবকুমার শর্মা, ঠুমরীর রানী বিদুষী গিরিজা দেবী, কবি শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ, বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবদুর রাজ্জাক, শিল্পী এসএম সুলতান, রণি আহম্মেদ,— কে নেই তার সংগ্রহশালায়?

নাসির আলীর মামুন একটি ব্যক্তিগত আর্কাইভ বা মিউজিয়াম গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ‘ফটোজিয়াম’ নামের একটি জাদুঘর নির্মাণে কাজ করছেন কয়েক বছর ধরে। ক্যামেরায় ছবি তোলার পাশাপাশি তিনি পরম যত্নে সংগ্রহ করেছেন শিল্পী-সাহিত্যিক এবং সৃজনশীল ব্যক্তিত্বদের আঁকা বিভিন্ন মাধ্যমের দুর্লভ সব ছবি। ছবিমেলার নবম আসরে তিনি পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। ছবিমেলা শুরুর আগে সংবাদটি জানার পরপরই তার তোলা ছবি দিয়ে সাজানো গ্যালারিতে নাসির আলী মামুনের মুখোমুখি হয়েছিলেন কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অভিনন্দন মামুন ভাই! জাস্ট একটু আগেই শুনলাম যে আপনি ছবিমেলার নবম আসরের আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন, আপনার পাশাপাশি এ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাঈদা খানম। আপনার অনুভূতি জানতে চেয়ে শুরু করতে চাই আজকের এই সাক্ষাৎকারটি। কেমন লাগছে?
নাসির আলী মামুন: আমি তো মহাখুশি। এই কারণে যে এর আগেও কিন্তু আমি সম্মানীত হয়েছি এ রকম লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড অনেকগুলো অর্গানাইজেশনের। কিন্তু ছবিমেলা একটা একটা আন্তর্জাতিক উৎসব। দুই বছর পর পর হয় ঢাকাতে। এবং এই উৎসবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আলোচিত শিল্পীরা অংশগ্রহণ করে। শুধু তাই না, বিভিন্ন বড় বড় মিউজিয়াম গ্যালারির কিউরেটর যারা, তারা কিন্তু আসে। কাজেই এটা আমি মনে করি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এবং এই ফোরাম থেকে, ছবিমেলা থেকে যে আমাকে এইবার লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড দেয়া হলো, আমি এটার জন্য সত্যিই সম্মানীত বোধ করছি। (সম্পূর্ণ…)

চিন্ময় গুহ: ভারতবর্ষে ইন্ডিয়ান রাইটিং ইন ইংলিশ আসার পর থেকে চটজলদি সফলতার দিকে লোকে চলে যাচ্ছে

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৫২ অপরাহ্ন

Chinmoy Guhaবাংলা একাডেমির আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, ফরাসিবিদ ও অনুবাদক চিন্ময় গুহ, অতিথি হয়েছেন কালি ও কলম তরুণ লেখক পুরস্কার অনুষ্ঠানে, বক্তৃতা করেছেন জাতীয় কবিতা উৎসবের প্রথম পর্বে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক, কয়েকবছর পড়িয়েছেন বাংলা বিভাগেও। দায়িত্ব পালন করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেরও।

ছিলেন নতুন দিল্লির ফরাসি দূতাবাসে প্রকাশনা উপদেষ্টা। ‘দেশ’ পত্রিকার গ্রন্থসমালোচনা বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন এক দশক। লিখেছেন চিলেকোঠার উন্মাদিনী, গাঢ় শঙ্খের খোঁজে, আয়না ভাঙতে ভাঙতে, লা রোশফুকোর ম্যাক্সিম, আহাম্মকের অভিধান, অপু ট্রিলজি, ভিক্তর য়্যুগো, দাঁতঁ— এলিয়টকে নিয়ে Where the Dreams Cross: T S Eliot and French poetry এবং The Tower and the Sea এর মতোন পাঠকনন্দিত বই।
নিজের সাহিত্যকর্মের জন্য দুবার পেয়েছেন ফরাসী সরকারের নাইট-এর সম্মান, ২০১০ ও ২০১৩ সালে। বিশিষ্ট এই অনুবাদক ও প্রাবন্ধিকের সাথে ঢাকা ক্লাবের লবিতে আলাপ করেছেন কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন কবি জাহানারা পারভীনও। (সম্পূর্ণ…)

গায়ক পাখি গফুর হালী: যেই যন্ত্র বাজাইলে গানের যন্ত্রণা হয়; ওই যন্ত্র বাদ দেন বাংলা গান থেকে

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৬ december ২০১৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

