ব্যক্তিত্ব

শঙ্খ ঘোষের জন্মবার্ষিকী : ‘কাল থেকে রোজই আমার জন্মদিন’

মুহিত হাসান | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ২:৪০ অপরাহ্ন

Shonkhoআলোকচিত্র: রাজু আলাউদ্দিন

আজ বাংলা ভাষার প্রধানতম কবি ও গদ্যকার শঙ্খ ঘোষের ছিয়াশিতম জন্মদিন। ১৯৩২ সালের পাঁচই ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশের চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এই শুভদিন উপলক্ষ্যে তাঁর গুণগ্রাহী ও স্নেহধন্য তিন লেখক—কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, প্রাবন্ধিক-অর্থনীতিবিদ সনৎকুমার সাহা ও কবি-গদ্যকার মোহাম্মদ রফিকের তিনটি সংক্ষিপ্ত তাৎক্ষণিক শ্রদ্ধালেখ মুদ্রিত হলো। তাদের তাৎক্ষণিক শুভেচ্ছাবার্তাগুলোর শ্রুতিলিখন করেছেন তরুণ লেখক মুহিত হাসান। বি. স.

হাসান আজিজুল হক
border=0

তিনি শতবর্ষী হোন

শঙ্খ ঘোষ, আমাদের সকলের প্রিয় শঙ্খদা, ছিয়াশিতে পা দিলেন, এই খবরটি নির্দিষ্টভাবে জানার পর— শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সর্বোপরি তাঁর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করার মতোন যথোপযুক্ত ভাষা আমার আয়ত্তে নেই। এই সময়ের বাঙালি কবিদের মধ্যে তাঁকেই আমি শ্রেষ্ঠতার আসন অনেক আগেই দিয়ে বসে আছি। আমি মানুষ শঙ্খদা ও কবি শঙ্খ ঘোষকে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আবার আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানাতে চাই।

শঙ্খদার প্রতিভা, তুলনাহীন তো বটেই, আমি বলবো, তিনি উচ্চতার যে শিখরে পৌঁছেছেন, তাতে তাঁকে দুর্নিরিক্ষ্য বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু, তিনি নেমে আসেন সকলের সঙ্গে, বিপদে-আপদে। প্রতিভার এরকম নিরহংকার প্রকাশ আর আমি দেখিনি। কবি হিসেবে যেমন তিনি আজ আমাদের সকলের কাছে এসে পড়েছেন তেমনিই এক এক সময় মনে হয় তিনি অতি দূরের নক্ষত্র। তাঁর আলো এসে পৌঁছুচ্ছে আমাদের কাছে প্রতি মুহূর্তে, প্রতিক্ষণে। (সম্পূর্ণ…)

নিরবতার দোভাষী সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

রাজু আলাউদ্দিন | ৮ নভেম্বর ২০১৬ ৮:২৩ অপরাহ্ন

Subrata-1বহুদিক থেকেই কবি ও অনুবাদক সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ আমাদের সমকালীন কবিতার জগতকে তার বহুপ্রজ ও বহুমুখী প্রতিভায় সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। এই সমৃদ্ধি কাব্যবোধ, কলাকৌশল ও ছন্দের নিখুঁত প্রয়োগের কারণে। দেশি ও বিদেশি সংস্কৃতির নানা উপাদানে সমৃদ্ধ তার কবিতা সুপক্ক পরিণতির সাফল্যে আমাদেরকে শুরু থেকেই উৎকর্ণ করে রেখেছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও কবিতার সংখ্যা প্রায় তিন শতাধিক। সংখ্যার এই বিপুলতাকে তিনি নিছক নিষ্প্রাণ ও নিরক্ত শব্দের কঙ্কালের মতো সাজিয়ে যাননি। প্রতিটি কবিতায় তিনি আমাদেরকে তার কারুবাসনার জ্যোর্তিময় অনুভবে উজ্জীবিত করে তোলেন। তার কাব্যবাগিচায় বহু বৃক্ষ, কিন্তু কোনটিই অনুরূপ নয়; তাদের সুরভিও আলাদা। তিন শতাধিক কবিতায় এই বৈচিত্র সিদ্ধ করা রীতিমত বিস্ময়কর। সুব্রত’র বিরামহীন সৃজনমুখী ও বৈচিত্রবিলাসী মন আমাদের কবিতাকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছে তা আশির দশকে তার সমসাময়িক আর কেউ করেছেন কিনা সন্দেহ। জানি, এ ধরনের চরমপন্থী আপ্তবাক্যে আস্থা রাখতে ভরসা পাবেন না অনেকেই যদি না উদ্বৃতি ও প্রমাণসহ বোমাল ধরিয়ে দেয়া যায় তার কাব্য প্রতিভার নমুনা।

