১৯৭১

জয়তু জননী

নওশাদ জামিল | ২৬ জুন ২০১৬ ১:২০ অপরাহ্ন

01শাহবাগ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিকতার শুরু হয়েছিল মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে। একদিন ঘোরলাগা সন্ধ্যায় শাহবাগ চত্বরে জ্বলে উঠেছিল শত শত মোমবাতি–তারপর দাবানলের মতো সেই আলো ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশময়। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর নানা প্রান্তে বাংলা ভাষাভাষির হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল দীপশিখা। শাহবাগ আন্দোলনের ঢেউ, তার প্রভাব, ব্যাপ্তি, উত্থান-পতন নিয়ে নানা গবেষণা হবে। লেখা হবে নানা ঐতিহাসিক গ্রন্থ। আমার কেবলই মনে হয়, ইতিহাসের শুরুটা হবে শাহবাগ থেকে নয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশে ফিরে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বলেছিলেন, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। অনেক বছর পরে সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে উঠেছিল তুমুল গণআন্দোলন। আর সেই আন্দোলনের প্রধান মানুষটি ছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। খানিকটা তলিয়ে ভাবলেই টের পাওয়া যায় শাহবাগে লাখো মানুষের হৃদয়ে, সারাদেশের কোটি মানুষের মানসপটে প্রতিবাদের দীপ প্রজ্জ্বলন করেছিলেন তিনিই। (সম্পূর্ণ…)

কালো মাটির কালো পুতুল

শঙ্খ ঘোষ | ২৫ মার্চ ২০১৬ ১০:১৩ অপরাহ্ন

বাংলাভাষার প্রধান লেখক শঙ্খ ঘোষ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাত্র পনের দিনের মাথায় লিখেছিলেন এই লেখাটি। বাংলাদেশের সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের তাৎপর্য ও অনিবার্যতাকে যে সংবেদনশীলতা ও গভীরতার সঙ্গে তিনি অবলোকন করেছেন তা রীতিমত অসামান্য। গুরুত্বপূর্ণ এই লেখাটি তখনই প্রকাশিত হয়েছিল হুমাযুন কবীর সম্পাদিত ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকায়। অতিসম্প্রতি লেখাটি শঙ্খ ঘোষের অল্পস্বল্প কথা( জানুয়ারি ২০১৬) গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। লেখাটি প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় লেখকের অনুমতিসাপেক্ষে এখানে পুনঃপ্রকাশ করা হলো। বি.স.

26-march-2.jpg
জসীমউদ্দীন থেকে শুরু করে শামসুর রাহমান পর্যন্ত কবিরা এখন কোথায়, এই মুুহূর্তে? ইয়াহিয়ার সৈন্যেরা না কি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইত্তেফাকের অফিস, ধ্বংস করেছে তার সাংবাদিক কর্মীদের। তাহলে আল মাহমুদ? কোথায় এখন তিনি? বোমায় বিধ্বস্ত রংপুর। কায়সুল হক? ঢাকার জসীমউদ্দীন রোডেও কি ঢুকেছিল ইয়াহিয়ার ট্যাঙ্ক? বাংলা দেশের মুক্তিযুদ্ধ আজ পনেরো দিনের পুরোনো হলো, এর মধ্যে আমরা জেনেছি কীভাবে সামরিক অত্যাচার প্রথমেই ছুটে যাচ্ছে যে -কোনো বুদ্ধিজীবীর দিকে। ইয়াহিয়ার দল ঠিকই বুঝতে পারে যে এইখান থেকেই জেগে উঠেছে অবিশ্বাস্য এই মুক্তিবাসনার প্রথম আগুন। তাই কেবলই আজ জানতে ইচ্ছে করে বাংলা দেশের কবিরা এখন কে কোথায় আছে। তাঁরা কি সময়মতো পশ্চাৎপটে সরে এসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন করছেন কোনো? গ্রাম-গ্রামান্তরকে উদ্বোধিত করবার জন্য লিখছেন কোনো নতুন ধরনের কবিতা? প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর আগে স্পেনের গৃহযুদ্ধে যেমন লিখেছিলেন রাফায়েল আলবের্তি আর তাঁর বন্ধুরা? আলবের্তির মতো এঁরাও কি এখন দেখতে পাচ্ছেন বা দেখতে চাইছেন সারি সারি গ্রামীণ যোদ্ধাদের স্তুপাকার মুখ, যে-মুখে অনেক জানার চিহ্ন নেই, যে-মুখে আছে কেবল বেঁচে থাকবার জন্যই মরবার প্রতিজ্ঞা? (সম্পূর্ণ…)

