সাক্ষাৎকার

নায়করাজ রাজ্জাক: আজকের বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের যে বিকাশ এটা বঙ্গবন্ধুরই অবদানের ফল

| ২১ আগস্ট ২০১৭ ১০:২৭ অপরাহ্ন

razzak+01৯৬ সালে রাজ্জাকের এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলাম আমি এবং কবি ব্রাত্য রাইসু অধুনাবিলুপ্ত দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার জন্য। ফোনে আগেই এপয়েন্টমেন্ট করে তার গুলশানের বাসায় আমরা দুজনে হাজির হয়েছিলাম। সকালের দিকে বোধহয় তিনি আমাদেরকে সময় দিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের সময় তার পরিচিতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল “জন্ম ২৩ জানুয়ারি ১৯৪২। কলিকাতা চারুচন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েট। ১৯৬২ তে বিয়ে করেন। এরপরে বাংলাদেশে আগমন ১৯৬৪ সালে। ৩ ছেলে ২ মেয়ে। অভিনীত ছবির সংখ্যা ২৮০।” — রাজু আলাউদ্দিন

রাজু আলাউদ্দিন: রাজ্জাক ভাই, আপনার বয়স কত হলো?
আবদুর রাজ্জাক: ফিফটি ফোর।
রাজু: সিনেমা থেকে আপনি তাহলে একরকম বিদায়ই নিলেন?
রাজ্জাক: না, তা নয়। সে রকম অর্থে তো বিদায় নেয়া যায় না। আমি যেটা করলাম, গত দু’বছর আমি একটু সিলেকটিভ ছবি করলাম। একটু ‘আদারওয়েজ’ ব্যস্ত ছিলাম, এদিকে গত দু’বছর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটু অগোছালো হয়ে গেছে। এ কারণে নিজেকে একটু সরিয়ে রাখলাম আর কি।
রাজু: ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অগোছালো হয়ে গেল মানে?
রাজ্জাক: মানে হইচইটা একটু বেশি এসে গেল না গত দু’বছর? উত্তেজনাটা যেন একটু বেশি হয়ে গেছে। এটা নর্মালি আমার জন্যে একটু প্রোব্লেম।
রাইসু: নতুনদের আপনি নিতে পারেন না?
রাজ্জাক: না, নতুনদেরকে আমি সব সময় একসেপ্ট করেছি। টোটাল ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে হঠাৎ করে একটু চেঞ্জ হয় না? এতে করে হইচইটা একটু বেশিই হয়। এ জন্যে আমি একটু সরে থাকলাম ওদের কাছ থেকে।
রাজু : আপনার নিজের তৈরি ছবির সংখ্যা কত এখন?
রাজ্জাক: ১৪ টার মতো।
রাজু: একটু আগে আপনি যে সিলেকটিভ ছবির কথা বললেন, সেটা কোন কোন ছবি?
রাজ্জাক: আমি এবার যে ছবিটি করছি সেটা হলো ‘জজ সাহেব’ যমুনা ফিল্মস-এর। মাঝখানে গেস্ট আর্টিস্ট হিসেবে অভিনয় করেছি। পুরোনো লোকরা ধরলে তো আর না করতে পারি না।
রাইসু: এগুলোতে কি নায়কের রোলেই অভিনয় করলেন?
রাজ্জাক: এখনতো আর নায়কের রোলে অভিনয় করা যায় না। সেন্ট্রাল ক্যারেক্টারে অভিনয় করছি। (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: মানুষ কী এক অজানা কারণে ফরহাদ মজহার বা তসলিমা নাসরিনের চাইতে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে

রাজু আলাউদ্দিন | ১২ আগস্ট ২০১৭ ৯:২৩ অপরাহ্ন

কবি নির্মলেন্দু গুণের সাথে দেখা যতটা হয় তার চেয়ে আলাপ হয় বেশি । সে আলাপ মূলত ফোন-নির্ভর। গত রমজানের মাঝামাঝি ফোনে আলাপ শুরু হয়েছিল হাইকোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানোর ব্যাপারে তার নিরবতা দিয়ে, পরে একে একে আলাপের অংশ হয়ে ওঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, হেফাজত, লেখক ফরহাদ মজহার, তসলিমা নাসরিন, অভিনেত্রী কবরী, সুচিত্রা সেন, মুনমুন সেন, সাম্প্রদায়িকতা, লেখকের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়। এসব নিয়ে বরাবরেরই মতো কবি তার স্বভাবসুলভ অকপট ও কৌতুকরসের সমন্বয়ে জানিয়েছেন তার পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য। তার সাথে আমার এই আলাপচারিতার লিখিত রূপটি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। –রাজু আলাউদ্দিন।
goon.jpg
রাজু আলাউদ্দিন: হ্যালো গুণদা, শুনতে পাচ্ছেন? আমি রাজু আলাউদ্দিন। এই পবিত্র রমজান মাসে আপনাকে নমস্কার।
নির্মলেন্দু গুণ: আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা।
রাজু আলাউদ্দিন: আর এই পবিত্র রমজান মাসেই আপনার সম্পর্কে সামান্য নিন্দাও করছি, আমি খানিকটা উষ্মা প্রকাশ করেছি(ফেসবুকে) আপনার নিরবতায়।
নির্মলেন্দু গুণ: : কী সেটা?
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি এই যে মূর্তি নিয়ে কিছুই বললেন না! সেজন্য কথা বলতে একটু উৎসাহ প্রকাশ করছি। ভাস্কর্য সরানো বা রাখার বিষয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণদা তো কিছুই বললেন না! তিনি কাশবনে সংরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি নিয়ে কী করবেন!
নির্মলেন্দু গুণ: কিছু বলিনি, সেজন্য একজন বলেছে কাশবন থেকে (বঙ্গবন্ধুর)ভাস্কর্যটি নিয়ে যাওয়া হবে। (সম্পূর্ণ…)