নমুনার আগে তার কবিতা সম্পর্কে আরও কয়েকটি বিষয় উন্মোচন করা জরুরি। যেহেতু তা তার নিজেরই ভাষায় ‘কাব্যশরীর হয়েও, আমি যে রয়েছি জন্মবোবা’, ফলে অকথিত হলেও, কাব্যের বোবাভাষায় অনেক কিছুই পরোক্ষে উচ্চারিত হয়ে আছে শব্দের আচ্ছাদনে। (সম্পূর্ণ…)

পথপ্রদর্শিকা রোকেয়া

নন্দিতা বসু | ৬ নভেম্বর ২০১৬ ১০:১২ পূর্বাহ্ন

Rokeyaভাবতে অবাক লাগে যে বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩২) আজ থেকে ১১৬ বছর আগে জন্মে কীভাবে এত কাজ করে গেলেন? পরাধীন ভারতবর্ষে বিশেষ করে মুসলমান সমাজে অবরোধ প্রথার জন্য মেয়েদের পক্ষে শিক্ষালাভ করা যখন প্রায় নিষিদ্ধ ছিল সেই অবরোধপ্রথা যে কী ভয়াবহ ছিল তা তাঁর মতিচূরঅবরোধবাসিনী’তে জানিয়েছেন, সব ঘটনাই তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। অবরোধবাসিনী সকলেরই পড়া। তার এক একটি ঘটনা মনে করল গায়ে কাঁটা দেয়। আনুমানিক ১৯০৫ নাগাদ বেগম রোকেয়ার একজন মামীশাশুড়ি ভাগলপুর থেকে পাটনা যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর একজন পরিচারিকা। কিউল জংশনে গাড়ি বদল করতে হবে। ট্রেনে ওঠার সময় মহিলাটি বোরখায় পা জড়িয়ে ট্রেন ও প্লাটফরমের মাঝখানে পড়ে যান। স্টেশনে অন্য স্ত্রীলোক বলতে শুধু ঐ পরিচারিকা, কুলিরা মহিলাকে ধরে তুলবার জন্য এগিয়ে এলে পরিচারিকাটি সরবে সাবধান করে দেয় তাদের: “খবরদার। কেউ বিবিসায়েবাকে ধরবে না”, সে একা অনেক চেষ্টা করেও মহিলাকে তুলতে পারল না। আধঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ট্রেন ছেড়ে দিল। চলন্ত ট্রেন মহিলাটির দেহকে ছিন্নভিন্ন করে দিল। কাউকে কোনো সাহয্য করবার অনুমতি দেওয়া হলো না। মহিলাটির দেহ ষ্টেশনের একটা গুদামে এনে রাখা হলো। পরিচারিকাটি বিনিয়ে কাঁদছিল, আর মহিলাকে বাতাস করছিল। ১১ ঘন্টা পর মহিলাটি মারা যান। কী মর্মান্তিক ঘটনা। পর্দানশীলতা মরে গেলও লঙ্ঘন করা চলবে না। (সম্পূর্ণ…)

