বইয়ের আলোচনা

মিনার মনসুরের ‘নির্বাচিত কবিতা’: বাংলা কবিতা তাকে স্বাগত জানাবে

শামস আরেফিন | ৩০ december ২০১৬ ৯:০১ অপরাহ্ন

border=0কবিতার জগতে তিনযুগের দীর্ঘ ভ্রমণের পর প্রকাশিত হলো কবি মিনার মনসুর এর নির্বাচিত কবিতা বইটি। তার চেয়েও স্বস্তিকর সংবাদটি হলো কবিতার এ দুঃসময়ে প্রকাশের ছয়মাসের মধ্যে বইটির প্রথম মুদ্রণ শেষ হয়ে গেছে। এ পাঠকপ্রিয়তাও এ সময়ের নিভৃতচারী একজন কবির জন্যে কম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার নয়। প্রত্যেক কবিরই থাকে স্বকীয় কাব্যভাষা। এ কাব্যভাষাই কবিকে অকবি থেকে আলাদা করে। আর তার একটা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে-কোনো কবির নির্বাচিত কবিতা বা শ্রেষ্ঠ কবিতার সংকলনে। এখানে এক মলাটে পাঠক বুঝে নিতে পারেন একজন কবি কীভাবে নিজেকে ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে স্বকীয় কাব্যভাষা নির্মাণ করেন। সমাজ সংস্কৃতি, জীবনবোধ, আত্মবিশ্বাস ও কাব্যদর্শন–কাব্যভাষা বিনির্মাণে রাখে প্রধানতম ভূমিকা। তার পর কবিতার শরীর নির্মাণে রূপক, উপমা, অলংকার, চিত্রকল্প, শব্দ ও শব্দ-সংস্থান ইত্যাদির উপর নির্ভর করে দাঁড়ায় কাব্যভাষা। সেই স্বকীয়তা অর্জনের গুণেই যেমন ত্রিশের কবিদের মাঝে জীবনানন্দ দাশ উজ্জ্বলতম হয়ে আছেন, তেমনি স্বকীয়তার তীব্র দ্যুতি না থাকার কারণেই অবশিষ্ট চতুর্থ পাণ্ডব তুলনামূলকভাবে অনেকটা নিষ্প্রভ। মিনার মনসুর-এর কবিতা শুধু বন্ধু রুদ্রনির্ভর রাজপথ শাসন করে না, তাঁর কবিতা আবিদ আজাদের অতি কোমল সুরের মোহনায় বিমূর্ত চেতনার সমুদ্রে আমাদের ভাসিয়ে দেয়। তিনি এই দুই-এর মাঝামাঝি সমান্তরাল রাস্তা। অলংকার ব্যবহারে সার্বজনীন হয়েও, নিজস্ব ভাষা সৃষ্টি করে তিনি গড়ে তুলেছেন স্বকীয় সত্তা। তাই একবাক্যে বলতে হয় মিনার মনসুরের কবিতা না প্রেম না দ্রোহ। বরং প্রেম ও দ্রোহের সমন্বয়ে দেশীয় ঐতিহ্যনির্ভর শুধু মাত্র বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বশীল কবিতা, যার বাস্তব প্রতিবিম্ব পাই নির্বাচিত কবিতা গ্রন্থে। (সম্পূর্ণ…)

অন্য রকম কবিতা, সাহসী কবিতা

মোহাম্মদ রফিক | ১ december ২০১৬ ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

Comboকবি রাজু আলাউদ্দিন দীর্ঘকাল লেখালেখির জগতের সঙ্গে সংযুক্ত। প্রথম থেকেই তিনি অত্যন্ত সচেতন কবিতাকর্মী। সংবেদনশীলও বটে। বলা উচিত, তিনি সংযত ও মেধাবী। তিনি লিখছেনও দীর্ঘ দিন ধরে।

শুনে অবাক হলাম, এটাই তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। পরে ভেবে নিলাম, নিতে বাধ্য হলাম যে, এটাই তো স্বাভাবিক। একজন সচেতন ও সংযত কবির পক্ষে এই তো স্বাভাবিক আচরণ। কাব্যিক আচরণ। প্রকৃত কবি প্রতীক্ষা করতে জানে বা শেখে। প্রতীক্ষার ফসলও সে ঘরে তুলতে সক্ষম হয়। এই কথার প্রমাণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই গ্রন্থের অন্তরবয়ানে।

ইতিমধ্যে কবি ঘুরেছেন পৃথিবীর নানাদেশ, আত্মস্থ করেছেন নানা ভাষা, অন্তরমথিত কথপোকথন এবং বিনিময় ঘটেছে বিভিন্ন ভাষাভাষী কবি ও কবিতার সঙ্গে। অবশেষে কবির প্রত্যাবর্তন ঘটেছে স্বদেশে, স্বভূমিতে, স্বভাষায়, কাব্যিক অর্থেই। তার রচনা জীবন পেয়েছে কাদা-মাটি-জল নদী-নালা, মাঠ-ঘাট ছুঁয়ে। এ হল, এক অর্থে, দেশজ বিশ্বজনীন কবিতা।