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: কেউ হিজাব পরলে বা বোরখা পরলে বলবে এটাতো ধর্ম–এখানেই মুশকিলটা হচ্ছে

সাব্বির আজম | ৫ আগস্ট ২০১৭ ৪:০৫ পূর্বাহ্ন

Partha-Chatterjeeপার্থ চট্টোপাধ্যায় এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসবিদদের মধ্যে অন্যতম। দৈনন্দিন রাজনীতিকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও তত্ত্বায়নে তাঁর জুড়ি নাই। ‘আধুনিকতা’, ‘গণতন্ত্র’, ‘সেকুলারিজম’, ‘জাতীয়তাবাদ’, ‘সিভিল সোসাইটি’ ইত্যাদি ধারণাগুলো এখন পোস্টকলোনিয়াল রাষ্ট্রগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বাহাসের কমতি নাই। অনেকেই মনে করেন এই ধারণাগুলো দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোতে ঠিকভাবে প্রোথিত হতে পারে নাই। খামতি থেকে গেছে। এখানকার গণতন্ত্র, সেকুলারিজম, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি বিকৃত বা অপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশে যেকোনো আলোচনায় এই ধারণাগুলাকে খুব কমই মোকাবেলা করা হয়। এগুলোকে স্বতঃসিদ্ধ ক্যাটেগরি আকারে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় একে একদম ভিন্ন তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ক থেকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেন। তাঁর মূল কথা হল, এইসব ধারণাগুলো পশ্চিমা সমাজ ও ইতিহাসের ক্রমবিকাশ থেকে আমদানি করা হলেও, এখানকার স্থানীয় বাস্তবতার সাথে মিলেমিশে এগুলো নিজস্ব আকার লাভ করেছে। একে ঘাটতি আকারে দেখা বা পশ্চিমা ছাঁচে দেখা যথেষ্ট নয়। বরং উপরোক্ত ধারণাগুলো সর্বজনীনতা দাবি করলেও, তাতে সবসময়ই স্থানিকতার কাদা-মাটি লেগে থাকে। লিনিয়েজেস অব পলিটিকাল সোসাইটি (২০১১) বইয়ে দেখিয়েছেন, কেন আধুনিক বা পশ্চিমা রাজনৈতিক তত্ত্ব দিয়ে পোস্টকলোনিয়াল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। আজ [৫ই অগাস্ট] পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ৭০তম জন্মদিন। জন্মদিনে তাঁকে জানাই শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।

গত বছর হলি আর্টিজানের ঘটনার সময় রাতে আমরা সবাই সহি-সালামতে আছি কি না জানতে চেয়ে পার্থ-দা ইমেইল করেন। তখন তাঁকে জানাই কয়েকদিন বাদে কলকাতা যাচ্ছি, উনি কলকাতায় থাকবেন কি না। ১১ জুলাই সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস-এ তার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। আলাপচারিতার সময় আমার দুই বন্ধু আবদুল্লাহ আল মেহেদী ও ব্যারিস্টার আহমেদ ইশতিয়াক রুপম আমার সাথে ছিল।- সাব্বির আজম (সম্পূর্ণ…)

মার্কেস-অনুবাদক আনিসুজ্জামান: মৌলিক আসলে কিছুই নাই, সবই অনুবাদ

অলাত এহ্সান | ২ আগস্ট ২০১৭ ৭:২৯ অপরাহ্ন

anis.gif
বহুভাষি অনুবাদক আনিসুজ্জামানের উজ্জ্বলতম কাজ নোবেল জয়ী কলাম্বিয়ান সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের জগৎখ্যাত Cien años de soledad নামক উপন্যাসটি স্প্যানিশ থেকে প্রথমবারের মতো বাংলায় অনুবাদ। ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে উপন্যাসটি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমে দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশের বছরই উদযাপিত হচ্ছে স্প্যানিশে মূল বইটি প্রকাশের ৫০ বছর পূর্তি। বইটির গুরুত্ব, অনুবাদের বিশেষত্ব ও সংকটসহ সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি কথা বলেছেন এই সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। –বি.স