ফাদার দ্যতিয়েন : বাংলা গদ্যের শক্তিমান লেখক

শামসুজ্জামান খান | ২ নভেম্বর ২০১৬ ৩:৫৬ অপরাহ্ন

father-1
আলোকচিত্র: মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৪ এর উদ্বোধনী দিনের ছবি।
বেশ ক বছর আগে ঢাকা ঘুরে গিয়েছিলেন সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পরা শ্মশ্রুমন্ডিত এক বিদেশি সাহেব। হ্যাঁ, একটু কৌতুকের সঙ্গে তিনি নিজেকে ‘সাহেব’ও বলতেন মাঝে মধ্যে। সাধারণ পোশাক-আশাক এবং চলনবলনে তাঁকে কিন্তু এক সৌম্যকান্ত বাঙালি বৃদ্ধের মতোই মনে হত আমাদের। আসলে তিনি একজন বিদেশি মিশনারি– নাম ফাদার দ্যতিয়েন। মা-বাবা নাম রেখেছিলেন পল দ্যতিয়েন। পল দ্যতিয়েন জন্মেছিলেন বেলজিয়ামের রশ্ফয় নামের একটি জায়গায় ১৯২৪-এর ৩০ ডিসেম্বর। বাবার নাম ফ্যানি এবং মা এলিজাবেথ।
বাংলাভাষী অঞ্চলে ফাদার দ্যতিয়েন বাংলার বিদ্ব্যৎ সমাজে এক পরিচিত নাম। তাঁর মাতৃভাষা ফরাসি হলেও বাংলা ভাষায় তাঁর ব্যুৎপত্তি রীতিমত ঈর্ষণীয়। উইলিয়াম কেরীর পুত্র ফেলিক্স কেরী বহু বছর আগে বলেছিলেন, বাংলা তার দ্বিতীয় মাতৃভাষা। একথাটি খুব জোরের সাথে বলতে পারতেন ফাদার দ্যতিয়েনও। ১৯৭১-এ পুস্তকাকারে প্রকাশিত তাঁর বাংলা রচনা ডায়েরির ছেঁড়া পাতা এবং ১৯৭৩-এ প্রকাশিত রোজনামচা তাঁকে বাংলা ভাষার এক শক্তিমান লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসে বসে তাঁর সঙ্গে আমাদের কথা হয় ১৯৯০-এর জুলাই মাসের ২৬ তারিখে। কথা ছিলো, সকাল দশটায় আসবেন। সোয়া নয়টায় তিনি হাজির হলেন, হেসে বললেন, “বাঙালি সময় না-সাহেবি সময় তো নয়ই– ‘অদ্ভুত’ সময়ে এলাম। পঁয়তাল্লিশ মিনিট আগে এসে গেলাম।” ‘এসে গেলাম’ কথাটি আবার উচ্চারণ করে হাসলেন এবং কৌতুকমিশ্রিত স্বরে বললেন : ‘এসে গেলাম’ আপনারা বাঙালিরা বলেন, এটি আপনাদের নিজস্ব বলবার ধরন। ‘এসে গেলাম’ মানে: ‘এসে পৌঁছলাম’, ‘এসে আবার চলে গেলাম নয়।’ কোন বিদেশি এটা না জেনে অনুবাদ করলে কেমন হবে বলুন তো। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী মুর্তজা বশীরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৭ আগস্ট ২০১৬ ৯:৩৬ অপরাহ্ন