কী পাইনি, তার হিসাব মেলাতে

গোলাম মুরশিদ | ২৫ মার্চ ২০১৬ ৮:৩১ অপরাহ্ন

54-kendriokhelagharashor-nationalflagrally-25032016-10.jpgসামাজিক উন্নতির যতো সূচক আছে, তার সবই নির্দেশ করে ২৬শে মার্চ আমাদের জন্যে এসেছিলো কী অকৃপণ অবদান নিয়ে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার অর্জন কতো ইতিবাচক। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ একটা বড়ো রকমের হোঁচট খেয়েছিলো। অর্থনীতিতে তার ছাপ পড়েছিলো। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় তার আঘাতটা লেগেছিলো আরও তীব্রভাবে। দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ অন্যের বমিও খেয়েছিলো–শোনা যায়। বাংলাদেশ ছিলো তখন পৃথিবীর সবচয়ে দরিদ্র চার-পাঁচটি দেশের মধ্যে একটি। কিন্তু এক দশকের মধ্যে মানুষ সেই প্রচণ্ড অভিজ্ঞতার কথা ভুলে গিয়েছিলো।

তারপর গত তিন দশকের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কেবল গড়ে ওঠেনি, এমন বিস্তীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এ অঞ্চলে আগে কখনো দেখা যায়নি। ব্যবসা-বাণিজ্য এখন কালবাজারি-নির্ভর নয়, সে এখন আপন মহিমায় প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ এখন আমদানির চেয়ে রপ্তানি করে অনেক বেশি। ৭২-৭৩ সালে শিল্প বলতে বোঝাতো জিঞ্জিরার নকল-কারখানা। এখন বহু ক্ষেত্রে দেশ শিল্পের জন্যে স্বনির্ভর। বাংলাদেশ পোশাক শিল্পে এখন বিশ্বের একটা প্রধান রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশে কেবল পোশাক নয়, জাহাজ পর্যন্ত তৈরি হয়। (সম্পূর্ণ…)

পঁচিশে মার্চের স্মৃতি: ঢাকার বাইরে

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২৫ মার্চ ২০১৬ ৭:৫১ অপরাহ্ন

26-march.jpgএকাত্তরের মার্চ পুরো মাসটাই ছিল টালমাটাল। রাজনীতির বিশাল, বিস্তৃত জাল এক একবার ফুলে উঠছিল, দুলে উঠছিল, আর সমগ্র দেশ তাতে প্রচন্ডভাবে আন্দোলিত হচ্ছিল। তিন তারিখে জাতীয় সংসদ বসার কথা। ইয়াহিয়া খানের বেতার ঘোষণায় যখন তা বাতিল হল, তখন থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এলো জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলগুলোই এতদিন দুলছিল সমান তালে। সেদিন রাতে ছাত্র জনতা বস্তির মানুষ সবাই নেমে পড়লো রাস্তায়। এরপর সাতই মার্চের বক্তৃতা। দশ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে এদের কারো মাথায় লালপট্টি বহুজনের হাতে লাঠি–তো এদের সরব উপস্থিতিতে শেখ মুজিব শোনালেন এক শ্বাসরুদ্ধকর, নাড়া দেওয়া স্বতঃস্ফূর্ত বক্তৃতা–তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা। মনে পড়ে মহসিন হল থেকে আমরা ক’বন্ধু– নূরুল হুদা, সাযযাদ কাদির, মাহবুব সাদিক বের করেছিলাম চারপৃষ্ঠার কবিতা পত্রিকা। তাতে স্বাধীনতার ম্লোগান দেওয়া সব কবিতা আর ছড়া। সেটাই চার আনার বিনিময়ে মাঠের লোকেদের মাঝে বিতরণ করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল তখন–ইয়াহিয়ার ঘোষণার পর সবই আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গেছে। আলোচনার ফাঁদে পা দিলেন শেখ সাহেব। আলোচনার কোনো গতি না দেখে বন্ধুদের অনেকেই হল ছেড়ে দেশের বাড়ি চলে গেল। ষোল মার্চে আমিও গেলাম পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরে। (সম্পূর্ণ…)

ইতিহাসের দলিল ‘প্রসাদ: বাঙলাদেশ সংখ্যা’