অলাত এহ্সান : প্রতিটি লেখার ভেতরই লেখকের জীবনের একটা ছাপ-ছায়া থাকে; অনুবাদের ক্ষেত্রে কি অনুবাদকের জীবনের সেই প্রভাব থাকে?
আনিসুজ্জামান : বাদকের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা খুব একটা নেই। অনুবাদের মাধ্যমে পাঠককে মূল বইয়ের স্বাদের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই অনুবাদকের মূল লক্ষ্য। সেখানে অনুবাদকের ব্যক্তিত্বের ছাপ বা ব্যক্তিগত অভিরুচির অনুপ্রবেশ অনুচিত বলে মনে করি আমি।
অলাত এহ্সান : গল্পের সন্ধান পাওয়ার মতো গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের Cien años de soledad’, (আপনার অনুবাদে ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’) উপন্যাসটাও কি আপনার কাছে অনুসন্ধান পাওয়ার মতো কিছু? মানে, একজন লেখক যেমন গল্পের অনুসন্ধান বা প্লট খুঁজে পান, অনুবাদের ক্ষেত্রে আপনিও কি তেমন কিছু অনুভব করেছেন?
আনিসুজ্জামান : আমি একবার বাংলাদেশে আসি, সম্ভবত ২০১০ সালে বা আরো পরে। সে সময় হাবীব (অনুবাদক ও অধ্যাপক জিএইচ হাবিব) ভাইয়ের বইটা প্রথম প্রকাশিত হয়েছে।
অলাত এহ্সান : সম্ভবত ২০১১ সালে।
আনিসুজ্জামান : ২০১১ সালে বইটা আমি কিনি প্লেনে পড়ার জন্য। অনেকগুলো বই কিনেছিলাম তখন। ওর মধ্যে হাবীবের বইটাও ছিল। প্লেনে বসে তার অনুবাদটির দু তিনটা পরিচ্ছেদ আমি পড়েছিলাম। পড়ার পর হঠাৎ করে মনে হলো বইটা যদি আমি এখনই পড়ে ফেলি তাহলে মূল ভাষা থেকে পড়ার ইচ্ছাটা চলে যাবে। ওটা আমি ওখানেই স্টপ করে দেই। যাই হোক, উনি আসলে আমাকে এই বইটার সাথে পরিচয় করে দিয়েছেন–এজন্য আমি তার কাছে কুতজ্ঞ। মজার ব্যাপার হলো বইটা আমি মূল ভাষা থেকে অনুবাদের আগেও সম্পূর্ণটা পড়িনি। আমি পড়তে পড়তে অনুবাদ করেছি। তারও কারণ আছে। আমার ভয় হচ্ছিল আগেই পুরোটা পড়ে ফেললে আমি অনুবাদ করার প্যাশন হারিয়ে ফেলবো। আমার মতে, আমি যদি একবার-দুইবার বইটা পড়তাম, তারপর যদি অনুবাদ করতাম তাহলে হতো কি, খুব সম্ভবত আমি অজান্তেই আমার নিজস্ব বিশ্বাস ও সংস্কারগুলো ঢুকিয়ে দিতাম। আমি তা করিনি। আমি পড়তে পড়তে অনুবাদ করেছি। একেকটা অংশ অনুবাদ করেছি, তারপর দ্বিতীয় বার সেই অংশটা আবার পড়েছি, অনুবাদ ঠিক হয়েছে কিনা দেখার জন্য–এভাবেই করেছি। (সম্পূর্ণ…)

দু’বার চেষ্টা করেও শহীদুল জহিরকে পুরস্কার দিতে পারি নি: হাসান আজিজুল হক

অলাত এহ্সান | ৫ জুলাই ২০১৭ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

Hasan-3বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণমানুষের সংগ্রামের রূপকার হিসেবে বাংলা সাহিত্যে তিনি প্রাতঃস্মরণীয়। বাংলা ছোটগল্পের রাজপুত্র অভিধায় তাকে খ্যাত করেন কেউ কেউ। তার সাহিত্য চর্চায় ছোটগল্পই প্রধান। এ ছাড়া তিনি লিখেছেন প্রবন্ধ, গদ্য, স্মৃতিকথা। তার প্রধান উপন্যাস ‘আগুন পাখি’। অনুবাদ করছেন হেমিং ওয়ের গল্প। দীর্ঘদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপনা করেছেন তিনি। থাকেন সেখানেই। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ আয়োজিত এক সেমিনারে অতিথি হয়ে এসেছিলেন তিনি। সেখানে দুইপর্বে সম্পন্ন হয় এই দীর্ঘ আলাপ। প্রথমে পর্বে দর্শন বিভাগ অধ্যাপকের রুমে সাক্ষাৎকার পর্বে তিনি অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে তার থাকার জন্য গেস্ট হাউসের রুমে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি সাহিত্য, সাহিত্যিক, সাহিত্য তর্ক, সমালোচনা, উভয় বাংলায় সাহিত্যের বর্তমান লেখা ও লেখক, নিজের সাহিত্য কর্ম, অন্যকে নিয়ে লেখা, অনুবাদ, বিশ্বসাহিত্য প্রসঙ্গ, পুরস্কার ও শহীদুল জহির নিয়ে কথা বলেছেন।
এই দীর্ঘ আলাপে অংশ নেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। তার সঙ্গে ছিলেন তরুণ লেখক কে এম রাকিব।—বি.স