M.B-1
ছবি:নিজ গৃহে শিল্পী মুর্তজা বশীর। :
কবি এবং চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর ভাইয়ের সাথে আমার সখ্য গড়ে উঠতে পারতো অনেক আগেই। আমার লেখকজীবনের প্রায় সূচনা থেকেই তাকে নামে চিনি। কারণ তিনিতো কেবল চিত্রশিল্পী নন, তিনি কবি ও কথাসাহিত্যিক হিসেবেও তখন থেকে আমাদের কাছে পরিচিত। অতএব ছবির সূত্রে না হোক, অন্তত কবিতার সূত্রেই তিনি আমাদের কাছে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। অার কোন চিত্রশিল্পী আছেন যিনি একাধারে শিল্পের নানান মাধ্যমে সব্যসাচীতায় দীপ্যমান? আর ছবির কথাই বা বলবো না কেন, না আঁকতে পারি, কিন্তু ছবিতে আমার আগ্রহতো অকিঞ্চিতকর নয়। সে নিয়েওতো সংযোগ তৈরি হতে পারতো। তবে দেরিতে হলেও যে সেটা সম্ভব হলো এজন্য আমি কৃতজ্ঞবোধ করছি। কারণ তার সাথে আড্ডা মানে কেবল শিল্প নিয়ে কথাবার্তাই নয়, অনিবার্যভাবেই চলে আসে নানান বিষয়: সাহিত্য, রাজনীতি, শিল্পের ইতিহাস, ভারতের ইতিহাস, শিল্পতত্ত্ব, বিট জেনারেশন, ব্রিটেনের এ্যাংরি ইয়ং ম্যান প্রজন্ম–কী নয়! ৮৫ বছরের বশীর ভাইয়ের স্মৃতির ভাণ্ডারও বিশাল। ওতে ঘুরে বেড়ালেও শিহরিত হতে হয়ে চমৎকারিত্বে আর তার সজীবতায়। এ্যাংরি ইয়ং ম্যান প্রজন্মের লেখকদের বইয়ের যে সংকলন তার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে আছে তা আমাদের অনেক লেখকের কাছেও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। নানান বিষয়ে তার আগ্রহ এবং অধিকার মুগ্ধ করার মতো। আমার আগ্রহের অনেক লেখক কবি সম্পর্কে তিনি শুধু জানেনই না, তাদের কারোর কারোর কবিতা তিনি অনুবাদও করেছেন, যেমন ফেদেরিকো গার্সিয়া লোর্কা।
বশীর ভাই আামার কাছে অাকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব তাঁর বহুমুথিতার জন্য, স্পষ্টভাষণের জন্য, শিশুতোষ সারল্যের জন্য, অকপটতার জন্য, আর সর্বোপরি তাঁর সৃজনশীল বিকিরণের জন্য। আর, হ্যাঁ, আজকাল যা বিলুপ্ত ডোডো পাখির মতোই ধুসর স্মৃতিমাত্র আমাদের জীবনে, তিনি সেই নিরাপোষকামিতাকে জীবনে প্রয়োগ করে বঞ্চনার ঐশ্বর্যে বলীয়ান হয়ে আছেন। তার সান্নিধ্য আমার জন্য সবসময়ই এক গৌরবময় স্মৃতি। (সম্পূর্ণ…)

