নাটক

এডওয়ার্ড অ্যালবি’র অভিজ্ঞানহীন নান্দনিক জীবনাবসান

আবদুস সেলিম | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৭:০৩ অপরাহ্ন

Albeeনাট্যকার এডওয়ার্ড অ্যালবি গতকাল (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬) ৮৮ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি সর্বমোট সতেরটি নাটক, বেশকিছু প্রবন্ধমালা এবং তার নিজ নাটক দ্য জ্যু স্টোরির জন্য সঙ্গীত রূপরেখা রচনা করে গেছেন তার এই দীর্ঘ নান্দনিক জীবনযাত্রায়।
বিংশ শতাব্দীর একজন প্রথম সারির মার্কিন তথা বিশ্বের নাট্যকার হিসেবে এডওয়ার্ড অ্যালবিকে গণ্য করা হয় ইউজিন ও’নীল, আর্থার মিলার এবং টেনেসি উইলিয়ামস-এর সাথে। অ্যালবি একমাত্র নাট্যকার যিনি তিনবার পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
চরিত্রের সুক্ষ্ম চিত্রনের কারণে অ্যালবির ওপর চেখভ এবং টেনিসি উলিয়ামসের প্রভাবের বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না, যদিও অ্যালবি ‘ল্যাবেলিং’ বা গায়ে অভিজ্ঞান লাগানো পছন্দ করতেন না।
এডওয়ার্ড অ্যালবি-র জম্ম ১৯২৮ সালে। অ্যালবি গত শতাব্দির পঞ্চাশের দশক থেকে নাটক লেখা শুরু করেন। পরবর্তি কয়েক বছরে তাঁর রচিত বেশ ক’টি একাঙ্কিকা লক্ষনীয়ভাবে লোকগ্রাহ্য হয়ে ওঠে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৫৯-এ রচিত দ্য জু স্টোরি। কিন্তু অ্যালবির খ্যাতি মূলত ১৯৬২-তে তার প্রথম লেখা পূর্ণাঙ্গ নাটক হু’জ আফ্রেইড আভ ভার্জিনিয়া উল্ফ্-এর মাধ্যমে যেটি এলিজাবেথ টেইলর ও রিচার্ড বার্টন-এর অভিনয়ে ১৯৬৬ সালে চলচ্চিত্রায়িত হয়। (সম্পূর্ণ…)

দ্বৈত ও অদ্বৈতের প্রসারিত যাত্রা

আবদুস সেলিম | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৮:১৪ অপরাহ্ন

Gohonjatraজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন তাঁর সেলিম আল দীনের নাট্য নির্দেশনা নন্দন ভাষ্য ও শিল্পরীতি গ্রন্থের ভূমিকায় বলছেন, ‘দ্বৈতাদ্বৈত’ শিল্পতত্ত্বভাষ্যকার নির্দেশক সেলিম আল দীন আমৃত্য ব্যাপৃত ছিলেন মঞ্চ দৃশ্যকলা, পাঠ ও শ্রবন শিল্পকলা প্রভৃতির সমন্বয়ে একটি মঞ্চকাব্য সৃজনপূর্বক নিজস্ব নন্দনভাষ্য এবং শিল্পরীতির কাঠামো নির্মাণ কল্পে।’ সেলিম আল দীনের এই প্রচেষ্টা তার শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সঞ্চারণ করতে পেরেছেন, তার অন্তত একটি সজীব উদাহরণ সম্প্রতি মঞ্চস্থ রুবাইয়াৎ আহমেদরচিত একক অভিনিত নাটক ‘গহনযাত্রা’। নাটকটির শরীরে সেলিমের নন্দন-দর্শন খুবই স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হয়, বিশেষ করে এর অাখ্যায়িক চরিত্র ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদ শিল্পচেতনার কারণে যার মধ্যে সমন্বিত হয়েছে ড. হারুণ উল্লিখিত ‘দৃশ্যকলা’, পাঠ ও শ্রবন শিল্পকলা’। স্পষ্টতই এই উপাদানগুলো ‘ন্যারটিভ-এরই উপাদান।