প্রথম পর্ব : দর্শন বিভাগ

সাক্ষাৎকারগ্রহীতা : আপনার চার খণ্ডে আত্মজীবনী প্রকাশ হয়েছে, এটা যেখানে এসে শেষ হয়েছে, বোঝা যায়, এটা আরো এগুবে। তো, পরবর্তী খণ্ড নিয়ে কিছু ভাবছেন কি না?
হাসান আজিজুল হক: এই চার খণ্ড কেমন করে পাঠকরা নেয়, দেখি। তারা পছন্দ করে কিনা।
সাক্ষাৎকারগ্রহীতা : আত্মজীবনী নিয়ে আমাদের দেশে যে রকম অনেস্টি, তা নিয়ে হুমায়ূন আজাদ একটা কথা বলেছিলেন, যেন ফেরেশতা হয়তো শয়তানের আত্মজীবনী লিখছে। আপনি লেখাতে, জীবনে যে রকম একটা অনেস্টি মেইনটেইন করে এসেছেন…। সাধারণত হয় কি, আমাদের আত্মজীবনীগুলো নস্টালজিয়ায় বেশি আক্রান্ত, ভাবাবেগ সম্পন্ন হয়ে যায়। ওইটা আপনার আত্মজীবনীতে নেই।
হাসান আজিজুল হক: হুমায়ূন আজাদ কি বলেছেন?
সাক্ষাৎকারগ্রহীতা : একজ্যাক্ট কোটটা আমার মনে নেই। সেটা এমন ছিল যে, বাঙ্গালির আত্মজীবনী পড়লে মনে হয় যে, এটা হচ্ছে শয়তানের জীবন কিন্তু ফেরেশতার মত লেখা।
হাসান আজিজুল হক: ওই লোকটা অত্যন্ত অপ্রিয় কথা বলতেন, কিন্তু সব সময় অপ্রিয় সত্য কথা বলতেন না। অপ্রিয় সত্য কথা অনেক সময় বলতে হয়। প্রিয়ং ব্রুয়াত, অপ্রিয়ং অব্রুয়াত—প্রিয় কথা বলব, অপ্রিয় কথা অব্রুয়াত—বলো না। আর অপ্রিয় সত্য বলা দরকার। অপ্রিয় কথা শুধু অপ্রিয়, এতে সত্য-মিথ্যার কোনো ব্যাপার নাই, একটা মন্তব্য আর কি। (সম্পূর্ণ…)

বুলবন ওসমানের সাক্ষাৎকার: কলকাতায় একবার বাঙালি মুসলিমরা হামলা করেছিল বাবাকে

বিপাশা চক্রবর্তী | ৯ জুন ২০১৭ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

bulbon-1বুলবন ওসমানের জন্ম ১৮ মার্চ ১৯৪০ সালে মামাবাড়ি হাওড়া জেলার ঝামাটিয়া গ্রামে। মা সালেহা ওসমান ও বাবা শওকত ওসমানের প্রথম সন্তান। পৈতৃক নিবাস সবলসিংহপুর, হুগলি। ১৯৪৭-এ দেশভাগে পর শওকত ওসমান চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে যোগ দেন। ১৯৫০ সালে দুই বাংলায় বড় ধরনের দাঙ্গা বাধলে পুরো পরিবার চটগ্রামে চলে আসেন। চট্টগ্রামে স্কুল ও কলেজ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বুলবন ওসমান পড়াশোনার পাঠ শেষ করেন সমাজতত্ত্বে। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত প্রথম বই – কিশোর উপন্যাস কানামামা। ১৯৬৬ সালে চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিল্প সম্পর্কিত সমাজতত্ত্বের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত স্বরচিত কথিকা পাঠ করতেন। ১৯৭৩ সালে শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত চারুকলা ইনিস্টিউটে অধ্যাপনা করেন। অনুবাদ সাহিত্যেও কাজ করেছেন। একজন স্বশিক্ষিত শিল্পী হিসেবে ঢাকা ও কলকাতায় করেছেন জলরঙ, তেলরঙ, প্যাস্টেল ও ড্রাইপেইন্টের প্রদর্শনী। বর্তমানে আঁকা ও লেখালেখিতে পরিপূর্ণভাবে নিয়োজিত। বুলবন ওসমানের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল ২০১৬ সালে শওকত ওসমানের জন্মশত বর্ষে। এ বছর তার জন্মশত বর্ষ উপলক্ষে প্রাবন্ধিক বিপাশা চক্রবর্তীর নেয়া বুলবন ওসমানের সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো। বি. স (সম্পূর্ণ…)