মহাশ্বেতা: সন্ধ্যার সূর্য

একরাম আলি | ৩১ জুলাই ২০১৬ ৫:৫৯ অপরাহ্ন

mahaswetaমহাশ্বেতা দেবী আর নেই (১৯২৬-২০১৬)। জীবিত মহাশ্বেতার সান্নিধ্য পাওয়ার উপায়ও আর নেই। অবশ্য বেঁচে থাকতে তাঁর নৈকট্য যে তেমন পেয়েছি, বলা যাবে না। বছর বারো আগে পারিবারিক এক সংকটে ভুগছি (লজ্জার কথা যে, প্রায়ই এমন দুর্ভোগ আমার চলে), বন্ধু অম্লান দত্ত জানালেন, মহাশ্বেতাদির বাড়ি যেতে হবে। কেন? কোথায় সেটা? তাছাড়া, তিনি তো আমাকে চেনেনও না।
গলফ গ্রিনের ফ্ল্যাটটি বেশ ছোট। বইপত্র আরো সংকুচিত করেছে চারপাশকে। কিন্তু তিনি যখন একান্ত আপনজনের মতো খুঁটিয়ে জানতে চাইছিলেন আমার বিপদের কথা এবং কী ভাবে এই প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠা যায় তার উপায় খুঁজছিলেন, তখন তাঁর ছোট্ট ফ্ল্যাটটিকে মনে হচ্ছিল– দূর বঙ্গোপসাগরের উপকূল পর্যন্ত প্রসারিত। তার পর আর একবারই গিয়েছি সেখানে। সে-ও অম্লান দত্তেরই সঙ্গে। আর ফোনে কথা। সে-সব কথা নিতান্ত দরকারের। ছোট-ছোট।
আর ছিল তাঁর লেখা। গল্প, উপন্যাস। যা আজও রয়ে গেছে।
সেই সত্তরের দশকে ‘এক্ষণ’-এ তাঁর ‘স্তনদায়িনী’ ইত্যাদি গল্পগুলি যখন বেরোচ্ছিল, তখন তাঁর মধ্যবয়স। তখন থেকেই বাঙালি পাঠকসমাজে তাঁকে নিয়ে হইচইয়ের শুরু। বলতেই হবে, তার আগের পর্বের লেখাগুলো ছিল কিছুটা উপেক্ষিত যেন-বা। সে-সময় কোনো এক সমাগমে শঙ্খ ঘোষ (তাঁরই মুখে শোনা) সেইসব গল্পপাঠের মুগ্ধতার কথা বলায় মহাশ্বেতা দেবীর সোজাসাপটা উত্তর ছিল– আমি তো বরাবর এইরকমই লিখি। আপনারাই পড়েননি।
হ্যাঁ। তিনি ছিলেন স্পষ্টবক্তা। বরং বলা ভালো– ঠোঁটকাটা। তিনি ছিলেন সমাজকর্মী। পুরুলিয়ার অচ্ছুত শবরদের মা-বাবা যেমন, তেমনই মা বহু নকশাল-কর্মীর। এখন কেউ-কেউ তাঁকে বলছেন– হাজার চুরাশির মা।
মহাশ্বেতা দেবী নানা কারণে বিতর্কিতও। রাজনৈতিক মতপ্রকাশে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে তাঁর লেখকসত্তার উজ্জ্বল উত্তরীয়টি আমৃত্যু উড্ডীন থেকেছে। তুমুল কলকাতায় বসবাস করেও তিনি চেয়েছিলেন ‘অরণ্যের অধিকার’। খ্যাতিও পেয়েছিলেন। ভারতের সেরা সব পুরস্কারে সম্মানিত। পেয়েছেন ম্যাগসাইসাই। (সম্পূর্ণ…)

ভারতের দলিত কন্ঠের আপোষহীন ভাষ্যকার মহাশ্বেতা দেবীর প্রয়াণে

নন্দিতা বসু | ৩১ জুলাই ২০১৬ ২:১৫ পূর্বাহ্ন

Mahasweta1_0001মহাশ্বেতা দেবী চলে গেছেন। রেখে গেলেন তাঁর অজস্র কর্মসম্ভার, যার মধ্যে লেখা একটা বড় জায়গা অবশ্যই। কিন্তু লেখাতেই তিনি নিজেকে নিঃশেষ করেনি। কত অসংখ্য কাজ করেছেন নিরন্ন-ন্যাংটাদের জন্য, মেদিনীপুরের লোধা-শবরদের জন্য, পুরলিয়ার খেড়িয়াদের জন্য। বিহার-উত্তর প্রদেশের যে লাল লাখ শিশুশ্রমিক বস্ত্রশিল্পে, কার্পেট শিল্পে ভারতবর্ষের নানা জায়গায় লোপাট হয়ে যায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের সঙ্গে মহাশ্বেতা যুক্ত হয়েছিলেন। ‘সারা ভারত বন্ধুয়া মুক্তি মোর্চা’র কর্মীরা তা বিশদভাবে জানেন। মহাশ্বেতা লোধা মেয়ে চুনী কোটাল যাকে নিজের সম্পাদিত পত্রিকা ‘বর্তিকা’তে লিখিয়েছেন যে-লোধারা কোনদিন কোমরে দড়ি ছাড়া মেদিনীপুর-পুরুলিয়া শহরে ঢুকতে পারেনি, সেই সমাজের মেয়ে চুনী কোটালকে উৎসাহ দিয়ে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডী পার করিয়েছিলেন। আমাদের অশেষ দুর্ভাগ্য যে জাতপাতের দাপটে চূনী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকতে পারলো না, নিজেকে শেষ করে দিল। (চূনীকে নিয়ে মহাশ্বেতা শিকার-পর্ব উপন্যাসটি লিখেছেন।)