পুরো নাম আবদুল গফুর হালী। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক, আধ্যাত্মিক ও মাইজভাণ্ডারি গানের কিংবদন্তি গীতিকার সুরকার ও শিল্পী। শেফালী ঘোষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব, সন্দীপন, শিরিনসহ আরো বহু লোকগানের তারকা শিল্পীর উত্থান গফুর হালীর গান গেয়ে। দেশের একাডেমিগুলো, সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম তাঁর কাজকে পাত্তা না দিলেও দেশের বাইরে প্রচুর কাজ হয়েছে গফুর হালীর কাজ নিয়ে। জার্মানীর হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার গান নিয়ে গবেষণাকর্ম করছেন একদল লোকগবেষক। জার্মান ভাষায় তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্র। ২০০৪ সালে হালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হান্স হার্ডার গফুর হালীর ৭৬টি গান জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে ‘ডর ফেরুখটে গফুর স্প্রিখট’ বা ‘পাগলা গফুর বলে’ শিরোনামে গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।
hali-2
সোনাবন্ধু তুই আমারে করলিরে দিওয়ানা, পাঞ্জাবিঅলা, মনের বাগানে ফুটিল ফুল গো, তুঁই যাইবা সোনাদিয়া বন্ধু মাছ মারিবার লাই,‘অ শ্যাম রেঙ্গুম ন যাইও, বানুরে অ বানু— কিংবা মাইজভাণ্ডারী গান- দেখে যারে মাইজভাণ্ডারে হইতাছে নূরের খেলা, কতো খেলা জানরে মাওলা, মাইজভাণ্ডারে কি ধন আছে এবং মোহছেন আউলিয়ার গান— চল যাই জিয়ারতে মোহছেন আউলিয়ার দরবারে, আল্লাহর ফকির মরে যদি, ইত্যাদি শত শত কালজয়ী গানের রচিয়তা আবদুল গফুর হালী।

আবদুল গফুর হালীর জন্ম ১৯২৯ সালে পটিয়ার রশিদাবাদে। বাবা, আবদুস সোবহান, মা গুলতাজ খাতুন। লেখাপড়া করেছেন রশিদাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোয়ারা বিশ্বম্ভর চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ে। রশিদাবাদ আরেক সাধকশিল্পী আস্কর আলী পণ্ডিতের গ্রাম। আস্কর আলীর গান শুনে বড় হয়েছেন গফুর। ছোটবেলায় তাঁর আধ্যাত্মিক ও মরমি গান গফুরের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। কারো কাছে সেই অর্থে গান না শিখলেও শিক্ষক বলে মানতেন চট্টগ্রামের প্রকৃতিকে, যা তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছে সৃষ্টিকর্মে, প্রেরণা পেয়েছেন আস্কর আলী পণ্ডিত ও রমেশ শীলের গান থেকে। আবদুল গফুর হালীর আঞ্চলিক গানের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। মাইজভান্ডারি গানও হাজারের বেশি হবে। ‘দুই কুলের সোলতান’, ‘দেখে যারে মাইজভান্ডারে’সহ অসংখ্য গান শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। তাঁর গান আরও গেয়েছেন উমা খান, সঞ্জিত আচার্য, কান্তা নন্দী, শিল্পীরানী, আবদুল মান্নান রানা, সেলিম নিজামী,শিমুল শীল, কল্যাণী ঘোষ, কল্পনা লালা ও সন্ধ্যারানী দাশ।

হান্স হার্ডার মনে করেন, বাংলার লোকসঙ্গীতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে বিশেষভাবে অধিষ্ঠিত করেছেন গফুর হালী। এসব গান কালের সীমা অতিক্রম করে পৌঁছে গেছে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এবং বেশ আদৃত হচ্ছে। আবদুল গফুর হালী প্রথম মোহসেন আউলিয়াকে নিয়ে গান রচনা করেন। চট্টগ্রামের ভাষায় প্রথম লোকনাটকের রচয়িতাও গফুর হালী। হার্ডার আবদুল গফুর হালী সম্পর্কে লেখেন, ‘আবদুল গফুর হালীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রি বা উপাধি না থাকলেও নিজের চেষ্টায় তিনি অসাধারণ জ্ঞানের অধিকারী হতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিজেকে শুধু বাংলা সাহিত্যের দিকে সরাসরি ধাবিত করেননি, সুর ও আধ্যাত্মবাদে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি মাইজভান্ডারি গান রচনা করেন’।

কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিনের সাথে গফুর হালীর এ আলাপটিই আমাদের জানামতে কিংবদন্তি শিল্পীর দেয়া শেষ সাক্ষাৎকার। ভিডিও থেকে সাব্বির জাদিদ উদ্ধারকৃত পুরো আলাপচারিতা এখানে পত্রস্থ হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

জুয়েল আইচ: রাষ্ট্র কি কোন জীব নাকি যে তার ধর্ম থাকবে?