নাট্যকার রুবাইয়াৎ আহমেদ এই নাটকের নামকরণ করেছেন ‘দ্বৈত ও অদ্বৈতের আখ্যান, গহনযাত্রা’। বাংলাদেশের নাট্যামোদী মাত্রই জানেন, দ্বৈত-অদ্বৈতবাদের জনক সেলিম আল দীন, যাঁর সরাসরি ছাত্র রুবাইয়াৎ। কাঠামোগতভাবেও নাটকটি সেলিম-এর তাত্ত্বিক ধারায় অনুসৃত, যেমন প্রতিটি অপবর্তনের একটি করে শিরোনাম সংযোজন হয়েছে এবং নাটকের ভূমিকা হয়েছে ‘যাত্রারম্ভ’ নামকরনে। এই বিষয়টিও আমার কাছে প্রতিকী মনে হয়–প্রথমত যাত্রা অর্থে অন্তরের ভেতরে এক পরিশুদ্ধির অন্তহীন ভ্রমণ যার মূলমন্ত্র ‘সবার মনে জাগ্রত হোক প্রেম, সবার সর্বান্তকরণ ভরে উঠুক শুভবোধে, সবাই সুন্দর আর নির্মল হোক।’ (সম্পূর্ণ…)

আদিম লতাগুল্মময় শেকসপিয়রের নগ্ন প্রদর্শনী

বিপাশা চক্রবর্তী | ৫ জুন ২০১৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

pic-1.jpgনা সেদিন আকাশ ভেঙ্গে পড়েনি মাটিতে। মান সম্মান আর রীতিনীতির সুতোয় বোনা সভ্যতার চাদরও টুটে যায়নি কোথায়ও। সেদিন সূর্যাস্তের ঘন্টাখানেক আগে। নিউইয়র্ক শহরের সেন্ট্রাল পার্কের সবচেয়ে উঁচু যে জায়গাটি সামিট রক, সেখানে তারা জড়ো হলেন। আট জন অসাধারণ অভিনয়শিল্পী, তিন জন মেধাবী নৃতশিল্পী ও দক্ষ দুইজন বাদ্যযন্ত্রী। ১৩ জনের সবাই নারী । তারা প্রদর্শন করলেন উইলিয়াম শেকসপিয়রের অমরকীর্তি জাদু আর বিভ্রমের নাটক ‘দ্য টেমপেস্ট’। খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে। অভিনয় করলেন নগ্ন হয়ে। সম্পূর্ণ নগ্ন বলতে যা বোঝায়–উলঙ্গ হয়ে। পুরো দু’ঘন্টা। মাত্র একশ গজ দূর থেকে শুরু হয়েছে দর্শকের সারি। পার্কে আগত স্থানীয় লোকজন, পর্যটক, ছেলেবুড়ো নারী পুরুষ সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন দর্শনার্থী। উপভোগ করলেন অভিনব কায়দায় উপস্থাপিত ঐতিহাসিক নাটকটি। কিন্তু এ ঘটনা ২০০ জন দর্শকের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকল না। ছড়িয়ে গেল সারা পৃথিবীতে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ডেইলী মেইল, নিউ ইয়র্ক নিউজ ডে’সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা আর অগুনতি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। বেশ গুরুত্ব দিয়ে তারা প্রকাশ করল ‘দ্য টেমপেস্ট’ নাটকের এই বিশেষ প্রদর্শনীর কথা। একদিন না পরপর দুদিন। একইস্থানে ১৯ ও ২০মে হল এই প্রদর্শনী। ঝড় আর বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও রচিত হল ডাকিনীবিদ্যা আর ষড়যন্ত্রের ইন্দ্রজাল ‘দ্য টেমপেস্ট’। মহান নাট্যকার ও কবি শেকসপিয়রের ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে ২০১৬ তে। এ উপলক্ষে সারা বিশ্ব জুড়ে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। এমনকি প্রকাশনী সংস্থা হোগার্থ-এর উদ্যোগে ‘দ্য টেমপেস্ট’ কে একুশ শতকের পাঠকের জন্য নতুন রূপে পরিচয় করিয়ে দিতে উপন্যাস আকারে লিখছেন বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও কবি মার্গারেট এটউড। নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত নাটকটিও শেকসপিয়রের মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের অংশ ছিল। কিন্তু কেবল মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনই এর মূল উদ্দেশ্য না-কি অন্য কিছু? (সম্পূর্ণ…)