বাংলার বিখ্যাত দলিত লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারী রিকশা চালাতেন। হয়ত গত শতকের সত্তরের দশকের শেষ দিকে বা আশির গোড়ায় মহাশ্বেতা যখন বিজয়গড়ের জ্যোতিষ রায় কলেজে পড়ান, কলেজ শেষে একদিন মনোরঞ্জন ব্যাপারীর রিকশায় ওঠেন তখন মনোরঞ্জন ব্যাপারী যিনি জীবনযুদ্ধে লড়তে লড়তে রিকশাচালকে পরিণত হয়েছিলেন ও নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা একটু একটু করে লেখার চেষ্টা করেছিলেন– তিনি মহাশ্বেতাকে ‘জিজীবিষা’ শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করেন। রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে মহাশ্বেতা মনোরঞ্জনের হাতে একটা চিরকূট ধরিয়ে দেন, বলেন “কাগজে আমার নাম ঠিকানা লেখা আছে। সামনের রোববার আমার সঙ্গে দেখা করো”। চিরকূটে লেখিকার নাম দেখে মনোরঞ্জন লাফিয়ে ওঠেন কারণ একটু আগে তিনি অগ্নিগর্ভ বইটি পড়ছিলেন। এরপর থেকে মনোরঞ্জন ‘বর্তিকা’র নিয়মিত লেখক হয়ে যান। এই ঘটনাটি আমি মনোরঞ্জন ব্যাপারীর মুখে ২০০৪-এ হায়দ্রাবাদে একটি কনফারেন্সে শুনেছি। পরে তা ছাপাও হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

জয়তু জননী

নওশাদ জামিল | ২৬ জুন ২০১৬ ১:২০ অপরাহ্ন

01শাহবাগ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিকতার শুরু হয়েছিল মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে। একদিন ঘোরলাগা সন্ধ্যায় শাহবাগ চত্বরে জ্বলে উঠেছিল শত শত মোমবাতি–তারপর দাবানলের মতো সেই আলো ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশময়। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর নানা প্রান্তে বাংলা ভাষাভাষির হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল দীপশিখা। শাহবাগ আন্দোলনের ঢেউ, তার প্রভাব, ব্যাপ্তি, উত্থান-পতন নিয়ে নানা গবেষণা হবে। লেখা হবে নানা ঐতিহাসিক গ্রন্থ। আমার কেবলই মনে হয়, ইতিহাসের শুরুটা হবে শাহবাগ থেকে নয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশে ফিরে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বলেছিলেন, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। অনেক বছর পরে সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে উঠেছিল তুমুল গণআন্দোলন। আর সেই আন্দোলনের প্রধান মানুষটি ছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। খানিকটা তলিয়ে ভাবলেই টের পাওয়া যায় শাহবাগে লাখো মানুষের হৃদয়ে, সারাদেশের কোটি মানুষের মানসপটে প্রতিবাদের দীপ প্রজ্জ্বলন করেছিলেন তিনিই। (সম্পূর্ণ…)

ভিতরে বাইরে ছন্দোময় কবি মোহাম্মদ আলী

বিপাশা চক্রবর্তী | ১১ জুন ২০১৬ ৭:৫৯ অপরাহ্ন

ali.jpg
ছবি: ১৯৬৭ সালে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করছেন মোহাম্মদ আলী।