রফিকুননবী : সৌদি আরবের শিল্পীরা ইউরোপে বসে ন্যুড ছবিটবি আঁকে

রাজু আলাউদ্দিন | ৩ জুন ২০১৭ ৬:১২ অপরাহ্ন

Razu-Ronobi-1
কাগজ এবং ক্যানভাস–দুয়েই তার স্বাচ্ছন্দ্য । কাগজে তিনি আঁকেন তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে এমন এক ভাষায় যা চিত্রল গুণে ঋদ্ধ। অন্যদিকে ক্যানভাসে তিনি তুলে ধরেন রংয়ের সেই বর্ণময় সম্ভার যা কথার অমরাবতী হয়ে উঠেছে। বর্ণ ও বর্ণমালা অভিন্ন মর্যাদায় রফিকুননবীর কাছে উদ্ভাসিত, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে না গিয়ে শিল্পী রফিকুননবীকে অনন্য করে তুলেছে। চিত্রশিল্পী, কার্টুনিষ্ট, ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক, শিল্পসমালোচ এবং চিত্রকলার শিক্ষক এখন পরিচয়ের ব্যাপ্তির কারণে কেবলই ‘রনবী’ নামে সুপরিচিত, যিনি অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেছেন টোকাই নামক এক চরিত্রের জন্ম দিয়ে।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই লেখক-শিল্পীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৮ নভেম্বর রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।
পুলিশ অফিসার বাবার বদলির চাকুরির সুবাদে রফিকুন নবীর বাল্য ও কৈশোরকাল কেটেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়৷ পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝিতে ঢাকায় স্থায়ী হন তাঁরা। পুরান ঢাকাতেই কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময় কাটে রফিকুন নবীর৷ ১৯৫০-এর মাঝামাঝিতে স্কুলে ভর্তি হন তিনি৷ পুরান ঢাকার পোগোজ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৫৯ সালে ঢাকার সরকারি আর্ট কলেজে ভর্তি হন তিনি৷ এখানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসানসহ খ্যাতিমান দিকপালের সান্নিধ্যে থেকে পড়াশোনা করেন৷
পড়াশোনা শেষ করে রফিকুন নবী সে সময়ে ঢাকার প্রথম সারির পত্রিকাগুলিতে নিয়মিত কাজ শুরু করেন। নিয়মিত কার্টুন আঁকতেন সাপ্তাহিক পূর্বদেশ পত্রিকায় কবি আবদুল গনি হাজারির কলাম কাল পেঁচার ডায়েরীতে৷১৯৬৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকা আর্ট কলেজের শিক্ষক হিসেবে জীবন শুরু করেন তিনি৷ আর্ট কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রদের নিয়ে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরু হয়৷ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকায় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ, কাপড় ও খাদ্য সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে গ্রীক সরকারের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন বৃত্তি নিয়ে তিনি ভর্তি হলেন গ্রীসের এথেন্স স্কুল অব ফাইন আর্ট-এ৷ পড়াশোনা করলেন প্রিন্ট মেকিং-এর ওপর৷ ১৯৭৬ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি৷ শিক্ষক থেকে ধীরে ধীরে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপকের পদে অধিষ্ঠিত হন৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ ফাইন আর্টস-এর ড্রইঙ ও পেইন্টিং বিভাগে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন এই ইন্সটিটিউটের পরিচালক।
রফিকুন নবী পেয়েছেন একুশে পদক, চারুকলায় জাতীয় সম্মাননা শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, বুক-কভার ডিজাইনের জন্য ১৩ বার ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার৷২০০৮ সালে তাঁর আঁকা খরা শীর্ষক ছবির জন্য ৮০টি দেশের ৩০০ জন চিত্রশিল্পীর মধ্যে ‘এক্সিলেন্ট আর্টিস্টস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে মনোনীত হন।
লেখক-শিল্পী রনবীর দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল গত ১৫ এপ্রিল শনিবার ধানমন্ডির গ্যালারি চিত্রক-এ।
কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে রনবী তার শিল্পী ও লেখক জীবনের নানাদিক তুলে ধরেন। ভিডিওতে ধারণকৃত এই সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপটি তৈরি করেছেন গল্পকার সাব্বির জাদিদ। সাক্ষাৎকারটি ভিডিওতে ধারণ ও আলোকচিত্র গ্রহণে ছিলেন নয়ন কুমার। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ্ খালিদের সাথে একদিন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৩ মে ২০১৭ ৯:০৫ পূর্বাহ্ন