খুঁজে ফিরি অসমাপ্ত পথরেখা, ব্যর্থতার বিন্দুগুলি

সোহেল হাসান গালিব | ১৫ জানুয়ারি ২০১৬ ৫:১৫ অপরাহ্ন

selim-1.jpgবাংলাদেশে, শিক্ষিত বাঙালির কাছে নাটক আর সেলিম আল দীন কথা দুটো প্রায় সমার্থক। কারণ সহজেই অনুমেয়। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে নাটক নিয়ে যে-সব কর্মতৎপরতা তিনি চালিয়েছেন, বাংলা ভাষার আর কোনো লেখক, গবেষক, নির্দেশক, চিন্তক এককভাবে কেউ তা করেন নি। একদিকে নাটকের নানা তত্ত্ব উদ্ভাবন, অন্যদিকে তার মৌলিক রচনায় সে-সবেরই সফল প্রয়োগ। পাশাপাশি পাঠ, চর্চা ও গবেষণার প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠা করেছেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্বতন্ত্র একটি বিভাগ হিশেবে এর যাত্রা, অন্তত বাংলাদেশে, তারই হাত ধরে।

যদিও সেলিম আল দীন বাংলাভাষীদের কাছে নাট্যকার হিশেবেই পরিচিত, তবু লেখক নিজে তার রচনাকে নাটকমাত্র বিবেচনা করেন না। মূলত তিনি আখ্যান নির্মাণ করেন। আর তার সমস্ত রচনাই বারবার পাঠযোগ্য, পাঠযোগ্য কাব্যগুণেই। সাহিত্যকে গদ্যপদ্যের বিভাজিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কখনো বিচার করেন নি তিনি। কাব্য, সঙ্গীত, আখ্যান ও নৃত্য–প্রাক-ইউরোপীয় বাংলাসাহিত্যের সমস্ত প্রবণতাকে অঙ্গীকার করে নিয়েই এক অখণ্ড শিল্পভুবনের দিকে তার যাত্রা। বহুকে তিনি একসূত্রে অর্থাৎ এক অদ্বয়-সম্বন্ধে গেঁথে তোলেন। এর নাম দিয়েছেন তিনি ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’। খণ্ড খণ্ড পরিচয়ের মধ্যে জগৎ ও জীবনের যে অখণ্ড রূপাভাস, তার রচনায় সেই রূপেরই উন্মোচন। (সম্পূর্ণ…)

গ্লোবের হ্যামলেটে মুগ্ধতা

রুবাইয়াৎ আহমেদ | ১৭ জুলাই ২০১৫ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

drama-hamlet-4.JPGসারাদিনই বৃষ্টি ছিল ঢাকায়। কখনও মুষলধারে আবার কখনও বা গুঁড়িগুঁড়ি। তবে সরকারি ছুটি থাকায় যানবাহনের তেমন ভিড় রাস্তায় ছিল না। রোজার এই সময়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ওয়ানডে ম্যাচের ফলের দিকেও দেশবাসীর দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা। যে কারণে কোথাও তেমন ভিড় নেই। বেশিরভাগ মানুষই টেলিভিশনের সামনে।

কিন্তু একটি জায়গা ছিল ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা। বুধবার বিকাল থেকেই সেখানে লোকে লোকারণ্য। কারণ একটি নাট্যদল আজ এখানেই মঞ্চস্থ করবে বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের সর্ববৃহৎ ট্র্যাজেডি ‘হ্যামলেট’। তবে বিষয়টি এখানে শেষ হলে মানুষের আগ্রহের নেপথ্য রহস্যটুকু ঠিক উন্মোচিত হবে না। (সম্পূর্ণ…)

ইতিহাসের তাসের দেশে: অনূদিত অনুভবগুলো

চয়ন খায়রুল হাবিব | ৯ মে ২০০৮ ১০:৩৫ অপরাহ্ন

rabi.jpg
রবীন্দ্রনাথ, ১৯২১ সালে লন্ডনে

11prince-merchant-cards.jpg
লন্ডনে হাই চিংয়ের পরিচালনায় তাশের দেশ অপেরা। রাজকুমার, বণিক আর তাসেরা। ছবি: Simon Richardson

