বইয়ের আলোচনা

দীপিত আশার বঙ্গীয় বদ্বীপ

রুখসানা কাজল | ২৯ জুন ২০১৭ ১০:০৭ অপরাহ্ন

border=0একটা সময় ছিল বাংলাদেশ ডুবে যাবে মহাসমুদ্রের কোলে এটা ভাবলেই প্রচন্ড ভয় পেতাম। আর যাই হোক নাকেমুখে খাবি খেতে খেতে পানিতে ডুবে মরা খুব একটা ভালো মানের মৃত্যু নয়। আমি প্রবাহিত নদীপারের মেয়ে। নদীর নানা রকম মনখেয়ালের সাথে বেশ ভালো জানাশোনা আছে আমার। নদী যে মানুষের কতটা আপন আবার কত বৈরি হয়ে উঠতে পারে তার সাক্ষী নদীপারের এই আমরা। একেক সময় দেখতাম আমাদের চেনা ছোট নদীটাই কেমন অচেনা রাক্ষুসীর মত গিলে গিলে খাচ্ছে পরিচিত নদীপাড়, জমি, ফসলের মাঠ, এমনকি ঘরবাড়ি, সখের বাগান। আবার কখনো কখনো দেখেছি নদীর জলে পূজোর ফুলের সাথে ভেসে আসা অপার সৌন্দর্যকে। শান্ত স্নিগ্ধ প্রিয় বন্ধুর মত। আবার কখনোবা উত্তাল নদীর খর স্রোতধারার সাথে ভেসে আসত মানুষ, গরু, ছাগলের লাশ। সব লাশের পেট থাকত ঢোলের মত ফোলা আর ঊর্ধ্বমুখী। তাতে কাক শকুনের হল্লা। এই তো বছর কয়েক আগে দেখতে গিয়েছিলাম ফরিদপুরের কিছু গ্রাম। পদ্মার ভাঙনে দিন রাতের যে কোনো সময়ে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামগুলো। কয়েকদিন আগেও যেখানে ছিল মুখর জনপদ, জীবনের শত সহস্র কলরব, সেখানে এখন অজস্র ফণা তুলে মহা আনন্দে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জলদানবের উর্মি ও স্রোতধারা। সেই সময়, পদ্মার ভাঙনে ডুবে যাওয়া একটি নারকেল গাছ দেখেছি, হিজল পানির নীচে সবুজ হাত পা ছড়িয়ে সটান দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ, পরমূহূর্তেই দুলে দুলে অদৃশ্য হয়ে গেলো গভীর থেকে মহাজলের গভীরে। এমন নদীর জলে পা ধুতেও কেঁপে ওঠে প্রাণ। অথচ নদী এক মহানির্মাতাও বটে। সহস্র পলি সঞ্চিত করে নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ নামের এই বদ্বীপটাকে। আর আশ্চর্য এই তথ্যটি জানতে পেরেছি লেখক দীপেন ভট্টাচার্যের বিজ্ঞান ভিত্তিক বই বঙ্গীয় বদ্বীপের অতীত ও ভবিষ্যৎ পড়ে। (সম্পূর্ণ…)