1. সৈয়দ আবদুল্লাহ্ খালিদ ও শিমুল সালাহ্উদ্দিন
চিত্র: সৈয়দ আবদুল্লাহ্ খালিদ ও শিমুল সালাহ্উদ্দিন
অপরাজেয় বাংলায় ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের প্রয়াণে শোকাচ্ছন্ন শিল্পজগৎ। খালিদের চলে যাওয়ার বেদনা ছুঁয়েছে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও। ইতিহাসের এমন অগ্নিপুরুষকে হারিয়ে ভারাক্রান্ত সর্বস্তরের মানুষ। শোকে স্তব্ধ। শ্রদ্ধায় অবনত। চেতনার শৈল্পিক নির্মাতা আব্দুল্লাহ খালিদের জন্য শুধুই হাহাকার। অঙ্কুর, ডলফিন, অঙ্গীকার, মা ও শিশুসহ আরো অনেক ভাস্কর্যের স্রষ্টা আব্দুল্লাহ খালিদ। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে ঘুরে-ফিরে আসছে অপরাজেয় বাংলার নাম।

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন এই ভাস্কর। ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ৭৫ বছর বয়সে ২০শে মে ২০১৭, অর্থাৎ গত শনিবার রাত ১১.৪৫ মিনিটে মারা গেছেন এই শিল্পী, এমন তথ্য আমাকে প্রথম জানায় শিল্পীর পুত্র সৈয়দ আবদুল্লাহ্ জহীর। প্রথমে চারুকলা অনুষদে ও পরে অপরাজেয় বাংলার সামনে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদকে রবিবার বিকেলে দাফন করা হয়েছে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যের প্রতীক (পড়ুন আইকন) অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ্ খালিদের জন্ম পহেলা সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সালে সিলেটের কাজী ইলিয়াস মহল্লার সৈয়দ বাড়িতে। পিতা সৈয়দ আহমেদ মুজতবা ছিলেন বিদ্যানুরাগী, জ্ঞাপপিপাসু, সংস্কৃতিমনা। আবদুল্লাহ খালিদের চারুকলায় পড়ার ব্যাপারে পরিবারের আর সবার মত না থাকলেও, ছিলো পিতার উৎসাহ।

পিতার সম্মান রাখতেই বুঝি কঠোর পড়াশোনা আর নিজের মেধার ব্যবহারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে ১৯৭৪ সালে বেরিয়েছিলেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে। অথচ এই খালিদই পাকিস্তান আমলে, সেসময়ের ইস্ট পাকিস্তান কলেজ অব আর্টস এন্ড ক্রাফটস, বর্তমানে যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, সেখান থেকে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে, কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, পড়তেন অঙ্কন ও চিত্রাঙ্কন বিভাগে, কিন্তু সারাদিন ভাবতেন ভাস্কর্য নিয়ে। চট্টগ্রামে গিয়ে উপযুক্ত ক্ষেত্র পেয়েছিলেন ভাস্কর্য চর্চার, ফলত এই উত্তম ফলাফল। (সম্পূর্ণ…)

মারিয়া বাররেরা আগারওয়াল: আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে বাঙালিদের কাছ থেকে

সামিন সাবাবা | ১৬ এপ্রিল ২০১৭ ১:৩৯ অপরাহ্ন

17887233_1475700202475455_1890454691_oইস্পানোআমেরিকার তরুণ প্রজন্মের লেখকদের মধ্যে অগ্রগন্য মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়ালের জন্ম একুয়াদরে। পড়াশুনা করেছেন একুয়াদর, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পেশায় আইনজীবী হলেও তার মূল আগ্রহ সাহিত্য। লাতিন আমেরিকার হাতেগোনা যে দুই একজন লেখক-প্রাবন্ধিক দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় লেখালেখি করেন মারিয়া এলেনা তাদের মধ্যে অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, গালিব, মহাদেবী বর্মা, ভৈকম মুহাম্মদ বশীর এবং কুররাতুলাইন হায়দারের রচনাকর্ম নিয়ে বহু প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। এদের মধ্য থেকে বেশ কিছু প্রবন্ধ পরবর্তীকালে তার গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৪ সালে তার অনুবাদে প্রথমবারের মতো স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত হয় নজরুলের কবিতা ও প্রবন্ধের তর্জমা। নিউ ইর্য়কে বসবাসকারী মারিয়ার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে:

La Flama y el Eco (Ediciones Sarasvati, 2009), Jornadas y Talentos (UESS, 2010), Merton y Ecuador, la busqueda del pais secreto (PUCE, 2010). Nazrul: Prosa y poemas selectos ( Nazrul Institute, 2014),Leon Americano (Sureditores, 2013) ইত্যাদি।
২০১০ সালে তিনি একুয়াদরের জাতীয় পুস্কার Aurelio Espinosa Polit-এ ভূষিত হন সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য। মারিয়ার এ সাক্ষাৎকারটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর কার্যালয়ে ইংরেজিতে গ্রহণ করেছিলেন সামিন সাবাবা ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় তর্জমা করেছেন রেশমী নন্দী(সম্পূর্ণ…)