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ december ২০১৬ ৪:১৫ অপরাহ্ন

Jewel-2
ছবি: নয়ন কুমারের ক্যামেরায় জুয়েল অাইচ।

সবাই তাকে জাদুকর হিসেবে চেনেন, কিন্তু তিনি নিছক জাদুকর নন, বরং তার চেয়ে বেশি কিছু। তিনি জাদুশিল্পী। তিনি যদি শুধুই বক্তা হতে চাইতেন, সেখানেও তার জাদুকরী শক্তির বিচ্ছুরণ যে কাউকে অভিভূত করতো। তিনি যদি কেবল উচ্চাঙ্গ সংগীতের শিল্পী হিসেবে পরিচিত হতে চাইতেন, তবে সেই পরিচয়টিও তাকে শিখরে নিয়ে যেত। তিনি যদি কেবলই লেখক হতে চাইতেন, তাহলেও তিনি লেখালেখির জগতে সর্বোচ্চ জায়গাটিতেই অবস্থান করতেন। কিন্তু তিনি বিচ্ছিন্নভাবে এর কোনোটাই হতে চাননি, তিনি হয়েছেন এই সবকিছুর এক সমন্বিত রূপ যা তাকে জাদুশিল্পের জগতে অনন্য ও বিরল ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে। তাঁর অারও একটি বড় পরিচয় তিনি মহান মুক্তিযোদ্ধাদের একজন। এই মানুষটিই আত্মত্যাগে অটল হয়ে কাঙ্ক্ষিত ক্রোধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন শক্রর মোকাবেলায়। নিশ্চিত মৃত্যুর থাবা ফসকে বেরিয়ে গেছেন কয়েকবার। যুদ্ধাকালীন রোমহর্ষক ও রোমাঞ্চকর বহু ঘটনার সাক্ষী তিনি। যুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের মৃত্যুফাঁদ থেকে আজকের জননন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ কীভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন তার প্রথম সবিস্তার স্মৃতিচারণ করেছেন কবি-প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনকে দেয়া এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে। ভিডিওতে ধারনকৃত সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিখন করেছেন সোহেল আহসান। ভিডিও ও আলোকচিত্র গ্রহণে ছিলেন নয়ন কুমার। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

শাহাবুদ্দিন আহমেদ: আমি একজন শিল্পী হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না

রাজু আলাউদ্দিন | ১৬ december ২০১৬ ১:৫৯ পূর্বাহ্ন

S. Aআন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শাহাবুদ্দিন আহমেদ কেবল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় চিত্রশিল্পীই নন, তিনি ছিলেন একই সঙ্গে আমাদের অহংকার, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একজন, যার এক হাতে ছিল অস্ত্র আর অন্য হাতে তুলি। কিংবা তারই আদর্শ কাজী নজরুলের ভাষায় শাহাবুদ্দিনের ‘এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাশরী আর হাতে রণতুর্য। স্বাধীনতাযুদ্ধে প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ তার শিল্পীজীবনকে বদলে দিয়েছিলো চিরকালের জন্য, যে-বদল তার শৈল্পিক অভিব্যক্তিকেই কেবল বৈশিষ্টমন্ডিত করেনি, ছবির বিষয়বস্তুকেও দিয়েছে গনমুখিতা। বহু শহীদের আত্মত্যাগের ফলে যে-স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে তিনি তার অমরগাথা রচনা করেছেন ক্যানভাসে রং ও তুলির সুনিপুন টানে; রং এখানে রক্তের স্ফুলিঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে আছে ক্রোধ ও সাহসের বার্তা রূপে। শোক এখানে শৌর্যের বীরোপম অভিব্যক্তি নিয়ে আমাদেরকে একথাই জানিয়ে দিচ্ছে যে স্বাধীনচেতা মানুষ অদম্য, মহত্তম স্বপ্নের কোনো বিনাশ নেই, তা গতি ও পেশিময় ইশারায় আমাদেরকে উজ্জীবিত করে। তার রংয়ের প্রক্ষেপ ও এর বিন্যাস এমনভাবে করা হয় যা দেখলে মনে হবে এগুলো ঠিক ক্যানভাসে থাকতে চাইছে না, কারণ রংয়ের মধ্যে তিনি অসামান্য দক্ষতায় এমন এক চাঞ্চল্য সঞ্চার করেন যে তা ক্যানভাসের সীমাবদ্ধতাকে ভেদ করে বেরিয়ে পড়ার জন্য শোরগোল তুলছে। বিন্যাসের গতিময় অভিব্যক্তি এই শোরগোলকে উস্কানি দিচ্ছে ক্যানভাসের ছোট্ট পরিসর থেকে অবারিত প্রান্তরের দিকে ছুটে যাওয়ার জন্য যেখানে রয়েছে যুদ্ধ শৌর্য প্রকাশের জন্য, যেখানে রয়েছে স্বাধীনতার বীজ শাখাপ্রশাখায় বিকশিত হওয়ার লক্ষ্যে। ঠিক এইভাবে শিল্পী শাহাবুদ্দিন অদৃশ্য ও অমেয়কে রংয়ের মাধ্যমে ধ্বনিময় করে তোলেন। যুদ্ধকালীন গেলোবারুদের শব্দ ও গন্ধকে তিনি রংয়ে রূপান্তরিত করেছেন, কিংবা এর উল্টোটাও সত্যি এই জন্য যে যুদ্ধের পর তার ছবিতে রংকে তিনি শব্দ ও গন্ধে রূপান্তরিত করেছেন। রূপান্তরের এই মহত্তম শিল্পীকে বিজয় দিবসে জানাই আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

