টীকাভাষ্য

মান্নান-এর বিশ্বাস

আবদুস সেলিম | ১ নভেম্বর ২০১০ ১:০৬ পূর্বাহ্ন

dhaka-universityte-porar-shomoy.jpg
আবদুল মান্নান সৈয়দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে
————————–

জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করব না, কারণ সে যোগ্যতা আমার নেই। তবে মান্নানকে আমি দীর্ঘ ৪১ বছর থেকে দেখেছি এবং বেশ ঘনিষ্ঠ ভাবেই। এর চেয়েও দীর্ঘ পরিচয় মান্নানের সাথে অনেকের হয়তো ছিলো কিন্তু নিরবছিন্ন বন্ধুতার দাবী আমিই বোধ হয় করতে পারি। ১৯৬৯ সালে প্রথম পরিচয় এবং বন্ধুত্ব। এরপর থেকেই মান্নানকে কাছে ও দূর থেকে দেখেছি।

একজন লেখককে দেখা ও চেনা যায় দু’ভাবে। এ উপলব্ধি আবদুল মান্নান সৈয়দকে প্রত্যক্ষ করে আমার এসেছে-শুধুমাত্র তাঁর লেখা দিয়ে; ব্যক্তিগত, জীবনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে-অর্থাৎ তাঁর সাহচর্য্ পেয়ে এবং ঐ জীবনকে এবং বিশ্বাসকে তাঁর লেখার সাথে মিলিয়ে নিয়ে।

মান্নান লেখেন ১৯৫৯ থেকে–কিংবা তারও আগে থেকে। আমি তাঁকে পেয়েছি ১৯৬৯ এ। অর্থাৎ দীর্ঘ ১০ বছর পর। এর পর থেকে তাঁর ব্যক্তি জীবনের যে স্তর গুলো আমি লক্ষ্য করেছি তা তাঁর লেখার সাথে সহজেই মিলে যায়।

“ছোটবেলা থেকে আমি স্বভাবে ছিলাম নির্জন, আত্মকেন্দ্রী, অ-মিশুক ও চূড়ান্তরকম অ-সামাজিক।” মান্নান তাই ছিলেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত মান্নানকে হুবহু ঐ ভাবেই দেখা গেছে। সিলেটে ও তার আগে পর্যন্ত তাঁর ঘরে বসে-মান্নান যা লিখেছেন তা অতীব নির্জন। ‘জন্মান্ধ’ কবিতা বা ‘জ্যোৎস্না রৌদ্র’–আপাদমস্তক আত্মবৃত। কিন্তু সিলেটের ঘরে বসে একটা প্রস্তুতি চলছিলো। ১৯৬৮-৬৯ সালে বিশ্ব কবিতার সাথে তাঁর কথোপকথনের ফল “মাতাল মানচিত্র”। দুয়ার কিছুটা যে ফাঁক হয়েছিলো তার প্রমাণ, মান্নান আমাকে ঠিক ঐ সময় কালেই একটা ছোট্ট আসন দিয়েছিলেন তাঁর কাছাকাছি বসতে। (সম্পূর্ণ…)

লুড্ডাইট ও নব্য লুড্ডাইট

শিবব্রত বর্মন | ৩ জানুয়ারি ২০০৮ ১১:৩৩ অপরাহ্ন

যারা বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির বিরোধিতা করেন, মোটা দাগে তারা হলেন লুড্ডাইট।

luddite-1881.jpg…….
১৮১১ সালে ইংল্যান্ডের নটিংহামে লুড্ডাইট দাঙ্গা। দ্রতগতি যন্ত্রের কারণে শ্রমিক ছাটাই বাড়তে থাকলে দাঙ্গা শুরু হয়।
………
তবে শুরুতে শব্দটা দিয়ে সরাসরি প্রযুক্তি বিরোধিতা বোঝাতো না। শব্দটা প্রথম ব্যবহার হতে শুরু করে ঊনবিংশ শতকের শুরুর দিকে। ইউরোপে তখন শিল্পবিপ্লব অনেক দূর এগিয়ে গেছে। পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা দ্রুত স্বয়ংক্রীয় হয়ে উঠছে, পেশীশ্রমের জায়গা নিয়ে নিচ্ছে যন্ত্রপাতি। এরকম সময়ে বৃটেনের পোশাক শিল্পীদের একটা বড় অংশ নিজেদের বিপন্ন বোধ করতে শুরু করে। তারা শিল্প বিপ্লবের পরিবর্তনগুলোর বিরোধিতা করতে থাকে। এদেরই একটা খুব সক্রিয় অংশ সেলাই মেশিনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মানুষজনের বাসায় বা মিল-কারখানায় হামলা চালিয়ে সেলাই মেশিন ধ্বংস করে দেয়াই হয়ে দাঁড়ায় তাদের প্রতিবাদ পদ্ধতি।

এই ‘দুর্বত্তদের’ লুড্ডাইট নামে কেন ডাকা শুরু হয়েছিল, সেটা নিয়ে একাধিক তত্ত্ব চালু আছে। কেউ কেউ বলে, নেড লুড নামে এক আধপাগল লোক ভাংচুরের কাজটা বিসমিল্লাহ করেছিল। পরে কাউকে সেলাই মেশিন ভাঙতে দেখলেই তাকে ‘লুড’ নামে ডাকা শুরু করে সবাই। (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com