সুতরাং, স্বতঃসিদ্ধ যে, কবি রাজু আলাউদ্দিন অন্যদের মত লিখবেন না। লিখতে চাইলেও, সফল হবেন না। একেই বলে কবির নিয়তি। তার কবিতা, আপন নাড়ির টানে, হয়ে উঠেছে একক, স্বতন্ত্র, সাবলীল ও অনবদ্য। তবে তার কবিতা, বাংলা কবিতা, বাংলা ভাষারই কবিতা, একই স্রোতধারার অন্যএকটি খাঁত। ঋদ্ধ ও গতিময়। আমাদের মানুষের সম্পদ। (সম্পূর্ণ…)

অমৃত সমান : সালাহ্উদ্দীন আহমদের জীবনস্মৃতি

সনৎকুমার সাহা | ২৯ নভেম্বর ২০১৬ ৫:৩৭ অপরাহ্ন

border=0আমি ইতিহাস পড়িনি। সরাসরি তাঁর ছাত্র নই। কিন্তু নির্দ্বিধায় যাঁদের গুরু মেনেছি, তিনি তাঁদের একজন। অন্যজন আমার পাঠ্য বিষয়ের শিক্ষক প্রফেসর মুশাররফ হোসেন। কিন্তু প্রফেসর হোসেনের কাছেও তিনি শুধু অগ্রজ বন্ধুই ছিলেন না। ছিলেন অবিমিশ্র শ্রদ্ধার, অন্তহীন আস্থার, দৃঢ়চেতা, সদা প্রশান্ত এক মনীষী। মাঝে মাঝে মজা করে তাঁর ধৈর্যচ্যূতি ঘটাতে মুশাররফ হোসেন নানাভাবে তাঁকে উস্কে দেবার চেষ্টা করতেন। কিন্তু হার মানতেন বারবার। মনে হয়, তিনিও এমনটিই চাইতেন। পরে বলতেন, এই একজন মানুষ। মানুষই, কিন্তু দেবতারও প্রণম্য। অবশ্য দেবতা বলতে তিনি বুঝতেন, বাস্তবে দ্বান্দ্বিক জটিলতার অসংখ্য টানা-পড়েনের ভেতর বিবেকশুদ্ধ আচরণ যাঁর কখনও বিচলিত হয় না, তাঁকে। এই মানুষটি প্রফেসর সালাহ্উদ্দীন আহমেদ। ঠিক দু বছর আগে ১৯ অক্টোবর, ২০১৪-য় তাঁর জীবনাবসান। বয়স নব্বই অতিক্রান্ত। দীর্ঘ জীবনই বলা যায়। কিন্তু কখনোই তা বাতিলের মিছিয়ে হারিয়ে যায় না। আক্ষেপ এখনও মাথা কোটে।

কথাগুলো নতুন কিছু নয়। তবু আর একবার বলি তাঁর জীবনস্মৃতি ফিরে দেখা পড়ার আবেগে। বইটির প্রকাশনা তাঁর মরণোত্তর। ২০১৫-র মহান একুশে বইমেলায়। শেষের দিনগুলোয় নিজে হাতে লেখেননি। একাকী হয়ে পড়া গার্হস্থ্য জীবনে সার্বক্ষণিক সেবক অমল কৃষ্ণ হাওলাদারের ছেলে আশিস কুমার শ্রুতিলিখন নেয়। কিছুদূর এগোলে শুনে শুনে কম্পিউটারে ধরে রাখতে শুরু করে। পরে স্যর দেখে দেন। এই ভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু শেষ হয় না। ১৮ অক্টোবর রাতে অন্যদিনের মতোই ঘুমোতে যান। ঘুমের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়া। পরদিন সকালে অমল ও আশিস টের পায়। অতি কষ্টে শুধু বলতে পারেন তিনি একবার, ‘আমি মনে হয় আর নেই।’ তারপরে মহাপ্রস্থান। অসম্পূর্ণ তাঁর পাণ্ডুলিপি গুছিয়ে নিয়ে ছাপার ব্যবস্থা করেন অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ। প্রকাশনার দায়িত্ব নেয় ঢাকার অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্স। একটা অদ্ভুত মিল, প্রকাশের আগে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পূর্বাপর দেখে দেন প্রফেসর সালাহ্উদ্দীন আহমেদই। তাঁর স্মৃতিকথাও পুরো হলো না। তবে বঙ্গবন্ধুর বইটিতে তাঁর ব্যক্তিত্ব যেমন তাঁর নিজস্বতা নিয়ে সর্বাত্মক ফুটে ওঠে, এটিতেও স্যারকে চিনে নিতে এতটুকু ভুল হয় না। না-বলা অংশ অনেকটাই আমাদের জানা। কারণ, তিনি তখন লোকমান্য একজন। সবাই তাঁকে চেনে। এখানে তাঁর হয়ে ওঠার অংশটিই আমাদের মুগ্ধ আকর্ষণ পুরোপুরি ধরে রাখে। এতটুকু তাল কাটে না। প্রসন্নতার মাধুর্য্যে আমরা আবিষ্ট হই। প্রাচীন শ্রুতি যেমন পবিত্র, এই শ্রুতিলিখনই আমার কাছে তেমন মনে হয়। পড়ে আমাদের আত্মশুদ্ধি ঘটে। (সম্পূর্ণ…)