শান্তা মারিয়া | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ন

proshad-book-cover-update.jpg‘ববিতা সম্বন্ধে সঠিক করে কিছু জানা না থাকলেও এটুকু আমরা জেনেছি যে ববিতা ওখানকার প্রখ্যাত অভিনেত্রীদের অন্যতম। অনেক অনেক বাঙলা ও উর্দু ছবিতে অভিনয় করেছেন উনি-’
শুধু ববিতা নন, রয়েছেন কবরী, আজিম, সুজাতা, সুভাষ দত্ত, দিলীপ সোমসহ অনেক তারকার পরিচিতিমূলক লেখা ও সাক্ষাৎকার, কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ আলোকচিত্র। আমাদের বিজয়ের অব্যবহিত পরে, ১৯৭২ সালে (বাংলা ১৩৭৮) মাঘ মাসে প্রকাশিত হয়েছিল সিনে ম্যাগাজিন ‘প্রসাদ, বাঙলাদেশ সংখ্যা’। ৪৩ বছর পর সেই দুর্লভ সংখ্যাটি পাঠকের কাছে পৌঁছে দিল বিপিএল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল অকুণ্ঠ। টালিগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামী চলচ্চিত্রসমাজের পাশে তারা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহযোগিতার হাত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই সম্পর্ক অমলিন ছিল। সে সময় কলকাতার বহু অভিনয় শিল্পী বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশের চিত্রতারকারাও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ওপার বাংলায়। ১৯৭২ সালে যে ববিতা ছিলেন কলকাতায় প্রায় অপরিচিত, তিনি পরে অভিনয় করেছেন সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেতের’ মতো অমর ছবিতে। (সম্পূর্ণ…)

শেখ মুজিবকে নিয়ে একাত্তরে বার্তাসংস্থার তিনটি সংবাদ

আন্দালিব রাশদী | ২০ december ২০১৫ ৮:০২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে আগে জার্মান পত্রিকা ডার স্পিগেল এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স পাকিস্তানে কারাবন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচারকার্য বিষয়ক তিনটি সংবাদ প্রকাশিত করে। পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী, বিরোধীদল এবং বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ এই বিচারকার্য এবং রায়ে কিভাবে সাড়া দিয়েছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এই প্রতিবেদনগুলোতে। কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক আন্দালিব রাশদীর অনুবাদে পাঠকদের জন্য তা এখানে উপস্থাপিত হলো। বি.স.

‘তাঁর অবশ্যই মৃত্যদন্ড হবে’ –ডার স্পিগেল

der-spigel.jpg

বন, ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি, ৩০ আগস্ট ১৯৭১। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবর রহমানের নিয়তি পশ্চিম-পাকিস্তানি সামরিক ট্রাইবুনাল গোপনে নির্ধারণ করে দিচ্ছে। বিচারক শফি এরই মধ্যে তা জেনে গেছেন: ‘অবশ্যই তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হবে।’

‘মহিষের যেমন সিং, বাঘের যেমন থাবা, মৌমাছির যেমন হুল, মিথ্যে তেমনি বাঙালির’ বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস অষ্টাদশ শতকে এই রায় দিয়েছিলেন।

[ডার স্পিগেলের প্রতিবেদক এই উদ্ধৃতিটি সম্ভবত তার স্মৃতি থেকে নিয়েছেন, এটি অসম্পূর্ণ, কথাটি ওয়ারেন হেস্টিংস-এর নয়, থোমাস বেবিংটন ম্যাকলের; ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার গভর্নর ও পরে ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন। ম্যাকলে (১৮০০-১৮৫৯) ১৮৩৪ থেকে ১৮৩৮ পর্যন্ত ভারতে ছিলেন, বোর্ড অব কন্ট্রোলের সেক্রেটারি হিসেবে।]

বাংলার নতুন শাসক পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মিলিটারিরা তাদের পূর্বসুরী ব্রিটিশদের বর্ণগত পূর্বধারণা নিয়ে শাসন করেছে। ওয়ারেন হেস্টিংস এর ২০০ বছর পর বাঙ্গালির ‘মিথ্যে’র বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু করেছে। (সম্পূর্ণ…)

মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য নিয়ে নবীন প্রবীণ লেখকদের অভিমত

অলাত এহ্সান | ১৬ december ২০১৫ ১০:১৯ অপরাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখনো কি উল্লেখ করার মতো শিল্পমানোত্তীর্ণ মহাকাব্যিক সাহিত্য রচিত হয়েছে? প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ এলেই পত্রিকাগুলো মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। সেখানে গল্প-প্রবন্ধ-কবিতা থাকলেও তার শিল্পমান নিয়ে নবীন প্রবীণ লেখকরা প্রকাশ করেছেন তাদের সংশয় ও আশাবাদ। অলাত এহ্সানের গ্রন্থনায় প্রকাশ করা হলো তাদের সেই অভিমতসমূহ। বি.স.