‘রাজনীতি’ উপন্যাস: পুরস্কারটা প্রাপ্য ছিল মাজহার সরকারের

হাবিব ইমরান | ১৭ জুন ২০১৭ ৩:২৫ পূর্বাহ্ন

Majhar-Book-cover (1)নি:সন্দেহে মাজহার সরকারের ‘রাজনীতি’ বইটির ‘দেহ’টা উপন্যাসের, কিন্তু প্রাণ ‘কবিতা’র। পড়তে পড়তে মনে হয়েছে আধুনিক কবিতার ঢংয়ে লেখা একটি ‘উপন্যাস’, ‘কাব্য উপন্যাস’ বললে মোটেও বাড়িয়ে বলা হয় না।
সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে লেখা উপন্যাস পড়তে খুব একটা আগ্রহ জাগার কথা নয়। কিন্তু মাজহার সরকারের কাব্যিক উপস্থাপন শুরুতেই আগ্রহ তৈরি করে!
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাজনীতি’ বলতে যে ধরনের চিত্র- খুন, জখম, চাঁদাবাজি, গণরুম, বেঁচে থাকা ও টিকে থাকার লড়াই ভেসে ওঠে, এ উপন্যাসের উপজীব্য সেটাই। তবে গল্প বলার কাব্যিক ভঙ্গি তৈরি করেছে বৈচিত্র্য। মনে হয়েছে ছোটো ছোটো কবিতা জোড়া লাগানো হয়েছে।
‘রাজনীতি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যার বর্ণনা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, পাঠকের মনে হবে আসলে সে একটি গ্রাম দেখতে পাচ্ছে। লেখক উপন্যাসের চরিত্রগুলো এমনভাবে বেছে নিয়েছেন যাদের নিয়ে আসলে পুরো একটা তরুণ সমাজের চিত্র আঁকা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এল’ শেইপের একটি আবাসিক হল দিয়ে উপন্যাসটি শুরু। ওই হলের ক্ষমতায় থাকা ছাত্র সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন। সে হলের প্রেসিডেন্ট, কিন্তু মাজহার সরকার তার চরিত্রটি এমনভাবে এঁকেছেন, যেন তিনি একটা দেশের প্রেসিডেন্ট, এমনকি দুনিয়ার। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তরা জানেন, আসলে হলের প্রেসিডেন্টের এমন চরিত্র আঁকার ব্যাপারটি মোটেও অতিরঞ্জিত নয়, বরং প্রতীকি।
হুমায়ুনের জন্মদিন দিয়ে উপন্যাসের শুরু। মাজহার লিখেছেন- “জন্মদিন উপলক্ষ্যে আজ হলের পুকুর থেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছে। এটাই তার একমাত্র শখ।…. (সম্পূর্ণ…)

মাতৃভূমি ত্যাগ করা আত্মহত্যার শামিল: শহীদ কাদরী

প্রদীপ কর | ১ জুন ২০১৭ ৭:৪৫ অপরাহ্ন

cover-page“একজন প্রকৃত কবি প্রতিনিয়ত পরম সুন্দরকে নিত্য আবিষ্কার করতে চান। তাকে পেতে চান এবং না পাওয়ার বেদনায় কবির হৃদয়ে রক্তপাত হয়। বেদনার চিরন্তন এই বোধ প্রতিটি মানুষের জীবনেই কম বেশি থাকে। আমরা সবাই একধরণের অন্তঃসারশূন্যতায় ভুগি। তখন আমাদের ইচ্ছা জাগে কোনো সুন্দরকে পাওয়ার, তাকে ধারণ করার। আর সেই না পাওয়ার বেদনা থেকেই জন্ম নেয় এক ধরনের তীব্র জীবন পিপাসা।”

কবি শহীদ কাদরীর এই উপলব্ধি, এই জীবনবোধ আমাদের ভিন্নভাবে জীবনের তাৎপর্য বোঝায়। কীভাবে বাঙালির প্রবহমান জীবনে নাগরিক চেতনা এসে কড়া নাড়ে আর দরজা খুলতেই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে নাগরিক অভিশাপও। বাংলাকবিতার পরম্পরায় সরল গ্রাম্য মহাকাব্যিক জীবনপ্রবাহে পঞ্চাশের দশকই প্রথম নাগরিকতার উত্তরাধিকার নিয়ে উপস্থিত হয়। যদিও এই সময়ের নগর বলতে ইউরোপের কসমোপলিটন রঙচঙে বিষন্নতা আমাদের তৈরি হয়নি। শার্ল বোদলেয়র যেভাবে কবিতায় নগর জীবনের যন্ত্রনাময় ক্লেদাক্ত নারকীয় উল্লাস রচনা করেছেন, বাংলা কবিতায় পঞ্চাশ সেভাবে নগরকীর্তন করেনি।

এইক্ষনে আঁধার শহরে প্রভু, বর্ষায়, বিদ্যুতে
নগ্নপায়ে ছেঁড়া পাৎলুনে একাকী
হাওয়ায় পালের মতো শার্টের ভেতরে
ঝকঝকে, সদ্য, নতুন নৌকার মতো একমাত্র আমি,…