জ্যাক লন্ডনের দুষ্প্রাপ্য ছবি

রেশমী নন্দী | ২৪ নভেম্বর ২০১৬ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

London আলোকচিত্র: ১৯০৬ সালে জ্যাক লন্ডন সান ফ্রান্সিস্কো উপসাগরের তীরে ছবি তুলছেন।

বিখ্যাত সাহিত্যিক জ্যাক লন্ডনের অনেক লেখায় পাওয়া যায় তাঁর বিচিত্র জীবনের ছায়া। তবে আলোকচিত্রী হিসেবে তাঁর দক্ষতা খুব বেশি মানুষের দেখার সৌভাগ্য হয়নি। লেখালেখির মতো সমান দক্ষতায় জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে তিনি ধারণ করে রেখেছেন তাঁর তোলা অনবদ্য কিছু ছবিতে। তাঁর দুঃসাহসী জীবনাচারণ সেই সাথে সংবাদদাতা হিসেবে তাঁর কাজের পরিধি-সবমিলিয়ে বিশ শতকের গোড়ার দিককার জীবনের অসাধারণ প্রতিচ্ছবি এসব আলোকচিত্র।
The Call of the Wild-এর মতো উপন্যাসের জন্য তিনি বিখ্যাত, যার উপজীব্য তাঁরই দুঃসাহসী অভিযান, পর্বতারোহন কিংবা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পাড়ি দেবার অভিজ্ঞতা। আর্নেষ্ট হেমিংওয়ের আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন পৌরুষদীপ্ত লেখকের আর্দশ । তিনি একাধারে ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী, ভবঘুরে, নাবিক, যুদ্ধ সংবাদদাতা এবং “ওয়েষ্টার পায়রেট”। তাঁর প্রপৌত্রী টারনেল এ্যাবোটের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যদের ধরা ঝিনুক চুরি করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করেন নি। উনিশ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলে এ ধরনের দস্যুবৃত্তি হতো সমানে। জ্যাক লন্ডনের ছোট গল্প “What Life Means to Me”তেও এর বর্ণনা পাওয়া যায়। পরে অবশ্য এসব ছেড়েছুড়ে দেন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

মনির : ক্রম-পরিণতি ও বৈচিত্র্যের সফল শিল্প-ব্যক্তিত্ব

অলাত এহ্সান | ২০ নভেম্বর ২০১৬ ১০:৩৫ অপরাহ্ন

monir-2গভীর সংদেনশীলতার কারণেই সাহিত্যিক-শিল্পীরা সমাজে আশু পরিবর্বতন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আগেই আঁচ করতে পারেন। স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে, বিশেষ করে ষাটের দশকের শিল্পী-সাহিত্যিকদের অন্বেষাই এ দেশের স্বাতন্ত্র ও প্রাণশক্তি চেনাতে মূখ্যভূমিকা রেখেছে। শিল্পীদের সেই অন্বেষাকে গভীরতর করার ক্ষেত্রে প্রধান কারিগর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তার মধ্যদিয়েই দেশভাগোত্তর এদেশের শিল্পকলার সেই ধারা চর্চার সূচনা। পরবর্তীকালে তাদের উত্তরসূরি প্রতিভাবান শিল্পীদের হাতে বৈচিত্র্যে ও বৈভবে সমৃদ্ধ হয়েছে চিত্রকলার ধারা, গড়ে উঠেছে এর গৌরবময় ইতিহাস। মনিরুল ইসলাম এই প্রতিভাবান শিল্পীদের অন্যতম। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সফিউদ্দিন আহমেদ, কামরুল হাসান, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ কিবরিয়ার শিষ্য তিনি। জয়নুলোত্তর শিল্পীদের মধ্যে তিনিই বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক পরিচিতদেরও একজন। কাজের নিজস্বতা, ধরন ও সমৃদ্ধিই তাকে এখানে উন্নীত করেছে।
পঞ্চাশের দশকের শেষার্ধ থেকে শুরু করে ষাটের দশকের প্রথমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করেন মনিরুল ইসলাম। ঠিই তখন থেকেই তার শিল্পীজীবন ধরলে আজ তা সাড়ে পাঁচ দশক পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে তিনি দ্বিতীয় আবাস গড়েছেন স্পেন। সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করে শিল্পচর্চা করেছেন। হয়ে উঠেছেন মাদ্রিলেনঞ-বাঙালি। ছাপচিত্রের জন্য খ্যাতিমান এই শিল্পী এচিংয়ে এমন একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন, যা স্পেনে ‘মনির-স্কুল’ বলে পরিচিত।
অর্থাৎ এই সময়ে তার চিত্রকর্ম একই রকম থাকেনি। তা সম্ভবই না। কখনো থাকে না। বদলে গেছে, বিষয় বস্তু থেকে প্রকরণ, এমনকি আঁকার সরঞ্জাম-উপাদান, সবকিছুতে এই পরিবর্তন। প্রত্যাহিক জীবনের প্রায় সব কিছু থেকেই তিনি শিল্পের সন্ধান পান। এমনি একটা পোড়া রুটির বুক থেকেও। ১৯৬১ থেকে ২০১৬, এই দীর্ঘ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সব পেন্টিং ও দিক নিয়ে প্রকাশ হলো শিল্পবিষয়ক বই ‘মনির’। এর মধ্যদিয়ে তার আঁকা ছবির পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের একটা রেখাচিত্র পাওয়া যাবে। গতকাল শনিবার ঢাকা লিট ফেস্টের সমাপনী দিনে কসমিক টেন্ট-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। (সম্পূর্ণ…)