………………………………………………

আহমদ রফিক: মেধাবি ঔপন্যাসিক বোধহয় নাই

ahmad-rafiq.jpg

………………………………………………
আজকের দিনে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ এলেই ভাষা আন্দোলনকে সামনে আনা হয় তার প্রথম ধাপ হিসেবে। ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আহমদ রফিক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে ইতিহাসের সেই বিবেচনাকে পুষ্ট করেছেন। কবিতা, প্রবন্ধ ও গবেষণার মাধ্যমে ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক জাতির এসব দিক নিয়েই আলোচনা করেছেন। তার কাছে, ’৭১ সালের সশস্ত্র যুদ্ধকে মুক্তিযুদ্ধ না বলে, একে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ বলাই ভাল।’
এই স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে অনেক উপন্যাস ছোটগল্প লেখা হয়েছে, তবে কবিতাই সবচেয়ে বেশি। ‘মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য’ বলতে বাংলাদেশের সাহিত্যের একটা ট্রেন্ড দাঁড়িয়েছে, আহমদ রফিকের কবিতায় এই প্রসঙ্গ প্রবলভাবে এসেছে। তবে লিও তলস্তয়ের বিখ্যাত ‘ওয়ার এন্ড পিস’ উপন্যাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এপিকধর্মী বা মহাকাব্যিক ভাব প্রকাশে, সেই রকম কোয়ালিটি আছে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সেই ধরনের কালজয়ি উপন্যাস এখনো রচিত হয়নি।’ মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি ও বাস্তবতা ধরা কঠিন না হলেও, ‘মুক্তিযুদ্ধের নানামাত্রিক দিক নিয়ে বড় উপন্যাস লিখবেন, সেই ধরনের মেধাবি উপন্যাসিক বোধহয় নাই।’ একাডেমিক বা সাহিত্যিক–উভয় দিক দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের গবেষণার দিকটাও কম। (সম্পূর্ণ…)

মুক্তিযোদ্ধা সেই বালক

মোহাম্মদ রফিক | ১৬ december ২০১৫ ১২:৪০ অপরাহ্ন

মাস দুয়েক হল, এখানে আছি। সেক্টর, এক, হরিণা, মনু, আগরতলা। লিখলাম তো, হরিণা, মনু, হবে কি মনু, হরিণা? দূর ছাই, এতদিনে মনেও পড়ে না। সে, অন্য জীবনের স্মৃতি। জুন, ১৯৭১। দুই দেশের সীমারেখা পার হয়ে, হাঁটছি খোয়া ওঠা দীর্ঘপথ, প্রায় দেবদূতের মত আর্বিভূত হলেন, চট্টগ্রামের প্রখ্যাত চক্ষুবিশেষজ্ঞ ডাক্তার জাফর, আওয়ামী লীগের নেতা এবং পূর্ব-পরিচিত, একই দেব পাহাড়ে বসবাসের সূত্রে, জোর করেই তুলে নিলেন একটি ট্রাকে। যাহোক, দুশ্চিন্তায় ছিলাম, এবার শ্বাস ফেললাম। তার পিছে-পিছে এই সেক্টর হেড কোয়ার্টারে। ঘন বাশবাগানে ঘেরা, বাঁশ দিয়েই নির্মিত এই মুক্তি বাহিনীর হেড কোয়ার্টার, দৈর্ঘে ও আড়ে, বেশ প্রশস্ত। মেজর জিয়াউর রহমান, ন্যাস্ত হয়েছেন জেড ফোর্সের দায়িত্বে, এখানকার দায়িত্ব বর্তিয়েছে ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের ওপর। যতদূর মনে পড়ে, তখনও তিনি ক্যাপ্টেন, মেজরের পদপ্রাপ্তি তার ঘটেনি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন কাজ করছেন, সেখানে। (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: “প্রথমদিন শেখ মুজিব আমাকে ‘আপনি’ করে বললেন”

রাজু আলাউদ্দিন | ১৫ আগস্ট ২০১৫ ১:৩৩ পূর্বাহ্ন

mujib.jpg

জাতিরজনক শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রথম কবিতা ‍লিখেছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ । তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এসেছে শেখ মুজিব ও তাঁর কবিতার অজানা সব ঘটনা ও পটভূমি । বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে নির্মলেন্দু গুণের এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। বি.স.