শিল্পী শাহাবুদ্দিনের দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরের প্রথম দিকে, তার জন্মদিনের কয়েকদিন আগে।
কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শিল্পী শাহাবুদ্দিন স্বাধীনতাযুদ্ধে তার অভিজ্ঞতা ও চিত্রকলায় এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এছাড়াও আছে বঙ্গবন্ধুর সাথে তার প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়ন। ভিডিওতে ধারণকৃত এই সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপটি শিল্পীর পরামর্শে প্রমিত বাংলায় প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিখন করেছেন গল্পকার অলাত এহসান। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

বব ডিলানের সাক্ষাৎকার: আবেগ তারুণ্যে মানায়, প্রজ্ঞা প্রবীণে

আবদুস সেলিম | ১৮ অক্টোবর ২০১৬ ১০:৫২ অপরাহ্ন

bob-4বব ডিলান এই সাক্ষাৎকার দেন তার ‘শ্যাডো ইন দ্য নাইট’ প্রকাশনা কালে যেখানে তিনি শিল্পের প্রকাশশৈলী এবং ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলেন এবং তার জীবন ও দর্শনের উপর প্রভাব বিস্তারকারী দুর্লভ অন্তর্দৃষ্টির ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। রবার্ট লাভ-এর নেয়া এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছিল Independent পত্রিকায় ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। এটি বাংলায় তর্জমা করেছেন অধ্যাপক অনুবাদক আবদুস সেলিম। বি. স.
প্রশ্ন: সমালোচক-প্রশংসিত একাধিক মৌলিক গানের পর আপনি এই রেকর্ডটি কেনো প্রকাশ করলেন?
উত্তর: এটাই তো সঠিক সময়। সত্তর দশকের শেষা-শেষি উইলি (নেলসনের) ‘স্টারডাস্ট’ রেকর্ড শোনবার পর থেকেই বিষয়টা নিয়ে আমি ভাবছিলাম। ভাবছিলাম আমিও তো এমন একটা কাজ করতে পারি। তাই দেখা করতে গেলাম কলাম্বিয়া রেকর্ডস-এর প্রেসিডেন্ট ওয়াল্টার ইয়েটনিকফের সাথে। খুলে বল্লাম তাকে যে আমি উইলির মতো একটা মানসম্পন্ন রেকর্ড বের করতে চাই। সে বল্লো: করুন, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু আপনাকে আমরা কোনো পারিশ্রমিকও দিতে পারবো না এবং তা বাজারজাত করতেও সাহায্য করতে পারবো না। তবুও যদি চান করতে পারেন। ফলে ওটা বাদ দিয়ে আমি স্ট্রিট লিগাল করলাম। এখন বুঝি ঈয়েটনিকফ সম্ভবত সঠিকই ছিলো। মানসম্পন্ন রেকর্ড করার সময় তখনও আমার হয় নি।
বছরের পর বছর আমি অন্যের গাওয়া ঐসব গান শুনেছি আর অমন গান করার জন্যে অনুপ্রাণিত হয়েছি। অন্যরাও আমার মতো ভাবতো কিনা জানি না। রড [স্টুয়ার্টের] মানসম্পন্ন গান শুনতে আমি বেশ উৎসাহী ছিলাম কারণ আমি বিশ্বাস করতাম ঐসব গানের ভেতর যদি কেউ কোনো পরিবর্তন আনতে পারে সে কেবল রডই পারবে। কিন্তু রড আমাকে হতাশ করেছে। রড এক মহান গায়ক কিন্তু ৩০টা অর্কেস্ট্রা পেছনে বসিয়ে রডকে গান করানো সম্পূর্ণ ভুল। আমি কারও উপার্জনের অধিকার খর্ব করতে চাই না। কিন্তু কোনো গায়ক তার হৃদয় দিয়ে গান গাইছে কিনা সেটা সহজেই বোঝা যায়। আর রড যে তার মনপ্রাণ সংযোগ করে গানগুলো গায়নি সেটা আমার স্পষ্ট মনে হয়েছে। গানগুলো শুনলে মনে হয় কণ্ঠস্বরকে রেকর্ডে উচ্চারিত করে সংজোযন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ঐজাতীয় গান কখনও ভাল হয় না।
আমরা যেসব গানের সাথে বেড়ে উঠেছি এবং বিষয়টা নিয়ে তেমন ভাবতি হইনি, বেশ জানি রক এন রোল ঐ জাতীয় গানকেই বিনাশ করতে এসেছিল–যেমন, মিউজিক হল, ট্যাংগো, চল্লিশের দশকের পপ গান, ফক্সট্রটস, রাম্বাস, আরভিং বার্লিন, হ্যারল্ড আরলেন, হ্যাম্যারস্টেইন। এরা সবাই খ্যাতিমান সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। আজকের গায়করা এসব গীতবাদ্য ও গানের কথা ভাবতেও পারে না। (সম্পূর্ণ…)