‘উত্তরাধিকার’ গ্রন্থে বৃষ্টি বৃষ্টি কবিতায় এভাবেই স্পষ্ট হচ্ছেন শহীদ কাদরী। বাংলাদেশের কবিতার সূচনালগ্নে, পঞ্চাশের দশকে শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী প্রমুখ কবিদের কবিতায় বাংলাদেশের পরিবেশ প্রকৃতি দেশভাগ পরবর্তী সংগ্রাম যেই বোধ বা চেতনার আলোয় আলোকিত হয়েছে সেই সামগ্রিক ভাবনায় থেকেও শহীদ কাদরী ¯^তন্ত্র হয়ে উঠেছেন নগরিক জীবনচিত্র বর্ণনায় শব্দচয়ন রূপক ব্যবহারে অবচেতনের নিহিত অন্তরালে লোকজীবনের অনুষঙ্গ রচনায়। ফলতঃ সকলের মধ্যে থেকেও একা এই মানুষটিকে চিনে নিতে অসুবিধা হয়নি বাংলা কবিতার পাঠকদের। (সম্পূর্ণ…)

কবি ফরিদ কবিরের ‘আমার গল্প’: মুখোশোন্মোচনের ইতিবৃত্ত

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৮ মে ২০১৭ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

একজীবনে ক’জনকে যায় চেনা!
মুখোশ আঁটে মানুষ মুখে
লুকোতে ধারদেনা

পাঁজর খুলে দিলেও বলো
মানুষ কী যায় চেনা?

মানুষের মতো রহস্যময় প্রাণি আর নাই। বুকের পাঁজর খুলে দিলেও, সারাজীবন পাশে থেকেও মানুষ, সহযাত্রিনীকে একটুও না চিনে জীবন কাটিয়ে দিতে পারে। মানুষ নিজেকে চিনতে না দিতে পারে। মানুষ নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে পারে, নাই করে দিতে পারে তার একান্ত আবেগ, অনুভূতি, অভিমান।

কিন্তু এসব মানুষ কেনো করে! তার জীবনের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বসাহিত্য জুড়েই এসব প্রাথমিক প্রশ্ন নিয়ে মোটা মোটা গ্রন্থ রচিত হয়েছে। সত্যি কথাটা হলো, বড় গলায় ‘নিজেকে জানো’ বলা মানুষ নিজেকে চিনতে পারে কী না তা নিয়ে এক অসীম দ্বিধা বুকে পুষে রেখে জীবন কাটিয়ে ফেলে।

border=0যারা সেটা চায় না, তাদেরও একটি প্রজাতি এই পৃথিবীতে আছে। যুগে যুগে তারা নিজেদের হৃদয়ের কথা শুনেছে। নিজেকে ফাঁকি দেয়নি। কবি ফরিদ কবির সেই দুর্লভ মানুষদের একজন, যিনি নিজের কাছে এমনকী, তাকে নিজেদের মনে করা পাঠকদের কাছে স্বীকার করতে পারেন নিজের একান্ত গোপন অনুভূতিও। ‘পাঠকে ফাঁকি দিতে চান না’— এর চেয়ে আমার এই ক্ষেত্রে এই লেখক নিজেকেই ফাঁকি দিতে চান, তা আমার বেশি করে মনে হয়।
আসুন পড়া যাক, তার আমার গল্পের একটা অংশ থেকে—

আমার মনে হচ্ছিলো, আমি আবারও জড়িয়ে যাচ্ছি ক্রমশ নতুন এক ভালোবাসার জালে। মানুষের মনের চাইতে অদ্ভুত আর কিছু নাই! ছাব্বিশ বছর বয়সে আমি বিশাখার দুর্মর প্রেমে যেমনটা উন্মাদ হয়েছিলাম, অনেকটা তেমনই আবারও উন্মাদ হয়ে উঠলাম। তাকে নতুনভাবে অনুভব করতে শুরু করেছিলাম। এমন না যে আমি ঝর্নাকে ভালোবাসি না। এমনও না যে ঝর্নার সঙ্গে আমার কোনো দূরত্ব আদৌ তৈরি হয়েছে। ঝর্না মানুষ হিসেবে যেমন, বউ হিসেবেও এতোটাই তুলনাহীন যে তাকে উপেক্ষা করাই অসম্ভব। পুরুষরা একটা নারীর মধ্যে যা কিছু পেতে চায়, তার সবকিছুই আছে ওর মধ্যে। তাহলে আমি কেন বিশাখার সান্নিধ্য, বিশাখার প্রেম কামনা করছি? এ প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়া আসলেই কঠিন। আমার অনেক বন্ধুকেই বিবাহিত জীবনে অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হতে দেখেছি। অনেকে বলেন স্ত্রীর সঙ্গে যেসব স্বামীর সম্পর্ক বিভিন্ন কারণে চিড় ধরেছে তারাই অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হয়। কিংবা উল্টোটা। স্বামীর অবহেলা পেয়েও অনেক নারী আসক্ত হয় অন্য পুরুষের প্রতি। কিন্তু আমার অবস্থাটা তো তেমন না! ঝর্নার সঙ্গে আমার চমৎকার একটা সম্পর্ক। বোঝাপড়াটা বেজায় ভালো। তবে, আমি কেন ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ছি বিশাখার প্রতি? এর কোনো সদুত্তর সত্যি আমার জানা নাই। (সম্পূর্ণ…)