শব্দের জাদু– অনুবাদে ঠিক কতটা হারাই?

রেশমী নন্দী | ১৯ নভেম্বর ২০১৬ ১:১৩ অপরাহ্ন

TranslationDictionary of Untranslatables: A Philosophical Lexicon বইটি মূলত ফরাসী ভাষায় লিখিত। পরে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে তিন গুণী ভাষাবিদের সম্পাদনায় ইংরেজীতে প্রকাশিত হয় বইটি। প্রায় ডজনখানেক ভাষার দর্শন, সাহিত্য এবং রাজনৈতিক ৪০০ শব্দের উপর নানা দিক থেকে আলোকপাত করে মূলের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বইটিতে। এই বই নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরেই “দি নিউইয়র্কার” -এ এ্যাডাম গুপনিক এই লেখাটি লেখেন। অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। বি. স.

ইতালীতে একবার একটা রেষ্টুরেন্টে পরিবার নিয়ে খেতে গিয়েছিলাম। ঊনিশ শতকের লেখকের ভঙ্গীতে বললে বলতে হয়, সামান্য একটা ভুলেই আমি পারিবারিকভাবে বোকা উপাধি পেয়েছিলাম। ইতালীয় দুটি শব্দের সূক্ষ্ণ পার্থক্য না বুঝে এর ব্যবহারই এ দূর্ঘটনার কারণ। ডেজার্টে স্ট্রবেরী অর্ডার দিতে খুব কায়দা করে উচ্চারণ করতে চেয়েছিলাম “fragoline”। পরে দেখলাম, আসলে যা বলেছি তা হলো “fagiolini” যার অর্থ হলো মটরশুটি। ফলে বাচ্চাদের জন্য পেস্ট্রি আর আইসক্রিমের সাথে বেশ সাড়ম্বরে আমার ডেজার্ট হিসেবে এসেছিল কফি আর মটরশুটি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আমার বাচ্চাদের যে হাসি শুরু হয়েছিল, সেটা এখনো মাঝে মাঝে নানা কারণে উসকে উঠে। একটা অক্ষর “r” সেদিন যে কারণে ইতালীয় ঐ রেষ্টুরেন্টে একটা পরিবারে একজনকে বোকা বলে চিনিয়ে দিল, তা হলো ভাষার নিজস্ব খামখেয়ালীপনা। যদিও কথা বলা এখন নিঃশ্বাস নেয়ার মতোই স্বাভাবিক ঘটনা, কিন্তু সত্য হলো এই যে শব্দগুলো আসলে খুব অদ্ভুত, বিমূর্ত একধরনের প্রতীক- মিশরীয় চিত্রলিপির মতোই দুর্বোধ্য, মিশরীয় সমাধির মতোই যে কাউকে ঘোল খাইয়ে দিতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

উপনিষদের ফার্সী অনুবাদ সিরর-ই-আকবর এবং শাহযাদা দারাশুকোহ

আনিসুর রহমান স্বপন | ১০ অক্টোবর ২০১৬ ৭:৩০ অপরাহ্ন

upanishad-comboরেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানে এবং সাজমানে তাবলীগাতে ইসলামীর (আইপিও) বাংলা বিভাগে দীর্ঘ দশ বছর (১৯৮৬-৯৬) কাজ করার সুবাদে ফার্সী ভাষা ও সাহিত্য এবং পারস্য-দর্শনের সাথে পরিচয়ের সুযোগ ঘটে। ঢেঁকি যেহেতু স্বর্গে গেলেও ধান ভানে সেহেতু ইরান-ইরাক এবং ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের প্রচন্ড চাপ ও বিপদের মাঝেও অব্যাহত রাখতে হয় শেকড়ের-সন্ধান। মধ্য-তেহরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য-দাপ্তরিক এলাকা মায়দুনে ভালী আসরের (ওয়ালী আছর স্কয়ার) ‘কেতাব ফুরুশীয়ে হাশেমীতে’ (হাশেমী বুক শপ) অগায়ে হাশেমী ও তার ভাই অগায়ে আলী (জনাব হাশেমী ও জনাব আলী) নামে দুই সহোদর মালিক আমাকে সন্ধান দিলেন দারাশুকোহর করা উপনিষদের ফার্সী অনুবাদ।
ভারত-সম্রাট শাহজাহানের জ্যেষ্ঠ পুত্রের এ অনুবাদ সুদূর তেহরানে বসে পেয়ে কিঞ্চিৎ বেশী মূল্যেই সংগহ করতে হলো। লাল টুকটুকে রেক্সিনে সুন্দর বাঁধাই করা প্রচ্ছদের উপর সোনালী হরফে গ্রন্থ, গ্রন্থকার, অনুবাদক ও সম্পাদকের নামসহ সংস্কৃত লেখা ‘উপনিষদ’ শব্দ যুক্ত খন্ড দুটি।