গিইয়ের্মো দেল তোরোর সাক্ষাৎকার: স্পেনের ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের পুরো সময়টা জুরে চার্চের অংশগ্রহণ ছিল।

হোসেন মোফাজ্জল | ৬ অক্টোবর ২০১৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন

toro-1গিইয়ের্মো দেল তোরোর জন্ম ৯ অক্টোবর ১৯৬৪। মেক্সিকান চলচ্চিত্র পরিচালক, স্ক্রিপ্টরাইটার, প্রোডিউসার উপন্যাসিক এবং বিখ্যাত এনিমেটর। উল্লেখযোগ্য ছবি: ক্রনোস(১৯৯৩), দ্যা ডেভিল’স ব্যাকবোন (২০০১), এবং প্যান’স ল্যাবরিন্থ ( ২০০৬)। এই ছবিগুলো স্প্যানিস ভাষার উল্লেখযোগ্য ডার্ক ফ্যান্টাসি মুভি। এছাড়াও মূলধারার আমেরিকান অ্যাকশান মুভি– ব্লেড ২ ( ২০০২), হেলবয় (২০০৪), হেলবয় ২: দ্য গোল্ডেন আর্মি(২০০৮) এবং সায়েন্স ফিকশন ফিল্ম প্যাসিফিক রিম (২০১৩) ইত্যাদি উল্লেখ করার মত। দেল তোরো প্যান’স ল্যাবরিন্থ-এর জন্য ২০০৬ সালে কান ফিল্ম ফেস্টিভালে গোল্ডেন পাম এবং বেস্ট ফরেন ফিল্ম এবং বেস্ট অরিজিন্যাল স্ক্রিনপ্লের জন্য অস্কার পান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মাইকেল গিলেন।
মাইকেল গিলেনের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ফ্রানসিস্কোতে। তিনি স্যান ফ্রানসিস্কো ফিল্ম ক্রিটিকস্ সার্কেলের সদস্য। ইন্টারভিউটি স্ক্রিনঅ্যানার্কির ডিসেম্বর ২০০৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
প্যান’স ল্যাবরিন্থ-এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে লেখাটি অনুবাদ করেছেন হোসেন মোফাজ্জল।