পূর্বকথন
এ-সপ্তাহের শুরুতে দেখলাম চৈনিক তরুণ হাই চিঙ্গয়ের পরিচালনায় Foundation for Indian Performing Arts প্রযোজনা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কুশীলবদের সমাবেশে রবীন্দ্রনাথের তাশের দেশ অপেরাটির একটি td3.jpg……..
তাশের দেশ অপেরায় সিড সাহা ও অনুজ মিশ্র, ছবি: Simon Richardson
……….
বিশ্বস্ত মঞ্চায়ন। পশ্চিম লন্ডনের প্রাচ্যকলা বিদ্যালয়ের ব্রুনেই গ্যলারির মঞ্চ ছোট হওয়ায় একক ও দ্বৈত নাচগুলো দেখানো হল মঞ্চে আর দলীয় পরিবেশনাগুলো দেখানো হল আগে ধারণ করা ভিডিওতে, পর্দায়। সূত্রধরের ভুমিকায় হাই চিং নিজে দিলেন ইংরেজি ধারাভাষ্য।
—————————————————————–
বীরপুরুষ ধরনের এক রাজকুমার অজানাকে জয় করতে বেরিয়েছে। তাসগুলো হচ্ছে বর্ণাশ্রমের, শ্রেণিভেদের, অচলায়তনের প্রতীক। রাজকুমারের জংলিপনা ধূলিস্মাৎ করে দেবে হরতন, ইস্কাপন, রুইতনের জরদগব শৃঙ্খলা!
—————————————————————–
সপ্তাহের শেষে এক আন্তর্জাতিক অনুবাদ ওয়ার্কশপে দেখলাম ও শুনলাম তাসের দেশে কবিগুরু যে ব্রটিশ রাজের পরোক্ষ সমালোচনা করেছিলেন তারই নাক উঁচু ভৌতিক প্রতিধ্বনি। (সম্পূর্ণ…)

উইলিয়াম শেক্সপিয়র-এর ট্র্যাজেডি অবলম্বনে

এ নিউ টেস্টামেন্ট অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট

সাইমন জাকারিয়া | ২৫ এপ্রিল ২০০৮ ১২:০৪ অপরাহ্ন

কথামুখ
‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’-এর কাহিনীকার হিসেবে উইলিয়াম শেক্সপিয়র-এর নামটি জানা থাকলেও আমাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে, এর কাহিনীটি অতি প্রাচীন এবং শেক্সপিয়র এ কাহিনীটি ধার romeo_and_juliet_brown.jpg
…….
১৮৭০-এ আঁকা ফোর্ড ম্যাডক্স ব্রাউনের তেলছবি, রোমিও জুলিয়েট-এর বিখ্যাত ব্যালকনি দৃশ্য
…….
করেছিলেন তাঁর থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে লেখা ইংরেজ লেখক আর্থার ব্রুকস্-এর দি ট্র্যাজিক্যাল হিস্ট্রি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট নামের একটি মহাকাব্যিক রচনা থেকে।

কাহিনী হিসেবে রোমিও-জুলিয়েটের ইতিহাস শুধু এটুকুই নয়, বরং তা সুদূর অতীত পর্যন্ত বিস্তৃত। গবেষণায় জানা যায়, রোমিও-জুলিয়েটের এই সকরুণ bandello.jpg…….
মাতিয়ো বান্দেলো (১৪৮০-১৫৬২)
…….
প্রেমকাহিনী সংঘটিত হয়েছিল ইতালিতে। সেখানে এই প্রেমময় জীবন-গাঁথা উপাখ্যান হিসেবে আনুমানিক ১৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ পেলেও মূল কাহিনীটি সম্ভবত ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের। আর মূলকাহিনীতে দেখা যায়, প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবার চেয়ে আত্মহত্যাকেই শ্রেয় বলে মেনে নেয়।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ইতালির এমন ঘটনার একশত বছর আগে প্রায় একই রকম আরেকটি কাহিনীর সন্ধান পাওয়া যায় স্পেনের তেরুয়েলে। অবশ্য স্প্যানিশ আখ্যানে এ কাহিনীর একটু ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। রোমিও সেখানে আত্মগোপন করে রয়েছেন, আর জুলিয়েট সেই সময়ে অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে বসেন এবং নতুন বিয়ে করা স্বামীর সাথে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার পর তার (জুলিয়েটের আগের) স্বামী এসে তাদেরকে একসঙ্গেই সমাহিত করেন।