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: বাংলাতে হিন্দু নেতারাই চাইলেন যে, ভারতবর্ষ ভাগ হলে বাংলাকেও ভাগ করতে হবে

সাব্বির আজম | ২২ মার্চ ২০১৭ ২:৩৮ অপরাহ্ন

Partha Chatterjeeপার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই সাক্ষাৎকারটা নিয়েছিলাম ২০১৫ সালের ৬ই অগাস্ট । সেদিনই তার সাথে সরাসরি প্রথম দেখা । এর আগে ই-মেইলে যোগাযোগ হয় । ই-মেইলে যখন বললাম কলকাতা এসে তার সাক্ষাৎকার নিতে চাই তখন তার স্বভাবগত আন্তরিকতায় দিনক্ষণ ঠিক করলেন । সাক্ষাৎকারের স্থান সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, কলকাতা ( সিএসএসআর) । বহু বছর ধরে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়ান । কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানই তার ধ্যান ও জ্ঞান । জাতীয়তাবাদ, দেশভাগ, পাকিস্তান থেইকা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বড়াই ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গে আলাপ হয়। আমি ট্রান্সক্রাইব করার পরে তিনি লিখিত রূপটি চূড়ান্ত করে পাঠান। – সাব্বির আজম

সাব্বির আজম: আপনার লেখালেখিতে জাতীয়তাবাদ যেহেতু প্রধান বিষয়, জাতীয়তাবাদ দিয়েই আলাপ শুরু করতে চাই। যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের আবির্ভাব এবং পরবর্তীতে জাতিরাষ্ট্র হিশেবে ভারতের পত্তন, সেই প্রেক্ষাপটে এর প্রধান চারিত্র্য কী?

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
: জাতীয়তাবাদ বলতে আমি রাজনৈতিক বিরোধিতা অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক ধরনের বিরোধিতাকে বুঝি যার পেছনে আধুনিক জাতিরাষ্ট্র তৈরি করার একটা ইচ্ছা ছিল। এইটাকেই আমি জাতীয়তাবাদ ধরছি। একারণে, যেমন ধর ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ নিশ্চয়ই ব্রিটিশবিরোধী, তাতে ভারতবর্ষের বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সমর্থনও ছিল। কিন্তু আমার মতে, একে জাতীয়তাবাদ বলা উচিত না। কারণ সেটার পেছনে ইংরেজকে সরিয়ে ফের মুঘল সম্রাটকে সামনে রেখে,বিশেষ করে রাজা-রাজড়ারা অনেক বেশি ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকবে–এরকম একটা ধারণা ছিল। একটা নতুন জাতিরাষ্ট্র বলতে আমরা এখন যা বুঝি সেরকম ধারণা এই বিদ্রোহে ছিল না। সুতরাং আমার মতে, মোটামুটি ১৮৭০-৮০-র আগে ঠিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদ বলতে যা বোঝায় সেটা ছিল না। কিন্তু ১৮৭০-৮০ থেকে কী ধরনের জাতীয়তাবাদ এল এবং এর উদ্ভব হওয়ার কারণগুলো কী এবং এর মধ্যে কী কী বিশেষ চরিত্র আছে? (সম্পূর্ণ…)

নাসির আলী মামুন: বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছে থেকে, তার কাছাকাছি গিয়ে ছবি তুলেছি

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৯ মার্চ ২০১৭ ৪:৪১ অপরাহ্ন

Nasir-1একটি জাতি কত সমৃদ্ধ তা বোঝা যায় তার বড় মানুষদের সংখ্যাধিক্যে। নাসির আলী মামুন বাঙালি জাতির বড় বিজ্ঞাপন বড় বড় মানুষদের মুখাবয়ব ধরে রেখে আদতে এই জাতির একটি ফটোগ্রাফিক অবয়ব নির্মাণ করেছেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির পুরোধা বলা যায় নাসির আলী মামুনকে। তার শস্তা ক্যামেরার লেন্সেই রচিত হয়েছে পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির এক অনবদ্য কাব্যময়তা। নিরন্তর পোর্ট্রেট তোলার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা নাসির আলী মামুন ছুটে বেরিয়েছেন দেশ-দেশান্তরে। তার তোলা পোর্ট্রেটের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। শিল্পী, লেখক, রাজনীতিবিদ, বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যক্তিরা হয়ে উঠেছেন তার শিল্পিত লেন্সের অন্তর্দর্পন। এছাড়া তার একটি বিশেষ শখ শিল্পীদের শিল্পকর্ম সংগ্রহ এবং খ্যাতনামা ব্যক্তিদের হাতে খাতা ও রঙ-তুলি দিয়ে ছবি আঁকিয়ে নেয়া। ব্যক্তিত্বের পোর্ট্রেট সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের গহিনে লুকিয়ে থাকা অন্য এক সত্তাকে তিনি আবিষ্কার করে আনেন। ব্যক্তির মননে লুকিয়ে থাকা শিল্পীর জাদুকরী নান্দনিক রেখায় ধরা দিয়েছে নাসির আলী মামুনের সমৃদ্ধ শিল্প সংগ্রহশালা। বাংলাদেশের শিল্পী শাহাবুদ্দীন, কাজী আবুল কাশেম, আমিনুল ইসলাম, কামরুল হাসান, যোগেন চৌধুরী, সুহাস চক্রবর্তী, দেবদাস চক্রবর্তী, মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউনূস, পরিতোষ সেন, সন্তুর সম্রাট শিবকুমার শর্মা, ঠুমরীর রানী বিদুষী গিরিজা দেবী, কবি শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ, বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবদুর রাজ্জাক, শিল্পী এসএম সুলতান, রণি আহম্মেদ,— কে নেই তার সংগ্রহশালায়?