“উড়ে বেড়াও তুমি প্রজাপতির মতো। ফোটাও হুল মৌমাছির মতো” – মোহাম্মদ আলী।
তাঁর ঘুষির মতোই মুখের কথাও ঠিক মোক্ষম আঘাত হানতো। ঠিক সেখানেই দংশন করত যেখানটায় দরকার।
শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদ। দক্ষ, দুঃসাহসী, উদ্যত এক মুষ্টিযোদ্ধা। হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনবার। প্রতিপক্ষকে হাতের মুষ্টির আঘাতে আঘাতে ঘায়েল করে শারীরিক শক্তি আর সক্ষমতা প্রকাশ করার নিপুণ শিল্পী। এই খেলাকে তিনি নিয়ে গেছেন শিল্পের পর্যায়ে। আর কতখানি সফল হয়েছিলেন? এই প্রশ্নের জীবন্ত জবাব হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে মোহাম্মদ আলীর কোটি কোটি ভক্ত। বাংলাদেশ থেকে নাইজেরিয়া। আমেরিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য। মুষ্টিযুদ্ধের মতো খেলাকে অমানবিক আর নিষ্ঠুর আখ্যায়িত করে –তাঁকে নিয়ে সমালোচনাও করতে ছাড়েনি একদল মানুষ। অথচ এই মানুষটিই কিনা ছেলেবেলায় মায়ের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, “কেন যিশু সাদা? কেন সব ফেরেস্তারা সুন্দর”?- কেন আমার মতো কালো নয়? ১৯৯১ সালে টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ছেলেবেলায় মায়ের সাথে কথোপকথনের এই স্মৃতিচারণা করেন মোহাম্মদ আলী। (সম্পূর্ণ…)

গুলশানের সেই কফিশপটির কথা কোনোদিন ভুলবো না

মিনার মনসুর | ১৭ মে ২০১৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ন

sikder-aminul.jpgআমি তখন সংবাদ-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করি। সিকদার ভাই এলিফ্যান্ট রোডের সেই প্রসিদ্ধ বাড়িটি ছেড়ে চলে গেছেন গুলশানে। ফলে আগের মতো ইচ্ছে হলেই আর ছুটে যেতে পারি না। এ নিয়ে প্রায় মন খারাপ থাকে। সিকদার ভাই মাঝেমধ্যে ফোন করেন। তাঁর শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। ক’দিন আগেই ব্যাংকক থেকে ফিরেছেন চেকআপ করে। তখনই ফোনে কথা হয়েছে। শুনেছি, অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। আবারও হার্টের বাইপাস সার্জারি করাতে হবে। আমি সার্জারিটা করে আসার পক্ষেই মত দিয়েছিলাম। জলি ভাবীও তাই চেয়েছিলেন। কিন্তু সিকদার ভাইকে রাজি করানো যায়নি। তিনি সাব্যস্ত করেছেন মুম্বাইয়ের বিশিষ্ট একজন চিকিৎসককে দিয়ে করাবেন। দ্বিতীয় দফা বাইপাস সার্জারিতে তাঁর হাত নাকি খুব ভালো। সিকদার ভাইয়ের কাছের মানুষমাত্রই জানেন যে তিনি কতোটা খুঁতখুঁতে ছিলেন এসব ব্যাপারে। ব্যাংকক থেকে ফিরে আসার পর আবারও ফোন করেছিলেন। গলায় গাঢ় অভিমান। কিছু বলার মতো মুখ ছিল না আমার। এটা কি ভাবা যায় যে তাঁর দেশে ফেরার পর কয়েকদিন কেটে গেছে অথচ আমি দেখতে যাই নি প্রিয় এ মানুষটিকে। (সম্পূর্ণ…)