shex.jpg…….
উইলিয়াম শেক্সপিয়র (১৫৬৪-১৬১৬), শিল্পী: Martin Droeshout, ১৬২৩
…….
গবেষক মনে করেন, স্পেনে সংঘটিত ওই প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলের গল্পটা একসময় ইতালিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে তা কিংবদন্তীর আকার লাভ করে। সে কিংবদন্তীকে অবলম্বন করে ইতালির লেখক মাতিয়ো বান্দেলো একটি উপন্যাস রচনা করেন। ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দে বান্দেলোর সে উপন্যাস থেকেই কাহিনী ধার করে ইংল্যান্ডের লেখক আর্থার ব্রুকস্ তাঁর মহাকাব্যিক রচনা দি ট্র্যাজিক্যাল হিস্ট্রি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট প্রকাশ করেন। তারও ত্রিশ বছর পরে আনুমানিক ১৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে আর্থার ব্রুকস্-এর কাহিনী ধার করে শেক্সপিয়র বিখ্যাত ট্র্যাজেডি রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট রচনা করেন।

সত্যি কথা বলতে কী, বর্তমান নাটকটি লেখার আগ পর্যন্ত এ সব তথ্য আমার নিজেরও জানা ছিল না। কিন্তু নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে শেক্সপিয়রের আখ্যান নির্ভর এই নাট্য রচনার পর আমার মনে অনেকগুলো প্রশ্ন জন্ম নিল, তার মধ্যে প্রধান প্রশ্নটি হলো — শেক্সপিয়রের অন্যান্য নাট্যাখ্যানের মতো এ আখ্যানটিকে নিয়েও বহুভাবে, বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিশ্চয় সারা পৃথিবীতে ব্যাপক নাট্যকর্ম সৃজিত হয়েছে, এক্ষেত্রে নিজের অজ্ঞতায়, অজ্ঞানে পৃথিবীর অন্য কোনো নাট্যকারের নাট্যচিন্তা ও নাট্যকর্মের পুনর্বয়ান বা পুনর্নিমাণ করলাম না তো? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশের তরুণতর বিশ্বসাহিত্যের পাঠক থেকে শুরু করে বিশ্বসাহিত্য বিশেষজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্বনাট্য দর্শনে অভিজ্ঞ নাট্যনির্দেশক ও কাছের বন্ধুদেরকে নাটকটি পাঠ করতে দেই, সর্বোপরি ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করি।

প্রায় সব ধরনের অনুসন্ধানের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসা তথ্যগুলো বর্তমান নাট্যকর্মের পক্ষে জোরালো কিছু যুক্তি এনে দেয়। কেননা, প্রাগৈতিহাসিক কালের রোমিও-জুলিয়েটের আসল কাহিনীকে ট্র্যাজেডি-নাট্যে রূপ দিতে মহাত্মা উইলিয়াম শেক্সপিয়র যা করেছিলেন তা সুচতুর একটি খেলা ছাড়া কিছু নয়, বর্তমান নাটকটি সে-কথাই প্রমাণ করেছে। এক্ষেত্রে বিশেষ কৌশলে দেশ-কাল-পাত্রের সীমাবদ্ধ গণ্ডীকে অতিক্রম করে শিল্পের সার্বজনীন ভূখণ্ড, সময় এবং চরিত্র সৃজন করেছি মাত্র। যা নাট্যচিন্তা প্রকাশের তীব্রতাকে বাড়িয়েছে বলে আমার ধারণা। (সম্পূর্ণ…)

ভাঙা গড়ার রবীন্দ্রনাথ

প্রাচ্যনাট-এর ‌’রাজা …এবং অন্যান্য’