এর মধ্যে প্রথম খন্ডে ৬৯৬ পৃষ্ঠা। শুরুতে ১০ পৃষ্ঠার টাইটেল, প্রিন্টার্স লাইন ও মুখবন্ধের পর আছে ৩৪৪ পৃষ্ঠ।
তেহরান সংস্করণের সম্পাদক ডঃ তারা চাঁদ ও ডঃ সাইয়েদ মহম্মদ রেজা জালালী নায়েনীর ভূমিকা।
এ ভূমিকার মধ্যে ও গ্রন্থের দু’খন্ডের বিভিন্ন অংশে দারাশুকোহ’র জীবন ও কর্ম সংশ্লিষ্ট চিত্র, পান্ডুলিপির ছবি এবং ভারতীয় রাষ্ট্র নেতাদের কাছে এ সংস্করণ হন্তান্তরের আলোকচিত্র রয়েছে। নতুন পৃষ্ঠা নং দিয়ে এরপর ৩৪২ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে ফার্সীতে সিরর-ই-আকবর নামে দারাশুকোহ’র করা উপনিষদের অনুবাদ। পৃষ্ঠা সংখ্যার ক্রমন্বয় রক্ষা করে শুরু করা দ্বিতীয় খন্ডের ৪৯০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পাঁচশ মুদ্রিত পৃষ্ঠায় এ অনুবাদ সুদীর্ঘায়িত হয়েছে।
প্রয়াত ডঃ তারা চাঁদ ভারতবর্ষের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী লেখক, গবেষক, অধ্যাপক। নেহেরুর মন্ত্রীসভায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদের শিক্ষা মন্ত্রীত্বের সময় তিনি এ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে রাজ্য সভার সদস্য এবং ইরানে ভারতীয় দূতাবাসেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডঃ জালালী নায়েনীর সহযোগিতায় দীর্ঘ ৪ বছর ফার্সী-সংস্কৃত পাঠ-পর্যালোচনা করে তিনি দারাশুকোহর অনূদিত উপনিষদ সম্পাদনা করেন। এরপর ডঃ নায়েনী আরো ৪ বছর ধরে ফার্সীভাষী পাঠকদের জন্যে এতে ব্যবহৃত ‘সংস্কৃত’ শব্দের অর্থ ও ভাষ্য রচনা করেন।
অবশেষে দীর্ঘ ৮ বছর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ফার্সী ১৩৪০ (ইংরেজী ১৯৬২) সালে তেহরান থেকে এ গ্রন্থের প্রথম আধুনিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
১৯৬৩ সালের মার্চে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নয়াদিললীতে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপললী রাধাকৃষ্ণনন এবং প্রধানমন্ত্রী জওয়াহের লাল নেহেরুর কাছে এ গ্রন্থের কপি হস্তান্তর করেন সম্পাদকদ্বয়।
এভাবে তিনশতাধিক বছর পর ভারতেরই এক যুবরাজের সাধনার ফসল হাতে তুলে নেন তাদের উত্তরসূরীরা। (সম্পূর্ণ…)