জাহা হাদিদ: আপোষহীন প্রতিভার অনন্য স্থাপত্য

বিপাশা চক্রবর্তী | ১২ মে ২০১৬ ৫:১৬ অপরাহ্ন

zaha-9.jpgকখনো বিস্তীর্ণ মরুভূমির বিশালতা। কখনো যেন শূন্যে উঠে থমকে আছে একটি বিরাট বালির ঢেউ। মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে, মেরিলিন মনরোর উড়ন্ত স্কার্টের শৈল্পিক সৌন্দর্য হঠাৎ যেন শরীর পেয়ে বাতাসে বেঁধেছে ঘর। আবার কখনো এমন লাগবে, বিশাল সব জলের ফোটা আর তরঙ্গেরা তাদের ইচ্ছে মতো খেলায় মেতে আছে। বস্তুর গঠনগত বৈচিত্র্য ও উর্মির বিশালতা, স্থান আর আলোর ব্যবহারের নতুনত্ব–সব মিলিয়ে পুরো ব্যাপারটা আপনার কাছে ধাঁধা আর বিভ্রমের জন্ম দিবে। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে সেই মেরিলিন মনরোর উড়তে থাকা স্কার্টের মতোই খাঁটি, আবেদনময় আর সাবলীল। বলছি সদ্যপ্রয়াত, স্থাপত্যকলার কিংবদন্তী স্থপতি ও শিল্পী দেমা জাহা হাদিদ-এর কর্মশৈলীর কথা।

স্থান ও বস্তুর গঠনের চিরাচরিত ধারণা,গতানুগতিক জ্যামিতিক ভাবনা ও নিয়ম-কানুন সব ভেঙেচুরে তিনি জন্ম দিয়েছিলেন স্থাপত্যশিল্পের নতুন এক ভাষার। সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিখ্যাত ছিলেন এই স্থপতি। স্থাপত্যকলার সকল প্রতিবন্ধকতা ভেঙে দিয়েছিলেন জাহা হাদিদ। দূর করেছিলেন সব সীমাবদ্ধতা।

একই সাথে একজন মুসলিম ও নারী হিসেবে নয়, বরং তিনি তাঁর কর্মগুণেই ছিলেন ব্যতিক্রম। এক ও অদ্বিতীয়া। অন্যান্য অনেক কিছুর মতোই পুরুষশাসিত স্থাপত্যশিল্পের জগতে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সমকালে তাঁর কাছাকাছি যাবার যোগ্য স্থপতি খুব কমই আছেন। (সম্পূর্ণ…)

মারিও বার্গাস যোসা, আপনাকে শুভেচ্ছা

রাজু আলাউদ্দিন | ২ এপ্রিল ২০১৬ ২:১১ অপরাহ্ন

mario-with-my-book.jpg
ছবি: রাজু আলাউদ্দিনের লেখা বই হাতে মারিও বার্গাস যোসা, সঙ্গে যুবায়ের মাহবুব, স্পেন।
গত ২৮ মার্চ ছিল নোবেলবিজয়ী লেখক মারিও বার্গাস যোসার ৮০তম জন্মদিন। নানান কাজ-অকাজের কুয়াশায় এই দিনটি আড়াল হয়ে গিয়েছিল বলে আমার নজরে পরেনি। এ জন্য নিজেকে খানিকটা অপরাধীই মনে হচ্ছে। যদিও জানি আমার এই অপরাধবোধের কথা তিনি কখনোই জানবেন না। তার জীবন এতই কর্মমুখর যে পৃথিবীর কোন প্রান্তে কোথাকার কোন পাঠক তার জন্য অপরাধ বা আনন্দে ভুগলো– এতে তার কীইবা আসে যায়। কিন্ত আমার আসে যায়, কারণ তার লেখার হাত ধরে হাটতে শিখেছি সাহিত্যের রাজপথে, জানতে শিখেছি তার লেখার মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সব রত্নের মর্মার্থ। মারিও বার্গাস যোসার মতো অসামান্য লেখকদের লেখা পাঠ মানে পাঠক হিসেবে রুচির উন্নয়ন ঘটানো, সময়ের অপচয় না ঘটিয়ে। তাদের মতো লেখক পাঠকের সময়ের কেবল অপচয়ই রোধ করেন না, পাঠককে সাহিত্যপাঠের আনন্দলোকের স্থায়ী নাগরিকত্বে ভূষিত করেন। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com