ব্রাত্য রাইসু | ৫ মার্চ ২০০৮ ২:২৩ পূর্বাহ্ন

raja-3.jpg
রাজা নাটকের দৃশ্যে আফসানা মিমি, প্রেসের জন্য দেয়া ছবি থেকে

দুইদিন আগে আমিরুল রাজীভ ফোন কইরা জানাইলেন, প্রাচ্যনাটের একটা নাটক হবে বৃটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে আমি যেন যাই। আমি ওনারে জিজ্ঞেস করলাম টিকেটের ব্যবস্থা আছে কিনা? জানাইলেন আছে, তবে আমারে এমনেই দেখাইবেন। আমি বুদ্ধিজীবী হিসাবে সমাজে নাটকে আমন্ত্রিত হইতেছি এইটা ভালো লাগলো না। আমি ভাবলাম টিকেট কাইটাই ঢুকব নে। তো গিয়া দেখি টিকেট-এর দাম আছে কিন্তু টিকেট বিক্রয় হবে না। আমিরুলরে খোজ কইরা একটু পরে ওনার ফোন পাইলাম। এবং আমি ভিতরে যাইতেই খাতা বাড়াইয়া দিলেন। সই নিলেন। বললেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর-এর একজন হিসাবেই উনি আমারে দাওয়াত দিছেন। একটা সিডিও ধরাইয়া দিলেন। লেখক থিকা ধাক্কা দিয়া সাংস্কৃতিক রিপোর্টার বানাইয়া দিলেন। টাফ জব। তবে আমি তাতে অরাজি না। বুঝলাম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হইয়া উঠতে ঢের বিলম্বিছে, আপাতত সাংবাদিকখানি হওয়া গেছে, এই অনেক বটে।

raja-2.jpg
নাটকের দৃশ্য

রাজীভ দাড়ি রাখেন, লম্বা চুল, দেখতে নুরানী। অনুরোধ করলেন আমি যেন রিপোর্টটা করি। আমি জানাইলাম, ‘আমি তো ঠিক রিপোর্ট করি না।’ মানে বলতে চাইলাম, আমি তো লেখক! কিন্তু উনি আমারে লেখক হইতে দিবেন না। জানাইলেন, আমি লিখলে খুশি হইবেন।

তো সে কারণেই এই রিপোর্ট। নাটক দেইখা ভালো লাগল। অনেক পোস্ট মডার্ন ব্যাপার সেপার আছে। রবিবাবুর রাজা নাটকে লাদেন হুগো শ্যাভেজের নামও নেয়া হইছে। নানা এই কালের সরঞ্জাম ঢুকছে নাটকে। তবে মোবাইল ফোন বোধহয় নাই। (মাঝখানে টয়লেটে গেছি, তখন দেখাইয়া থাকলে বা রিং টোন শোনাইয়া থাকলে জানি না।) ছেলেমেয়েরা হিন্দি/তামিল (নাকি বাংলা?) সিনেমার ঢঙে নাচছেও। সাংস্কৃতিক গ্রহণ! ভালোই লাগছে। সদর্থে। তবে…

সেইটা পরের প্যারার পরে কই। (সম্পূর্ণ…)

সেলিমের জন্য

ফরহাদ মজহার | ১৯ জানুয়ারি ২০০৮ ২:৪১ অপরাহ্ন

আমি যাদের সঙ্গে ষাট ও সত্তর দশকে বড় হয়েছি, এক ঘরে থেকেছি, গাদাগাদি করে এক ঘরে তিনচারজন ঘুমিয়েছি, তারাশংকরের রাইকমল পড়ে জগৎময় শ্রীমতি রাধিকাকে দর্শন করে বেড়িয়েছি তাদের মধ্যে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সেলিম আল দীন। আজ বুঝতে পারি ঘনিষ্ঠ হবার বিস্তর
sad-2000.jpg………
২০০০ সালে জনৈক ছাত্রের তোলা সেলিম আল দীনের ছবি, মাহবুব মোর্শেদের সৌজন্যে পাওয়া
………
কারণের মধ্যে একটা কারণ ছিল সেলিম নোয়াখালির আর আমিও নোয়াখাইল্যা। না, নোয়াখাইল্যা বলে ওর সঙ্গে আমার উঠতি যৌবনের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়েছিল বলা যাবে না। কিন্তু সংবাদ হিশাবে সকলকে বলে রাখা ভাল—আমি ও সেলিম আল দীন আমাদের মাতৃভাষা বলতে নোয়াখাইল্যা ভাষা বুঝতাম—ঘরে আম্মার সঙ্গে যে-ভাষায় দৈনন্দিন কথা বলি সেই কথাশৈলীর বাকমাধুর্য, ধ্বনি ও কলিজার ভেতর থেকে পদ প্রকরণ তৈরির কারখানার আওয়াজ রহস্যজনক ব্যাপার-স্যাপার হয়েই আমাদের তাড়া করত। সোজা কথা, প্রমিত ভাষা বলে কোনো স্থির ও খাপ খাপ ভাষা আছে সেটা আমরা মানতাম না। কসম খোদার। সব ভাষাই ভাষা, যদি যুৎ মতো কওন যায়—এটা আমাদের চেয়ে খিস্তিখেউড়ে পারঙ্গম আর কোন্ শালা জানত? (সম্পূর্ণ…)