মাইকেল গিলেন: প্রথমে এবং সর্বপ্রথমে সপ্তাহের শুরুতে বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্মে স্যানফ্রান্সসিস্কো ফিল্ম ক্রিটিকস সার্কেলের পুরস্কার পাবার জন্য কনগ্রাচুলেশন।
গিইয়ের্মো দেল তোরো: আই লাভ ইট!
এম গি: সেইসাথে বোর্ডের সবার পক্ষ থেকে তুলনামূলক প্রশংসা এবং নোমিনেশনের জন্য, সঙ্গে সম্প্রতি ঘোষিত বেস্ট ফরেন ফিল্ম হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব নোমিনেশন পাবার জন্যে।
দেল তোরো: যা স্রেফ ফ্যানটাস্টিক।
এম গি: …এবং বেশ পাবার উপযুক্তও বটে। প্যান’স ল্যাবরিন্থ নিশ্চিতভাবে আমার কাছে বছরের সেরা ছবি।
দেল তোরো: ফাকিন্ আ!
এম গি: বিদেশী ভাষা যদিও, সে যাই হোক না কেন এটা আমার কাছে বছরের সেরা মুভি; সত্যিকার অর্থে একটা স্বপ্নদর্শী কাজ।
দেল তোরো: ধন্যবাদ আপনাকে।
toro-2
এম গি: আমি প্রথমে প্যান’স ল্যাবরিন্থ দেখি এলগিন থিয়েটারে টরোন্টো ইন্টারন্যশনাল সময়টাতে যেখানে আপনি এবং আইভানা বাকেরো ফিল্মটাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, তারপর আবার এখানে স্যান ফ্রান্সিসকোতে, আজকে সন্ধ্যায় ছবিটি আবার দেখবো যখন স্যান ফ্রান্সসিকো সোসইটিতে দেখানো হবে।
দেল তোরো: আপনি আবার আজকে রাতে দেখতে যাবেন?
এম গি: জ্বী।
দেল তোরো: দ্যাটস্ গ্রেট। আমার মনে হয় কি জানেন? এই ছবিটার একটা ব্যাপার হলো, আপনি প্রতিবারই ছবিটাতে কিছু না কিছু ডিটেইলস খুঁজে পাবেন।
এম গি: আমিও যদ্দুর উপলব্ধি করতে পেরেছি তাহলো এটা ডিটেইলের ক্ষেত্রে খুব সমৃদ্ধ। প্যান’স ল্যাবরিন্থ বোনা হয়েছে পাপমুক্তির সাথে। আপনি কি আমাকে বলবেন কিভাবে ভুল ব্যাপারগুলো শেষ হলো একেবারে সঠিকভাবে?
দেল তোরো: আপনি যে ভাবে বললেন তা আমার পছন্দ হয়েছে। রুফাস ওয়েনরাইটের একটা গান আছে না ওই যে– ‘‘সিগেরেটস এন্ড চকোলেট মিল্ক’’ এই নামে, আমার মনে আছে গানটাতে বলা হয়েছিল ‘‘আমি যা কিছুই পছন্দ করি না কেন তা আমার জন্য সামান্য পরিমাণের হলেও মন্দ হবে?’’ আপনার সহজাত প্রবৃত্তি আপনার বুদ্ধিবৃত্তির তুলনায় আপনাকে চালনা করবে কোনটা আপনার জন্য ভালো এবং আসলে আরও বেশী করে বললে স্বাভাবিকভাবে ভালো। অবাধ্যতা হচ্ছে আপনার বিবেকের জন্য একটা সবচেয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক তা বোঝার জন্য। আপনি যখন বুদ্ধির দিয়ে অগ্রাহ্য করবেন, তখন আপনি স্বাভাবিকভাবে অগ্রাহ্য করবেন, এটা অন্ধ আনুগত্য থেকে আরও বেশী কল্যাণকর হয়ে উঠবে। অন্ধ আনুগত্য খাসি করে দেয়, অগ্রাহ্য করে, লুকায় এবং যা আমাদেরকে মানুষ করে তোলে তা ধ্বংস করে ফেলে। অন্য দিকে, সহজাত প্রবৃত্তি এবং অবাধ্যতা আপনাকে সবসময় সেই দিকে নিয়ে যাবে যা কি-না স্বাভাবিক, জগতের জন্য যা হবে অর্গানিক। তাই আমি মনে করি অবাধ্যতা হচ্ছে একটা সদগুণ আর অন্ধ আনুগত্য হচ্ছে একটা পাপ। (সম্পূর্ণ…)

আবদুল মান্নান সৈয়দ: “কবিতা আবেগের উত্তাল দশা ছাড়া লেখা সম্ভব না ”

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৩ আগস্ট ২০১৬ ৭:৩৯ অপরাহ্ন

Mannan

……………………………………………………………………..