হাজার ও এক রাত্রির গল্প বলার কৌশল

নাহিদ আহসান | ৫ অক্টোবর ২০১৬ ২:৪৮ অপরাহ্ন

One nightহাজার এক রাত্রির ( আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা) শহরজাদকে কে ভুলতে পারে? গল্প বলে যে বদলে দিয়েছে জালিমের হৃদয়। কথায় বলে শিক্ষক আনন্দ পান যখন তিনি দেখেন দুর্বল ছাত্রকে তিনি কিছু শেখাতে পেরেছেন। ভাল ছাত্র তো শিক্ষক নিরপেক্ষ। যেভাবেই হোক সে ভাল করার চেষ্টা করবে।
আমাদের দেশে পাঠকপ্রিয় হলে সমালোচকের হাতে নাস্তানাবুদ হতে হয়। জনপ্রিয় লেখককে মনে করা হয় সস্তা লেখক। কিন্তু রামায়ণ,মহাভারত, ইলিযাড কিন্তু জনপ্রিয়। এই সব কঠিন ভাষায় লেখা কিভাবে্ জনপ্রিয় হল? হবে না কেন এর গল্পগুলো যে মানুয়ের জীবনের গল্প। আর গল্পকথকরা যুগে যুগে সাধারণ মানুষদের বুঝিয়েছেন তাদের মত করে, তাদের ভাষায়।
রাম সীতাকে পরিত্যাগ করেছেন লোকভয়ে? কিন্তু অন্যদিক দিয়ে তিনি তাকে খুব ভালও বাসেন। আসলে এটা তার আত্মত্যাগ। তিনি রাজধর্ম পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন। হোমারও ছিলেন একজন কথক। তিনি যখন বর্ণনা করেন,‘মহাবীর হেক্টর যুদ্ধে যাচ্ছেন কিন্তু একই সাথে তিনি ভাবছেন তার স্ত্রীর কথা। এই বিধবা রমণী কিভাবে কাল যাপন করবেন’, তখন মানুষকে তা স্পর্শ করে। কারণ তারাও তো জীবনের মহানদী সাঁতরে পার হচ্ছে। এইসব দ্বন্দ্ব, বীরত্ব গাথাঁ সরল ভাষায় গল্পের মত করে বলেছেন- গল্পকথকেরা । তাই তা দু’মলাটের ভেতর গল্পগুলো কারাবাস করেনি।
শিল্পী হিসেবে আপনার কর্তব্য কি?
শুধুই বোদ্ধাদের জন্য লিখবেন? তারাতো আগে থেকেই সব বোঝেন।
নাকি আপনি চান মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে?সত্যজিৎ রায় কিন্তু ভরা প্রেক্ষাগৃহ দেখলে খুশী হতেন। কোন বিশ্ববিখ্যাত ফিল্ম ক্রিটিক কি বলেছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ বটে তবে এর চেয়ে খুশির বিষয় তার কাছে ছিল – সাধারণ মানুষ তার ছবি ভীড় করে দেখছে।
তাহলে কি আপনি তরল বিষয়ে লিখে জনপ্রিয় হবার চেষ্টা করবেন? কখনই না। আপনার চ্যালেন্জ তো সেটাই আপনার বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গি জিবরাইলের ডানায় ভর করে র্মত্যমানবের কাছে পৌঁছাবে। আপনার ভাষা হবে সেই জিবরাইলের ডানা।
শুনেছি একটি পাইন বনের ভেতর দিয়ে হেটেঁ যাওয়ার পর কেউ আর আগের মানুষ থাকেন না। পাইনের সৌর্ন্দয, ঝিরিঝিরি পাতার বাতাস, ঋজুতা মানুষকে বদলে দেয়। শিল্প সাহিত্য সেই পাইন বনের হাওয়া।
নজরুল যখন বলেন, ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, মোর মুখ হাসে, মোর চোখ হাসে, মোর টগবগিয়ে খুন হাসে।–তখন যতক্ষণে সমালোচকরা খুন শব্দের প্রয়োগ যুক্তিযুক্ত কিনা সে সম্পর্কে আলোচনা শেষ করেন, তার অনেক আগেই তা জনগণের হৃদয়ে পৌঁছে সেখান থেকে তাদের খুনে মিশে যায়। (সম্পূর্ণ…)

হৃদয়-কলমে লেখা: হৃৎকলমের টানে

সৈকত হাবিব | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

Syed+Shamsul+Haq_26092016_0001“ছয় দশকের অধিককাল ধরে সৈয়দ শামসুল হক লিখেছেন অজস্র ও বিচিত্র রচনা। তাঁর কাছ থেকে আমরা পেয়েছি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ, কলাম, আত্মজৈবনিকসহ বহুমাত্রিক রচনা। এজন্যই তিনি আমাদের সব্যসাচী লেখক।
“তাঁর সৃজন-জীবনের যে কটি রচনা কালের অমরতায় অভিষিক্ত হয়েছে, তার মধ্যে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য ‘হৃৎকলমের টানে’। অনেক বছর আগে সাময়িকপত্রের পাতায় যখন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল এই রচনারাশি, তখনই তা পাঠকহৃদয়ে চিরকালের মতো জায়গা করে নিয়েছিল। কারণ সৈয়দ হক তাঁর হৃদয়ের নিবিড় নির্যাস কলমে ঢেলে এই রচনাটি লিখছিলেন। একই শিরোনামে এর গ্রন্থভুক্ত হবার ইতিহাসও বেশ পুরনো। আর বইটি বহুদিন ধরেই অমুদ্রিত। তাঁর ভক্ত-পাঠকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবার পুরো বইটিই একসঙ্গে প্রকাশ করেছে নান্দনিক।”