শুধু দেহ লুপ্ত হয়

ফৌজিয়া খান | ১৯ জানুয়ারি ২০০৮ ১:৩৩ অপরাহ্ন

২০০১ সাল থেকে আমি বাংলা নাটকের অভিনয়রীতি এবং সেই রীতির
sad_fish.jpg………
ধামরাইয়ে শিমূলের বাড়িতে, পুকুরে ছিপ ফেলেছেন সেলিম আল দীন
……..
ভেতরে অভিনেত্রী শিমূল ইউসুফের বিচরণ বিষয়ক গঠিত হই শূন্যে মিলাই-এর চিত্র ধারণ এবং গবেষণার কাজ করছিলাম।

২০০৭ সালে শরতের কোনো একদিন, ধামরাইয়ে ‘শিমূলেরবাড়ি’তে (অভিনয়শিল্পী শিমূল ইউসুফ-এর নামে এলাকার নাম ‘শিমূলেরবাড়ি’ হয়েছে। গ্রামে ঢোকার মুখেই সাইনবোর্ডে বেশ বড় করেই লেখা ‘শিমূলেরবাড়ি’) ওই ছবিরই শ্যুটিং-এর কাজে নাসির উদ্দীন ইউসুফ, শিমূল ইউসুফ এবং সেলিম আল দীন আসবেন। নিমজ্জন নাটকটি তাঁরা পাঠ করবেন। ঢাকা থিয়েটারের সাম্প্রতিক প্রযোজনা নিমজ্জন তখনো মঞ্চায়িত হয়নি। প্রস্তুতি চলছে। তাঁদের একত্রিত পাঠ প্রামাণ্যচিত্র গঠিত হই শূন্যে মিলাই-এর জন্য ক্যামেরায় ধারণ করব। (সম্পূর্ণ…)

চাকা: দেশ নেই কাল নেই

মোসাদ্দেক মিল্লাত | ১৯ জানুয়ারি ২০০৮ ১২:১৩ অপরাহ্ন

sad-3.jpg
সেলিম আল দীন, ছবি: ইফতেখার ওয়াহিদ ইফতি

গভীর রাত। রাত গাঢ় হয় কিন্তু ঘুমে ঘোর লাগে না। ভোরে ঘুম ভাঙতেই ছুটতে হবে ঢাকায়। রাজনীতি করি না, কিন্তু রাজপথ ডাকে। প্রায় সকল স্তরের শিল্প ও সংস্কৃতিকর্মীরা তখন রাজপথে। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অস্থির বাংলাদেশ।

অস্থির সেলিম আল দীন দ্রুতগতিতে পায়চারি করেন তাঁর বেডরুম থেকে ডাইনিং স্পেসের পাশের প্যাসেজ ধরে বাইরে বেরুবার দরজা পর্যন্ত। কয়েকগজ জায়গায় এপাশ ওপাশ করেন।

ঠিক তার পাশেই খোলা ড্রয়িংরুমে কাঠের নিচু খাটে আধো ঘুমে বা ঘুমের ভান করে পড়ে আছি আমি।

এমন করে হাঁটাটা সেলিম আল দীনের অভ্যাস। দীর্ঘদিন ধরেই দেখছি। কতক্ষণ হেঁটে কতক্ষণ লিখবেন। আবার শোবেন। আবার উঠবেন, হাঁটবেন, লিখবেন কয়েক পৃষ্ঠা। আবার শোবেন।

দাঁড়ালেন তিনি আমার শিয়রে। আমি নিশ্চিত টের পেলাম। একবার ডাকলেন আমার নাম ধরে। একবারই। চলে গেলেন বেডরুমে। আমি উঠে পড়লাম দ্রুত। বেডরুম থেকে বেরিয়ে এলেন শার্ট পরতে পরতে। বললেন আয়। দরজা খুলে প্রায় নিঃশব্দে বাইরে বেরিয়ে এলেন তিনি। পেছন পেছন আমিও। তালা-চাবি ধরিয়ে দিলেন হাতে। বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিলাম। ভেতরে ঘুমুচ্ছেন ভাবী বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা পারুল। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com