দেবত্বের পথ রেখেছ আকীর্ণ করি

ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী | ১৭ মে ২০১৭ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

farseem-2ইয়ুভাল নোয়াহ হারারি ইতিমধ্যে একজন কৃতবিদ্য অধ্যাপক এবং স্বনামধন্য লেখক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর পূর্বতন গ্রন্থ সেপিয়েন্স এরই মধ্যে পৃথিবীর চল্লিশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, এমনকি বাংলা ভাষায়ও এর অনুবাদ প্রকাশের পথে। সে গ্রন্থটিতে মানবজাতির একটি পূর্বাপর ইতিহাস গ্রন্থিত হয়েছে। শুধু মানুষ বা মানুষের সভ্যতার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশই নয়, ১৩৮০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব-সৃজনের মাহেন্দ্রক্ষণ থেকে আরম্ভ করে মানবসভ্যতার বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে ঐ গ্রন্থে। মানুষের ক্রমবিকাশের এক চমৎকার ইতিকাহিনি ঐ গ্রন্থে পাওয়া যায়। উপরন্তু হারারি’র লেখার ঢঙটি এতো মজাদার এবং রসে টইটম্বুর যে বিজ্ঞানের কথাবার্তার মাঝেও তিনি ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং সমকালীন ভাষিক বিভঙ্গ ভালোই ব্যবহার করেন। তাঁর গদ্য ঝরঝরে, একটানা আনন্দের সাথে পড়ে ফেলা যায়। বিজ্ঞানের কথা, অথচ কী সুন্দর ভঙ্গিতে বলে চলেছেন তিনি। মাঝে মাঝে বিদ্রূপ ঠেসে দিয়েছেন, এমনসব বাক্য ব্যবহার করেছেন যা দীর্ঘ অনুধাবন ছাড়া সম্ভব নয়। (সম্পূর্ণ…)

ম্যান বুকার ও ওবামা দম্পতির পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশকদের কাড়াকাড়ি

মুহিত হাসান | ১৭ মার্চ ২০১৭ ১:২২ অপরাহ্ন

ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত যাঁরা
চীনের কমিউনিজম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বয়ান, আফ্রিকার পটভূমিতে রবিন হুড ঘরানার একটি গল্পের পুনর্কথন অথবা বিভক্ত জেরুজালেমে বেড়ে ওঠার গল্প– এ বছরের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের জন্য মনোনীত উপন্যাসগুলোর বিষয়বৈচিত্র্য দেখবার মতো বটে। সম্প্রতি বুকার কতৃর্পক্ষের প্রকাশ করা একটি ‘লংলিস্টে’ পাওয়া গেছে মোট বারো দেশের তেরোটি উপন্যাসের নাম। মোট আটটি উপন্যাসই অবশ্য মনোনীত হয়েছে ইউরোপ থেকে। এর বাইরে ইজরায়েলের দুটি এবং চীন, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়ার একটি করে উপন্যাস স্থান পেয়েছে উপন্যাসের জন্য প্রদত্ত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায়।
&NCS_modified=20161221133400&MaxW=640&MaxH=427&AR-161229871আলবেনিয়ার সুবিখ্যাত কথাকার ইসমাইল কাদারে, যিনি কিনা আগে তাঁর তাবৎ সাহিত্যকর্মের জন্য ২০০৫ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পেয়েছিলেন(ওই বছরই আদতে এই মূল্যবান পুরস্কার প্রদানের শুরু)– এ বছর ফের মনোনীত হয়েছেন তাঁর নতুন উপন্যাস The Traitor’s Niche-এর জন্য। যার মূল চরিত্র অটোমান সাম্রজ্যের রাজদরবারের একজন দূত তথা বাহক, যার কাজ হলো সুলতানের ধৃত শত্রুদের শিরচ্ছেদের পর তাঁদের কাটা মন্ডু বহন করে নিয়ে চলা। (সম্পূর্ণ…)