আবদুল মান্নান সৈয়দ একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক। শুরুর দিকে লিখেছেন অশোক সৈয়দ নামে। ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট অখণ্ড বাংলার পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনায় জন্মেছিলেন তিনি। তাঁর বাবা সৈয়দ এ এম বদরুদ্দোজা এবং মা আনোয়ারা মজিদ। দেশভাগ পরবর্তি দাঙ্গার কারণে মুসলমান পরিবারের আবদুল মান্নান সৈয়দরা ১৯৫০ সালে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৫৮ সালে ঢাকার নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা (মেট্রিকুলেশন বা মেট্রিক), ১৯৬০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ (ইন্টারমিডিয়েট)এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৬৩ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি এইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেন আবদুল মান্নান সৈয়দ। প্রথমে সিলেটের এম সি কলেজে প্রভাষক পদে চাকরির মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজে কিছুকাল এবং জগন্নাথ কলেজে দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেন। ১৯৯৮ সালে উক্ত কলেজ থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রথম রেসিডেন্ট স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২— ২০০৪ সাল পর্যন্ত নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন আবদুল মান্নান সৈয়দ। মাসিক সাহিত্য পত্রিকা শিল্পতরুতে তিনি দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দের কাব্য-অভিযাত্রা শুরু হয় ১৯৬০ সালেই। পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যাহত রাখেন। তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থ জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। তাঁর কবিতায় কখনো মৃত্যুচেতনা, কখনো রোমান্টিকতা, কখনো সুররিয়ালিজম, প্রতীকধর্মী আবার কখনো এ্যাবসার্ডিটির প্রতিফলন দেখা যায়। একজন মননশীল ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষক হিসেবে আবদুল মান্নান সৈয়দ তাঁর লেখার বিষয় ও রচনা রীতিতে বারবার পরিবর্তন এনেছেন। তিনি কবিতায় প্রায়ই চাঁদ, সূর্য, আকাশ ও মেঘকে চিত্রকল্পের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আবদুল মান্নান সৈয়দ ছন্দ বিষয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ নিরীক্ষা করেছেন। প্রবোধচন্দ্র সেন ও শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ছিলেন তাঁর ছন্দবিষয়ক শিক্ষক। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সাহিত্য সমালোচক ও সম্পাদক আবদুল মান্নান সৈয়দ জীবনানন্দ ও নজরুল সাহিত্য নিয়ে অসামান্য সব কাজ করেছেন। তিনি ফররুখ আহমদ, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিষ্ণু দে, সমর সেন, বেগম রোকেয়া, আবদুল গনি হাজারী, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, প্রবোধচন্দ্র সেন— প্রমুখ কবি-সাহিত্যিক-সম্পাদকের জীবনীমূলক গবেষণাকর্ম উপহার দিয়েছেন। কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, কাব্যনাটক, স্মৃতিকথাসহ তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা দেড়শতাধিক। জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ (১৯৬৭), নির্বাচিত কবিতা (১৯৭৫), কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (১৯৮২), পরাবাস্তব কবিতা (১৯৮২), পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি (১৯৮৩), মাছ সিরিজ (১৯৮৪) তার গুরুত্বপূর্ণ কবিতার বই। সত্যের মতো বদমাশ (১৯৬৮), চলো যাই পরোক্ষে (১৯৭৩), মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা (১৯৭৭) আবদুল মান্নান সৈয়দের ছোটগল্পের বই। পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী (১৯৭৪),অ-তে অজগর (১৯৮২), গভীর গভীরতর অসুখ (১৯৮৩), ক্ষুধা প্রেম আগুন (১৯৪৪), শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি (১৯৯৮) তার লেখা সুখপাঠ্য উপন্যাস। জীবনানন্দ দাশের কবিতা (১৯৭৪),নজরুল ইসলাম: কবি ও কবিতা, করতলে মহাদেশ (১৯৭৯), ছন্দ (১৯৮৫), রবীন্দ্রনাথ (২০০১), আবদুল গনি হাজারী (১৯৮৯), সৈয়দ মুর্তজা আলী (১৯৯০), প্রবোধচন্দ্র সেন ((১৯৯৪) তার গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও জীবনীগ্রন্থ। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিক: তাদেরকে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১১ জুলাই ২০১৬ ৬:৪৮ অপরাহ্ন