উপরের কথাগুচ্ছ লিখিত হয়েছিল ২০১৪ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হৃৎকলমের টানের অখণ্ড সংস্করণের ফ্ল্যাপে, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হকের আহ্বানে। লেখার সময় মগজে ছিল একদা ‘সংবাদ সাময়িকী’তে প্রতি সপ্তাহে চমৎকার লেটারিংয়ে (কাইয়ুম চৌধুরীর করা?) হৃৎকলমের টানে প্রকাশিত হওয়া, আমার অনিয়মিত পাঠ আর পরবর্তী সময়ে ইউপিএল প্রকাশিত একটি সুশোভন বইয়ের স্মৃতি। কিন্তু বইটি দীর্ঘদিন বাজারে ছিল না এবং অনেক লেখা ওতে ছিলও না, যা এ সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে এই বইটির অখণ্ড প্রকাশের ঘটনাই ছিল আনন্দের। আর আমার মতো অর্বাচীনের জন্য এ তো বিরাট সৌভাগ্যের ঘটনা যে, সৈয়দ হক চেয়েছেন যে আমি বইটির একটি ফ্ল্যাপ লিখি! তাঁর অর্ধবয়সী এক লিখিয়ের জন্য এটি নিশ্চয়ই বড় প্রাপ্তি। এজন্য তাঁকে আবারও সকৃতজ্ঞ স্মরণ করি। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: সিরিয়াস সাহিত্যের গুরুত্ব, নতুন আয়রনম্যান ও এলবির প্রয়াণ

নাহিদ আহসান | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৯:১২ অপরাহ্ন


সিরিয়াস সাহিত্যের গুরুত্ব

Readerপাঠকের মনে সংবেদনশীলতা সৃষ্টিতে সাহিত্যই শ্রেষ্ঠ। কিন্তুু প্রশ্ন হলো কোন সাহিত্য। সাহিত্যের রয়েছে বহু শাখা যার একটা ধারা হচ্ছে সমকালে অজনপ্রিয় কিন্তু ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয় হতে থাকে অর্থাৎ যাকে আমরা চিরায়ত সাহিত্য বলি। আর অন্য একটি ধারা হচ্ছে জনপ্রিয়। কিন্তুু সাহিত্যের জনপ্রিয় ধারা কোনগুলো–সেটা কি আপনি জানেন? সেটা থ্রিলার হতে পারে, রোমান্স হতে পারে কিংবা অ্যাডভেঞ্চারও হতে পারে, এমনকি উচ্চবিত্তের জীবন যাপন নিয়ে লেখা উপন্যাসও সাহিত্যের জনপ্রিয় ধারার মধ্যে পড়তে পারে। কিন্তু যা উন্নত সাহিত্য তা কিন্তু শুধু বিনোদনের যোগান দেবে না, মানুষকে চিন্তার খোরাক দেবে, হৃদয়ের গভীর গোপন তলদেশে আলোড়ন তুলবে, অন্যের অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করবে। সালমান রাশদী, হার্পার লি এবং টনি মরিসনের মত লেখকরা পাঠকদের অন্যের অনুভূতি বোঝার মত মন তৈরি করতে সাহায্য করেন। কিন্তু ডেনিয়েল স্টীল বা ক্লাইভ কাসলারের মত লেখকরা সেটা পারেন না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তাই প্রমাণিত হয়েছে। প্রসঙ্গত ডেনিয়েল স্টীলের প্রিয় বিষয় উচ্চবিত্তদের জীবনের নানা সমস্যা। যারা টিভি সিরিজ ‘ডালাস’ দেখেছেন, তারা বুঝতে পারবেন বিষয়টি কী। এখনকার হিন্দি সিরিয়ালেও জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য এ বিষযটিকে উপজীব্য করা হয়। ভারতের শোভা দের লেখালেখির মূল পটভূমিও কিন্তু তাই। ক্লাইভ কাসলারের প্রিয় বিষয় থ্রিলার যার মূল কাজ শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার সৃষ্টি করা। থ্রিলার বা উচ্চবিত্তের জীবনযাত্রা –এইসব ঘরানার লেখা পাঠক পড়তে ভালবাসে। কিন্তু পাঠকের মননের মৌলিক উৎকর্ষে বা অন্যের মনস্তত্ব বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এদের কোন ভূমিকা নেই। সাহিত্যের লেখকরাই পাঠকদের মন ও মনন তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। হার্পার লি এবং টনি মরিসনের মত লেখকদের সাহিত্য পাঠ, পাঠককে বুঝতে সাহায্য করে অন্যের চিন্তা-ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি। (সম্পূর্ণ…)

হৃদয়রক্ত দিয়ে লেখা কবিতা

ফয়সাল আহমেদ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১০:০৮ অপরাহ্ন

border=0জীবনকে এতো ঘৃণা করি
আর এতো এতো ভালোবাসি
মৃত্যুকে এতো আহ্বান করি বারবার
গোপনে চাই তবু না আসুক কখনো
হায়, জীবন তবু ফুরিয়ে ফুরিয়ে যায়
আর মৃত্যু কেবলই ফিরে ফিরে আসে