অবিশ্বাস্য অভিযান ও ঘটনায় পূর্ণ এক রোমাঞ্চকর আত্মজীবনী

সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ | ৭ মার্চ ২০১৭ ১২:৪৯ অপরাহ্ন

Cover Muhammal Ttakiullah‘যে দেশে গুনীর কদর নাই সেই দেশে গুনী জন্মায় না’, কথাটি বলেছিলেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। কি কাকতালীয় ব্যাপার, উনার ষষ্ঠ সন্তান, চতুর্থ পুত্র, আবুল জামাল মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ, যিনি কমরেড মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ নামে অধিক পরিচিত তার স্মৃতিকথার একটি অনুলিখন পড়তে গিয়ে ঐ কথাগুলাই মনে হচ্ছিল।
উচ্চশিক্ষিত, লেখালেখি আর ছবি তোলার গুনসম্পন্ন, সুদর্শন, বলশালী, প্রথম বাঙালী হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাবার পরেও কেবল ভাষা আন্দোলনের টানে সেটি ছেড়ে আসা এই অসামান্য মানুষটির গল্প নিয়ে কোন ছায়াছবি করলে সেটিকে কাল্পনিক বলে মনে হতে পারে কারণ তার জীবনে রয়েছে অবিশ্বাস্য সব অভিযান ও ঘটনাবলী।
আজীবন মার্ক্সবাদী, পিতার মতোই ধর্মপরায়ন এবং সততার প্রতীক এই মানুষটির জীবন যদি কেবল তার নিজের আলেখ্য হতো তাও তাকে নিয়ে উপেক্ষা মানা যেত, কিন্তু তিনি এক দুর্দান্ত সময়ের প্রতীক। দেশভাগের আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামানোর চেষ্টাকারী কিশোর, ভাষা আন্দোলনের সংগঠক, পাকিস্তানী স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ নাম, শ্রমিক-মেহনতী মানুষের কল্যানে লড়াই করা, দেশের জন্য জেলখাটা রাজবন্দী আর এসবের পরে একটু বেশী বয়সে এসে একজন গুরুত্বপূর্ণ গবেষক, যিনি বাংলার পঞ্জিকা বিনির্মাণ আর সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এতো কিছুর পরেও তিনি আমাদের কাছে অচেনা! অথচ তাঁকে চেনা মানে একটি অবিশ্বাস্য জীবনের স্বাদ পাওয়া নয়, বরং আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময়কে চেনা, সেই সময়কে ধারন করা। (সম্পূর্ণ…)

কবরীর জীবনস্মৃতি: কবির রচিত আত্মজৈবনিক গদ্য

নির্মলেন্দু গুণ | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

Cover-Smriti-Tuku-Thakসুচিত্রা সেনকে নিয়ে, তাঁর জীবদ্দশায় আমি একটি কবিতা লিখেছিলাম। ঐ কবিতায় সুচিত্রা সেনের অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর দৈহিক সৌন্দর্যের অকপট বর্ণনাও ছিল।
তাঁর মৃত্যুর বছর দশেক আগে লেখা আমার ঐ কবিতাটি সুচিত্রার মহাপ্রয়াণের পর আলোচনায় আসে।
তখন কেউ-কেউ কবিতাটির বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ হানেন।
সুচিত্রা সেন স্মরণে প্রযোজিত একটি টিভি অনুষ্ঠানে আমি এই কবিতাটি পাঠ করি। ঐ অনুষ্ঠানে প্রয়াত চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম, চিত্রপরিচালক ও কথাশিল্পী আমজাদ হোসেন ও নায়িকা কবরী উপস্থিত ছিলেন। নায়িকা কবরী আমার কবিতাটির প্রসংশা করেন। বলেন, ‘সুন্দরের সুষম বন্টন’ কথাটা সুচিত্রা সেনের বেলায় খুব যথাযথ হয়েছে।
পরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি কবিসভায় আমি ঐ কবিতাটি পুনরায় পড়ি। দর্শকসারিতে সেদিন উপস্থিত ছিলেন সুচিত্রা সেনের কন্যা নায়িকা মুনমুন সেন। আমার কবিতা শুনে তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। মঞ্চ থেকে নেমে আসার পর মুনমুন আমাকে পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন এবং বলেন – “আমার মাকে নিয়ে এমন কবিতা পশ্চিমবঙ্গের কোনো কবি লেখেননি।”
কবরী এবং মুনমুন দুই নায়িকাই যে কবিতা বোঝেন– এই তথ্যটি সকলের গোচরে আনার জন্যই এই ঘটনাটির উল্লেখ করেছি।