রাজু আলাউদ্দিন : শেখ মুজিব সম্পর্কে আপনার প্রথম লেখা তো বোধহয় ৭৫ সালে, তাই না?
নির্মলেন্দু গুণ: কত সাল?
রাজু আলাউদ্দিন : শেখ মুজিবের মৃত্যুর পরে, তাই না?
নির্মলেন্দু গুণ:না না না। শেখ মুজিবকে নিয়ে প্রথম কবিতা লিখছি আমি।
রাজু আলাউদ্দিন : কিন্তু আপনার লেখা থেকেই জানলাম শেখ মুজিবকে নিয়ে প্রথম কবিতা লেখা হয়েছে উর্দু ভাষায়..
নির্মলেন্দু গুণ: সেটা তো মারা যাওয়ার পরে।
রাজু আলাউদ্দিন : ও হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন উনি মারা যাওয়ার পরে। রাইট।
নির্মলেন্দু গুণ: আমি লিখছি সিক্সটি সেভেনে ১২ ই নভেম্বরে, সংবাদে (পত্রিকায়) প্রকাশিত হইছে। বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে রচিত ওটাই ছিল প্রথম কবিতা। তার পূর্বে বাংলাদেশের কোন কবি বঙ্গবন্ধুকে সচেতন বিবেচনায় নিয়ে কোনো কবিতা লেখেননি। আমার পরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা রচনা কবেন কবি জসীমউ্দদীন এবং সম্ভবত বেগম সুফিয়া কামালও। (সম্পূর্ণ…)

স্বাধীনতা সংগ্রামে চিত্রশিল্পীসমাজ

বীরেন সোম | ৩০ মার্চ ২০১৫ ৬:১২ অপরাহ্ন

zainul-abedin.jpg
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চিত্রশিল্পীসমাজের গৌরবময় ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন প্রখ্যাত শিল্পী বীরেন সোম।

আমাদের মুক্তিসংগ্রাম এক দীর্ঘ ধারাবাহিকতার গৌরবময় ঐতিহ্য ধারণ করে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত পর্বে উপনীত হয়েছিল। এ দেশের শিল্পীসমাজ এই আন্দোলনের সঙ্গে পূর্বাপর গভীর অঙ্গীকার ও ঐকান্তিক দেশপ্রেমে নিজেদের যুক্ত করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অব্যবহিত পর এই রাষ্ট্রের গণবিরোধী প্রতারক চরিত্র এ দেশবাসীর কাছে উন্মোচিত হয়ে যায়। মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর রাষ্ট্রভাষাসংক্রান্ত বিতর্কিত বক্তব্য খুব সহজেই পাকিস্তানি ভাবাদর্শের প্রকৃত স্বরূপটিকে চিনিয়ে দেয়। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার স্পর্ধিত ও স্বৈরাচারী ঘোষণা একটি সত্যকে উন্মোচিত করে, আর তা হল, পাকিস্তান বাঙালিদের জন্য আসেনি। পাকিস্তানি রাষ্ট্রশক্তি যে বাঙালি জাতিসত্তার শত্রুপক্ষ, সেই সত্যটি সমাজের অন্যান্য অংশের মতো শিল্পীসমাজও গভীরভাবে উপলব্ধি করে। ধীরে ধীরে সমাজের সর্বস্তরে এই উপলব্ধি গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ে। (সম্পূর্ণ…)

ওয়াশিংটন পোস্ট-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংবাদ

আন্দালিব রাশদী | ২৫ মার্চ ২০১৫ ৯:৩৭ অপরাহ্ন

১৮৭৭ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। যখন বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে, তখন ক্যাথরিন গ্রাহাম পত্রিকাটির প্রকাশক এবং কার্যত মালিক। মার্কিন সরকার যখন স্বাধীনতা সংগ্রামকে দেখছে ভারতের প্ররোচিত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে, তখন মার্কিন জনগণ এবং গণমাধ্যম রক্তাক্ত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে লি লেসাজের যে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে তা বাংলায় ভাষান্তরিত হলো। বি. স.