Rafiq
ছবি: নাসির অালী মামুন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: স্যার আপনি এ অঞ্চলের মাটি মানুষ জনসংস্কৃতিকে আপনার কবিতার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছেন। গুলশান হামলার এই ঘটনার পর সবার মধ্যে যেনো একটা ভীতি ঢুকে গেছে। এ দশায় করণীয় কি স্যার বাঙালির। বাঙালি এখন কি করবে?
মোহাম্মদ রফিক: তুমি যে বাঙালি বলছো তার মধ্যেই তুমি উত্তর দিয়ে দিয়েছো। বাঙালি আরো বাঙালি হবে। বাঙালিকে আরো বাঙালি হতে হবে। আমরা ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, এবং এদের বিরুদ্ধেই তো মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এদের মতো ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা কিছু মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেই তো দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কি মন্ত্রে দেশ স্বাধীন করেছি! অন্য যা কিছু থাক, আমাদের মূল উদ্দ্যেশের জায়গা ছিলো, আমরা আমাদের বাঙালিত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা আবির্ভূত হয়েছিলাম এদের সাথে লড়াই করে।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অনেক তরুণরা ধর্মীয় রাজনীতির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে, এমনকী তারা জীবনের তোয়াক্কা করছে না। গুলশানের হামলায় বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরা বিশজন মানুষকে জবাই করে হত্যা করেছে, তাদের এই মোটিভেশনের কারণ কি বলে মনে করেন আপনি?
মোহাম্মদ রফিক: আজকের তরুণদের বিভ্রান্ত হওয়ার বড় কারণ, তাদের সামনে কোন মন্ত্র নেই। তারা জানে না, তারা কেনো জীবন ধারণ করছে। তাকে যদি এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করা যায়, যেটা আমাদের মতোই, রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব বলে আমি মনে করি, যে, তাকে বোঝাতে হবে, তুমি বাঙালি, তোমার বাঙালি সত্ত্বাকে বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করতে হবে— তাহলে দেখবে এই জঙ্গিবাদের ক্ষমতা অনেক কমে যাবে। (সম্পূর্ণ…)

ঈদ ও রোজা প্রসঙ্গে কবি নির্মলেন্দু গুণ: “ আমি ওর নামে দুইবার খাশি কুরবানী দিয়েছি”

রাজু আলাউদ্দিন | ৪ জুলাই ২০১৬ ১:০৬ পূর্বাহ্ন

Goon-1এ মাসের প্রথম দিন কবি নির্মলেন্দু গুণের সাথে রোজা ও ঈদের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয়েছিল কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে। এখানে তাদের সেই আলাপচারিতা প্রকাশ করা হলো বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমর-এর পাঠকদের জন্য।

রাজু আলাউদ্দিন: গুণদা, কেমন আছেন? ভাবছিলাম যে ঈদ সংখ্যার জন্য একটি কবিতা চাইবো আপনার কাছে, কিন্তু জানি ঐভাবে তো কবিতা সঙ্গে সঙ্গে চাইলে পাওয়া যাবে না।
নির্মলেন্দু গুণ : কালকে নাকি যুগান্তর আমার কবিতা ছাপছে।
রাজু :আপনার?
গুণ:হ্যাঁ হ্যাঁ।
রাজু : আচ্ছা, আমি খেয়াল করিনি তো! পুরোনো কবিতা নিশ্চয়।
গুণ:ওটা ফেসকুব থেকে নেয়া ,ছাড়পোকার উপর যে কবিতাটা।
রাজু :ও আচ্ছা। ওরা ছাপছে এইটা তা আমি জানি না।
গুণ: একজনে ফোন করে আমাকে বলল।
রাজু:ও! আচ্ছা। হইতে পারে আমি খেয়াল করিনি। আমি ওদের পাতাটা দেখিনি গতকালকে। আমি যেটা জানতে চাচ্ছিলাম সেটা হলো যে, আপনি তো ধরেন অন্য একটি সম্প্রদায়ের লোক। এখন মুসলমানদের এই ঈদের আনন্দ বলে কী আপনার কোন প্রতিক্রিয়া বা অনুভুতি আছে?
গুণ: হ্যাঁ, আমি তো ডেইলি সেহেরি না খাইলেও ইফতারি করতেছি। আমার বাসায় তো দুইজন ইসলামধর্মী থাকে, তাদেরকে ভোর রাতে তুলে দিতে হয়।
রাজু : আচ্ছা, আপনি যখন ছোট ছিলেন তখন তো মুসলমান বন্ধুবান্ধব ছিল, তাই না? তাদের বাড়ীতে গিয়ে ঈদের আনন্দ আপনি কাটিয়েছেন কিনা কখনো।
গুণ: এইগুলো আমার ছেলেবেলার বইয়ে আছে যে মুসলমান বন্ধুরা আমাদের বাড়ীতে যেত। সেই রকম আমার এক বন্ধু মতউর রহমান, ওর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক ছিল, যাতায়াত করতো আমাদের বাড়ীতে। তো ওরা যখন আমাদের বাড়ীতে আসতো, আমাদের বাড়ীটা দর্শনীয় ছিল। মানুষ এমনিতেও বাড়ী দেখার জন্য আসতো। তো ঐরকম বন্ধুবান্ধব মুসলমান যারা ছিল বা তাদের বাড়ীতে যাতায়াত ছিল এইরকম আছে দুই চারজন। এসব কাহিনী আমার ছেলেবেলার বইতে আছে।
রাজু : আচ্ছা, এর বাইরেও যেগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি–এর রকম দুই একটা স্মৃতি বলেন না অনুগ্রহ করে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com