সম্প্রতি আমাদের কিংবদন্তীতুল্য চিত্রনায়িকা কবরীর লেখা আত্মজীবনী “স্মৃতিটুকু থাক” -এর পান্ডুলিপি পাঠ করে আমার মনে হলো, আমি কোনো কবির রচিত আত্মজৈবনিক গদ্য পাঠ করছি।
১৯৬৪ সালে, সুভাষ দত্ত পরিচালিত সুতরাং ছবিতে সদ্য কৈশোর পেরোনো কবরীর অভিনয় ও কবরীর দেহপট দর্শন করে যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছিলাম। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথের কাছে ঈশ্বরের অর্থ অপরিহার্য রূপে ভালোবাসা

প্রদীপ কর | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৫:২৬ অপরাহ্ন

Kabirরবীন্দ্রনাথকে নিয়ে একটি কবিতায় কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত, লিখেছিলেন; ‘তোমার পায়ের পাতা, সবখানে পাতা; কোনখানে রাখবো প্রনাম?’ বর্তমান সময়ে বাঙালির এরকম হতশ্রী দশা কেন? আসলে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ বাঙালি তথা সমগ্র মানবজাতিকে যেরকম নিবিড়ভাবে অনুভব করেছিলেন এবং তার সৃষ্টি-ঐশ্বর্যে মানবতাবাদকে যেরকম সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন, সেই দর্শন, মানবপ্রকৃতির প্রতি সেই আদর্শগত অনুধ্যান এখন অত্যধিক পরিমানে ক্ষয়প্রাপ্ত! ফলতঃ আমরা না বুঝেছি নিজেকে না নিজেদের সমাজকে; এই অজ্ঞতাবশতই আমরা চিনতে পারিনি বর্হিবিশ্বের প্রকৃত স্বরূপ! যে কারণে, নৈতিকতা বহির্ভূত আত্মকেন্দ্রিক ভোগবাদ-সর্বস্ব জগৎ আমাদের বিচ্ছিন্ন করেছে নিজস্ব শেকড় থেকে। আত্মবিস্মৃত হয়ে মিশে যাচ্ছি ঘনতমসায়। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায় বাঙালি মানস বাঙালি মনীষাকে সঠিকভাবে চিনতে শেখা। রবীন্দ্রনাথ তেমনই এক উদ্ভাসিত আলোক, যার ভাস্বরতায় অবগাহন করলে অবশ্যই উজ্জ্বল হওয়া যায়।

রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে বাংলাসহ পৃথিবীর নানান ভাষায় নিয়মিতভাবেই ‘কাজ’ হয়ে চলেছে। সেই কাজের অধিকাংশই যদিও হিমঘরের শীতলতায় নিমজ্জিত। তাই অস্তিত্ব বিপন্ন হলে আশ্রয় নিতে হয় তেমন এক দুর্লভ সান্নিধ্যের যেখানে আমরা নিশ্চিন্ত রক্ষা পাই। তেমনই এক তরুছায়া হুমায়ুন কবির প্রণিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রন্থটি।
যদিও বিশিষ্ট প্রজ্ঞার অধিকারী হুমায়ুন কবির, গ্রন্থটি বাংলায় রচনা করেননি। ১৯৬১তে, রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষে, যুক্তরাজ্যে স্কুল অব্ ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজ যে বক্তৃতামালার আয়োজন করেছিল, তার উদ্বোধনী ভাষণ দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবির। এই বইটি সেই ভাষণেরই সংকলন। ১৯৬২তে School of Oriental And African Studies, University of London থেকে প্রকাশিত হয় Rabindranath Tagore শিরোনামের এই দুষ্প্রাপ্য ইংরেজি গ্রন্থটি। বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক, গবেষক হায়াৎ মামুদ বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেছেন। শুধু অনুবাদ বললে প্রায় কিছুই তেমন বলা হয় না। অসাধারণ এই পুস্তকের প্রাঞ্জল অনুবাদের সঙ্গে সূত্র নির্দেশের মাধ্যমে, দুরূহ টীকা সংযোজনসহ গ্রন্থকার হুমায়ুন কবিরের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি এবং একটি প্রয়োজনীয় ভূমিকার মাধ্যমে গ্রন্থটিকে আরও বেশি মহার্ঘ করে তুলেছেন। এই পরিশ্রমসাধ্য কাজটি তিনি করেছেন কেননা, তার মনে হয়েছে: ‘বর্তমান বাঙালির মননশৈথিল্যের যুগে এই লেখা রবীন্দ্রনাথের অবদান বুঝতে সাহায্য করবে বাঙালিকেও’ তার এই ‘মননশৈথিল্যের যুগে’ শব্দবন্ধটির মুখোমুখি হলে বিস্ময় বিমূঢ় হয়ে পড়ি। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের ‘মানব পদাবলি’ জীবনবিলাসী হাওয়ার অবিনশ্বর গান

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৩:১৭ অপরাহ্ন

আজ কোনো কথা নয়
তোমাকে জড়িয়ে শুয়ে থাকি
চুপচাপ
মুখে-মুখ, ঠোঁটে-ঠোঁট, চুলে-নাক,
উথাল-পাথাল বুকে-বুক
নীরব, নিস্তল
আজ রাতে
তুমি দু-শো মাইল দূরে
হয়তো-বা কালের ওপারে
আপন শয্যায়
তাতে কী-বা এসে যায়
এই তো এই তো তুমি
নিশ্বাসে নিশ্বাস টের পাই
বেঁচে আছো, বেঁচে আছি!

(মানব পদাবলি ৪)

comboকেন সংশয়ের মতো এক বিস্ময়চিহ্ন রেখে শেষ এই কবিতা? কোন সময়ের কবিতা এটি? এই কবিতার মতোই কিন্তু এই কবিতাটিই নয় এমন বেঁচে থাকা জীবন ঘনিষ্ঠ ৮৩টি টুকরো পদকবিতা মিলে এই কবিতার বই, মানব পদাবলি। প্রকাশ করেছে চট্টগ্রামের বাতিঘর।
পড়ে আমি চমকে উঠেছি, শিহর লেগেছে ভেতরে আমার। এতো সহজ সুন্দর করে কিভাবে লিখলেন ৭৪ বছর বয়সের প্রায় ৪ দশকেরও বেশি সময় কাব্যভাষায়আড়ষ্টতার বদনাম বয়ে চলা ২৩ বছর বয়সের কবি মোহাম্মদ রফিক!আমাদের কবিতাটিমের ফ্রন্টলাইনের এক মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রফিক এবার ছক্কা মেরেছেন, জিতিয়েছেন বাংলা কবিতাকে। এই বইয়ে এক নতুন মোহাম্মদ রফিককে আবিস্কার করবে তার প্রস্তুত পাঠক।

হালের ফলার কষ্ট, দীর্ঘ সভ্যতার প্রান্ত ছুঁয়ে ধাপে ধাপে মোহাম্মদ রফিক গড়ে তুলেছেন এই কাব্যের শরীর, এর নড়নে আছে বেহাগে ঘুঙুরের লয় তাল, আছে ঝিঁঝির ক্রেংকার, ব্যাং-ব্যাঙাচির তীব্র নাদ। কবির প্রতিটি কবিতায় ধরা পড়েছে এদেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, বঞ্চনা-বিদ্রোহ, ভালোবাসা-ঘৃণা, সর্বোপরি মানবজীবনের একান্ত অনুভূতিসমূহের প্রকাশ। আছে শুদ্ধ শুভ্র চিরায়ত প্রেম, নেই কোন যৌনগন্ধী শব্দমালা। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ট্রাম্পের জামানায় অরওয়েলের পুনরুত্থান