ঢাকা ১৬ ডিসেম্বর। আজ ভারতীয় বাহিনী যখন ঢাকায় প্রবেশ করল তখন হাজার হাজার বাঙালির কণ্ঠে সানন্দ জয়ধ্বনি: ‘জয় বাংলা’।

মেজর জেনারেল গান্ধর্ভ নাগরার কমান্ডের অধীন ভারতীয় সৈন্য ও পূর্ব পাকিস্তানের গেরিলা বাহিনী (অর্থাৎ বাংলাদেশের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা–বি.স.) যখন খুব ভোরে ঢাকার বাইরে একটি সেতু অকেজো করতে আক্রমণ চালালো, তখনি শুনতে পেল এখানকার পাকিস্তানি কমান্ড আত্মসমর্পণ করতে ভারতের দেওয়া শর্ত ও সময়সীমা মেনে নিয়েছে।

নাগরা বলেন, সকাল সাড়ে আটটায় (বুধবার ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম রাত সাড়ে ৯টা) তিনি শহরের ভেতর পাকিস্তানি সেনা সদর দফপ্তরে একটি বার্তা পাঠান। সাথে সাথেই জবাবও পেয়ে যান যে, পাকিস্তানি সৈন্যরা আর বাঁধা দেবে না। তারপর তিনি দলবলসহ শহরে প্রবেশ করেন। (সম্পূর্ণ…)

গর্জে উঠুক আরেকবার

হামীম কামরুল হক | ১৬ december ২০১৪ ৪:৩১ অপরাহ্ন

hasan.jpgএকাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হতে পারতো একটা বোধিদ্রুম বা বোধের বৃক্ষ, যারা শেকড় থেকে, কাণ্ড থেকে, শাখা-প্রশাখা থেকে, পাতা, ফুল, ফল– সবকিছু থেকে আমরা নিতে পারতাম আমাদের আগামীদিনের পথ চলার রসদ। যেকোনো রকমের অন্ধকার সময়ে একাত্তরের চেতনার টর্চলাইট আমাদের সঙ্গী হতে পারতো। কি ব্যক্তিগত কি রাষ্ট্রীয় সমস্ত সংকটে আমরা সতেজ থাকতে পারতাম একাত্তরের কল্যাণে। কিন্তু সেই বোধ একটু একটু করে যেন ক্ষয়ে গেছে, সেই আলোকবর্তিকা দিনে দিনে অনুজ্জ্বল হয়েছে। এবং সেটা ঘটেছে ভেতরে ভেতরে, বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। কারণ চোখের সামনে মুুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক উদ্যোগ-আয়োজন চলছে। কথার ফুলঝুরিরও কোনো অভাব নেই। বড়বড় শোভাযাত্রা নিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া– সবই চলছে, সবই ঠিক আছে, কিন্তু নেই কেবল একাত্তরের চেতনা। একটি উদার মানবিক শোষণমুক্ত দেশ গড়ার সত্যিকারে অঙ্গীকার একাত্তরের পর পর বাড়ির পেছনের অগভীর ডোবায় সেই যে ডুবিয়ে দেওয়া হলো আর সেটি তুলে আনার ইচ্ছা হয়নি। ইচ্ছা হয়নি, কারণ পরিবর্তিত পরিস্থিতি এমন করে আমাদের বোধকে নির্মাণ করেছে, তাতে আর সেখানে ফিরে যাওয়ার দরকার পড়েনি। তারপরও একাত্তর নিয়ে কিছু কথা, কিছু গান ফিরে ফিরে আসে। কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা, তারা কী চেয়েছিলেন, কী পেলেন– সেই প্রশ্নগুলি বার বার নানান সময়ে হানা দিয়েই যায়। বর্তমানে দাঁড়িয়ে চল্লিশ বছরের আগের মানুষটা, যিনি কিনা একজন মুক্তিযোদ্ধা– তার সেই সময় এবং বর্তমান অবস্থান– আমাদের কিছু প্রশ্নে জবাব হয়তো দিতে পারে। তার উত্তর আমাদের মধ্যে যারা এখনো ‘‘একটি উদার মানবিক শোষণমুক্ত দেশে গড়ার’’ কথা ভাবেন তাদের আকুল করতেই পারে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com