নাসির আলীর মামুন একটি ব্যক্তিগত আর্কাইভ বা মিউজিয়াম গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ‘ফটোজিয়াম’ নামের একটি জাদুঘর নির্মাণে কাজ করছেন কয়েক বছর ধরে। ক্যামেরায় ছবি তোলার পাশাপাশি তিনি পরম যত্নে সংগ্রহ করেছেন শিল্পী-সাহিত্যিক এবং সৃজনশীল ব্যক্তিত্বদের আঁকা বিভিন্ন মাধ্যমের দুর্লভ সব ছবি। ছবিমেলার নবম আসরে তিনি পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। ছবিমেলা শুরুর আগে সংবাদটি জানার পরপরই তার তোলা ছবি দিয়ে সাজানো গ্যালারিতে নাসির আলী মামুনের মুখোমুখি হয়েছিলেন কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অভিনন্দন মামুন ভাই! জাস্ট একটু আগেই শুনলাম যে আপনি ছবিমেলার নবম আসরের আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন, আপনার পাশাপাশি এ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাঈদা খানম। আপনার অনুভূতি জানতে চেয়ে শুরু করতে চাই আজকের এই সাক্ষাৎকারটি। কেমন লাগছে?
নাসির আলী মামুন: আমি তো মহাখুশি। এই কারণে যে এর আগেও কিন্তু আমি সম্মানীত হয়েছি এ রকম লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড অনেকগুলো অর্গানাইজেশনের। কিন্তু ছবিমেলা একটা একটা আন্তর্জাতিক উৎসব। দুই বছর পর পর হয় ঢাকাতে। এবং এই উৎসবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আলোচিত শিল্পীরা অংশগ্রহণ করে। শুধু তাই না, বিভিন্ন বড় বড় মিউজিয়াম গ্যালারির কিউরেটর যারা, তারা কিন্তু আসে। কাজেই এটা আমি মনে করি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এবং এই ফোরাম থেকে, ছবিমেলা থেকে যে আমাকে এইবার লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড দেয়া হলো, আমি এটার জন্য সত্যিই সম্মানীত বোধ করছি। (সম্পূর্ণ…)

চিন্ময় গুহ: ভারতবর্ষে ইন্ডিয়ান রাইটিং ইন ইংলিশ আসার পর থেকে চটজলদি সফলতার দিকে লোকে চলে যাচ্ছে

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৫২ অপরাহ্ন

Chinmoy Guhaবাংলা একাডেমির আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, ফরাসিবিদ ও অনুবাদক চিন্ময় গুহ, অতিথি হয়েছেন কালি ও কলম তরুণ লেখক পুরস্কার অনুষ্ঠানে, বক্তৃতা করেছেন জাতীয় কবিতা উৎসবের প্রথম পর্বে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক, কয়েকবছর পড়িয়েছেন বাংলা বিভাগেও। দায়িত্ব পালন করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেরও।

ছিলেন নতুন দিল্লির ফরাসি দূতাবাসে প্রকাশনা উপদেষ্টা। ‘দেশ’ পত্রিকার গ্রন্থসমালোচনা বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন এক দশক। লিখেছেন চিলেকোঠার উন্মাদিনী, গাঢ় শঙ্খের খোঁজে, আয়না ভাঙতে ভাঙতে, লা রোশফুকোর ম্যাক্সিম, আহাম্মকের অভিধান, অপু ট্রিলজি, ভিক্তর য়্যুগো, দাঁতঁ— এলিয়টকে নিয়ে Where the Dreams Cross: T S Eliot and French poetry এবং The Tower and the Sea এর মতোন পাঠকনন্দিত বই।
নিজের সাহিত্যকর্মের জন্য দুবার পেয়েছেন ফরাসী সরকারের নাইট-এর সম্মান, ২০১০ ও ২০১৩ সালে। বিশিষ্ট এই অনুবাদক ও প্রাবন্ধিকের সাথে ঢাকা ক্লাবের লবিতে আলাপ করেছেন কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন কবি জাহানারা পারভীনও। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com