মুহিত হাসান | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৮:৪৪ অপরাহ্ন

trump_orwell-620x412এই বছরের জানুয়ারি মাসে ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বসতে চলেছিলেন, তখন গোটা দুনিয়ার মানুষই উদগ্রীব হয়ে নানান বিদঘুটে ও ভয়ানক কাণ্ডকারখানা ঘটবার শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। যথারীতি সেই শঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়নি। যেসব উদ্ভট অনুমান বা ভয়ানক গুজব বিতর্কিত ট্রাম্পকে ঘিরে বয়ে চলেছিল, সেসবের অনেকগুলোই তিনি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাস্তবে পরিণত করেছেন।

তবে একটি অনুমান সম্ভবত কেউই করেননি, তা হলো ট্রাম্পের কারণে চৌষট্টি বছর পূর্বে প্রকাশিত ইংরেজ লেখক জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ বা নাইন্টিন এইট্টি ফোর উপন্যাসটির বিক্রি হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে বৃদ্ধি পাবে। অরওয়েলের এই সুবিখ্যাত চিরায়ত ডিসটোপিয়ান উপন্যাসে একটি সর্বগ্রাসী স্বৈরাচারী দেশের আখ্যান বর্ণিত হয়েছিল, যেখানে কিনা সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় ‘বিগ ব্রাদার’-এর দ্বারা আর সর্বত্রই ঝুলছে সাবধানবাণী সম্বলিত পোস্টার ‘বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং ইউ’। ফলত বাকস্বাধীনতা সেখানে বিসর্জিত ও আপত্তিকর এক বস্তু হিসেবে গণ্য হয়। উপন্যাসটিতে বর্ণিত ওই পরিস্থিতির সাথে ট্রাম্পের ‘স্বপ্নের’(!) কর্তৃত্বপরায়ণ, বৈষম্যবাদী ও নজরদারিময় মার্কিন মুলুকের যে খুব মিল রয়েছে, সে তো বলাই বাহুল্য। (সম্পূর্ণ…)

মোস্তফা কামালের অগ্নিকন্যা

হারুন রশীদ | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১:৪৮ অপরাহ্ন

border=0একজন বড় লেখকের অভীষ্ট হচ্ছে দেশ-কাল ভূগোল সংশি­ষ্ট শিল্পরীতি। বিষয় ও আঙ্গিকতো বটেই, সময় ও কালকেও মাথায় রাখতে হয়। কথাশিল্পী মোস্তফা কামাল তাঁর অগ্নিকন্যা উপন্যাসে এই লক্ষ্যকে বিবেচনায় রেখেছেন বলে মনে হয়। উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে তিনি শুধু দেশভাগের মর্মন্তুদ ইতিহাসকে আশ্রয় করেননি বরং বিশাল ক্যানভাসে আন্দোলনমুখর উত্তাল সেই সময়ের ইতিহাসের নায়ক-খলনায়কদের তুলে ধরেছেন নির্মোহ দৃষ্টিকোন থেকে। একটি দেশ বা অঞ্চলের ইতিহাসের শিরদাঁড়ার ওপর দাঁড়িয়েই সেই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য রচিত হয়। দায়িত্বশীল লেখকের জন্য এ এক ঐতিহাসিক দায়ও বটে। অগ্নিকন্যায় সেই দায়ও যেন মেটালেন লেখক।
ভাাষা-রীতি ও কুশলী উপস্থাপনার গুণেও উপন্যাসটি হয়ে উঠেছে চিত্তাকর্ষক। উপন্যাসটি শুরু হয়েছে নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে–‘মতিয়ার দুই হাতে দুটি পুতুল। সে ঘরের মেঝেতে বসে বসে গভীর মনোযোগে পুতুল দুটিকে সাজায়। পতুলের ছোট্ট চুল বেণী করে। ঠোঁটে পায়ে আলতা লাগায়। মনে মনে বলে বাহ! ভারী সুন্দর হয়েছে তো দেখতে। …হঠাৎ তার কানে শ্লোগানের ধ্বনি ভেসে আসে। একেবারে গগনবিদারি শে­াগান। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।’ মতিয়া দৌড়ে বারান্দায় যায়। বাইরের দিকে তাকিয়ে সে দেখে, বিশাল একটি মিছিল দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ।…সবার কণ্ঠে এক আওয়াজ ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।’ (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com