(জীবন ও মৃত্যু, পৃষ্ঠা-৩১)
জীবন ও মৃত্যু সমন্ধে কবির এমন উপলব্ধি আমাদের নতুন করে ভাবায়। আমরা কত শতবার রেগে গিয়ে বলি আহারে মরণ হয় না কেন আমার! আশু এই মৃত্যু কামনা ব্যক্তি জীবনের চরম বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ। আবার পরক্ষণেই মনে মনে বলি মরণ, আশিস না কখনো, ও কথা আমার মন থেকে বলা নয়। চাইলেই কি তা হয়, মৃত্যু আসে, নিশ্চিতভাবেই আসে, ধুয়ে মুছে সব সাফ করে নিয়ে যায়। কবি সৈকত হাবিব তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ শহর যৌবন ও রাত্রির প্রকাশ দিয়েই জানান দিয়েছিলেন বাংলা কবিতার রাজ্যে তিনি টিকে থাকার জন্য এসেছেন এবং হয়েছেও তাই। পরবর্তীতে তার দ্বিতীয় কাব্য গ্রন্থ আমরা কেবলই চায়ের টেবিলে ঝড় দিয়ে তিনি তার প্রমাণ রাখলেন। দু’টি কাব্যগ্রন্থ্ই কবিতাপ্রেমী ও বোদ্ধা-পাঠকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। কবির পেশাগত ব্যস্ততার কারণেই হয়তো দীর্ঘ বিরতি দিয়ে প্রায় আট বছর পর লিখলেন তৃতীয় কাব্য গ্রন্থ রক্ত দিয়ে লেখো কবিতা(সম্পূর্ণ…)

মাঘরজনীর সবিতা: মোহাম্মদ রফিকের দু’টি গাথাকাব্য

সনৎকুমার সাহা | ১৮ আগস্ট ২০১৬ ৭:০৫ অপরাহ্ন

rafiq‘ক্রেসিডা’-কবিতার নান্দীপাঠ সারেন বিষ্ণু দে এই বলে, ‘স্বপ্ন আমার কবিতা/ অমাবস্যার দেয়ালি/ ধূম্রলোচন নিদ্রাহীন/মাঘরজনীর সবিতা।’ আপাতদৃষ্টে এতে কোন স্বাভাবিক পরম্পরা নেই। এমনকি কর্তা-কর্মের অবস্থান অনিশ্চিত। কূটাভাসের বা অদৃশ্য বাস্তবতার ছোঁয়াও বুঝি লাগে। কিন্তু একে অসংলগ্ন বলা যাবে না। বরং প্রবলভাবে প্রত্যক্ষকে অতিক্রম করে বোধের কোনো অলিন্দে পা ফেলার প্রত্যাশা জাগায়। এবং তাতে সারি সারি প্রতীকের হাতছানি। কারণ নান্দীপাঠেই তার আবাহন নিশ্চিত।

অনেক পরে বিষ্ণু দে একালের কবিতার (১৯৬৩) ভূমিকায় বিষয়টি স্পষ্ট করেন :

…আধুনিক কাব্যের কল্পপ্রতিমা রূপকীকৃত না হয়ে প্রতীকোৎসারী হয়ে উঠে, অতিভাষী সুবোধ্যতার মসৃন ময়দান ছেড়ে কবিতা বিহার করতে ওঠে মিতবাক হয়তো উচ্চাবচ, এমনকি হয়তো আপাতদুর্বোধ্যতার পাথুরে জমিতে। একই কারণে কাব্যের ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের প্রাবল্যের চেয়ে ব্যক্তি-সমাজের নিহিত ভাষা বিনিময়ের আততিই হচ্ছে আধুনিক কাব্যের মৌলিক লক্ষণ। এবং… এর নির্মাণের লৌহভিত্তি আত্মসম্মানের অভ্যাসে গ্রথিত।…

প্রাসঙ্গিক আলোচনায় যাবার আগে আরো একটু বলে রাখি, বিষ্ণু দে-র চোরাবালি কাব্যের ‘ক্রেসিডা’ (১৯৩৬) বা এ জাতীয় কবিতায় বিদেশি উৎস থেকে প্রতীকের আমদানি ও দেশি-বিদেশি প্রতীকের মেলবন্ধনে অপ্রস্তুত পাঠককে চমকে দেওয়া তখন রবীন্দ্রনাথের অনুমোদন পায়নি। তবে আজ, মনে হয়, ‘ক্রেসিডা’ বাংলাভাষায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা। কাল তাকে প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং তার উজ্জ্বলতা ক্রমাগত বাড়ছে। তবে বিষ্ণু দে পরে পাশ্চাত্য পুরানোৎসারিত প্রতীকের ব্যবহার থেকে সরে এসেছেন, যদিও প্রতীকের গুরুত্ব এতটুকু খাটো করেননি। বিশেষ মূল্যবান হয়ে উঠেছে, যেগুলো মানুষের জীবন ও কর্মের অবিশ্রাম ধারায় ঘর্ষণে ঘর্ষণে হীরকখণ্ডের মত উজ্জ্বল হয়ে তাঁর চেতনায় ধরা দিয়েছে। যেমন, তাঁর ‘জল দাও’ কবিতায়। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com